খাট নিয়ে বিরম্বনা  প্রথম পর্ব

0
454

খাট নিয়ে বিরম্বনা প্রথম পর্ব


‘মা’ কে বিয়ের আগেই বলেছিলাম,বাবাকে বলতে আমার রুমের খাট টা চেন্জ করে দিতে।খাট টা অনেক পুরনো হয়ে গেছে,আর এই খাট টা ছোট হওয়ায় এটাতে দুজন থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।

মা’ বাবাকে কথাটা ঠিকি বলেছিল।কিন্তু ঝামেলাটা বাঝায় আমার শশুর মশাই।ওনি নাকি আমাদের কে নতুন ফার্নিচার দিবে।ফার্নিচার এর কাজ এখনো কমপ্লিট হয়নাই তাই তিনি বলেছেন তোমরা কয়েক দিন একটু কষ্ট করে থাকো।ফার্নিচার বানানোর কাজ কমপ্লিট হলেই আমি তোমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিব।

ওনি যদি ফার্নিচার গুলি বিয়ের আগে দিতেন তাহলে আজ আমাকে এই দিন দেখতে হতো না।

গতরাতে ছিল আমার আর কুমুর বাসর রাত,,,

কুমু হচ্ছে আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে।বাবাই বিয়েটা ঠিক করেছিল।আমার কোন পছেন্দর মানুষ না থাকায় এই বিয়েটাতে আমি রাজি হয়ে যায়।

গতরাতে রুমে ঢুকতেই সদ্য বিবাহ করা বউটা
আমার পা ধরে সালাম করলো,এরপর চুপচাপ নিজের মত করে বিছানায় বসে আছে,আমিও কিছু বলার জন্য খুজে পাচ্ছিনা অপরিচিত একটা মানুষকে কিইবা বলার আছে। সময় শুধু বেড়েই যাচ্ছে দুজনই চুপচাপ,কিছুক্ষন পর তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,,,

–কুমু নাম টা খুব সুন্দর।

–ধন্যবাদ। আপনার নামটাও সুন্দর।

–মিথ্যা প্রশংসা করার জন্য ধন্যবাদ।

ছেলেদের দূর্বলতা কিসে আপনি
জানেন ?

–হ্যা জানি।

–কিসে ?

–মেয়েদের শরীরে।

–আমার ক্ষেত্রে হয়তো তা একটু ভিন্ন।

–যেমন ?

–আমার দূর্বলতা আপনার এ মেহেদী দেওয়া দুটা হাতে,আপনি যখন হাসেন আপনার গালে টোল পরে আমার দূর্বলতা আপনার এই গালে টোল পরা হাসিতে। আমার সবচেয়ে বেশি
দূর্বলতা কিসে জানেন ? আমার সবচেয়ে বেশি দূর্বলতা আপনার এ কাজল দেওয়া দুটা অপরূপ সুন্দর চোখে।

কুমু হয়তো এমন কিছু শুনার জন্য প্রস্তুত ছিলো নাহ,সে লজ্জা পেলো,লজ্জায় মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো।

হটাৎ বারান্দাটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভেতরে প্রবেশ করা জ্যোৎস্নার মিষ্টি আলোটাও আমাদের এ বিশেষ রাতটার স্বাক্ষী হয়ে
থাকতে চাইছে।

কুমুকে বললাম,,,

–চাঁদ এর আলো আপনার পছন্দ ?

–অনেক বেশি।

–চাঁদ এর সাথে কখনও একা একা কথা
বলেছেন ?

–নাহ তা বলি নি কখনও।

চলুন বারান্দায় যাই,জ্যোৎস্নার আলোরসাথে কিছু সময় কাটিয়ে আসি।

আমি বারান্দায় চলে আসলাম,কুমু একটু পরই
ভয়ে ভয়ে আমার পিছে এসে দাড়ালো। বারন্দায় দুটা চেয়ার রাখা,একটাতে কুমুকে বসতে বললাম এরপর আমিও বসলাম।

মেয়েটা খুবই চুপচাপ স্বভাবের কথা কম বলে,হয়তো লজ্জায় কিংবা ভয়ে তা জানা নেই আমার।

অনেকটা সময় দুজনে একসঙ্গে চাঁদ দেখার পর রুমে চলে আসলাম।

রুমে এসেই কুমু বলল,,,

–আমি একটু ওয়াশ রুমে যাব,,,

–আমার রুমে এটাচ বাথরুম,আমি কুমুকে বাথরুমটা দেখিয়ে দিয়ে খাটে এসে শুইলাম।

ঠিক তখনেই কুমু চিৎকার দিয়ে এসে এক লাফে খাটের উপরে পরল।

খুব জোরে ঠাস এরে একটা শব্দ হল।

তারপর চেয়ে দেখি আমি আর কুমু দুজনেই খাটের বিছানা ভেঙে নিচে পরে আছি,,,

কুমুর চিৎকার আর খাট ভাঙার শব্দে বিয়ে বাড়ির সবাই এসে আমাদের দরজায় খট খট আওয়াজ করছে আর জিজ্ঞাস করতেছে কি হয়েছে,,,,

কুমু পরে গিয়ে কোমরে খুব ব্যথা পেয়েছে তাই ইশশশ,,,,,ও বাবা,,,,,,কি ব্যথা,,,,,মরে গেলাম,,,

এসব বলে চিৎকার করতেছে,,,

আমিও কোমরে ব্যথা পেয়েছি,,, তাও উঠে গিয়ে দরজা খুললাম……

চলবে….

লেখা Tuhin Ahamed

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here