বিসর্জন  প্রথম পর্ব

0
550

বিসর্জন
প্রথম পর্ব

বাবার জন্য আজ টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিলাম।মনের কাছে,বিবেকের কাছে হেরে গেলাম আমি।

ছোট বেলায় যখন বাবার কাছে কোন প্রয়োজনে টাকা চাইতাম বাবা টাকা ঠিকই দিত কিন্তু বাবার হিসাবের খাতায় টাকার পরিমাণটা লিখে রাখতেন।একদিন খুব আগ্রহ নিয়ে বাবাকে জিগ্যেস করলাম।বাবা আমি তোমার কাছে টাকা চাইলে তুমি আমাকে টাকা দাও ঠিকি কিন্তু ওটা আবার হিসাবের খাতায় লিখে রাখো কেন ?

বাবা বলল,,,,

– এই যে তোকে এত এত টাকা খরচ করে পড়াশোনা করাচ্ছি সে গুলি তোর থেকে আবার আদায় করে নিতে হবে না।এখন যদি আমি হিসাবের খাতায় হিসেবটা তুলে না রাখি তাহলে তো মনে থাকবে না কোন দিন তোকে কত টাকা দিয়েছি।

এতদিন শুধু মানুষের মুখে মুখেই শুনতাম আমার বাবা নাকি খুব কৃপণ।কিন্তু সেদিন বাবার কথা শুনে মনে হল মানুষ ভুল কিছু বলে না।

গতকাল একটা চাকরির ভাইবা ছিল।সব কিছুই ভালো ছিল।তারপরেও চাকরিটা আমার হবে না।এই রকম ঘটনা এর আগেও বহুবার ঘটেছে।ভাইবা ভালো দেবার পরেও চাকরি হয় নি।

এবার অফিসের একজন বলল,ভাই এভাবে চাকরি হবে না।চাকরি পেতে হলে খরচ করতে হবে। খুব কম করে হলেও “দশ” লক্ষ,পারলে বলেন।আর পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা টা দিতে হবে। তাহলে আপনার চাকুরী হয়ে যাবে। আপনার রেজাল্ট ভালো আছে।

আমিও কি যেন মনে করে রাজী হয়ে গেলাম।কিন্তু আমার কৃপণ বাবা আমাকে এতগুলি টাকা দিবে কি না এটা একবারও ভেবে দেখলাম না।কিছু না ভেবেই ওনার কথাই রাজী হয়ে গেলাম।তারপর ওনার থেকে পাঁচ দিন সময় নিলাম।

রাতে আমার এক বড় ভাইকে বিষয়টা জানালাম।উনি বলল, দেখি কি ব্যাবস্থা করতে পারি।আরও কয়েক জনের সাথেও এই ব্যাপারে কথা বললাম।সাবাই একই কথা বলল,,,দেখি কি করতে পারি।

পরের দিন বাড়িতে এসে বাবাকে বিষয় টা জানালাম।আমার সব কথা শুনার পরে বাবা বলল,,,

– তোমার পেছনে আমি ইতিমধ্যেই অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত এক টাকাও রির্টান দিতে পারোনি তুমি।তাই তোমাকে আমি আর কোন টাকা পয়সা দিতে পারবো না।

বাবার কথা শুনে আমি হতাশ হয়ে গেলাম।বাবা যদি আমাকে টাকা না দেয় তাহলে তো চাকরিটা আমি পাবো না।আর এত গুলি টাকা তো কেউ আমাকে ধার হিসেবে দিবে না।টাকার চিন্তায় চিন্তায় সারাদিন কেটে গেল তাও কোন উপায় বের করতে পারলাম না।

রাতে না খেয়েই শুয়ে পরলাম।বাবা রাতে আমার রুমে এসে দেখে লাইট অফ করে অন্ধকার ঘরে শুয়ে আছি।বাবা লাইট অন করে আমার বিছানায় বসে বলল,,,

– তুই যতই মন খারাপ করে শুয়ে থাকিস না কেন। আমি তোকে কোন টাকা দিতে পারবো না।তবে,,,তুই যদি বলিস তাহলে আমি অন্য ভাবে তোর টাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারি।

বাবার কথা শুনে আমি শুয়া থেকে উঠে বললাম কিভাবে ?

– তোর এই ব্যাপারে আমি একজনের সাথে কথা বলেছিলাম।সে আমাকে বলল তার খুঁজে এক লোক আছে ওনার নাকি অনেক টাকা আছে।ওনার দুইজন মেয়ে আছে,ওনার কোন ছেলে সন্তান নেই।তাই ওনি নাকি ভাল একটা ছেলে খুঁজছেন বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য।তুই তো ছেলে হিসেবে খুবই ভাল তুই যদি ওনার বড় মেয়েকে বিয়ে করিস তাহলে ওনি তোর চাকরির সব টাকা দিবে।

তুমি কি বলতেছ বাবা,,,আমি যৌতুক নিয়ে বিয়ে করব ?

– এটাকে যৌতুক বলে না।ওনার সব সম্পত্তি তো ওনার দুই মেয়েই পাবে।আর তুই তো ওনার মেয়েকে বিয়ে করবি।ওনি ওনার মেয়ে আর মেয়ে জামাইয়ের সুখের জন্যই টাকা টা দিবে তাহলে তুই নিতে আপত্তি করছিস না।

না বাবা।আমি যৌতুক নিয়ে বিয়ে করবো না।দরকার নেই আমার চাকরির।

– তুই যদি এই বিয়ে না করিস তাহলে এই বাড়িতে তোর কোন যায়গা হবে না।এখন ভেবে দেখ তুই কি করবি।

এই কথা গুলি বলেই বাবা চলে গেল।বাবার কথা শুনে আমি খুব চিন্তায় পরে গেলাম কি করবো এখন,,,


চলবে……

লেখক || Tuhin Ahamed

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here