খেলাঘর.পর্ব-২০

0
507

খেলাঘর.পর্ব-২০
লেখা-সুলতানা ইতি

সুইট হার্ট শ্বশুর বাড়িতে যে কি দিন খন সময় ঠিক করতে হয় নাকি, যখন ইচ্ছে তখন যাওয়া যায়

মিথিলা ভাবছে অন্যকিছু বিয়ের রিচুয়ালস মানতে মা, বাবা কতো বুঝিয়ে উনাকে পাঠিয়েছে আর আজ উনি নিজের ইচ্ছে তে যাচ্ছে, ব্যাপার টা আসলেই সহজ নয়, আচ্ছা উনি নির্ঝরিণীরর সাথে কথা বলে তার পর আমাদের বাড়িতে যাবে বল্লো,কিন্তু কেনো?,নির্ঝরিণীর কোথায় উনি যেতে রাজি হবে? এটা মানা যায় না?
তা হলে
বাবার কিছু হয়নি তো বাবা ঠিক আছে তো?
মিথিলার বুকটা কেপে উঠে।

ইভান নিজে তৈরী হচ্ছে
কি হলো হেভলি? বসে আছো যে লেটস গো বাবার বাসায় যাচ্ছি. তা ও কার বাবার বাসা ভাবতে পারছো হেভলির বাবার বাসা,তৈরী হয়ে নাও তাড়া তাড়ি ডার্লিং

মিথিলা- বাবা ঠিক আছে তো
ইভান- বলো কি? বাবা ঠিক থাকবে না কেনো,
তা তুমি কি শাড়ি টা চেঞ্জ করবে, নাকি যেমন। আছো তেমন ই যাবে

মিথিলা- পাঁচ মিনিট বসুন
মিথিলা ঠিক পাঁচ মিনিটের ভিতরেই তৈরী হয়ে নিলো

ইভান গাড়ি স্ট্রাট দিলো
মিথিলা অন্যমনোস্ক হয়ে ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসলো

ইভান- হেভলি কি এতো ভাবছো বলো তো

মিথিলা- কিছু না
ইভান নরম স্বরে বল্লো
– চিন্তা করো না,আমি বলছি আংকেল ঠিক আছে, উনাকে ঠিক থাকতেই হবে তার এই হেভলি মেয়েটার জন্য

মিথিলাদের বাসার সামনে আজ প্রচুর মানুষের ভিড়
ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে

মিথিলা- কি হয়েছে বাড়িতে সবার কান্না শুনা যাচ্ছে কেনো,
এই বলে মিথিলা দৌড়ে বাড়ির ভিতরে যায় মিথিলার পিছনে ইভান আসে

বসার ঘরে ফ্লোরে কাউকে শোয়া অবস্থা দেখতে ফেলো, পাশে আয়ান বসে কাঁদছে
আয়ান তুই কাঁদছিস কেনো

আয়ান কিছু বল্লো না শুধু শুয়ে রাখা লোকটার মুখের কাপড় শরিয়ে দিলো

মিথিলা দেখতে ফেলো তার বাবা চির নিদ্রায় শায়িত হয়ে আছে

মিথিলা অঝোর নয়নে কাঁদছে
কাদতে কাঁদতে বল্লো
বাবার কি হয়েছিলো আয়ান তোরা আমায় আগে বলিসনি কেনো

আয়ান কিছু বলছে না কাঁদছে ও না ছুপ করে বসে আছে

নির্ঝরিণী কোথায় থেকে যেন এসে মিথিলা কে ঝড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে
মিথিলা ও কাঁদছে এর মধ্যে জিমি আপু এসে পড়ে সে ও কাঁদছে

ইভান আয়ান কে নিজের কাছে টেনে নেয়
ইভান- আয়ান আংকেলের কি হয়েছিলো? তোরা আমাদের আগে বলিসনি কেনো

আয়ান- বলার মতো সুযোগ পাইনি ভাইয়া, হঠ্যাৎ করেই বলছে বুক ব্যাথা করছে,তো মা বল্লো ডক্টরের কাছে যাবে কি না
বাবা নিষেধ করলো যাবে না,

এর কিছুক্ষণ পরেই আম্মুর চিৎকার শুনে আমি এসে দেখি আব্বু আর নেই ডক্টর এনেছি, ডক্টর তখন আব্বু কে মৃত ঘোষনা করে

ইভান- আংকেল স্টোক করেছে, কিন্তু উনি এতো কিসের চিন্তা করতো
আয়ান আর কিছু বল্লো না

মিথিলা বোনদের ঝড়িয়ে কিছুক্ষন কান্না করার পর
মিথিলা- মা কোথায় মা
নির্ঝরিণী কাঁদতে কাঁদতে বল্লো মার জ্ঞান নেই আপু,অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে হাতে সেলাইন চলছে,

মিথিলা মায়ের পাশে গিয়ে মাকে ডাকা ডাকি করলে ও ফাতেমাবেগমের সেন্স ফিরেনি
সন্ধায় ছয়টা দাপন কাপনের কাজ সম্পূর্ণ হয়,
আত্মীয় স্বজনেরা অনেক ই চলে গেছে,

ইভান থাকতে ছেয়ে ছিলো মিথিলা ঝোর করে ইভান কে পাঠিয়ে দিয়েছে,
এই জন্য যে, আমাদের বাড়িতে এসি নেই আপনার থাকতে কষ্ট হবে,আমি চাই না আপনি মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে বকা ঝকা করুন

ইভান- মিথিলা প্লিজ ঐ দিনের জন্য আ’ম স্যরি

মিথিলা- তবু ও প্লিজ আপনি যান

ইভান- মিথিলা আমি এই সময় তোমার পাশে থাকবো না তা হয় কি করে

মিথিলা- কাল সকালে আবার আসবেন আমি কি আসতে নিষেধ করেছি নাকি,আমি বলেছি আপনি এখন যান

ইভান- ওকে তা হলে তুমি ও চলো

মিথিলা- না আমাকে আমার ভাই বোনের পাশে থাকতে হবে,প্লিজ আপনি যান আর কথা বাড়াবেন না

ইভান সত্যি আর কিছু না বলে বেরিয়ে পড়ে
ফাতেমা বেগমের অবস্থা ভালো না, এই কয়দিনে তিনি বিছানার সাথে মিশে গেছে
মিথিলা তো মায়ের কাছে আসলেই কান্না করে
তাই নির্ঝরিণী মিথিলাকে আসতে দেয় না

এর মাঝে একদিন ইভান এসে মিথিলা কে নিয়ে যায় মিথিলা যদি ও যেতে চায়নি তবু ও আর কয়দিন থাকবে সে জন্য ইভান ঝোর করে নিয়ে গেছে
ইভান এখন অনেক বেশি সময় দেয় মিথিলা কে যেন সে স্বাভাবিক হতে পারে

to bee continue

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here