চশমাওয়ালা_ছেলেটি _পর্ব_৩

চশমাওয়ালা_ছেলেটি
_পর্ব_৩
Written by Avantika Anha
রাতে…….
আমি শাম্মি কে ফোন দিলাম ।
শাম্মি : বল
আমি : জাহিদ সেই গান করে তাই না । আমার সেই ভাল্লাগছে
শাম্মি : হুম কিন্তু
আমি : কি?
শাম্মি : কিছুনা ( আসলে শাম্মি জাহিদ কে পছন্দ করে )
আমি : কিছু লুকাচ্ছিস ?
শাম্মি : না কি লুকাবো
আমি : জাহিদ কে পছন্দ করিস তাই না ( আসলে আমি আগেই বুঝছি )
শাম্মি : না এমন কিছু না
আমি : আমার কাছে লুকাবা সোনা আমি তোকে সবচেয়ে বেশি চিনি ।
শাম্মি : হুম পছন্দ করি
আমি : আমি তো জানি ( হাসে হাসে )
শাম্মি : কেমনে
আমি : আমি তোকে বুঝি বুঝলি
শাম্মি : হুম দোস্ত এখন পটায় দে না
আমি : ভরসা রাখ
শাম্মি : ওকে
আমি : বেব্বি
শাম্মি : বল
আমি : আইসক্রিম খামু খাওয়া না
শাম্মি : ওকে
আমি : দুলাভাইরে ডাকতাছি দ্বারা
.
আমি ফোন টা রেখে জাহিদ রে ফোন দিলাম
আমি : ওই জাহিদ্দা
জাহিদ : কি রে কিটক্যাট ( আমি বেশি কিটক্যাট খাই । তাই অনেকে আমাকে কিটক্যাট বলে ডাকে )
আমি : চল আইসক্রিম খামু
জাহিদ : খাওয়াবি ?
আমি : শাম্মি খাওয়াবে
জাহিদ : শাম্মি আসতেছে ?
আমি : হ
জাহিদ : আইতাছি
.
.
দোকানে……
আমি : জাহিদ কি শুনতাছি এইসব
জাহিদ : কিই ?
আমি : তুই শাম্মি কে নাকি ভালোবাসিস ( একটু সিরিয়াস ভাবে )
জাহিদ : কি বলিস ( কিছুটা ভয় পেয়ে কারণ ও সত্যিই শাম্মি কে পছন্দ করে
শাম্মি : ওই আনহু থাম
আমি : না আমাকে বলতে দে
জাহিদ : না মানে
আমি : না মানে কি বাসলে বল
জাহিদ : ম-ম-মানে আ-আ-আ-আসলে হুম
আমি : আমি তো জানি হিহি
জাহিদ : মজা করছিলি ?
আমি : হ কজ আমি দেখছি তুই আড় চোখে শাম্মির দিকে তাকায় থাকিস আর শাম্মিও তোর দিকে তাকায় থাকে। তাই আজ অন্ধকারে ঢিল মারলাম আর লাগে গেলো । এখন ট্রিট দে তোরা
.
শাম্মি আর জাহিদ একসাথে আমার মাথায় মারলো আর বললো হারামিইইইইই ।
.
আমি : মারিস কেন ?
শাম্মি : এমন করলি কেন ?
আমি : এটা না করলে কোনোদিন কেউ কাউকে বলতে পারতি ?
জাহিদ : ও ঠিকই করছে
শাম্মি : হুম
.
ওরা দুজন একে অপরের দিকে তাকায় আছে ।
আমি : হ্যালো লাভ বার্ডস আমিও আছি । হুর আমি পালাই তোরা থাক ।
.
তারা : হুম ( না বুঝেই )
আমি : হায় কপাল আর থাকুম ই না
.
আমি দোকানদার আঙ্কেল এর কাছ থেইকা দুই বক্স আইসক্রিম আর‌ একটা কোন আইসক্রিম নিলাম আর বললাম বিল ওরা পে করবে ।
.
বলেই পালাইছি হিহি । পরে আমার কপালে মার আছে । তার আগে আইসক্রিম ।
.
আলসক্রিম খেতে খেতে যাচ্ছিলাম ।
এমন সময় জাহিদের ভুত কে আবার দেখলাম আর ভয়ে : তুই এখানে কেমনে
(আসলে ওটা নাহিদ ছিল । একটা কাজে বের হইছিল)
নাহিদ : হায় রে এই মেয়ে আবার ( আস্তে বললো )
আমি : ভুউউউউউউউউউউউত
নাহিদ : মানে
আমি : ভুত আমি আপনার কি ক্ষতি করছি ?
বারবার আমাকে দেখা দেন কিনু । ছোট মানুষ ভয় পাই না বুঝি । আপনাকে একটা কিটক্যাট দিমু তবুও আর আইসেন না আমার সামনে ।
নাহিদ : এ্যা ( এই মেয়ে আমাকে ভুত বলে কেন ? হায় কপাল )
আমি : এই নেন কিটক্যাট আর আমি ভাগলাম
.
দিছি দৌড় ।
.
তারপরে বাড়িতে…..
আম্মু : কই গেছিলি ?
আমি : আইসক্রিম কিনতে
আম্মু : ওহ
আমি : প্রেয়সি কই
আম্মু : রুমে
আমি : ওই বক্স টা রাখো আমি আর প্রেয়সি এই বক্স টা খামু
আম্মু : বেশি খাইস না রাতে ঠান্ডা লাগবে
আমি : কিচ্ছু হইবো না
.
আইসক্রিম খাওয়া শেষে ছাদে গেলাম ।
গিটার হাতে ।
গান গাচ্ছিলাম । এমন সময় নাহিদ আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল । আবার শুনতে পায় এলোকেশির গাওয়া গান ।
স্তব্ধ হয়ে যায় সে । চুপ করে শুনতে থাকে । হঠাৎ গান বন্ধ হয়ে যায় ।
.
.
আসলে আম্মু ডেকেছিল সেই সময়। তাই আমি চলে যাই । কিন্তু নাহিদের হুস ফেরে গান থামতেই । সে খুঁজতে থাকে কিন্তু কারো চিহ্ন পায় না । কারণ আমি তো চলে এসেছিলাম ।
.
নাহিদ নিজেকে বলে : হুর বোকা আগে কে গাচ্ছে দেখতি তারপর ওর গানে ডুব দিতি । গাধা । কিন্তু একটা জিনিস সিওর ও আশেপাশেই থাকে ।
.
নাহিদ চলে যায় ।
.
.
এদিকে নাহিদের বাড়িতে…..
জাহিদ : ভাই তোর ভাবি পাইছি
নাহিদ : ওয়াও খুব ভালো তো
জাহিদ : হ থেংকস টু কিটক্যাট থুক্কু আনহা ।
নাহিদ : ওই গুন্ডি মেয়েটা বাপরে
জাহিদ : কি বলিস
নাহিদ : হ আর বলিস না ( বললো কি কি হইছে )
জাহিদ : হাহা সেই তো ।
মজার কাহিনী জানিস । শাম্মি আর আমার ভালোবাসাও ধাক্কার মাধ্যমে শুরু । তোরও ভাগ্যে মনে হয় আনহা । শাম্মির বেস্টু
নাহিদ : আরে না । আমি আরেকজন কে ভালোবাসি ।
জাহিদ : ওমা কেমনে আমার ভাইও আবার প্রেম করে ।
নাহিদ : হুম এলোকেশি সে । তার গাওয়া গান মুগ্ধ করে
জাহিদ : আনহাও সুন্দর যদিও ওরে চুল ছাড়া অবস্থায় দেখি নি তাই বলতে পারছি না ওর চুল কেমন । কিন্তু ও সেই গান গায় । শুনবি দ্বারা ।
নাহিদ : আচ্ছা শুনা
.
জাহিদ গান অন করবে । এমন সময় তাদের মা ডাক দিলো ।
.
গান টা শোনা হলো না । সেই সাথে নাহিদও জানতে পারলো না যে যেই এলোকেশির স্বপ্নে সে মশগুল সে আর কেউ নয় আনহা ।
.
পরেরদিন….
প্রচন্দ বৃষ্টি হচ্ছিল । জাহিদ বের হয়েছিল কি জানি করতে । এমন সময় দেখলো একটি মেয়ে ছাতার আড়ালে কিন্তু চেহারা পুরোটা দেখলো না । মেয়েটি তার ছাতাটি এক বৃদ্ধা কে দিয়ে দিলো । মেয়েটা অপর প্রান্তে ঘুরে ছিলো । তাই দেখতে পেল না ।
.
কিছু সময় পর দেখলো মেয়েটি আনহা ।
ভাবলো…. ফাজিল মেয়েটা ওতোটাও খারাপ না ।
নাহিদ চলে গেলো । মনের মাঝে নিয়ে গেলো ওই এলোকেশির স্মৃতি ।
.
এরপর থেকে নাহিদ এলোকেশি কে খুঁজতে লাগলো । খোঁজ নিল কিন্তু ওই জায়গায় ২ টা মেয়ে থাকতো প্রায় সমবয়সী । নাহিদ বুঝলো তার এলোকেশি ওই দুটো মেয়ের মাঝে একজন কিন্তু কে ?
পরে জানলো ওই দুটো মেয়ের একজন আনহা আরেকজন জান্নাত নামের এক মেয়ে ।
.
কিন্তু এলোকেশি কে এটাই ছিলো নাহিদের কাছে প্রশ্ন ।
.
.
.
কিন্তু নাহিদের কাছে ওতো সময় ছিল না । তার ভার্সিটি শুরু হওয়ার সময় কাছে আসলো । তাই তাকে ঢাকা ফিরে যেতে হলো । কিন্তু সে মনে গেঁথে নিয়ে গেলো এলোকেশির স্বপ্ন ।
.
চলবে………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here