তুমিহীনা

1
247

-ঘড়ির কাটায় গুনেগুনে ঠিক রাত ১২ টা,যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য এটা ঘুমের সময়,সারাদিনের খাপছাড়া,অর্ধপূর্ণ সব ভাবনা গুলোকে মানুষ এখন খুটিয়ে খুটিয়ে চোখ বন্ধ করে দেখছে আর ভেসে বেড়াচ্ছে স্বপ্নের জগতে।

তবে আজ সৈকতের চোখে ঘুম নেই,হাত দুটোকে পেছনে গুজে মরা কঠের মতো ঠান্ডার মধ্যে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। ওর ঠিক পায়ের কাছেই দুটো সদ্য ফুল ফোটা গোলাপের গাছ,একটাতে কালো গোলাপ ফুটেছে আর একটাতে ফুটেছে টকটকে লাল গোলাপ।সৈকত এক দৃষ্টিতে কালো গোলাপটাকে দেখছে,রাতের কালোতে কালো গোলাপটাকে বিবর্ন আর পানসে মনে হচ্ছে,রঙ থেকেও ওকে রংহীন মনে হচ্ছে,যেন একরাশ মনখারাপের ডালি।

আর পাশের লাল গোলাপটাকে দেখলেই ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হয়,চোখে স্বপ্ন খেলা করে,মাথা তুলে দাঁড়াবার ইচ্ছে হয়।আসলেই রঙ একটা বিশাল ফ্যাক্টর,দেখার দৃষ্টিই বদলে দেয়।তবে জগতের ডিসক্রিমিনেশনে এ নিয়ম খাটে না আবার এই যেমন মেয়েদের যোগ্যতার মাপকাঠি রুপ,যৌবন আর লাবন্য হলে ছেলেদের যোগ্যতার মাপকাঠি হয় বিসিএস ক্যাডারধারী খেতাব কিংবা ভারী ব্যাংক ব্যালেন্স,প্রেমে অবশ্য ভিন্ন বিয়েতেই বরং হয় আসল ঝামেলা।এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ ওর ভাবনায় ছেদ পড়লো, বুকপকেটে রাখা সৈকতের ফোনটা কেপে উঠতেই শোনা যাচ্ছে,

–ওই দুটি চোখ যেনো জলে ফোটা পদ্ম যতো দেখি তৃষ্ণা মেটে না,
ভীরু দুটি বাকা ঠোঁটে পূর্নিমা চাঁদ ওঠে, হাসলেই ঝড়ে পরে জ্যোৎস্না!।

কলার টিউনটা তিন বছর আগের সেট করা,গানটার উপর একটা বিশাল ভালোলাগা কাজ করে সৈকতের।এই একটা গানই যেনো প্রেমিকাকে স্বরনের জন্য যথেষ্ট, প্রেমে মাতাল হওয়ার জন্য যথেষ্ট।পুরোটা বাজার আগেই কিঞ্চিত অপ্রস্তুত হয়ে সৈকত ফোনটা রিসিভ করে ফেললো তবে কানের কাছে নিয়ে হ্যালো বলতে সংকোচ হচ্ছে,হাজারো এলোমেলো ভাবনা মুহূর্তেই ওর মাথায় খেলা করছে,আচ্ছা আজকের দিনে ওর ফোনটা ধরা কি ঠিক হবে?তবে ও কেনো ফোন করেছে আসলে? কিছু জানাতে‌!

………………

লেখকঃশারমিন আক্তার সেজ্যোতি
————————

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here