শেষ_পর্যন্ত পার্ট: ২৫

0
415

শেষ_পর্যন্ত

পার্ট: ২৫

লেখিকা: সুলতানা তমা

রাতুল: ভাইয়া আপনি বাইরে বসে আছেন কেন। (হঠাৎ রাতুলের ডাকে চমকে উঠলাম, ডিভোর্স এর কথা ভাবতে ভাবতে…)
রাতুল: ভাইয়া কি হয়েছে
আমি: কিছু না কোথায় যাচ্ছেন
রাতুল: ছিঃ ছিঃ ভাইয়া আমি আপনার ছোট, আপনি করে বলছেন কেন। আমি তো আপনার ছোট ভাইয়ের মতো।
আমি: ওকে আর হবে না। কোথায় যাচ্ছ।
রাতুল: অনেক রাত হয়ে গেছে তো বাসায় যেতে হবে আম্মু একা আছেন
আমি: ঠিক আছে যাও
রাতুল: সকাল সকাল চলে আসবো, আলিফার খেয়াল রাখবেন। (রাতুলের দিকে তাকালাম কতো ভালোবাসে আলিফাকে কিন্তু আমিও তো অনেক ভালোবাসি রাগিণী কে)
আমি: হুম রাখবো
রাতুল: ওকে আসছি।

কেবিনের ভিতরে আসতে আসতে ভাবছি রাতুল ছেলেটা তো খারাপ না অনেক ভালো একটা ছেলে, এমন ছেলেকে কিভাবে কষ্ট দেই। ও তো বললো আমার ছোট ভাইয়ের মতো তাহলে ওর থেকে ওর ভালোবাসা কেড়ে নেই কিভাবে।
আলিফা: নিজের বউ হসপিটালে আর উনি যাবো আর আসবো বলে এতো রাতে এসেছেন (আলিফার কথায় ভাবনায় ছ্যাদ পড়লো, মেয়েটা অভিমানী সুরে কথাটা বললো)
আলিফা: এখন কি কথাও বলবা না নাকি
আমি: তোমার এসব অভিমানী কথা গুলো খুব মিস করবো রাগিণী
আলিফা: এতো দূরে থেকে আস্তে আস্তে কি বলছ
আমি: কিছু না
আলিফা: হুম এখন আসার সময় হয়েছে তোমার, এতোক্ষণ ওই বজ্জাত মেয়েটার সাথে ছিলে তাই না
আমি: নাহ অনেক আগেই এসেছিলাম
আলিফা: অনেক আগে এসেছিলে মানে তাহলে এতোক্ষণ কোথায় ছিলে
আমি: বাইরে বসে ছিলাম
আলিফা: কেন
আমি: ভিতরে রাতুল ছিল তোমার হাত ধরা অবস্থায় তাই আসার সাহস হয়নি
আলিফা: (এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে)
আমি: কি দেখছ এভাবে
আলিফা: কিছুনা
আমি: হুম
আলিফা: আমি বাসায় যেতে পারবো কবে
আমি: দু সপ্তাহ তো থাকতেই হবে
আলিফা: এতোদিন হসপিটালে থাকলে তোমার বউ এমনিতেই মারা যাবে (বউ শব্দটা শুনে বুকের ভিতর কেমন যেন ব্যথা অনুভব হচ্ছে। আলিফা সুস্থ হয়ে উঠলে পর তো আর ও আমার বউ থাকবে না ডিভোর্স দিয়ে দিতে হবে)
আলিফা: রিফাত তুমি রাতুল আসার পর থেকে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছ
আমি: না তো
আলিফা: খেয়েছ কিছু (আলিফা জিজ্ঞেস করাতে মনে পড়লো সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। কষ্ট পেলে মনে হয় খিদে লাগে না)
আলিফা: রিফাত আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি
আমি: তুমি একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো আমি ডক্টর এর সাথে কথা বলে আসছি
আলিফা: রিফাত আমার কথা এড়িয়ে যাচ্ছ কেন।
আলিফার কথার উত্তর না দিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসলাম। ওর সামনে গেলে চোখ দুটু যেন বাধ মানতে চায় না। ওর মায়াবী চেহারা অভিমানী কথা সবকিছু এখন আমাকে কষ্ট দেয়। কারণ কয়েকদিন পর তো আর ও আমার থাকবে না।

ডক্টর এর সাথে কথা বলে আলিফার পাশে এসে বসলাম। আলিফা ঘুমিয়ে আছে, আগে ওর ঘুমন্ত মুখটা দেখলেই চুমু দিতে ইচ্ছে হতো আর এখন ওর কাছে যেতেই ভয় হয়। ফোন বেজে উঠলো, রিয়ান ফোন করেছে।
আমি: রিয়ান বল
রিয়ান: ভাইয়া আমি কি হসপিটালে আসবো
আমি: না এখন আসার প্রয়োজন নেই অজতা রাত জাগতে হবে তোর, সকালে আসিস
রিয়ান: ভাইয়া তোমার কন্ঠ এমন কেন
আমি: কই ঠিকি তো আছে
রিয়ান: আমার কাছে লুকাতে হবে না কাঁদলে তোমার কন্ঠ কেমন হয় আমি তো জানি
আমি: হুম
রিয়ান: কিছু খেয়ে নিও
আমি: হুম রাখি।

রাত বারোটা বাজে চোখে ঘুম আসছে না, আলিফা নিশ্চুপ হয়ে ঘুমিয়ে আছে দেখে কেবিনের বাইরে আসলাম। আনমনে হয়ে হাটছি আর নিলার মৃত্যুর কথা ভাবছি। কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না কে হতে পারে নিলার খুনি। যেই হউক সে যে খুব খারাপ মানুষ তা তো বুঝাই যাচ্ছে, যে কিনা নিলাকে মেরেই শান্ত হয়নি আলিফা আর আমাকে আলাদা করার চেষ্টা করেছে। আর এইটা না পেরে শেষ পর্যন্ত আলিফাকে মারার চেষ্টা করেছে। ডিভোর্স পেপারের কথাটা নাহয় বাদ দিলাম কারণ দুদিন পর তো আলিফাকে ডিভোর্স দিতেই হবে কিন্তু আমার নিলার মৃত্যু। যে আমার নিলাকে এতো কষ্ট দিয়ে মেরেছে তাকে তো আমার খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেই হবে।
আলিফা: রিফাত কোথায় তুমি (হঠাৎ আলিফার ডাক শুনে তাড়াতাড়ি ভিতরে আসলাম)
আলিফা: কোথায় ছিলে
আমি: এইতো বাইরে একটু হাটছিলাম
আলিফা: কি হয়েছে তোমাকে এমন চিন্তিত লাগছে কেন
আমি: সুস্থ হয়ে উঠো তারপর বলবো
আলিফা: না এখন বলো
আমি: জিদ করোনা তোমার এখন টেনশন করা ঠিক হবে না
আলিফা: বলবা কিনা
আমি: না বললে তো মানবা না বলছি, তুমিই তো বলেছিলে নিলার মৃত্যুটা সাধারণ মৃত্যু না ওকে খুন করা হয়েছে
আলিফা: হ্যাঁ তোমার কথা অনুযায়ী আমার তাই মনে হয়েছে
আমি: হুম আমি নিলার খুনিকে খুঁজছি কিন্তু বুঝতে পারছি না কে হতে পারে। আর আমার মনে হচ্ছে যে নিলাকে মেরেছে সে তোমাকেও গাড়ি চাপা দিয়ে মারতে চেয়েছিল
আলিফা: মানে
আমি: হ্যাঁ, ভেবে দেখো যে রাস্তায় তোমার এক্সিডেন্ট হয়েছে সে রাস্তা দিয়ে গাড়ি তেমন একটা চলাচল করে না। হঠাৎ করে গাড়ি এসে ধাক্কা মারবে এমন রাস্তায় এইটা অ….
আলিফা: মরে গেলে ভালোই হতো (আমার কথার মাঝখানে আস্তে করে কথাটা বললো)
আমি: হ্যাঁ আমি তো তোমাকে দুটানায় ফেলে দিয়েছি তাই তুমি মরে গেলেই সব মিটে যেতো তাই তো
আলিফা: আমি ফাজলামো করেছি রেগে যাচ্ছ কেন
আমি: কোন কথা মানুষ ফাজলামো করে বলে সেটা বুঝার বয়স আমার হয়েছে আলিফা। সত্যি তো এটাই আমি তোমাকে দুটানায় ফেলে দিয়েছি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছি তাই তুমি মৃত্যুর কথা বলছ
আলিফা: আচ্ছা বাবা সরি আর কখনো বলবো না এই যে কান ধরছি (আলিফা হাসছে কিন্তু আজকের হাসিটা মলিন, খুব চেষ্টা করে কষ্ট গুলো আড়াল করে ও হাসছে। বুঝতে পারছি তো আলিফা এসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই মৃত্যুর কথা বলছে)
আলিফা: রিফাত সত্যি করে আমাকে একটা কথা বলতো
আমি: কি
আলিফা: নিলাকে তুমি ভালোবাসার আগে কি অন্য কোনো ছেলে ওকে ভালোবাসতো বা নিলা কলেজে আসার পর কি কোনো ছেলে….
আমি: না নিলা কখনো আমাকে এমন কিছু বলেনি
আলিফা: ওকে, তোমাকে কোনো মেয়ে ভালোবাসতো
আমি: উহু মনে পড়ছে না
আলিফা: মনে করার চেষ্টা করো প্লিজ। কেউ তোমাকে ভালোবাসতো আর তোমাকে না পাওয়ার কষ্টে সে নিলাকে মেরে ফেলেছে, আর সে আমাকেও মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। ভেবে দেখো এমনটা কিন্তু হতেই পারে, ভালোবাসার জন্য মানুষ যেমন জীবন দিতে পারে তেমন জীবন নিতেও পারে
আমি: তুমি যা বলছ তা হতে পারে কিন্তু আমাকে কেউ এতোটা ভালোবাসতো কিনা সেটাই তো মনে পড়ছে না।
আলিফা: মনে করার চেষ্টা করো প্লিজ
আমি: হুম তুমি ঘুমাও
আলিফা: না তোমার সাথে সারারাত গল্প করবো
আমি: অসুস্থ শরীর নিয়ে সারারাত গল্প, চুপ করে ঘুমাও
আলিফা: তাহলে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দাও
আমি: হুম।
আলিফা তো বুঝতে পারছে না ওর এসব কথা পরে আমাকে কতোটা কষ্ট দিবে। জানিনা কিভাবে থাকবো ওকে ছাড়া, কিভাবে বেঁচে থাকবো সেটাই বুঝতে পারছি না। আলিফার দিকে তাকালাম চুলে হাত বুলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়েছে পাগলীটা। কেমন যেন ভয় করছে তাও আস্তে আস্তে ওর কাছে গিয়ে ওর ঠোঁটে আলতো করে একটা মায়া দিলাম।

“আলিফা আলিফা” (হঠাৎ কারো মুখে আলিফাকে ডাকতে শুনে ঘুম ভেঙে গেলো। দরজায় তাকিয়ে দেখি রাতুল কেমন করে যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝলাম না ও এভাবে কেন তাকিয়ে আছে। উঠতে যাবো তখন বুঝতে পারলাম রাতে আলিফার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে গিয়ে ওর মাথার কাছেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, আমার একটা হাত আলিফার বুকে আর ও দুইটা হাত দিয়ে আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে। ওহ বুঝেছি রাতুল এজন্যই এভাবে তাকিয়ে আছে। তাড়াতাড়ি উঠে বসে আলিফার হাত থেকে আমার হাত সরিয়ে আনলাম।
রাতুল: ভাইয়া ঠিক আছে আপনি ঘুমান আমি পরে আসছি
আমি: সকাল তো হয়েই গেছে, তুমি যখন এসে পড়েছ আলিফার কাছে থাকো আমি বাসা থেকে আসছি
আলিফা: আমাকে রেখে আবার চলে যাচ্ছ (আলিফা আমার হাত ধরে ফেললো, বুঝতে পারছি না রাতুল থাকতে ও বার বার আমাকে কেন ওর পাশে রাখতে চাইছে)
আমি: তুমি উঠে পড়েছ কেন
আলিফা: ঘুম ভেঙে গেছে আর ভেঙেছে ভালোই হয়েছে নাহলে তুমি আমাকে রেখে আবার চলে যেতে
আমি: এখন আর বেশি সময় লাগবে না বাসায় গিয়ে একটু ফ্রেশ হবো আর আব্বুকে দেখে আসবো। গতকাল যে আব্বু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন দেখেছ তো
আলিফা: হ্যাঁ আব্বুর অসুস্থতার কথা মনেই ছিল না, গিয়ে আমাকে ফোন করে জানিও আব্বু কেমন আছেন
আমি: ঠিক আছে
আলিফা: আর হ্যাঁ গিয়ে কিন্তু খেয়ে নিও দুদিন ধরে কিচ্ছু খাওনি
আমি: হুম।
আলিফার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। বেরিয়ে আসার সময় রাতুল আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। অবাক হওয়া বা অন্য দৃষ্টিতে তাকানোটা তো স্বাভাবিক।

বাসায় এসে সোজা আব্বুর রুমে গেলাম, আব্বু আমাকে দেখে উঠে বসার চেষ্টা করলেন।
আমি: আব্বু উঠো না
আব্বু: নিজের কি অবস্থা করেছিস
আমি: এসব কিছু না আব্বু, তোমার শরীর এখন কেমন আছে
আব্বু: আমার ছেলে বার বার কষ্ট পাচ্ছে আমি কিভাবে ভালো থাকি বল
আমি: আব্বু এসব নিয়ে তুমি টেনশন করোনা তো দেখবে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে
আব্বু: কিছু ভেবেছিস কি করবি এখন
আমি: রাস্তা তো একটাই আব্বু, ডিভোর্স
আব্বু: হুম যা ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নে
আমি: হুম।

রুমে আসতে গিয়ে হঠাৎ কারো কান্নার শব্দ শুনে থমকে দাঁড়ালাম। কান্নার শব্দ তো নীলিমার রুম থেকে ভেসে আসছে তাহলে কি নীলিমা কাঁদছে কিন্তু ও কাঁদবে কেন। নীলিমার রুমের দরজার পাশে যেতেই শুনলাম ও কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে আর কাঁদছে।
নীলিমা: আপু তুমি যা বলেছ আমি তাই করেছি, এখন কি করবো বলো আমি কি ওকে পাবো না (অপর পাশে কে আছে আর কি বলছে সেটা তো শুনতে পারছি না কিন্তু নীলিমা কাকে পাওয়ার কথা বলছে)
নীলিমা: আমি ওকে খুব ভালোবাসি আপু আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না প্লিজ কিছু করো।
আমি: নীলিমা (রুমের ভিতরে এসে ডাক দিতেই ও থমথম খেয়ে ফোনটা কেটে দিলো)
নীলিমা: ভাইয়া তুমি আর এভাবে কি দেখছ
আমি: তুই পড়েছিস শাড়ি যে কিনা সবসময়…
নীলিমা: ছাড়োনা ভাইয়া এমনি পড়তে ইচ্ছে হয়েছিল
আমি: হুম কার সাথে ফোনে কথা বলছিলি
নীলিমা: কককই কেকেউ না তো
আমি: তোতলাচ্ছিস কেন বল কার সাথে কথা বলছিলি
নীলিমা: কেউ না তো। তুমি তো কাল থেকে কিছু খাওনি আমি তোমার জন্য খাবার দিচ্ছি ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো
আমি: হুম।
রুমে চলে আসলাম কিছুই বুঝতে পারছি না, নীলিমা কিছু তো একটা লুকাচ্ছে। ওর কথা মতো মনে হলো ও কাউকে ভালোবাসে কিন্তু কাকে….?

খেতে বসেছি নীলিমা খাবার দিয়েই সরে যাচ্ছে আমার সামনে থাকতেই চাইছে না। নীলিমা কি লুকাচ্ছে বুঝতেই পারছি না। আচ্ছা এমন নয় তো নীলিমা যা লুকাচ্ছে সেটা থেকেই নিলার মৃত্যুর রহস্য পেয়ে যাবো।
রিয়ান: ভাইয়া কখন এসেছ
আমি: একটু আগে
রিয়ান: খাবার সামনে নিয়ে বসে আছ কেন
আমি: খাচ্ছি তো
রিয়ান: আমাকে ফোন করলে না কেন ভাবিকে একা রেখে চলে এসেছ
আমি: না ওর কাছে রাতুল আছে
রিয়ান: মানে তুমি ওদের একসাথে রেখে আসলে
আমি: তাতে কি হয়েছে দুদিন পর তো আলিফা রাতুলেরই হয়ে যাবে
রিয়ান: কি বলছ এসব
আমি: আলিফা সুস্থ হলেই ডিভোর্স….
রিয়ান: একদম চুপ একবার বলেছ আর বলোনা
আমি: রেগে যাচ্ছিস কেন
রিয়ান: এখনো রাগিনি আরো আগেই তোমার উপর আমার রাগ করা উচিত ছিল। ভালো করেই জানো আমি একবার রেগে গেলে ছোটবড় মানিনা
আমি: হুম
রিয়ান: ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভুলে যাও একবার কষ্ট পেয়েছ আর না
আমি: পরে ভাবা যাবে আগে আলিফা সুস্থ হয়ে উঠোক। খেয়েনে আর নীলিমা তুইও খেয়েনে (নীলিমাকে বলতে গিয়ে ওর দিকে তাকালাম কেমন যেন ভয়ে চুপসে আছে, হঠাৎ এতো ভয় পেলো কেন নীলিমা)
রিয়ান: কি হলো নীলিমা ভাইয়া কি বলেছে শুনিসনি
নীলিমা: হুম খাচ্ছি।
নীলিমা খেতে বসেছে এই ফাকে ওর ফোনটা আমাকে দেখতে হবে। কার সাথে ও কথা বলছিল আর কাঁদছিল সেটা তো আমাকে জানতে হবেই।

নীলিমার রুমে এসে ফোনটা বালিশের কাছে পেয়ে গেলাম। কল লিস্টের প্রথমে একটা নাম “আরোহী আপু”
তারমানে নীলিমা এই নাম্বারেই কথা বলে কাঁদছিল। নামটা তো খুব পরিচিত লাগছে কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছি না। হঠাৎ মনে পড়লো আরোহী তো নিলার বেস্ট ফ্রেন্ড, তাই শুধু না আরোহী আমাকে ভালোবাসতো। অনেক বার নিলার চোখের আড়ালে আরোহী সেটা আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছিল, আমি বার বার আরোহী কে বুঝিয়েছি আমি নিলাকে ভালোবাসি। নিলার মৃত্যুর পর আরোহীর সাথে কখনো দেখা হয়নি আমার। তাহলে কি আলিফার কথাই ঠিক, যে আমাকে ভালোবাসতো কিন্তু আমি বাসিনি সেই এসব করেছে। আর সে অন্য কেউ না আরোহী….?

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here