বাসর রাত

0
3363

বাসর রাত
Writer:Tannoy( পিচ্ছি ফাজিল)
রিফাত ঘরে ঢুকতেই দেখতে পেলো একটি রাজকুমারী লাল বেনারসি পরে বসে আছে,রিফাত ঘরে ঢুকেই গলায় আওয়াজ দিলো।
–এ’হে,আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন??
–ওয়ালাইকুম আসসালাম, গরু কুরবানীর পর যেমন থাকে আমিও ঠিক তেমন আছি।
–হে হে হে,আমি ভাবতাম আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি রসিক মানুষ আমার থেকেও একজন রসিক মানুষ আছে তাহলে।আপনার সাথে বসতে পারি?
–কিনে যখন এনেছেন, বসতে দোষ কি??
–হা হা হা,আপনার মন খারাপ?
–আমার মনের কোনো দাম নেই রে ভাই,মনের দাম থাকলে আপনার কাছে বিক্রি হতাম না।
–ওহ বুঝতে পেরেছি,কেউ ছিলো বুঝি?যাক বাসর রাতে বউ এর লাভ স্টোরি শুনতে খারাপ লাগবেনা।দাঁড়ান আমি কফি বানিয়ে আনছি,আজকে রাতে গল্প করবো দুজনে।আপনি তিতা কফি খাইবেন?আমি তো তিতা কফি খাই।
–আমি বানিয়ে আনছি আপনি বসুন, আপনাকে কষ্ট করতে হবেনা।
রিফাত কিছুক্ষণ ভাবলো, মেয়েটাতে অদ্ভুত মায়া আছে।ভালোবাসার মানুষটাকে না পেলে মেয়েদেরকে কেমন দেখায়,আজকে তার প্রত্যক্ষদর্শী হলাম।
–এই নিন,আপনার তিতা কফি।আপনার মতই দেখতে,তিক্ততার ভাব আছে।
–এই তুমি কি বলছো,আমাকে এত বড় কথা বলতে মুখে আটকালো না??
–হে হে হে,কিনা জিনিশ তো তাই এমনভাবে কথা বলছেন।জানেন আমার সাথে ওই মানুষটা কখনো রাগ করতো না।

–কোন মানুষটা??
–ওর নাম রিমন,খুব ভালো ছেলে।চার ভাই বোনের মাঝে সবার বড় ছিলো,সুদর্শনের সব গুণ আল্লাহ্‌ ওকে দিয়েছে।শুধু আমাকে ছাড়া,আমি ওকে খুব রাগাইতাম। কখনো কখনো রাগ করে বলতাম,তোমার সাথে থাকা যাবেনা।ও খুব হিসেবী ছিলো,নিজের এটিচিউড এর উপর সবসময় অটল থাকতো।তবে ভাগ্যের পরিহাস, ছেলেটা নিম্ন মধ্যভিত্ত ঘরের ছিলো।ওর টিউশানির টাকা দিয়ে সংসার চলতো,আমাকে সংসার দাঁড় করানোর গল্প বলতো।
–আপনাদের প্রথম দেখা কিভাবে হয়?
–ও খুব সুন্দর ছিলো ,আমি প্রথম দেখাতে ওর প্রেমে পড়ে যাই।কলেজে একসাথেই পড়তাম,ক্লাসে ভালো ছাত্রদের মাঝে ও অন্যতম ছিলো।আমি ওর সাথে কথা বলতে গেলেও দাম পেতামনা,আস্তে আস্তে কথা হলো।কথা থেকে বন্ধুত্ব,পরে প্রেম।সব মিলেয়ে খুব ভালো সময় ছিলো।জানেন,ও এই দিনটার কথা বলতো সবসময়।
–কোন দিন?
–এই যে আমার সাথে অন্য কারো বিয়ে হবে,অন্য কারো সাথে বাসর হবে।আমি এইগুলো তে মোটেও কান দিতামনা,আমি বলতাম সবসময় আমি তোমারই থাকবো।কেউ আমাকে বিয়ে করতেই পারবো না,কিন্তু আজ সার্থপরের মত আপনার কাছে বিক্রি হয়ে গেলাম।
–আপনাকে ও বিয়ে করতে বলেনি??
–ও আগে সংসার দাঁড় করানোর কথা বলতো,ভাই বোনদেরকে লেখাপড়া করানো।ওদেরকে মানুষ করানো,চাকুরী ঠিক করা।আপনি জানেন,বাংলাদেশে মধ্যভিত্তদের জন্য চাকুরির বড্ড অভাব।অদ্ভুত বাস্তবতায় কাঁটা গেছে আমাদের ভালোবাসা।
–ওর, শেষ কথা কি ছিলো?
–ও আমাকে সুখী হতে বলেছে,ওর লেখা একটি ডায়েরী গিফট করেছে।বলেছে ও’কে যখনই মনে পড়বে, ডায়েরীটাতে তখন চোখ বুলাতে।
–আচ্ছা,আপনি আমার বন্ধু হবেন?আমার এমন কোনো প্রেম ছিলো জীবনে,পড়াশুনা শেষ করেই বাবার ব্যবসায় হাত দিলাম।আজ আমি পাক্কা ব্যবসায়ী, কিন্তু আমার কোনো বন্ধু নেই।
–বন্ধু হবো তবে আমাকে খুব ভালোবাসতে হবে,বন্ধুর মত আচরণ করতে হবে।গান শুনাতে হবে,রোজ রাতে গল্প করতে হবে।
–তোমাতে অদ্ভুত এক মায়া আছে,যে কেউ তোমার মায়ায় পড়ে যাবে।তোমার ওই প্রিয় মানুষটার মত হয়তো ভালোবাসতে পারবো না,কিন্তু বন্ধুর মত ভালোবাসতে পারবো।
–আপনি কাঁদছেন কেন?হে হে, কাঁদলে পুরো আবুল আবুল লাগে।
–অনেকদিন পরে কাঁদলাম তো তাই,মেয়েদের মত আমার এত কাঁদার অভ্যাস নেই।
–এই, তুই কি বললি??
–হে হে হে,ভুল হইয়া গেছে বইন।
–তুই ওইদিকে তাকাইয়া ঘুমা,আমি এই দিকে তাকাইয়া ঘুমাই।
–ওকে,শুভ রাত্রি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here