স্কুলের_একটি_ভয়ঙ্কর_রাত পর্বঃ০২

0
309

স্কুলের_একটি_ভয়ঙ্কর_রাত পর্বঃ০২

ভাঙ্গা চেয়ার-টেবিল সরিয়ে যা দেখতে পেলাম, তাতে আমাদের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। দেখলাম, একটা সাদা উজ্জ্বল বৃত্ত চক্রাকারে ঘুরছে। এমন সময় পুরো বিল্ডিং কাপতে শুরু করল এবং একটা ধমকা হাওয়া পেছন থেমে জোরে ধাক্কা মারল। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, আমি ওই আলোর বৃত্তের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি। পায়ের নিচে শক্ত কিছু অনুভব করলাম এবং জ্ঞান হারালাম।

কিছুক্ষণ পর আমার জ্ঞান ফিরল। আমার পাশে বাকি সবাই শুয়ে আছে। আমি চারিদিকে ভাল করে খেয়াল করলাম, দেখলাম এটা একটা অন্য রকম জগত। চারিদিকে মরা গাছপালা, কিছুক্ষণ পর পর দূর থেকে ভয়ঙ্কর সব শব্দ ভেসে আসছে। আমরা একটা উঁচু জায়গায় পড়ে আছি।এদিকে আমার বন্ধুদের জ্ঞান ফিরতে শুরু করেছে। সবাই অবাক দৃষ্টিতে চারদিকে থাকাচ্ছে।ওদের দেখে মনে হচ্ছে ওরা খুব ভয় পেয়ে আছে।
– আমরা কোথায় এসে পড়েছি? (প্রনব)
– সম্পুর্ণ আলাদা একটা জগত। এদিকে দেখ, একটা কঙ্কাল পরে আছে। (মারুফ)

কঙ্কালটা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ কঙ্কাল যেমন দেখতে হয়, কঙ্কালটা তেমন ছিলনা। খুলিটা ভয়ঙ্কর আকৃতির বাকানো। হাতের হাড়ের আঙ্গুল তিনটা করে। খুলিটার চোখের কোটর থেকে লাল রঙ্গের লেজার বের হচ্ছে।
এসব দেখে আমরা দৌড় দিলাম। দৌড়তে দৌড়তে দেখতে পেলাম সামনের পথ অন্ধকার হয়ে আসছে।তাই আমরা দাঁড়িয়ে পড়লাম।
আমি বললাম,
– আমাদের কি আর সামনে যাওয়া ঠিক হবে?সামনেতো অন্ধকারের জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।
জয়রাম বলল,
– শুধু শুধু সামনে যাওয়ারতো কোনো মানেই হয়না। সে কখন থেকে দৌড়াচ্ছি আমরা।এখন আমাদের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা খুজতে হবে।
মারুফ বলল,
– তুর কি মনে হয় তুই এখান থেকে বাড়ি যেতে পারবি?
জয়রাম বলল,
– তাহলে এখানে সারাজীবন পরে থাকবি নাকি?

সবাই চুপ করে আছে।
আমি বললাম,
– শোন সবাই। সাত-পাঁচ না ভেবে আমার মনে হয় সামনে যাওয়াটায় ঠিক হবে।
– কিন্তু সামনেতো অন্ধকার। সামনে যেতে হলে আগুন লাগবে।(তারেক)
– আগুন পাব কোথায়? আগুন জ্বালানোর জন্য তো লাইটার প্রয়োজন। (মারুফ)
– আমার মনে হয় আগুন জ্বালানো যাবে।(আমি)
– কিভাবে(মারুফ)
– একটু নিচে দেখতো ভাল করে।(আমি)
– নিচে কি? এগুলো একজাতীয় পাথর মনে হচ্ছে।(সামির)
– এগুলো চকমকি পাথর। চকমকি পাথর একটা আরেকটার সাথে ঘষলে আগুনের ফুলকি পাওয়া যায়।(আমি)
কথাটা শোনা মাত্র সামির কিছু খড়কুটো জোগাড় করে ফেলল এবং পাথর নিয়ে ঘষতে লাগল। অনেক্ষণ পাথর ঘষার পরও সামির আগুন ধরাতে পারলোনা। মারুফ চেষ্টা করল এবং সেও ব্যর্ত হলো। অবশেষে তারেক আগুনের ফুলকি বের করতে পারল এবং সাবধানে ফু দিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে ফেলল।

এখন আমাদের সবার হাতে একটা করে মশাল আছে। চারিদিকে মরা শুকনো গাছপালা থাকায় মশাল ধরাতে সমস্যা হলোনা। আমরা সামনে চলতে লাগলাম।
কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, একটা পুকুর ঘাট।
পুকুর দেখে আমরা খুশি হয়ে গেলাম। কারণ অনেক্ষণ ধরে পানির পিপাসা পেয়েছে। সবাই পানি খাওয়ার জন্য পুকুর ঘাটের উপর দাড়ালাম।
যখনই হাতে পানি নিতে যাব, তখন অনুভব করলাম, পুকুর ঘাটটা কাপছে। পুকুর ঘাটটা কাপা মাত্রই জয়রামের হাত থেকে মশালটা পানিতে পরে গেল। জয়রাম মশালটা নেওয়ায় জন্য হাত বাড়াল। কিন্তু একটা ধমকা হাওয়া এসে জয়রামকে পানিতে ফেলে দিল।হঠাৎ পানিতে প্রচন্ডভেগে ঘূর্ণির সৃষ্টি হল। জয়রামকে ওই ঘূর্ণির মধ্যে ঢুকানোর আগে আমি ওর হাত ধরে ফেললাম। ঘূর্ণিটা আমাকেসহ টানতে লাগল। বাকি সবাই আমাকে ধরে আছে। তারাও আমাকে টানতে শুরু করেছে। আমাদের টিমের বাবু এবং আহাম্মদউল্লাহ আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ওরা দুজন আমার অন্য হাত ধরে টানতে লাগল। ওরা ওদের সমস্ত শক্তি দিয়ে এমন ভাবে টান দিল যে, জয়রাম শুন্যে উঠে উপরে এসে গেল।

সবাই মাটিতে বসে পড়লাম।
– এ যাত্রায় বেচে গেলি (আমি হাপাতে হাপাতে)
– আমি একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছিনা, কেউ কেন আমাদের ক্ষতি করতে চাইবে? (বাবু)

– নিশ্চয়ই কোনো না কোনো রহস্য আছে (তারেক)

– চল সামনে গিয়ে দেখি, এই জগত থেকে বের হওয়ার কোনো সমাধান পায় কিনা।(বাবু)

আবারও সামনে চলতে লাগলাম। পাখি জাতীয় কিছু একটা আমাদের উপর দিয়ে উড়ে গেল। উপরে তাকাতেই হঠাৎ আমি কিছু একটা পায়ে বেধে মাটিতে পরে গেলাম। সবাই আমাকে ধরে তুলল। উঠে দেখলাম একটা রক্তাক্ত কাটের বাক্স যেটার সাথে লেগে আমি হোচট খেলাম। কাটের বাক্সটা খুলে দেখলাম, একটা কাগজে বড় করে রক্ত দিয়ে লিখা “ওয়েলকাম”

চিঠিটা ছিড়ে ফেলে দিলাম। মনে মনে ভয় হতে লাগল।
সবাইকে দেখে বুঝতে পারলাম, ওরাও ভয় পেল। তাই বলে দিলাম, যাতে সবাই চোখ-কান খোলা রাখে।
এবার আর সামনে এগুলাম না।
কারণ পা গুলো ভিষণ ব্যাথা করছে। জয়রামের শরীরেও জ্বর এসেছে। তাই একটা বড় গাছের নিচে হেলান নিয়ে বসে থাকলাম।

পরিবারের কথা খুব মনে পরছে। কিন্তু কিছু করার নেই।
এখান থেকে বের হওয়ারও উপায় এখনো পেলাম না।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখ বুঝে পেললাম খেয়াল করিনি।

হঠাৎ সামিরের চিৎকারে ঘুম ভাঙল। উঠে যা দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলামনা।

চলবে…..

লেখকঃ Md Ahammed

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here