স্বামীর ভালোবাসা part : 29

0
497

স্বামীর ভালোবাসা part : 29

লেখিকা সুরিয়া মিম

!
আচ্ছা মা ঠিক আছে,
!
মাম্মাম একটা কথা বলবো?
!
হ্যা মা বলো,
!
মাম্মা তুমি জানো ওই এতো বড়বড় গাল ভর্তি দাড়ি,
…..
পুরো হনুমানের মতো দেখায়,
হা হা হা,
!
যাহহহ,
দুষ্টু দাড়ি রাখলে কেউ হনুমান হয় নাকি?
দাড়ি রাখা ভালো মা,
!
তাই বুঝি নানুভাই ইয়া বড়বড় দাড়ি রাখে?
!
হ্যা মা,
!
তুমি জানো আঙ্কল টা অনেক কিউট,
শুধু গাল ভর্তি দাড়ি,
!
ও তাই?
!
হুমমম,
আঙ্কল আমাদের খুব আদর করে চুমু দেয়,
……..
তাই আমি আর ভাইয়া ওনাকে দাড়ি কেটে আসতে বলেছি,
হা হা হা হা,
!
ওরে দুষ্টু তোমরা স্কুলে এইসব করতে যাও?
!
মাম্মাম লেখাপড়া করতে যাই,
!
দুষ্টু,
!
হা হা হা,
!
আচ্ছা মা এখন আমার কোলে আসো ঘুম পারিয়ে দেই,
!
মাম্মাম আমার শুয়ে শুয়ে ঘুম আসেনা,
!
আচ্ছা মা আগে কোলে তো আসো,
…….
তারপর মেয়ে কে কোলে নিয়ে বারান্দায় পাইচারি করতে থাকি,
……
হঠাৎ করে বাহিরে খেয়াল করে দেখি,
…..
একটা লোক অনেক ফর্সা সাদা পাঞ্জাবি, পাজামা, টুপ ও মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে সামনের ফাস্টফুড শপ টায় বসে,
……
ইঁদুরের মতো কুটকুট চিকেন ফ্রাই খাচ্ছেন,
…..
আর যা খাচ্ছেন তার অর্ধেক টাই দাড়িতে জড়িয়ে যাচ্ছে,
….
কেন যেন তাকে দেখে কষ্ট হচ্ছে আমার?
…..
মনে হয় যেন কত কালের চেনা?
সত্যি কি আমি ওনা কে চিনি?
!
ইসসস,
ওদের স্কুলের মালিক টা কতো ভালো?
……
বৌ বাচ্চাদের ফিরে পাওয়ার জন্যে নামাজ রোজা করছে,
ইসলামী শরীয়ত মেনে জীবন যাপন করছে,
পাঁচবার হজ পালন করেছে,
…….
আর আমার স্বামী?
নির্ঘাত অন্য মেয়ে নিয়ে মেতে আছে,
আর তাদের নিয়ে ফষ্টিনষ্টি করছে,
……
হয় তো আমিই তার তার কথা ভেবে ভেবে চোখেজল ফেলছি,
আর সে অন্যকে নিয়ে মেতে আছে,
……
আমি জানিনা আমি কেন অতি সহজে কাও কে আমার জীবনে কাও কে প্রবেশ করাতে পারিনি,
……
তবে আপনি কি করে পারলেন আমার জায়গাটা অন্য কাও কে দিয়ে দিতে?
সেটা আমি আজও খুজে পাইনি,
!
….
আমি তোমাকে পাঁচ বছর ধরে হন্য হয়ে খুজে বেড়াচ্ছি,
…..
আমি জানিনা তুমি কোথায়?
তবে আমি যে কোনো মূল্যে তোমাকে খুজে পেতে যাই,
তোমাকে পেলে আমি আমার সমস্ত কিছু ফিরে যাবো,
…….
আমি জানি তুমি আমার কাছেই আছো?
কিন্তু কোথায় আছো সেটাই তো জানিনা?
…..
আমাদের টুনটুনি পাখি দুটে বোধ হয় বড় হয়ে গেছে তাই না?
…..
তুমি কি ওদের বাবা বলা শিখিয়েছ?
….
না এখনো আমার ওপরে ঘৃণা করে বসে আছো?
….
খুব ইচ্ছে হয় তোমাদের দুচোখ ভরে দেখতে,
তোমাকে সেই আগের আগের মতো ভালোবাসতে,
…..
কিন্তু তুমি যে কোথায় সেটাই তো জানিনা আমি,
!
মাম্মাম তুমি আপু কে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
!
এমনি পাপাই তোমার আপু কে ঘুম পরাই,
!
আমাকে পরাবে না ঘুম?
!
হ্যা বাবা বিছানায় চলো,
!
তারপর আমি আমার ছেলেমেয়ে কে আদর করে ঘুম পারিয়ে দেই,
……
পরেরদিন সকালে ওদের খাইয়ে দাইয়ে রেডি করে স্কুলে দিয়ে আসি,
!
ক্লাস শেষে ওরা বেরতেই ইমান এসে বলে,
!
কেমন আছো আব্বু আম্মু তোমরা?
!
ভালো আছি আঙ্কল,
তুমি কেমন আছো?
!
ভালো নেই মা,
!
তুমি এখনো তোমার বৌ কে খুজে পাওনি?
!
না পাপাই,
!
আমরা বলছি দেখো তুমি ওদের তাড়াতাড়ি খুজে পাবে,
!
তাই যেন হয় তোমরা দোয়া করো আব্বু আম্মু,
!
হ্যা তাতো সবসময় করি,
তা আবার বলা লাগে নাকি?
!
ওরে পাকা বুড়ি,
পাকতে পাকতে এতো টা পেকেছে,
যে পাকা আমের মতো টুসটুস করছে,
!
হা হা হা,
!
তুমি পঁচা,
!
কেন?
!
দাড়ি কাটো নি কেন?
!
দাড়ি কাটলে পাপ হয়,
!
জানি মাম্মাম ও বলছে,
তবুও তোমাকে হনুমানের মতো লাগে,
হা হা হা,
!
কি পাজি আমাকে হনুমান বলা?
!
হনুমান কে তো হনুমান বলতে হয়,
!
ফাজিলের ফাজিল হচ্ছে তোমাদের দাড়া ও তোমরা,
……
তারপর ইমান ওদের পেছনে ছুটতে শুরু করে,
….
ছুটতে ছুটতে একপর্যায় ইমান ওদের কোলে তুলে আদর করতে শুরু করে,
!
হঠাৎ করে ইমান ওদের শরীর থেকে সেই চিরো চেনা গন্ধ পেতে শুরু করে,
…….
তাই ও ওদের আদর করে চুমু খেয়ে বলে,
….
তোমরা কোন ব্রান্ডের পারফিউম ইউজ করো সোনা,
!
মাম্মাম ব্রান্ডের পারফিউম,
হা হা হা,
!
এটা আবার কেমন পারফিউম?
!
আসলে স্কুলে আসার আগে মাম্মাম আমাদের অনেক আদর করে দেয়,
আর মাম্মামের গা থেকে অনেক সুন্দর ঘ্রাণ আসে,
তাই আমাদের গা দিয়ে মাম্মামের ঘ্রাণ আসছে,
!
বাচ্চাদের কথা শুনে ইমানের মিশকার কথা মনে পরে যায়,
…….
কারণ ওদের বিয়ের পরে ইমানের ব্যামো ছিলে অফিসে যাওয়ার একঘণ্টা আগে রেডি হয়ে মিশকাকে জড়িয়ে ওর শরীরের গন্ধ নেওয়া,
……
বিয়ের দশমাস ধরে এটাই ছিল ইমানের বদ অভ্যাস,
যার কারণে মিশকা ওকে মণ কে মণ বকা দিতো,
…….
পুরনো সেসব কথা মনে করতেই ইমানের চোখেজল চলে আসে,
!
কি হয়েছে আঙ্কল তুমি কাঁদছ কেন?
!
কোই কিছুনা তো এমনি বাবা,
….
কেন যে আমি ওদের কাছে ছুটে ছুটে যাই তা আমি নিজে ও জানিনা?
……
কেন যে মনে হয় ওরা আমার বহু কালের চেনা,
আত্নার সাথে জড়িয়ে আছে ওরা,
. …. .
আঙ্কল?
!
হ্যা আম্মু আব্বু বলো,
!
আমাদের সাথে টিফিন খাবে?
!
হ্যা খাবো মানে অবশ্যই খাবো,
……
তারপর তিনজনে মিলে টিফিন খেতে বসে,
………
ছেলেমেয়ের টিফিন বক্স থেকে এগরোল নিয়ে মুখে নিয়েই ইমানের চোখেজল চলে আসে,
….
কারন এই এগরোলের টেস্ট একদম মিশকার তৈরি এগরোলের মতো,
……
আর ও খাবারের লোভ সামলাতে না পেরে বাচ্চাদের টিফিন খেয়ে ফেলে,
….
তখন মিহাদ মিশান ওদের মুখ টা বাংলার পাঁচের মতো করে বলে,
……..
লোভা তুমি আমাদের টিফিন টা খেয়ে ফেললে?
এখন আমরা খাবো কি?
!
বাবা আমি তোমাদের এখানের সবচেয়ে ভালো ফাস্ট ফুডের শপে খাবার খাওয়াতে নিয়ে যাবো চলো,
!
না আমরা যাবো না,
!
কেন?
!
আমরা বাহিরের খাবার খেতে পারিনা আঙ্কেল,
!
কেন বাবা?
!
অসুস্থ লাগে,
পেটে ব্যথা করে,
!
ও আচ্ছা আমি সরি,
!
কেন তুমি সরি বলছ?
!
তোমাদের টিফিন খেয়ে ফেলেছি তাই,
!
থাক তোমার তো খিদে পেয়েছিল তাই খেয়েছে,
মাম্মাম বলে কেউ খাবার খেতে চাইলে তাকে খাবার খেতে দিতে হয়,
!
তোমাদের মাম্মাম তোমাদের নিতে আসবেনা পাপাই?
!
না বাসা থেকে গাড়ি আসবে,
মাম্মামের কাজ আছে তাই মাম্মাম আসবে না
!
ও আচ্ছা,
!
ওই দেখো আমাদের গাড়ি এসে গেছে,
আমরা এখন বাসায় চলে যাবো,
!
তখন ইমান ওদের আদর করে চুমু খেয়ে গাড়ি তে বসিয়ে দেয়,
…..
বাসায় ফিরে টুনটুনি দুটো শাওয়ার নিয়ে মায়ের আচল দিয়ে নিজের মাথা মুছতে মুছতে বলে,
….
মাম্মাম তুমি জানো ওই আঙ্কল টানা লোভা,
!
কে বাবা কি করেছে উনি?
!
আমাদের টিফিন খেয়ে ফেলেছে,
!
তাই?
হা হা হা
!
হ্যা মাম্মা কি লোভা বলো?
!
এমন বলেনা বাবা,
!
কালকে থেকে আমি তোমাদের আঙ্কলের জন্যে ও টিফিন বানিয়ে দিবো কেমন?
!
ওকে মাম্মাম,
!
আচ্ছা বাবা তোমাদের স্কুল ড্রেস কোই?.
!
আলনার ওপরে রাখা,
!
ছেলেমেয়ের ড্রেস হাতে নিতেই মিশকা সেই গন্ধ পেতে থাকে,
তাই ড্রেস দুটো কে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখে,
!
মাম্মাম তুমি ড্রেস দুটো কে জড়িয়ে ধরেছ কেন?
!
আমার টুনটুনি পাখি দের ড্রেস তাই,
!
আই লাভ ইউ মাম্মাম,
!
আই লাভ ইউ টু পাখিরা,
!
হঠাৎ করে আমার ফোন বেজে ওঠে,
!
তখন মিহাদ আমার ফোন রিসিভ করে বলে,
!
আসসালামু ওয়ালাইকুম কেমন আছো আঙ্কল?
!
ওয়ালাইকুম সালাম ভালো আছি মা,
ভাইয়া কেমন আছে?
!
ভালো আছে,
কি করো তুমি?
!
এই তো বসে আছি মা,
তোমরা কি করো?
!
ভাইয়া মাম্মামের কোলে উঠছে আর আমি তোমার সাথে কথা বলছি,
!
তাহলে তুমি আমার কাছে আসো আমি তোমাকে কোলে নেই,
!
না আমি তোমার কোলে উঠবো না,
!
কেন?
!
তোমার গালে ইয়া বড়বড় দাড়ি,
!
এ্যা?
!
এ্যা না হ্যা,
!
হা হা হা,
!
কে হাসে মা?
!
আমার মাম্মাম,
তুমি মাম্মার সাথে কথা বলবে?.
!
না মা সামনাসামনি বসে কথা বলবো কেমন?
!
ওকে,
আমার কাছে বুদ্ধি আছে,
!
কি মা?
!
তোমার বার্থডে তে মাম্মাম কে নিয়ে আসবো?.
!
হ্যা মা অবশ্যই,
!
বাবু এদিকে আসো,
!
আচ্ছা আঙ্কল আমি রাখি,
!
কেন মা?
!
মাম্মাম আমাকে ঘুমু দিয়ে দিবে তাই,
!
তাহলে আমাকে দিয়ে দিবে কে?
!
মাম্মাম কে বলবো তোমাকে গান শোনাতে?
!
তোমার মাম্মাম গান গাইতে পারে?
!
হুমমমম খুব সুন্দর করে গায়,
!
আচ্ছা পরে একদিন শুনবো,
!
তাহলে রাখি,
!
আচ্ছা মা বাই
!
টাটা বাইবাই,
!
এতক্ষণ কি তোমার সেই দাড়ি ওয়ালা আঙ্কলের সাথে কথা বলছিলে হুমম?
!
হ্যা মাম্মাম,
!
তোমার আঙ্কলের দাড়ি কতো বড়?
!
ইয়া বড়,
!
হা হা হা
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here