বসের সাথে প্রেম পর্ব-৩৩(অন্তিম পর্ব)

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-৩৩(অন্তিম পর্ব)

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ঠিক বুঝতে পারলাম না…
বউ পালাইছে মানে???(জয়া)
_ মানে আর কি? পালাইছে মানে পালাইছে।(বিজয়)
_ একটু খুলে বলবেন তো। কিভাবে কি হয়েছে???(জয়া)
_ হয়েছে আর কি…
নুসরাত আমায় বিয়ে করবে না জানিয়ে দিয়েছে।(বিজয়)
— মানে? কেন???(জয়া)
_ ওকে নাকি শুনেছে একটা মেয়ে আমায় ভালোবাসে। ভিষণ ভালোবাসে। এখন ওর একটা কথা। ও আমায় বিয়ে করবে না। আমাকে এখন ঐ মেয়েকে’ই বিয়ে করতে হবে, যে আমায় ভালোবাসে।(বিজয়)
__ তাই বলে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে…(….)…???(জয়া)
_ হউক বিয়ে ঠিক, তাতে কি? বিয়েটা তো হয়ে যায় নি। তাই আমি ঠিক করেছি আমি তাকে’ই বিয়ে করব, যে আমায় ভালোবাসে…(বিজয়)
_ তা কে সেই সুভাগ্যবতী রমনী….???(জয়া)
_ যদি বলি আপনি….(বিজয়)

– আ…আ… আ… মিিিি….
কি ব ব বলছেন এইসব???(জয়া)
_ জি তুমি….(বিজয়)

কথা’টা শুনে জয়া পিছিয়ে যেতে থাকে আর বিজয় জয়ার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। রাস্তার মানুষজন হা করে তাকিয়ে রুমিও জুলিয়েটের প্রেমের এই রোমান্টিক দৃশ্য দেখছে আর হাসছে। কেউ বা বলাবলি করছে-
” কি যুগ আইলোরে ভাই…
লজ্জা শরম সব উইঠা গেল।”
বিজয় কিংবা জয়া যেন কেউ সেসব শুনছে না। ওরা একজনের দিকে আরেকজন ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে যেতে যেতে ওরা রাস্তার খুব কাছে চলে যায়। আর একটু হলে গাড়ি ওদের ধাক্কা দিয়ে চলে যেত। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যায় ওরা। কেউ একজন খুব জোরে সোরে জয়াকে ধাক্কা দেয়। জয়া হুমড়ি খেয়ে বিজয়ের উপর গিয়ে পরে। এ যেন এক মধুর দৃশ্য। একজন আরেকজনের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। এদিকে অজ্ঞাত যে লোক’টা জয়াকে ধাক্কা দিয়েছিল সে সহ সব মানুষ বিজয়-জয়ার পাশে ভীড় জমায়। বিজয় মাটিতে পরে আছে আর তার উপর জয়া। বিজয় জয়াকে আঁকড়ে ধরে আছে। ঠিক তখনি কেউ একজন পাশ থেকে বলে উঠে__
” পাবলিক প্লেসে এভাবে বেশীক্ষণ শুয়ে থাকলে চরিত্রের উপর লাল দাগ লেগে যাবে।”
— জয়া ধড়মড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়। বিজয়ও কালক্ষেপণ না করে উঠে দাঁড়ালো। বিজয় লোক’টার দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে যাবে ঠিক তখন’ই থমকে যায় সে। একি…
নুসরাত? তুমি???
_ হুম, এসেছিলাম পাগলা-পাগলীর শুভ পরিণয়ের সাক্ষী হতে। এসে দেখা হয়ে গেল এই ভাইয়া’টার সাথে। (নুসরাত)
__ আমার যদি ভুল না হয় আপনি নুসরাতের কলেজের সেই সিনিয়র ভাইয়া পিয়াস। কি??? আমি কি ঠিক বলছি জনাব…(…)….???(বিজয়)
_ পিয়াস। ঠিক ধরেছেন আমি সেই পাগলাটে ছেলে পিয়াস।যার কাজ ছিল মেয়েদের পিছনে ঘুরঘুর করা….(পিয়াস)
_ মেয়ে নয় বলেন নুসরাতের পিছনে। হা, হা, হা….(বিজয়)
__ নুসরাত?!!!??
তুমি সব ভুলে দিয়েছ???(পিয়াস)
_ হুম…☺☺(নুসরাত)
__ ওহ, মাই গড!
তুমি আর মানুষ হলে না…(পিয়াস)
_ জনাব পিয়াস সাহেব!
এবার তো আপনি এসে গেছেন। এবার আপনি’ই না হয় মানুষ করেন। কি বলো জয়া???(বিজয়)
__ জয়া চুপ।
__ এসেছিলাম বিয়ে খাইতে। মনে হচ্ছে ফেসে যাব। এক উড়নচন্ডী বালিকাকে বিয়ে করে বাসায় ফিরতে হবে….??(পিয়াস)
_ আমি উড়োনচন্ডী???
হুহ্! যান। বিয়ে করতে হবে না। আমি চিরকুমারী’ই থাকব।(নুসরাত)
_ ওরে আমার চিরকুমারী! তোমায় থাকলে দিলে তো…কাল রাত্রে’ই কুমারীত্ব ঘুচে যাবে.!….???(পিয়াস)
_ আপনি এত্ত খা…(..)…(নুসরাত)

নুসরাত ওনাকে নিয়ে বাসায় আসো। পাবলিক প্লেসে এসব কথা বার্তা বললে মানুষ কি ভাববে…☺☺
আর জয়া চলো….(বিজয়)
__ আমি আমার বাসায় যাব।(জয়া)
_ কেন???(বিজয়)
___ আম্মু অসুস্থ, তাই…(জয়া)

জয়া আমি কিন্তু সব জানি।
তুমি এখন পালাতে চাচ্ছো। অসুস্থ্যতা সেতো অজুহাত…
কথা’টা বলতে না বলতে’ই বিজয় অবাক বিস্ময়ে সামনে গাড়ির দিকে তাকালো। গাড়ি থেকে চেনা একজন মহিলা নামছে। বিজয়ের মনে হলো এই সেই মহিলা যাকে চিকিৎসার টাকা দিয়ে এসেছিল বিজয় আজ থেকে ছয় বছর আগে। বিজয়ের এভাবে তাকানো দেখে জয়াসহ অন্যান্যরাও পিছনে তাকালো। জয়া একবার তাকিয়ে দৌঁড়ে গেল ঐ মহিলাটির কাছে।
– মা তুমি???
__ হ্যাঁরে! মায়া কলের পর কল দিচ্ছে গত একটা সপ্তাহ ধরে। ওর ভাইয়ার নাকি বিয়ে, আমাকে বিয়েতে যে করে’ই হোক নাকি থাকতে হবে। এত করে বলতেছে তাই না এসে পারলাম না।(মা)

জয়া ওর মাকে জড়িয়ে ধরল। একবছর পর মাকে আবার দেখল। আনন্দে জয়া কেঁদে ফেলল। বিজয় জয়ার মায়ের কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করল। তারপর বাসায় নিয়ে গেল জয়ার মাসহ সবাইকে।
বাসায় গিয়ে সবটা খুলে বলল বিজয় ওর হবু শাশুড়িকে। হবু শাশুড়িতো খুশিতে লাফিয়ে উঠল। ওনার চোখ থেকে দু’ফোঁটা আনন্দঅশ্রু গড়িয়ে পরল।
পরদিন একই সাথে দুটো বিয়ে হয়। একদিকে পিয়াস এবং নুসরাত, অন্যদিকে বিজয় এবং জয়ার। নুসরাত এবং জয়া একই সাথে বধূবেশে একই বাসায় ছিল। বিজয় বরযাত্রী নিয়ে নুসরাতের বাড়ি থেকে ওর প্রাণপাখি জয়াকে নিয়ে আসে আর নুসরাত চলে যায় ইঞ্জিনিয়ার পিয়াসের সাথে ওর বাসায়।

রাত্রের কথা বলছি_
মায়া চুপচাপ বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। গত রাত্রে সিয়ামের সাথে একটু ঝগড়া হয়ছিল। খুব সামান্য বিষয় নিয়ে সে ঝগড়া। গতকাল মায়া সিয়ামকে বলেছিল একটু তাড়াতাড়ি’ই কাজ সেরে চলে আসতে, ওকে নিয়ে ঘুরতে যাবে, কিন্তু কাজের চাপে সিয়াম ভুলে গিয়েছিল মায়াকে দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা। ব্যস, এতে’ই হয়ে গেল।
সেই থেকে মহারানী গাল ফুলিয়ে আছে।
__ মণিকে ঘুম পাড়িয়ে সিয়াম ধীর পায়ে মায়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। মায়া বুঝতে পেরে বারান্দা থেকে একটু দুরে সরে যায়।
সিয়াম আস্তে আস্তে মায়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। মায়া এবারও আরেকটু সরে যায়। সিয়াম আরেকটু এগিয়ে যায়। মায়া আবার সরে যায়।???

সিয়াম এবার সরে গিয়ে মায়ার কাঁধে হাত রাখে। ???
__ মায়া সিয়ামের হাত’টা দুরে ছুড়ে মারে। ??
অতঃপর হনহনিয়ে বারান্দা থেকে বের হয়ে ছাদের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে।??
__ সিয়ামও বউয়ের পিছুপিছু ছুটতে থাকে।☺☺☺
__ মায়া গিয়ে ছাদের এককোণে দাঁড়ায়। অতঃপর মনোযোগ দেয় আকাশে ভেসে বেড়ানো একরাশ মেঘকণার দিকে। মায়া যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘেদের ছুটে চলা দেখতে ব্যস্ত ঠিক তখনি সিয়াম মায়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে স্যরি বলে। মায়া হেঁচকা টান দিয়ে নিজেকে সারিয়ে নিয়ে ছাদের অপর পার্শ্বে চলে যায়। সিয়াম মায়ার পিছুপিছু সেখানেও যায়। জড়িয়ে ধরে মায়াকে পিছন থেকে। মায়া ছাড়াতে চাইলে সিয়াম আরো নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে মায়াকে।??

মায়া শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে যখন সিয়ামের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে যাচ্ছিল ঠিক তখনি সিয়াম ওর হাত দুটো মায়ার পেটের দিকে নিয়ে যায় আর নাক দুটো ডুবে যায় মায়ার চুলের গহীন দেশে। ??
সিয়াম মায়ার চুলে নাক-মুখ গোজে চুলের মিষ্টি ঘ্রাণ নিচ্ছে আর দু’হাত দিয়ে মায়ার পেটে হাত বুলাচ্ছে। মায়া তবুও ছাড়ানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছে। সিয়াম এবার মায়ার ঘাড়ের চুলগুলো সরিয়ে নাক-মুখ ঘষতে থাকে মায়ার ঘাড়ে। মায়া যেন এবার কুপোকাত হয়ে’ই যাবে।??
সিয়াম যখন মায়ার ঘাড়ে এলোপাথাড়ি ভাবে চুমু দিতে থাকে, তখন মায়া ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে চোখ বোজে। সিয়াম মুচকি হাসি দিয়ে মায়াকে ওর দিকে ফিরিয়ে নিলে মায়া চোখ খুলে, সিয়ামের মুখ যখন ওর ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে তখন আবারো বন্ধ করে ফেলে চোখ দু’টো। মুহূর্তে’ই সিয়ামের দু’টো ঠোঁট গ্রাস করে নিল মায়ার ঠোঁটজোড়াকে। এভাবে কিছুক্ষণ অমৃতরস পান করার পর একটা সময় মায়া উন্মাদ হয়ে যায়। ঝাপটে ধরে সিয়ামকে। সিয়াম কোলে করে মায়াকে নিচে নিয়ে যায়। অতঃপর_

অতঃপর কি হয়ছে জানতে চাহিয়া লজ্জা দিয়েন না। আমি চিটার কিন্তু নির্লজ্জ নহে। আমারো লজ্জা আছে……

যায় হোক…
সব কথার এক কথা সিয়াম-মায়ার টুনা-টুনির সংসার এভাবে’ই ছোট্ট ছোট্ট মান-অভিমান, হাসি-আনন্দ, দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটির ভেতর চলতে থাকে। বেশ ভালো’ই আছে ওরা। দোয়া করিও, ওদের এ সুখ যেন সারাটা জীবন এমনি থাকে…..

♦আল্লাহ হাফেজ♦

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here