নিয়তির খেলা  চতুর্থ পর্ব

0
697

নিয়তির খেলা
চতুর্থ পর্ব

প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময় আমার সাথে একটা মেয়েও কলেজে যেত।আবার কলেজ থেকে আসার সময় ঐ মেয়েটা আমার সাথেই আসতো।

এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর হটাৎ একদিন সাহস করে মেয়েটার সাথে কথা বললাম।মেয়েটাও ভাল ভাবেই আমার সাথে কথা বলল।তারপর থেকে মেয়েটার সাথে কথা বলতে বলতে কলেজে যেতাম আবার কথা বলতে বলতে কলেজ থেকে বাসায় আসতাম।

এভাবে চলে গেল তিন-চার মাস।এই তিন-চার মাসে মেয়েটার সাথে কত কথাই না বলেছি।তারপর একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম আমি মেয়েটার প্রেমে পরে গেছি।আর মেয়েটা আমার সাথে যেভাবে কথা বলতো আমার কেন যানি মনে হতো মেয়েটাও আমাকে পছন্দ করে।

সিদ্ধান্ত নিলাম মেয়েটাকে আমার ভালবাসার কথা বলব।কিন্তু কোন ভাবেই তা বলতে পারতে ছিলাম না।বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে বলি আজকে যে করেই হোক মেয়েটাকে আমার ভালবাসার কথা বলবই বলব।কিন্তু মেয়েটার সামনে কিছু বলতে গেলেই আমার কাঁপাকাপি শুরু হয়ে যায়।কিছুতেই যেন কিছুই হচ্ছিল না।

তারপর হটাৎ মনে পরলো সামনেই তো 14 ফেব্রুয়ারি।সে দিন তো ভালবাসা দিবস।সেদিনেই না হয় আমি আমার ভালবাসার কথা মেয়েটাকে জানাবো।

এর মধ্যেই আমার এক বন্ধু একদিন বিকেল বেলা এসে বলল চল নদীর পার থেকে ঘুরে আসি।নদীর পারে বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে তাই আর না করলাম না।ওর সাথে ঘুরতে চলে গেলাম।

নদীর পার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পরলো একটা মেয়ে আর একটা ছেলের ওপর তারা ছাতার নিচে বসে আছে।আমার আর বুঝতে বাকি রইল না তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা ঠিক কি ধরনের।তখন এই ধরনের প্রেমিক-প্রেমিকা দেখলে আমার মাথায় প্রায়ই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেত রোদ নাই বৃষ্টি নাই তাও ওরা কেন ছাতার নিয়ে বসে থাকে।যাই হোক এখন আর এই প্রশ্নটা মাথায় আর আসে না।তখন এত কিছু বুঝাতাম না তাই হয়তো এই ধরনের প্রশ্ন মাথায় আসতো।

হাঁটতে হাঁটতে যতই মেয়েটার কাছে যাচ্ছিলাম মেয়েটাকে কেমন যানি চেনা চেনা মনে হচ্ছিল।আরও কাছে যাওয়ার পর যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

এই দৃশ্য দেখার পর প্রেম না করেও সেদিন ছোট খাটো একটা ছ্যাঁকা খেয়েছিলাম,,,

আমার কথা শেষ না হতেই নিনিতা বিকট শব্দে হাসা শুরু করল।ওর হাঁসি যেন কিছুতেই থামছিল না।এই প্রথম ওকে এভাবে হাঁসতে দেখলাম।নিনিতাকে হাঁসলে যে এত সুন্দর দেখতে লাগে এটা কি মেয়েটা যানে,,,কি যানি হয়তো সে তা যানে না।

– তারপর কি এখানেই আপনার প্রেমের সমাপ্তি ঘটলো ?

– আরে না।এর পরেও আরও একটা আছে।

– এখন তো আপনাকে আমার সন্দেহ হচ্ছে।আচ্ছা আপনি কি এখনো কারো সাথে প্রেম টেম করেন ?

– কি যে বলেন,,,, কারো সাথে সম্পর্ক থাকলে কি আর আপনাকে বিয়ে করি।

– হম।তাও ঠিক,,,

এখন আপনার পরের প্রেম কাহিনী শুরু করেন।তিনটার মধ্যে দুইটাই যখন বললেন তাহলে ওটা আর বাকি থাকবে কেন,,,,

– এইচ এস সি পরীক্ষায় আমি ভালো রেজাল্ট করেছিলাম আর এস এস সি তে রেজাল্ট ভালই ছিল সেই সুবাদে ভাল একটা ভাসিটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই।

আমার বয়স তখন উনিশ কি বিশ,আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামে রিনা নামের একটা মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়।আগের বারের মত এবারও প্রথম দেখায় প্রেমে পড়লাম আর ভদ্র ছেলের মতো অপেক্ষা করতে থাকলাম,কখনও তাকে সেভাবে খুব কাছ থেকে দেখা হয়নি।ফোনের মাধ্যমেই আমাদের মধ্যে কথা হতো।আর এভাবেই তিনটা বছর পার হয়ে গেলো…

সবকিছুই ঠিক ঠাক যাচ্ছিলো, জানতাম পড়া শেষ করে যে কোন একটা চাকুরী পেলে সে মেয়েকে হয়তো পাবো, কারণ ছেলে হিসাবে আমার একটা ভালো সুনাম আছে এলাকায়।আর এটা ভেবেই পড়াশোনায় মনোযোগ দিলাম।

কিন্তু একদিন আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম, যে মেয়ে আমাকে বলতো পড়া শেষ না করে বিয়ে করবে না,সে মেয়ে হুট করেই রাতের অন্ধকারে বিয়ে করে নিলো,আর এটা আমি জানতেই পরলাম না।যখন আমি এটা জানলাম তখন আমার কাছে সব কিছু কেমন জানি স্বপ্ন মনে হলো,পরে বুঝলাম এটা স্বপ্ন না এটাই বাস্তবতা।এই বাস্তবতাকে ঘিরেই হয়তো বেঁচে থাকতে হবে আমাকে।

সেদিন আমি বুঝেছিলাম টাকার ক্ষমতা কতখানি।ছেলে নাকি মাসে ষাট হাজার টাকা বেতন পায়, আর মধ্যবিত্ত ঘরে ষাট হাজার টাকা বেতন লটারির টিকিটের মতো, তাই রিনার বাবাও আর দ্বিতীয় বার ভাবলো না,যেখানে টাকা আছে সেখানে সুখ আছে, তাই রিনাও রাতের অন্ধকারে এভাবে বিয়ে করে নিলো।

এই চরম বাস্তবতা থেকেই সেদিন শিক্ষা নিয়ে ছিলাম জীবনে বিয়ে করলে টাকাকেই বিয়ে।

পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য অনেক ঘুরাঘুরি করেছি কিন্তু কোথায় একটা চাকরি পাইনি।তারপর অনেক কষ্টে সততা আর মেধার জোরে আপনাদের অফিসে চাকরিটা আমি পাই।চাকরির প্রথম দিন থেকেই আপনার বাবা আমাকে অনেক সাপোর্ট করতেন আর ওনার থেকে আমি অনেক ভালবাসাও পেয়েছি।

এরপর একদিন আপনার বাবা আমাকে ডেকে সব ঘটনা খুলে বললেন।আর বললেন এই বিয়েটা তুমি না করলে আমার মান সম্মান সব শেষ হয়ে যাবে।তার পরের ঘটনা তো আপনি সব জানেনই।

– আপনার বলা আগের ঘটনা গুলি শুনে আমার প্রচুর হাঁসি পেয়েছিল।কিন্তু এবার তার উল্টো টা হল।আপনার কথা গুলো শুনে খুব খারাপ লাগলো,,,,,,

– এগুলি এখন শুধুই অতীত।এগুলি এখন আর মনে করি না।

– হম,,,

আচ্ছা আপনাদের বাড়িতে যেতে আর কতটা সময় লাগবে,,,,

– এইতো পরের স্টেশনেই আমরা নামবো।তারপর সেখান থেকে একটা রিক্সা নিয়ে সোজা বাড়ি চলে যাবো,,,,,

চলবে,,,,,

লেখা || Tuhin Ahamed

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here