নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ১২

0
519

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ১২

লেখিকা: সুলতানা তমা

চোখ খুলে তাকালাম সবকিছু ঝাপসা ঝাপসা লাগছে, দূর থেকে আযানের ধ্বনি ভেসে আসছে। সারা শরীর অবশ হয়ে আছে আস্তে আস্তে হাতটা নাড়ালাম। এখন সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, আমি বিছানায় শুয়ে আছি পাশে মেঘ আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে আছে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। আবারো মেঘের দিকে তাকালাম ওর চোখেমুখে ক্লান্তির চাপ সারা রাত ঘুমায়নি মনে হয়। রাতের কথা মনে পড়লো আমি তো বাথরুমে ছিলাম এখানে কিভাবে… মাথাটা একটু তুলে বাথরুমের দিকে তাকালাম, বাথরুমের দরজা ভাঙ্গা তারমানে…
মেঘ: তোমার ঘুম ভেঙ্গেছে? কিছু খাবে সুপ করে আনবো? (মেঘের দিকে তাকিয়ে রইলাম এক দৃষ্টিতে এই মানুষটাই রাতে আমার সাথে ঝগড়া করেছে আমাকে থাপ্পড় মেরেছে আর এখন এই মানুষটাই আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা করছে)
মেঘ: আর রেগে থেকো না প্লিজ কথা দিচ্ছি আর কখনো তোমার উপর হাত তুলবো না। (মেঘ আমার দুগালে আলতো করে ওর ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো)
আমি: রাগ করিনি।
মেঘ: একটু অপেক্ষা করো আমি আসছি।

মেঘ কিছুক্ষণ পর হাতে সুপ নিয়ে রুমে ঢুকলো, ওর চোখ দুটু লাল হয়ে আছে।
মেঘ: এইটা খেয়ে নাও। (ও নিজেই এসে আমাকে আধশোয়া করে শুয়ে দিলো)
আমি: তুমি কান্না করেছ?
মেঘ: (নিশ্চুপ)
আমি: কিছু একটা জিজ্ঞেস করেছি।
মেঘ: হু খেয়ে নাও।
আমি: খাবো না বলো কাঁদছ কেন?
মেঘ: কাঁদবো নাতো কি করবো? কিছু মনে আছে তোমার রাতে কি করেছ? তুমি বাথরুমে ঢুকে যতোক্ষণ কেঁদেছ ততক্ষণ আমিও দরজার পাশে বসে কেঁদেছি। হঠাৎ করে তোমার কান্না বন্ধ হয়ে যায় তোমাকে অনেক ডেকেছি কিন্তু কোনো সাড়া দাওনি, কতোটা ভয় পেয়েছিলাম আমি জানো তুমি ধারণা করতে পারছ? আমার কান্না শুনে বাসার সবাই চলে এসেছিল তারপর দরজা ভেঙ্গে বাথরুমে ঢুকে দেখি তুমি অজ্ঞান হয়ে পরে আছ। তোমাকে বাথরুমে নিথর হয়ে পরে থাকতে দেখে আমার কেমন লেগেছিল বুঝতে পারছ তুমি? ডক্টর এসেছিল তোমার গায়ে প্রচুর জ্বর ছিল জ্ঞান ফিরছিল না, প্রায় এক ঘন্টা পর তোমার জ্ঞান ফিরে তারপর ডক্টর তোমাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রেখে যায়। সারারাত তো ঘুমিয়েছ দেখেছ আমি কতোটা চটপট করেছি? এই কিছুক্ষণ আগে দুচোখের পাতা এক করেছিলাম। (মেঘের কথাগুলো শুনে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি বোবার মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে)
মেঘ: অবশ্য দোষটা আমারই এতো গুলো থাপ্পড় দেওয়া উচিত হয়নি, আমি কি করবো বলো সবকিছুতে শায়ালাকে টেনে আনো তুমি ভালো লাগে বুঝি। (মেঘ আমার মুখের সামনে সুপ এনে ধরলো চুপচাপ খেয়ে নিলাম)

মেঘ সুপের বাটী টেবিলে রেখে জানালার পর্দাটা একটু সরিয়ে দিল তারপর আমার পাশে এসে আধশোয়া হয়ে শুয়ে রইলো। পাশ ফিরে আমার দিকে একবার তাকালো তারপর একটা হাত বাড়িয়ে আমার কোমর জড়িয়ে ধরে আমাকে টেনে নিয়ে ওর বুকে শুয়ে দিলো, চুপচাপ শুয়ে রইলাম ওর বুকে।
মেঘ: এখনো রেগে আছ?
আমি: নাতো।
মেঘ: রাতে কতোটা ভয় পেয়েছিলাম জানো তুমি? সবাই আমাকে খুব বকেছে তোমার গাল লাল দেখে। আমারো অনেক কষ্ট হয়েছে এখনো হচ্ছে এভাবে মারতে চাইনি কিন্তু তুমি…
আমি: বাদ দাওনা এসব। (মেঘকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম ও আমার মাথায় চুমু খেলো)
মেঘ: একটু ছাদে যাবে?
আমি: কেন?
মেঘ: চলনা। (মেঘ উঠে আমাকে কোলে তুলে নিলো, দুহাত দিয়ে ওর গলা জড়িয়ে ধরে তাকিয়ে রইলাম ওর চোখের দিকে)

মেঘ আমাকে কোলে করে এনে ছাদে নামিয়ে দিলো, ছাদ সাজানো দেখে বেশ অবাক হলাম। মেঘের দিকে তাকাতেই ও আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।
মেঘ: বলেছিলাম তো সারপ্রাইজ আছে। আজ আমার বার্থডে আর রাতে এজন্যই তোমাকে শাড়িটা পড়তে বলেছিলাম, ইচ্ছে ছিল এই খোলা আকাশের নিচে তোমার কোলে শুয়ে সারারাত কাটিয়ে দিবো কিন্তু তুমি…
আমি: শায়লাকে দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারিনি তাছাড়া ও বলেছিল উকিল নাকি বলেছে ও চাইলেই তোহাকে নিয়ে যেতে পারবে। তুমি তো জানো তোহাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না তাই মাথা ঠিক ছিল না। আমি বুঝতে পারিনি আজ তোমার বার্থডে জানলে আ…
মেঘ: এখন তো জানো…
আমি: হ্যাপি বার্থডে তোহার আব্বু।
মেঘ: পাকনা বুড়ি হয়ে গেছ তোহার আব্বু ডাকা হচ্ছে।
আমি: হ্যাঁ আমাকে তোহার আম্মু ডাকবে বুঝেছ?
মেঘ: ভাবছি তোহার একটা পুঁচকে ভাই অথবা বোন হলে কেমন হয়। (মেঘ আমার পেটে দুহাত দিয়ে খেলা করছে, ওর কথা শুনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম)
মেঘ: লজ্জা পেয়েছ কথা বলছ না যে।
আমি: জানিনা। (ঘুরে গিয়ে মেঘের বুকে মুখ লোকালাম। মেঘ সত্যি আমাকে ভালোবাসে শুধু শায়লাকে এখন আমাদের মাঝখান থেকে সরাতে হবে)
মেঘ: বিশ্বাস করো আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি।
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: তোহাকে হারানোর ভয়েই আমি শায়লার সাথে কথা বলি, ও চাইলেই তোহাকে নিয়ে যেতে পারে তাই ভয় হয়।
আমি: তোমার সাথে আমার কথা ছিল।
মেঘ: তোমার কন্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন কষ্ট হচ্ছে তোমার?
আমি: নাতো। (সকালের মৃদু বাতাসে শরীর কাঁপছে সত্যি কষ্ট হচ্ছে কিন্তু মেঘকে বুঝতে দিলে হবে না এমনি সারারাত চটপট করেছে)
মেঘ: তোমার কষ্ট হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি রুমে চলো।

মেঘ আমাকে নিয়ে রুমে আসলো তারপর বিছানায় শুয়ে দিলো। এবার মেঘকে সবকিছু বলা প্রয়োজন।
আমি: তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল।
মেঘ: ভালোবাসি বলবে তো…
আমি: না আসলে আব্বু…
জোহা: আপু আসবো?
আমি: আয়। (জোহা এসে তোহাকে আমার পাশে বসিয়ে দিয়ে চলে গেল)
তোহা: নতুন আম্মুকে ছাড়া আমি আর কখনো ঘুমাবো না।
আমি: কেন আম্মু?
তোহা: কেন আবার আমার ঘুম আসেনা তাই।
শায়লা: তোকে ছাড়া যে আমারো ঘুম আসেনা মা। (দরজায় শায়লাকে দেখে চমকে উঠলাম আবার এসেছে ও)
শায়লা: ভাবছি তোহাকে নিয়ে চলে যাবো।
আমি: না ওকে নিয়ো না। (তোহাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম শায়লা আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে)
মেঘ: শায়লা ওখানেই দাঁড়াও, তোমাকে তো বলেছি তুমি যা চাইবে তাই দিবো তাহলে কেন করছ এরকম?
শায়লা: বাহ্ মেঘ বড়লোক বউ পাশে থাকাতে রাতের সব কথা ভুলে গেলে?
মেঘ: মানে?
শায়লা: তুমিই তো রাতে বললে কণাকে ডিভোর্স দিয়ে আমাকে আবার বিয়ে করবে তারপর তোহাকে নিয়ে আমরা আবার নতুন করে সব শুরু করবো।
আমি: মেঘ ও এসব কি বলছে?
মেঘ: সব মিথ্যে বলছে সারারাত তো আমি তোমার পাশেই বসে ছিলাম আর ওকে আমি এসব বলতে যাবো কেন?
আমি: শায়লা তুমি কিন্তু শর্ত ভুলে যাচ্ছ।
শায়লা: অনেক ভেবে দেখলাম শর্ত গুলো ভুলে যাওয়াই ভালো কারণ আমি যা চাইছি তা আমি এমনিতেই পাবো।
আমি: কি চাইছ তুমি?
শায়লা: সব কথা বলে দিতে নেই। (শায়লা ফিসফিস করে কথাটা বলেই হাসতে হাসতে চলে গেল। কোথায় পাবো প্রমাণ কবে শায়লাকে জেলে পাঠাবো আর ভালো লাগছে না)
মেঘ: কণা তুমি চিন্তা করো না তোহা তোমার কাছেই থাকবে।
আমি: হুম।

তোহার পাশে শুয়ে ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছি, মেয়েটা চারহাত পা দিয়ে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে মনে হচ্ছে এই বুঝি কেউ ওকে আমার থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে। আমারো বড্ড ভয় হচ্ছে শায়লা যদি সত্যি তোহাকে নিয়ে যায় তখন আমি কি করবো। না না এর আগেই শায়লাকে জেলে দিতে হবে।
মা: বৌমা তোমার শরীর এখন কেমন।
আমি: এইতো মা এখন একটু ভালো।
মা: মেঘ তো জন্মদিন সেলিব্রেট করতে চেয়েছিল কিন্তু হলো না তাই বলছিলাম কি আজ সন্ধ্যায় একটা পার্টি…
মেঘ: না আম্মু কণা অসুস্থ এ অবস্থায় এসবের প্রয়োজন নেই। (মেঘ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে হাত দিয়ে রুমে আসতে বললাম)
মেঘ: কিছু বলবে?
আমি: মা যখন চাইছেন তখন…
মেঘ: বললাম তো এসব কিছু হবে না আগে তুমি সুস্থ হয়ে উঠো আমার আর কিছু চাই না।
আমি: তাই বলে জন্মদিন…
মা: থাক বৌমা ও যখন চাইছে না তাহলে এসব না করাই ভালো। (মা চলে গেলেন মেঘ এসে আমার পাশে বসলো)
আমি: তুমি তো চেয়েছিলে সেলিব্রেট করতে তাহলে মা বলাতে না করলে কেন?
মেঘ: তুমি তো অসুস্থ বাদ দাও।
আমি: তাই বলে…
মেঘ: তুমি সুস্থ হলে পর নাহয় আমার গিফট চেয়ে নিবো। (মেঘের মুখে দুষ্টু হাসি দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালাম)
মেঘ: তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠো প্লিজ। (মেঘ চোখ টিপ দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল, ওর কথার কিছুই বুঝলাম না)

অসুস্থতার মধ্যে দুটু দিন কেটে গেল, এখন পুরোপুরি সুস্থ আছি। আজ যেভাবেই হউক একবার বাইরে যেতে হবে। শায়লার সম্পর্কে সবকিছু জানতে হবে আমাকে। সেদিনের পর শায়লা আর এ বাসায় আসেনি, কোথায় আছে কি প্ল্যান করছে সব জানতে হবে আমাকে। কিন্তু কিভাবে বাইরে যাবো? আব্বুকে বলে যাবো? মেঘকে বললে তো আমাকে একা বের হতে দিবে না তাছাড়া শায়লা যে আব্বুর খুনি একথাটা মেঘকে এখনো বলা হয়নি যখনি বলতে চাই কোনো একটা বাঁধা পড়ে যায়। আজ মেঘকে সবকিছু বলবো তারপর বাসার বাইরে যাবো।
মেঘ: কণা টাই’টা বেঁধে দাওনা… (মেঘ হাতে ঘড়ি পড়তে পড়তে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর টাই বেঁধে দিতে দিতে বললাম..)
আমি: রোজ রোজ আমি টাই বেঁধে দিতে পারবো না এখন থেকে সকালে তাড়াতাড়ি উঠবে বুঝেছ?
মেঘ: এখন থেকে তো সকালে উঠতে আরো বেশি দেরি হবে।
আমি: তুমি আবার দুষ্টু হাসি হাসছ?
মেঘ: আজ তোমার জন্য অনেক বড় সারপ্রাইজ আছে।
আমি: আবার সারপ্রাইজ?
মেঘ: হ্যাঁ, আসছি।
আমি: আরে কিসের সারপ্রাইজ বলে তো যাও।
মেঘ: অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে। (দ্যাত চলে গেল, এই মেঘকে আমি একদম বুঝতে পারিনা)

ড্রয়িংরুমে আসতেই দেখি সবাই রেডি হচ্ছে কোথায় যাবে সবাই?
আমি: মা সবাই মিলে কোথায় যাচ্ছেন?
মা: গ্রামের বাড়ি যাবো।
আমি: সবাই?
দাদী: তুই আর মেঘ থাকবি শুধু।
জোহা: আমি রেডি।
আমি: জোহা তুইও…
জোহা: গ্রাম দেখার লোভ আমি সামলাতে পারছি না আপু।
মা: আসুক না সবাই মিলে ঘুরে আসবো।
দাদী: ওইতো পপি আর রুহান চলে এসেছে। (সিঁড়ির দিকে তাকালাম দুজন একসাথেই নেমে আসছে, রুহানের রাগ কিছুটা কমলেও পপিকে ওর মন মেনে নিতে পারছে না। পপি এতটুকুও ভেঙে পরেনি বরং সবসময় হাসিখুশি থাকে সত্যি মেয়েটা পারেও)
রুহান: দাদী বলছিলাম আমি না গেলে হয় না?
দাদী: নতুন বিয়ে করেছিস বউ নিয়ে ঘুরার সুযোগ পাচ্ছিস আর এখন এসব কথা বলছিস।
চাঁচি: হুহ নতুন বিয়ে নতুন বউ।
আমি: হ্যাঁ ঘুরে এসো সবার সাথে দুজনেরই ভালো লাগবে।
মা: তোহাকে নিয়ে যাবো?
আমি: না না ও আমার কাছেই থাকবে।
তোহা: আমি যাবো দাদুর সাথে।
আব্বু: নিয়ে যাই সবাই তো আছি আমরা সমস্যা হবে না তোমার মেয়ের।
মা: আজ একটু কষ্ট করে রান্না করে নিও মা আসছি আমরা।
সবাই চলে গেল সাথে আমার মেয়েটাকেও নিয়ে গেল, আমি একা হয়ে গেলাম মেঘও অফিসে।

সারাদিন একা একা কাটালাম আর ভালো লাগছে না মেঘও আসছে না এতো রাত হয়ে গেল। রান্নাঘরে রান্না করছিলাম হঠাৎ মনে হলো বাসায় কেউ ঢুকেছে, ভয়ে ভয়ে ড্রয়িংরুমে আসলাম মেঘ চোরের মতো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে।
আমি: এই তুমি চোরের মতো রুমে যাচ্ছ কেন?
মেঘ: তুমি রান্না করছ ভেবে ডিস্টার্ব করলাম না আমার হাতে চাবি ছিল তা…
আমি: তুমি কিছু লুকাচ্ছ আমার থেকে?
মেঘ: নাতো কি লুকাবো?
আমি: হু ফ্রেশ হয়ে খেতে এসো।

মেঘকে খেতে দিয়ে আমিও খেতে বসলাম তখনি আমার ফোন বেজে উঠলো।
মেঘ: আমি যাচ্ছি।
আমি: না তুমি খাওয়া শুরু করো আমি আসছি।

ফোন হাতে নিয়ে দেখি শায়লা এই মেয়ে তো আমাকে জ্বালিয়ে মারছে।
আমি: কি হয়েছে ফোন করেছ কেন?
শায়লা: অনেক ভেবে দেখলাম আমার মেয়ে প্রয়োজন নেই সম্পত্তি প্রয়োজন তাই মেয়েটা তোমাকে দিয়ে সম্পত্তির জন্য ফোন দিলাম।
আমি: তুমি চাইবে আর আমি দিয়ে দিবো এতোই সস্তা? খুব ভালো করে শুনে রাখো তুমি যে আব্বুর খুনি সেটা আমি জেনে গেছি এখন শুধু…
শায়লা: প্রমাণের অপেক্ষা? কিন্তু প্রমাণ তো তুমি পাবে না কারণ আমি প্রমাণ রেখে কোনো কাজ করিনা।
আমি: আমিতো প্রমাণ খুঁজে বের করবোই।
শায়লা: তার আগেই যদি তোহাকে আমি নিয়ে আসি তাহলে তো সব সম্পত্তি আমার।
আমি: হিহিহি তুমি এতো বোকা জানতাম নাতো।
শায়লা: মানে?
আমি: সব কথা বলে দিতে নেই। (ফোনটা কেটে দিলাম। শায়লা আশা নিয়ে বসে আছে ও তো জানেই না নতুন উইল আমি কিভাবে তৈরি করেছি, তোহাকে নিয়ে গেলেও সম্পত্তি ও পাবে না)

মেঘ খাওয়া শেষ করে চুপচাপ বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি: এতো তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ?
মেঘ: হুম তোমার খেতে হবে না রুমে চলো।
আমি: আমার খিদে আছে তো তুমি বললেই হলো নাকি?
মেঘ: তুমি আগে কখনোই কি রান্না করনি?
আমি: কেন রান্না খারাপ হয়েছে?
মেঘ: নাতো অনেক ভালো হয়েছে তুমি নিজেই দেখো আমি কতোটা খেয়েছি। (মেঘ তো সব রান্নাই খেয়েছে সত্যি কিন্তু ওর কথায় কিছুটা খটকা লাগলো। ওর দিকে তাকিয়ে খাবার মুখে দিলাম)
আমি: ওয়াক থুঃ…
মেঘ: আরে কি হলো নাও পানি খাও।
আমি: এসব রান্না তুমি খেয়েছ কিভাবে?
মেঘ: লবণ একটু বেশি হয়েছে কিন্তু রান্নাটা দারুণ…
আমি: চুপ করো এজন্যই আমাকে খেতে নিষেধ করেছিলে? এতো লবণ তুমি খেয়েছ কিভাবে?
মেঘ: আমার বউটা কষ্ট করে রান্না করেছে আমি না খেলে তো কষ্ট পেতো। (চুপচাপ তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে এতো ভালোবাসে আমায়। মেঘ মুচকি হেসে আমার সামনে থেকে প্লেট নিয়ে গেল)
মেঘ: আর খেতে হবে না চলো।
আমি: আরে কি করছ?
মেঘ: বলেছিলাম না জন্মদিনের গিফট ঠিক চেয়ে নিবো। (মেঘ আমাকে কোলে তুলে নিলো কি চাইছে ও কিছুই বুঝতে পারছি না)

মেঘ আমাকে কোলে করে অন্য একটি রুমে নিয়ে আসলো। রুমের অবস্থা দেখে আমি পুরো থ হয়ে গেলাম। ঠিক আমাদের বাসর ঘরের মতো সাজানো দেখে আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম। একদম সেই সাজ পুরো রুম জোরে নীল সাদা অর্কিড ফুলের ছড়াছড়ি, সাথে জ্বলছে অনেক গুলো ক্যান্ডেল লাইট।
মেঘ: সারপ্রাইজটা কেমন হলো?
আমি: খুব সুন্দর কিন্তু কখন সাজালে এসব?
মেঘ: তুমি রান্না করছিলে সন্ধ্যার সময় এসে সাজিয়েছি বুঝতেও পারনি তুমি।
আমি: কিন্তু এসব কেন?
মেঘ: আজ আমরা আমাদের জীবন নতুন করে শুরু করবো।
আমি: মামাননে?
মেঘ: সব ভুলের অবসান ঘটাবো আজ।
মেঘ আমাকে খাটের উপর শুয়ে দিলো, ওর কাজকর্ম দেখে অবাক হচ্ছি শুধু।
মেঘ: তুমি কখনো আমার মনে এতোটা জায়গা করে নিবে আমি ভাবতেও পারিনি। সব ভুলের জন্য সরি, চলো আজ সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করি।
মেঘ আমার নাকের সাথে ওর নাক ঘষছে। আমার হাত বিছানায় চেপে ধরে আঙ্গুলের বাজে বাজে ওর হাতের আঙ্গুল গুলো আটকে দিলো। মেঘকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম ও আমার চোখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। কেমন যেন নেশা মিশানো ওর চোখ দুটুতে, এই চোখের গভীরতায় ডুবে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। তাকিয়ে থাকতে পারছি না ওর চোখ দুটুর দিকে, আস্তে আস্তে চোখ বুঝে ফেললাম। মেঘ আমার আরো কাছে চলে আসলো, দুজনের নিঃশ্বাস ভারী খাচ্ছে চোখ খুলে তাকানোর সাহস পাচ্ছি না। মেঘ আস্তে আস্তে আমার আরো কাছে এসে ওর ঠোঁট দুটু ডুবিয়ে দিলো আমার ঠোঁটের গভীরে…

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here