নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ১৪

0
464

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ১৪

লেখিকা: সুলতানা তমা

পরন্ত বিকেল, ছাদের এক কোণে বসে আছি ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়ে। এখন আমার কি করা উচিত ভেবে পাচ্ছি না, আমি একটু একটু করে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি। কলিংবেল বাজছে ইচ্ছে হচ্ছে না নিচে গিয়ে দরজা খুলার তাই চুপচাপ বসেই রইলাম।
সেই কখন থেকে কলিংবেল বেজেই চলেছে কিন্তু মেঘ দরজা খুলছে না, জানিনা কি করছে। নিচে নেমে আসলাম দরজা খুলার জন্য।

দরজা খুলে দেখি সবাই চলে এসেছে, সবাইকে দেখে কষ্ট করে একটা শুকনো হাসি দিলাম।
তোহা: নতুন আম্মু। (তোহা হাত বাড়িয়ে আমার কোলে আসলো, ওকে নিয়ে সোফায় এসে বসলাম)
পপি: একি ভাবি টেবিলের উপর খাবারের প্যাকেট তোমরা এখনো দুপুরের খাবার খাওনি?
দাদি: হেরে মেঘ কোথায়?
আমি: রুমেই আছে হয়তো।
মা: রান্না করে খাওনি তাই না?
আমি: রান্না তো পারিনা যা রান্না করি মুখে দেওয়ার মতো না। (আমার কথা শুনে সবাই হেসে দিলো)
আমি: জোহা আর বাবাকে দেখছি না কোথায় ওরা?
জোহা: এইতো চলে এসেছি। (জোহার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলাম, জোহা চলে এসেছে যখন ওকে নিয়ে এ বাসা থেকে চলে যাবো। আর এখানে থাকতে চাই না)
মা: আমি তাড়াতাড়ি রান্না করে নিচ্ছি এসব বাইরের খাবার আর খেতে হবে না।
তোহা: নতুন আম্মু আব্বু কোথায়? আব্বু জানেনা আমি যে এসেছি?
আমি: না মামুনি জানলে তো তোমার কাছে আসতো। তুমি রুমে চলে যাও ওখানে তোমার আব্বু আছে।
তোহা: তুমিও চলো।
আমি: তুমি একা চলে যাও।
দাদি: মেয়েটা বলছে যখন যা না। (কিভাবে তোমাদের বুঝাই আমি মেঘের সামনে যেতে চাই না, ওকে দেখলে রাগ আরো বেড়ে যাবে আমার)
তোহা: চলো নতুন আম্মু। (তোহা আমার হাতের একটা আঙ্গুল ধরে টানছে তাই বাধ্য হয়ে ওর সাথে রুমের দিকে পা বাড়ালাম)

রুমের দরজা খুলার শব্দ পেয়ে মেঘ আমাদের দিকে তাকালো, বিছানায় আধশোয়া হয়ে শুয়ে আছে। তোহাকে দেখে হাত বাড়িয়ে দিলো মেয়েটা দৌড়ে গিয়ে মেঘের কোলে উঠে বসলো।
মেঘ আর তোহা হাসছে মজা করছে একবারো মেঘ আমার দিকে তাকাচ্ছে না, চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।

আনমনা হয়ে বাগানে হাটছিলাম হঠাৎ বাগানের দোলনায় রুহানকে বসে থাকতে দেখলাম। এগিয়ে আসলাম রুহানের দিকে। আমাকে দেখে মিথ্যে হাসার অভিনয় করলো রুহান।
রুহান: তোমার মন খারাপ?
আমি: নাতো।
রুহান: বেশ বুঝা যাচ্ছে তোমার মন খারাপ।
আমি: (নিশ্চুপ)
রুহান: বাস্তবতা আমাদের এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে যে না পারছি এই জায়গা থেকে সরে আসতে আর না পারছি…
আমি: আমরা সবাই একটা গোলকধাঁধায় পরে আছি তাই না?
রুহান: হুম।
আমি: পপি ভালোবাসে তোমাকে, তুমি ভালোবাস আমাকে, আমি ভালোবাসি মেঘকে আর মেঘ ভালোবাসে শায়লাকে। হাহাহা কতো সুন্দর…
রুহান: ভাইয়া হয়তো তোমাকে ভালোবাসে না কিন্তু শায়লাকেও ভালোবাসে না।
আমি: বাসে রুহান তোমরা তো জানো না মেঘ আর শায়লা দুদিন পর বিয়ে করছে।
রুহান: মানে কি? এসব তুমি কি বলছ?
আমি: ঠিকি বলছি রুহান, মেঘ আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে।
রুহান: কি?
আমি: হ্যাঁ ডিভোর্স পেপারটা আমার হাতেই আছে।
রুহান: আমি এক্ষণি গিয়ে বাসার সবাইকে বলবো, ভাইয়া পেয়েছে কি এভাবে তোমাকে নিয়ে খেলবে আ…
আমি: অনেক দায়িত্ববান হয়ে গেছ।
রুহান: তুমিই তো আমার ঘাড়ে দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে। না পারছি এই দায়িত্ব থেকে সরে আসতে না পারছি আঁকড়ে ধরতে।
আমি: মেঘ আমাকে মেনে নিচ্ছে না আমি একটু একটু করে কষ্ট অবহেলা পেয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছি এইটা দেখে তোমার কষ্ট হচ্ছে না?
রুহান: কষ্ট তো হচ্ছে কিন্তু আমার তো কিছু করার নে…
আমি: ঠিক এভাবে পপিও একটু একটু করে শেষ হয়ে যাচ্ছে রুহান। (আমার কথা শুনে রুহান চুপচাপ আমার দিকে তাকিয়ে রইলো)
আমি: আমাকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখতে পারছ না অথচ নিজেই অন্য একটি মেয়েকে কষ্ট দিচ্ছ যে কিনা তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।
রুহান: পপি আমাকে ভালোবাসে রোজ রাতে ও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে আমি বুঝতে পারি কিন্তু আমার কি করার আছে আমি তো তোমা…
আমি: ভুলে যাওনা আমাকে, একবার পপির ভালোবাসার উপর ভরসা রেখে নিজেকে সপে দাও ওর কাছে দেখবে সব কেমন ঠিক হয়ে যায়।
রুহান: তোমার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে না অথচ তুমি অন্য একটি মেয়ের কথা ভেবে ওর সংসার টিকাতে সমানে চেষ্টা করে যাচ্ছ এইটা বোধহয় তোমার মতো পাগলী মেয়ের দ্বারাই সম্ভব।
আমি: (মৃদু হাসলাম)
রুহান: আসছি।
আমি: আমার কথাটা শুনে একবার পপিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করো দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। (রুহান আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চলে গেল। রুহান পপিকে মেনে নিলে খুব খুশি হতাম, আমার মতো একি আগুনে পুড়ে আর কোনো মেয়ে ছাই হউক সেটা আমি চাই না)

চাঁচি: বাহ্ কি আছে তোমার মধ্যে বলতো আমাকে? (বাসার ভিতর ঢুকতে গিয়ে চাঁচির সাথে ধাক্কা খেলাম, উনার এমন প্রশ্ন শুনে বোকার মতো তাকিয়ে রইলাম)
আমি: মানে?
চাঁচি: এইযে মেঘকে নাচাচ্ছ আবার রুহান আর পপির বিয়ের মিথ্যে নাটক করে রুহানকেও সমানে নাচিয়ে যাচ্ছ।
আমি: ভদ্র ভাবে কথা বলুন শাশুড়ি শাশুড়ির জায়গায় থাকুন নাহলে…
চাঁচি: নাহলে কি করবে হ্যাঁ? বউ হয়ে শাশুড়িকে…
আমি: আরে আজব আপনি এভাবে চেঁচাচ্ছেন কেন?
চাঁচি: আমার ছেলের জন্য তোমাকে বউ করে আনতে চেয়েছিলাম তুমি নিজে তো বউ হলেই না উল্টো আমার শত্রুর মেয়েকে আমার ছেলের বউ করিয়ে দিলে। তুমি আমার ছেলের জীবন নষ্ট করে ফেলেছ তোমাকে তো আমি ছাড়বো না…
মা: কি হয়েছে তোমরা এমন চেঁচামেচি করছ কেন?
চাঁচি: দেখনা…
আমি: এমনি মা আমি তো চাঁচির সাথে মজা করছিলাম।
মা: ওহ! (মা চলে যেতেই চাঁচি আমার দিকে এগিয়ে আসলেন)
আমি: নিজের জায়গাতেই থাকুন আপনাকে থামানোর ওষুধ আমার কাছে আছে।
চাঁচি: মানে?
আমি: ভুলে যাবেন না আব্বুর খুনের সাথে আপনি জড়িত আছেন।
চাঁচি: এ্যাঁ!
আমি: এ্যাঁ না হ্যাঁ। (চাঁচির কানের কাছে ফিসফিস করে কথাগুলো বলে চলে আসলাম, আসার আগে পিছন ফিরে একবার উনার দিকে তাকালাম উনি ভয়ে চুপসে গেছেন)

এখন চাঁচিকে আটকে রাখার একমাত্র রাস্তা ভয় দেখানো। কিন্তু আমার মাথায় একটা কথা কিছুতেই ঢুকছে না, চাঁচি শত্রুর মেয়ে বললেন কেন? মেঘ আর রুহানদের মধ্যে কি কোনো শত্রুতা আছে? কিন্তু ওদের দেখে তো তা মনে হয় না।
মেঘ: ওহ তুমি এসেছ তোহাকে দেখো আমি একটু আসছি। (রুমে ঢুকতেই মেঘ বসা থেকে উঠতে উঠতে কথাটা বললো)
আমি: কোথায় যাচ্ছ?
মেঘ: তুমি তো আমাকে বিশ্বাস করোনা এখন যাই বলি বিশ্বাস করবে না তাই না বলাটাই ভালো। (আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মেঘ হনহন করে বেরিয়ে গেল)
তোহা: নতুন আম্মু তুমি কাঁদছ কেন?
আমি: কই নাতো মামুনি।
তোহা: আমি বুঝিতো আমাকে নিয়েই যতো ঝামেলা।
আমি: হ্যাঁ আমার মাম্মা বড় হয়ে গেছে তাই সব বুঝে।
তোহা: হ্যাঁ আমি যদি আকাশের তারা হয়ে যেতাম তাহলে আব্বু আর তোমাকে কাঁদাতে পারতো না।
আমি: এসব কি কথা তোহা? কে শিখিয়েছে এসব? আর কখনো যেন এসব কথা না শুনি।
তোহা: নিজের আম্মু না থাকলে সবাই বকা দেয়। (মেয়েটা মাথা নিচু করে কাঁদছে তাড়াতাড়ি ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম)
আমি: আমি বুঝি তোর আম্মু না?
তোহা: তুমি আমার আম্মু বলেই তো আব্বু তোমাকে এতো কষ্ট দেয়। (হায় আল্লাহ্‌ এই ছোট বাচ্চাটাও বুঝে কিন্তু মেঘ বুঝে নাহ। আজ মেঘ আর শায়লার কাজকর্মের জন্য তোহা কষ্ট পেয়ে আকাশের তারা হয়ে যেতে চাইছে ওদের তো আমি ছাড়বো না, আমার কাছে সবার আগে তোহা তারপর অন্য সবকিছু)

তোহাকে খাইয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো, শায়লার নাম্বার দেখে রিসিভ করলাম না। কিন্তু ও বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছে বিরক্ত হয়ে রিসিভ করলাম।
আমি: কি হয়েছে?
শায়লা: মেঘ কোথায়?
আমি: বাসায় নেই।
শায়লা: ও তারমানে চলে এসেছে।
আমি: চলে এসেছে মানে?
শায়লা: সবকিছু জানতে হবে কেন তোমাকে?
আমি: বলো বলছি নাহলে…
শায়লা: মেঘ আমার সাথে দেখা করতে আসছে বুঝতে পেরেছ? ঘুমিয়ে পড়ো ওর জন্য অপেক্ষা করো না কারণ আজ মেঘ আমার কাছে থাকবে। আর হ্যাঁ আগামীকাল প্রস্তুত থেকো তোহাকে গিয়ে নিয়ে আসবো।
আমি: তোহাকে আমি দিবো না।
শায়লা: তোহা আমার মেয়ে তাই চাইলেই আমি ওকে আমার কাছে নিয়ে আসতে পারি অবশ্য তুমি চাইলে তোমাকে দিয়ে দিতে পারি তবে বিনিময়ে তোমার সবকিছু আমার নামে করে দিতে হবে।
আমি: আর যদি না দেই?
শায়লা: তোহাকে নিয়ে আসবো।
আমি: তোহা তোমার মেয়ে তুমি নিতেই পারো কিন্তু এতে তোমার লাভ কি?
শায়লা: তোমার সবকিছু তো এখন তোহার নামেই আছে।
আমি: তোমার কি মনে হয় তুমি একাই চালাকি করতে পারো?
শায়লা: মানে?
আমি: আমি উইল পাল্টে ফেলেছি তোহার নামে আপাতত কোনো সম্পত্তি নেই তাই ওকে নিয়ে তোমার কোনো লাভ নেই বরং ওকে আমার কাছে রাখলে তোমার লাভ হবে, হয়তো বিনিময়ে তোমাকে কিছু দিবো যেহেতু তুমি তোহার আসল মা।
শায়লা: তোকে তো আমি খুন করবো।
আমি: রাখছি তোমার সাথে কথা বলে আমার সময় নষ্ট হচ্ছে।
ফোন রেখে ভাবছি মেঘ কি সত্যি শায়লার সাথে দেখা করতে গেছে? কিন্তু এতো রাতে দেখা করতে যাবে কেন?

রাত বারোটা বাজে ড্রয়িংরুমে বসে আছি মেঘ আসার নাম নেই, আমার ফোনটাও রিসিভ করছে না। তাহলে কি সত্যি মেঘ আজ শায়লার কাছে থাকবে?
দাদী: এখনো এখানে বসে আছিস?
আমি: হু!
দাদী: ঘুমাবি না রাতের খাবারও তো খেলি না।
আমি: মেঘ আসুক।
দাদী: বারোটার উপরে বাজে আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবি।
আমি: আর একটু অপেক্ষা করে দেখিনা।
দাদী: দাদুভাইটা বুঝলনা তোকে। (দাদী চলে যেতে চাইলেন একটা হাত ধরে বসার জন্য বললাম)
দাদী: কিছু বলবি?
আমি: একটা কথা জানতে চাই।
দাদী: বল কি…
আমি: মেঘ আর রুহানদের মধ্যে কি কোনো শত্রুতা আছে?
দাদী: হঠাৎ এই কথা জিজ্ঞেস করছিস কেন?
আমি: কারণ আছে দাদী।
দাদী: নাতো কি শত্রুতা থাকবে? আমার দুই ছেলে সবসময় মিলেমিশে থেকেছে।
আমি: রুহানের আব্বু কিভাবে মারা গেছেন?
দাদী: (নিশ্চুপ)
আমি: বলুন দাদী প্লিজ।
দাদী: একটা এক্সিডেন্টে…
আমি: সত্যি কি এক্সিডেন্ট ছিল নাকি অন্যকিছু?
দাদী: এক্সিডেন্ট ছিল কিন্তু তুই এসব জিজ্ঞেস করছিস কেন?
আমি: এমনি জানতে ইচ্ছে হলো।
দাদী: তোর মাথায় যে কি ঘুরে বুঝিনা।
দাদী চলে গেলেন চুপচাপ বসে রইলাম। আমি সত্যি পাগল হয়ে যাবো এতোকিছু ভাবতে ভাবতে। চাঁচি পপিকে শত্রুর মেয়ে বললেন অথচ ওদের মধ্যে কোনো শত্রুতাই নেই। হয়তো এমন কোনো ঘটনা আছে যা মেঘরা ভুলে গেলেও চাঁচি ভুলে যাননি উল্টো এই নিয়ে চাঁচি মেঘদের শত্রু ভাবেন কিন্তু কি ঘটনা ছিল সেটা জানবো কিভাবে?

হঠাৎ কোনোকিছু ভেঙে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল, মেঘের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কখন যে ড্রয়িংরুমে সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতেই পারিনি। আবারো কিছু ভাঙার শব্দ ভেসে আসলো, আওয়াজ তো আমাদের রুম থেকে আসছে কে ভাঙছে জিনিসপত্র? দৌড়ে উপরের দিকে আসলাম।

মেঘ: সব ভেঙে ফেলবো আমাকে অবিশ্বাস করে সবকিছুতে। (মেঘ রুমের সব জিনিসপত্র ছুড়ে মারছে, ও কখন রুমে আসলো বুঝতেই পারিনি)
আমি: মেঘ কি করছ এসব?
মেঘ: একদম চুপ আমার সাথে কথা বলবে না তুমি।
আমি: পাগল হয়ে গেছ নাকি জিনিসপত্র এভাবে ভাঙছ কেন?
মেঘ: সব ভেঙে ফেলবো।
আমি: মেঘ তোহা কিন্তু ঘুমে ও যদি ভয় পায় বা ওর উপরে কোনো কিছু উড়ে গিয়ে পড়ে তাহলে কিন্তু…
মেঘ: এইতো পেয়েছি। (ওয়ারড্রব এর উপরে ডিভোর্স পেপার রাখা ছিল মেঘ পেপারটা এনে ছিঁড়ে টুকরোটুকরো করে ফেললো)
আমি: মেঘ হচ্ছে কি এসব?
মেঘ: আমি যা খুশি করবো তুমি বাঁধা দিবে না।
আমি: তুমি ড্রিংক করেছ?
মেঘ: তুমি আমাকে অবিশ্বাস করতে পারবে আর আমি যন্ত্রণা ভুলার জন্য ড্রিংক করতে পারবো না? বাহ্ অসাধারণ তোমার…
আমি: চুপ করো, বেরিয়ে যাও রুম থেকে।
মেঘ: যাবো না এইটা আমার রুম আমি এই রুমে বসে ড্রিংক করবো।

মেঘ ফ্লোরে বসে ড্রিংক করে যাচ্ছে আমি জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দেখছি, ইচ্ছে হচ্ছে ওকে…
মেঘ: কণা খাবে? (হাসছে আর আমাকে মদের গ্লাস দেখাচ্ছে)
আমি: তুমি না পুরো মাতাল হয়ে গেছ।
মেঘ: কি করবো বল আমার বউ তো আমাকে অবিশ্বাস করে।
আমি: অবিশ্বাস করার মতো কাজ করো কেন? একটু আগে কোথায় ছিলে তুমি?
মেঘ: কোথায় কোথায়…
আমি: শায়লার কাছে ছিলে তাইতো। (বত্রিশটা দাত বের করে হাসি দিলো, ও তো পুরো মাতাল হয়ে গেছে)
মেঘ: তুমি আমাকে আবার অবিশ্বাস করছ আমি তো শায়লার কাছে ছিলাম না আমি ছিলাম… (মেঘ ঢলে পরে যাচ্ছে দেখে দৌড়ে গিয়ে ধরলাম)
আমি: বিছানায় চলো।

মেঘকে এনে বিছানায় শুয়ে দিলাম, জুতো খুলে শার্ট খুলতে গেলাম মেঘ আমাকে জড়িয়ে ধরে ফেললো।
আমি: ছাড়ো তোমার শার্ট খুলতে হবে শার্টে মদ…
মেঘ: শোননা কণা আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি। আমি শায়লার কাছে যাইনি।
আমি: ছিঃ এতো বাজে গন্ধ…
মেঘ: আমি তো এসব ছেড়ে দিয়েছিলাম তোমাকে পেয়ে কিন্তু তুমিই তো এখন আমাকে আবার এই নষ্ট পথে ঠেলে দিচ্ছ।
আমি: তুমি যা করছ এতে তোমাকে সন্দেহ করাটা অস্বাভাবিক কিছু না।
মেঘ: আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমাকে ডিভোর্স দিতে চাইনা। শায়লা আমার সাইন নকল করে ডিভোর্স পেপারে সাইন বসিয়েছে আমাকে ফাঁসাচ্ছে…
মেঘ আস্তে আস্তে চোখ বুজে ফেললো, শার্টটা খুলে দিয়ে ওর গায়ে বিছানা টেনে দিলাম তারপর জানালার কাছে চলে আসলাম।

কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে, আব্বু আম্মু আর পড়াশুনা নিয়ে কতো ভালো ছিলাম। আর এখন এতো এতো ঝামেলা এসে জুটেছে আমার ঘাড়ে। কোথায় এখন পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবো তা না আমাকে নিজের স্বামী সংসারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। আর পারছি না আমি সত্যি পাগল হয়ে যাবো। মেঘের দিকে তাকালাম নিশ্চুপ হয়ে ঘুমিয়ে আছে, দেখে বুঝাই যায় না এই মানুষটা আমাকে এতো কষ্ট দেয়। আস্তে আস্তে মেঘের দিকে এগিয়ে আসলাম, ওর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। আমি সত্যি বুঝতে পারছি না মেঘকে বিশ্বাস করবো নাকি অবিশ্বাস…

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here