স্বামীর অধিকার পর্ব/ ১০

0
629

স্বামীর অধিকার পর্ব/ ১০
লেখক/ ছোট ছেলে

~~~~~~

আমি ছাদে বসে বসে সিগারেট টানি

রিমি/ আপনি এখানে আর আমি আপনাকে সারা বড়ি খুঁজি

আমি/ আমাকে হা হা হা

রিমি/ এতে হাঁসির কি আছে

আমি/ হাঁসির কথা শুনলে তো হাঁসতে হবে
আমাকে যে আপনার প্রয়োজন হতে পারে এটাতো আমি বিশ্বাস-ই করতে পারছিনা

রিমি/ আপনি আবরও সিগারেট টানছেন
আপনাকে না বারণ করলাম সিগারেট না টানতে

আমি/ আমি কারও বারণ মানতে রাজি নয়

জীবনটা আমার আমার মত-ই চলবে

রিমি/ না কখনওই না আমি যেভাবে বলবো সেভাবে চলবে

আমি/ এই শোন আপনার রূপে পাগল হয়েছি তাই আপনাকে বউ করেছি
এখন আর আপনাকে আমার দরকার নেই

যান চলে যান এখান থেকে

রিমি রাগ করে চলে যাচ্ছে

সে হয়তো বুঝার চেষ্টা করছে

সত্যি কি আমি তার রূপের পাগল ছিলাম নাকি তার ভালোবাসার

কিন্তু আমি তাকে কি করে বলি আমি তাকে এখনও অনেক ভালোবাসি

দূররররর…. কোনকিছুতে মন বসেনা

মেয়েটা ডুবে চোখের জলে আর আমি পুঁড়ি কষ্টের আগুনে

বাহিরে যাবো রিমি দেখতে

রিমি/ কই যান

আমি/ বলার মত এখানে কেউ নেই আমি কোথায় যাচ্ছি

দরজাটা লাগিয়ে দিন ফিরতে দেরি হবে

ফিরলাম সে রাতে

রিমি/ এতক্ষন কই ছিলেন সেই কখন থেকে আপনার পথ চেয়ে বসে আছি

আমি দরজাটা খুলে আকাশের দিকে তাকালাম

রিমি/ কি হলো ঐদিকে কি দেখেন

আমি/ কিছুনা
দেখতেছি আকাশের চাঁদটা কোনদিক থেকে উঠছে

আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করছেন তাই

রিমি/ অপেক্ষা তো আর এমনি এমনি করছিনা একা একা ভয় লাগছে তাই

আমি/ ওহহহহহ

রিমি/ খেতে দিচ্ছি আসুন

আমি/ আমি খেয়ে এসেছি

রিমি/ কি….. তাহলে আমি কার জন্য বসে আছি

বাহিরে খেতে গেলেন কেন

আমি/ সেটা আমি কাউকে বলতে বাঁধ্য নয়

ঘরে যেতে যেতে

ঘরে গিয়ে বালিশটা নিয়ে হাঁটতে লাগলাম

রিমি/ কি ব্যপার বালিশ নিয়ে কই যান

আমি/ ঘুমাতে

রিমি/ ঘুমাতে মানে কোথায় ঘুমাবেন আপনি

আমি/ পাশের ঘরে

রিমি/ পাশের ঘরে কেন

আমি/ আপনার সুবিধার জন্য

আপনি নিজেইতো আমার সাথে থাকতে চান না

তাই ভাবলাম আজ থেকে দুজন দু ঘরে থাকবো

চলে আসলাম পাশের ঘরে শুয়ে রইলাম

কিন্তু চোখেতো একটুও ঘুম নেই

আচ্ছা রিমিও কি আমার কথায় ভাবছে নাকি নাহিদের

দূররররর….. আমার কথা কেন ভাববে

আমিতো একটা নোমরা মনের মানুষ
আমিও না একটা পাগল

এসব ভাবতে ভাবতে অনেক রাত হয়ে গেলো চোখটা বন্ধ করলাম

সকাল হয়ে এলো

রিমির ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙ্গলো

ফোন ধরতে কেটে দিলো
তারপর ছোট্র একটা ম্যাসেজ

অনেক বেলা হয়ে গেছে

আমি ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুঁয়ে বসে রইলাম

রিমি/ এই নিন আপনার চা

রিমির দিকে তাকিয়ে রইলাম না চাইতে আজ চা
যাইহোক যাবার সময় মেয়েটা একটু বেশি মায়া লাগিয়ে দিচ্ছে

আমি/ এইযে

রিমি/ কিছু বলবেন

আমি/ কাল তো আপনার জন্মদিন

রিমি/ হুমমমম জানি আমার অনেক বন্ধুকে দাওয়াতও করেছি

আমি/ কিসের দাওয়াত আর কেন করলেন

রিমি/ এত ভোলা মন আপনার
আপনিতো বললেন আমার জন্মদিন অনেক ধুমধাম করে পালন করবেন তাই

আমি/ না তা আর হবেনা
কোন ফালতু কাজে আমি আমার টাকা পঁয়সা নষ্ট করতে চাইনা

রিমি/ তাহলে আর কি করা সবাইকে মানা করে দিবো

আমি/ হুমমমম সেটাই ভালো
হবে

আমারও খুব ইচ্ছে ছিলো রিমির জন্মদিনটা বড় করে করবো কিন্তু তা আর হলোনা

কারন জন্মদিনের চেয়ে তার মুখের হাঁসিটা আমার কাছে অনেক দামি

রিমি চলে গেলো বুঝতেছিনা খুশি হলো নাকি কষ্ট পেলো

যাক এসব ভেবে আমার কাজ নেই

বাসা থেকে বের হতে

রিমি/ কোথায় যাচ্ছেন বুঝি

আমি/ হুমমমমম

বাসা থেকে বের হয়ে নাহিদকে ফোন দিলাম আমাকে কিছুটা সময় দিতে

নাহিদ রাজি হলো

দুজনের দেখা হলো

প্রথমে নাহিদের কাছে জ্ক্ষমা চাইলাম তারপর

নাহিদকে প্রশ্ন করলাম

আমি/ আচ্ছা নাহিদ তোমার কাছে যদি রিমি ফিরে আসে তাহলে কি তুমি তাকে গ্রহণ করবে

নাহিদ চুপ করে রইলো কিছুই বলেনা

আমি/ কি হলো ভাই কিছুতো বলো

নাহিদ কি বুঝে হ্যাঁ বলে দিলো

আমি/ ভয় নেই তোমার নির্ভয়ে বলতে পারো

নাহিদ/ ই…..য়ে মানে হুমমমম করবো

আমি/ খুশি হলাম তোমার কথায়

ঠিক আছে কাল সকাল ১০টা এখানে এসো আমি তোমার হাতে তোমার ভালোবাসাকে তুলে দিবো

নাহিদ/ আচ্ছা

আমি/ ঠিক আছে তাহলে দেখা হবে কাল ঠিক এসময়

ভালো থেকো আজ আসি

নাহিদের হ্যাঁ উত্তরটা শুনে যতটানা খুশি হয়েছি তারচেয়ে বেশি বুকে ব্যাথা করছে তাতে কি রিমির মুখেতো একটু হাঁসি ফোটাতে পারব

চলবে…???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here