বসের সাথে প্রেম পর্ব-১৯

বসের সাথে প্রেম
পর্ব-১৯

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

সেদিন সিয়ামকে বহুকষ্টে কন্ট্রোল করে আতিক-লিজা ওকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে। বাসায় পৌঁছে সিয়াম কারো সাথে একটা কথাও বলে নি। রাত ৮টা। সবাই যে যার রুমে। সিয়াম ঘুরে ফিরে শুধু মায়াকে খুঁজতেছে কিন্তু ওকে পাচ্ছে না। যেই মায়ার জন্য বন্ধুদের এত্ত এত্ত কথা শুনতে হলো আজ সেই মায়াকেই সিয়াম হন্যে হয়ে খুঁজছে। ওর জন্য ভেতরটা কেমন কেমন যেন লাগছে। বুকের ভেতর কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগছে। সিয়াম একবার সোফায়, আরেকবার বিছানায়, আরেকবার বারান্দায় যাচ্ছে। ওর এভাবে পায়চারী করাটা সাইমার নজরে পরে। সাইমা হঠাৎ করে সিয়ামের কানের কাছে এসে বলে,
-কিরে?!!!!
সিয়াম ভরকে যায়। চমকে গিয়ে পিছু ফিরে?!!!

~Omg!ভয় পেয়ে গেছিস?(সাইমা)।

– না….গম্ভীর গলায় সিয়াম জবাব দেয়।

~এভাবে পায়চারী করছিস কেন?আর তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?তোর কিছু হয়েছে?(সাইমা)

-………….সিয়াম তখনও গম্ভীর হয়ে পায়চারী করছে কোনো কথার জবাব না দিয়ে…..

ঐ ছেলে ঐ….
কি হয়েছে………?!!!সাইমা জোরে চেঁচিয়ে প্রশ্ন’টা করে সিয়ামকে….

চেঁচিয়ে এখন ভয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে গালে কিছু পরার আশায় আছে।
I mean চড় জাতীয় ভিটামিন খাওয়ার আশায়। কিন্তু একি?!!!
গালে যে এখনও কিছু পরছে না। সাইমা এবার স্বাভাবিক হয়ে উপরের দিকে তাকালো। তাকিয়ে যা দেখল তাতে শিউরে উঠল সাইমা। ওর থেকে ক্ষাণিকটা দুরে’ই মায়ার রুম। সিয়াম সেই রুমের’ই জানালার পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে আছে আর অঝোরে সেই চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পরছে। সাইমার ভেতরটা ধুকপুক করছে প্রাণের ভাইয়ার চোখের জল দেখে। এগিয়ে যায় সিয়ামের দিকে। হাত রাখে সিয়ামের কাঁধে। সিয়াম চমকে উঠে তাকিয়ে অন্যদিকে ঘুরে পরে সাইমাকে দেখে। তারপর চোখের জলটুকু তাড়াতাড়ি মুছে নেয়। সাইমা সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সিয়াম যেন বোনের চোখের দিকে তাকাতেই পারছে না। বহুকষ্টে বোনের চোখের দিকে তাকিয়ে জোর করে মৃদু হাসি দিল। সাইমা জানে এটা ভাইয়ার বাহ্যিক ভাবে প্রর্দশনের হাসি, ওকে দেখানোর হাসি।অন্তরের হাসি নয়….
সাইমা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পেরেছে যে পাগলা-পাগলীর মধ্যে নিশ্চিত কোনো ঝামেলা হয়েছে। সিয়ামকে জিজ্ঞেস করলে এখন কিছু বলবে না সেটাও বুঝে গেছে সাইমা। তাই সাইমা কোনো কথা না বলে চলে যায় ওখান থেকে। ও জানে যায় হোক, মায়া মিথ্যে বলবে না। মায়া ঠিক ওকে সত্যি’টা বলবে….

রাত্রে খাওয়ার সময় দুষ্টু সাইমার নজর শুধু ভাই সিয়াম আর পরাণের বান্ধবী মায়ার দিকে ছিল। একবার মায়া আরেকবার সিয়ামের দিকে তাকাচ্ছে সাইমা….
ব্যপারটা সাইমার গোয়েন্দা শ্বশুর লক্ষ করে। ওনিও খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে একবার মায়া আবার সিয়ামের দিকে তাকাচ্ছে।

শ্বশুর-বউয়ের খাওয়া রেখে এই এদিক-ওদিক করাটা সাইমার মায়ের নজরে পরে….
ওনিও চুপচাপ ওদের অনুসরন করে সিয়াম-মায়ার দিকে দৃষ্টি দেয়।???
~ বউয়ের খাওয়ার মধ্যে এই উদাসীন মনোভাব রাজনৈতিক ও চালাক-চতুর ব্যক্তি জনাব আশিকুর রহমান সাগরের নজরে পরে।✌✌
ওনিও স্ত্রীকে অনুসরন করে করে’ই সিয়াম-মায়ার দিকে নজর দেয়।☺☺
– এদিকে খাবার টেবিলে থমথমে ভাব দেখে, ব্যপারটা বউকে বলার জন্য বউয়ের দিকে তাকাতেই আবিষ্কার করে দুইটা কপোত-কপোতীকে ঘীরে আছে এত্তগুলা গোয়েন্দা চোখ। আবির কথা না বলে ওর মাকে ইশারা করে বিষয়’টা দেখায়। আবিরসহ ওর মায়েরও দৃষ্টি তখন একজোড়া কপোত-কপোতীর দিকে….??যারা খাবার সামনে থাকা সত্ত্বেও তা মুখে পুরেনি। কিছু লাগবে কি না জিজ্ঞেস করতে এসে রোকসানা-কবিরও থমকে দাঁড়ায়।??
কবির রোকসানার পায়ে খোঁচা দিয়ে রোমান্টিক সিনটা দেখায় চোখের ইশারায়….
দু’দুটি কাজের লোকসহ এখানে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি যখন একজোড়া কপোত-কপোতীর দিকে, তখন অবধী সিয়াম কিংবা মায়া কেউ জানে না ওদের ঘীরে আছে কতগুলো কৌতূহলী চোখ……??

পূর্বের ন্যায় এখনো মায়া খাবার মুখে দেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে তাতে হাত বুলাচ্ছে আর সিয়াম খাবার স্পর্শ না করে সেদিকে তাকিয়ে আছে….??

ব্যাটা তাকিয়ে আছে তো আছে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যে আশেপাশে যে আরো অনেকগুলো প্রানী আছে কিংবা ওরা যে জিজ্ঞাসো দৃষ্টি নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে সেদিকে খেয়াল নেই…. ?

এদিকে রাধা কৃষ্ণের বিহনে খাবারে হাত রেখে বসে গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে গেলেও সেটা ভঙ্গ হয়। রাধার কেন জানি মনে হচ্ছিল একজোড়া চোখ আর একটি হৃদয় ওকেই ডাকছে। রাধা ধ্যান ছেড়ে কৃষ্ণের দিকে আড়চোখে তাকাই। একি?!!!
– ওনি না খেয়ে বসে আছেন যে?!!!??
~হঠাৎ’ই রাধার মনে পড়ে যায় কৃষ্ণের বলা সেই কথা’টা-
মায়াপরি! আর যায় হোক কখনো খাওয়া নিয়ে রাগ করো না। প্রমিজ করো আমায়, আমার মধ্যে যতকিছু হয়ে যায় কখনো খাবার নিয়ে রাগ করবে না?!!! ??
-সেদিন রাধা-কৃষ্ণের গা ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে যায় হোক খাবার নিয়ে রাগ করবে না। খাবার সময় ঠিক খেয়ে নিবে। রাধা দৃষ্টি ফিরিয়ে নেই কৃষ্ণের থেকে। তাড়াতাড়ি ভাত মেখে মুঠোর পর মুঠো তা মুখে পুরে দিতে থাকে। একের পর এক মুঠো করে ভাত মুখে দিচ্ছে বিরামহীনভাবে রাধা যে পানি খাওয়ার সময়টুকু পর্যন্ত হয়নি। মুঠোর পর মুঠো মুখে দিতে গিয়ে একটা সময় রাধার গলায় গিয়ে ভাত আটকে যায়। গলা থেকে যখন অদ্ভুত আওয়াজ হচ্ছিল তখন কৃষ্ণের ধ্যান ভঙ্গ হয়। পানির গ্লাস হাতে নিয়ে ছুটে যায় রাধার কাছে। মুখের কাছে গ্লাস নিয়ে গেলে ঢকঢক করে তা খেতে থাকে রাধা। রাধার পানি খাওয়া হলে মনে হয় কেউ যেন ওকে পানি দিয়েছিল পিছন থেকে। রাধা পিছনে তাকাই।

~রাধা-কৃষ্ণের দৃষ্টি যখন একে-অপরের দিকে ঠিক তখন’ই সাইমার শ্বশুর বলে উঠে এক গ্লাসে’ই হয়ে গেছে….?!!!☺☺☺

~রাধা- কৃষ্ণ চমকে যায়….
ফিরে তাকাই টেবিলের দিকে…..
সবাই তখন হি হি করে হাসছে…..
একে একে সবার দিকে তাকাই সিয়াম-মায়া। সবার মুখে’ই মুচকি মুচকি হাসি। অবাক দৃষ্টি নিয়ে রোকসানা-কবিরের দিকে তাকিয়েও চমকে যায় দুজনে। ওরাও মুখ টিপে হাসছে তখন….

হাসবেই না কেন?!!!
রাধা-কৃষ্ণের এমন লীলা দেখে হাসবে না এটা কি হয়?!!!হয় না….
ওরা আসছে। হেসেই যাচ্ছে।প্রথমে আস্তে পরে জোরে জোরে….সবাই একসাথে হি হা হা করে উঠে….

-সিয়াম সাইমাকে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে?!!!
সাইমার শ্বশুর সিয়ামকে হাত ধরে ওনার পাশে বসাতে বসাতে বলে_
” আগে বসো তুমি বাবা…
আমি বলছি…..”

এদিকে সিয়ামের বাবা বারবার সাইমার শ্বশুরের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু ওনি আজ পাকাপোক্ত করে ফেলেছে মনে মনে। আজ ওদের বিয়ের কথা সামনাসামনি’ই বলে দিবে। চমকে দিবে দু’জনকে….

~’ রাধা-কৃষ্ণের এত বিহন আর যে প্রাণে সইছিল না সাইমার গোয়েন্দা শ্বশুরের….

-‘ সিয়ামের কি হয়েছে কথার জবাবে মুখ বলেই ফেলল,
হয়নি, হবে!
সিয়াম-মায়া অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করে, কি হবে?!!!

অনেকদিন চুপ ছিল, আজ আর চুপ থাকতে পারল না সিয়ামের বাবা। ওনি মুখ ফসকে বলেই ফেললেন,
বিয়ে হবে….
তোদের বিয়ে হবে…!!!

-সিয়াম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে__
বিয়ে?!!!
কখন?কার সাথে???

– এত ন্যাকামো করছিস কেন? বুঝতে পারছিস ননা কি বুঝাতে চাচ্ছেন ওনারা?!!!তোদের বিয়ে হবে। তোর সাথে মায়ার বিয়ে হবে….!!!(মা)

-কি?!!!???(সিয়াম)
~জি…..✌✌(সাইমা)।।

সিয়াম-মায়া হতবাক….
বোকার মত একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছে….

চলবে………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here