ধর্ষিতা_বউ পার্ট: ১৯

0
441

ধর্ষিতা_বউ

পার্ট: ১৯

#Rabeya Sultana Nipa

 

__প্রাপ্তির গম্ভীর চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।(মনে মনে ভাবছে)তাহলে কি তার ধারণায় ঠিক সব ছেলেই একরকম? ওনার নাকি ১০.০০ ছাড়া ঘুম ভাঙে না এখন ৭.০০ না বাজতেই অন্য মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আছে।আমিও না কি বুজে এইসব ন্যাকামি দেখছি।

প্রাপ্তি আয়ানের থেকে মুখ ফিরিয়ে আয়েশা বেগমমের দিকে তাকিয়ে মা চলুন আপনি না কোথাও যাবেন?

আয়েশা বেগম -ওহ্ আমি তো ভুলেই গেছি।অধরা তুমি আয়ান কে নিয়ে নাস্তা করতে আসো আমরা বরং আসি।

আয়ান অধরাকে সরিয়ে, আম্মু দাঁড়াও!
তুমি যাও আমি প্রাপ্তিকে নিয়ে আসছি।

আয়েশা বেগম -আচ্ছা ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আয়।কথাটা বলেই চলে গেলেন আয়েশা বেগম।

প্রাপ্তি অন্য দিকে ফিরে আছে দেখে আয়ান অধরাকে প্রাপ্তির সামনে নিয়ে এসে, আমার মনে হয় তোমাদের পরিচয় হয়নি এখনো, প্রাপ্তি! ও আমার কাজিন, এবং ফ্রেন্ড। আমি যখন পড়া লেখার জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলাম তখন আমি ওদের বাসায় থাকতাম।কথাটা শুনে প্রাপ্তি আয়ানের দিকে ফিরে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ভাবছে এখনি এই অবস্থা আর বাসায় থাকাকালীন কি করছে আল্লাই ভালো জানে।প্রাপ্তিকে এইভাবে তাকাতে দেখে,
অধরা! ও হচ্ছে আমার ওয়াইফ প্রাপ্তি।

অধরা -(হাত বাড়িয়ে দিয়ে)হাই!

প্রাপ্তি -হ্যালো!নাইছ টু মিট ইউ।

আয়ান প্রাপ্তি মুখে কথা শুনে, আচ্ছা তোমরা কথা বলো,আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

অধরা -পরে এসে কথা বলবো। এখনো কারো সাথে দেখা হয়নি আগে তাদের সাথে দেখা করে আসি।

আয়ান -আচ্ছা! তুমি যাও, প্রাপ্তি! তুমি বসো আমি আসা ছাড়া এক পা ও এগুবে না।আয়ানের কথা শুনে প্রাপ্তি এসে খাটের উপর বসলো।
আয়ান ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে প্রাপ্তি সত্যিই বসে আছে, ফোন হাতে নিয়ে সুমিকে ফোন দিয়ে সুইট হার্ট তুমি কোথায়?একটু আমার রুমে আসো।
সুমি এসে কি ব্যাপার আয়ান আজ এতো তাড়াতাড়ি তাও আবার ফোন করে ডাকা হচ্ছে কেনো।কোনো সমস্যা?
প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখে সে চুপচাপ হয়ে বসে আছে।সুমি আয়ানের দিকে তাকিয়ে প্রাপ্তিকে দেখিয়ে, আয়ান! ওর মন খারাপ কেনো?

আয়ান -ও তো এই বাড়ীতে আসার পর থেকে তো এইভাবেই আছে।

সুমি -রাতে এতো ভালোবাসা দিয়েও ঠিক করতে পারলানা? যাইহোক ডেকেছো কেনো?

আয়ান -ছোটো কাকারা আসছে, ওকে একটু রেডি করিয়ে নিছে নিয়ে আসো আমি গিয়ে দেখা করে আসি।

সুমি -সরি আসলে আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম এই কথা। তুমি যাও আমি এখনি রেডি করে নিয়ে যাচ্ছি।

রফিক সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে টেবিলে,বাড়ীর সবাই ড্রইংরুমেই আছে।আয়ান এসে কাকা কাকী কে সালাম করে, কেমন আছেন কাকাই?

কাকা-এই ভালো। তোর কি খবর বল? শেষমেশ তাহলে বিয়েটা করেই ফেললি? (কথাটা বলেই হা হা করে হাঁসতে শুরু করলেন আয়ানের কাকা)

আয়ান একটু লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

আকাশ -কিরে,,, তুমি মেয়ে মানুষের মতো লজ্জা পাচ্ছিস কেনো? বস এইখানে।

রুমকি এসে আকাশের কোলে বসতে বসতে মামা দেখো ছোটো মামনি আসছে।
কথাটা শুনেই আয়ান সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে হা করে আছে,আয়ানের দিকে তাকিয়ে সবাই মিটমিট করে হাঁসছে সেইদিকে তার কোনো খেয়ালি নেই।প্রাপ্তিও আয়ানের দিকে চোখ পড়তেই, ভাবছে হনুমানের মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেনো মনে হচ্ছে এইখানে শুধু আমিই আছি।
রাহাত -এহেমমম,,,,,আয়ান ভাইয়া সারা রাত দেখেও মন ভরেনি?
রাহাতের কথা শুনে আয়ান মুছকি হেঁসে, রফিক চাচা কফি টা দিয়ে যান।
আয়েশা বেগম রান্নাঘর থেকে হাত টা আঁচলে মুছতে মুছতে তুই এখন কিসের কফি খাবি আগে নাস্তা করে নে।আর সবাই আসো নাস্তাটা করে নাও এখনো অনেক কাজ পড়ে আছে।সুমি প্রাপ্তিকে কাকা কাকীর সামনে এনে,এই হচ্ছে তোমাদের আদরের আয়ানের বউ।

কাকী -মাসাল্লাহ্! আয়ানের বউ দেখতে তো অনেক মিষ্ট। (আয়েশা বেগমের দিকে তাকিয়ে)ভাবী সত্যিই বলছি আয়ানের পছন্দ আছে বটে।লক্ষ্মী একটা মেয়ে।

কাকা -নতুন বউয়ের মুখ দেখে কিছু তো একটা দিতে হয়।(গহনার বাক্স টা বের করে প্রাপ্তির হাতে দিয়ে)সামনের বছর যেন নাতী নাতনীর মুখ দেখতে পাই।
কথাটা শুনে সুমি হাঁসি মুখটা মলিন করে প্রাপ্তির হাত ছেড়ে দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো।আকাশ সুমিকে চলে যেতে দেখে সুমি শুনো! কোথায় যাচ্ছো বলেতে বলতে সুমির পিছন পিছন রান্নাঘরে চলে গেলো।

কাকা -আমি কি কিছু ভুল বলে পেললাম?

আয়েশা বেগম কথা ঘুরিয়ে কিছু ভুল হয়নি।এখন সবাই চলো নাস্তা করে নাও।

অধরা মিনুর সাথে কথা বলতে বলতে নিচে নেমে এসে, আয়ানের হাত ধরে টেনে আয়ান চলো তোমার সাথে নাস্তা করবো।
ঝিনুক নিহাদের কানের কাছে, এইমেয়েকে বেশী সুবিধার লাগছেনা। একটা ঝামেলা পাকানোর জন্য বসে আছে।কথাটা বলে ঝিনুক উঠে গিয়ে অধরা আমার ইচ্ছে করছে কি জানো আমি তোমার সাথে বসে নাস্তা করবো।আয়ান আজ ওর বউয়ের সাথে বসে নাস্তা করুক। তুমি আমার সাথে বসো।কতো দিন পর তোমার সাথে দেখা।

অধরা -না আপু তোমার সাথে অন্য একদিন আজ আমি আয়ানের সাথেই বসি।আয়ান তাড়াতাড়ি নাস্তা করে নাও তুমি আর আমি বাহিরে ঘুরতে যাবো।আয়ান কথাটা শুনে বার বার প্রাপ্তির দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু প্রাপ্তি এইদিকে কান না দিয়ে আয়েশা বেগমকে সবাইকে নাস্তা দিতে হেল্প করার জন্য এগিয়ে গেলো।
ঝিনুক আবারো অধরাকে বলতে লাগলো, ওমা,,,,, তোমাকে বলা হয়নি তুমি আয়ানকে নিয়ে ঘুরতে যাবে কি করে আয়ান তো একটু পর প্রাপ্তির সাথে প্রাপ্তিদের বাড়ী যাবে।তাদের তো আজ রিসেপশন পার্টি হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সেটা হচ্ছে না, আব্বু আসার পর হবে।ঝিনুকের কথা শুনে আয়েশা বেগম মুখে হাত দিয়ে মুখ ছেপে হাঁসছে।আকাশ ও সুমিকে বুজিয়ে রান্নাঘর থেকে নিয়ে এসেছে।
অধরা -আপু কি বলেছে আয়ান? তুমি সত্যি আমাকে রেখে ওইমেয়েটার বাড়ীতে যাবে?
আয়ান অধরার কথা শুনে, কি ওই মেয়েটা ওই মেয়েটা করছো অধরা? ওর একটা নাম আছে ওকে নাম ধরেই ডাকবে।
ঝিনুক এসে প্রাপ্তির পাশে দাঁড়িয়ে,ওই মেয়ে বেশী সুবিধার নয় সময় থাকতে নিজের হ্যাজবেন্ডকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করো।না হলে পরে প্রস্তাতে হবে।ঝিনুকের কথা শুনে প্রাপ্তি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।ভাবী কাল সত্যিই বলে ছিলো আপু সবার থেকে আলাদা এই গরম তো এই নরম।একটা মানুষের হাজারো ভাবে ভালোবাসতে পারে এইটা ওনাকে না দেখলে বুজতামই না।

ঝিনুক প্রাপ্তিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে, এইভাবে হা করে তাকিয়ে কি দেখছো যাও নিজের বরকে ওই মেয়েত হাত থেকে সামলাও।

প্রাপ্তি ঝিনুকের কথা শুনে, (কমল স্বরে) আপু যে থাকার সে এমনিতেই থাকবে।তাকে নিয়ে আমি কোনো জোর করতে চাইনা।ওনি নিজেই সবার বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে এই বাড়ীতে এনেছেন তিনি যদি বলেন আমাকে চলে আমি চলে যাবো।

ঝিনুক -তোমরা যা ভালো মনে করো।

সুমি -বলেছিলম না দেখবে আপু তোমাকে ঠিক ভালোবেসে পেলবে।

সবাই নাস্তা শেষ করে ড্রইংরুমে আড্ডা দিচ্ছে।আয়ান সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছে ঠিকে মন পড়ে আছে প্রাপ্তির দিকে,প্রাপ্তি সবার সাথে টুকটাক কথা যাই বলে আয়ানের সাথে তার এখনো কোনো কথা হয়নি।আচ্ছা ও কি আমার সাথে কোনো কথায় বলবে না?আমার কি অন্যায়, নাকি আমাকে ওর পছন্দ হয়নি? আয়েশা বেগম রান্না করছে রফিক আর সুমি হেল্প করছে।প্রাপ্তি উঠে রান্নাঘরে গিয়ে দাঁড়াতেই,

সুমি -তুমি আবার উঠে এলে কেনো প্রাপ্তি?

প্রাপ্তি -আপনাদের একটু হেল্প করি?

সুমি -এখন কিচ্ছু করতে হবে না।আমি আর মা তো আছি কয়েকদিন যাক তারপর মায়ের ছুটি। তুমি আর আমি মিলে সব সামলে নিবো।
সুমির কথা শেষ হতেই আয়েশা বেগম বললো, প্রাপ্তি! তুমি রান্না করতে পারো?
কথাটা শুনেই প্রাপ্তি কি বলবে বুজতে পারছেনা।কারণ সে কখনো রান্না করেনি মাঝেমাঝে দুই এক বার করেছে তাও আবার ডিম ভাজা।প্রাপ্তিকে চুপ থাকতে দেখে আয়েশা বেগম বললো লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, বেশী ভাগ মেয়েই রান্না শিখে শ্বশুর বাড়ীতে যায় না।আমি তোমাকে সব শিখিয়ে দিবো।প্রাপ্তি আয়ানের মায়ের কথা শুনে চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে,

সুমি -আরে,,, তুমি কান্না করছো কেনো?
মা এই রকমই,আমাকেও সব কিছু নিজের হাতে শিখিয়েছিলো।

প্রাপ্তি সবার কথা শুনে ভাবছে এই বাড়ী মানুষ গুলো এতো ভালো, কেউ আমাকে একবারো অন্য চোখে দেখেনি।আমি কি সবার এতো ভালোবাসা পাবার যোগ্য? কথা গুলো ভাবতেই পিছন থেকে আয়ান এসে ফোনটা প্রাপ্তির সামনে ধরে তোমার ভাইয়া ফোন করেছে কথা বলো!

চলবে,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here