জীবনেরডায়েরি২ পার্ট: ২৩

0
419

জীবনেরডায়েরি২

পার্ট: ২৩

লেখিকা: সুলতানা তমা

শ্রাবন চমকে উঠে আমার দিকে থাকালো, ওকে দেখে তো আমি চমকে গেলাম কি অবস্থা করেছে নিজের কাঁদতে কাঁদতে চোখ দুইটা ফুলিয়ে ফেলছে, আমি ওর চোখের দিকে কিছুক্ষণ থাকিয়ে রইলাম হঠাৎ ও বসা থেকে দাড়িয়ে আমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো, অঝরে কাঁদছে ও বাধা দিচ্ছি না কাঁদুক আজকেই ওর শেষ কান্না আর কখনো ওকে কাঁদতে দিবো না
–তমা আমাকে ক্ষমা করেছ তো
–তুমি তো অন্যায় করনি আমিই ভুল বুঝেছিলাম
–অন্যায় করেছি তো, তুমি কতো যুদ্ধ করে আমার জন্য অপেক্ষা করেছ আর আমি কিনা
–এইটা স্বাভাবিক আমার বিয়ে হয়ে গেছে তো তুমি একা থাকবা কেন
–তাও….
–হইছে বাদ দাও এখন এসব কথা আর আমাকে ছাড়ো
–ইসসসসসস কতো দিন পর জরিয়ে ধরেছি আর এতো তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিব
–মা চলে আসবে তো হঠাৎ
–আসবে না আম্মু জানে উনার ছেলে আর বউমা প্রেম করছে
–হুহ বলছে তোমাকে
–জ্বী চলো ছাদে যাই
–ওকে

শ্রাবনের সাথে ছাদে আসলাম, প্রথম আসলাম এই ছাদে, তেমন বড় নাহলে প্রেম করার জন্য পারফেক্ট জায়গা হিহিহি
–ওই পেত্নী হাসতেছ কেন
–ছাদটা প্রেম করার জন্য পারফেক্ট জায়গা এইটা ভেবেই হাসছি
–জ্বী এখন আমি প্রেম করবো বলেই আমাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে চুলে মুখ গুঁজে দিলো পাগল একটা
–কতোদিন পর তোমার চুলের ঘ্রান নিচ্ছি
–তাই
–জ্বী সহজে ছাড়ছি না আজ
–(নিশ্চুপ)
–তমা এখন তো তোমার রাগ কমেছে বিয়ে কবে করবো আমরা
–তোমার ইচ্ছা
–আমি তো চাই এই মুহূর্তে বিয়েটা করে ফেলি আর তোমাকে আমার করে নেই
–এই মুহূর্তে তো আর হবে না আব্বুর সাথে কথা বলো
–শশুড় আব্বু যদি দেরি করেন আমি কিন্তু আর দেরি সহ্য করতে পারছি না
–আগে তো কথা বলে দেখ আর রিয়া তো আছেই দেরি করবে না
–ঠিক আছে

দুজনই চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছি আমি আকাশের দিকে থাকিয়ে আছি আর পাগলটা আমার চুলের ঘ্রান নিতে ব্যস্ত, এই মুহূর্ত গুলো যদি ধরে রাখা যেতো খুব ভালো হতো, দুজনের নিরবতা ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ শ্রাবনের ফোনটা বেজে উঠলো

অনেকক্ষণ হুম হুম বলে কার সাথে যেন কথা বললো, হুম হুম বলাতে কিছুই বুঝলাম না, ফোনটা রেখেই আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে হাসতে শুরু করলো
–কি হলো হঠাৎ
–কে ফোন দিয়েছিল জানো
–কে
–নিপা
–হুম
–ভেবেছিলাম ও আমাকে অভিশাপ দিবে কিন্তু ও আমাকে অভাক করে ক্ষমা করে দিয়েছে আর তোমাকে ধন্যবাদ দিয়েছে
–কেন
–ওর সত্যিকারের ভালোবাসা পাইয়ে দিয়েছ তাই
–হুম
–নিপা চায় এক আসরে দুই বিয়ে হউক
–মানে
–তোমার আমার আর নিপা হৃদয়ের
–নিপা এতো সহজে সবকিছু মেনে নিলো
–হুম
–যাক ভালই হলো নিজেদের আর অপরাধী মনে হবে না
–জ্বী এখন চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আমি একটু বাইরে যাবো আর রাতে তোমার আব্বুর সাথে কথা বলবো
–ঠিক আছে

শ্রাবন বাইরে চলে গেলো আর আমি বাসায় চলে আসলাম, এসে দেখি রিয়া আর তুলি বাসার জিনিসপত্র গুচাচ্ছে বিষয়টা এমন যেন বাসায় কোনো অনুষ্ঠান, রিয়া কে জিজ্ঞেস করলাম
–কিরে বাসায় কি মেহমান আসবে
–হ্যা অনেক মেহমান আসবে
–কেন
–তোকে বিয়ে নেওয়ার জন্য
–মানে
–ভয় পাসনা বিয়েটা শ্রাবনের সাথেই হবে
–ভয় পাবো কেন
–যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যায়
–তুই থাকতে অন্য কোথাও হবে না
–হুহ এখন আমাকে পাম দেওয়া হচ্ছে আর তখন যে এতো করে বললাম শ্রাবন তোকেই ভালোবাসে বিশ্বাস হয়নি
–মাথা ঠিক ছিল নারে
–পরশু দিন মাথা ঠিক হবে
–মানে
–পরশু দিন তোদের বিয়ে
–মানে কি বিয়ে কবে ঠিক হলো
–তুই দৌড়ে যখন শ্রাবনের কাছে চলে গেছিলি তখন-ই আঙ্কেল সবাইকে নিয়ে বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলেছেন তুই আর শ্রাবন বাদে সবাই জানে
–আমাদের বিয়ে আর আমরাই জানি না
–বিয়ে কিন্তু দুইটা হবে
–মানে
–তোর-শ্রাবনের আর নিপা-হৃদয়ের
–এইটাও ঠিক করে ফেলেছিস
–হুম সবাই মিলেই ঠিক করলো

আর কিছু না বলে তাড়াতাড়ি রুমে চলে আসলাম শ্রাবনকে তো বিয়ের কথাটা জানাতে হবে, ফোন দিলাম কিন্তু রিসিভ করছে না উফফফফফফ এমন খুশির সময়ে ফোন রিসিভ না করলে কেমন লাগে, ইচ্ছে হচ্ছে….
যাক অবশেষে রিসিভ করেছে
–হ্যালো
–এতো সময় লাগে ফোন রিসিভ করতে
–কি হয়েছে বলতো এমন অস্থির হয়ে কথা বলছ কেন
–আমাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে
–মানে কবে
–সবাই মিলে ঠিক করেছে আগামী পরশু
–যাক বাবা আমি তো ভেবেছিলাম আমার শশুড় আব্বু বুঝি দেরি করবে এখন দেখি শশুড় মশাই আমার কষ্টটা বুঝেছেন
–হিহিহি
–এতো হেসো না পরশুদিন সব হাসি বের করবো
–হূহ ভয় পাইছি
–ভয় তো পরশু রাতেই পাবা হাহাহাহা
–ফাজলামো শুরু করেছ ফোন রাখো
–আর তো মধ্যে একদিন বিয়ের আগে প্রেমের এই একদিন প্রেম করতে দাও পরশু রাত থেকে আমার বউয়ের সাথে প্রেম করবো
–(নিশ্চুপ)
–ওই পেত্নী বাসর ঘরের প্রেম কেমন হয় জানো
–দূর ফাজিল

ফোনটা রেখে দিলাম তাড়াতাড়ি ফাজিলটায় ফাজলামো শুরু করেছে, এতো বছরের এতো এতো কষ্ট যেন এক নিমিষেই ভুলে গেলাম খুব বেশি ভালো লাগছে মনে হচ্ছে আজ আমিই পৃথিবীর সেরা সুখি মানুষ

এতো আনন্দের মাঝেও কোথায় যেন একটু ভয় হচ্ছে আবার যদি কোনো জামেলা হয়, কথায় যে আছে তৃষ্ণার্ত যেদিকে যায় সাগরও শুকিয়ে যায়……

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here