অভিশপ্ত_রাত (শেষ পর্ব)

2
999

অভিশপ্ত_রাত (শেষ পর্ব)

 

Umme Nipa

উপমা ঘরে রাখা সব তাবিজ খুলে পিছনের পুকুরে ফেলে দিতে নিল।ফেলে দেয়ার সাথে সাথেই তার চোখ আটকে গেল দূরের গাছের পাশে কেউ দাড়িয়ে আছে।ওপাশ টায় ময়লা ফালানো হয়।যার কারনে কোন বসতী নেই।ওখনে কেইবা থাকবে।উপমা ফিরে আসতে নিলেই তার কানে ভেসে আসে গুন গুন করে কান্নার আওয়াজ। যা তাকে মনে করিয়ে দেয় এটা মায়ার ই কান্না।এ শব্দ খুব চেনা।

উপমা ঘরে গিয়েই তরিঘরি করে ব্যাগ গুছাচ্ছে।শিহাব উপমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,কি বেপার?

উপমা: আমরা চলে যাব। এক্ষন ই যাব।

শিহাব:আহ পাগল হলে নাকি?

উপমা বিছানায় বসে কেঁদে দিয়ে বললো,আমার বাচ্চাকে বাঁচাতেই হবে।মায়া আগে কাছে আসতো।এখন না আসলেও দূরে বসে কাঁদে।I think she’s jealous.

শিহাব হেসে দিল।

উপমা: হাসছো কেন?
শিহাব: মরার পর কেউ হিংসা প্রেম ভালোবাসার অবস্থায় থাকে?

উপমা: আমি অত কিছু জানিনা।

শিহাব: তোমার কি উচিৎ নয় তোমার বান্ধবীর মৃত আত্মাকে শান্তি দেয়া?তার খুনিকে খুঁজে বের করা?ও বার বার কেন আসে?She knows you can help her

উপমা চিৎকার দিয়ে কাঁদছে। কি তার করা উচিৎ সে জানেনা।

নিজাম মামাকে উপমা বলে দিল,আজিজ ফকির কে গিয়ে বলতে উপমা আসতে পারবেনা তার শরীর খারাপ।

নিজাম ও যেই কথা সেই কাজ।তবে এ কথা শুনে আজিজ ফকির অনেক টা রাগান্বিত হয়ে তাকে বললো,বাচ্চার ভালো চাইলে তাকে আসতে হবে।আমি আজ তার জন্য অন্য কোথাও যাই নি।

উপমা শিহাব কে উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞেস করলো,প্রমান ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয়া যায়? আমরা তো কোটে গিয়ে বলতে পারবোনা মৃতের আত্মা আমাদের কাছে এসে বলেছে

শিহাব: মায়ার দাফন কই হয়েছিল?

উপমা: খালাম্মা বললো পুলিশ নাকি বলেছে লাশ চুরি হয়েছে

 

শিহাব চেঁচিয়ে বললো কি?এগুলো তো মিথ্যা কথা।আমায় বাকি কলিগ রা বলেছিল তাকে তার বর ই নিয়ে গেছে।

উপমা: কিন্তু খালাম্মা বললো মায়া মারা যাবার কিছুদিন যেতে না যেতে ই ওর স্বামীও মারা যায়

শিহাব হতাশ হয়ে বসে পরলেন।কোন আলোর রাস্তা দেখা যাচ্ছেনা। পুলিশের কাছে মামলা দিবে যে তা আজিজ অনেক টাই পুপুলার।তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমান লাগবে।লেইম কথা দিয়ে তাকে বেশিদিন হাজত খাটানো যাবে না।
রাত ১২:০১.

উপমা শিহাব ঘুমাচ্ছে।সন্ধ্যা নামতেই উপমার বেশ ভয় শুরু হয়েছিল।আজ আমাবস্যা, চারদিকে বেশ অন্ধকার তার উপর ঝড়ো বাতাস।দমকা বাতাসে জানালাটা খুলে যায়। শব্দে উপমার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় শুয়েই জানালার দিকে তাকিয়ে আছে উপমা।জলন্ত মোম পতপত বাতাসে নিভু নিভু অবস্থা।জানালার পর্দা উড়ছে। খানিক বাদেই মোম নিভে গেল।উপমা শিহাবের জামা শক্ত করে ধরে মুখ গুঁজে নিল

খানিক বাদেই ভারি পুরুষ কন্ঠে কেউ ফিস ফিস করে বলছে আজ আমাবস্যা। ওঠো…সন্তাতের ভালো করতে চাও তো ওঠো।

উপমা ভরকে গিয়ে জানালার দিকে তাকায়। অন্ধকারেও জানালা ওপাশ টায় কেউ দাড়িয়ে বেশ বোঝা যাচ্ছে।

এরই মাঝে উপমা বেশ শুনতে পেল শিহাব বাইরে দাড়িয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে আর বলছে উপমা দরজা খুলো।আমি বাইরে ভিজে যাচ্ছি।

শিহাবের কন্ঠ শুনে উপমা দিক বেদিক হারিয়ে ফেললো।শিহাব যে তার পাশে শুয়ে তা তার খেয়াল নেই।

উপমা উঠে দরজা খুললো।চারপাশে কাউকে দেখছেনা।চারদিকে গুবগুবে অন্ধকার।হঠাৎ উপমা দেখতে পেল অন্ধকার এর মাঝে উঠোনের মাঝে শিহাবের মত কেউ দাড়িয়ে

শিহাব তুমি ভিজছো কেন?রাত জাগা কি অভ্যাস হয়ে গেছে।

শিহাব হাসছে।

উপমাও বাইরে নামলো।মোবাইলে লাইট অন করে উঠোনে মারতেই কাউকে দেখলো না উপমা।খুব ভয় পেয়ে গেল উপমা।গা কাঁপছে খুব।পেটেও ব্যথা শুরু হল।এরই মাঝে জোড়া কালো কুচকুচে বিড়াল দেখতে পেল উপমা তার সামনে।কপালে লাল রঙের তিলক।উপমার দিকে তাকিয়ে বিড়াল গুলি যেন তাচ্ছিল্যের হাসি দিল।বিড়াল গুলিকে অনেক টা দেখতে মানুষ এর মতন।অনেক টা ই আজিজ ফকির এর মতন।তবে আজিন ফকির হুবহু নয়।

উপমার আর ভয় লাগছেনা।সে বিড়াল এর পিছন পিছন বেখেয়ালে হেঁটে চলেছে।তার নিজের প্রতি নিজেই নিয়ন্ত্রন হারিয়েছে যেন।

বাতাসে খোলা দরজায় বার বার বন্ধ হচ্ছে আর খুলছে।শিহাব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।মায়া ধীরে ধীরে এসে শিহাবের পাশে বসলো

তুমি ঘুমোচ্ছো?
উপমার খুব বিপদ শিহাব।খুব বিপদ।ঠিক আমার মতন অবস্থা ওর হতে চলেছে।

সেবার আমার জামাই এসে আমায় বলে দিল আজিজ ফকির বলছে তোর উপর বদ জ্বীনের আছড় আছে।তুই যদি তার কাছে না যাস তাইলে আমি তরে তালাক দিমু।

ওর কথা শুনে আমি গিয়েছিলাম।সংসার ভাঙতে আমি চাইনি।

আজিজ ফকির আমায় ও এমন রাতে ছলে বলে নিয়েছিল। ৮মাসের বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় ও সে আমায় বহুবার ধর্ষণ করে।সেই রাতে আমার চিৎকার কেউ শুনেনি।আমি বার বার বলেছিলাম আমার বাচ্চাকে কেউ বাঁচাও…কেউ আসেনি।

কষ্ট সহ্য না করতে পেরে আমি সেন্সলেস হয়ে যাই। আজিজ এতই জানোয়ার আমার কষ্ট তার বুকে সামান্য মায়ার জন্ম দেয়নি।সে আমায় গলা টিপে মেরে ফেললো।পচা ডোবায় পা উপরে দিয়ে পুতে দিল।সবাই জানলো বদ জ্বীন আমায় মেরে ফেলেছে।
আমার মা পুলিশের কাছে গিয়েছিল।ওই পুলিশ কে আমার জামাই টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল।আমার স্বামীকে আজিজ লোভ দেখিয়েছিল আমার লাশ বিনা দাফনে পুড়িয়ে ফেললে আজিজ অনেক অনেক টাকা দিবে।লাশ পোড়াবার আগেই আমি আমার স্বামীকে মেরে ফেলি তবে আজিজ এর কালা জাদুর সাথে আমি পারিনি আগাতে।সে আমায় ওই ডোবার পাশে পুতে রেখেছে।আমার দাফন হয়নি।আমার খুব কষ্ট বলতে বলতে মায়া গুন গুন করে কেঁদে দিল।

শিহাব ওঠো..উপমার খুব বিপদ।হাসপাতালে তুমি ই প্রথম আমায় মৃত ঘোষনা করেছিলে।আমি মানতে পারিনি আমার মৃত্যু হয়েছে।তাই তার প্রতিশোধ তোমার স্ত্রী এর উপর নিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু পরে দেখেছি আমার বান্ধবী। প্রানের বান্ধবীর কি করে ক্ষতি করে।মেয়েটা যে তুমি বলতে পাগল।তুমি কি উঠবে না?আমার যে ক্ষমতা নাই উপমাকে বাঁচানোর।উঠো…

দরজা বাতাসের ধাক্কায় বার বার আছড়ে পরছে।শব্দে হঠাৎ শিহাবের ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে অন্ধকার।তার মানে মায়া আবার স্বপ্নে এসেছিল।শিহান চিৎকার করে বার বার উপমা উপমা বলে ডাকছে।

অন্ধকারে হাত দিয়ে বিছানায় খুঁজে দেখলো কেউ নেই এখানে।

 

শিহাব দ্রুত মোবাইল হাতে নিল।১:৪৫বাজে তখন।বৃষ্টি থেমে গেলেও আশে পাশে ব্যাঙ ডাকার শব্দ।
শিহাব নিজাম কে কল দিয়ে আনলো।গ্রামের কয়েকজন মিলে উপমাকে খুঁজছে।

উপমা বিড়ালের পিছন পিছন হাটতে হাটতে বার বার মনে হচ্ছে কেউ বলছে না উপমা না।তাও যেন সে থামছেনা।

আজিজ ফকিরের ঘরের সামনে এসে বিড়াল উধাও হয়ে গেল।আজিজ উপমার কাছে এসে বললো সন্তানের ভালো চাও?

উপমা মাথা নাড়িয়ে বললো হুম।

আজিজ উপমার কপালে তিলক একে দিয়ে বললো আসতে চাও নি কেন?তাই তো ছলে বলে আনালাম

আজ আমাবস্যা। কিছুক্ষন বাদেই ২টা বাজবে।তুমি পুকুরে নেমে তিনটা ডুব দিবে।

উপমা: আর?

আজিজ: আর যা আছে তা আমি দেখবো

২টা বাজতেই উপমা ধীরে ধীরে ঘাটে নামলো।চারপাশে মোম জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে।

উপমা ডুব দিল।পেটে আবার প্রচুর ব্যথা শুরু হল।

আজিজ উপরে বসে মন্ত্র পরছে।

উপমা পুকুর থেকে উঠলো।ভেজা কাপড় এ মেয়েটির দিকে আজিজ হিংস্র দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে।পশুত্ব যেন জেগে উঠছে আজিজের মাঝে।কামনা বাসনা জাগ্রত করছে নিজের মাঝে।উপমাকে ঘরে নিয়ে বসালো।ঠান্ডায় সে ঠক ঠক করে কাঁপছে আর বলছে আমি বাসায় যাব।
আজিজ বললো হুম যাবে।এখন ই তো জ্বীন আসবে,এই বলে উপমার হাত বাধলো

উপমা: হাত বাঁধছেন কেন?

আজিন: জ্বীন আসলেই খুব শক্তিশালী। না বাধলে নিজেই নিজের হাত দিয়ে বাচ্চাকে মারতে পারো।তুমি কি চাও মারতে?

উপমা: না না আরো শক্ত করে বাঁধুন

আজিজ বেধে দরজা বন্ধ করতেই উপমা চেঁচিয়ে বললো দরজা বন্ধ করবেন না।আমি বাসায় যাব। উপমার ধীরে ধীরে সব ঘোর কাটতে লাগলো।মায়ার খুনি যে ইনি তাও মনে এলে উপমা চিৎকার দিতে নিল।
আজিজ উপমার মুখ বেধে বিছানার উপর ফেলে দিল।হিংস্র কুকুরের মতন উপমার উপর ঝাঁপিয়ে পরলো।

চারপাশ খুঁজে শিহাব আজিজের বাড়ির সামনে উপস্থিত হল।গ্রামবাসীরা বার বার ডাকার পরে আজিজ দরজা খুলে কিছু না বোঝার ভান করলো এরই মাঝে ভিতর থেকে কারো গোঙানীর শব্ধ পেয়ে সবাই ভিতরে গিয়ে দেখলো উপমাকে বেধে রেখেছে। শিহাব চিৎকার দিয়ে উপমার বাঁধন খুলে উপমাকে জরিয়ে ধরলো।উপমা ঠক ঠক করে কাঁপছে।এক পর্যায় শিহাবের বুকেই সেন্সলেস হয়ে ঢলে পরে শিহাবের বুকে।

আজিজ কে পুলিশে তুলে দেয়া হয়।উপমা এখন কিছুটা সুস্থ।আজিজ কে রিমান্ডে নিলে আজিজ মায়ার মৃত্যু আর লাশ গুম করার কথা স্বীকার করে।মায়ার লাশ উদ্ধার করে দাফন করা হয়।

এরপর থেকে মায়াকে আর দেখা যায় নি।

৮মাস পর ই উষার জন্ম হয়।ফুটফুটে মেয়েটা যেদিন হয়েছিল ভরা পূর্নিমা।সেদিন প্রকৃতিও অবাক করেছিল। অঝোর বৃষ্টি ঝরছিল তাও আকাশে চাঁদ ছিল।এমন দৃশ্য আগে দেখা যায় নি।

উষার বয়স এখন ছয়।মা বাবার মেয়ের চেয়ে ও মা বাবার মায়ের মতন শাসন করে মেয়েটা।শিহাব উপমার সব সুখ যেন ওকে ঘিরে।

হঠাৎ করেই উপমা আজকাল বাড়ির আশে পাশে বিড়াল দেখতে পায়। স্বপ্নে সেই আজিজ কে বার বার দেখে শিউরে ওঠে উপমা।শিহাব কে জানালে শিহাব বুঝতে পারে কিছু একটা আবার হবে।গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো আজিজ ছাড়া পেয়েছে।

ছাদের সিঁড়ি তে বিড়াল দেখে ভয়ে সেন্সলেস হয়ে যায় উপমা।তার পর থেকে সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে।ঢেপ ঢেপ করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।মেয়ে খায়িয়ে দিলে খায়।প্রায় প্রায় বিড়াল থেকে ভয় পেয়ে কেঁপে ওঠে উপমা।শরীরের দিন দিন অবনতি হচ্ছিল তার।শিহাব এ রোগের কারন ধরতে পারেনা।শিহাব ও দিন দিন মন মরা হয়ে পরলো।মেয়েকে জরিয়ে ধরে প্রায় ই কেঁদে দেয় শিহাব।

ইদানীং শিহাব খেয়াল করে উষা ছাদে বসে একা একা কারো সাথে কথা বলে।জিজ্ঞেস করলে বলে পাপা কই কথা বলি?আমি তো এমনিতেই বসে আছি।

হঠাৎ রাতে শিহাব ঘুম থেকে উঠে দেখে মাঝে উষা নেই।সে ভয় পেয়ে সারাঘর খুঁজে। উপমা বোবা হলেও বুঝতে পারে তার মেয়ের বিপদ।সেও আতংক নিয়ে চারপাশ খোঁজে।হঠাৎ করে ঊষা ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে বললো বাবা খুজছো আমায়?

শিহাব এর খুব মনে পরে সে এই মাত্র দেখেছে ওয়াশ রুমের দরজা বাইরে থেকেই দেয়া ছিল।হয়তো ভুল দেখেছে তাই ভেবে সব ভুলে যায়।

পরেরদিন রাতে উপমা ঘুমিয়ে আছে।শিহাব বাসায় ফিরতেই ঊষা খবরের কাগজ শিহাবের হাতে দিল পড়তে।

মা পরে পড়ি?

ঊষা : পাপা পড়োনা এখন ই।খুব খুশি হবে পড়ে।

 

শিহাব উপমার পাশে বসে খবরের কাগজ খুলে দেখে কিছুটা আতকে গেল।আজ সকালে নীমতলিতে আজিজ নামে কারো লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার হয়।তার মাথা মাটির তলায় ছিল আর পা উপরে।সারা গ্রাম বলছে সে বদ জ্বীন সাধনা কর‍তো।আর তারাই তাকে মেরেছে।তবে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
শিহাব: আতকে উষার দিকে তাকালো।
ঊষা মুচকি হাসি দিয়ে বললো পঁচা লোক এভাবেই মরে তাইনা পাপা?

শিহাবের মনে বার বার একই প্রশ্ন জাগে,ইংরেজি পেপার এতটুক মেয়ে কি করে পড়ে? পড়লেও কি করে জানে আজিজ খারাপ?

শিহাব : তুমি কি করে জানলে মা?

ঊষা: আমার মা ই আমায় বলেছে।অনেক আগে।আমার সব মনে আছে পাপা।

শিহাব কিছুই বুঝছেনা।উপমা কবেই বললো?আর ঊষাকে বলবেই বা কেন?ভাবতে ভাবতে শিহাবের কপালে ঘাম জমে যায়।

উপমার ঘুম ভাঙলো।উপমা উঠে বসতেই ঊষা উপমাকে জড়িয়ে ধরে ফিস ফিস করে বললো মা পাপা অনেক ভীতু।দেখো সে কি ভয় পাচ্ছে।ঘামছে খুব।তুমি আঁচল দিয়ে ঘাম মুছে দেও।

উপমা মেয়ের কথা শুনে খিল খিল করে হেসে দিল।উপমার হাসির শব্দ শুনে শিহাব চমকে গিয়ে উপমাকে বললো তুমি কথা বলতে পারছো উপমা?

উপমা মৃদ্যু হেসে বললো হুম।আজ সকাল থেকে

শিহাবের চোখ ছল ছল করছে।

আকাশে মস্ত বড় চাঁদ উঠেছে,চাঁদের পাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে শুকতারা ।চারদিকে দিনের মতন ফক ফকে আলো।আজ ঊষার জন্মদিন।রাত ১০টা। অদ্ভুত রকম বৃষ্টির ফোঁটা পরছে আর আকাশে বিন্দু পরিমান মেঘ এর চিহ্ন ও নেই।হালকা বাতাস।শরতের চাঁদ যেন সবকিছু চিকচিক করে রেখেছে। উপমার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে শিহাব এবং ঊষা।বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছে।আর উপমা শিহাবের মাথায়।আদো স্বরে গাচ্ছে উপমা,আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা। এই বলে ঊষার কপালে চুমো দিচ্ছে উপমা।ঊষা ঘুমোচ্ছে…
শিহাব উঠে বললো চাঁদের কপালেই চাঁদ টিপ দিবে নাকি আমার মতন অধমের কপালেও দিবে?

উপমা হেসে শিহাবের কপালেও চুমো দিল।
বাইরে চাঁদের আলোর তীব্রতা বাড়ছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে উপমা।মনে হল ভেসে উঠলো আকাশে মায়ার মুখ।হাসি মাখা চোখ দিয়ে উপমার দিকে তাকিয়ে আছে মায়া।এই প্রথম মায়াকে হাসি খুশি দেখছে উপমা।মায়ার হাসি ভরা মুখ দেখে উপমার চোখে আনন্দের জল জমে গেল এ যেন অনেক টা জোৎস্না আকাশের বুকে বৃষ্টির আবির্ভাব।যেখানে কোন অভিশপ্ত আধারের ঠাঁই নেই…

(সমাপ্ত)
#এখানে ঊষার চরিত্রটাকে আমি একটু অলৌকিক শক্তির অধিকারী হিসেবে শুরু থেকেই বুঝাতে চেয়েছি।উপমার শরীরে আসা থেকে দুনিয়ায় আসার দিন অবধি তাকে শুভ শক্তির অধিকারী হিসেবে বুঝাতে চেয়েছি।ছাদে বসে কারো সাথে কথা বলে এটা দিয়ে অনেকেই অনেক কিছু ভাবনা আনতে পারেন এটা ও তার অসাধারণতার একটি পার্ট বলতে পারেন।কথা বলার কেউ টা মায়া এ হতে পারে।মায়ার উপমার মেয়ের প্রতি আগ্রহ টা ও হতে পারে।সব রহস্য ক্লিয়ার করা যায়না। তাহলে গল্পের সৌন্দর্য হারায়।কিছু জিনিস অসমাপ্ত সুন্দর। যে যার কল্পনার রাজ্য সেটা নিয়ে ভাবনায় মগ্ন হওয়া যায়। কিছু শিশু জন্ম থেকে অসাধারণ হওয়া তো দোষের কিছু নয়।ঊষাই গল্পের বন্ডিং এবং টার্নিং পয়েন্ট।ভয় টাকে জমিয়ে রাখারমতন চরিত্র 🙂

[সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ ]😍

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here