খেলাঘর পর্ব-৩৪

0
497

খেলাঘর পর্ব-৩৪
লেখা-সুলতানা ইতি

নাক ফুল বিক্রি করে সেদিন মাছ ভাতের ব্যাবস্থা করলো রাতে সবাই তৃপ্তি করে খেলো কিন্তু দুজনের একজন ও জিজ্ঞাস করেনি,মাছ আনতে টাকা কোথায় পেলো কিন্তু এতে মিথিলার কোন আফসোস নেইই
তার ভাই বোনের খুশির জন্য সব করতে পারে

পরদিন আয়ান নির্ঝরিণী বেরিয়ে যাওয়ার পর
মিথিলা বেরিয়ে গেলো একটা চাকরীর ইন্টার্ভিউ দিতে

অনেক্ষন সময় ধরে রিসেপশন রুমে বসে থাকার পর মিথিলার ডাক পড়লো
ইন্টার্ভিউ নিচ্ছে একজন মাত্র ব্যাক্তি বয়স তার ৫০-৫৫ কাছা কাছি এমন কিছুই হবে মাথা কাচা পাকা চুল দেহের গড়ন শক্ত সামর্থ্য বয়স যে এতো হয়েছে দেখে বুঝার উপায় নেই ইনি হচ্ছেন চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির এমডি রায়হান চৌধুরী

মিথিলা- মে আই কামিন

রায়হান চৌধুরী- ইয়েস

মিথিলা যেতেই তিনি তাকে বসতে দিলেন
তিনি মিথিলার সার্টিফিকেটে একবার চোখ বুলিয়ে বল্লো,,
এইচ এস সি কমপ্লিট করা জব তো এটা না এখানে ডিগ্রী মাস্টার্স কমপ্লিট কারী কে নিয়োগ দেয়া হবে,আপনি বিজ্ঞাপন টা ঠিক করে পড়েননি

মিথিলা বিনয়ের সাথে বল্লো
– জ্বী স্যার বিজ্ঞাপন টা আমি পড়েছি, পার্সোনাল অ্যাসেসন্ট ছেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন
আর আমি মনে করি একজন এইচ এস সি কমপ্লিট ব্যাক্তি একজন এমডির পি,এস হওয়ার যোগ্যতা রাখে

রায়হান চৌধুরী- কি করে সম্ভব এটা আমাকে বুঝান

মিথিলা বিনয়ের সাথে আবার ও বলতে শুরু করলো
– একজন লোকের যোগ্যতা প্রমান হয় তার কাজে, এদিকে দেখতে গেলে একজন মাস্টার্স কমপ্লিট কারি লোকের কাজের ছেয়ে একজন এইচ এস সি কমপ্লিট কারির কাজের দিকে এগিয়ে যেতে পারে আবার না ও যেতে পারে,পুরোটা নির্ভর করে ব্যাক্তির কনসেন্ট্রেশন এর উপরে যে যার কাজ যতো মন দিয়ে করবে সে তত এগিয়ে যেতে পারবে,

রায়হান চৌধুরী মুগ্ধ হয়ে মিথিলার কথা গুলো শুনছে মেয়েটা ভুল কিছু বলেনি সার্টিফিকেট দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা পড়াশুনায় অনেক ভালো ছিলো কিন্তু ওর কথা শুনে মনে হচ্ছে শুধু পড়াশুনা নয়, কথায় ও খই ফুটাতে জানে

রায়হান চৌধুরী কে চুপ করে থাকতে দেখে মিথিলা বল্লো,স্যার আমি কি কিছু ভুল বলেছি

রায়হান চৌধুরী- না আপনি ভুল কিছু বলেননি আচ্ছা আমার আরেক টা প্রশ্নের উত্তর দিন একজন এমডির পি এস কে অনেক ধরনের কাজ করতে হয় সেটা অনেক কঠিন কাজ ও হতে পারে আবার নর্মাল ও হতে পারে আবার দেখা যায় যে বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেছে, সেখানে একজন ছেলের প্রব্লেম হওয়ার কথা নয় কিন্তু একজন মেয়ের অনেক প্রব্লেম আসার কথা,তা হলে আপনি মেয়ে হয়ে এই কাজ করতে পারবেন?

মিথিলা খুব স্ট্রোং ভাবে বল্লো
– স্যার আমার মনে হয় এই প্রশ্ন টা আমার কাজের সাথে সম্পর্কিত না,তবু ও আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি, আমাদের সরকার নারী পুরুষের সমান অধিকার দিয়েছেন, তা হলে একজন ছেলের কাজ মেয়ে কেনো করতে পারবে না, আর একজন মেয়ের কাজ ছেলে কেনো করতে পারবে না,তা হলে সমান অধিকার দিয়েছে কেনো,আসলে স্যার সব কিছুর জন্য প্রয়োজন সাহসের, একজন ভিতু লোক মুখে মুখে ছেলে মেয়ের সমান অধিকার দাবি করলে ও কাজে প্রমান করতে পারবে না,

রায়হান চৌধুরী আবার মুগ্ধ হলো
– ঠিক আছে তুমি বাইরে যাও গিয়ে বসো, প্রয়োজনে তোমাকে ডাকা হবে

মিথিলা সালাম দিয়ে উঠে দাঁড়ালো বাইরে বসে বসে ভাবছে জব টা হবে তো? এই জব টা না হলে কি করবো আমি

প্রায় তিন ঘন্টা বসে থাকার পর মিথিলার আবার ডাক পড়লো

মিথিলা ভিতরে গিয়ে বসলো
মিথিলার সামনের চেয়ারে বসা লোক টা হাসি হাসি মুখ করে বল্লো
– আমি অনেক ভেবেছি তার পর মনে হলো তুমি আসলে চাকরী টা পাওয়ার যোগ্য,কিছু মনে করো না তুমি আমার মেয়ের বয়সী হবে তাই তুমি করে বললাম

মিথিলা- ইটস ওকে স্যার

রায়হান চৌধুরী- এই নাও এটা তোমার এপারমেন্ট লেটার, আগামি মাসের প্রথম তারিখ থেকে তুমি জয়েন করবে

মিথিলা আগেই সব কথা মনে মনে গুছিয়ে রেখেছিলো তাই বলতে শুরু করলো
– কিছু মনে করবেন না স্যার আসলে জব পেয়ে আমি সত্যি খুব খুশি আর ও খুশি হতাম যদি আমার প্রথম মাসের স্যালারী টা অগ্রিম দিতেন

রায়হান চৌধুরী অবাক হয়ে তাকালো মিথিলার দিকে
মিস আফরিনা মিথিলা এটা কিন্তু আমাদের রুলসে নেই

মিথিলা- হতে পারে স্যার তবু ও এই মুহুর্তে আমার টাকার খুব দরকার তাই বলেছি, আসলে আমার মা একটা কথা সব সময় বলতেন,পেটে খিধা মুখে লাজ রেখে লাভ নাই,,তাই আমি বলেছি এখন পুরোটা আপনার ব্যাপার

এমন সময় রায়হান চৌধুরীর অফিস টেলিফোন এ একটা জরুরী কল আসে টেলিফোনে কথা বলা শেষ করে
মিথিলার দিকে তাকিয়ে বল্লো
– মিস আফরিনা মিথিলা আমি তোমার কথা টা মেনে নিলাম,আমি অফিসের একাউন্টার কে বলে দিচ্ছি তুমি যাওয়ার সময় টাকাটা নিয়ে যেও তোমাকে এখন তোমার স্যালারি থেকে অগ্রিম অর্ধেক স্যালারি দেয়া হচ্ছে পুরো টা তোমার কাজ দেখার পর দিবো

মিথিলা খুশি হয়ে বল্লো
– ওকে স্যার, সেটা ই ভালো

মিথিলা আজ খুশি মনে বাড়ি ফিরলো আসার সময় মার্কেট হয়ে আসলো,, ঘরের প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরলো

ততক্ষনে আয়ান নির্ঝরিণী ও ফিরেছে
মিথিলা- নির্ঝরী এগুলা ভিতরে নিতে আমাকে একটু হেল্প কর

মিথিলার কথা মনে হয় নির্ঝরিণীর কান অব্দি পৌছয়নি
মিথিলা- কিরে শুনতে পাচ্ছিস না

নির্ঝরিণী – আপু দুলা ভাই এসেছে

মিথিলা ভ্রুকুচকে নির্ঝরিণীর দিকে তাকিয়ে বল্লো
– কোন দুলা ভাই?

নির্ঝরিণী – আমাদের মেঝো দুলা ভাই

মিথিলা – মানে ইভান চৌধুরী?

নির্ঝরিণী – হুম,

মিথিলা ভাবছে এতো গুলো দিন পর কেনো সে কেনো এলো আমার বাড়িতে যখন তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলাম তখন ও তো সে আমায় ফিরিয়ে নিতে আসেনি তা হলে আজ কেনো?

চলবে-
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here