স্বামীর ভালোবাসা part : 12

0
664

স্বামীর ভালোবাসা part : 12

লেখিকা সুরিয়া মিম

!
ইমানের কথা শুনে আয়ান ইশা হ হা হা করে হেসে দেয়,
!
জিসা জাহাদ তখন দৌড়াদৌড়ি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে হোটেলের ফ্লোরে শুয়ে পরে,
আর ওদের কান্ড দেখে হোটেলে উপস্থিত সবাই তাদের বোএিশ টা দাঁত বেড় করে হা হা করে হেসে দেয়,
কিন্তু,
জিসা সে দিকে খেয়াল না করে জাহাদ কে বলে,
!
দোস্ত আমি যদি ভুল না হই এই আরিয়ান ও ইশার মধ্যে ইন্টুপিন্টু চলে,
!
কি?
ইয়া আল্লাহহহহ কও কও কি তুই?
ওই অসভ্য মেয়ে টার জন্যে আমাদের মিশকার সাজানো সংসার টা তছনছ হয়ে গেলো,
আর তুই এই সব কও?
!
হালার পুত তুই জানোস না আমি প্রমাণ ছাড়া কোনো কথা কই না,
!
তাও তো ঠিক,
তবে কি প্রমাণ পাইছো তুই?
!
মোক্ষম প্রাণ পাইছি আমি,
!
কেমনে?
কোথায় পাইছো প্রমাণ?
!
আরে আমি আমার স্বামী কে নিয়ে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে হোটেল ব্লু মাউন্ট রিসোর্টে গেছিলাম,
তখন তোর জিজু আরিয়ান ও ইশা কে একটা বেডরুমের মধ্যে খুবি খারাপ অবস্থায় দেখছে,
!
ইয়াককককক,
থুথু থুথু,
তারপর তুই জিজু কে কিছু বলো নাই?
!
কি বলবো?
তোর জিজু ইমানের বাল্যবন্ধু ও ইমান কে ফোন করে অন্য বাহানা করে হোটেলে ডেকেছিল,
কিন্তু,
ও আসতে লেইট করছে,
আর পাখি ফুড়ুত করে উড়ে গেছে,
!
হায় আল্লাহ কি কও?
ছেমড়ি তুই?
!
যেটা সত্যি সেটাই বলছি ভাই,
আমি অ্যাবসোলুটলি ড্যামেন সিওর ওরা ইন্টুপিন্টুন করে,
!
শোন ওরা যা করে হেয়া রে ইন্টুপিন্টু কয় নারে বোন,
হেয়া রে ডিরেক্ট পরকিয়া বলে,
!
ইসসসস,
একদম ঠিক হইছে জন্মেরমত ভালো হইছে,
বান্দর ছেমড়া আমাদের মিশকার লাইফ টা তেজপাতা বানাইয়া দিয়েছিল,
আর এখন ওর টা নিমপাতা হয়ে যাবে,
!
হা হা হা,
!
তুই আবার এসব মিশকারে কইছ নি?
!
নারে ভাই আমি কি পাগল?
যে ওরে কমু?
তুই জানোস না ও কেমন?
নিজে মরবে তবু ও কাও কে মারবে না,
!
এইটা তুই ভালো করেছিস রে বোন,
!
তখনি হঠাৎ করে ধাম করে কোনো কিছু পরে যাওয়ার শব্দ হয়,
!
শব্দ শুনে সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দেখে,
!
মিশকা রুহান কে ফ্লোরে ফেলে ওর পিঠের ওপরে বসে আচ্ছা মতো ওর গায়ে, মাথায়, মুখে, চুলে কেক মালিশ করে দিচ্ছে,
!
ওদের এই অবস্থা দেখে,
জিসা জাহাদ মিশকা কে বলে,
!
ওই সাপ তুই বেজি টাকে ছাড়,
বেজির অবস্থা খুবি খারাপ ,
হা হা হা,
!
লাইফে প্রথম দেখলাম সাপ বেজির উপ্রে উঠে কিরতন করতেছে,
হা হা হা,
!
ওদের দুষ্টুমি দেখে আরিয়ান বলে,
“কিছুকিছু বন্ধুত্ব আছে যে টা এতো টাই অটুট যে পারমাণবিক বোমা ফেললে ও নষ্ট হয় না”
হা হা হা,
!
এটা কে বন্ধুত্ব বলে?
!
নাতো কি বলে?
!
পাবলিক প্লেসে নষ্টামো করা বলে,
!
ইমান তুই ওনা,
আমরা ও তো আমাদের সময়ে কতকিছু করেছি তো ওরা করবেনা?
!
না মানে,
!
ঠিকি বলেছে ও তুমি সবকিছু এতো খারাপ নজরে দেখ কেন হুমম?
!
আমার কাছে খারাপ লাগে তাই আমি খারাপ নজরে দেখি তোমাদের কোনো সমস্যা?
!
নো বাবু,
!
তখন হোলেটের ম্যানেজার এসে মিশকা রুহান ও জিসা জাহাদ কে বলে,
!
স্যর এবং ম্যাম আজকে আমাদের হোটেল স্কাই সিটির পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে,
……
আর আপনারা আমাদের পাঁচ বছরে পাঁচ হাজারতম লাকি কাপেল,
তাই আমরা আপনাদের জন্যে সামান্য কিছু আই মিন কাপেল ড্যান্সের আয়োজন করেছি,
…..
আপনারা যদি অনুগ্রহ করে আমাদের আয়জনে অংশগ্রহণ করেন তাহলে আমরা অনেক খুশি হবো ,
!
কেননা অবশ্যই আমরা অংশগ্রহণ করবো কাপেল ড্যান্সে,
!
তখন ম্যানেজার মিশকা, রুহান,জিসা,জাহাদ ও অন্যান্য গেস্ট ও স্টাফদের নিয়ে স্কাই সিটির পাঁচ বছর পূর্তি জন্যে কেক কেটে সেলিব্রেট করেন,
…….
তারপর মিশকা ও রুহান কে ড্যান্স করার জন্যে অনুরোধ করেন,
!
মিশকা রুহান আবারো নাচবে শুনে ইমানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরে,
তবু ও চুপটি করে বসে থাকে,
আর হোটেল ম্যানেজার তখন গান প্লে করতে বলেন,
!
একটা ফালি রোদ এসে হাতছানি ভিন দেশে,
!
নীল আসমানি মনমানি যে আজ,
!
সারাদিন তেরে বিন কেটেছে এতো দিন,
চল ঘর ছাড়া মনকাড়া মেজাজ
!
মাহিরে ও মাহিরে
চল পায়ে পায়ে নিখেজ হয়ে যাই,
!
মাহিরে ও মাহিরে নীল চোখের তাড়ায় নিজে কে হাড়াই,
!
আজ উদাস হাওয়ায় ছুটির ডাকে অনেক,
কল্পনা সব ঘরের বাধন টুকরে খুড়ে প্রেমের জল্পনা,
ওই সোনার জলে মরিচিকা ইচ্ছারা স্বাধীন,
!
হোক বালির ঢেড এ সারাবেলা অপেক্ষা রঙিন,
!
হঠাৎ ই পাগলামি তোর মুচকি হাসি ঝড়,
খুশির এই মোহনায় এক নতুন খেলাঘর,
!
মাহিরে ও মাহিরে চল পায়ে পায়ে নিখেজ হয়ে যাই,
মাহিরে ও মাহিরে নীল চোখের তাড়ায় হাড়াই,
!
নাচের শেষে রুহান মিশকাকে কোলে তুলে নেয়,
আর তখনি সবাই হাত তালির বন্যা বইয়ে দেয়,
আর এতে লোকের ভিড়ে নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলে ইমান,
এবং চোখেরজল মুছতে মুছতে ভিড় ঠেলে ইশা কে না জানিয়ে বাসায় চলে যায় ইমান,
!
আর ইশা আরিয়ানের সাথে ওর বাসায় চলে যায়,
!
আচ্ছা বাবু তুমি আজকে খুশি?
!
অনেক খুশি বাট তুমি তো ইমানের বেবি ক্যারি করছ তোমাকে আদর করবো কি করে?
!
উফফ,
এই বেবি বেবি করা বাদদেও তো কালকের পর থেকে আর বেবি বেবি করা লাগবেনা তোমার,
!
কেন বেবি?
!
প্লান করেছি পরে বলবো,
আচ্ছা একটা কথা বলো তো?
!
কি?
!
তুমি আজকে হোটেলে ওই মিশকাকে ও ভাবে ফ্যালফ্যাল করে কি দেখছিলে হুমম?
আমি না বুঝিনা,
আমার মতো হট, বিউটিফুল ও আকর্ষণী মেয়ে থাকতে তোমরা ওকে কি দেখ?
আর ইমানের ও বলি হারি যাই,
ওই মেয়ে কে ওর কি দেখে প্রেমে পরছিল ও?
!
তখন আরিয়ান মনেমনে বলে,
মায়াবিনী মেয়ে যেকেউ ওর সাথে সংসার করতে চাইবে আমি ও চাই,
জানিনা ওরকম মায়াবিনী বৌ ফেলে ইমান তোমার মতো নষ্টা মেয়ের প্রেমে কি করে পরল আল্লাহ মালুম?
!
তবে যাই হোক না কেন?
আমার ফ্যামিলি দুবাই থেকে ফিরলেই আমি মিশকার বাসায় বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে যাবো,
…..
ওকে বিয়ে করবো আর ওকেই ভালোবাসব,
তখন ইশা দিশা বাদ শুধু আমার বৌ বাচ্চা নিয়ে থাকবো,
আর তুমি?
তোমার মতো মেয়ে দিয়ে স্বামী সংসার হয় না,
তাই তোমাকে তোমার জায়গা দেখিয়ে দিবো,
!
কারন আমি তো মিশকা কে আমার করে পাওয়ার জন্যে ইমান কে ইশার সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছি,
…….
আর এই ব্লাডিফুল টা ইশার পাগল হয়ে মিশকাকে ছেড়ে দিয়েছে,
হা হা হা,
!
কি গো কি ভাবছ তুমি?
!
কিছুনা বাবু,
!
আদর করবেনা?
!
না আজকে তুমি রেস্ট করো,
আমার অফিসের কাজ আছে আমি করবো,
!
ওকে বাবু,
!
তারপর আরিয়ান ওর স্টাডি রুমে গিয়ে ল্যাপটপ থেকে মিশকার ছবি গুলো দেখতে থাকে,
!
উফফ,
এই রুহান টা এতো সাহস কি করে পায় মিশকার সাথে ড্যান্স করার?
ওকে কোলে তোলার,
কি ভাবে কি ও নিজেকে?
মিশকার স্বামী?
স্বামী বেঁচে আছে ওর বেশি তেড়িমেড়ি দেখলে খুন করে গুম করে ফেলবো কাকপক্ষী তে ও টের পাবেনা,
!
আর ওর ও বলি হাড়ি যাই পরপুরুষের সাথে এতো পিরিত কিসের আল্লাহ ভালো জানে?
….
মাথা টা খারাপ হয়ে গেছে আমার,
তাই তুমি ও বেশি উড়া উড়ি করলে সোজা খপ্প করে ধরে গপ্প করে এনে খাঁচায় পুরে রাখবো,
পালিয়ে যাবে কোই জানু?
…….
আমি বেচেঁ থাকতে তোমাকে অন্য কারো হতে দিবো না,
কখনওই না,
কারন যে আমার না সে আর কারো না,
!
পরেরদিন সকালে,
ইমান পিক আপ পয়েন্ট ও চলে যায় ইশার জন্যে ওয়ার্ডার দেওয়া ওর্নামেন্টস নিতে,
!
সেখান গিয়ে কিছুক্ষণ ওয়েট করার পর,
!
মিশকা গিয়ে ওর হাতে ওর্নামেন্টস এর বক্স ধরিয়ে দিয়ে বলে,
!
স্যাররর এক হাজার টাকা ওন ওয়ার্ডস,
!
মিশকার কথা শুনে ইমান হা করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে,
কারন ও জানতো না যে মিশকাই ওর ওর্নামেন্টস সেলার,
!
তখন মিশকা ইমান কে বলে,
!
স্যররর আপনার এতো বড় হা দেখার সময় নেই আমার আরো অনেকের পার্সেল কুরিয়ার করতে হবে,
তাই বিল টা পে করে দিন প্লিজ,
!
কিন্তু কে শোনে কার কথা?
!
হা তো হা হয়ে রয়েছে,
তাই মিশকা নিজেই ইমানের পকেট থেকে ওয়ালেট টা বের করে হাজার টাকার চকচকে নোট টা নিয়ে ওয়ালেট টা ইমানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে সি.এন.জি তে করে বাসায় চলে যায়,
!
তখন ইমানের ঘোড় কেটে ওয়ালেট চেক করে বলে,
!
ফাজিল মেয়ে গেলে তো গেলো আমার হাজার টাকার চকচকে নোট টা নিয়ে গেল,
!
পরে নিজেই মিশকার বলা কথা গুলো মনে করে হা হা হা করে হেসে দেয়,
!
!
!চলবে

(আপিরা ইমান তো ইমান,
আরিয়ান একটা ছ্যাঁচড়া লুইচ্চা😜
এখন ওর কি করা উচিত?)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here