রোমান্টিক_অত্যাচার -২ পর্ব-১৫

0
526
রোমান্টিক_অত্যাচার -২
পর্ব-১৫
লেখিকাঃ #Israt_Jahan
ধারনাঃ #Kashnir_Mahi
-“কি ব্যাপার বল তো চান্দু?
তোর বাবার কি এখনো ফেরার সময় হয়নি?আজ কাল বড্ড লেট করে বাসায় ফিরতে।আর এই নাকি ওনার মেয়ে কে উনিই দেখাশোনা করবে।কত কথা বলেছিল!
হুহ।রাত ৮ টা বাজতে চলল।এরকমই হয়।এখন তো বউ পুরানো হয়ে গেছে। এক মুখ দেখতে দেখতে বোরিং সে।কিন্তু তোর মুখ তো আর পুরানো হয়নি। তাহলে সেই খাতিরেও তো অফিস ছেড়ে জলদি বাড়ি ফিরতে পারে।
মাহি চান্দুকে কোলে নিয়ে বেলকনিতে দাড়িয়ে কথাগুলো বলছে।এর মাঝে আশফি গাড়িতে করে বাসার ভেতর ঢুকলো।মাহি আশফির গাড়ি দেখে ড্রয়িংরুম এ চলে গেল। আশফি ড্রয়িংরুম এ ঢুকে চান্দু আর মাহিকে দেখে তার ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মুখটা হাসিতে ভরে উঠলো। আশফির হাসি দেখে মাহি বলল,
-“এতো হাসছেন যে? অফিস থেকে ফেরার সময় কি এখন হল?আজ রাতে না ফিরলেও পারতেন।
আশফি মাহির কাছে এসে দাড়ালো তারপর বলল,
-“হুমম।আগে আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিই। হাসছিলাম এটা দেখে, একটা বাচ্চার কোলে আর একটা বাচ্চা।দৃশ্যটা দেখার মত।আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা অনেক দীর্ঘ তাই ওটা পরে বিস্তারিত ভাবে বলবো।
-“বুঝলাম।তো আমাকে কি আপনার এখনো বাচ্চা মনে হয়?আমি এখন আপনার চান্দুর মা হয়ে গেছি।ঠিকআছে?তাই আমি মোটেও বাচ্চা নই এখন।
-“আসলে বিষয়টা হচ্ছে প্রত্যেক মেয়েরা মা হওয়ার পর নিজেদের বড় বড় ভাবে।আর তুমিও সেটাই ভাবছো।কিন্তু তুমি মোটেও বড় হওনি।বড় হলে তো চান্দুর প্যান্টটা উল্টো করে পড়াতে না।
আশফির কথা শুনে মাহি চান্দুর প্যান্টের দিকে তাকালো।মাহি প্যান্টটা আসলেই উল্টো করে পড়িয়েছে।সেটা দেখে মাহি বলল,
-“আরে আমি তো খেয়াল ই করিনি।সব তোমার জন্য।
-“আমার জন্য মানে? আমি কি তোমাকে প্যান্ট উল্টো করে পড়াতে বলেছি?
-“না।কিন্তু তোমার কথা ভাবতে ভাবতেই তো এমনটা হয়েছে।
-“হ্যা,তাইতো।নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।
-“তাই নাকি।ঠিক আছে কাল তো হলিডে।সারাদিন তুমি তোমার চান্দুর দেখাশোনা করবে।আমি কিচ্ছু করবোনা।
-“সেটা তোমাকে আর বলতে হবেনা।আমি নিজেই সব করবো।আর তোমার দেখাশোনাটা ও করবো খুব ভালোভাবেই।
মাহি চান্দুকে একটা সার্ভেন্টের কাছে দিয়ে গেলো।তারপর আশফির কাছে গিয়ে আশফিকে কিছুটা টেক কেয়ার করতে শুরু করলো।
-“বাহ্!বাচ্চাটা দেখছি বড় হয়ে যাচ্ছে সত্যি সত্যি। কত সুন্দর করে আমার যত্ন নিচ্ছে।
-“এর সাথে বড় হওয়ার কি সম্পর্ক হলো?আমি কি আগে তোমার যত্ন নিইনি।
-“নিয়েছো।কিন্তু আজকে যেনো তোমাকে সত্যিই অন্যরকম লাগছে।
-“কারণ এখন আমি একজন মা।
-“হুম।এর জন্যই,তাইনা?
-“হুম।নাও পুরো শরীর মুছে দিয়েছি।এখন চলো ডিনার করে নিবে।
মাহির কথা শুনে আশফি ওর মুখটা টায়ার্ডনেস এর মত করে রাখলো। মাহি বুঝতে পেরেছে আশফি ওকে খাবার রুমে এনে খাইয়ে দিতে বলছে। মাহি সেটা বুঝতে পেরে আশফিকে কিছু না বলে মুখে একটা মৃদু হাসি টেনে খাবার আনতে চলে গেল। খাবার খাইয়ে দেওয়ার সময় আশফি মাহিকে বলল,
-“আমি আগে তোমার চুমু খাবো।তারপর খাবার। আজকে সারাদিন এটা খুব মিস করেছি।
-“মিষ্টিটা সবসময় খাবার খাওয়ার পরে খেতে হয়। আগে নয়।
-“আমি আগেও খাবো আর খাবার খাওয়ার পরেও খাবো।
-“উফফ!তুমি না….
তারপর মাহি আশফির কাছে গিয়ে আশফির কপালে আগে একটা চুমু খেলো তারপর আশফির ঠোঁটে।চুমু খাওয়া শেষ হলে আশফি বলল,
-“উম এতো মিষ্টি কেনো তোমার চুমু?আমার তো আরো খেতে ইচ্ছা করছে।
-“পাঁজি আগে খাবারটা খাও।
-“ওকে।এরপর শুধু মিষ্টি আর মিষ্টি।
এরই মাঝে সার্ভেন্ট এসে চান্দুকে রুমে শুইয়ে দিয়ে গেল।চান্দু ঘুমিয়ে পড়েছে। সেটা দেখে আশফি বলল,
-“দেখেছো আমার মামনি কত বুঝে।ও জানে আজকে রাতে বাবা ওর মামনির থেকে অনেক অনেক মিষ্টি খাবে।সেটা ওর দেখা ঠিক হবেনা।তাই আগে ভাগে ঘুমিয়ে পড়েছে।
-“হুম তাইতো।তখন আর কোনো টায়ার্ডনেস কাজ করবেনা তাইনা?
-“আরে ওটা কাটানোর জন্যই তো তোমাকে প্রয়োজন।ওগুলো নেওয়ার সময় কি আর এসব টায়ার্ডনেস কাজ করে?
-“সেটাইতো দেখছি। আচ্ছা আজ কাল অফিসে কি প্রচন্ড চাপ?বাসায় ফিরতেও লেট করছো আর ফোন দেওয়াটা ও কমিয়ে দিয়েছো।
-“নেগেটিভলি নিও না ডিয়ার।তুমি যেমন ভাবছো তেমন কিছুই নয়।
তোমাদের দুজনের উপর আমার এটেন্টিভ সব সময় একশো।কিন্তু আজ কাল কোম্পানির অর্ডারগুলো নিয়ে একটু বেশি কেয়ারফুল থাকতে হয়।আমাদের কোম্পানিটা তো এখন ১০ নাম্বার rangking এ আছে। তাই আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যাটাও বেশি হয়ে গেছে।গত কয়েকমাস ধরে একটা কোম্পানি আমাদের সাথে ডিলে আসার জন্য মড়িহা হয়ে আছে একদম। কিন্তু তাদের ম্যাটেরিয়ালস এর মান আমার পছন্দ না হলে আমি কি করে তাদের সাথে ডিল করি।
-“আচ্ছা বুঝলাম।অনেক কথা হয়েছে এখন তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো তো।
-“না আমি আর খাবোনা। ভালো লাগছেনা।বাকিটুকু তুমি খেয়ে নাও প্লিজ।
-“সারাদিন পর বাসার খাবার খাবে তাও এতো অনীহা?
-“ভালো লাগছেনা বিশ্বাস করো।আর আমি তো খালি পেটে থাকবোনা।তোমার থেকে তো আজকে অনেক মিষ্টি খাবো।পুরো পেট পুরে খাবো।
-“আহা….কি ভাবের কথা। এখন আর কোনো কথা না বাড়িয়ে রেস্ট নিন।
-“রেস্ট তো নিবই।তুমি ডিনার সেড়ে জলদি এসো না।
-“এই ঘুমিয়ে পড়লে নাকি? -“উহুম।চোখ বন্ধ করে আছি।
-“মাত্র ৯:৩০ টা বাজে। এত জলদি ঘুম আসবেনা তো।
-“তাহলে ঘুম না আসা পর্যন্ত আমাকে আদর করতে থাকো।
-“ধুর তোমার খালি যতসব দুষ্টুমি মার্কা কথাবার্তা।
-“তো এখন আপনার ঘুমের জন্য আমি কি করবো?ঐ সেই রাজা রানীর গল্প আবার শোনাবো?
-“ওহহো তুমি তো সেই গল্পটা শেষ করোনি।
-“হুম।আজ ও তো শেষ করতে পারবোনা বলা শুরু করলে।
-“হুম।প্রতিদিন একটু একটু করে শুনলে তো ভালো লাগেনা।
-“আচ্ছা তাহলে কিভাবে পুরোটা শুনাবো তোমাকে?
-“কিভাবে পুরোটা শোনাবে?আচ্ছা তুমি একটা কাজ করতে পারো। কাল তো হলিডে।
-“তো?
-“কাল তুমি সারাদিন আমাকে গল্পটা শোনাবে।
-“এ্যাহ্।আমার যেনো আর কোনো কাজ নেই।আমি ওনাকে সারাদিন শুধু গল্পই শোনাবো।
মাহি আশফির কাছে গিয়ে আশফিকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“অনেক আদর করবো।
মাহির কথা শুনে আশফি মাহির দিকে তাকাল। তারপর বলল,
-“লোভ দেখানো হচ্ছে?
-“একটু।
-“সে তুমি আমাকে আদর করতে না চাইলেও আমি এমনিতেই আদর নিতাম।
-“কিভাবে?আমি যদি না করি?
-“সেটা তো তুমি ভালো করেই জানো আমি কিভাবে আদর নিই।মাঝে মধ্যে ভুলে যাও নাকি?
-“আমি জানিনা। গল্পটা তোমাকে শোনাতেই হবে। সে যেভাবেই হোক।
-“ওকে ওকে।ভেবে দেখছি কি করা যায়।এখন আমার মিষ্টিগুলো দাও। না হলে খালি পেটে ঘুম আসবেনা।
-“ওর বুকের উপর মাথা পেতে শুয়ে ছিলাম।মাথা উঁচু করে ওর সারা মুখে আমার ঠোঁটের ছোঁয়া দিলাম। এরপর ও নিজেই আমাকে জড়িয়ে ধরে ওর খুব কাছে নিয়ে ইচ্ছামত আমাকে আদর করতে থাকল।
এরপর বেশকিছুদিন কেটে গেল চান্দুকে নিয়ে আশফি আর মাহির দৈনন্দিন জীবন আর তার মাঝে নিঃশেষ ভালোবাসা। একদিন সকালের ঘটনা। আশফি আর মাহি বসে ব্রেকফাস্ট করছিল এমন সময় একটা ইনভাইটেশন কার্ড আসলো আশফির কাছে।
-“কিসের কার্ড এটা?(মাহি)
-“ইনভাইটেশন কার্ড।(আশফি)
-“কিসের ইনভাইটেশন? কে পাঠালো?
-“হুয়াং চ্যাং।গত ৯ মাস ধরে যে কোম্পানিটা আমাদের কাছে তার কোম্পানির ম্যাটেরিয়ালগুলো সাপ্লাই করতে চাইছে সেই কোম্পানির ওউনার। আগামী সপ্তাহে সন্ধ্যাই তার বাসায় একটা পার্টির অরগানাইজড করেছে।
-“হঠাৎ তোমাকে ইনভাইট করলো যে?
-“শুধু আমাকে নয় তোমাকেও।
-“আমাকে ও?
-“হুম।কাপলদের জন্য পার্টিটা।
-“ওহ্ আচ্ছা।
-“লোকটার কাজগুলো কেমন অদ্ভুত ধরনের। মানে সে ডিলটা করার জন্য যে কোনো পন্থা অবলম্বন করছে।যেচে ইনভাইট করছে আবার।
-“আরে তুমি এতো ডিপলি ভাবছো কেনো? ব্যাপারটা তো এমন নাও হতে পারে। তুমি একজন বিজনেসম্যান সেও একজন বিজনেসম্যান।তাই হয়তো তোমাকে ইনভাইট করেছে।
-“হতে পারে?
-“তো সেটা কবে?
-“আমি যেদিন গার্ডেন সিটিতে যাবো।
-“তাহলে তো আর তুমি পার্টিতে আর জয়েন করতে পারছোনা।
-“হুম।সে দেখা যাবে পরে। আচ্ছা আমি তাহলে অফিস চলে যাচ্ছি।আমার চান্দু আর চান্দুর মায়ের খেয়াল রেখো।ওকে?
-“অবশ্যই।
-“তো যাওয়ার আগে আমাকে কিছু দেওয়ার ছিল তোমার?
-“দেওয়ার ছিল বুঝি? কই আমার তো মনে পড়ছেনা।
আশফি এদিক ওদিক তাকিয়ে মাহির কোমড় টেনে ধরে ওর ঠোঁটে ৩ মিনিটের একটা চুমু দিল। তারপর বলল,
-“তোমার মনে পড়ার অপেক্ষায় আমি আর থাকলাম না।
-“পাঁজি একটা।
-“আসছি।বাই।
-“বাই।
আশফি কিছুদূর গিয়ে আবার থেমে গেল।
-“ওহ্ আর একটা কথা। এই শোনো?
মাহি আশফির ডাক শুনে পিছু ফিরে তাকাল।
-“কি হয়েছে?
-“বেডরুমে একটা গিফ্ট আছে আপনার জন্য।
-“গিফ্ট?
-“হুম।দেখে নিয়েন।
তারপর মাহি বেডরুমে গিয়ে বালিশের উপর একটা বই দেখলো।বইটির নাম “Violent Fancy”.
-“Violent Fancy. Writer Ashfi Chowdhury. বাব্বাহ্!আমার বরটা রাইটার হল কবে থেকে?
মাহি বইটা খুলতেই একটা ছোট্ট চিরকুট পেলো। চিরকুটটা খুলে মাহি পড়লো।চিরকুটে লিখা ছিল,”রাইটার তো আপনার জন্যই হলাম।আর Violent fancy টা ও শুধু আপনাকেই ডেডিকেট করলাম।”চিরকুটটা পড়ে মাহি হাসলো।
-“গল্পের নামটাই তো অদ্ভুত।না জানি গল্পটা কতটা অদ্ভুত।
বইটা খুলেই মাহি প্রথম কিছু লাইন পড়ে বুঝতে পারলো এটা সম্রাট ফালাক আর রাজকন্যা মেহেরুন এর গল্প।
-“ও আচ্ছা।তাহলে গল্পটা ও আমাকে বুক করে দিয়েছে। যাতে আমি সম্পূর্ন গল্পটা পড়তে পারি।ইশ আশফি আমাকে এত ভালোবাসে কিভাবে?আমার ছোট বড় সবরকম চাওয়া পাওয়ার দিকে খেয়াল রাখে ও। কিন্তু একটা জিনিস তো খুব মিস করবো।ওর মুখ থেকে গল্প শোনা আর বলার সময় ওর অঙ্গ ভঙ্গী গুলো।আর তার মাঝে মাঝে তারপর বলা আর তার সাথে একটা করে পাপ্পি দেওয়া। কতরকম দুষ্টুমি যে ও করতে পারে!
মাহি নিজের সাথে কথাগুলো বলছিল তার ভেতর আশফি মাহির ফোনে কল করলো।ফোনটা মাহি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলল,
-“গল্পের মাঝে যে চুমুগুলো আমার পাওনা ছিল সেগুলো গুণে রেখো। কোনো স্যাক্রিফাইজিং হবেনা।একবারে এসে নিয়ে নিব কিন্তু।
-“নগদ তো আর পাচ্ছেন না।পরে এসে নিলে কি মজা পাবেন?
-“বউ এর চুমুতে সবসময়ই মজা থাকে।সে যে সময়ই নিই না কেন?তো গল্পটা কি পড়া শুরু করেছ?আমি আসার পর কিন্তু আর পড়ার সুযোগ পাবেনা।
-“হুম সে তো জানি।
এখনো শুরু করিনি করবো।
-“গল্প পড়ো আর যাই করো।আমার চান্দুর আর তার মায়ের যত্নের প্রতি যেন কোনো ত্রুটি না হয়।না হলে কিন্তু…………
-“থাক আর বলতে হচ্ছেনা।অফিস পৌঁছে গেছো?
-“না।কিছুসময়ের ভেতরেই পৌঁছে যাব।ওকে রাখছি এখন।
-“হুম।এই শোনো।
-“হ্যা বলো।
-“তোমার গল্পের নামটা কিন্তু খুবই ইউনিক।
-“তার থেকেও ইউনিক গল্পটা।আমার বউটা যেহেতু ইউনিক।তার জন্য গল্পটাও তো ইউনিক হতে হবে।
মাহি চান্দুকে খাইয়ে কিছুসময় নিজের কাছে ওকে রেখে তারপর একটা সার্ভেন্টের কাছে চান্দুকে দিয়ে দিল।গল্পের বইটা হাতে নিল গল্পটা পড়ার জন্য।প্রথম কিছু পৃষ্ঠা গ্যাপ রেখে পরের পৃষ্ঠা থেকে গল্পটা পড়া শুরু করলো মাহি।যেখানে গল্পটা থেমে ছিল সেখান থেকে পড়া শুরু করলো।
[#Violent_Fancy ]
সম্রাট ফালাক তাজ যে মুহূর্তে রাজকন্যা মেহেরুনের শরীরে জড়িয়ে থাকা চাদরটাকে টেনে ফেলে দিল সেই মুহূর্তে মেহেরুন নিজের তড়োযার এর দিকে লক্ষ্য না রেখে তার অর্ধনগ্ন শরীর দুহাত দিয়ে ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।আর রাজা ফালাক সেই সুযোগটি ই কাজে লাগালো।তখন চিন্তা ভাবনা ছিল রাজকন্যা মেহেরুনকে তুলে নিয়ে যাওয়া।সে ঠিক তারই পরিকল্পনা করছিল কিভাবে সে রাজকন্যা মেহেরুন কে তার সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবে।রাজা ফালাক আস্তে আস্তে রাজকন্যা মেহেরুনের দিকে এগোচ্ছে।কিন্তু তার পরিকল্পনা কার্যকারী হওয়ার আগেই রাজকন্যা মেহেরুন এর পিতা জাভেদ খান এসে উপস্থিত হল মেহেরুনের কক্ষে।মেহেরুন কারো উপস্থিতি টের পেয়ে রাজা ফালাকের কাছ থেকে ছুটে পালাতে চাইল তার কাছে। কিন্তু ফালাক তার আগেই মেহেরুনকে ধরে তার গলার কাছে তড়োযার ঠেঁকিয়ে স্নানাগার থেকে শয়নকক্ষে প্রবেশ করলো।মেহেরুনের পিতা সেই দৃশ্য দেখে ক্রোধান্বিত কন্ঠে চিৎকার করে বলল,
-“সম্রাট ফালাক! আল্লাহর কসম আমার কন্যার শরীরে এক চুল পরিমাণ আঘাত লাগলে তোর শিরচ্ছেদ করবো আমি।
-“এ কাজ তো আমি মনের ভুলেও কখনো করবোনা সম্রাট জাভেদ।আপনার কন্যার সৌন্দর্যে আমার চেতনা হারানোর পরিক্রম হয়েছিল।ওকে আমার এখন চাই সে যেভাবেই হোক।
আমি ওকে আমার সঙ্গে করে নিজের রাজ্যে নিয়ে যাব।
-“আমার প্রাণ থাকতে আমি কখনোই তা হতে দিবনা।
-“এর জন্যই তো আপনার প্রাণ থাকবেনা সম্রাট জাভেদ।
সম্রাট ফালাকের কথা শুনে মেহেরুন খব ভয় পেয়ে গেল। ও কখনোই পারবেনা ওর চোখের সামনে নিজের পিতার রক্তাক্ত মৃত দেহ দেখতে।ও কিছুসময় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিল যে রাজা ফালাকের সাথে যেতে ও রাজি হয়ে যাবে এখন। কারণ ওর পিতা আর তার রাজ্য যদি সে বাঁচাতে পারে তাহলে রাজকন্যা মেহেরুন তার জীবন বিপন্ন করে দিতে প্রস্তুত।এখন আপাতত ও রাজি হবে রাজা ফালাকের সঙ্গে যাওয়ার জন্য।পরে সুযোগ বুঝে ওখান পালিয়ে আসবে।এটাই ছিল রাজকন্যা মেহেরুনের পরিকল্পনা।তাই সে তার পিতাকে বলল,
-“পিতা আমি কখনোই সহ্য করতে পারবোনা ঐ মর্মান্তিক দৃশ্য তখনই আমার মৃত্যু ঘটবে।তার থেকে বরং আমি রাজা ফালাকের সঙ্গে তার রাজ্যে যাব।রাজা ফালাক আপনার কাছে আমি আমার পিতার প্রাণ ভিক্ষা চাইছি।দয়া করে তার কোনো ক্ষতি করবেন না।
-“আমি জানতাম রাজকন্যা মেহেরুন খুবই সাহসী আর বুদ্ধমতী।একটু আগেও আমি তার যে সাহসী রূপ দেখলাম এখন আমি তার যে রূপ দেখছি তার সাথে আমি তার সেই রূপের কোনো মিল পাচ্ছিনা।এত সহজে সে আত্মসমর্পণ করবে তা আমার চিন্তার বাহিরে ছিল। তার মানে তার পরিকল্পনা ভিন্ন কিছু।সে আমাকে বোকা বানাতে চাইছে।
কন্যার এমন ধারা কথা শুনে রাজা জাভেদ খান অবাক হল।মেহেরুনকে সে বলল,
-“মেহেরুন!মা তুই ভাবলি কি করে এই নরপিশাচের হাতে আমি তোকে তুলে দিব?আমি বেঁচে থাকতে তা কখনোই পারবোনা।তার থেকে আমার মৃত্যু অনেক শ্রেয়।
-“থামুন সম্রাট জাভেদ। আপনার কন্যা নিজেই আমার সামনে আত্মসমর্পণ করেছে।সেখানে আপনি আর বাঁধা দিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। রাজকন্যা মেহেরুন আপনি আপনার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন যা অতুলনীয়।
চলুন তাহলে আমার সাথে। আর আপনার পিতা মাতার ব্যবস্থাও আমি করছি।
এর মাঝে ফালাকের সৈন্যরা গোটা রাজমহল দখল করে নিয়েছে রাজা জাভেদ খানের সৈন্যদের পরাজিত করে।সম্রাট ফালাক মেহেরুনের পিতামাতা কে ও আটক করে ফেলেছে।রাজা জাভেদ খানের সিংহাসনে বসেছে সম্রাট ফালাক তাজ।রাজকন্যা মেহেরুনের অনুরোধে তার পিতামাতার প্রাণ ভিক্ষা দিয়েছে রাজা ফালাক।এদিকে ফালাক মেহেরুনের চাচা আরব খান কে যে কথা দিয়েছিল সে কথাও সে রাখেনি। তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকেও আটক করেছে। মেহেরুনকে সে নিজের রাজ্যে তুলে নিয়ে যায়। আর মেহেরুনের পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সে কারাগারে নিক্ষেপ করে। মেহেরুন বুঝতে পেরেছে যে শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে রাজা ফালাককে পরাজিত করা যাবেনা।তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রয়োজন।তাই সে চুপচাপ সহ্য করে নিল রাজা ফালাকের সব অন্যায়। কিন্তু এখন সে ভাবছে কিভাবে রাজা ফালাকের থেকে তার সম্মান রক্ষা করবে।
★রাতের ঘটনা★
-“মন্ত্রিসাহেব আমি বড়ই ক্লান্ত।শেরপুর রাজ্য দখলের খবরটি আপনি রাজসভায় গিয়ে ঘোষণা করে দিন। আর ঘোষক কে বলে দিন রাজ্যে সব অঞ্চলে খবরটি পৌঁছে দিতে।(ফালাক)
-“আপনার ইচ্ছা মহারাজ। আসছি।
-“মহারাজ আপনার রাতের খাবার প্রস্তুত। (দাসীবৃন্দ)
-“এই মহলে আজকে একজন নতুন অতিথি এসেছে সেটা তোমরা নিশ্চই জানো?
-“জ্বী মহারাজ।
-“তার খাবারের ব্যবস্থা কি হয়েছে?
-“আজ্ঞে না মহারাজ।
সম্রাট ফালাক দাসীবৃন্দর না বোধক উত্তরে প্রচন্ড আকারে রেগে গেল। বিছানা থেকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাড়িয়ে দাসীদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল,
-“চাবুকাঘাতে তোমাদের শরীর জর্জরিত করে ফেলব।অনেকদিন পিঠে চাবুক পড়েনা তোমাদের। রাজমহলে অতিথি আসলে তাদের সেবাযত্ন,দেখভাল করতে হয় তা কি তোমরা ভুলে গেছ?
-“মহারাজ আমাদের মাফ করুন।এমন ভুল আর কক্ষনো হবেনা। আসলে এর আগে যাদের আপনি এভাবে নিয়ে এসেছেন কখনো তাদের দেখভালের কথা বলেননি।তাই আমরা……..
দাসী তার কথা আর শেষ করলোনা।দাসীর কথা শুনে রাজা ফালাক ও কিছুটা বিস্মিত হলো।
-“সত্যিই তো।এর আগে আমি যেসব রাজকন্যাদের তুলে নিয়ে এসেছি তাদের খেয়াল রাখার কথা আমার একবারও মনে পড়েনি। তাদেরকে শয্যাসঙ্গী বানানোর পর দ্বিতীয়বার তাদের কথা আর মনে পড়েনি।এখন তারা আমার রাজমহলে কি অবস্থাতে আছে সেই খবরটুকু আমি নিইনা।দাসীবৃন্দ, প্রহরী, সেনাপতি তাদের উপর ওদের ছেড়ে দিয়েছি।তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন আমার দাসীতে পরিণত হয়েছে।কিন্তু রাজকন্যা মেহেরুনকে দেখার পর থেকে তার চিন্তা আমি আমার মাথা থেকে এক মুহূর্তের জন্য ও সড়াতে পারছিনা।আর এখন নিজের খাওয়ার কথা শুনে তার খাওয়ার কথা আমার মনে পড়লো।কি আছে রাজকন্যা মেহেরুনের ভেতর?কেনো তার প্রতি আমি এত আকৃষ্ট হচ্ছি? শুধু কি তার সৌন্দর্যের জন্যই?
-“মহারাজ?আমরা তাহলে রাজকন্যা মেহেরুনের জন্য কি খাবারের ব্যবস্থা করবো?
দাসীদের কথা শুনে সম্রাট ফালাক তার ভাবনার জগত থেকে বেড়িয়ে এল।
-“আমার জন্য যা ব্যবস্থা করেছ তার জন্য ও তাই ব্যবস্থা করো।খাওয়া শেষে তার বিশ্রাম পর্ব শেষ হলে তাকে আমার কক্ষে নিয়ে আসবে।
-“ঠিক আছে মজারাজ।
-“আর হ্যা।রাতের খাবার খাওয়ার পূর্বে তাকে নিশ্চই গোসল করে পবিত্র হতে বলবে।
দাসীগুলো রাজা ফালাকের কক্ষ থেকে বিদায় নিয়ে রাজকন্যা মেহেরুনেকে যে কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়েছে সেই কক্ষে চলে গেল খাবার নিয়ে।রাজকন্যা মেহেরুন তখন বসে ভাবছিল কি করে রাজা সম্রাটের থেকে তার পরিবার আর তার রাজ্যকে রক্ষা করবে। আসলে রাজকন্যা মেহেরুন ঠান্ডা মস্তিষ্কের অধিকারী ছিল।সে খুব সহজে ভেঙ্গে পড়ার মত মেয়ে নয়।
বিপদে মস্তিষ্ক ঠান্ডা রেখে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে হয় সে সেই শিক্ষায় গ্রহণ করেছে তার পিতার থেকে। মেহেরুন ভাবছে সে যেহেতু এখনো অক্ষত আছে তাহলে এত সহজে তার কোনো ক্ষতি করবেনা রাজা ফালাক।তাই যা করার অতি শীঘ্রই করতে হবে।দাসীদের প্রবেশে মেহেরুন ভাবনার জগত থেকে বাস্তব জগতে ফিরে এল।রাজা ফালাকের আদেশ মোতাবেক গোসল করলেও দাসীর আনা খাবার সে গ্রহণ করলোনা। এতক্ষণ মেহেরুনের মনে সাহস সঞ্চারিত হলেও দাসীদের কথা শুনে সেই সব সাহস এক নিমিষে ভয়ে পরিণত হল।রাজা ফালাক তার কক্ষে মেহেরুনকে নিয়ে যেতে বলেছে।মেহেরুন ভাবছে এখন নিশ্চই রাজা ফালাক তার ভয়ানক হিংস্র রূপ বের করবে মেহেরুনের সামনে।হিংস্র পশুর ন্যায় মেহেরুনের দেহ ছিড়ে খাবে সে।ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিবে তার শরীরকে।দাসীবৃন্দ মেহেরুনকে ফালাকের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছে।
-“রাজকন্যা!সম্রাট আমাদের আদেশ করেছেন তার কক্ষে আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
-“না।আমি যাবোনা। তোমাদের সম্রাট কে গিয়ে বলো সে যদি আমার সম্মানের দিকে হাত বাড়ায় তাহলে আমি নিজেই আত্মহননের পথ বেছে নিব।
-“রাজকন্যা আপনি সম্রাট ফালাকের অন্দরমহলে আছেন।সে না চাইলে আপনি মড়তেও পারবেন না।
-“মৃত্যু ঘটানোর মালিক। তোমাদের সম্রাট নয়। সে দেখতে চাই আমি নিজেকে শেষ করতে পারি কিনা?
-“মৃত্যু ঘটানোর মালিক যেমন আমাদের সম্রাট নয় তেমন আপনিও নন।
মাঝখানে শুধু শুধু আপনি নিজেকে কষ্ট দিবেন।
-“তোমরা কি নারী? কিভাবে সহ্য করতে পারো আর এক নারীর প্রতি এত অনাচার?তোমাদের শরীরের লোম শিউড়ে উঠেনা?
-“বোন!তোমাকে বোন বলেই ডাকলাম। আমি শ্যামনগর রাজ্যের ছোট রাজকন্যা ছিলাম।চোখের সামনে নিজের বুবুর মৃতদেহ দেখেছি। আর কিছু বলতে পারছিনা।
দাসীটি কথাগুলো বলতে গিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো।তারপর আবার বলতে শুরু করলো,
-“আমরা চাইলেও আপনার কোনো সাহায্য করতে পারবোনা।শুধু এটুকু বলতে পারি বেঁচে থাকতে চাইলে নিজেকে স্ব ইচ্ছায় তুলে দিতে হবে সম্রাট ফালাকের কাছে।
-“পতন ঘটবে।এতো অনাচার এতো অত্যাচার উপরওয়ালা বেশিদিন সহ্য করবেনা।তোমাদের সম্রাটের পতন ঘটবে।
এরপর রাজকন্যা মেহেরুন দাসীদের সঙ্গে ফালাকের কক্ষে প্রবেশ করলো।এই প্রথম রাজকন্যা নিজেকে অনেক অসহায় মনে করছে।নিজেকে রক্ষা করার মত কোনো উপায় সে খুঁজে পাচ্ছেনা।দাসীবৃন্দ মেহেরুনকে ফালাকের কক্ষে প্রবেশ করিয়ে তারা বাহিরে চলে গেল।
-“কাঠ দ্বারা নির্মিত একটি ছোট আসবাবের উপর কিছু ফল রয়েছে একটি পাত্রে। তার ভেতর একটি ছুড়ি।হ্যা ওটাকেই আমি আমার কাজে লাগাবো।হয় নিজেকে শেষ করে দিব আর না হয় রাজা ফালাককে।ছুড়িটা যখন নিতে যাব তখনই রাজা ফালাক কক্ষে প্রবেশ করলো।
-“কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখলাম মেহেরুন ফল কাটার ছুরিটির দিকে হাত বাড়িয়েছে।আমাকে দেখে সে থেমে গেল।সে যখন আমার দিকে ঘুরে দাড়ালো আমি তখন তার স্নিগ্ধ শীতল মুখটি দেখে আরো একবান সম্মোহিত হলাম। ভিজে থাকা চুলগুলো ছেড়ে আছে সে।কোনো সাজগোজ নেই।তারপরেও ওকে এতো আকর্ষণীয়
(আবেদনময়ী বোঝাতে) লাগছে যে পলক ফেলতে পারছিনা।হঠাৎ করে মেহেরুন ছুরিটি হাতে নিয়ে নিল।আমি সত্যি চমকে গেলাম।ও নিজের কোনো ক্ষতি করে ফেলবে না তো? আমি আমার নিজের স্থানেই দাড়িয়ে আছি ওর কাছে যাচ্ছিনা।এদিকে ও নিজেও আমার উপর আক্রমণ করছেনা। আমি ওকে অভয় দেওয়ার চেষ্টা করছি।রাজকন্যা মেহেরুনের দিকে অগ্রসর হলাম আমি। কারণ যে কোনো মুহূর্তে ও নিজের শরীরে আঘাত করতে পারে।
-“সম্রাট ফালাক আপনি আমাকে খুব অসহায় ভাবছেন তাইনা?আর সেই অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে চাইছেন।আত্মঘাতী করবো তবু আপনার মত নরপিশাচের কাছে নিজেকে সমর্পণ করবোনা।ক্ষত বিক্ষত করে ফেলব নিজের শরীরকে। এই ক্ষত বিক্ষত শরীর ভোগ করতে পারবেন তো আপনি?
-“তুমি ভুলে যাচ্ছ যে তোমার পিতা মাতা এখনো জীবিত আছে।তোমার একটামাত্র ভুলের জন্য তাদের জান বিপন্ন হয়ে যাবে।
-“ঐ অন্ধকার কারাগারে তাদের বেঁচে থাকা সেই মরে যাওয়ার সমতুল্য।আমি বেঁচে থাকতে তাদের ঐ মরনাপন্ন অবস্থা দেখতে চাইনা।এর থেকে নিজের মৃত্যু হাজার গুণ উত্তম।
কথাগুলো বলেই মেহেরুন নিজেকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করলো।সেই মুহূর্তে রাজা ফালাক তাকে আটকানোর চেষ্টা করলো। একরকম ধস্তাধস্তি শুরু হলো ওদের মাঝে।এক সময় রাজা ফালাক মেহেরুনের নিকট থেকে ছুরিটা কেড়ে নিয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। মেহেরুন নিজের ঝোক সামলাতে না পেরে বিছানার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো।তাতে মেহেরুনের বুকের উপর থেকে পাতলা চাদর(ওড়না) সরে নিচে পড়ে গেল। তখন মেহেরুনের নিজের প্রতি নিজের খেয়াল না হলেও রাজা ফালাকের খেয়াল ঠিকই গেল তার উপর। তারপর রাজা ফালাক ছুরিটি নিচে ফেলে দিয়ে মেহেরুনের দিকে এগিয়ে গেল।মেহেরুনের চোখ দিয়ে তখন অনবড়ত পানি পড়ছিল।সে ধরেই নিয়েছে আজ বোধহয় তার নারীত্বটুকু এক হিংস্র নরপিশাচ ছিনিয়ে নিবে।
চলবে……

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here