গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ৩/শেষ পর্ব

0
212

গল্পটা ভালবাসার পর্ব:- ৩/শেষ পর্ব

–সত্যি তো আমি যা বলবো তাই করবেন??(নুসরাত)
–হুম সত্যি।(আমি)
–আমাকে আইসক্রিম খাওয়াতে হবে।(নুসরাত)
–আচ্ছা খাওয়াবো। (আমি)
–ওকে আজ সন্ধ্যার সময় আমি ফোন দিবো। (নুসরাত)
–ওকে।(আমি)
যাক বাবা বাচা গেলো।
আইসক্রিম আর কয়টা খাবে।
যাই গল্প টা শেষ করি।
আবার গল্প পড়ায় মনোযোগ দিলাম।
একটা গল্প শেষ করে আর একটা গল্প পরা শুরু করলাম এই ভাবে ৪-৫ টা গল্প পড়লাম।
সন্ধ্যার দিকে নুসরাত ফোন করল–
–হ্যালো কে বলছেন??(আমি)
–বাহহ এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন।
ও বুঝেছি আইসক্রিম খাওয়ানোর ভয়ে এখন চিনছেন না তাই না।(নুসরাত)
–ও আপনি।(আমি)
–হুম আমি।
এখন তারাতারি আমাদের বাসায় আসেন।(নুসরাত)
–আচ্ছা আসতেছি।(আমি)
রেডি হয়ে নুসরাত দের বাসায় গেলাম দরজার সমনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম আন্টি দরজা খুলে দিয়ে বললেন-
–ও হৃদয় তুমি আসো বাবা ভিতরে আসো।(আন্টি)
তারপর ভিতরে গিয়ে বসলাম।
–আন্টি নুসরাত কোথায়।(আমি)
–তুমি না কি আইসক্রিম খাওয়াতে চাইছো তাই তোমার সাথে যাবার জন্য রেডি হচ্ছে।(আন্টি)
–(আমি খাওয়াতে চাইছি না জোর করে খাচ্ছে মনে মনে বললাম।)
হুমম আন্টি খাওয়াতে চাইছি।(আমি)
–আচ্ছা বাবা তুমি বসো আমি নুসরাত কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।(আন্টি)
আন্টি চলে গেলো নুসরাত এর রুমে।
আমি বসে আছি একটু পর নুসরাত বের হলো নুসরাত কে দেখে তো আমি পুরাই হা হয়ে গেছি।নিল শাড়ি পরছে দেখতে অসাধারণ লাগছে।আমি তো একসাথে দু’বস্তা ক্রাশ খাইলাম।
এক পলকে নুসরাত এর দিকে তাকিয়ে আছি।ঘোর কাটলো নুসরাত এর ডাকে–
–ও হ্যালো এমন করে কি দেখেন।(নুসরাত)
–পরি..(আমি)
–কি???(নুসরাত)
–কিছু না।।
এহ একদম ভালো লাগছে না,
একবারে পেত্নীর মত লাগছে।(আমি)
–হুম আমি যানি আমাকে কিসের মত লাগছে আপনাকে বলতে হবে না।
এখন চলেন।(নুসরাত)
–হুমম চলেন।(আমি)
তারপর আমি আর নুসরাত বের হয়ে গেলাম।দু’জনায় পাশা পাশি হাটছি।
কিছুক্ষন ঘুরলাম তারপর আইসক্রিমের দোকানে গেলাম।
–মামা একটা আইসক্রিম দেন তো।(আমি)
–এখনে খাবেন না নিয়ে যাবেন।(দোকানদার)
–এখানেই খাবো মামা দেন।(নুসরাত)
–এই নেন (দোকানদার)
কিছুক্ষন পর নুসরাত বলল,
মামা আর একটা দেন।
দোকানদার আবার দিয়ে গেলো।
কিছুক্ষন পর আবার বলল মামা আর একটা দেন। দোকানদার আবার দিয়ে গেলো এই ভাবে ১০ টা আইসক্রিম খেয়ে শেষ করল।
তারপর নুসরাত বলল–
–হুম শেষ খাওয়া আমার।(নুসরাত)
–আচ্ছা আপনি দাড়ান আমি বিলটা দিয়ে আসি।।(আমি)
বিল দিতে যায়ে দোকানদার বলল–
–মামা মামীকে আপনার সাথে বেশ মানিয়েছে।(দোকানদার)
–ধন্যবাদ মামা।(আমি)
বিল দিয়ে আমি আর নুসরাত যাচ্ছিলাম–
–একটা রিক্সা নেন।(নুসরাত)
একটা রিক্সা নিয়ে দু’জন রিক্সায় উঠে বসলাম।রিক্সা চলছে তার গতিতে আমাদের কারো মুখে কথা নাই।
একটু পর নুসরাত বলল–
–দোকানদার কি বলল তখন??(নুসরাত)
–কই কিছু না তো।(আমি)
–আমি কিন্তু সব শুনছি।(নুসরাত)
–(এই রে কেস খেয়ে গেলাম)
কি শুনছেন??(আমি)
–কিছু না বলে মুচকি হাসি দিলো।
আর আমি তার হাসি দেখে আবার এক বস্তা ক্রাশ খেলাম।
কিছুক্ষন পর নুসরাত দের বাসার সামনে আসলাম।
–আচ্ছা আসি তহলে।(নুসরাত)
–আর একটু থাকলে হয় না।(অস্পষ্ট ভাবে)
–কি??(নুসরাত)
–কিছু না আসেন।(আমি)
–আচ্ছা বাই।আর শুনেন আমাকে আপনি করে বলার দরকার নাই তুমি করে বলবেন।(নুসরাত)
–হুম বলবো যদি আপনিও বলেন।(আমি)
–আচ্ছা সাবধানে বাসায় যাও।(নুসরাত)
–তুমি আগে যাও।
তারপর আমি যাচ্ছি। (আমি)
তারপর নুসরাত ওর বাসায় চলে গেলো আর আমি আমার বাসায় চলে আসলাম।
এই ভাবে শুরু হয়েছিলো আমাদের বন্ধুত্বটা। ঝগড়া, মান অভিমান সবই চলত আমাদের মাঝে তবে ঝগড়া টায় বেশি হয়।
এই সবের মধ্যে আমি কখন যে নুসরাত কে ভালোবেসে ফেলেছি নিজেও জানিনা।
ওকে কিছু বলতেও পারছি না।
ভয় করে যদি আর কথা না বলে।
আর না বলেও থাকতে পারছি না।
কয়েকদিন থেকে ভালো মত খেতেও পারছি না।সব সময় অন্যমনষ্ক হয়ে থাকি।
বিষয় টা বাবা ধরতে পারে —
–কি রে হৃদয় কি হয়ছে তোর??(বাবা)
–কিছু না বাবা।(আমি)
–কিছু না হলে তুই এমন থাকিস না।
কি হয়ছে খুলে বল আমাকে দেখি সমাধান করতে পারি কি না।(বাবা)
তারপর বাবা কে সব খুলে বললাম।
বাবা বললেন–
–আমার মনে হয় নুসরাতও তোকে ভালোবেসে কিন্তু বলতে পারছে না।
তুই নুসরাত কে তোর মনের কথা বলে দে।(বাবা)
–না বাবা যদি ও ভালো না বাসে।
পরে যদি আমার সাথে কথা না বলে।
ওর সাথে কথা না বললে আমি মরেই তুই নুসরাত কে তোর মনের কথা বলে দে।(বাবা)
–না বাবা যদি ও ভালো না বাসে।
পরে যদি আমার সাথে কথা না বলে।
ওর সাথে কথা না বললে আমি মরেই যাব বাবা।(আমি)
–তুই কিছু চিন্তা করিস না দেখি কি করা যায়।(বাবা)
–হুম।।
নুসরাতকে আমার চাই বাবা।
তুমি কিছু একটা কর।(আমি)
–এক কাজ কর তুই আজ রাতেই কিছু দিনের জন্য তোর নানু বাড়ি থেকে ঘুরে আয়।
ফোন বন্ধ করে রাখবি।
ফেসবুক বন্ধ রাখবি।(বাবা)
–বাবা এই সব করে কি হবে।(আমি)
–উহুম এই সব করেই সব হবে।
তুই জাস্ট দেখে যা।
ভুলেও ফোন ফেসবুক অন করবি না।(বাবা)
–আচ্ছা বাবা।(আমি)
বাবার কথা মতো রাতেই নানু বাড়ি চলে আসলাম।ফেসবুক ডিএক্টিভ করে ফোন বন্ধ করে রাখলাম। দু’দিন পার হয়ে গেলো নুসরাত এর সাথে কনো কথা হয়নি।
ওর সাথে কথা বলার জন্য মন টা ছটফট করছে।এই দিকে বাবার কথাও ফেলতে পারছি না।ফোনও অন করতে পারছি না।
নানুর ফোন দিয়ে বাবা কে ফোন দিলাম–
–হ্যালো বাবা।(আমি)
–হুম বল।(বাবা)
–বাবা আমি থাকতে পারছি না।
একবার ফোন দিবো নুসরাত কে।(আমি)
–এই না না ভুলেও ঐ কাজ করবি না।
তোর কাজ হয়ে যাচ্ছে।
আর কিছু দিন পর তুই চলে আসিস।
আর ভুলেও ফোন অন করবি না।(বাবা)
–আচ্ছা বাবা ফোন অন করব না।(আমি)
বাবার সাথে কথা বলে বসে আছি আর নুসরাত এর কথা ভাবছি।
সত্যিই ওর সাথে কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না।
খুব কষ্ট হচ্ছে।
দেখতে দেখতে দশ দিন হয়ে গেলো এই দশ দিন যে আমার কি ভাবে কাটছে আমি কিছুই বলতে পারি না।তারপর নানু বাড়ি থেকে বাড়িতে চলে আসলাম।নুসরাত কে দেখার জন্য মন টা বেকুল হয়ে আছে।যেতে চাইলাম কিন্তু বাবা যেতে দিলো না।একটু পর দেখি নুসরাত নিজেই চলে আসছে–
–এই তাজমিনা তোর ভাই আসছে??(নুসরাত)
–হুমম আসছে ওর রুমে আছে।(তাজমিনা)
নুসরাত দৌড়ে আমার রুমে আসলো।
আমি তখন শুয়ে আছি।
এসেই দরজা লাগিয়ে দিয়ে দিলো–
–ঠাসসসস ঠাসসসসস
ঐ কুত্তা এত দিন কই ছিলি???
তোর ফোন বন্ধ কেন??
ফেসবুক ডিএক্টিভ করছিস কেন??(নুসরাত)
–আরে এত্য প্রশ্ন একবারে করলে উত্তর দিব কি ভাবে।আর কই যাই না যাই তোমার কি।(আমি)
–আমার কি মানে আমার অনেক কিছু।
আমি তোমাকে ভালো………(নুসরাত)
–কি ভালোবাস??(আমি)
–হুম অনেক বাসি।(নুসরাত)
–তাহলে বলোনি কেনো। (আমি)
–আগে বাসতাম নাকি।
তুমি চলে যাবার পর তোমাকে মিস করতে শুরু করলাম।তোমার সাথে কথা বলতে পারছিলাম না খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
মনে হচ্ছিলো কিছু একটা নেই আমার মাঝে।তারপর বুঝতে পারলাম তোমাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
এই দশটা দিন তোমার বাড়িতে এসে তোমার খবর শুনে গেছি।তোমাকে ফোন দিছি অনেক বার কিন্তু বার বার ফোন বন্ধ পাইছি।(নুসরাত)
–আমি ও কষ্ট পাইছি।
তোমাকে আমি অনেক আগে থেকেই ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি যদি তুমি কথা বলা বন্ধ করে দাও।
তুমি আমাকে ভালোবাস কি না তা জানার জন্যই এই সব করা।(আমি)
–তুমি খুব খারাপ।
একবার তো বলতে পারতা।(নুসরাত)
–এখন তো বলছি।
নুসরাত এর দু’টি হাত ধরে বললাম বিয়ে করবে আমাকে।(আমি)
–হুম করব।
বলে আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না করছে।
–এই পাগলী কান্না কর কেনো। (আমি)
–আর কখনো ছেরে যাবে না তো।(নুসরাত)
–না রে পাগলী যাবনা কখনো।
বলে আমিও জরিয়ে ধরলাম।
কিছুক্ষন পর নুসরাত আমাকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
তখন দুজনই চুপ।
তাই আমি বললাম,
–আচ্ছা নুসরাত তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো ত???
–ঐ তুমি এই কথা বলো কেনো??
–আচ্ছা বলোনা।
–হুম তোমাকে আমি আমার জিবনের চেয়েও বেশী ভালবাসি।
–তার প্রমাণ কি???
–কি প্রমাণ চাও বলো??
–হুমম,,,
শুনেছি কিস করলে নাকি দুজন দুজনকে মিস করে!!
তাই ইমরান হাশমির মতো তুমি আমার ঠোঠে একটা পাপ্পী দাও।।
–ওমা!!
আমার বুজি লজ্জা করেনা।
— তো কি করলে তোমার লজ্জা যাবে??
–তুমি তোমার চোখ বন্ধ করো।
–আমি চোখ বন্ধ করার সাথে সাথেই নুসরাত আমাকে জড়িয়ে ধরে আমাদের চারটি ঠোঁঠ এক করে দিলো!!
আহ কি মজা😜😜😜
এভাবেই শুরু হলো আমাদের দুজনের ভালবাসা।।।
.
.
সমাপ্ত

কেমন লাগছে জানাবেন

লেখক: তৌহিদুল ইসলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here