♥Love At 1St Sight♥ Season 3 Part – 12

0
633

Love At 1St Sight
~~~Season 3~~~

Part – 12

writer-Jubaida Sobti

স্নেহা কারো কথার জবাব না দিয়ে ডিরেক্ট খাটে গিয়ে বসলো,

জারিফা : [ স্নেহার পাশে বসে ] হুম! কেউ একজন যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলো এখন থেকে আমি রাহুলের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকবো! কিন্তু এখন দেখছি উলটা রাহুলের সাথে ডেট করে এসেছে!

স্নেহা : আমার ওর সাথে ডেট করার শখ নেই বুঝলি! আমিতো…..

মার্জান : হ্যা! তাতো আমরা নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি!

স্নেহা : আরে আমার কি দোষ! তোরা তো জানিস ও সব কিছুতে জেদ করে বসে, গাড়ীতে উঠছিলামনা বলে এত্তো লম্বা জ্যাম লাগিয়ে দিয়েছিলো… তাই বাধ্য হয়ে উঠেছিলাম!

জারিফা : [ এক্সাইটেড হয়ে স্নেহার কাধে হাত রেখে ] তারপর তারপর [ স্নেহা অবাক হয়ে তাকায় ] আরে বলনা বলনা!

[ স্নেহা সব খুলে বললো তাদের ]

জারিফা : হায়ে মেরি জান!
[ বলেই স্নেহাকে দাড় করিয়ে কোমোড়ে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডান্স করাতে লাগলো ]

স্নেহা : আরে জারিফা! কি করছিস পড়ে যাবো তো!

জারিফা : [ স্নেহার কোমোড়ে স্লাইড করে ] এইভাবে ধরেছিলো রাহুল তাই না?..?

স্নেহা : সর তো! [ বলেই স্নেহা ব্লাশিং হয়ে খাটে বসে পড়লো ]

শায়লা : ইয়ার! স্নেহা! এতো ব্লাশিং হলে রাহুল স্ট্রবেরী মনে করে খেয়েই ফেলবে ?

স্নেহা : ছিঃ তোরা কিসব আজে বাজে বকছিস! [ বলেই স্নেহা আলমারি থেকে কাপড় বের করতে এগিয়ে যায় ]

মার্জান : [ মন খারাপ করে ] ইয়ার! আমার তো কতো ইচ্ছে ছিলো মার্মিড দেখার…

শায়লা : আরে মার্জান! তুই আপসে্ট হচ্ছিস কেনো?… তুই ও কারো হয়ে যা..তারপর ও তোকে মার্মিড হাউজ ঘুরিয়ে আনবে!

মার্জান : [ মুখ ভেংগিয়ে ] আমার এসবে ইন্ট্রেষ্ট নেই! ওকে…

জারিফা : হ্যা হ্যা! যখন দিলে ঘন্টা বাজবে না..তখন ইন্ট্রেষ্ট চলে আসবে

[ সবাই হেসে উঠে ]

মার্জান : [ জারিফাকে একটা বালিশ ছুড়ে মেরে স্নেহার কাছে গিয়ে হাত ধরে এগিয়ে আনে ]

So.. আওর প্রিন্সেস মার্মিড! আপনাকে কিনা লাগছে..আজ!
[ দুহাতে স্নেহার গাল টেনে দিয়ে ] আমি ছেলে হলে তো এতোক্ষণে তোকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম! [ স্নেহা ব্লাশিং ] আচ্ছা যা! এইবার ফ্রেশ হয়ে আয়! নয়তো সবার নজরে তুই অসুস্থ হয়ে পড়বি!

স্নেহা মাথা নাড়িয়ে কানের নিচ থেকে রাহুলের লাগিয়ে দেওয়া কালি গুলো ছুয়ে দেখলো! এবং আবার ব্লাশিং হতে লাগলো…

স্নেহা ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে এসে টেবিল থেকে চশমাটা পড়ে নিলো, গায়ে শাল মুড়িয়ে বইটা হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়! চারদিক অন্ধকার রাস্তার লাল লাম্প গুলো জলছে…সাথে কুয়াশায় ভরা! শীতের মলিন হাওয়া স্নেহার গা ছুয়ে যাচ্ছে…

এমন কুয়াশা ভরা রাতেই রাহুলের সাথে প্রথম দেখা ষ্টেশনে…সেই মোমেন্টে স্নেহা রাহুলের সাথে ধাক্ষা খেয়ে পড়ে যাচ্ছিলো! আর রাহুল তাকে ধরে ফেলেছিলো.. ভাবতেই স্নেহা ব্লাশিং! এইভাবে ধীরে ধীরে রাহুলের সাথে কাটানো প্রতিটি মোমেন্ট মনে পড়ছে স্নেহার…হঠাৎ কাধে কেউ হাত রাখলো,
ফিরে তাকাতেই দেখে মার্জান,

মার্জান : [ আকশের দিক তাকিয়ে ] খোলা আকাশ, মলিন হাওয়া..ঠান্ডা ঠান্ডা মোমেন্ট! কি ব্যাপার কাউকে ভাবা হচ্ছে বুঝি?

স্নেহা : আরে নাহ!

মার্জান : দেখ মিথ্যা বলবিনা বুঝলি! এসব লাভ-সাভে আমার ইন্ট্রেষ্ট নেই ঠিকই তবে…এই ব্যাপারে ভালোই বুঝি!

স্নেহা : [ আকাশের দিক তাকিয়ে ] জানিনা কি হচ্ছে! কেনো এমন লাগছে..তবে ওকে ভাবতে একটা অদ্ভুত ভালো লাগছে! [ মার্জানের দিক তাকিয়ে ] জানিস! এমনতো আমার আগে কখনো হয়নি!

মার্জান : হ্যা! হ্যা! হয়নি কারণ আগে কারো প্রেমে পড়িসনি আর এখন পড়েছিস তাই!

স্নেহা : তুই ও না..[ বলেই অন্যদিক ফিরে যায় ]

মার্জান : হুহ! মুখ থেকে লুকিয়ে রাখা যায়…চোখ থেকে না…বুঝেছিস!

না চাইতেও বারবার ওর কাছে ছুটে যাওয়া..ওয়াসরুমের বাহানা দিয়ে ওর সাথে মিট করতে যাওয়া..এগুলো কিসের লক্ষণ?.. হুম? [ একটু হেসে ] রাহুল এর ব্যাপারে আমি তোকে যা যা বলেছিলাম সবই সত্য ছিলো স্নেহা! ইনফেক্ট পুরো ভার্সেটির মেয়েরাই তাকে নিয়ে মরে এবং সে ও মেয়েগুলোকে নাচিয়ে ছাড়ে,

কিন্তু আমি ভাবতেই পারছিনা রাহুলের মতো কোনো ছেলে একজন সিম্পল মেয়েকে নিয়ে এতো সিরিয়াস হবে!

[ স্নেহা অবাক হয়ে মার্জানের দিক তাকালো ]

মার্জান : আজ তোর চোখে যা দেখা যাচ্ছে ঐদিন রাহুলের চোখে ও তাই দেখেছিলাম…[ স্নেহার কানের কাছে এসে ] যখন তোকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না.. [ বলেই হেসে দেই ] কিনা চেহেরা হয়েছিলো রাহুলের… গাড়ী নিয়ে এদিকওদিক ছুটাছুটি করে খুজছিলো! আমরা চেক করার পরেও ঐ জায়গা গুলো আবার নিজে গিয়ে চেক করেছিলো!

তখনি বুঝলাম রাহুল! বি সিরিয়াস ফর স্নেহা! ওয়াও!

আরে এভাবে হা করে চেয়ে আছিস কেনো?..মেরি জান! তুইই তো সেই লাকি গার্ল! যে রাহুলকে তোর পেছন ঘুরাচ্ছিস! আর বাকিরা তো ওর পেছন পেছন ঘুরেও চান্স পাচ্ছে না..[ বলেই চোখ টিপ মাড়লো? ]

অবশ্যই রাহুল আর তোর মাঝে কিছু হোক আর না হোক! কিন্তু কাল ভার্সেটিতে ঐ জ্যালাসি্র উপর রেভেঞ্জ নিয়েই ছাড়বো!

স্নেহা : মানে কি?..কি করবি বলতো!

মার্জান : ওহো মর্নিং এ আর্লি উঠতে হবে! আর আমার না অনেক ঘুম পাচ্ছে চল ঘুমিয়ে পড়ি! [ বলেই রুমের দিক চলে গেলো ]

স্নেহা : [ পেছন পেছন গিয়ে ] দেখ মার্জান! এমন কিছুই করিস না..ওকে তো দেখতেই আমার ভয় লাগে! আর তোরা কিনা রেভেঞ্জ নিতে বসে আছিস!

মার্জান : [ খাটে শুয়ে নাকে মুখে কম্বল দিয়ে ] গুড! নাইট স্নেহা!

[ স্নেহা ও আর কিছু না বলে শুয়ে পড়ে! ]

_________________________

এইদিকে,

রাহুল তার রুমে বসে হতাশ হয়ে ড্রিংকস্ করছে! সাথে তার ফ্রেন্ডসরা ও আছে..

আসিফ : সুযোগ তো ছিলো! বলেই আসতে পারতি!

রিদোয়ান : [ হাসতে হাসতে ] ইয়ার! রাহুল…অবাক লাগছে..তুই স্নেহার সামনে নার্ভাস হচ্ছিলি…[ বলেই আবার হেসে উঠে ] চিরস্ রাহুল চিরস্!

আসিফ : কতো মেয়েকেই তো পটিয়েছিলি রাহুল! ডোন্ট ওয়ারি ব্যাপার না! হয়ে যাবে…

রিদোয়ান : মেয়েরা মরছে রাহুলের উপর আর রাহুল মরছে স্নেহার উপর!

আসিফ : ওভার খাচ্ছিস! রিদোয়ান..ড্রাইভ করতে হবে কিন্তু! ভুলিস না…

রিদোয়ান : ওহ! কামঅন সেলেব্রেট ইয়ার! সেলেব্রেট! বিকজ! রাহুল…ইউ নো! রাহুল…নার্ভাস্ হচ্ছিলো আই কান্ট বিলিভ দিস্ [ বলেই আবার হেসে উঠলো ]

রাহুল : আচ্ছা! অনেক তো বকছিস! কল লিষ্টে মেয়েদের নাম্বারের ও অভাব নেই! So তুই কেনো সামান্য জারিফার নাম্বার নিতে পারলিনা!

রিদোয়ান : [ কিছুক্ষণ ভেবে ] ক্যারেক্ট! বস্ ক্যারেক্ট কেনো পারলাম না?..

আসিফ : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে ] আমি বলছি কেনো পারলি না!

এতোদিন তোরা যা করেছিস সবই এঞ্জয়মেন্ট ছিলো! আর এখন যাকে নিয়ে ভাবছিস…তাকে নিয়ে অন্যদের চেয়ে আলাদা আই মিন! স্পেশাল ফিল করছিস!

ফর এক্সেম্পল ওর কথা ভাবতেই ব্লাশিং…ওর কথা ভাবতেই মুখের মধ্যে হাসির ছোয়া! একটা অন্যরকম ভালো লাগা…

রিদোয়ান : [ হেসে ] বস্ তোকে দিয়ে পোয়েট্রিক বুকস্ লিখা উচিৎ!

আসিফ তার হাতের গ্লাসে থাকা ড্রিংক্স গুলো রিদোয়ানের মুখে মেরে দেই!

রিদোয়ান : [ হাসতে হাসতে ] ইয়ার! এতোকিছু জানিস আজও একটা প্রেম করলিনা…

আসিফ গ্লাসে আবারো ড্রিংকস্ ঢালতে লাগলো রিদোয়ানকে মারার জন্য! ততোক্ষণে,

রিদোয়ান : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে ] গুড নাইট রাহুল! গুড নাইট আসিফ [ বলেই হেসে দৌড় দেই ]

আসিফ : [ রাহুলের পাশে বসে ] অপেক্ষা লাভ এর জন্য ভালো দোস্ত!

রাহুল : [ সোফায় হেলান দিয়ে শুয়ে ] ইয়ার স্নেহা! কি সুন্দর তাই না…

আসিফ : [ একটু হেসে রাহুলের দিক তাকিয়ে ] ইয়াহ!

রাহুল : ওর চোখ, ওর গাল, ওর ঠোট, ওর হাসি, ওর চুল, সবই এতো সুন্দর কেনো… [ কিটকিটিয়ে একটু হেসে ] আর ও রাগলে যখন লাল হয়ে যায় না… [ বলেই চোখ বন্ধ করে ফেললো ]

আসিফ একটু হেসে রাহুলের হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে টেবিলে রেখে দেই! এবং রাহুলের পা, গুলো সোফায় তুলে দিয়ে..দরজা লাগিয়ে দিয়ে সে বেড়িয়ে যায়!

পরদিন ভার্সেটিতে,

স্নেহা এবং তার ফ্রেন্ডসরা কথা বলতে বলতেই ঢুকছে,

মার্জান : কি ব্যাপার বলতো, আজ পার্কিং এর দিক রাহুলের গ্যাংকে দেখা যাচ্ছে না,

স্নেহা : [ বুঝতে পেরে ] গাইস্ আজ ফার্ষ্ট ক্লাস ম্যাথ So.. Assignment জমা দিতে হবে ভুলে গিয়েছিস?..

শায়লা : আরে হ্যা!

মার্জান : হুম! ভুলিনি মনে আছে!

[ সবাই ক্লাস করছে, ম্যাথ ক্লাস শেষে মার্জান জানালা দিয়ে এদিক ওদিক ঘুরঘুর করছে, ]

জারিফা : কিরে কি দেখছিস?…

মার্জান : আরে ঐ কুটনিটাকে খুজছি! মিস্ নেহা! আচ্ছা আজ ওরা কই গেলো বলতো?…

জারিফা : সবাই হল রুমেই হবে! ঐখানেই তো আড্ডা ওদের!

মার্জান : তাহলে চল! ঐখানেই যায়!

জারিফা : [ এক্সাইটেড হয়ে ] ওকে!

মার্জান আর জারিফা উঠে দাঁড়িয়ে যায়!

শায়লা : আরে তোরা কোথায় যাচ্ছিস?..

মার্জান : আ.আসলে ক্লাস করতে বোরিং লাগছে চলনা একটু ঘুরেটুরে আসি! চল স্নেহা! [ বলেই স্নেহার হাত ধরে দাড় করিয়ে নিলো ]

স্নেহা : নাহ! মার্জান! আ..আসলে আমার না মাথা পেইন করছে! আমি এইখানেই ঠিকাছি! তোরা যা ঘুরে আয়!

মার্জান : আরে! সবাই যাচ্ছি তুই একা ক্লাস করবি?.. চলতো [ বলেই স্নেহাকে সহ টেনে নিয়ে যায় ]
__________________________

তিন তলায় উঠে, হলরুমের সামনে,

মার্জান : স্নেহা! এমন কেনো করছিস চলনা প্লিজ!

স্নেহা : দেখ! এসব মোটেও ভালো হচ্ছে না! আমি জানি তোরা এইখানে কেনো এসেছিস!

জারিফা : স্নেহা! মেরি জান…ও ঐদিন আমাদের ইন্সাল্ট করে গিয়েছে..[ ইমোশনাল হয়ে ] তোর কি আমাদের জন্য একটু ও মায়া হচ্ছে না!

স্নেহা : আরে তা না…কিন্তু..

মার্জান স্নেহাকে ধাক্ষিয়ে হল রুমের ভেতর ঢুকিয়ে দেই! সাথে তারাও ঢুকে!

সবাই তাদের দেখে অবাক হয়ে চেয়ে আছে!

রাহুল স্নেহাকে দেখে দাঁড়িয়ে যায়!

স্নেহা আবার পেছন ফিরে চলে যাচ্ছিলো..মার্জান স্নেহার হাত শক্ত করে ধরে রাখে!

জারিফা : ইয়ার! শিকার আমাদের সামনেই আছে দেখ কিভাবে নাক ফুলিয়ে চেয়ে আছে…

মার্জান : আমার তো ইচ্ছে হচ্ছে ওর নাকটাই গেলে দেই!

জারিফা : [ চেঁচিয়ে হাত নাড়িয়ে ] হাই! রাহুল!

রাহুল : হেইই! কাম গাইস্!

সবাই এগিয়ে যায়, স্নেহা এগুতে না চাইলেও মার্জান তাকে জোড় করে টেনে আনে,

শ্রেয়া : হেইই! গাইস্

রিদোয়ান : হাই! এব্রিওয়ান হোয়াটস্ আপ!

জারিফা মুখ ভেংগিয়ে অন্যদিক ফিরে যায়! তা দেখে রাহুল এবং রিদোয়ান দুজনেই হেসে উঠে,

মার্জান : ওয়েল! আ..আস.. আসলে এইদিকটা যাচ্ছিলাম.. তাই ভেবেছি একটু এইখানেও ঘুরে যায়!

শ্রেয়া : ওহো গাইস্! এমনিতেই বোর হচ্ছিলাম..ভালোই করেছো এসে!

নেহা : তবে! পারমিশন ছাড়া সিনিয়র এড়িয়া আসা…This is not fair!

মার্জান : [ চোখ রাংগিয়ে নেহার দিক তাকিয়ে ] আমরা জানি যে এটা একটা ভার্সেটি ক্যাম্পাস! কোনো পলিটিকাল ক্যাম্পাস না..যে এক দলের অর্ডার ছাড়া অন্য দলের এড়িয়াই যাওয়া যাবে না!

রাহুল : [ একটু তালি দিয়ে ] গ্রেট আন্স্যার!

[ নেহা রেগে রাহুলের দিক তাকিয়ে থাকে ]

মার্জান : থেংক ইউ! [ নেহার দিক তাকিয়ে ] রা..হুল!

রিদোয়ান : [ সবাইকে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে ] সি্ট গাইস্

[ সবাই চেয়ার এগিয়ে নিয়ে বসলো, কিন্তু স্নেহা দাঁড়িয়ে আছে ]

মার্জান : [ ফিসফিসিয়ে ] কি হলো স্নেহা বস না! [ বলেই স্নেহাকে টেনে বসিয়ে দেই ]

রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে স্নেহার দিক তাকিয়ে বসে আছে! স্নেহা তা খেয়াল করে বার বার চশমা ঠিক করতে লাগলো!

আসিফ : So গাইস্! আপনারা কি খাবেন! কি অর্ডার করতে পারি আপনাদের জন্য!

জারিফা : নো,নো থেংকস্! আমরা কিছুই খাবো না!

শায়লা : [ মার্জানের কানে ] এই নেহা! স্নেহার দিক কিভাবে তাকিয়ে আছে দেখ! যেনো এক্ষুণি গিলে খেয়ে ফেলবে!

মার্জান : [ রাগান্বিত ভাবে ] ওকে তো আমি! [ বলেই দাঁড়িয়ে যায় ]

শায়লা : [ টেনে বসিয়ে ] আরে কি করছিস কি?..প্লান অনুযায়ী.. করতে হবে!

মার্জান : আ..বলছিলাম যে..বোরিং যখন লাগছে চলেন কোনো গেইম খেলি!

নেহা : নট! ইন্ট্রেষ্ট!

মার্জান : ওকে! So উইদাউট ইউ! [ বলেই নরমালি একটু হাসে, বাকিরাও মুখ লুকিয়ে হাসতে থাকে, আর এইদিকে স্নেহা ঘাবড়াতে ঘাবড়াতে শেষ হয়ে যাচ্ছে! ]

রাহুল : স্নেহা! ইউ ওকে?..

মার্জান : [ চেঁচিয়ে ] স্নেহা!

স্নেহা : [ ভয়ে পেয়ে মার্জানের দিক তাকিয়ে ] হ্যা ?..

মার্জান : রাহুল কিছু জিজ্ঞেস করছে?..

স্নেহা : [ বুঝতে পারলো মার্জান নেহাকে শোনানোর জন্যই চেঁচিয়ে উঠলো, রাহুলের দিক তাকিয়ে চশমা ঠিক করে ] হ্যা! আমি..ঠিকাছি!

মার্জান : [ নেহার দিক চেঁচিয়ে ] রাহুল!

রাহুল : [ অবাক হয়ে ] ইয়েস্!

মার্জান : স্নেহা! বলছে ও ঠিকাছে! টেনশন করতে হবে না!

[ শায়লা মুখ চেপে হাসতে থাকে, মার্জান চিমটি দিলে হাসি চেপে রাখতে বাধ্য হয় ]
__________________________

আসিফ : [ রাহুলের কানে ফিসফিসিয়ে ] দোস্ত! আমার মনে হচ্ছে এরা মাথার মধ্যে কিছু পাকিয়ে এসেছে! নাহলে এমনিতে আমাদের দেখলে ১০হাত দূরে দূরে থাকে, আজ ডিরেক্ট হলে ঢুকে এসেছে,

রাহুল আসিফের দিক তাকালে,

আসিফ : না মানে বলছিলাম যে.. মানে ওদের ভাবসাব দেখে বলছিলাম!

রাহুল আবারো তেডি স্মাইল দিয়ে স্নেহার দিক তাকিয়ে থাকে! স্নেহা নিচের দিক চেয়ে আছে!

শায়লা : আমার না ঐদিন আপনাদের ডান্স কম্পিটিশনটা দেখার অনেক ইচ্ছে ছিলো! [ ইমোশনাল হয়ে ] কিন্তু ভাগ্য খারাপ সব বিগ্রে গেছে!

মার্জান : আরে তো কি হয়েছে! কম্পিটিশন ঐদিন হয়নি! আজ হবে!
[ সবাই অবাক হয়ে মার্জানের দিক তাকালে ] না মানে বলছিলাম যে! একটা ছোট খাটো কাপল ডান্স হয়ে যাক নরমালি!

শ্রেয়া : নট বেড আইডিয়া!

রিদোয়ান : ইয়েস্ গ্রেট আইডিয়া!

________________________

জারিফা : [ মার্জানের কানে ] তোর কাপল ডান্সের আইডিয়াতে আমাকে ফাঁসাতে গেলি কেনো?..

মার্জান : কেনো কি হয়েছে?..

জারিফা : আরে ঐ রিদোয়ান! আবারো ওর সাথে ডান্স করতে হবে!

মার্জান : আরে ধুর কিছুই হবে না! এমনিতেকি ওর সাথে কম চান্স নিয়েছিলি নাকি..[ চোখ মেরে ?]

জারিফা : হুহ! আমিতো ওর থেকে রেভেঞ্জ নিচ্ছি!

মার্জান : [ অবাক হয়ে ] কিসের?..

জারিফা : কিসের আবার! র্যাগিং এর!

মার্জান : আরে ওয়াহ!
__________________________

শ্রেয়া : আরে রাহুল ডান্স স্টার্ট করনা!..

ইয়ার! আসিফ মিউজিকটা অন কর! একটু ডান্স দেখি! ওদের…

[ আসিফ উঠে মিউজিক অন করলো!]

মার্জান : [ স্নেহার কানে ] স্নেহা! ঐদিনের মতো জমিয়ে ডান্স দিবি যাতে নেহা দেখে…জলতে জলতে পুরে ছাই হয়ে যায়!

জারিফা : দেখ দেখ! অলরেডি জলে যাচ্ছে নেহা!

হঠাৎ! দেখে রাহুল উঠে আসছে, সবাই ভাবলো রাহুল স্নেহার দিক হাত বাড়াবে, কিন্তু রাহুল জারিফার দিক হাত বাড়ালো!

জারিফা অবাক হয়ে একবার স্নেহার দিক তাকাচ্ছে একবার রাহুলের দিক!

রাহুল : কাম! জারিফা! [ with tedi smile ]

জারিফা রাহুলের হাতে হাত দিয়ে উঠে দাঁড়ালো… রাহুল জারিফাকে নিয়ে..স্লোমোশন ডান্স করতে লাগলো!

জারিফা : [ ফিসফিসিয়ে ] সবাই তাদের প্লানের কাজে লাগাতে আমাকেই পাই! জিজাজি!
[ রাহুল হেসে দেই ] আপনি আবার স্নেহাকে জ্যালাস্ করাচ্ছেন কেনো বলেনতো?..

রাহুল : আরে আমি কখন থেকে তাকিয়ে আছি! আমার দিক নিজ থেকে একবার ও তাকালো না..এটা কোনো মানে হয়! ও কি একটু ও বুঝে না!

জারিফা : বুঝ বুঝে তাকিয়ে দেখেন কিভাবে চেয়ে আছে!

রাহুল : [ কোণা চোখে স্নেহার দিক একবার তাকিয়ে আবার তেডি স্মাইল দিয়ে ] এটাই তো চেয়েছিলাম!
__________________________

মার্জান : [ স্নেহার কানে ] এটা কি হলো?..আমি ভেবেছি রাহুল তোকেই পার্টনার করবে! ধুর সব প্লান বরবাদ!

হঠাৎ, রিদোয়ান জারিফার দিকে তাকালে চোখে চোখ পড়ে, জারিফা নাক ফুলিয়ে মুখ ভেংগিয়ে রাহুলের হাত আরো শক্ত করে ধরে অন্যদিক ফিরে ডান্স করতে থাকে!

রিদোয়ান ও মুখ ভেংগিয়ে উঠে স্নেহার দিক গিয়ে হাত বাড়িয়ে দেই!

রিদোয়ান : Can I dance with you sneha?..

রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে স্নেহার দিক তাকিয়ে আছে! তা দেখে স্নেহা ও নাক ফুলিয়ে রিদোয়ানের হাতের উপর হাত রেখে উঠে যায়, রাহুল হাসতে থাকে,

জারিফা : ওহ ও জিজু…এখন তো পুরো বুঝতে পারছেন যে স্নেহা ও..হুম হুম?তাই না?

রাহুল : বাই দ্যা ওয়ে! ঐদিকেও কেউ একজন জলছে বোধ হয়! [ বলেই চোখ টিপ মারে ?]

[ জারিফা রাহুলকে জোড়ে একটি চিমটি দিলে রাহুল আআহ বলেই হাসতে থাকে ]
_________________________

শায়লা : [ মার্জানের কানে ] ইয়ার মার্জান এসেছিলাম নেহাকে জ্যালাস করাবো বলে, কিন্তু এইখানে দেখছি এক একজন একজনকে জ্যালাস করানোর পিছে লেগে আছে!

মার্জান : [ অবাক হয়ে তাদের দিক তাকিয়ে থেকে ] হ্যা! আমরা নেহাকে! রাহুল স্নেহাকে, জারিফা রিদোয়ানকে, স্নেহা রাহুলকে, রিদোয়ান জারিফাকে,

শায়লা : [ হেসে ] টু মাচ্ ফানি!তুই তো রেল এর বগি বানিয়ে দিলি সবাইকে! হাহা!
__________________________

স্নেহা রিদোয়ানের হাতে হাত রেখে তাল মিলিয়ে নাচছে! অন্যদিকে জারিফা আর রাহুল!

হঠাৎ, রাহুল রিদোয়ানের সাথে আই কন্টাক্ট করে ইশারা করলো…এবং রাহুল জারিফাকে ঘুরিয়ে দিয়ে রিদোয়ানের কাছে পাটিয়ে দিলো… রিদোয়ান স্নেহাকে ঘুরিয়ে দিয়ে রাহুলের কাছে পাটিয়ে দিলো!
__________________________

শায়লা : [ তালি দিয়ে ] ইয়ার! মার্জান এক্সচেঞ্জ হয়ে গিয়েছে!

মার্জান : [ এক্সাইটেড হয়ে নেহার দিক তাকিয়ে একটা জোড়ে সি্টি বাজালো ]

নেহা : [ নাক ফুলিয়ে উঠে এগিয়ে আসে ] Listen! তোমরা যা করছো তার জন্য আজই পচতাবে মাইন্ড ইট [ বলেই রেগে হনহনিয়ে বেড়িয়ে যায় ]

মার্জান আর শায়লা হাসতে থাকে,
________________________

স্নেহা : [ শকড হয়ে ] আরে এটা তো চিটিং!

রাহুল : [ স্নেহার কোমোড়ে স্লাইড করে ] মানে জলে পুরে যাবে! তাও মেয়েদের মুখ থেকে কিছু বের হবে না…

স্নেহা : মানে?..

রাহুল : মানে হচ্ছে তুমি জলছিলে!

স্নেহা : মোটেও না! আমি কেনো জলবো?..

রাহুল : কারণ তুমি ভেবেছিলে আমি তোমাকেই পার্টনার করবো!

স্নেহা : So what! ডান্স করতে পার্টনার ফ্যাক্ট না! ডান্স জানাটাই ফ্যাক্ট!

রাহুল : আই থিংক পার্টনার ফ্যাক্ট! বিকজ..স্ট্রং পার্টনার না হলে…কার উপর ডিপেন্ড হয়ে থাকবে! [ with tedi smile ]

স্নেহা : আমি ডান্সের কথা বলছি!

[ রাহুল হোহহো করে হেসে অন্যদিক ফিরে যায় ]

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here