গল্প : মিজাজটা কেমন লাগে !!!

0
210

গল্প : মিজাজটা কেমন লাগে !!!

Writer : Tannoy(পিচ্ছি ফাজিল)

– দোস্ত শোন তুই কীইইই কোনদিন
মানুষ হবি না আর বল। (সজিব)
– কেন আমি কিতা করলাম।
– ঐ সালা কী করছিস মানে, আমাগো
গাছের ডালিম ও কাল রাতে পারছস
তাই না।
– আরে ভাই বিশ্বাস কর আমি পারতে
চাই না, ঐ সালা রাসেল রাত ১২ টার
দিকে ডাইকা নিয়া গেল
হেব্বি খিদা লাগছিল তাই হাতের
কাছে তোগ ডালিম পাইছি,
আহারে ভাই কীইইই যে স্বাদ তোরে
কী কমু।
– ঐ হারামি আমাদের গাছের ডালিম পাইরা
খাইছস আর আমারেই এই সব কইতাছস।
আমার বাপে কত্ত খিস্তি দিছে জানস কইছে
আমি নাকি খাইছি।
– চিন্তা করিস না ভাই, আমি খালি
বড়লোক হইয়া যাই, তারপর তোরে
ডালিম কিন্না দিমু তুই তোর বাপে মুখের
উপরে ডালিম ছুঁড়ে দিয়া এই খিস্তির
প্রতিশোধ নিস ভাই।
হঠাৎ রাসেল আসল।
– সালা ফইন্নি তুই হবি বড়লোক, কুত্তা হারামি
তুই জীবনে ভালা হবি না। (রাসেল)
– ঐ সালা তোর আবার কীইইই হল, তোরে
কালকে রাতে কত্ত দামি জিনিস খিলাইলাম
তার প্রতিদান এই দিতাছস।
– সালা কুত্তা রাত ১২ টার দিকে আমার ঘুম
ভাঙ্গাইয়া সজিব দের গাছের ডালিম পারলি,
ভালা কথা আমার জন্য আব্বাই সেই নাটর
থেকে সন্দেস আনছিল খাঁটি দুধের ছানার
সন্দের, সেইটা কখন চুরি করে খাইছস বল।
– আরে ভাই যখন তোরে রাতে ডাকতে
গেছিলাম না তখন মাইরা দিছি, হি হি।
– ঐ তুই না বললি রাসেল তোরে ডাইকা
নিয়া গেছিল, আমি যানতাম রাসেল
এমন না তুই সালা পুরাই একটা হারামি।
– হুমমমম হইছে এবার থাম, যেদিন বড়লোক
হমু না সালা জীবনে ও তোগ নাম কইমু
না তোরা মোর বন্দু ছিলি।
– তুই কেমন বড়লোক হবি সেটা জানা আছে, তোর বাপ হইল ফকির আর তুই
সালা ফইন্নি (সজিব)।
– অফ যা, আমি না তোদের মতো বাপে আসা
করি না, নিজেই একদিন অনেক
বড় হমু দেখিস, আমার নাম পুরা দেশে
ছড়াই পড়ব, তন্নয় তন্নয়
আহা কীইইই ভালাটাই না লাগব।
– চুপ সালা তোরে কেডাই চিনেরে,
পেঁটে কিছু নাই আর ঐ হা কইরা সপ্ন না দেখে , খিদা লাগছে বুদ্ধি বের কর (রাসের)।

– ভাই একটা ফাটাফাটি বুদ্ধি পাইছি।
– কীইইই বল তারাতারি (সজিব)।
– আসলে না কোন বুদ্ধিই পাই নাই হি হি হি।
দুইডা কেমন বাঘের মতো চাইয়া আছে।

হঠাৎ একটা মেয়ে এসে বলল আপনাদের
মধ্যে তন্নয় কে।
– হি হি আমিই তন্নয় বলেন। কিন্তুু আমরা
তো অনেক দিন থেকে কিছু চুরি
করি নাই কারো, আচ্ছা যাই করের
এই খানেই বলেন অন্য কোথাও
নিয়া যাইয়েন না পিলিজ।
– আরে না না আন্টি বলল আপনি নাকি
কম্পিউটার এর সকল প্রবলেম
ঠিক করতে পারেন তাই আসছিলাম।
– হি হি একদম কারেক্ট যায়গায় আসছেন।
কিন্তুু একটা সমস্যা আছে, আমার এই
নাদুস নুদুস বন্ধু হেব্বি খিদা
লাগছে বুঝছেন যদি একটু বাড়িতে
গিয়ে কাইতে দিতেন।
– আরে এটা আবার বলতে হবে নাকি,
চলেন তারাতারি।

মেয়েটা আগে আগে আমরা পিছন পিছন।
– কীইইই মেয়ে রে ভাই, (রাসের)
– চুপ সালা তোর ভাবি লাগে বুঝলি।
আর এইসব কইলে লাথি দিয়া মুখ
ভাঙ্গে দিমু।
এই তো বাসাই চলে আসছি,
কই কম্পিউটার কই,
– ওই রুমে আছে চলেন।
– ওহহ এই প্রবলেম ১০ মিনিটে ঠিক
করে দিলাম।
– বাহ্ আপনি ভাল এক্সপার্ট তো।
– হুমমমম সবাই বলে, খালি ওই
হারামিরা ছাড়া।
– মানে কারা।
– আরে যারা চাকরি দিব তারা।
আচ্ছা আপনার নাম কীইইই ।
– আমার নাম সাদিয়া।
– বাহ্ সু্ন্দর নাম তো।
– বসেন আমি খাবার আনছি।
– হুমমমম,
দেখছস ভাই নামটা ও কীইইই ফাটাফাটি,
সাদিয়া।
একদম বউ বউ।
– চুপ থাক সালা (সজিব)
– এই নেন খাবার,
– ওরে সালা এত্ত কিছু, জীবনে বহু
মানুষের প্রবলেম সাইরা দিছি
কোনদিন চা ও জুটেনাই কপালে।
খেয়ে দেখে চলে আসব
সেই সময় সাদিয়া বলল ধরেন
টাকাটা রাখেন।
– আরে না না লাগবে না, যত খাইছি ফ্রিতে ১০
দিন কাজ করলে ও শোধ হবে না।
– কীইইই বলছেন, আগে যে খানে থাকতাম
ওই খানে এই কাজের জন্য মিনিমান ৫০০
টাকা নিত।
– আচ্ছা আবার কোন সমস্যা হলে বইলেন।
আমি অলটামই ফ্রি।

চলে আসলাম, দেখছস ভাই মানুষ এইটু
কাজের জন্য কত্ত খুশি আর সালা
আমাগো এলাকার মানুষ এত্ত কাজ
ফ্রি সার্ভিস পায়।

রাতে শুয়ে শুয়ে সাদির কথাই ভাবছি।
হঠার কারো যানি ফোন আসল।
– হ্যালো, কে বলছেন।
– আমি সাদিয়া বলছি।
– ওহহহ আপনি, আপনার কথাই
ভাবছিলাম।
– কেন আমার কথা ভাবছেন কেন।
– আরে আপনি একটু কাজের জন্য
কত্ত খাইতে দিলেন টাকা দিলেন।
আর হ্যা নাম্বার কই পাইছেন আমার।
– আন্টির কাছে থেকে নিছি।
– ওহ আচ্ছা, আপনি কীইইই করেন শুনি।
– আমি ইন্টার প্রথম বর্ষ।
– ওহহহহ আমি ও এগারো তেই পড়ি, হি হি।
তাহলে তুমি করে বলি কেমন।
– না তুমি বলে আমি বলতে পারব না।
– আরে না আমাকে কেউ আপনি বললে
আমার সরম করে।
– ও মা তাই বুঝি।
– হুমমমম।
– তাহলে তুমি করেই বলব নাও।
আচ্ছা এখন রাখি কেমন।
– হুমমমম।
তাপরে পা টান টান করে ঘুমাই গেলাম।

পরেরদিন সকালে।
– মাম্মা আমি তো সাদিয়ার প্রেমে
পইরা গেছি, কী সু্ন্দর কইরা কথা বলে
কীইইই সুন্দর চেহারা সুরত।
গতকাল রাতে কথা হইছে মাম্মা।
– কীইইই বলিস মাম্মা তাই, আগাই
যা (সজিব)।

– হুমমমম, বলতেই সাদিয়ার ফোন।
– তন্নয় তুমি কীইইই ফ্রি আছ।
– হুমমমম আমি অলটাইম ফ্রি কেন।
– না মানে আমি এখান কার কিছু চিনি
না যদি একটু ঘুরে দেখাতে।
– আরে এক মিনিট দাঁড়াও আমি আসতেছি।
সেদিন আমরা হেব্বি ঘুরছি এদিক
ও দিন সে দিক চারিদিকে ঘুরছি।
আহারে কত্ত সুন্দর মাইয়া।
খালি বিয়া করতে মন চায় হি হি।

তার পড়ে সন্ধাই বাসাই আসলাম।
এসেই সজিব রে ফোন।
– দোস্ত আমি আর ওয়েট করতে পারমু
না, কালকেই সাদিয়ারে মনের কথা
বলে দিমু।
– হুমমমম ভালা কথা বইলা দে।
– ঠিক আছে, আজকে রাতেই অনেক
সহস যোগার কইরা নিতাছি।

একটু পড়ে সাদিয়ারে ফোন করলাম।
– সাদিয়া আমার কিছু কথা আছে,
কলকে একটু নদীর পারে আইস কেমন।
– হুমমমম আচ্ছা।
এবার ফোনটা রেখে সকল ডাইলক
মুখস্ত করে ফেলছি, এখস অপেক্ষা কালকের
জন্য।

পুরা এক ঘন্টা ধরে বসে আছি।
– ঐ কীইইই যানি বলবা বলছিলে বলো।
– আরে আর একটু দাঁড়াও, মনে করে নেই।
কীইইই মাথা আমার রাতেই মুখস্ত করলাম
আর এখন সব ভুইলা গেছি।
– ঐ তারাতারি বলো।
– হুমমমম, বলছি।
সাদিয়া আমি না তোমারে ভালবেসে ফেলছি,
কিচ্ছু করার নাই জানো, আমার কোন দোষ
নাই অনেক মনরে বুঝাইছি, সালা মন
বোঝেই না জানো।

– কিছুই না বলে উঠে চলে গেল।
আমি খালি হা কইরা চাইয়া আছি,
ওই তো আবার আসতেছে, মনে হয়
কপালডা খুলল।

– তন্নয় শোন আমার ক্লাস সেভেনে
থাকতে বিয়ে হয়ে যায় একটা ছেলের
সাথে, আমার একটা মেয়ে ও আছে,
ও এখন আমার মায়ের কাছে থাকে।
আর আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে
চলে গেছে, আমি তোমাকে
কিছুতেই ভালবাসতে পারব না আমরা ভাল
বন্ধু হতে পারি।

– ওর কথা শুনে হা হয়ে গেলাম, আর ওই
সালা মানে ওর স্বামী ওপরে হেব্বি রাগ
হচ্ছে, মানুষ কেমনে করে
এই সব প্রতারনা।
আর মাইয়া রা ও তেমনি ভালা পোলা
চিনে না।
সব গুলা মাথা মোটার দল।
আর বড় কথা আমার ভালবাসার
লাড্ডুটা ফাইটা গেল।
সালা ওই সব মানুষ গুলারে আমার
গুন করতে ইচ্ছে করে।
– ঐ কীইইই হল ভাল বন্ধু হবা তো।
– হুমমমম, সত্যি তোমার মেয়ে আছে।
– আরে এই দেখ ওর ছবি।
– হুমমমম ভালা, বলে চলে আসলাম
সালা জীবনে এমন কিছু হইব আমার লগে
ভাবিই নি কোনদিন।

– কীইইই মাম্মা তোর লাইলির খবর কীইইই।
– আর লাইলির খবর রে ভাই, ওর আরো চার
বছর আগে বিয়া হয়ে গেছে একটা মাইয়া ও
আছে।
মিজাজটা কেমন লাগে ক।
– হা হা হা হি হি হি সালা তুই একটা
মেয়ের মায়ের প্রেমে পড়ছস।
– চুপ কর সালা আমি জানি নাকি, তবে আর
যাই বল একদম দিলে লাইগা আছেরে ভাই।
ওর বরটা সালা হারামি একটা
ওরে কাছে পাইলে না একদম
সালালে আমাগো ওই পুকুরের ঠান্ডা পানিতে চুবাইতাম।

– তো কীইইই করবি এখন। (সজিব)
– আরে সালা আমি অন্য পোলাগো
মতো নাকি যে ছ্যাঁকা খাইয়া পইড়া থাকমু
আমি তন্নয় ব্রো।
রাসেল রে ফোন লাগা আজকেই ডাব
চুরি করতে যামু।

কীইইই মিয়া কাউরে কইয়েন না যেন।
সবাইরে ডাব দিমুনি।
হি হি হি।
আর ঐ সাদিয়ার জামাইরে পাইলে
আমাগো পুসকুনিতে চুবামু।

এখন বাই কেমন।

>>সমাপ্ত< < >>The End<<

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here