ধর্ষিতা_বউ পার্ট:৪৪

0
611

ধর্ষিতা_বউ

পার্ট:৪৪

#Rabeya Sultana Nipa

 

_সকালে সবাই বসে নাশতা করছে।আবিদ চৌধুরী প্রাপ্তি আর আয়ানকে না দেখে কি ব্যাপার সুমি আয়ান এখনো উপরের থেকে আসেনি?
সুমি -না বাবা আপনারা নাশতা করুণ আমি ডেকে আনছি।

আবিদ চৌধুরী -তোমার যেতে হবে না ওদের সময় হলে ওরাই নিছে নেমে আসবে।আকাশ! পার্টির কথা কি ভাবলে?পার্টিতে কেউ জেনো বাদ না পড়ে।প্রাপ্তিদের বাড়ির নাম্বার আছে তোমার কাছে?

আকাশ -আছে! কথা বলবে?

আবিদ চৌধুরী -তুমি ফোন করে বলো বিকেলে আমি প্রাপ্তি আর আয়ানকে নিয়ে ওদের বাড়ি যাবো।

আকাশ -আচ্ছা ঠিক আছে।আব্বু পার্টির তারিখটা দুই দিন পর দিই।

আবিদ চৌধুরী -এতো তাড়াতাড়ি দিয়ে সবকিছু সামলাতে পারবিতো?(রেশীর দিকে নজর পড়তেই) কি ব্যাপার রেশী তুমি খাচ্ছ না কেনো?এই বাড়ির কাউকে তোমার ভালো লাগেনি?
রেশী লজ্জা ভাব নিয়ে, খাচ্ছি তো আংকেল।আর এই বাড়ির সবাইকে আমার খুব ভালো লেগেছে।সবাই আমাকে কতো ভালোবাসে। কথা গুলো বলতেই রেশীর চোখের কোনে পানি আসতেই রেশী চুপ হয়ে গেলো।
আয়েশা বেগম রেশীর কাঁধে হাতরেখে মন খারাপ করো না।আমরা সবাই তোমার আপনজন।

আবিদ চৌধুরী -আকাশ কতো দিন হলো অফিসে যাচ্ছিনা। আজ না হয় গিয়ে একবার আমি ঘুরে আসি।

আকাশ-আব্বু তুমি এই শরীর নিয়ে অফিসে যাবে?আরো কয়েকদিন যাক তারপর না হয় যেও।

আবিদ চৌধুরী -কিচ্ছু হবেনা।তোরা এতো টেনশন করছিস কেনো।(টেবিলের উপর থেকে ফোন নিয়ে উঠে যেতে যেতে)আমি গিয়ে রেডি হয়ে আসি।

আয়ান ফোনের শব্দ শুনে ফোনটা বালিশের পাশ থেকে খুঁজে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে অভ্রর ফোন।আয়ান ফোন রিসিভ করে চুপ করে আছে,আর অভ্র বলেই যাচ্ছে,আয়ান! তুই এখনো অফিসে আসিস নাই কেনো।কয়টা বাজে দেখেছিস।আজ না মিটিং আছে।তুই নিজেই মিটিং ডেকে এখন তুই নেই।আয়ান টাইমের কথা মনে পড়তেই ফোনটা কান থেকে সামনে এনে টাইম দেখে নিজেই অবাক হয়ে গেছে।১০.৪০ কখন রেডি হবো আর কখন অফিসে যাবো।

আয়ান -অভ্র! আমি একঘণ্টার ভিতরেই আসছি।ফোনটা রেখে রাতের কথা মনে পড়তেই প্রাপ্তির কপালে একটা চুমু দিয়ে প্রাপ্তিকে কাছ থেকে সরিয়ে উঠতেই প্রাপ্তি আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে।আয়ানেরও ইচ্ছে করছেনা যেতে। কিন্তু সে আজ যেতেই হবে অফিসে কাল সে নিজেই আজকের জন্য মিটিং ডেকেছে।আয়ান মনে মনে ভাবছে যদি সে জানতো প্রাপ্তি তার ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে আপন করে নিবে তাহলে মিটিং তো দূরের কথা অফিসের নামও মাথায় আনতো না।প্রাপ্তিকে আস্তে করে সরিয়ে আয়ান উঠে ওয়াশ রুমে গেলো ফ্রেশ হতে।

সুমি, ঝিনুক, রেশী, মিনু ড্রইরুমে সোফায় বসে গল্প করছে । আয়ানকে তাড়াহুড়ো করে নিছে নামতে দেখে, সুমি উঠে একটু এগিয়ে গিয়ে, আয়ান তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছো নাশতা করবে না?

আয়ান -সুইট হার্ট হাতে একদম সময় নেই।বাহিরে পরে খেয়ে নিবো।

সুমি -প্রাপ্তি কোথায়? ও জানেনা সকালে তোমার অফিস আছে তারপর ও তোমাকে ঘুম থেকে ডাকিনি কেনো? তাহলে তো আর দেরি হতো না।
আয়ান -আয়ান মুচকি হেঁসে ও নিজেই ঘুম থেকে এখনো উঠেনি আমাকে কি ডাকবে?
কথা গুলো বলতে বলতে আয়ান বেরিয়ে গেলো। আয়ানের কথা শুনে সুমি হিসাব মিলাতে পারছেনা।প্রাপ্তি তো এতো লেট করে ঘুম থেকে উঠেনা তাহলে আজ কি হলো?প্রাপ্তি আসুক ওকে পরে জিজ্ঞাস করে নিবো।

আয়ান অফিসে গিয়ে প্রাপ্তির ফোনে কল দিচ্ছে।
প্রাপ্তি ফোন হাতে নিয়ে দেখে আয়ানের নাম্বার। অবাক হয়ে পাশে তাকিয়ে আয়ানকে না দেখে মুচকি হেঁসে ফোন রিসিভ করলো।

আয়ান -আমার পাগলিটা এখনো ঘুম থেকে উঠেনি?
প্রাপ্তি-কোথায় থেকে ফোন দিয়েছো? কাছে আসো তোমাকে দেখবো।
আয়ান -এখন তো আসতে পারবো না জান। আমি অফিস শেষ করেই চলে আসবো।

প্রাপ্তি-(অবাক হয়ে)তুমি অফিসে? আমাকে ডাকোনি কেনো?

আয়ান মিটমিট করে হাঁসছে প্রাপ্তির কথা শুনে কারণ প্রাপ্তির মুখে এইরকম কথা সে আগে কখনোই শুনেনি।আয়ানের মাথায় প্রাপ্তিকে খেপানোর জন্য বুদ্ধি এলো,ডাকলে কি আবার ভালোবাসা দিতে।তাহলে আমি তো মিস করে ফেলেছি আমার বউয়ের সকালের ভালোবাসাটা।

প্রাপ্তি- ধ্যাত তোমার সাথে কোনো কথা নেই।

আয়ান-এই শুনো শুনো আসলে তোমাকে ডাকতে ইচ্ছে করছিলো না।তুমি যখন ঘুমাচ্ছিলে তোমাকে এমদম পরীর মতো লাগছিলো।মনে হয়েছে কোনো একটা পরী ভুলে আমার রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়েছে।আমার এই পরীকে কতোটা ভালোবাসি আমার পরী কি জানে?
প্রাপ্তির আয়ানের কথা গুলো শুনতে ভালোই লাগছে।তাই আয়ানকে বাধা দিচ্ছেনা চুপচাপ শুনেই যাচ্ছে।

মিনু এসে প্রাপ্তিকে এখনো খাটে বসে থাকতে দেখে, প্রাপ্তি তুমি এখনো ফ্রেশ হওনি। আর আব্বু ফোন করে বলেছে তোমাকে নিয়ে শপিং এ যেতে।

প্রাপ্তি ফোন রেখে দিয়ে, আপু এখন কিসের শপিং করবো?

মিনু -তোমাদের জন্য আব্বু এতো আয়োজন করে পার্টি দিচ্ছে আর তুমি বলছো কিসের শপিং? এখন উঠে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিছে আসো বাকি কথা ওইখানেই হবে।

মিনু সুমি আর প্রাপ্তি শপিং করতে গেলো।আয়ানকে আবিদ চৌধুরী ফোন দিয়ে আসতে বলেছে তাদের সাথে শপিং এ যাওয়ার জন্য।আয়ান মিটিং শেষে তাদের সাথে যোগ দিলো শপিং করতে।শপিং শেষ করে বাহিরে খাওয়া খেয়েই সবাই বাড়িতে আসলো।সুমি বাড়িতে এসে সবাইকে সবকিছু দেখাচ্ছে।প্রাপ্তি আর আয়ান উপরে উঠতে যাবে এমন সময় আবিদ চৌধুরী এসে, আয়ান! বিকেলে তুকে আর প্রাপ্তিকে নিয়ে ওদের বাড়িতে যাবো।আমরা গিয়ে তাদের ইনভাইট করে আসি।কথাটা শুনে প্রাপ্তি খুশি হয়ে বাবা সত্যিই আপনি আমাদের বাড়িতে যাবেন?

আবিদ চৌধুরী -আমার মেয়ের খুশির জন্য এইটুকু করতেই পারি।
নিজের বাবার মুখে কথা গুলো শুনতে আয়ানের অনেক ভালো লাগছে।বাবার প্রতি ভালোবাসা আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেলো আয়ানের।আবিদ চৌধুরী নিজের ভুল গুলো এইভাবে বুজতে পারবে আয়ান কখনোই ভাবিনি।প্রাপ্তির মতো মেয়েরা এই সমাজের বোঝা নয় বরং ভালোবাসা একটা অংশ। আমার আব্বু এইটা বুজতে পেরেছে এতেই আমিই খুশি।
আয়ান আর কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেলো,সাথে প্রাপ্তিও।

আয়ান রুমে এসে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়তে পড়তে মেয়েদের সাথে শপিং এ যাওয়া মানে নিজের কাঁধে নিজেই বিপদ ডেকে আনা।শুধু আব্বু ফোন করেছে বলেই এতো গুলো প্যারা সহ্য করতে হয়েছে।
কথাটা শুনে প্রাপ্তি রাগি ভাব নিয়ে আয়ানের দিকে তাকিয়ে, আমি প্যারা?
আয়ান -এই কথা তোমাকে বলিনি।আমার লক্ষ্মী কি কখনো প্যারা হতে পারে? ওর জন্য তো পৃথিবীর সব কষ্ট সহ্য করতে রাজি।প্রাপ্তি কাছে এসে বসতে বসতে, একটু আগে যে বললে?

আচ্ছা তুমিই বলো শপিং টা ওরা গিয়ে করলেই তো হয়।তুমি আর আমি আলাদা ভাবে যেতাম। কিছুটা আলাদা ভাবে সময় কাটাতাম।কথাটা বলে প্রাপ্তিকে কাছে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছে আয়ান।
প্রাপ্তিও বাধা না দিয়ে আয়ানের বুকে মাথা রেখে, বাবা এতোটা পাল্টাবে আমি ভাবতেই পারিনি।তোমাকে আমি বলেছিলাম না ওনি হয়তো গম্ভীর থাকে, তবে মনটা অনেক ভালো।
সুমি এসে রুমে ঢুকে দেখে আয়ানের বুকে প্রাপ্তি মাথা দিয়ে শুয়ে শুয়ে কথা বলছে,ভুল সময় এসে পড়লাম নাকি?
প্রাপ্তি উঠে বসে, ভাবী তুমি?

সুমি-হুম আমি! ভাবলাম তোর সাথে বসে আড্ডা দিবো।কিন্তু এখন দেখছি ভুল সময় এসে গেছি।
আয়ান মুচকি হেঁসে এইখানে ভুলের কি আছে এমনিতেই আমিও উঠে যেতাম।
আব্বু বলছে প্রাপ্তিকে নিয়ে ওদের বাড়িতে যাবে তাই রেডি হতে হবেনা?

সুমি-ওহ।আচ্ছা রেশীর দিয়েটা নিয়ে কি ভেবেছো?

আয়ান -অভ্র সাথে কথা বলে ওর বাবা মাকে বলবো এই বাড়িতে আসতে।প্রাপ্তি এক কাজ করলে কেমন হয়? পার্টির দিন ওর আর অভ্র engaged টা করে পেললে কেমন হয়? সেইদিন বিয়ের ডেট টাও ফাইনাল করা যাবে।

প্রাপ্তি- তাহলে তো ভালোই হবে।কি বলো ভাবী?

সুমি -আমারো তাই মনে হয়।আয়ান তুমি বাবার সাথে একবার কথা বলে নিও।

নিলিমা বেগম আর নীরা খুব ব্যস্ত, আবিদ চৌধুরী আসছে।সাথে মেয়ে আর জামাইকে নিয়ে।নানা রকমের খাবার তৈরি করেছে নিলিমা বেগম।আসিফ তাদেরকে বিভিন্ন কাজে হেল্প করছে।
কলিংবেলের শব্দ শুনে আজাদ সাহেব গিয়ে দরজা খুলে দিলো। আবিদ চৌধুরী আর আজাদ সাহেব কোলাকোলি করে বাসায় ঢুকলেন।পিছন পিছন আয়ান আর প্রাপ্তিও ।নীরা প্রাপ্তিকে দেখে জড়িয়ে ধরে কেমন আছো আপু?
প্রাপ্তি -আমি ভালো।নীরা! (আবিদ চৌধুরীকে দেখিয়ে)ইনি হচ্ছে আমার আরেকজন বাবা মানে তোমার ভাইয়ার বাবা।

নীরা আবিদ চৌধুরীকে সালাম করে দাঁড়াতেই আবিদ চৌধুরী কোর্টের পকেট থেকে সোনার চেইনের বাক্স বের করে আমি জানি এইবাড়িতে নতুন একজন মেম্বার আছে আর তাকে তো আমাকে কিছুনা কিছু উপহার দেওয়া উচিত। তাই চেইন টা নিয়ে আসতে ভুলিনি।আয়ান নিজের বাবাকে যতো দেখছে তোতোই ভালো লাগছে।সবাই একসাথে আড্ডা দিয়ে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে বাড়ি ফিরলেন তারা।ফ্রেশ হয়ে এসে ইজিচেয়ারে বসতে বসতে জানো আয়েশা এখন আর নিজেকে একা মনে হয়না। সবাই একসাথে থাকাটা যে অনেক আনন্দের ব্যাপার প্রাপ্তি না থাকলে হয়তো আমি কখনোই বুজতাম না।মেয়েটা বড্ড ভালো।মেয়েটার মাঝে এমন কিছু আছে যেটা সকলের বুজার ক্ষমতা নেই।এমন কি আমারো ছিল না।

আয়েশা বেগম -তুমি যে সবকিছু বুজেছ এটাই অনেক আমাদের কাছে।আমি তো ভেবে ছিলাম আমার ছেলেকে হয়তো আমি আর কাছেই পাবোনা।

_বাবা আসবো! কথাটা শুনেই দুজনে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে নিহাদ আর রাহাত, সাথে ঝিনুক, মিনু, আর আকাশ।

আবিদ চৌধুরী -কি ব্যাপার জামাইদের এখন আসার সময় হলো আসো ভিতরে আসো।নিহাদ আর রাহাত দুজনকেই সালাম করে,
নিহাদ-বাবা আপনার শরীর এখন কেমন আছে?
আবিদ চৌধুরী -যেই ঘরে প্রাপ্তি আর সুমির মতো বউ থাকে সেই ঘরে শ্বশুরের অসুস্থ থাকতে নেই।মনের জোর দিয়ে হলেও সুস্থ থাকার দরকার।তোহ, তোমরা কখন এলে?

রাহাত -কাজে ছাপে তো সময় পাইনা বাবা।আকাশ ভাইয়া ফোন দিয়ে বলেছে আজকে আসতেই হবে।

রাহাত বাকি গুলো বলার আগেই আকাশ বলতে লাগলো আব্বু তুমি বলো বাড়িতে এতো বড় একটা পার্টির আয়োজন করা হচ্ছে আর জামাইরা সব কাজ ফাঁকি দিয়ে বসে থাকবে।
আকাশের কথা শুনে সবাই হাঁসতে লাগলো।
আবিদ চৌধুরী -আকাশ সবাইকে ইনভাইট করা শেষ তো? তোকে তো একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি আমার অনেক পুরোনো ফ্রেন্ড জামিল আর ওর ছেলে নাকি দেশে আসছে ওদের ইনভাইট করতে ভুলিসনা যেনো।

আকাশ -জামিল আংকেল ওনার ছেলেকে নিয়ে তিন বছর আগে বাহিরে চলে গেছিলোনা? তবে আব্বু জামিল আংকেলের একমাত্র ছেলে।কিন্তু ছেলেটাকে মানুষ বানাতে পারিনি।

আবিদ চৌধুরী -ঠিক বলেছিস। তাহলে কাল থেকে সবাই কাজে লেগে পড়ো।

ঝিনুক- আব্বু প্রাপ্তিদের বাড়িতে আসার পর থেকে তো কিছু খাওনি।এখন খাবেনা?

আবিদ চৌধুরী -ওইটা সম্ভব না।শুধু একটা কথায় বলবো তাদের আপ্যায়নে আমি মুগ্ধ।
একটা পরিবারে শুধু টাকা থাকলেই ভালোবাসা থাকেনা।টাকা দিয়ে ভালোবাসা কিনাও যায়না।ওদের ফ্যামিলিটা না দেখলে আমি বুজতাম না।

চলবে,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here