♥Love At 1st Sight $2 Part – 10

0
525

Love At 1st Sight $2

Part – 10

writer-Jubaida Sobti

রাহুল স্নেহাকে নিয়ে উপরে উঠলো..বেল বাজাতেই মার্জান দরজা খুলে,

মার্জান : [অবাক হয়ে] স্নেহা!? কি হয়েছে ওর?..

রাহুল কিছু না বলে স্নেহাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়…

মার্জান : আরে কি হয়েছে…কিছু বলছো না কেনো…

রাহুল স্নেহাকে খাটে বসিয়ে দেই…

রাহুল : তোমার ফ্রেন্ড থেকেই জিজ্ঞেস করো কি হয়েছে…

মার্জান : স্নেহা বল! কি হয়েছে?..

স্নেহা : কই?…তেমন কিছু না..আসলে পা পিছলিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম তাই একটু..

রাহুল স্নেহার দিকে অবাক হয়ে তাকালো..

স্নেহা : [ রাহুলের দিকে তাকিয়ে ] তাই না রাহুল!

রাহুল : [মনে মনে] Again Drama?

স্নেহা : [রাহুলকে নেড়ে দিয়ে] কি হলো রাহুল! বলো না…?

রাহুল : [ স্নেহার পায়ের ধারে বসে ]Oh yeah! right?

মার্জান : ওহ আচ্ছা!

স্নেহা : একটু পানি খাওয়াবি মার্জান প্লিজ!

মার্জান : হে দাড়া! [ মার্জান স্নেহার জন্য পানি আনতে চলে গেলো ]

স্নেহা : এই যে মিষ্টার হ্যান্ডস্যাম.. ভূল করেও ওকে বল���ানা কি হয়েছে..বুঝলা..

রাহুল : এতো ড্রামা কিভাবে করো তুমি?..

স্নেহা : আচ্ছা বলো না..কিভাবে জানলে আমি ঐখানে..?

[মার্জান পানি নিয়ে স্নেহার হাতে দিয়ে একটু হেসে চলে যায়]

রাহুল : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে ] বেশি কথা বলো না ওকে পানি খেয়ে শুয়ে পড়ো… বাই!

স্নেহা : [রাহুলের হাত ধরে] আরে আরেহ! কই যাও… তুমি চলে গেলে আমাকে কোলে নিবে কে?..

রাহুল : এক্সকিউস মি!?

স্নেহা : মানে! আমি তো হাটতে পারছিনা..তাই আমার যদি কোথাও যেতে হয়…মানে হচ্ছে..?

রাহুল : [ চেঁচিয়ে ] Shut up! stop the drama ok?…

স্নেহা : [ বিরবির করে] খালি আছে Shut up shut-up ??

[রাহুল স্নেহার পায়ের ধারে বসে স্নেহার পা হাত দিয়ে তুলে নিলো ]

স্নেহা : কি করছো!?

রাহুল : ঠিক করছি যাতে হাটতে পারো..

স্নেহা : [ চেঁচিয়ে ] একদম না প্লিজ!…?

রাহুল : কেনো? নাহ?…নাহলে হাটবে কি করে!

স্নেহা : না হাটা লাগবে না প্লিজ! কিছু করো না! আমি ব্যথা পাচ্ছি!?

[রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ ?]

স্নেহা : সত্যি রাহুল!?মোটেও ড্রামা না?

রাহুল : ওকে! [ রাহুল তার হাত বাড়িয়ে দিলো ] হাত দাও!

স্নেহা : [একটু অবাক হয়ে] হাত!?

রাহুল : বলছি হাত দাও হাত দিবা! তাকিয়ে আছো কেনো…

স্নেহা : ওকে?? [স্নেহা হাত দিলে রাহুল স্নেহার হাত শক্ত করে মুঠি বেধে ধরে]

রাহুল : এইদিকে তাকাও…

স্নেহা : কোন দিকে?

রাহুল : আমার চোখের দিকে…?

[স্নেহা রাহুলের চোখের দিকে তাকালো]

স্নেহা : আচ্ছা গেইম খেলবা??..ওকে i love it

স্নেহা রাহুলের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে…রাহুল ও [ Continue ]?

স্নেহা : [ মনে মনে ] ওহ মাই গড! এতো কিলার লুক দিলে কেমনি তাকাই বলো..?.. বাই দা ওয়ে এই মিষ্টার হ্যান্ডসামের আজ কি হলো..এতো রোমান্টিক চোখে চেয়ে আছে…

রাহুল : Hey ? Continue.. না হয় হেরে যাবা..

স্নেহা : [অবাক হয়ে] ওকে!??

[রাহুল স্নেহার চোখের দিক তাকিয়ে থেকে ধীরেধীরে স্নেহার পা ঘষতে লাগলো…. স্নেহা রাহুলের চোখের দিকে এক নজরে চেয়ে আছে..?]

হঠাৎ,

স্নেহা : আ..আ..আ

[ Rahul give a tedi smile?]

রাহুল : You ok?..?

স্নেহা : বললাম চাপ না দিতে আমি ব্যথা পাচ্ছি?

রাহুল : Ok i m sorry?…but এটা এখন না ঠিক করলে পরে আরো এফেক্ট হতো তাই বসিয়ে দিলাম।

স্নেহা : ?
আচ্ছা ?তুমি বললে না যে, ঐটা কিভাবে জানলা…

রাহুল : [দাঁড়িয়ে গিয়ে] ওকে বাই!

স্নেহা : আরেহ!?

রাহুল : গুড নাইট! [রাহুল চলে গেলো ]

মার্জান : [এগিয়ে এসে] কি হচ্ছে স্নেহা তুই গেলি সামিরের সাথে আর আসলি রাহুলের সাথে কিছুই তো বুঝলাম না..

স্নেহা : তুকে বলেছিলাম না…রাহুল সামিরকে jealous করে…তাই ও..?

মার্জান : তার মানে রাহুল ও তোকে..?

স্নেহা : হুম?
কিন্তু কোনোভাবে শিকার করছে না..?

মার্জান : আরে করবে করবে… Don’t worry..এতোটুকু যখন এগিয়েছে..বাকিটাও করবে?

স্নেহা : হুম? [ স্নেহার মনে পড়ছে সামির তার সাথে কি করতে ছেয়েছিলো ভেবে স্নেহা upset হয়ে যায়]

মার্জান : এই! কি ভাবছিস মুখ গোমড়া করে?

স্নেহা : নাহ কিছু না?

মার্জান : আমিতো পুরাই অবাক হয়ে গেছি.. রাহুল তোকে কোলে নিয়ে..যেভাবে হিরোর মতো দাঁড়িয়ে ছিলো…
মানতে হবে স্নেহা তুই তো রাহুলকে তোর জালে ফাসিয়েই নিয়েছিস…?

স্নেহা : [ in Action mood] একবার জো মে কামিটমেন্ট কারদেতি হু…পির মে আপনে আপকি ভি নেহি সু্নতি…?

মার্জান : রাখ তোর সালমান খানের ডায়লগ… এইবার তোর আসল সালমানের ডায়লগ বল??

স্নেহা : Shut-up?

মার্জান : জাষ্ট এটাই??

স্নেহা : হুম??

পরদিন ভার্সেটিতে,

রাহুল : নেহা! কি শুনছি এসব?..তুমি নাকি ব্যাংকক যাচ্ছো?..

নেহা : হে ঠিকই শুনেছো…তোমাকে তো..বলেছি কিন্তু তোমার কি জবাব?..

No neha it’s not a perfect time..

সামনে এক্সাম ঐটা শেষ করেনি.. then
etc etc…

রাহুল : কিন্তু নেহা তুমি ওদের সাথেই যাবে একা?..

নেহা : হুম! কারণ আমার ইচ্ছে যখন হয়েছে যাওয়ার So আমি যাবোই…তুমি চাইলে যেতে পারো..

রাহুল : তোমার ইচ্ছে.. আর আমার কথার কোনো মুল্য নেই…?

নেহা : দেখো রাহুল! আমিতো তোমাকে ও যেতে বলছি..কিন্তু তুমি নিজেই যাচ্ছো না….

রাহুল : তোমার বয়ফ্রেন্ড গুলাও যাবে?..

নেহা : এক্সকিউজ মি! বয়ফ্রেন্ড মিনস্?..?

রাহুল : তোমার ছেলে ফ্রেন্ডগুলো..?

নেহা : অউ..হুম যাবে!

রাহুল : Ok fine..আমিতো ভুলেই গিয়েছি তুমি তো আবার ওদের ছাড়া কোথাও যেতে পারো না… go.? all the best..[ রাহুল চলে গেলো ]

[নেহা তাকিয়ে থাকে…]

[স্নেহা চারদিক রাহুলকে খুজছে আজ ক্লাসেও দেখা পেলো না…]

হঠাৎ,একটি ক্লাসের মধ্যে থেকে সামির স্নেহাকে টেনে নিলো…

স্নেহা : তুমি?

সামির : [একটি চিকন ছুরি স্নেহার গলায় ধরে..]

স্নেহা ভয়ে কাঁপতে লাগলো…

সামির : যদি চিৎকার করো তাহলে আমিও এটা চালাতে বাধ্য হবো..

দেখো স্নেহা..আমি চায় না তোমাকে কষ্ট দিতে…কিন্তু তুমি আমাকে বাধ্য করছো…

কাল রাহুলকে আসতে বলেছিলে কেনো?..

স্নেহা : [কাপা গলায়] আমি জানিনা রাহুল কেমনি জানলো…

সামির : [চেঁচিয়ে ]তুমি জানো না?..মিথ্যা বলবা না…আমি ঐদিন দেখেছি…তুমি আর রাহুল এক ক্লাসে..ছিলে..আর রাহুল তোমার অনেকটা কাছে… আর আমি এটাও জানি যে তুমি আমার সাথে সব নাটক করেছো রাহুল কে দেখানোর জন্য…

স্নেহা অবাক হয়ে সামিরের দিকে তাকিয়ে রইলো.?

সামির : অবাক হচ্ছো কেনো?…[সামির স্নেহার গলা থেকে ছুরি নামিয়ে..] ছোট থেকেই রাহুল আমার লাইফ শেষ করে দিয়েছে….আমি যেটাই চায় সেটাই ও নিয়ে নেই… স্কুল লাইফ থেকে আমরা ফ্রেন্ড ছিলাম… সব গেইমে ওই ফার্ষ্ট আসতো…

একটা মেয়েকে পছন্দ করেছিলাম…মেয়েটা কিছু বলতো না শুধু হাসতো
ভয়ে বলতে পারছিলাম না..তখন রাহুল বুদ্ধি দিলো একটা চিঠি লিখতে..লিখলাম কিন্তু নিজ হাতে দিতে ভয় পাচ্ছিলাম..তাই রাহুলকে দিয়েই পাঠিয়েছিলাম…পরদিন মেয়েটা চিঠিতে উত্তর দিলো.. আমি তোমাকে দেখে হাসতাম না…তোমার পাশে যে হ্যান্ডস্যাম ছেলেটা ছিলো ওকে দেখে হাসতাম..আই লাভ হিম?

রাহুলের সামনেই চিঠিটা পড়েছি..সব ফ্রেন্ডসরাই হেসেছিলো..ইনফেক্ট রাহুল ও…

এরপর থেকেই রাহুল আর আমার বন্ধুত্ত ছুটে যায়…

পরে কলেজে উঠি…কার রেসিং এ আমি আর রাহুল famous ছিলাম… একদিন একটা রেসিং কার চুজ করলাম কিনবো বলে… ? কিন্তু ঐ রাহুল সেটাও আমাকে কিনতে দিলো না..আমার কিনতে একটু লেইট হচ্ছিলো…তাই..তিনদিন পর দেখি অই কারটা রাহুল কিনে ফেলেছে… যদি ও আমি আবার কিনতে চাই..তা ইম্পোর্ট এর মাধ্যমে কিনতে হবে… অইভাবে কিনতে গেলে কমপক্ষে ১সপ্তাহ লাগবে… কিন্তু ৪দিন পরেই আমাদের রেস ছিলো… কি আর হলো রাহুলই ফার্ষ্ট হয়েছে..কারণ আমার কার ছিলো 1year old… আর ওরটা ছিলো নিউ মডেলের এন্ড ২গিয়ারের…

2nd সেমিষ্টারে উঠলাম… যেদিন প্রথমি আমি নেহাকে দেখি আর ওর প্রেমে পড়ে যায়…নেহার ড্রেস..নেহার ফ্যাশন নেহার সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করে দেই… ধীরেধীরে নেহার সাথে অনেকটা ক্লোজ হয়ে যায়…

রাহুল আনপ্লাগড সিংগিং করে…নেহার প্রতি রাহুলের কোনো ইন্ট্রেষ্ট ছিলো না..

কিন্তু রাহুল যখন জানতে পারে…আমি নেহাকে পছন্দ করি.. সেটা নিয়ে ও অনেক হাসাহাসি করে ও…আর ওর ফ্রেন্ডসরা…

নেহা জানতো যে রাহুল ওকে কেয়ার করে না..সেটা আমিও জানতাম… একদিন কলেজের একটা প্রোগ্রামে…নেহা রাহুলকে একটা গানের জন্য রিকোরেষ্ট করে,, এমন অনেক মেয়েই রাহুলকে রিকোয়েষ্ট করে কিন্তু রাহুল…সেগুলো কেয়ার করে না…রাহুল নেহাকেও কেয়ার না করা সত্ত্বে…ওর রিকোয়েষ্ট করা গানটি গায়….শুধু মাত্র আমাকে jealous করানোর জন্য..? ও মজা নিতো এসবে…

পরে গিয়ে আমি..রাহুলকে..অনেক হুমকি দেই…কিন্তু তাতে তার কিছু যায় আসে না সে উলটা হেসে আমাকে চ্যালেঞ্জ করে যায়… যে আমি নেহাকে ও হারাবো…

পরদিন দেখি কলেজের সবার সামনে…রাহুল নেহাকে প্রপোজ করে..আর নেহাও কলেজের সব মেয়েদের হিট লাগিয়ে নাচতে নাচতে রাহুলকে হ্যা বলে দেই… এরপর থেকে নেহা আমাকে আর পাত্তা ও দেই না…

ইনফেক্ট রাহুল এটাও জানে যে নেহা রাহুলকে না রাহুলের পপুলারিটিকে ভালোবাসে..

তুমি বলো স্নেহা আমার কি করা উচিৎ ?

[স্নেহার ভয়ে গলার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে..]

সামির : ?আমি ডিসাইট করেছি কি জানো এরপর থেকে কোনো মেয়েকেই ভালোবাসবো না…শুধু ধোকা দিবো.. You know what আমি দিয়েছি…আমি success হয়েছি…

[সামির স্নেহার অনেক কাছে এসে] আমি এটাও বুঝতে পেরেছি যে রাহুলের অনেক মায়া হয় তোমার জন্য…So তুমিই হলে রাহুলের weakness…

স্নেহা : দেখো… প্লিজ যা হয়েছে তা ভুলে যাও তুমি নতুন করে আবার…

সামির : শিসস!…No sneha নতুন করে কিছুই হবে না… তোমার সাথে ক্যান্টিনে ধাক্ষা খাওয়ার পরে..আমার আবার রিয়েল লাভের প্রতি ইন্ট্রেষ্ট জাগে…কিন্তু আবারো ঐ রাহুল আমার সব কিছুতে পানি ফেলে দিয়েছে..?

হঠাৎ কেউ আসার শব্দ হচ্ছিলো..

সামির : ?So u are only mine….understand?. ..

Now you go…sneha…কিন্তু এই ক্লাসে যা হয়েছে তা যেন রাহুলের কানে না যায়… নয়তো তুমি বুঝতে পারছো আমি কি করবো…

স্নেহা : [ভয়ে ভয়ে] ওকে?

সামির : তোমাকে না…রাহুলকে করবো.. ? [ চেঁচিয়ে ] Understand?..

স্নেহা : [ভয়ে কেঁদে ] হে?

সামির : আর রাহুল থেকে যতো দূরে থাকবা রাহুলের জন্য ততোই ভালো হবে… [ সামির চলে গেলো ]

স্নেহা কান্না মুছে ক্লাস থেকে বের হয়..

মার্জান : স্নেহা কি হয়েছে?..এভাবে হয়ে আছিস কেনো?.. [স্নেহা চুপ করে থাকায় মার্জান স্নেহাকে টেনে লাইব্রেরী নিয়ে একটা চেয়ারে বসায়]

স্নেহা কেঁদে দিলো…

মার্জান : স্নেহা কি হয়েছে বলনা..কাঁদছিস কেনো?

[স্নেহা মার্জানকে বলতে যাচ্ছিলো ঠিক সেই সময় দেখে লাইব্রেরীতে রাহুলের এন্ট্রি… ]

[রাহুল স্নেহাকে দেখে একটু অবাক হলো কারণ স্নেহার চোখ ভেজা…]

স্নেহা আর মার্জান দুজনই চুপ হয়ে রইলো… রাহুল কাছে এসে…দাঁড়ায়..

মার্জান : তুই বয় আমি আসি, [মার্জান উঠে চলে যাচ্ছে..]

স্নেহা : কোথায় যাচ্ছিস দাড়া আমিও যাবো…

রাহুল : স্নেহা ওয়েট! [মার্জান চলে গেলো..স্নেহা ও চলে যেতে চাইলো.. রাহুল স্নেহাকে ধরে ফেললো.. ]

স্নেহা : দেখো প্লিজ আমাকে যেতে দাও..

রাহুল : স্নেহা কি হয়েছে তুমি কাঁদছো কেনো?…

স্নেহা : আমি কাঁদছি না [ স্নেহা চলে যাচ্ছিলো..রাহুল স্নেহাকে শক্ত করে টেনে ধরে..]

রাহুল : কাঁদছো কি.. না কাঁদছো তা তোমার চেহেরায় বলছে..?

স্নেহা : দেখো সবাই তাকিয়ে আছে..হাত ছাড়ো…

রাহুল : ছেড়ে দেবো.. বলে দাও..

স্নেহা : [ রেগে? ] আজিব! কেনো বলবো.. কি হোও তুমি আমার…

রাহুল : [স্নেহাকে পিছে টেলে দেওয়ালের সাথে জোড়ে ধাক্ষা দিয়ে লাগায়…স্নেহা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে] আমার চোখের দিকে তাকাও তারপর কথাটা বলো…. ? কি হলো স্নেহা..

স্নেহা : দেখো সবাই চেয়ে আছে…?

রাহুল : চেয়ে থাকুক I don’t care…?

স্নেহা : [রাহুলের চোখের দিক তাকিয়ে চোখ থেকে দু ফুটো জল গড়িয়ে ফেলে..] আমি কাঁদলে তোমার কি কষ্ট হচ্ছে?…

[রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে আছে…]

স্নেহা : বলো রাহুল..

[রাহুল মাথা নিচু করে স্নেহা থেকে হাত সরিয়ে নেই]

স্নেহা : জবাব নেই তাই না…তাহলে আমি কাঁদছি কেনো জেনে কি করবা…ওটাও না জানা থাকুক…

[ স্নেহা চলে গেলো ]

[সবাই রাহুলের দিক তাকিয়ে আছে রাহুল ও আর কিছু না বলে চলে যায় ]

[রাহুল পার্কিং এর দিক গিয়ে গাড়ীর দরজা খুলছিলো ঠিক সেই সময়..রাহুলের হঠাৎ সামিরের কথা মনে পড়ে…]

রাহুল : [মনে মনে] Oh shit! damn it? নিশ্চয় ঐ সামির স্নেহাকে আবারো…

[ তাড়াতাড়ি গাড়ী ড্রাইভ করে রাহুল ভার্সেটি থেকে বের হয়…দেখে স্নেহা বাসে্ উঠে গিয়েছে…বাস্ চলতে থাকে রাহুল ফাষ্ট চালিয়ে বাস্ ওভারটেইক করে, গাড়ী সামনে এনে দাড় করায়…তাতে বাস্ ও থেমে যায়… রাহুল গাড়ী থেকে নেমে তাড়াহুড়ো করে বাসে্ উঠে…]

ড্রাইভার : আরে ভাই সমস্যা কি আপনার এভাবে গাড়ী সামনে এনে দাঁড়ায় করাইলেন…

[রাহুলকে বাসে্ দেখে স্নেহা Shocked হয়ে যায়]

রাহুল : স্নেহা নিচে নামো কথা আছে!

স্নেহা : আরেহ! পাগল নাকি তুমি?

রাহুল : [ রেগে ] হ্যা আমি পাগল হয়েছে?..? এবার নামো..

[হঠাৎ একটা লোক চেঁচিয়ে বলে উঠে..আরে কে আপনি ওনাকে ডিষ্টার্ব করতেছেন কেনো]

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে লোকটার দিকে তাকিয়ে ] ওকে করছি তোকে তো আর করিনাই…

মার্জান : [স্নেহার কানে ফিসফিসিয়ে] দেখ স্নেহা হয়তো কোনো ইম্পর্টেন্ট..কিছু হবে…যা গিয়ে দেখ..

স্নেহা : তুই চুপ কর! [ রাহুলের দিকে তাকিয়ে ]দেখো.. পাগলামো করো না যাও…গিয়ে তোমার গাড়ীটা সরাও..পেছনে জ্যাম লেগে যাচ্ছে…

রাহুল : ?ঠিকভাবে বলছি নামবা কি নামবা না?..

স্নেহা : আজিব! আমি না গেলে জোড় করে নিয়ে যেতে পারবা নাকি…

রাহুল : [স্নেহার হাত ধরে] ?এখন টেনে নিচ্ছি…যদি প্রয়োজন হয় তাহলে উঠায় নিবো…

স্নেহা : আরেহ!?

[ রাহুল স্নেহাকে টেনে টেনে নিচে নামিয়ে নিলো ]

স্নেহা : [চিৎকার করে করে বলতে লাগলো ] কিডন্যাপ প্লিজ হেল্প…কেউ বাচাও…প্লিজ

হঠাৎ..একটি সার্জেন পুলিশ এগিয়ে আসে…

সার্জেন পুলিশ : কি ব্যাপার কি হচ্ছে?…

স্নেহা : কিডন্যাপ করছে আমাকে প্লিজ হেল্প..

রাহুল : [ পুলিশকে ইশারা করে] পাগল তাই…?

স্নেহা : এক্সকিউজ মি আমি মোটেও পাগল না বুঝেছো…দেখেন স্যার প্লিজ আপনি ওতে লকাপে..ঢুকান..

[রাহুল পুলিশকে ইশারা করে পাশে ঢেকে নেই কানে কানে কি যেন বললো পুলিশ একটু হেসে দেই…তারপর রাহুল পকেট থেকে কি যেন বের করে কেউ না দেখে মতো পুলিশের হাতে ঢুকিয়ে দেই…পুলিশ একটু হেসে স্নেহার দিক তাকিয়ে চলে যাচ্ছিলো]

স্নেহা : আরেহ! কই যাচ্ছেন..স্যার..?

রাহুল : [ চেঁচিয়ে ] Shut-up?

স্নেহা : [চুপ হয়ে গেলো ]??

[রাহুল স্নেহাকে টেনে গাড়িতে বসিয়ে লক করে দেই..]
[রাহুল ও গাড়িতে বসে..চালিয়ে চলে যায়]

[দুজন দুজনের দিক রাগান্বিতভাবে তাকাচ্ছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না…প্রায় আধ ঘন্টা পর রাহুল একটি নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে গাড়ী দাড় করালো…]

[রাহুল উঠে স্নেহার পাশে গিয়ে দরজা খুলে নামাতে চাইলে,,]

স্নেহা : করছোটা কি ? হাত ছাড়ো…

[ রাহুল টেনে স্নেহাকে নামিয়ে জোড়ে দরজা বন্ধ করলে স্নেহা কানে হাত দিয়ে দেই?]

রাহুল : [স্নেহাকে গাড়ির সাথে ধাক্ষা দিয়ে লাগিয়ে] লুক…কোনো ড্রামা করবানা?….যা বলবো ডিরেক্ট আন্স্যার দিবা…

স্নেহা : ?তোমার কোনো কিছুর..জবাব দিতে পা…

রাহুল : ?Shut-up…..[স্নেহা ভয় পেয়ে যায়…রাহুল কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকে]

দেখো স্নেহা…কি হয়েছে আমাকে খুলে বলো…সামির কিছু করেছে আবার?..

[স্নেহা রাহুলের হাত সরিয়ে গাড়ীর দরজা খুলে…রাহুল জোড়ে আবার দরজাটা লাগিয়ে দেই]

রাহুল : বলো কি করেছে… [রেগে স্নেহাকে ঝাড়ি দিয়ে] Say something damn it! ?

স্নেহা : [কেঁদে নিচের দিক তাকিয়ে] সরি! রাহুল আমি তোমাকে কিছুই বলতে পারবো না?

রাহুল : কেনো?..কেনো পারবা না?..বলো স্নেহা?…?

স্নেহা : ব্যাস! পারবো না এইটুকুই জানো… ?

রাহুল : স্নেহা প্লিজ!..?

[স্নেহা চুপ হয়ে রইলো ..]

[রাহুল স্নেহার কাছ থেকে সরে দাঁড়িয়ে…হঠাৎ গাড়ীর গ্লাসে জোড়ে বাড়ি দেই…এবং রাহুলের হাত থেকে অজর জোড়ে রক্ত বেয়ে পড়ে..]

স্নেহা : [রাহুলের হাত টেনে নিয়ে চিৎকার করে..] রাহুল!…কি করছো এসব…পাগল নাকি…

রাহুল : [তার হাত টেনে নিয়ে] বলো স্নেহা…সামির কি করেছে?..?

স্নেহা : [রাহুলের হাতটি আবার টেনে নিয়ে ওড়না দিয়ে মুড়িয়ে নেই] এভাবে জোড়ে মারে নাকি…দেখো তো কতোগুলো রক্ত ঝড়ছে…?

[রাহুল তার হাত আবার ও টেনে নিয়ে রেগে গ্লাসে আবার বাড়ি মারে]

স্নেহা : [ এবার অনেক ভয় পেয়ে কেঁদে ] ওকে ওকে..?? বলছি প্লিজ! এমন করো না…??… [স্নেহা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়ে]

[রাহুল ও বসে…স্নেহার সামনে]

স্নেহা : দেখো রাহুল সামির বলেছে ও যদি আমাকে তোমার আশেপাশে দেখে তাহলে তোমার ক্ষতি করবে..? আমি চাই না আমার জন্য তোমার ক্ষতি হোক..[স্নেহা ফুফিয়ে কাঁদতে থাকে]

রাহুল : রিলেক্স স্নেহা কিছু করতে পারবেনা সামির আমাকে…
Damn it!? তুমি ওর কথায় আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছো… আমার দিকে তাকাও স্নেহা আর কিছু করেছে সামির তোমাকে?… [রাহুল স্নেহার চোখ মুছে দিলো স্নেহা রাহুলের রক্ত ভরা হাতটি টেনে নিলো.. রাহুল চেয়ে আছে]

রাহুল : Don’t worry..সেরে যাবে..

স্নেহা : সব কিছুতে এতো রাগ দেখাও কেনো…

রাহুল : দেখো স্নেহা..তুমি কাঁদলে আমার মোটেও সজ্য হয় না…

স্নেহা : কেনো?..কেনো সজ্য হয়না?…

[রাহুল কিছুক্ষণ স্নেহার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে যায়]

স্নেহা : [দাঁড়িয়ে গিয়ে] কি হলো রাহুল বলো কেনো সজ্য হয় না?..?

রাহুল : [পেছন ফিরে যায়] গাড়িতে উঠো স্নেহা…

স্নেহা : কেনো সজ্য হয়না বলো রাহুল…

[রাহুল স্নেহার দিকে ফিরে তাকিয়ে স্নেহাকে হাত ধরে..গাড়িতে ঢুকায়..স্নেহা আর কিছু বলে না চোখ থেকে শুধু অশ্রু ফেলে..]

[রাহুল স্নেহাকে হোষ্টেলে পৌছে দিয়ে বাড়ি চলে যায়..]

মার্জান : স্নেহা! কি হয়েছে?..কোথায় নিয়ে গিয়েছিলো রাহুল?.

[স্নেহা মার্জানকে ঝড়িয়ে কেঁদে উঠে…এবং সামিরের সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা মার্জানকে খুলে বলে]

মার্জান : স্নেহা যদি রাহুল না যেতো ঐদিন তোর কি হতো… ? আর তুই আমাকে মিথ্যে বলেছিলি কেনো?…

স্নেহা : ??

মার্জান : আচ্ছা হয়েছে ব্যাস…আর কাঁদতে হবে না…যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নে….

[রাহুল বাসায় গিয়ে রুমে বসে ভাবতে থাকে.. কেনো স্নেহাকে বলতে পারলো না…স্নেহার কান্না তার সজ্য হয়না…কেনো ?
এদিক ওদিক হাটতে থাকে রাহুল…ইচ্ছে করছে সামিরকে গিয়ে এক্ষুনি খুন করে ফেলতে..]

বিকেলে রাহুল অপেক্ষা করে..স্নেহা কখন আসবে…কিন্তু অপেক্ষার শেষ নেই…স্নেহা ও আসে না….

পরদিন ভার্সেটি গিয়ে পৌছায়…

[দেখে স্নেহা ক্লাসে ঢুকেছে..রাহুল স্নেহাকে দেখে একটু হাসে…কিন্তু স্নেহা না হেসে চুপচাপ গিয়ে বসে যায়]

ক্লাস শেষে বের হতে যাবে…ঠিক তখন দেখে রাহুলের ফ্রেন্ড আসিফ রাহুলকে ধরে বলতে লাগলো..

আসিফ : হেই রাহুল..সামির কে দেখে এসেছি হসপিটালে…?? কি না দিলি বস্ মনে হচ্ছে…২বছরেও বেড থেকে উঠে..দাড়াতে পারবে না…

রাহুল : ২বছর কেনো আমিতো চাই যেন সে সারা জীবন বেড থেকে উঠতে না পারে….?

আসিফ : আচ্ছা চল…কেন্টিনে..

[ আসিফ আর রাহুল কেন্টিনে চলে যাচ্ছিলো..পেছন থেকে স্নেহা এসে রাহুলের হাত ধরে ফেলে…রাহুল তাকিয়ে দেখে স্নেহা…আসিফ ও হা করে চেয়ে আছে কিন্তু কিছু বলছে না..স্নেহা রাহুলকে টেনে লাইব্রেরীর রুমে নিয়ে যায়… স্নেহা কিছু বলতে চাইলো কিন্তু আশেপাশে তাকিয়ে দেখে অনেকে চেয়ে আছে…রাহুল সেটা বুঝতে পারায়…সে স্নেহাকে নিয়ে সেল্ফের এক কোণায় দাড় করায়]

রাহুল : স্নেহা! কিছু বলবা?..

স্নেহা : তুমি সামিরকে মেরেছো?

রাহুল : [স্নেহার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে…] নাহ!

স্নেহা : মিথ্যে বলছো কেনো রাহুল..আমি তোমার আর আসিফের সব কথা শুনেছি…?

রাহুল : ?হ্যা মেরেছি…আমি সামিরকে মেরেছি তো?…

স্নেহা : তুমি মারামারি ?

রাহুল : হ্যা আমি মারামারি করেছি… ?

স্নেহা : কেনো করেছো?…

[রাহুল Silent ]

স্নেহা : বলো না কেনো মেরেছো?…

রাহুল : মেরেছি কারণ ও তোমার সাথে..কথা বলেছে…ও তোমাকে টাচ্ করেছে..ও তোমাকে হুমকি দিয়েছে তাই…?

[স্নেহা Shocked হয়ে রাহুলের দিক চেয়ে আছে…রাহুল বেড়িয়ে গেছে…স্নেহা ও ধীরেধীরে ভাবতে ভাবতে লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে যায়]

আসিফ : স্নেহা!

স্নেহা : [পেছন ফিরে তাকায়] হ্যা..

আসিফ : ঐদিন সামির তোমাকে ক্লাসে..যা যা বলেছে সবকিছুর ডিটেল রাহুল বের করেছে…

[স্নেহা অবাক হয়ে চেয়ে আছে আসিফের দিকে]

আসিফ : এক্সুলি..আমাদের ভার্সেটির কিছু ছোট ভাই..রাহুলকে সব বলেছে…তারা দেখেছে সামির তোমাকে…গলায় ছুরি..?

[স্নেহার কিছু বলার শক্তি আর নেই…সে আর এক মুহূর্তের জন্য…ভার্সেটি দাঁড়াইনি…]

মার্জান : কি হলো স্নেহা?…তুই আমাকে ফেলে চলে এলি যে?..

স্নেহা : আমার না একটু খারাপ লাগছিলো…তাই..

মার্জান : অন্তত বলে আসতে পারতি…?

রাহুল তোকে খুঁজেছিলো…[স্নেহা উঠে চলে যায়]

বিকেলে স্নেহা রাহুলদের বাসায় যায়,

সিফা : স্নেহা কাল আসোনি যে?..তোমার জন্য অনেক্ষণ অপেক্ষা করেছিলো?

স্নেহা : আসলে কিভাবে বলি! আমি না..

সিফা : [স্নেহার কাছে এসে] কি হয়েছে স্নেহা তোমার কি মন খারাপ?…

স্নেহা : আমি আর আসতে পারবো না…প্লিজ ফাবিহার জন্য অন্য একটি টিচার খুজে নিয়েন…

সিফা : আসতে পারবে না মানে ?..কিন্তু কেনো?…

স্নেহা : আমি আসি…আমার একটু তাড়া আছে.. [ স্নেহা চলে যায়]

[স্নেহা হোষ্টেলে গিয়ে রুমে বসে কাঁদতে থাকে…হঠাৎ চোখ পড়ে…চেয়ারের উপর পড়ে থাকা সেই রক্ত ভরা ওড়নার উপর…. ওড়নাটি স্নেহার সাথে অনেক কথা বলছে…স্নেহা এক নজরে চেয়ে ওড়নাটিকে জবাব দিচ্ছে]

[রাহুল রুমে বসে তার হাতের দিকে চেয়ে আছে… মনে পড়ছে স্নেহা তার হাতকে ওড়না দিয়ে মুড়িয়ে নিচ্ছিলো…রাহুল ভাবছে আর ব্লাশিং হচ্ছে…?]

মার্জান : এই স্নেহা! কি হলো তোর বলতো?…

স্নেহা : মার্জান! আমি বাবাকে ফোন করে বলেছি বাড়ী যাবো… বাবা! হরি কাকাকে পাঠাচ্ছে আমাকে নিতে…

মার্জান : কিহ!? তুই কি পাগল হয়ে গেছিস?…

স্নেহা : মার্জান! আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম..?. আমি বুঝতে পারিনি…
আমার কারণে…রাহুলের ক্ষতি হোক আমি চাই না…রাহুল সামিরের সাথে মারামারি করেছে..আমার কারণে কাল না জানি আবার কি করে বসে…

রাহুল আর নেহার মাঝে…ঝগড়া হচ্ছে…এসব আমিই তো চেয়েছিলাম যে ওদের মাঝে ঝগড়া হোক…কিন্তু আমি এখন বুঝতে পারছি…সব কিছুই ভুল হয়েছে আমার…?

মার্জান : কিন্তু স্নেহা…?

স্নেহা : আমি এখানে থাকলে নিজেকে রাহুলের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারবো না মার্জান…?

[In rahul’s home]

রাহুল : ফাবিহা তোমার টিচার আসেনি.?

ফাবিহা : [মন খারাপ করে] টিচার আর কখনো আসবে না বলেছে..

রাহুল : What? আসবে না?.. কিন্তু কেনো…

ফাবিহা : জানিনা… মা এতোটুকুই বলেছে…?

রাহুল : [সিফার রুমে গিয়ে] ভাবী স্নেহা নাকি আর আসবে না…

সিফা : হ্যা তাইতো বলেছে..কারণ জিজ্ঞেস করেছিলাম কিন্তু কিছুই বললো না… মনে হচ্ছিলো অনেক টেনশনে আছে…

[রাহুল আর কিছু না বলে রুমে চলে যায়…ফেসবুকে ঢুকে স্নেহাকে মেসেজ করতে থাকে…কিন্তু স্নেহা অনলাইনে নেই…অনেক্ষণ অপেক্ষা করতে থাকে কোনো রিপ্লাই আসে না..]

পরদিন ভার্সেটি গিয়ে পৌছায় রাহুল,কিন্তু স্নেহার কোনো দেখা নেই…ক্লাস শেষে

রাহুল : [ মার্জানের কাছে এসে] স্নেহা কোথায় ও গতকাল বাসায় ও আসেনি আজ ভার্সেটি আসেনি…ওর শরীর ঠিকাছে?…

[মার্জান কিছু না বলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে চলে যায়]

রাহুল মার্জান থেকে কোনো জবাব না পেয়ে…বাড়ী চলে যায়…ফেসবুকে ঢুকে দেখে কোনো রিপ্লাই আসেনি স্নেহার…আর সজ্য হচ্ছে না রাহুলের সোজা গিয়ে হোষ্টেলে পৌছায় রাহুল…

[মার্জান দরজা খুলে রাহুলকে দেখে অবাক হয়ে যায়]

রাহুল : স্নেহা কোথায়?…

মার্জান : নেই!?

রাহুল : নেই মানে?…[ রাহুল ভেতরে ঢুকে পুরা ঘর খুজে দেখলো] দেখো প্লিজ স্নেহা কোথায় বলো?…

মার্জান : চলে গেছে!

রাহুল : কোথায়?…

মার্জান : যেখান থেকে এসেছে সেইখানেই চলে গেছে..

রাহুল : প্লিজ একবার বলো কোথায় গেছে…এরপর আমি তোমাকে আর ডিষ্টার্ব করবো না…

মার্জান : গৌরাকপুর, তার গ্রামের বাড়ী চলে গেছে..

[মার্জানের কথা শুনে রাহুলের মাথায় যেন বাজ ভেংগে পড়লো] রাহুলের মুখ দিয়ে আর একটা শব্দ বের হচ্ছে না…

মার্জান : স্নেহা তোমাকে অনেক!?

রাহুলের চোখ ভিজে আসছিলো জানেনা সে তার চোখ কেনো ভিজে যাচ্ছিলো… [ রাহুল চলে গেলো ]

প্রায় ১সপ্তাহ হয়ে গেলো… নেহা তার ফ্রেন্ডসদের নিয়ে ব্যাংকক এঞ্জয় করছে…এইদিকে স্নেহার ও আর কোনো খবর পেলো না…স্নেহাকে ছাড়া রাহুলের এক একটা দিন কাটছে বছরের মতো…

[রুমে বসে স্নেহার কথা ভাবছে রাহুল..স্নেহা এমন কেমনি করতে পারলো…একটাবার আমার কথা মনে পড়েনি ওর…]

হঠাৎ, ফোন বেজে উঠলো

রাহুল : হ্যালো…

আসিফ : দোস্ত গৌরাকপুরের ঠিকানা পেয়েছি..

রাহুল আসিফ থেকে ঠিকানা সব জেনে নিয়ে আর এক মুহূর্ত ও দেরী করেনি… গাড়ীতে উঠে সোজা গৌরাকপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেই…

পৌছাতে পৌছাতে সকাল ফেটে গেলো… চারদিক সবুজ ধানের ক্ষেত…. সাড়ি সাড়ি কাশফুল…
আকাশের অবস্থাও তেমন ভালো না…মনে হচ্ছে এক্ষুনি…ভাসিয়ে দিবে পুরো গ্রাম…

গাড়ী থেকে নেমে এদিক ওদিক তাকালো ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে…কিন্তু স্নেহাদের বাড়ী কোনটা রাহুল খুজে পাচ্ছিলো না…কয়েকটা লোক তাকিয়ে আছে রাহুলের দিক…

কিছু ছোট ছোট বাচ্চারা রাহুলের গাড়ীর আশেপাশে ঘুরঘুর করে তাকাচ্ছে…গ্রামে অবশ্য সচরাচর এমন গাড়ী কমই দেখা যায় তাই…

রাহুল একটি পিচ্চি ছেলেকে ইশারা দিয়ে ডাকদিলো…তারা সবাই একসাথেই এগিয়ে এলো রাহুলের দিক..

রাহুল : চেয়ারম্যান এর বাড়ী চেনো?… i mean আগে ছিলো চেয়ারম্যান এখন না…

ছেলেটি : নিলাজ বাড়ী?

রাহুল : হ্যা হ্যা ঐটাই…

ছেলেটি : ঐ যে সামনে যে দিঘিটা দেখতেসেন ঐটা ফালাই গেলে…যে বড় বাড়ীটা সেটাই…

রাহুল : ওকে থেংক্স??

রাহুল আবার গাড়ীতে উঠে…গিয়ে দিঘীর কিছুটা দূরে গিয়ে গাড়ী দার করালো সামনে আর যাওয়া যাবে না রাস্তা ছোটো… কিন্তু দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে নিলাজ বাড়ীটি…
অনেক পূরোনো বাড়ী মনে হচ্ছে…দূর থেকে চারদিক খুব সুন্দরই লাগছিলো…

ওয়েদারটাই স্নেহার কথা ও অনেক মনে পড়ছে রাহুলের? ভাবতে ভাবতেই রাহুল ব্লাশিং
[ বৃষ্টি নেমে এলো.. রাহুল তাড়াতাড়ি গাড়ীতে উঠে পড়ে…

[হঠাৎ…বাড়ীটির দিকে আবার তাকাতেই…রাহুলের বুকে কম্পন হতে লাগলো?]

স্নেহা উঠোনে নেমেছে বৃষ্টির মজা নিতে?রাহুল তাকিয়ে আছে…আজ কতোদিন পর এই চেহেরা দেখতে পাচ্ছে তাও আবার বৃষ্টি দিয়ে বরণ করে…

ভাবতে ভাবতে রাহুল ও গাড়ী থেকে নেমে পড়ে…ভিজে যাচ্ছে রাহুল…না থাক আজ ভিজেই যাক…তাতে ক্ষতি কি..? ধন্যবাদ জানালো রাহুল আল্লাহকে স্নেহাকে বরণ করার জন্য…

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here