রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২ পর্ব-১

0
500

রোমান্টিক_অত্যাচারঃ_২
পর্ব-১
লেখিকা: #Israt_Jahan
ধারনা: #Kashnir_Mahi
মাহিঃ উহহ এতো অশান্তি আর ভালো লাগেনা।খিদে পেয়েছে অথচ কিচ্ছু খেতে পারছিনা।আশফিইইই…….তোমাকে আমি ছাড়বোনা।
অভদ্র অসভ্য শয়তান গন্ডার তোমার জন্য আমার এই অবস্থা।আমার খুব খিদে পেয়েছে।আমি কি খাবো???
-“চিৎকার করে মাহি কথাগুলো বলছে।”
সার্ভেন্টঃস্যার!! ম্যাম কিচ্ছু খাচ্ছেনা।খাবার এর গন্ধ শুকেই বমি করে দিচ্ছে।খিদে পেয়েছে খেতে চাইছে। কিন্তু খাবার মুখের সামনে নিলেই সরিয়ে দিচ্ছে।কি করবো এখন?
আশফিঃআচ্ছা ঠিক আছে আমি আসছি। তুমি ফোন রাখো।ওর কাছে যাও আর সবসময় ওকে চোখে চোখে রাখবে।এই মেয়েটাকে নিয়ে এখন আমি কি করবো?ফোন করলেও শুধু বকাবকি করে।আর বলে আমার জন্য নাকি ওর এই অবস্থা।আমি ওকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছি।এটা কেমন কথা।আমি কিভাবে ওকে কষ্ট দিচ্ছি সেটাই তো বুঝলাম না।একে নিয়ে আমি এখন কি করবো।৩টা মাস হলো আমাকে পুরো পাগল করে দিচ্ছে।এখানে বসে থেকে দেরি না করে বাসায় যায়।দেখি গিয়ে কিছু খাওয়াতে পারি নাকি।আজকে আর অফিস করা হলোনা।এই তিনটা বছরে মাহি আমার ওপর এমন কোনো অত্যাচার নেই যা ও করেনি।আর এখন যে অত্যাচারটা ও শুরু করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। ২৪ ঘন্টার ২৪ ঘন্টাই ওর মুখে বকা শুনতে শুনতে আমার দিন শুরু হয় আর রাত শেষ হয়।কতগুলো দিন যে রাতে ঘুমোতে পারিনা।বাসায় পৌঁছে গেলাম।মাহি তুমি কাঁদছো কেনো জাদু।কি হয়েছে?
গেলো,এই প্রশ্নটাই আমাকে করতে হলো?কানটা বন্ধ করার ও উপায় নেই।আমার প্রশ্ন টা শুনেই ওর কান্না বন্ধ হয়ে গেলো।
মাহিঃতুমি এখনো কোন মুখে এই প্রশ্ন করছো?তুমি দেখতে পাচ্ছোনা কি হয়েছে?তুমি কি মানুষ,তুমি জানো আমার কত কষ্ট হচ্ছে?
আশফিঃআচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে।আমি বুঝতে পারছি জাদু।দেখো এমন সময় তো সকলেরই একটু কষ্ট হয়।এটা সহ্য করেই তো সবাই…..
মাহিঃ সহ্য করেই তো মানে? তুমি সহ্য করতে তাহলে।
আমাকে কেনো সহ্য করতে হবে?
আশফিঃআমি?আমি কি করে সহ্য করবো??ছি ছি তুমি এসব কি বলোনা।এটা কোনোদিন সম্ভব নাকি।দেখো তুমি তো আমার থেকেও অনেক বেশি ইন্টেলিজেন্ট।
তুমি যদি না খেয়ে থাকো তাহলে ওর তো কষ্ট হবে।তাইনা?তুমি কি সেটা চাও?
মাহিঃ আমি তো খেতেই পারছিনা।
আশফিঃ ড. আঙ্কেল তো বললো কিছুদিন পর এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।তখন তুমি সবকিছু খেতে পারবে।এখন একটু কষ্ট হবেই।তুমি এই খাবারটুকু কষ্ট করে একটু খেয়ে নাও প্লিজ সোনা।আর কোনো কথা বলোনা।এখন হা করো।
মাহিঃ আমি আর খেতে পারবোনা।না হলে কিন্তু বমি করে দিবো।
আশফিঃ ওকে ওকে আর খাওয়াচ্ছিনা।এখন ওকটু ঘুমানোর চেষ্টা করো।কারণ রাতে তুমি একদমই ঘুমাতে পারোনা।ওকে শুইয়ে দিয়ে ওর
গায়ে চাদর টা টেনে দিলাম। ঠিক চার মাস আগের কথা…….
মাহিঃ এই আশফি তুমি আর একটা বাঙ্গালি বিয়ে করো তো।
আশফিঃকি?কেনো?তুমি কি আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাইছো না কি?
মাহিঃ আরে না।ধুর।কি সব বলোনা।আমি কেনো বিয়ে করতে চাইবো।তুমি তো আমাকে ঘরবন্দি পুতুলের মত করে রেখেছো।আমার সাথে গল্প করার মত ও একটা মানুষ নেই।সারাদিন শুয়ে বসে দিন কাটতে চাইনা।তোমার অফিসে ও আর আমাকে যেতে দাওনা।তাহলে আমি কি সারা জীবন এভাবে একা সময় কাটাবো।আর তোমাকে তো শুধু রাতটুকুই কাছে পাই।
আশফিঃ তো এর জন্য তুমি আমাকে আর একটা বিয়ে করতে বলছো।তোমার সাথে গল্প করার জন্য?
মাহিঃ হ্যা।তো কি সমস্যা?
আশফিঃতুমি সিরিয়াসলি বলছো তো।মানে তুমি আমাকে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করতে বলছো তার সাথে থাকতে বলছো।
মাহিঃ তার সাথে থাকতে বলছি মানে?আমি কখন বললাম তুমি তার সাথে থাকবে।
আশফিঃতো সে কি আমাকে বিয়ের পরে তোমার কাছে রেখে দিবে রোমান্স করার জন্য?সে আমার বৌ হলে তখন তো তোমাকেই আমার কাছে আসতে দিবেনা।
মাহিঃ একদম গলা কেটে নামিয়ে দিবো সে যদি এমন কিছু করে।আর সে এসব করবেই বা কেনো?ওকে দরকার হলে প্রতি মাসে তুমি সেলারি দিয়ে দিবে।আর বলবে সারাদিন আমার সাথে সময় কাটাতে।
আশফিঃতুমি না সত্যিই একটা অদ্ভুত প্রাণী।
মাহিঃ কি বললে?
আশফিঃআমার কাছে এসো।তো তোমার একা একা আর ভালো লাগছেনা তাই তো?
মাহিঃ হুম।?
আশফিঃ ঠিক আছে তো তার জন্য বিয়ে করতে হবে কেনো। আমাদের মাঝে নতুন কাউকে নিয়ে আসলেই তো হয়।
মাহিঃ নতুন কাউকে মানে? তুমি কি দেশ থেকে কাউকে এখানে নিয়ে আসতে চাইছো?
আশফিঃ দেশ থেকে নয় আল্লাহর কাছ থেকে।বুঝতে চেষ্টা করছো?এসো আমার কাছে এসো বুঝিয়ে দিচ্ছি।ওকে কাছে টেনে আমি আদর করতে গেলাম।
মাহিঃ আশফি সবসময় এমন দুষ্টুমি ভালো লাগেনা।আমি সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
আশফিঃআমিও তো সিরিয়াস।আচ্ছা তুমি তো একা থাকতে চাওনা?নতুন কাউকে চাও তোমার সাথে সময় কাটানোর জন্য?
মাহিঃহুম।
আশফিঃতাহলে আমি যা বলবো তাই করতে হবে।এখন আমার কাছে আসো বলছি।
তারপর মাহি আমার কাছে আসার পর ওকে খুব ভালোবাসা দিলাম।ব্যাস তার ১ মাস পর থেকেই আমাকে অত্যাচারে অত্যাচারে জর্জরিত করে ফেলছে।কেনো যে ওর একাকিত্ব দূর করতে চাইলাম তার পরিণামে আমাকে এভাবে ভুগতে হচ্ছে।নিজেও সারারাত ঘুমোইনা আর আমি চোখ বন্ধ করলে আমার অবস্থা শেষ করে ফেলে।ওর মুখটা দেখতে দেখতে কখন যে ওর পাশে বসে ঘুমিয়ে পড়েছি।বুঝতেই পারিনি।ঘুম ভাঙ্গতেই দেখলাম আমার সামনে মুখটা গোমড়া করে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।কি হয়েছে ডিয়ার তোমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে খিদে পেয়েছে?
মাহিঃ না।তুমি এভাবে অফিসের পোশাকে এখানে আমার পাশে বসে ঘুমাচ্ছো কেনো?আমি কি তোমাকে আমার পাশে শুতে বারণ করেছি?
আশফিঃ না আসলে সেটা না।তোমার যদি ঘুমোতে কষ্ট হয়?তাই আর কি…..
মাহিঃ থাক এতো কথা বলতে হবেনা।এই পোশাক ছাড়ো তারপর যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।
আশফি তো সেই কখন ফ্রেশ হতে গেছে এখনও বের হচ্ছেনা।এদিকে আমার তো অবস্থা খারাপ।মনে হচ্ছে এখনি বমি করে ফেলবো।কেমন অস্বস্তি লাগছে।উঠে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় নক করছি। আশফি তাড়াতাড়ি বের হও।
আশফিঃ কেনো?আমি তো টয়লেটে আছি।
মাহিঃ এই তুমি তাড়াতাড়ি বের হও না হলে কিন্তু এখানেই করে দিবো তখন কিন্তু তোমাকেই ক্লিন করতে হবে।
আশফিঃ হ্যা??এই না না আমি এখনই বের হচ্ছি।উফ এই মেয়েটার জন্য টয়লেট ও করতে পারব না।দরজাটা খুলতেই ভর ভর করে আমার গায়ে ঢেলে দিলো।মাহিইইই…
তুমি এটা কি করলে??
মাহিঃ কি করবো?সেই কখন থেকে বলছি দরজা খুলো।তারপর আর সামলাতে না পেরে……..
আশফিঃআমার শুধু কান্না করাটাই বাকি আছে।ইচ্ছে করছে গলা ছেড়ে চিৎকার করে কান্না করি।মুখে কৃত্তিম হাসি টেনে ওকে বললাম।কোনো সমস্যা নেই এসো তোমাকে পরিষ্কার করে দিই।তারপর ওকে পরিষ্কার আমি গোসল করে নিলাম।তারপর বহু কষ্টে ওকে কিছু খাওয়ালাম।ওকে এখন খাওয়াতে যতটা কষ্ট হয় এতোটা কষ্ট হয়তো আমার পিচ্চিটাকে খাওয়ানোর সময়ও হবেনা।পরেরদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো।ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ও পাশে নেই।তাড়াতাড়ি করে উঠলাম ও কোথায় সেটা দেখার জন্য।
মাহি তুমি এতো ভোরে বাগানে কি করছো?ভোরে একটু ঠান্ডা পড়ে আর তাতে যদি তোমার ঠান্ডা লেগে যায়?
মাহিঃআমার ঠান্ডা করছেনা। ঘুম ভেঙ্গে গেছে তাই উঠে এসেছি।
আশফিঃ তো আমাকে ডাকলেনা কেনো?আচ্ছা অনেকক্ষণ হাটাহাটি করেছো এখন ঘরে এসো।
মাহিঃ সেই তখন থেকে দেখছি কার সাথে যেনো ফোনে কথা বলছে।কে ফোন করেছে?মনে হলো বাংলাদেশ থেকে কেউ?
আশফিঃআমাদের দেশের মানুষই।কিন্তু দেশে থাকেনা।ইংল্যান্ড থাকে। আমাদের এখানে বেড়াতে আসতে চাইছে।
মাহিঃ ওয়াও।শুনে খুব খুশি লাগছে।কতদিন পর নিজের দেশের কাউকে দেখবো।তো সে কে?
আশফিঃচাচ্চুর বড় মেয়ে আলিশা।ইংল্যান্ড থেকে পড়াশোনা করেছে।এ বছরেই স্টাডি শেষ হলো।তাই এখানে ঘুরতে আসতে চাইছে তারপর এখান থেকে দেশে ফিরে যাবে।
বলছে তোমার সাথে আর আমার সাথে মিট করবে।আমাদের বিয়ের সময় তো ছিলোনা।ওর সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি। শুধু ফোন আর ভাইবারেই যতটুকু কথা হয়েছে।এই ফার্স্ট আমাদের দেখা হচ্ছে।
মাহিঃ আচ্ছা তো কবে আসছে?
আশফিঃসামনের উইকেই। যাক অন্তত ২ মাসের জন্য কাউকে কাছে পাচ্ছো।ভিষণ কথা বলতে পারে মেয়েটা।
মাহিঃআচ্ছা ও দেখতে কেমন? আমাকে ওর ছবি দেখাও।
আশফিঃসেটা সারপ্রাইজ থাক। তোমার ছবি ও দেখতে চেয়েছিলো আমি দিইনি।বলেছি ছবি দিলে যদি নজর দাও?তাই সামনে এসে দেখো।নজর দিলেও আমি সেই নজর কাটিয়ে দিবো।এই কথার উত্তরে আমাকে কি বলো জানো?আমাকে বলে তোমার বৌ কি দেখতে আমার থেকেও সুন্দর?
মাহিঃ তো তুমি কি বললে?
আশফিঃআমি বলেছি আমার কথা কতোটা সত্য সেটা সামনে এসে দেখলেই বুঝতে পারবে।ও বললো ও দেখতে চাই তুমি কতোটা সুন্দর যে কিনা আশফিকে বিয়ের বাঁধনে বেঁধে ফেলতে পেরেছে।
মাহিঃহুহহ?। আমি তো ওকে বলবো যে আমি আশফিকে বিয়ের বাঁধনে বেঁধেছি নাকি আশফি আমাকে বেঁধেছে।
আশফিঃআমি মাহির কোলের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম।তোমাকে বলতে হবেনা জাদু।আমি নিজেই বলেছি আমার এই মাহিকে বিয়ের বাঁধনে বাঁধতে কত কষ্ট হয়েছে।কতকিছু করে আমার মাহিকে পেতে হয়েছে তার সবকিছুই আমি ওকে বলেছি।
মাহিঃসব?
আশফিঃসব।
চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here