ছাত্রী Love Twist পর্ব ৪

0
1139

ছাত্রী Love Twist পর্ব ৪
লেখকঃ সানভি আহমেদ সাকিব।

.
যাই হোক এতো ভেবে কাজ নেই
একটা মাস ই তো তারপর তো পড়ানো ছেড়ে দিবো।
ব্যাস হয়ে যাবে সে তার রাস্তায় আর আমি আমার রাস্তায়।
এরপর বাসায় চলে আসলাম।
এসব ভেবে কাজ নাই এবার ঘুমাতে হবে আমাকে।
প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে।
রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে গেলাম।
.
এরপর কেটে গেলো প্রায় বিশ দিন।
এর মধ্যে অনিকের সাথে তেমন কথা হয়নি সালায় বউ নিয়ে ভালোই আছে মনে হচ্ছে।
আমার খবর ও নেয়না একবার সামনে পাইলে থাপড়াইয়া গাল লাল বানিয়ে দিতাম।
.
এই বিশদিনে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে নিলিমা মানে আমার ছাত্রী আমাকে প্রতিদিন প্রোপোস করছে।
কেমন লাগে বলেন তো।আমারতো ভালোই লাগে একটা মেয়ে বারবার প্রোপোস করতাছে একটু ভাব বেড়ে গেছে আরকি।
যানিনা আজকেও প্রোপোস করবে কিনা।
চলুন দেখে নেই কি হয়।
সন্ধায় পড়াতে গেলাম আজকে ২১ তম দিন।
বাসায় ডুকতেই নিলিমা চুপচাপ চা আনতে চলে গেলো।
আমি বসে বসে আমার ছাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম।
কিছুক্ষন পর নিলিমা এসে চা দিয়ে আমার সামনের চেয়ারে বসে পড়লো।
– স্যার একটা কথা বলি??
– কি বলো।
– রাগ করবেন নাতো?
– নাহ বলো।
– আসলে আপনাকে আমার খুব কিস করতে ইচ্ছা করতাছে।
আমি ওর কথা শুনে চা টা বেশি করে খেয়ে ফেলেছি যার কারনে জিহ্বা টা পুড়ে গেছে।
– কি কি কিইইই বললা তুমি?
– বললাম আপনাকে খুব কিস করতে ইচ্ছে করতাছে।
– দেখো তুমি আমার ছাত্রী তাই কিছু বললাম না নইলে আজকে বুঝিয়ে দিতাম আমি কে।
– কি করবেন আপনি করেন।(রেগে গিয়ে)
আমার দিকে এগিয়ে আসলো।
তারপর চেয়ারের ওপর একটা হাত রেখে আমার কাছে চলে আসলো।
আমি উঠে দাড়াতেই কিস করে বসলো।
আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো।
ভুলে গেলাম সে আমার ছাত্রী।
ঠাস করে একটা চড় মেরে দিলাম নিলিমার গালে।
– আর একদিন যদি এরকম করছো তোমার আম্মুকে জানাতে বাধ্য হবো আমি।
নিলিমা গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
আমি চলে আসলাম।
পুরো রাস্তা শুধু একটা কথাই ভেবেছি চড় মারাটা কি উচিত হয়েছে।
আবার ভেবেছি অনেক দুর পর্যন্ত চলে গেছিলো আজকে কিছু না বললে হয়তো আরো অনেক দুর পর্যন্ত চলে যেতো ঘটনাটা।
.

বাসায় এসে এই শীতের দিনেও গোসল করলাম।
রাগ বেশি হলে প্রায়শই এরকম করি।
গোসল করে রাগটা কিছুটা কমলো।
তারপর ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালবেলা ছাত্রী ফোন দিয়ে বললো,
– আজকে আসতে হবেনা আপনাকে কালকে থেকে আসবেন।
– আচ্ছা।
আমি ভাবলাম হয়তো আর পড়াতে হবেনা কোনো একটা বাহানা দিয়ে আমাকে বাদ দিয়ে দিবে।
কিন্তু তাহলে পরের দিন কেনো যেতে বললো।
সে যাই হোক আমি বাচলেই হলো।
,
পরের দিন তাকে পড়াতে গেলাম।
প্রতিদিনের মতো নিলিমা দরজা খুলে দিয়ে চা আনতে চলে গেলো।
সবকিছু স্বাভাবিক ই মনে হলো।
কিন্তু যখন সে মজা বাদ দিয়ে পড়ায় মন দিলো তখন মনটা কেমন যানি করে উঠলো।
কালকের জন্য হয়তো এমন করছে।
এক হিসেবে ভালোই হইছে অন্তত পড়ায় মন দিবে।
.
সেদিন পড়া ছাড়া কোনো কথা হয় নাই।
এমনকি আই লাভ ইউ ও বলে নাই।
আমার তো খুশি হওয়ার কথা আমি কেনো মিস করছি এসব।
মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলাম এসব।
কিন্তু পরের দিন যখন আবারো একি কাহিনি ঘটলো তখন কেমন যানি একটা খারাপ লাগলো।
.
এভাবে কেটে গেলো আরো কিছু দিন।
আজকে ২৯ তম দিন।
এই কয়দিনন ওর ইগনোরেন্স আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।
কিন্তু বলবো কিভাবে। আমিই তো মানা করেছি আর আমি তার টিচার হয়ে কিভাবে তাকে ভালোবাসার কথা বলি।।
নিজেকে নিজের কাছে খুব ছোট মনে হতে লাগলো।
.
তবুও বলতে হবে।
নাহ কিছুদিন যাক তারপর বলবো।
এখন না।
আর ওকে পড়ানো ছেড়ে দিবো তাহলে তো আর আমি ওর টিচার থাকবো না।
আজকে আন্টিকে বলবো আমি আর ওকে পড়াবো না।
,
পড়াতে গিয়ে নিলিমাকে বললাম।
– আন্টিকে ডাকো কথা অাছে।(আমি)
– আম্মু আপনাকে আর আসতে মানা করেছে।(নিলিমা)
– কেনো?
– আমার বিয়ে সাত তারিখ ওইদিন আমাকে দেখতে এসেছিলো তাই আপনাকে আসতে মানা করছিলাম।
আপনি একেবারে বিয়ের দিন আসবেন আর এই নেন আপনার বেতন আপনি এবার যেতে পারেন।
– আচ্ছা।
টাকাটা পকেটে নিয়ে বাইরে আসার সময় নিলিমারর দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর চোখে জল।
বাইরে আসতেই কালো অন্ধকার আমাকে আড়াল করে দিলো।
আমার মাথায় শুধু একটাই কথা ঘুরতাছে তবে কি তাকে পাওয়ার আগেই হারিয়ে ফেলবো।
মাথা কাজ করছে না।
কেনো যানি ভিতর থেকে একটা অজানা ব্যাথা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।
,
বাসায় এসে ভাবলাম অনেক ভাবলাম।
তাকে ছাড়া আমার সম্ভব না। আমি নিলিমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
ফোনটা হাতে নিয়ে ভাবতাছি ফোন দিবো নাকি দিবোনা।
শেষমেষ কাপা কাপা হাতে কল দিলাম।
তিন চার বার রিং হতেই রিসিভ হলো,
– হ্যালো।(আমি)
– জ্বি বলুন?(নিলিমা)
– কিভাবে বলবো বুঝতাছি না আসলে আমিও তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি তুমি ছাত্রী বলে আমি এতোদিন কিছু বলিনি তোমাকে ইগনোর করছি বাট আমি এখন তোমাকে বলতাছি নিলিমা আমি তোমাকে সত্তিই ভালোবাসি.(আমি)
– আপনার বলা শেষ হলে রাখতে পারেন।(নিলিমা)
– মানে?(আমি)
– মানে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এখন এসব বলে লাভ নেই বিয়েতে আসলে খুশি হবো।(নিলিমা)
ফোনটা কেটে গেলো।
চলবে??

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here