তিনি এবং ও ! ৬

0
435
তিনি এবং ও ! ৬
তিনি এবং ও ! ৬

তিনি এবং ও !

৬.
কম্পানির কী নাম দেয়া যায়?স্বপ্নের মধ্যেই সে ভাবতে লাগলো। এতো নাম তার মনে থাকে কিন্তু আজ কোনো নাম তার মনে পড়ছেনা। একটা নাম তার মনে পড়লো – অদ্রি সাত রঙের নতুন বাজার। বেশ বড় নাম হয়ে যায়। কাস্টমার নাম পড়তে গিয়েই বিরক্ত হবে। তবে নামটা ইন্টারেস্টিং। স্বপ্নের মধ্যেই তার ঘুম আসলো। নৌকার মধ্যেই সে ঘুমিয়ে পড়লো।নিদ্রের মনে হলো, কেউ তার মাথার কাছে ঠকঠক আওয়াজ করছে। আস্তে আস্তে আওয়াজ বাড়ছেই। তারপর মনে হলো, কেউ তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে। এতো ইন্টারেস্টিং চিন্তা রেখে দরজা খুলতে তার ইচ্ছে করছে না।কড়া নাড়তে থাকুক কোনো সাড়াশব্দ না পেলে চলে যাবে।
নিদ্র গভীর নিদ্রারত অবস্থায় বিছানায় পরে রইলো। অদ্রি এক হাতে খাবারের ট্রে আরেক হাতে চায়ের ফ্লাক্স নিয়ে অনেকক্ষণ কড়া নাড়ছে। এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে তার দুহাত ব্যথা হয়ে গেছে।
নাস্তা টেবিলেই রাখা ছিলো নিদ্রের জন্য। কিন্তু ১১ টা বেজে যায় নাস্তা করতে না আসাতে অদ্রি বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। গত রাতে ওরকম খারাপ ব্যবহার করাটা ঠিক হয়নি। ওই কারণেই নিদ্র নাস্তা করতে আসছে না। বাসার মেহমান না খেয়ে থাকবে, খুবই খারাপ। তাই নিজেই নাস্তা নিয়ে এসেছে।
এতো জোড়ে জোড়ে দরজায় শব্দ করার পরও যখন দরজা খুলছেনা তখন অদ্রি ভাবলো – কিছু হয়ে গেলো নাকি?
অদ্রির গতরাতের কথা মনে পড়েও খুব খারাপ লাগতে লাগলো। মানুষ টা তো কোনো খারাপ কিছুই করেনি তাহলে সে কেনো এমন ব্যবহার করেছে? কী করবে বুঝে উঠতে পারছেনা।
আগের তুলনায় আরো জোড়ে দরজায় কড়া নাড়তে লাগলো। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর দরজা খুলে নিদ্র শুধু মাথা বের করে ঘুমে জড়ানো কণ্ঠে বলল
– কিছু বলবেন?
অদ্রি বলল
– মানে বেলা ১১ টা বাজে আপনি নাস্তা করতে আসলেন না। তাই ভাবলাম আপনি অসুস্থ কিনা?
নিদ্র মাথা ঝাঁকিয়ে বলল
– রাত ভরে দেয়াল রঙ করেছি। ঘুমিয়েছি ভোররাতের দিকে।
– বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।
– দুঃখিত বলে কী লাভ? ঘুম তো ভেঙেই দিলেন।
অদ্রি খেয়াল করলো নিদ্রের এক চোখ খোলা আরেক চোখ বন্ধ। বন্ধ চোখে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানা দরকার। অদ্রি বলল
– আপনার চোখে কোনো সমস্যা?
নিদ্র বলল
– ঘুম যেন না ভাঙে তাই এই কাজ করেছি। কিন্তু লাভ হলো না।
– আমি সত্যি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
– হয়েছে দুঃখিত দুঃখিত বাদ দিন। নাস্তা কী এনেছেন?
কথাটা বলে নিদ্র দরজা পুরোটা খুলে দিয়ে বলল
– ভিতরে রেখে যান।
অদ্রির নাকে রঙের গন্ধ আসলো। রঙের গন্ধ তার একদমই সহ্য হয়না। এই কারণে এই বাড়িতেও রঙ করা হয়না। রুমের ভিতরে ঢুকে অদ্রির অস্বস্তিকর লাগছে। ট্রে আর ফ্লাক্স টেবিলের উপর রেখে দিয়ে অদ্রি দ্রুত পায়ে চলে যেতে লাগলো। নিদ্র পেছন থেকে বলল
– চায়ের কাপ তো দেন নি। আর আমারটাও আপনার রুমে গতরাতে ফেলে এসেছি।
অদ্রি যেতে যেতে বলল
– আমি নিয়ে আসছি।
অদ্রি চলে যাবার পর নিদ্র ফ্রেশ হবার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকলো।
নাস্তা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে কে বলবে যে,সে রাগী? হুটহাট করে রেগে যায়। মেয়েটা রাগী হলেও খারাপ না।
তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখলো অদ্রি তার দিকে পেছন ফিরে কিছু একটা করছে। অদ্রি বুঝতে পারেনি নিদ্র ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে।
নিদ্র খুব ধীরেধীরে অদ্রির পেছনে এসে দাঁড়ালো।তাদের মধ্যেকার দূরত্ব অনেক কম। নিদ্র ফিসফিস করে বলল
– কী করছেন?
অদ্রি প্রায় লাফিয়ে উঠলো। নিদ্র হেসে ফেলল।অদ্রি পেছন ফিরে বলল
– আপনি দূরে দাঁড়ান।
নিদ্র বলল
– প্রতিশোধ নিলাম। গতরাতের প্রতিশোধ নিলাম।
অদ্রি বলল
– তাই বলে এভাবে? আর আপনি আমার থেকে দূরে থাকবেন।
– আমার লুসি আছে।
অদ্রি বলল
– চা করেছি আপনি নাস্তা করে নিন।
– তা কী নাস্তা এনেছেন?
– পরোটা আর ডিম ভাজি।
– লুসি অবশ্য ভালো রান্না করতে পারেনা। আমাদের বিয়ে হলে ঝামেলায় পড়তে হবে। দুজনের কেউই রান্না পারিনা। চা কফি খেয়ে দিন পার করতে হবে।
অদ্রি বলল
– আমাকে কেনো বলছেন?
নিদ্র চায়ের কাপ নিয়ে বলল
– যাতে আপনার বরের খাবার বিষয়ক কোনো সমস্যা না হয়।আমাকেই দেখুন, খাবার নিয়ে আমার এখনি টেনশন হচ্ছে।

অদ্রি মাথা নিচু করে কী যেন ভাবলো। তারপর আস্তে আস্তে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। যেতে যেতে অদ্রির দুচোখ ভিজে উঠেছে। হাতের উল্টো পাশ দিয়ে চোখ মুছে ফেলল।
অদ্রির পুরোনো স্মৃতি আবার মনে পড়ে গেলো। খুব কষ্টে সে নিজেকে একটু ঠিক করেছিলো। কিন্তু এই মুহূর্ত তাকে, তাকে আবারো সেই পুরোনো স্মৃতিতেই ডুবিয়ে দিলো।

চলবে……!

#Maria_kabir