গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

0
477
গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

গল্প : তুমি আমার অমূল্য রতন

লেখিকা : নীল পরী

নিলীমা আর তন্নয় একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তন্নয় নিলীমাকে প্রথম প্রপোজ করে কিন্তু নিলীমা রাজি হয়নি। তখন তন্নয়কে নিলীমা খুব অবহেলা করত।নিলীমা আর তন্নয়ের ২বছর আগের কথা। ২ বছর আগে ও নিলীমা তন্নয়কে এতটা ভালোবাসেনি । তন্নয় নিলীমার কাছে গেলেই বিরক্তি বোধ করতো। একদিন তন্নয় নিলীমা কে বলল….

তন্নয় : হাই……

নিলীমা : (কিছু বলে না)
তন্নয় : কি হলো তোমাকে বলছি শুনতে পাচ্ছো….????
নিলীমা : কি এমন চেচাছেন কেনো..?? আপনার ইচ্ছা হইছে আপনি বলছেন আমি কি আপনাকে আমার সাথে কথা বলতে বলছি।
তন্নয় : হুমমম তা বল নাই,, তাই বলে কি কথা বলা যায় না।
নিলীমা : (চুপ করে চলে গেলো কিছু না বলে)
এমন অবহেলা, বিরক্তি, আর তন্নয়ের ভালোবাসায় দিন চলতর থাকে।যত বার তন্নয় নিলীমার কাছে যায় ততবারই নিলীমা তন্নয়কে অপমান করে। এমন করে চলে গেলো অনেকটা দিন। কিন্তু নিলীমা সেই তন্নয় কে অপমানই করে। এমন করতে করতে কখন যে নিলীমা তন্নয়ের প্রেমে পরে গেছে নিলীমা বুঝতেই পারেনি। নালীমা এখন তন্নয়কে অপমান করলে তার নিজেরই খারাপ লাগে, বাসা বার বার তন্নয়ের কথা ভাবে। হঠ্যাৎ তন্নয়কে সে দেখে না। তন্নয় আর আসে না নিলীমার কাছে। নিলীমা খুব চিন্তায় পরে যায় যে তন্নয় কেনো আসে না। তবে কি আর আসবে না। যদি না ই আসবে তাহলে কেনো বুকের ভিতর ভালোবাসাে সৃ্ষ্টি করলো। নিলীমা এখন খুব কাদে তন্নয়ের জন্য, অপেক্ষা করে কিন্তু তন্নয় আসে না। নিলীমা তন্নয়ের বন্ধুদের কাছে খবর পেলো যে তন্নয়ের খুব জ্বর কয়দিন ধরে। তন্নয়ের বন্ধুরা তখন নিলীমাকে খুব বকা বকি করে কেনো তন্নয়ের খবর চাও, এখন তন্নয়কে অপমান করতে পারো না বলে..??? তখন নিলীমা কান্না করেদেয় আর বলে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি,, আর এটা ও বুঝেছি যে আমি তন্নয়কে খুব ভালোবেসে ফেলেছি, তন্নয় যে আমার অমূল্য রতন। তখন তন্নয়ের বন্ধুরা খুসিতে চিতকার দিয়ে উঠে আর বলে ভাবি এখন কান্না থামান। তন্নয়ের জ্বর কমলে আমরা তাকে বলে দিব সব ঠিক হয়ে যাবে। তন্নয়ের জ্বরের কথা শুনে তন্নয়কে দেখতে খালা আর খালাতো বোন আসে। তন্নয় এখন আগের থেকে একটু সুস্থ্য বলে খালাতো বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। আর তা নিলীমা দেখে। তন্নয়ের পাশে মেয়ে দেখে নিলীমার রাগ হয় আর তন্নয়ের কাছে গিয়ে বলে……

নিলীমা : এটা কি হচ্ছে..???

তন্নয় : কি হচ্ছে আর কি হচ্ছে…!!!
নিলীমা : কি হট্ছে হুমমম মেয়েটা কে..??
তন্নয় : কেনো তা বলতে হবে নাকি….?
নিলীমা : হে বলতে হবে। মেয়ে নিয়ে ঘুরা হয় বুঝি…??? তোমার না জ্বর..???
তন্নয় : যদি বলি এটা আমার বউ তা হলে কি করবে। আর আমার জ্বর তুমি কি করে জানলে…???
নিলীমা : (কান্না করে) এটা তোমার বউ তুমি বিয়ে করলে কবে…???
তন্নয়: তা কি তোমায় বলতে হবে..???
নিলীমা : বলো না তন্নয় মেয়েটা কে..??? আমার খুব খারাপ লাগছে…।
তন্নয় : ও আমার খালাতো বোন তন্নিমা।
নিলীমা : তন্নিমা

তন্নয় : হুমম কেনো।

নিলীমা : তোমার নাম তন্নয় আর অর নাম তন্নিমা মিলিয়ে।
তন্নয় : হুমমম ভাই বোনের নাম কি এক হয় না।
নিলীমা 🙁 হাসি দিয়ে) হে হয়। আমি তো তোমার বন্ধুদের কাছ থেকে তোমার খোজ নিয়ে ছিলাম, জানতে পারলাম তোমার জ্বর।
তন্নয় : কেনো খুজ নিয়েছ তুমি আমার..?? কে হই আমি তোমার…? নাকি অপমান করতে পারছো না বলে…??
নিলীমা : (তন্নয়কে জরিয়ে ধরে) Sorry তন্নয় আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আর আমি যে তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি তন্নয়, আর তুমি বললে তুমি কে আমার,,… তন্নয় তুমি আমার অমূল্য রতন।তুমি যে আমার জীবনের আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।
তন্নয় : সত্যি বলছ নিলীমা..???
নিলীমা : হে তন্নয়….. I Love You 😍
তন্নয় : নিলীমা I Love You Too 😍
নিলীমা : আমাকে ছেড়ে যাবে না তো..
তন্নয় : না কখনো যাবো না… তোমাকে আমার এই বুকে রাখবো আমি ও যাবো না তোমাকে ও কখনো যেতে দিবো না.

নিলীমা : হুমমম যাবো না।

এমন করে চলে গেলো কিছু সময়। তন্নয়ের খালাতো বোন বলে আরে ভাইয়া আমি লজ্জা পাচ্ছি কিন্তু। তন্নয় বলে তো কি হয়েছে। আমি একটু প্রেম করছি আমার পাগলিটার সাথে। নিলীমা বলে হুমমম ঠিকইতো।
তন্নয় আর নিলীমা এখন দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে। একে অপরকে ছাড়া থাকতেই পারে না। ওদের বিয়ে হয়েছে। অরা খুব খুশি। নিলীমা প্রেগনেন্ট অরা মা বাবা হবে খুব খুশি অনেক স্বপ্ন। তার পর পার হয়ে গেল কয়টি মাস….নিলীমার জমজ দুটি বাঁচ্চা হয় একটি ছেলে একটি মেয়ে। মেয়ের নাম রাখে তন্নয়ের সাথে মিল করে তন্নি আর ছেলের নাম রাখে নিলীমার সাথে মিল করে নিলয়। অদের হাসি খুশিতে দিন কাটে খুব খুশি অরা। আজ তন্নয়ের জন্ম দিন। নিলীমা অনেক আয়োজন করেছে,,, আর সবাইর সামনে তন্নয়কে একটি কিস করে বলে তন্নয় তুমি আমার অমূল্য রতন,,, তন্নয় ও বলে তুমি আমার অমূল্য রতন। তার পর জরিয়ে ধরে একে অপরকে।

সমাপ্ত

(প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন লাগলো লাইক, কমেন্টস করে জানাবেন সবাই।

গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।)