ফুলশয্যা_সিজন(০৩) পর্ব- ১৭

ফুলশয্যা_সিজন(০৩)
পর্ব- ১৭
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

ফারহানাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে অফিস পানে ছুটে যায় শুভ। অফিসে গিয়ে ক্লান্ত দেহটাকে চেয়ারে এলিয়ে দেয়। মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করছিল শুভর। হাতের কাছেই ড্রয়ার ছিল। যার ভিতরে রাখা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু ঔষধ পত্র। সেখান থেকে ব্যথার একটা ট্যাবলেট খেয়ে নেয় শুভ।
মিনিট ত্রিশেক অতিক্রম হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে ব্যথাটা সেরে গেছে পুরোদমে। কিন্তু ভিতরে কেন এরকম লাগছে? বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় শুভ।
পায়চারী করতে থাকে রুম জুড়ে। আজ তো একটা দু’মুখো সাপের বিষ দাঁত ভেঙে ঘুরিয়ে দিয়েছি। আর কখনো ছোবল বসাতে পারবে না আমার পরিবারের কারো উপর। আজ তো আমার সুখের দিন। সুখ সাগরে ভেসে যাওয়ার দিন। কিন্তু এরকম লাগছে কেন আমার? সুখে আত্মহারা হওয়ার বদৌলতে ভিতরে অস্থিরতা কেন বিরাজ করছে? আমার জীবনে তো আজ সব, সব আছে। তারপরও কিসের এত শূন্যতা? উফফ, এমন কেন লাগছে আমার?
অজানা এক যন্ত্রণায় চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে শুভ। রুমে ঢুকে ম্যানেজার। জানতে চায় উদাসীনতার কারণ। জবাবে শুভ জানায়- শরীরটা বড্ড খারাপ লাগছে, চাচা! আমি আর থাকতে পারছি না এখানে। বাসায় যেতে হবে আমার। আপনি কি এদিকটা একটু সামলাতে পারবেন?
ম্যানেজার শুভকে নির্ভয় দিয়ে বাসায় গিয়ে রেস্ট নিতে বলেন। শুভও পরম নিশ্চিন্তে বাসার উদ্দেশ্যে গাড়িতে করে রওয়ানা দেয়।

হন্যে হয়ে গাড়ি চালাচ্ছে শুভ। মাঝ রাস্তায় কি মনে করে যেন গাড়িটি নিয়ে ডানে মোড় নেয়। নুহাদের কলেজ গেইটের সামনে এসে গাড়ি থামায় শুভ। গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়।
ইতস্তত শুভ কলেজ গেইটের সামনে পায়চারী করছে। যদিও এটা নুহার কলেজ তথাপি আজই প্রথম এসেছে এখানে। কিভাবে, কি কারণে নুহার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে সেটাই বুঝতে পারছে না শুভ। এদিকে পূর্ব পরিচিত কেউ নেইও এই কলেজে, যাকে দিয়ে নুহাকে খবর পাঠাবে।
ব্যর্থ মনোরথ নিয়ে ফিরে আসছিল শুভ। পিছন থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে। “আসসালামু আলাইকুম, স্যার….”
থমকে দাঁড়ায় শুভ। সালামের সঠিক জবাব দিয়ে পিছু ফিরে তাকায়….
– তুমি?
— জ্বি, স্যার! কেমন আছেন?
– এইতো আলহামদুলিল্লাহ!
— স্যার এখানে কি জন্য এসেছেন?
– আমার একটা হেল্প করবা?
— জ্বি, স্যার বলুন…
– তুমি তো এই কলেজেই পড়ো, না?
— জ্বি, স্যার!
– কিসে পড়ো জানি?
— ম্যাথে অনার্স করতেছি। ২য় বর্ষ স্যার।
– গুড।
— স্যার কি হেল্প বললেন না তো…
– আসলে তোমাদের কলেজে ১ম বর্ষে এবার একটা মেয়ে ভর্তি হয়েছে। নুহা নাম তার। ও আমাদের রিলেটিভ। তুমি যদি একটু ওকে ডেকে দিতে…
— স্যার, কিসের পড়ে ও? ইন্টারে?
– হ্যাঁ, হ্যাঁ! সাইন্সের স্টুডেন্ট। নাম নুহা….
— আচ্ছা, স্যার। আমি এখনি ডেকে দিচ্ছি।
– ঠিক আছে।

কথা হচ্ছিল শুভর সাথে ওর স্টুডেন্ট তানহার। একটা সময় তানহা এবং তার বান্ধবীরা শুভর কাছে উচ্চতর গনিত প্রাইভেট পড়তো। পরিচয়টা সেখান থেকেই।
মিনিট সাতেক পর ফিরে আসে তানহা। তানহাকে দেখে প্রশ্ন করে শুভ, কই? পেয়েছ?
মুখে মলিন হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে তানহার জবাব, স্যার! নুহা বলে কোন মেয়ে সাইন্সের গ্রুপে নেই। তবে আদিরা মাহমুদ ‘নুহা’ নামের একজন আছে।

– আদিরা? হ্যাঁ, হ্যাঁ! নুহা’ই আদিরা। কোথায় ও?
— স্যার ও আসেনি আজকে?
– আসেনি???
— ওর সহপাঠীরা তো সেটাই বলল।
– আচ্ছা, ঠিক আছে। তুমি এখন আসতে পারো।
— ঠিক আছে, স্যার! আসসালামু আলাইকুম।
– ওয়ালাইকুম আসসালাম।

কলেজ গেইট দিয়ে ভেতরে চলে যায় তানহা। প্রচন্ড এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গাড়িতে উঠে বসে শুভ। আশেপাশে আরো একবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে স্টার্ট দেয় গাড়ি।
আঁখির কলেজের সামনে দিয়েই যাচ্ছিল। চোখ আটকে যায় অদুরে দাঁড়িয়ে থাকা আঁখির দিকে। যার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে একদল বখাটে। রাগে দিগ্বিদিক শূন্য শুভ গাড়ি থেকে নেমেই এলোপাথাড়ি ভাবে কয়েকটা কিল ঘুসি বসিয়ে দেয় এক বখাটের পেটে, বুকে। ‘ এইরে! আশিক স্যার’ বলেই দৌঁড়ে পালিয়ে যায় বাকি বখাটেরা। মাইর খেয়েছে যে বখাটে সবশেষে সে বিনীত ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে আঁখি এবং একসময়কার স্যারের কাছে মাফ চেয়ে সে স্থান পরিত্যাগ করে।
আঁখির দিকে ফিরে তাকায় শুভ। উঁচু গলায় বলে উঠে, দাঁড়িয়ে কেন আছিস? আর কিসের শুটিং দেখানোর বাকি আছে?
নিশ্চুপ আঁখি দ্রুত গাড়িতে গিয়ে বসে। শুভর ভয়ানক চেহারা দেখে ভয়ে রীতিমত কাঁপছে সে। ভিতরে প্রচন্ড রাগ পুষে রেখে গাড়ি স্টার্ট দেয় শুভ। গাড়ি চলছে। প্রচন্ড দ্রুতগতিতে গাড়ি চলছে সম্মুখপানে। না জানি এক্সিডেন্ট হয়ে যায় সেই ভয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করে আঁখি। বিলাপ করে বলতে থাকে- ‘ভাইয়া! প্লিজ আস্তে চালা গাড়ি। প্লিজ ভাইয়া, প্লিজ…’
নিরাপদ স্থানে গিয়ে জোরেশোরে ব্রেক কষে শুভ। রাগান্বিত দৃষ্টিতে ফিরে তাকায় আঁখির দিকে।
ভয়ে ঢোক গিলে আঁখি। আমতাআমতা স্বরে প্রশ্ন করে শুভকে- ‘কি হলো? এভাবে বড় বড় চোখে আমার দিকে কেন তাকিয়ে আছিস?’

– বোরকা ছাড়া তোকে বাসা থেকে বের হওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে?
— কে মানে? কি বলছিস তুই এসব?
– বোর…কা ছা…ড়া তু…ইইই কেন এসে….ছিস?
— ক্ষেপে যাচ্ছ কেন?
– প্রশ্নের বদলে প্রশ্ন নয়, উত্তর দে…
— ভাইয়া! পরীক্ষা চলছে। কলেজ ড্রেস না পরে আসলে গেইটের ভেতর ঢুকতে দেয় না।
– কিসে পড়িস তুই?
— অনার্স ২য় বর্ষে।
– অনার্স ২য় বর্ষ পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বোরকা পরার অপরাধে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এরকম রেকর্ড কখনো হয়েছে?
— নাহ…কিন্তু….
– একদম কিন্তু কিন্তু করবি না। কাল থেকে বোরকা পরে আসবি।
— তোর কি মনে হয়? বখাটেদের বাজে মন্তব্যের জন্য এটাই দায়ী?
– সেটা নয়।
— তবে?
– নুহাকে অনুসরন কর।
— মানে কি?
– নুহা তথা ইসলামিক জীবনাদর্শ অনুসরন কর। এতে শুধু ইহজাগতিক কল্যান নিশ্চিত হবে না। অর্জন করতে পারবি তুই মৃত্যুর পরের জগতের জন্য পাথেয়।
— ভাইয়া, তুই অনেক বদলে গেছিস।
– হু, নুহাও বলে।
— কিহ?
– কিছু না। চল…
— হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ
– কি হলো? হাসছিস কেন?
–কই হাসছি না তো। দেখে গাড়ি চালা…

বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বাসায় আসে ওরা। প্রতিদিনের মতো সেদিন আর ড্রয়িংরুমে কেউ বসে ছিল না। নিস্তব্ধতা। পুরো বাসা জুড়ে কি রকন অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল।
“আদনান! আদনান! আদনান…”
উচ্চস্বরে ডাকতে থাকে আঁখি। উপরতলা থেকে ছুটে আসে দাদীমা। দাদীমাকে দেখে প্রশ্ন করে আঁখি-
‘ দাদীমা! আদনান কোথায়? আর আম্মু আসেনি?’
– অনেক কষ্টে ঘুম পাড়ালাম। তোর মা এখনো আসেনি।
— আর নুহা? নুহা কোথায়? ওকে দেখছি না যে!
– সকালে এসে তো আমি ওকে দেখিনি। কেন? কোথায় গেছে ও?
— কোথায় আর যাবে! মনে হয় কলেজে…
– আচ্ছা, যা! ফ্রেশ হয়ে শুভ আর ফারহানাকে নিয়ে নিচে আয়।
— আচ্ছা…

সেই তখন থেকে মনে মনে নুহাকে খুঁজছে শুভর দুটি চোখ। কিন্তু কোথাও খুঁজে পায়নি কাঙ্খিত মানুষটিকে। দিশেহারা শুভ নুহাকে খুঁজতে খুঁজতে নিচে চলে আসে। খাবার টেবিলের সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় শুভ। না চাইতেও ধীর গলায় গলায় বলে উঠে- ‘নুহা কোথায়?’
মুখে ইষৎ হাসি ফুটে উঠে দাদীমার মুখে। ‘এসেছিস দাদাভাই? বস। খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।’
জবাবে কিচ্ছু বলেনি নুহা। শুকনো মুখে ফিরে তাকায় আঁখির দিকে।
বিস্মিত আঁখি প্রশ্ন করে শুভকে, কি হলো? টেবিলে না বসে এভাবে আমার দিকে কেন তাকিয়ে আছিস?
– নুহা কোথায়?
— কলেজে।
– ও কলেজে নেই…
— নেই?
– না নেই…
— তাহলে হয়তো কোথাও গিয়েছে।
– কোথায় যাবে ও?
— কত জায়গায়’ই তো যেতে পারে।
– এই শহরে ওর আপন বলতে হিয়া ফুপ্পি ছাড়া আর কেউ নেই।
— তাহলে হিয়া ফুপ্পির কাছেই গেছে।?
– মেজাজ খারাপ করিস না।
— ওরে বাবা! রেগে যাচ্ছিস কেন?
– দে! আমাকে ফুপ্পির ফোন নাম্বারটা দে।
— আশ্চর্য! তুই সামান্য বিষয়কে এত বড় করে কেন দেখছিস?
– কথা বাড়াবি না। রাগ উঠাবি না একদম…
— ওকে, ওকে। তুল নাম্বার…
– হু,
— 01737…….63….
– দাদীমা! তোমরা খেয়ে নাও। আমি আসি একটু।

ফোন কানে নিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে যায় শুভ। ফোন করে সবটা জানায় হিয়াকে। হসপিটাল থেকে ফিরছিল হিয়া। খবর পেয়ে চিন্তিত হিয়া মাঝ রাস্তা থেকেই ছুটে যায় নুহার কলেজের দিকে। কলেজ ততক্ষণে ছুটি হয়ে গেছে। অফিসটা তখনো খোলা ছিল। হিয়া অফিসে স্যারদের সাথে দেখা করে নুহার বিষয়ে জানতে চায়। ওরা খাতা ঘেটে জানায়- “স্যরি, ম্যাম! আদিরা মাহমুদ ‘নুহা’ অনুপস্থিত। ও আসেনি আজকে।”
মলিন মুখে অফিস থেকে বেরিয়ে যায় হিয়া। কল করে হৃদয়কে। খবর পেয়ে সমস্ত কাজকর্ম ফেলে ছুটে আসে হৃদয়ও।
আশেপাশের সকল অলিতে-গলিতে নুহার খুঁজ করা হয়েছে। কোথাও নুহাকে দেখতে পাওয়া যায়নি।
হন্যে হয়ে শুভ খুঁজ করে আশপাশের হসপিটাল গুলোতে। সেখানেও খুঁজে পাওয়া যায়নি নুহাকে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়। নুহার সন্ধান আর মেলেনি। বাধ্য হিয়া স্বামীকে সাথে করে বেরিয়ে পরে রাস্তায়। এক এক করে সবার কাছে নুহার বর্ণনা দিয়ে জানতে চায় দেখেছে কি না। সবার একই উত্তর, নাহ! দেখিনি এমন কাউকে…

রাত্রি আনুমানিক ১০টা কি সাড়ে ১০টা বাজে। চিন্তিত মনে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে সবাই। ফ্লোরে বসে হাউমাউ করে কাঁদছে হিয়া।
” ওর নানুর বাড়িতে খুঁজ নিয়েছি। এমনকি পুরো শহর তন্নতন্ন করে খুঁজেছি। কোথাও পাইনি। কোথায় গেছে মেয়েটা?”
কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়ছিল হিয়া।
পাশ থেকে হৃদয়ের প্রশ্ন- একমিনিট, একমিনিট! কান্না থামাও হিয়া। আমরা তো ওর দাদীর বাড়িতে ফোন করিনি। ওতো দাদীর বাড়িতেও যেতে পারে।
হৃদয়ের কথায় কান্না থামিয়ে দেয় হিয়া। হ্যাঁ, হ্যাঁ! আমায় ফোনটা দাও।
হৃদয় স্ত্রী হিয়ার দিকে ফোনটা বাড়িয়ে দেয়। কাঁপা কাঁপা হাতে হিয়া একটা একটা করে ডিজিট তুলতে থাকে। শেষ ২ডিজিট বাকি ছিল। তুলতে পারেনি। তার আগেই ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠে একটা অচেনা নাম্বার।
উত্তেজিত হিয়া ফোন রিসিভ করতে গিয়ে ভুলে কেটে দেয়। তারপর কানে নিয়ে হ্যালো, হ্যালো করতে থাকে। কানে থাকা অবস্থায় রিং বেজে উঠে আবারো।
হিয়ার হাত থেকে ফোন নিয়ে যায় আঁখি। দ্রুত ফোন রিসিভ করে পরিচয় জানতে চায়।
পরিচয় শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় আঁখি। ওপাশের মানুষটি নাকে মুখে কথা বলে যাচ্ছে। কিন্তু আঁখি একদম নিশ্চুপ। মুখ দিয়ে কোন কথা’য় বের হচ্ছে না ওর। যেন সে কথা বলার শক্তি হারিয়েছে।
” কি হলো? কে ফোন করেছে?”
শুভর ডাকে ঘোর কাটে আঁখির। দ্রুত ফোনটা কেটে বন্ধ করে দিয়ে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে মায়ের দিকে ফিরে তাকায়। তারপর অনেকটা কাঁপা গলায় বলে- আম্মু! নীলিমা আন্টি…..
চমকে উঠে হিয়া। ‘কিহ? নীলিমা?’
– হ্যাঁ, আম্মু! নীলিমা আন্টি কল দিয়েছে। তোমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে।
— নীলিমা সুস্থ হয়ে গেছে?(হৃদয়)
– কথা শুনে তো সেটাই মনে হলো বাবা।
— কিন্তু আমি এখন কি করবো’রে মা? কিভাবে কথাটা ওকে জানাবো…(হিয়া)
– আহ, হিয়া! কান্না থামাও তো। তুমি আগে নীলিমার সাথে কথা বলে দেখো।
— ঠিক আছে। আঁখি তোর আবির আংকেলের নাম্বারে কল দিয়ে দে…
– দিচ্ছি….
— …….
– ……………
— ……………..
– আম্মু! নাম্বার তো বন্ধ।
— স্যার টু লিখা দ্যাখ আরেকটা নাম্বার। ঐটায় দে…
– ঠিক আছে।
— ………..
– আম্মু এটাও বন্ধ…
— কি বলছিস কি?
– হ্যাঁ, আম্মু। বন্ধ’ই তো দেখাচ্ছে।
— এই! তখন কোন নাম্বারে ফোন দিয়েছে? (শুভ)
– এই যে…
— এটা তো বাংলাদেশী নাম্বার।(শুভ)
– কিহ?(হিয়া)
— হ্যাঁ, ফুপ্পি! এটা বাংলাদেশী নাম্বার।
– আচ্ছা, কল দে তো মা…(হৃদয়)

যেই আঁখি কল দিতে যাবে অমনি ঠিক একই নাম্বার থেকে আবারো কল আসে। উত্তেজিত আঁখি ফোন রিসিভ করে স্পিকার বাড়িয়ে দিয়ে মায়ের মুখের কাছে ধরে।
– আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন?
— আবির।
– স্যার, নীলিমা সত্যিই..(….)….???
— সুস্থ হয়ে গেছে।
– কখন? কোনদিন স্যার? দেশে আসছেন কবে?
— আমরা দেশে’ই আছি।
– কিহ? কবে এসেছেন স্যার?
— আজ’ই।
– কেমন যেন অবিশ্বাস্য…(…)…???
— নীলিমা কথা বলবে তোমার সাথে। নাও।
– হ্যালো, নীলি…..মা কেমন আছিস?
— যেমন রেখেছেন…
– মানে?
— কিছু না। আদিরা কোথায়? ওর কাছে ফোনটা দেন একটু। কথা আছে।
– আআআদিরা…???
— হ্যাঁ, আদিরা। ফোনটা ওকে একটু দেন…
– তোর কন্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন? তুই কি অসুস্থ্য?
–মিসেস হিয়া! আপনার কথা শুনতে আমি একদম প্রস্তুত নয়। তাই প্লিজ ফোনটা কাইন্ডলি আমার মেয়ের হাতে দেন।
– হিয়া বলছিলাম কি তুই আজ কখন এসেছিস?
— মিসেস হিয়া! আমি আবারো বলছি, আপনার সাথে কথা বলার মতো সময় এবং মন মানসিকতা এই মুহূর্তে কোনোটাই আমার নেই।
– কিসব কথা বার্তা বলছিস তুই নীলি? তুই কি সত্যিই সুস্থ হয়ে এসেছিস? না মানে…(….)….???
–মিসেস হিয়া! আমাকে নিয়ে আপনার চিন্তা না করলেও চলবে। আমি একদম সুস্থ আছি। এখন আপনি দয়া করে ফোনটা আমার মেয়ের কাছে দিন।
– নীলি তুই এভাবে কেন….(….)…???
— যেটুকু বলেছি সেটা আপনার জন্য অনেক বেশী হয়ে গেছে মিসেস হিয়া…
– নীলি তুই আমাকে এভাবে???
— হ্যাঁ, আমি এভাবেই বললাম। কারণ আপনার সাথে কথা বলতে আমার এখন রুচিতে বাঁধছে…
– কিন্তু আমি কি করেছি নীলি?
— কেন? আপনি জানেন না? জানেন না আপনি কি করেছেন?
– নীলি! প্লিজ এভাবে বলিস না।
— হ্যাঁ, বলবো না। আমি আপনাকে এভাবে আর কখনো বলবো না। আপনি শুধু এই মুহূর্তে আমার মেয়ের সাথে একবার কথা বলিয়ে দিন….

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here