খেলাঘর পর্ব-৩০

1
565

খেলাঘর পর্ব-৩০
লেখা-সুলতানা ইতি

এটাই আমার শাস্তি আজ আমি বড্ড একা হয়ে গেছি আম্মু বড্ড একা, মিস করছি তোমাকে কিন্তু তোমার কাছে যাওয়ার কোন পথ খোলা নেই

দরজা নকের শব্দ শুনে মিথিলা গিয়ে দরজা খুলে দেখলো উতলা এসেছে

মিথিলা- আরে উতলা তুমি? তুমি তো আমাদের বাসায় আসো ই না,এখন কি মনে করে এলে

উতলা- না আপু এমনি এসেছি বিকেল বেলা ভালো লাগছিলো না তাই,,নির্ঝরিণী কোথায় আপু

মিথিলা- আয়ান আর ও পড়ছে, সামনে এক্সাম তো তাই

উতলা- ঠিক আছে আমি যাই ওদের সাথে দেখা করে আসি, এই বলে মিথিলা কে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে স্টাডি রুমের দিকে গেলো উতলা

মিথিলা- মেয়েটা তো বড্ড ফাজিল,লজ্জা শরম কিছু নেই নাকি,একটা ছেলের পিছনে ধেইধেই করে ঘুরছে,আল্লাহ ওর পাল্লায় পড়ে আমার ভাইয়ের পড়ার যেন কোন ক্ষতি না হয়

উতলা নির্ঝরিণীরর সাথে কথা বলছে আর আড় চোখে আয়ান কে দেখছে

নির্ঝরিণী মুচকি হেসে বল্লো
– আপু তোমার চোখ বার এদিক ওদিক ঘুরছে কেনো তুমি কি কাউকে খুজছো আই মিন কাউকে দেখছো

উতলা লজ্জা পেয়ে বল্লো নাহ কাকে দেখবো কাউকে না,আচ্ছা তুই কি আয়াপ খানের সাথে যোগাযোগ করেছিস

নির্ঝরিণী ফিস ফিস করে বল্লো
– আস্তে বলো আপু শুনলে বকবে, আসলে আমি কার্ড টা ফেলে দিয়েছি

উতলা- কি বলছিস, এই রকম সুযোগ কেউ হাত ছাড়া করে

নির্ঝরিণী কিছু বলতে যাবে এমন সময় মিথিলা এসে বল্লো
– কিরে নির্ঝর তোর অংক টা করেছিস তো? আয়ান ইংলিশ রচনাটা পড়া হয়েছে?

মিথিলা জানে ওদের পড়া হয়নি তবু ও উতলা কে চলে যেতে বলার এটা একটা কৌশল

নির্ঝরিণী আমতা আমতা কিরে বল্লো
– না আপু

মিথিলা- তা হলে কি করছিলি এতোক্ষন

উতলা- আপু ও আমার সাথে কথা বলতে গিয়ে দেরি করে ফেলেছে ঠিক আছে আমি যাই

মিথিলা- না তুমি বসো প্রব্লেম নেই

উতলা- না থাক পরে আসবো আমি
উতলা চলে যায়
মিথিলা যেন হাফ ছেড়ে বাছলো এই মেয়ের কাছে থেকে আমার ভাইকে দূরে দূরে রাখতে হবে এই বয়সে এই সবের পিছনে ঝড়িয়ে গেলে পড়াশুনা গোল্লায় যাবে

কিরে আয়ান কি করছিস
আয়ান- এই তো আপু লিখছি

মিথিলা- তোকে তো পড়তে দিয়েছি লিখতে দিইনি,দেখি তো কি লিখেছিস

আয়ান কাগজ টা তাড়াতাড়ি শরাতে যাবে তার আগেই মিথিলা কাগজ টা কেড়ে নেয় কি লিখেছিস এই সব তুই
” উতলা তোমাকে দেখলে কেনো চোখের
তৃষ্ণা মিটে না,শুধু দেখতেই ইচ্ছে করে,হাহাকার করে আমার মন একটু বৃষ্টি দিয়ে মরুভূমি টা ভিজিয়ে দিবে বলে
তোমার চোখের ঐ লম্বা গুছানো পাপড়ির বাঁঝে ফুঁ দিয়ে এলো মেলো করে দিতে চাই
তুমি কি রেগে যাবে,
তোমার ঠোটের উপর তিলটা ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে”এভাবে আর ও কিছু এলো মেলো কথা লিখেছে আয়ান
মানে কি আয়ান? এসব কি? তুই এতো খারাপ হয়ে গেছিস ছিঃ বাইর হও আজ তোর একদিন কি আমার একদিন

আয়ানা- আ.পু প্লিজ আর এমন করবো না এবারের মতো
– ঠাসসসস মিথিলা আয়ান কে থাপ্পড় মারে তার পর শোলা দিয়ে অনেক মার ধর করে
তোর জন্য আমি কখনো কোন ব্যাপারে কাপর্ন করিনি শুধু ছেয়েছি ভালো রেজাল্ট আর তুই প্রেম করছিস? করাচ্ছি তোকে প্রেম, বাইর হও, বাড়ি থেকে, তোর মতো ভাইয়ের দরকার নেই আমার
আমি কার জন্য এতো কষ্ট করতেছি বল আমার জন্য? কই আমার তো কোন লাভ দেখছি না, মিথিলা বলতে বলতে কেঁদে দিলো নির্ঝরিণী ও কাঁদছে আয়ান দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে হয়তো মাথা উচু করে চোখের পানি কাউকে দেখাতে চায় না তাই

মিথিলা কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো, টিউশনি করিয়ে তার পর ফিরবে অনেক রাতে
তৃধা দের বাড়ি একটু দূরে টিউশানি শেষে প্রতিদিন রিক্সায় আসে আজ কেনো জানি রিক্সায় উঠতে ইচ্ছে করলো না হেটেই আসছে

আয়ানের কান্না মাখা মুখ টা ভেসে উঠছে চোখের সামনে, এভাবে গায়ে হাত তোলা ঠিক হয়নি আমার ওরা তো এখন আর ছোট নেই, ইসস কি করলাম এটা আমি ওরা আমায় মায়ের মতো করে দেখে , আর আমি?
আচ্ছা আজ মা বেছে থাকলে কি মারতো ওদের হয়তো মারতো না
মিথিলা এই সব ভাবছে আর আনমনে হাটছে কখন যে মাঝ রাস্তায় চলে এসেছে খেয়াল নেই তার হঠ্যাৎ কই থেকে যেন একটা গাড়ি এসে ধাক্কা দেয়

ভাগ্যিস খুব একটা লাগেনি মিথিলা নিজেই উঠে দাড়ালো যেই ড্রাইবার কে কিছু বলার জন্য মুখ তুলেছে অমনি ড্রাইভার কে দেখে মুখ টা বন্ধ হয়ে গেলো ড্রাইবার আর অন্য কেউ নয় ইভান ই ছিলো
ইভান ব্যাস্ত কন্ঠে বল্লো
– একি তুমি এখানে এতো রাতে,তোমার লাগেনি তো কোথা ও

মিথিলা প্রথম কথার উত্তর না দিয়ে পরের টার উত্তর দিলো
– ছোটলোক পরিবারের মানুষদের এই রকম একটু আধটু হোছট খেতে হয়,এ আর এমন কি,,হোছট খেয়ে অনেক কিছু বোঝা যায় শিখা যায়

ইভান- চলো তোমায় পৌছে দিই

মিথিলা- স্যরি গরিব ঘরে জন্ম নিয়ে পায়ে হেটে অনেক দূর যেতে শিখেছি,বড় লোকদের মতো গাড়ি হাকিয়ে যাওয়ার অভ্যাস নেই

এই বলে মিথিলা দূর্ত হাটতে থাকলো পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা লেগেছে হাটতে কষ্ট হচ্ছে তবু ও সব শক্তি এক করে হাটছে

মিথিলার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে ইভান
– তুমি ঠিক আগের মতো ই আছো মিথি একটু ও চেঞ্জ হওনি শুধু তোমার মনে ঝং ধরেছে আমার জন্য, তোমাকে হারিয়ে বুঝেছি মিথি তুমি সত্যি অনন্য

আব্বু আম্মু ঠিক মানুষটি কে ই সিলেক্ট করেছিলো আমি ছিনতে পারিনি
ইভান আবার গাড়িতে গিয়ে বসলো
মনে পড়ে গেলো তার,এই রকম ই এক্সিডেন্ট করে একদিন তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিলো সেদিন তোমাকে না ছিনে রুঢ় ব্যাবহার করেছিলাম,কিন্তু আজ তোমায়
ছিনতে ফেরে ও আটকে রাখার কোন অধিকার আমার নেই,আমি নিজেই নিজের অধিকার হারিয়েছি

মিথিলা হাটছে মনে তার প্রশান্তি কাজ করছে
আজ ইভান কে একদম অন্য রকম লাগছে ছন্নছাড়া, আজ তার চোখের ভাষা জানান দিচ্ছিলো আমায়
সে অসহায় এই টা ই তো আমি ছেয়ে ছিলাম মনে মনে সত্যি তাই হলো

যে চোখ দিয়ে সে আমায় ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখে ছিলো,আজ সে চোখেই আমার জন্য একরাশ ভালোবাসা দেখেছি আমি,কিন্তু আজ আমার এই ভালোবাসার দরকার নেই বেশ আছি ভাই বোন কে নিয়ে ওদের নিয়ে ই আমার পৃথিবী

মিথিলা বাসায় এসে দেখলো নির্ঝরিণী পড়ছে
মিথিলা- কিরে পড়ছিস?
নির্ঝরিণী – হুম

মিথিলা- খেয়েছিস তোরা

নির্ঝরিণী – আয়ান খায়নি তাই আমি ও খাইনি

মিথিলা- কোথায় আয়ান?

নির্ঝরিণী – শুয়ে আছে
মিথিলা কিছু না বলে আয়ানের রুমে গেছে আয়ান শুয়ে আছে ঠিক শুয়ে নেই কাঁদছে বালিশে মুখ গুঁজে
মিথিলার বুকের ভিতর ছ্যাঁত করে উঠেছে কি করলাম এটা আমি মা বাবা হারা ভাই কে মারলাম
আস্তে করে মিথিলা ডাকলো
– আয়ান, আয়ান

আয়ান চুপটি করে শুয়ে আছে হয়তো চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করছে

মিথিলা- আমার ভুল হয়ে গেছে ভাই আমি আর তোর গায়ে হাত তুলবো না তোকে বকবো না

আয়ান এবার উঠে বসলো
– না আপু তোমার কোন ভুল নেই ভুল আমার ই আমি না বুঝে তোমায় কষ্ট দিয়েছি মাফ করে দাও আমায়

ভাই বোন কিছুক্ষন গলা ঝড়িয়ে কাদলো
তার পর মিথিলা নিজেকে সামলে নিয়ে বল্লো আয় খাবি
মিথিলা আয়ান আর নির্ঝরিণী কে খেতে দিলো
কিন্তু ওরা দুজনেই বসে আছে কেউ খাচ্ছে না

মিথিলা কিরে খাচ্ছিস না কেনো
আয়ান- তুই খাইয়ে দে, নইলে খাবো না

মিথিলা একটি কথা ও না বলে ভাত মাখিয়ে ভাই বোন কে খাইয়ে দিলো
খাওয়া শেষে মিথিলা বল্লো এখন সোজা গিয়ে পড়তে বসবি রাত বারোটার আগে ঘুমাবি না যদি ঘুমাস তো,খবর আছে দুজনের

আয়ান- আর খবর করতে হবে না অনেক খবর হয়ে গেছে আমাদের, বারোটার আগে ঘুমাবো না হলো তো

মিথিলা মুচকি হেসে আয়ানের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিলো

চলবে
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

1 COMMENT

  1. Apu story was very good. Thank you. But apu the world is working for dajjal anti Christ layer. And I give you some YouTube channel link you see all your eye how the world controlling dajjal against 100%ptoof you can see sicntific proof and some wired things with your own eyes I give the link secret reavelad Official. Real eye.this chanel exposed Illuminati and satanic works and gives you to know how song movie and sports games this things are brain washed things and they work very hard not just taik but give the prof see your own eyes. And this two Chanel give you the prof and sense Islam. True skills Muhammad. And many Chanel who gives the prof of Quran I’s from all mighty god Allah. And gives the prof sings. I hope you will understand that what I meant but this is not A joke this is most serious stuffs

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here