সতীনের_সংসার পর্ব_৭

0
610

সতীনের_সংসার পর্ব_৭
Writer: তানজিন সুইটি
আনিকাও আর এক মূহুর্ত উপরে বসে না থেকে। বসে পরে সঙ্গে সঙ্গে তার সাথে তাল মিলিয়ে ফ্লোরে।
তারপর পৃথিবীর আর কিছু চিন্তা ভাবনা না করে
হ্যাঁ বলে দেয় রায়হানকে বিয়ে করবে বলে।

বাসস হয়ে গেলো সব ব্যবস্থা খনিকের মধ্যে।

সব কিছু ব্যবস্থা করতে করতে রায়হানের আর আশরাফ চৌধুরীও জ্ঞান ফিরে আসছে।

অন্য দিকে সারাদিন কল করেই চলেছে রাজ ও আনিকার বোন দুলাভাই মিলে। এক প্রকার পাগল হয়ে গেছে ওর জন্যে।

আনিকারও হাত পা বাধা।কি করবে? কিছুই তো করার নেই এখন তার যে।কথা দিয়ে ফেলেছে।অন্যদিকে ওর আপু দুলাভাইয়ের কথা অনেক মনে পরছে।ভয়ে কলও রিসিভ করতে পারছে না তাদের।রাজের কথা বাদই দিলো না হয়।কিন্তু তাদের সামনের যাওয়ার মুখটুকুও রাখলো না আর?বেচারি মুখ চেপে কেঁদেই চলেছে।

রেজিস্টার অফিসার ও একজন মাওলানাও এসেছে সঙ্গে।হাসপাতালেই তাদের বিয়ে পড়ানো হবে।নেই কোনো সাজসজ্জা,নেই কোনো আয়োজন।শুধু কলমের খোচা আর মুখে আল্লাহর কালেমা পড়লেই হয়ে যাবে বিবাহিত সম্পর্কে আবদ্ধ।

বিবাহের কাজ সম্পূর্ণ করে।আনিকাকে সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার আগে,আশরাফ সাহেবের কাছে নিয়ে গেলো দুজনকে।একসাথে সালাম করার সাথে সাথে আশরাফ সাহেব বলে উঠলো রায়হানের উদ্দেশ্য।

– আগে যা যা করেছিস ভালো কথা কিন্তু এখন যেনো ঐসব না শুনি?আর পাগলমিটাও কমিয়ে দিবি।তোর চিন্তায় কবে যেনো মরে যাই।

রায়হানও মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রয়লো কোনো কথা না বলে।পাশ থেকে মিসেস সালেহা বেগম বলে উঠে।

-ঐ বজ্জাত এখন কথা বলছিস না কেনো?কিছু একটা তো বলবি।না হলে সব হারাবি।

এমন কথা শুনে রায়হান সঙ্গে সঙ্গে নিচু সরে বলে উঠলো।

-হুমম আব্বু।

আর কিছু বলার সাহস হলো না মনে হয় রায়হানের।
ওর মনে যে কি আছে, একমাত্র আল্লাহ তাআলায় জানে?এর জন্যেই এমন হুমম বলে কাটিয়ে দিলো কোনো মতে।

আর কোনো কথা না বারিয়ে ডাঃ ওয়াজেদের সাথে কথাবার্তা শেষ করে আনিকাকে নিয়ে চলে গেলো রায়হানের বাড়িতে।রাতটাও প্রায় মাঝ বরাবর হবে।
বাড়িটা একদম ফাকা।কেউ নেই বোধহয় এ কয়েকজন ছাড়া।আনিকাকে নিয়ে গেলো রায়হানের রুমে মিসেস সালেহা বেগম নিজেই।কি করবে সে?তার একটা মাত্র মেয়ে।তাও তাঁর বিয়ে দিয়ে দিয়েছে গতমাসে।আর এতো তাড়াতাড়ি বিয়েটা দিয়ে দিয়েছে তাদের,কাউকে বলার সুযোগও হলো না।মিসেস সালেহা বেগম আর আশরাফ সাহেব বলে দিয়েছে পরে বড় করে আয়োজন করা হবে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটা।

আনিকাকে দিয়ে গেলো রায়হানের রুমে খাটের উপরে বসিয়ে।চুপ করে বসে রয়লো। মাথা নিচু করে, হাটুর মধ্যে দিয়ে কেঁদে চলেছে। বার বার রাজের কথা ভাবছে।

-ওর কি দোষ?ওকে তো ভালোই বেসেছিলাম
শুধু বলতে পারলাম না একটি বারের জন্যে, হ্যাঁ হ্যাঁ ভালোবাসি তোমাকে অনেক যে।কেনো বললাম না ফোনে?কেনো অপেক্ষা করিয়ে রাখলাম তারে।

অন্যদিকে বোন দুলাভাইয়ের কথা মনে করে জোরে জোরে কেঁদে ফেললো খনিকের মধ্যে।তারা হয় তো মাফ করবে না এ জনমে।

মিসেস সালেহা বেগম বলেছে।সকাল হলে নিজে গিয়ে আনিয়া ও মিরাজকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবে বুঝিয়ে।
কিন্তু রাজের সাথে কি এ জনমে মুখ নিয়ে দাড়াতে পারবে।

আনিকা আর কিছুই ভাবতে পারছে না।তার কাছে পুরো পৃথিবীটা শূন্য শূন্য লাগছে।এরই মধ্যে দরজায়
নক পরলো।রুমে প্রবেশ হওয়ার শব্দ শুনতে পারছে কারো।এক অজানা ভয়ে বরফে জমে যাচ্ছে।কান্না থামিয়ে,নিজেকে সাহস দিতে লাগলো নিজে নিজেই।

দুহাত দিয়ে ওড়নাটা শক্ত করে চেপে ধরে, দম আটকিয়ে বসে রয়লো খাটের মাঝে।

রায়হান যখনই খাটের পাশে এসে আস্তে করে বসে আনিকার কাছে আসার চেষ্টা করলো তখনই চিৎকার দিয়ে উঠলো ।

-please কাছে আসার চেষ্টা করবেন না। মনের বিরুদ্ধে বিয়েটা হয়েছে তাই বলে শরীরের জোর খাটাতে আসবেন না।না হলে…..

-না হলে কি??? বলো…

-নিজেকে শেষ করে দিবো।

এমন কথা শুনে রায়হানের মুখটা মলিন হয়ে যায়।চুপ করে সোফায় গিয়ে শুয়ে পরে।

আনিকাও বালিশে মুখ চেপে শুয়ে পরে।

ভোরের সূর্য আনিকার জন্য কি অপেক্ষা করছে?সেটা হয় তো নিজেও জানে না যে।কালো অন্ধকারের মতো আটকেও ধরতে পারে তার জীবনের প্রথম দিনটাতে।

চলবে…..

(ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here