স্যার যখন স্বামী সিজন২ পার্ট_১০

0
291

স্যার যখন স্বামী সিজন২
পার্ট_১০
#লিখা জান্নাতুল ফেরদৌস

এর কিছুক্ষণ পর,,

“তুমি এইখানে!”
“আপনি এখন কেমন আছেন তা দেখতে আসলাম।আপনি অসুস্থ শরীর নিয়ে এখন উঠতে গেলেন কেন?”
“না আমি এখন ঠিকাছে।তমা তুমি রাতে ঘুমাওনি?”
“কে বলল আপনাকে?”
“তোমার চোখ বলছে।চোখগুলো এমন লাল হয়ে আছে কেন?”
“…….”
“আপনি খাটে গিয়ে বসুন। আপনাকে দুর্বল লাগছে।আপনার জন্য কিছু বানিয়ে আনছি।”

“আমার হাত ধরে টেনে উনার কাছে নিয়ে গেলেন।

“দাঁড়াও আমার প্রশ্নের উত্তর কই?”
“…..”
“এই মেয়ে জবাব দাও না কেন?”
“কিছু না।”
“মিথ্যা কথা কেন বলছ?কোন কারণতো নিশ্চয় ছিল।তুমি কি কালকে রাতের কথা ভেবে ঘুমাওনি।আমি থাকতে তুমি এত ভয় পাও কেন?আমি থাকতে তোমার শরীরে এতটুকু আচ লাগতে দিব না এতটুকু বিশ্বাস তুমি কি আমার উপর করতে পার না ?”
.
.

এই কথাটায় আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।এই কথায় বিশ্বাস করে আমি নিজের সর্বস্ব হারিয়েছি।তাই এই কথা শুনামাত্র কান্না এসে গেল।

” এই মেয়ে কাঁদছ কেন?আমি কি তোমাকে বকা দিয়েছি নাকি?”
“…….”
“কিছুতো বল?আমার লক্ষ্মীটা কাঁদছে কেন?”
“সরি ” বলে উনাকে জড়িয়ে ধরলাম।জীবনে প্রথম স্ব-ইচ্ছায় উনাকে জড়িয়ে ধরলাম।

“সরি কেন বলছ পাগলি।”
“আমি আজকের পর থেকে আর আপনার কথার অবাধ্য হব না।আসলে আমি……”ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করলাম।কান্নার কারণে কথাও বলতে পারছি না।
“প্লিজ কোন কারণ ছাড়া কাঁদবে না।আমাকে যা বলার পরে বলিও।এখন কিচ্ছু বলতে হবে না “এই বলে উনি আমার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন।এখন খুব শান্তি লাগছে।যে শান্তিটা আমি ৫টা মাস ধরে খুঁজছিলাম আজ কেন জানি তা উনার বুকের মধ্যে খুঁজে পেলাম।কিন্তু এই মূহুর্তে নিজেকে দুর্বল করা চলবে না।তাই তাড়াতাড়ি উনার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলাম।
“আমি আসছি।”

উনি আমার দিকে কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে বললেন,,”কোথা থেকে আসছ?”
“আপনার জন্য খাবার বানিয়ে আনছি।এতক্ষণে নিশ্চয় আপনার ক্ষুধা লেগে গেছে।”
“হুম।যাও,”

.
.
কিছুই করতে পারি না তেমন।নোডলসটা আমার প্রিয় খাবার তাই নোডলস কিভাবে বানাতে হয় তা শিখে নিয়েছিলাম।সেটা রেঁধেই উনার কাছে গেলাম।

“নিন এটা খেয়ে নিন।”

উনি উনার হাতের বেন্ডিজ দেখিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন যে উনি হাত দিয়ে খেতে পারবেন না।তাই বাধ্য হয়েই আমি খাইয়ে দিলাম।মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে বললাম,,

“শুয়ে থাকুন এখন।”
“এখন চাইলেও আর শুতে পারব না।আজকে যে আমাদের গ্রামের বাড়িতে যেতে হবে সেটা কি তুমি ভুলে গেছ?”
“আপনার এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কিভাবে সেখানে যাবেন।”
“কালকে দিপার মেহেদি অনুষ্ঠান এরপর বিয়ে।অসুস্থ হলেও বিয়ে তো আর বন্ধ করা যাবে না।আমি চাইছি ওর বিয়েটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক।এরপর তাড়াতাড়ি নিজেও বিয়েটা করে ফেলব।”

উনার বিয়ের কথা শুনে কেন জানি একটু লজ্জা লাগল। মাথা নিচু করে বললাম,”কিন্তু এই অবস্থায় সেখানে গিয়ে আপনাকে অনেক কাজ করতে হবে। কিভাবে তা সামলাবেন!”
“ও আমি পারব।তুমিও তো সাথে থাকবে। আমার কাজের হেল্প করবে তাহলে কাজ কিছুটা কমে যাবে। তাই শুধু শুধু আমাকে নিয়ে টেনশন করতে হবে না।যাও বাসায় গিয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।”
“আচ্ছা।”
“আর শোন,,”
“জ্বী,”
“বাসায় গিয়ে আগে খাবার খেয়ে মেডিসিন খেয়ে নিও।”
“আচ্ছা,”
.
.
বাসায় আসার পর মামণিকে বলে দিলাম যে আজকে দিপা আপুর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি যেন রেডি হয়ে নেই।

হঠাৎ মোবাইলে একটা মেসেজ আসল।
মেসেজটা দেখে একটু অবাক হলাম।

“মামণি আমাকে চিনবে কিনা জানি না।হয়ত আমাকে ভুলেও গেছ।কিন্তু তোমাকে আমি চাইলেও ভুলতে পারব না কারণ তোমার চেহেরার সাথে আমার মেয়ের চেহেরার অনেক মিল আছে।আমার একটা বড় ভুলের জন্য আমার স্ত্রী আর মেয়েটা আজকে আমার কাছে নেই।হয়ত আমার মেয়েটা আমাকে অনেক ঘৃণাও করে ।আমি যে ভুল করেছি তার জন্য আমার স্ত্রী আমাকে ক্ষমা করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। আমার মেয়েটা যেদিন আমার ভুলটা সম্পর্কে জানবে হয়ত সেদিনও সে তার মায়ের মতন আমাকেও ক্ষমা করতে পারবে না।নিজের ভুল বুঝতে পেরে যখন ওদের কাছে আমি যেতে চাইছি তখন সেখানে যাওয়ার সব রাস্তা আমার বন্ধ হয়ে গেছে।তাই দূর থেকে তাদের দেখে আমার চোখটা জোড়ায়।খুব ভালবাসি আমি ওদের।মেয়েটাকে কাছ ডেকে আমি প্রাণভরে দেখতে পারিনা কারণ সে তার বাবার থেকে অনেক দূরে।আমার মেয়ের সাথে তোমার চেহেরার অনেক মিল আছে।তাই তোমাকে নিজের মেয়ে মনে করে আমি তোমার জন্মদিনে আমার প্রিয় গিটারটা দিয়েছিলাম।

মামণি তোমাকে নিয়ে কালকে অনেক খারাপ স্বপ্ন দেখলাম।এরপর থেকে মনটা খারাপ হয়ে আছে।নিজের মেয়ের মতন তোমাকে ভাবি তাই একটা রিকোয়েস্ট করছি,,তুমি নিজেকে কখনো একা ভাববে না।তোমাকে তোমার আপনজনরা অনেক ভালবাসে।যারা তোমাকে ভালবাসে তাদের জন্য নিজেকে খুশি রাখার চেষ্টা করবে। আর আরেকটা কথা কখনো ভুলেও নিজের ক্ষতি করবে না।প্রমিস মি।যদি আমাকে তোমার বাবা ভেবে থাক তাহলে এই প্রমিসটা কর। প্লিজ মামণি।”

লোকটাকে চিনতে পারলাম।উনাকে এত সহজে চাইলেও আমি ভুলতে পারব না।নিজের প্রিয় গিটারটা আমার মতন অপরিচিত একটা মেয়েকে দিয়ে তিনি এইটা প্রমাণ করলেন উনার মেয়ের মতন উনি আমাকেও অনেক ভালবাসেন।আমাকে নিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখে উনি সত্যিইই অনেক টেনশনে আছেন।তাই তাড়াতাড়ি উনাকে মেসেজ পাঠালাম।

“আংকেল আপনার প্রিয় গিটারের কারণে আমি এখনো আপনাকে ভুলি নি।নিজের মেয়ের মতন আমাকে ভালবাসেন তাই হয়ত আমাকে নিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখার পর আপনি অনেক চিন্তিত।চিন্তা করবেন না আপনার এই মেয়ে নিজের কোন ক্ষতি করবে না।এই প্রমিস একজন মেয়ে তার বাবাকে করছে।”
.
.
মেসেজের আওয়াজ পেয়ে তন্ময় তাড়াতাড়ি মেসেজটা ওপেন করল।মেসেজটা পড়েই যেন তার সব চিন্তা দূর হয়ে গেল।তার মেয়ে যেহেতু তাকে প্রমিস করেছে তাহলে আর চিন্তার কিসের?
এরপর তন্ময় তার মেয়েকে আবার মেসেজ পাঠাল,,

“অনেক খুশি হলাম মামণি।আমাকে চিন্তামুক্ত করলে।অনেক অনেক দুয়া রইল আমার এই মেয়েটার জন্য।আমার মেয়েটা যেন তার জীবনের সকল সুখ খুঁজে পায়।”

মেসেজটা পাঠিয়ে তন্ময় সাথেসাথে নম্বরটা অফ করে দিল।কারণ মেয়ে যদি কল দিয়ে ওর সাথে কথা বলতে চায় তাহলে সে নিজের অনুভূতিগুলো লুকাতে পারবে না।
.
.
মেসেজটা পড়েই একচিলতে হাসি ফুটল আমার মুখে।খুব ইচ্ছে করছে এই লোকটার সাথে কথা বলতে।তাই কালবিলম্ব না করে উনার নম্বরে কল দিলাম।কিন্তু নম্বরটা অফ আসছে।মূহুর্তেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।

মেঘ-“তমা কি করছিস রুমে?তাড়াতাড়ি রেডি হ।”

তমা-“হ্যা মামণি হচ্ছি।”

এরপর উনাদের সাথে গাড়িতে করে উনাদের গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here