ছাত্রী Love Twist part 1

0
1486

ছাত্রী Love Twist part 1

লেখকঃ সানভি আহমেদ সাকিব।
.
আজকে প্রথম প্রাইভেট পড়াইতে যাইতাছি।
জিবনে কোনোদিন প্রাইভেট পড়াই নাই।কাকে পড়াবো তা জানি।একটা মেয়ে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে নাম নিলিমা।
এই অনিকের জন্য এই অবস্থা।
.
আজকে ওর জন্য আমাকে প্রাইভেট পড়ানো লাগতাছে তাও আবার বাড়িতে এসে।জিবনে কোনোদিন ভাবিও নাই যে প্রাইভেট পড়াবো।
আজ যদি ওর ছাত্রির বড় বোনকে নিয়ে না ভেগে যেতো
তাহলে আজ আমার এই অবস্থা হতো না।
.
দুইদিন আগে ঘুমাচ্ছিলাম হঠাৎ একটা ফোন এলো,
– হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।(আমি)
– ওয়ালাইকুম আসসালাম তুমি কি সানভি?(একটা মহিলা)
– জ্বি কেনো?(আমি)
– তুমি একটু বাসায় আসো আমি রুহির আম্মু বলছিলাম।(আন্টি)
– জ্বি আন্টি আসতাছি।(আমি)
.
তারপর রেডি হয়ে ছুটলাম তার বাসার দিকে।
হঠাৎ এতো জরুরি ডাক কেনো পড়লো।
বুঝলাম না কিছু। আন্টির সাথে সম্পর্ক ভালো তবে অনিককে না ডেকে আমাকে কেনো ডাকলো।
যাই হোক,
.
বেশ উত্তেজনার সহিত বেল টিপলাম।
দশ সেকেন্ডের মধ্যে দরজা খুলে দিলো একটা মেয়ে।
o my god..
i am in love..
মেয়েটাকে দেখেই একটা ঝটকা খেলাম কেমন যানি লাগতাছে। উহু নিজেকে সামলে নিলাম।আশেপাশে মানুষ আছে।
.
একটু ভালো করে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা ক্যাবলার মতো হা করে তাকিয়ে আছে। আমি গিয়ে বসলাম সোফায়।
– জি আন্টি বলুন কি হইছে?(আমি)
– একটা রিকুৃয়েস্ট রাখবে আমার বাবা?(আন্টি)
– আন্টি রিকুয়েস্ট কেনো বলছেন আদেশ করুন।(আমি)
হাওয়া দিলাম।
.
– বাবা আমার মেয়েটার তো পরিক্ষা কয়মাস পর কিন্তু অনিক তো নাই ওকে এখন কে পড়াবে। যদি তুমি একটু পড়াতে তাহলে ভালো হতো।(আন্টি)
– কেনো আন্টি অনিক কই গেছে?(আমি)
– তুমি যানোনা কিছু.?(আন্টি)
– কি যানবো আন্টি?(আমি)
.
– অনিক তো নিলিমার খালাতো বোনকে নিয়ে পালাইছে।(আন্টি)
– আন্টি নিলিমা কে আর অনিকক তো আমাকে কিছু বলে নাই।(আমি)
– ও হলো নিলিমা আমার মেয়ে ওকেই পড়াতে হবে।(,,আন্টি)
– জ্বি আন্টি (আমি)
.
– বাইরে খুশি খুশি ভাব দেখালেও মনে মনে অনিককে গালি দিতাছি।সালা তোর জন্য ফাইসা গেছি।কিন্তু কই ও।ও মেয়ে নিয়া পালাইছে আর আমাকে বলে নাই এই কাজটা ক্যামনে করলো ও।
.
আমি বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।
ভালো লাগতাছে না মেয়েটা আমারর একক ব্যাচ জুনিয়র।
মানে প্রায় সমবয়সি যেভাবে তাকাই ছিলো আল্লাহই ভালো যানে সামনে কি করবে।
.
রাত্রি বেলা অনিককে ফোন দিলাম।
ওপাশ থেকে এক সুন্দর মেয়ে কন্ঠে বলে উঠলো,
– আপনার কাঙ্খিত নম্বরটিতে এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
এভাবে বারবার একই জিনিস।মানে হলো ফোন বন্ধ।
এমন সময় একটা নাম্বার থেকে কল আসলো,
এইটা সিউর অনিক।
দাড়ান আজকে ওরে খাইছি,
ফোন রিসিভ করেই বলতে লাগলাম।
– ওই শালা অনিক্কার বাচ্চা ভদ্র ঘরের লু্চ্চা বাইন** তুই মেয়ে নিয়ে পালাইছোস আমাকে বলোস নাই কেনো।(আমি)
– স্যার আপনি এগুলা কি বলতাছেন আমি নিলিমা কালকে কখন পড়াতে আসবেন সেটা বলত ফোন দিছিলাম আর আপনি এইসব বাজে কথা বললেন।আমি এখন আম্মুকে বলে দিবো।(নিলিমা)
বলেই ফোন কেটে দিলো,

হায় আল্লাহ কার যায়গায় কাকে গালি দিছি।
এরপর সারারাতে তিনটা কল আসছে সবগুলাকেই সালাম দিছি।
চার নম্বর কলটা আসে সকালে।
তখন আমি ঘুমাচ্ছি।আর এই সময়ে কে কল দিলো।
দাড়া তোকে দেখাচ্ছি মজা।
ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি অনিক।
.
– ওই শালা হারামজাদা লুইচ্চা ছাগলের ১৪ নাম্বার বাচ্চা তুই আমাকে না জানিয়ে পালাইছোস কেনো??(আমি)
– আরে ভাই থাম একটু হঠাৎ কইরা ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।(অনিক)
– হুমম তাই বলে না জানিয়েই।(আমি)
– সময় বা সুযোগ কোনোটাই ছিলো না দোস্ত।(অনিক)
– তোকে সামনে পাইলে আমি কুপাইয়া মারতাম।টাকা আছে পকেটট এ?(আমি)
– কিছু আছে।(অনিক)
– আমি তোর নাম্বারে ১০০০০ টাকা বিকাশ করতাছি। খবরদার ভাবিকে নিয়ে খারাপ যায়গায় থাকবি না।দে ভাবিকে দে ফোনটা।(আমি)


….
– হ্যালো।(ভাবি)
– আচ্ছা আপনার কি কমন সেন্স বলতে কিছুনাই কাওকে না জানিয়ে টাকা পয়সা না নিয়ে হুট করে বেরিয়ে গেলেন বাসা থেকে।(আমি)
– ওইরকম সিচুয়েশন ছিলো না তখন।(ভাবি)
– আচ্ছা যা করছেন করছেন এবার ভালোয় ভালোয় কয়টা দিন গা ঢাকা দিয়া থাকেন। বিয়ে তো করছেন তাইনা?(আমি)
– হ্যা বিয়ে করছি।(ভাবি)
– ঠিক আছে তাহলে ভাবি গাধাটাকে দেখে রাইখেন এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কাজ করেনা ও কোথায় ছাত্রিকে নিয়ে পালাবে তা না বড় বোন নিয়ে পালাইছে।(আমি)
– কিছু বললা?(ভাবি)
– না ভাবি আমি রাখি পরে কথা বলবো।(আমি)
– আচ্ছা বাই।(ভাবি)
,
কলটা কেটে দিয়ে ওর নাম্বারে বিকাশ করলাম ১০০০০ টাকা আর একটা টেক্সট করলাম।
– সব ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করিসনা।
আসলে এই সময় ছেলেরা একটু কনফিউশনে ভুগে যে কাজটা কি ঠিক করলাম নাকি ভুল।
মেন্টাল সাপোর্ট দিলে অনেক ভালো হয়।
.
ওকে চিন্তামুক্ত রেখে এখন নিজেই চিন্তায় আছি।
রাতে তো সেই গালি দিছি।আজকে পড়াতে গেলেতো মনে হয় আমার অবস্থা হাওয়া হয়ে যাবে।।
যাই হোক সেটা রাতে দেখা যাবে আপাতত এইসব বাদ।
.
সারাদিন পর
রাতে পড়ানোর জন্য যাইতাছি,
হাটতে ইচ্ছা করতাছে না।
পা চলছে না।
একটাই চিন্তা কালকে রাতে গালির কথা যদি সবাইকে বলে দেয় তো সবাই কি ভাববে আমাকে।
বাড়ির সামনে চলে আসছি।
বেল বাজাতেই নিলিমা দরজা খুলেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো,
কি হলো এটা??
বুঝতে পারলাম না মানে আমি কি স্বপ্নে আছি নাকি বাস্তবে কোনটা??
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি।
,
চলবে??

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here