(কল্পনা থেকে লিখা)

0
1135

নতুন একটা সিম কিনে পরিচিত দশজন কে মেসেজ পাঠালাম। ” আমি তিয়াসের রুমমেট আকাশ বলছি। আজ সকালে তিয়াস গলায়দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আপনারা দয়া করে ‘হল’ থেকে ওর লাশ নিয়ে যাবেন।”

মেসেজ দেওয়ার মিনিট দুয়েকের মধ্যে কল আসা শুরু। মা, বাবা, ভাই,বোন, বন্ধুবান্ধবী সবাই একের পর এক ফোন দিচ্ছে। কি বলবো না বলবো ভেবে ফোন রেখে দিলাম। যতো ইচ্ছে কল করুক।

একটুপর একটার পর একটা মেসেজ আসতে লাগলো। মেসেজ গুলো ছিল ঠিক এই রকম।

আম্মুঃ আমার ছেলে জীবনে এই কাজ করতে পারে না।ওর প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। ওকে বলে দিও ওর জন্য বড় একটা মুরগী কিনে রেখেছি। বাড়িতে আসলে রান্না করে খাওয়াবো। আর এখন আপাতত কতো টাকা লাগবে সেটা মেসেজে বলে দিতে বলো।

আব্বুঃ বাবা, এই মাসে হাত খালি। মোটরসাইকেল কিনে চেয়েছিস দিবো। ঈদ আসুক, বাপ বেটা মিলে একসাথে গিয়ে গাড়ি কিনে আনবো। আর এইসব অলক্ষুণে কথা বলবি না। এমনিতেই দূরে থাকিস সারাদিন চিন্তায় থাকি কখন কি হয়। বাড়ি আসিস, তোর মা একটা বড় মুরগী রেখেছে। তোর জন্য আমিও খেতে পারছি না।

বড়বোনঃ লাথি খাবি হারামজাদা। মাথার মধ্যে ভূত ঢুকছে? ফাইজলামি করার যায়গা পাস না। রুনার সাথে ঝগড়া লাগছে? আচ্ছা আমি ফ্রি হয়ে রুনাকে ফোন দিবো।

ছোটভাইঃ আম্মুর কাছে কয়টাকা চামু সেইডা কও। তোমার জন্য আমার ক্যামেরা কিনা হচ্ছে না। বাবা বলছে ঈদে নাকি তোমাকে গাড়ি কিনে দিবে। তাই আমারটা দিতে দেরি হবে। তোমার জন্য আমি কিচ্ছু পাইনা।

রুনাঃ ঢং দেখাস? অন্য কাউকে পাইছিস? তুই কি মনে করছিস আমাকে ভয় দেখাবি? যা মরে যা। তোর লাশের সাথে বিয়ে বসবো। তারপর একসাথে কবরে যাবো। আজ বিকালবেলা নীল শাড়ি পরে ছবি পাঠাবো। দেখবি আর মরতে ইচ্ছে হবে না।

বন্ধু রতনঃ কি খবর মামা? রুনা ছ্যাকা দিছে? আমি ১০০% নিশ্চিত ছিলাম এই মাইয়া তোরে ছ্যাকা দিবো। দেখলি আমার কথা মিলে গেছে। মামা ট্রিট দেও ট্রিট। নতুন কাউকে পাইলে জানাস।

বান্ধবী লায়লাঃ ফাইজলামি রাখ। শুভর সাথে আমার আবার ঝগড়া লাগছে। দেখত কিছু করতে পারিস কিনা। বেচারা কাল রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়া ঘুমাইছে।এখনো ফোন অফ। একটু দেখবি? টেনশন হচ্ছে।

বিল্লু, চা ওয়ালাঃ মামা টেনশন নিয়েন না।বিকালবেলা চলে আসেন এককাপ স্পেশাল চা খাওয়াবো সব ঠিক হয়ে যাবে। রুনা মামীকেও নিয়ে আসবেন।

মেসেজ গুলো পড়ে মন ভালো হয়ে গেলে। মনে মনে আফসোস করতে লাগলাম সেইসব মানুষদের জন্য।যারা সামান্য কারণে সুইসাইড করে। তারা কি জানে প্রিয়জনদের কাছে তার মৃত্যু অবিশ্বাস্য ছাড়া কিচ্ছু না। তারা কি একবার ভাবে এইসব মানুষের কথা গুলো। যদি তারা একবার এইসব মেসেজ গুলো দেখতে পায়। তাহলে সারাজীবন বাঁচতে ইচ্ছে হবে তাদের। নিজের জন্য নাহলেও আপন মানুষদের জন্য।

(কল্পনা থেকে লিখা)

রিফাত আহমেদ

লিখাঃ ৭ এপ্রিল ২০১৮