জীবনেরডায়েরি২ পার্ট: ৮

0
339

জীবনেরডায়েরি২

পার্ট: ৮

লেখিকা: সুলতানা তমা

সকালে আব্বু, আমি, তুলি, রিয়া, শ্রাবন আর আকাশ পুলিশ স্টেশনে গেলাম

আম্মু আর রাকিবের সামনে আমরা সবাই বসে আছি, আম্মুর মুখটা ভয়ে চুপসে গেছে আর রাকিবের তো আরো খারাপ অবস্থা
আমি: আম্মু কেন করলে এমন
আম্মু: (নিশ্চুপ)
আমি: আমি নাহয় তোমার মেয়ে ছিলাম না কিন্তু তুলি তো তোমার পেটের সন্তান ওর সাথে কিভাবে এমন করলে আর আব্বু উনি তো তোমার স্বামী উনার সাথে এসব কিভাবে করলে
আম্মু: (নিশ্চুপ)
আমি: তুলির কাছ থেকে অনেক কিছু জেনেছি এখন শুধু দুইটা প্রশ্নের উত্তর চাই, শ্রাবন আর আমাকে কেন আলাদা করছিলা আর আকাশের সাথে বিয়ে হয়েছিল যে তোমার কি লাভ হয়েছিল
আম্মু: (নিশ্চুপ)
আমি: দেখ তুমি চুপ হয়ে থাকলে তোমার শাস্তি বেশি হবার ব্যবস্থা করবো আর যদি সব সত্যি বলে পেলো তাহলে শাস্তি কম হবে
এবার আম্মু আমার দিকে চোখ তুলে থাকালো চোখে লজ্জা আর ভয়ের চিহ্ন

আম্মু বলতে শুরু করলো….

রাকিবের সাথে আমার কলেজে সম্পর্ক ছিল আমি গরীব ছিলাম তাই ওর পরিবার মেনে নেয়নি, ও বিয়ে করে নেয় অন্য মেয়েকে আর আমার বিয়ে হয় তোর আব্বুর সাথে, কিন্তু দুবছর পর রাকিবের স্ত্রী রাকিব কে ডিভোর্স দেয় তখন রাকিব আমার কাছে ফিরে আসে, তোর আব্বুকে ডিভোর্স দিয়ে ওর কাছে চলে যেতে বলে, কিন্তু আমি যাইনি

রাকিবের সাথে দেখা হত কথা হত ও আমাদের বাসায় আসত আমার অন্য ফ্রেন্ডস দের সাথে, এভাবে কেটে যায় অনেক গুলো বছর তুই বড় হয়ে যাস তুলিও বড় হয়

হঠাৎ করে আমাকে টাকার নেশায় পেয়ে বসে, আমার মনে হয় তোর আব্বু আমাকে জীবনে কিছুই দিতে পারেনি তারচেয়ে রাকিবের কাছে চলে গেলে টাকা ভালোবাসা দুটিই পাবো, আমি রাকিব কে আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেই যে ওর কাছে ফিরে যাবো

আমরা যখন প্ল্যান করছিলাম তোর আব্বুকে ডিভোর্স দেয়ার তখনি রাকিব তোকে দেখে আর তোকে ভোগ করতে চায় কিন্তু আমি বাধা দেই তখন ও আমাকে টাকার লোভ দেখায় আর বলে আমাকে বিয়ে করবে, আমি অনেক ভেবে চিন্তে রাজি হই কারন আমি ভেবেছিলাম তোকে ওর হাতে তুলে দিলে ও আমাকে বিয়ে করবে নাহলে করবে না, কিন্তু তোর আব্বুর জন্য তোকে রাকিবের হাতে তুলে দেয়ার কোনো সুযোগ পাইনি তখনি জানতে পারি শ্রাবনের সাথে তোর সম্পর্ক চলছে

রাকিবের প্ল্যান মতো শ্রাবনকে হুমকি দেই তোর জীবন থেকে চলে যেতে কিন্তু ও যেতে চায়নি তাই তোকে মেরে ফেলার ভয় দেখানোর জন্য বিষ খাইয়ে ছিলাম শ্রাবন যেন ভয় পেয়ে দূরে চলে যায়, তাতেও যখন লাভ হয়নি তখন রাকিব ওর লোক দিয়ে শ্রাবনকে মারধোর করে, তারপর শ্রাবনের আম্মুকে হুমকি দিয়ে আসে আবার তোর সাথে যোগাযোগ করলে তোকে আর শ্রাবনকে মেরে ফেলবে

এসব রাকিবের প্ল্যান ছিল কারন ও তোকে আকাশের বউ করে নিতে চেয়েছিল, এতে রাকিবের দুইটা লাভ ছিল তোকে ভোগ করতে পারবে আর শেষে বাহিরে পাচার করে টাকা পাবে, রাকিব জানতো আকাশ মেঘাকে ভালোবাসে তোকে কখনো মেনে নিবে না আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তোকে ভোগ করতে পারবে কিন্তু ওর কোনো প্ল্যান সাকসেস হয়নি

যখন তুই আকাশকে ডিভোর্স দিয়ে মেঘা আর আকাশের বিয়ে দিলি তখন রাকিব তোর আশা ছেড়ে দেয়, তুই বাসা থেকে চলে আসার পর আমি সুযোগ পেয়ে যাই তোর আব্বুকে বলি তুই এক্সিডেন্ট করে মারা গেছিস, তোর আব্বু হার্ট এট্যাক করে আর এই সুযোগে আমি সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নেই কিন্তু একটা জমি তোর নামে থাকার কারনে নিতে পারিনি কারন এই জমির উইল করা ছিল এভাবে যে তুই মারা গেলে এই জমি এতিমখানার নামে হয়ে যাবে, তখন রাকিব খুঁজ নিয়ে জানতে পারে জমিটা অনেক ছোট কোনো জায়গা না অনেক বড় জমি, রাকিব সিদ্ধান্ত নেয় এই জমিতে হোটেল বানাবে কিন্তু জমি পেতে হলে তোকে প্রয়োজন তাই রাকিব তোকে খুঁজে বের করে আর ফোনে হুমকি দেওয়া শুরু করে, তোর আব্বু না বললে তুই জমি কিছুতেই দিবি না এইটা রাকিব আর আমি জানতাম তাই তোর আব্বুকে রাজি করানোর জন্য রাকিব মারধোর করে আর তুলিকে বাহিরে পাচার করে দেয়ার কথা বলে কারন টাকাও পাবে আর আমাদের বিয়ে করতে সমস্যা হবে না কিন্তু তুলি পালিয়ে আসে, তারপরের সবকিছু তো তোর জানা…..

আম্মুর কথা গুলো শুনে চুপ হয়ে আছি আসলে কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, ওনাকে এখন আমার কি বলা উচিত তাও খুঁজে পাচ্ছি না, সবাই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে

আম্মু তুমি হয়তো একটা কথা ভুলে গিয়েছ “লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু”
তুমি টাকা আর ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে এতোকিছু করলে, নিজের স্বামী সন্তানের চেয়ে টাকা তোমার কাছে বড় হয়ে গেলো

পেয়েছ তো এখন তোমার রাকিবকে প্রাণ ভরে ভালোবাস জেলে বসে বসে দুজন দুজনকে, এখন তোমার টাকা কোথায় তোমাকে মুক্ত করে নিয়ে যায় না কেন
ছিঃ তোমাকে আম্মু বলে ডাকতে আমার ঘৃণা হচ্ছে, পাপ যখন করেছ এখন শাস্তি ভোগ কর, পাপের শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে…..

আম্মু নিশ্চুপ হয়ে শুনছে আর চোখের পানি ফেলছে, আমরা চলে আসলাম ওখান থেকে……

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here