গল্প:- বিয়ের বন্ধন পর্ব:-(০৮ শেষ)

0
999

গল্প:- বিয়ের বন্ধন পর্ব:-(০৮ শেষ)

লেখা_মোহাম্মদ_সৌরভ
!!!
তসিবার সাথে আমার ডির্ভোসের কথা বাড়ীতে বলা যাবেনা। আব্বা আম্মা জানলে অনেক কষ্ট পাবে। তসিবাকে আম্মা নিজের মেয়ের মত আদর আর ভালোবাসছে। আব্বার কথা কি বলবো তসিবার জন্য আমাকে অনেক বার বকা ঝকা করছে। মন খারাপ করে বাড়ীতে এসেছি তসিবাকে ছাড়া বাড়ীটা একদম শূন্য শূন্য লাগছে। মোবাইল সাইলেন্ট করে শুয়ে পড়েছি তসিবার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মোবাইলে অনেক গুলা মিসকল চাপ দিতেই দেখি শ্বশুড়ের নাম্বার থেকে অনেক গুলা ফোন। ব্যাক করেছি সাথে সাথে রিসিব,,,,

শ্বশুড়:- বাবা সৌরভ তসিবাকে রেখে গেছো কোনো সমস্যা হয়ছে তোমাদের মাঝে?

আমি:- না আঙ্কেল তেমন কোনো সমস্যা নেই। আসলে তসিবার সামনে পরীক্ষা ওর এখানে থাকলে পড়তে সমস্যা হয়। তাই ওকে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছি।

শ্বশুড়:- ও আমি ভাবলাম তসিবা ঝগড়া করে চলে এসেছে। আচ্ছা তাহলে তুমি এসে বেড়িয়ে যেয়ো কেমন।

আমি:- ঠিক আছে আসবো। আচ্ছা তসিবা কি আপনার পাশে আছে?

শ্বশুড়:- নাহ তসিবা তো আজকে সকাল সকাল কলেজে গেছে। আর বলছে তুমি নাকী কলেজে ওর সাথে দেখা করবে।

আম:- হ্যা করবো আচ্ছা এখন রাখি। (আঙ্কেলকে কিছুই বলিনি কারন ওনি অনেক কষ্ট পাবে।) ফোন কেটে অফিসের জন্য রেডি হয়েছি এমনি আম্মা বাড়ীতে এসেছে,,,

আম্মা:- কিরে অফিস যাচ্ছিস নাকী?

আমি:- হ্যা আব্বা কোথায়?

আম্মা:- তোর আব্বা তো অফিসে গেছে। তসিবা কোথায় ওকে দেখছি না যে?

আমি:- তসিবা ওদের বাড়ীতে গেছে। সামনে ওর পরীক্ষা এখানে পড়তে নাকী সমস্যা হয়। তাই কিছু দিন বাড়ীতে থাকবে।

আম্মা:- তোর কথা বলার ভঙ্গি আর চেহারা দেখে মনে হচ্ছে নিশ্চয় কিছু একটা হয়ছে। সত্যি করে বল কি হয়ছে তোদের মাঝে তসিবার সাথে কি ঝগড়া হয়ছে?

আমি:- তসিবার সাথে ঝগড়া কেনো হবে বিশ্বাস না হলে তসিবাকে ফোন করে যেনে নাও। আচ্ছা আমি যাই আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাসা থেকে বেড়িয়ে বাইক নিয়ে স্নেহাদের বাড়ীর সামনে এসেছি। দেখি স্নেহা দাঁড়িয়ে আছে আমাকে দেখে এগিয়ে এসেছেো,,,,

স্নেহা:- সৌরভ তোমার আসতে এতটা দেরি হলো কেনো?

আমি:- আম্মার সাথে কথা বলতে গিয়ে। আসো তোমাকে কলেজে ড্রপ করে দিবো।

স্নেহা:- আজকে কলেজে না গেলে ভালো হবে। তুমি অফিসে যাও আমি বাসায় থাকি। আর হ্যা তসিবা কোথায়?

আমি:- ওর আব্বু বলছে কলেজে গেছে। ঠিক আছে তাহলে তুমি বাসায় যাও আমি অফিস থেকে যাওয়ার সময় তোমার সাথে দেখা করে যাবো।

স্নেহা:- ঠিক আছে। আর অফিসে গিয়ে আমাকে একটা ফোন করে বলে দিও কেমন।

আমি:- আচ্ছা স্নেহা চলে গেছে আমি অফিসে চলে এসেছি। আমার কাজে মন দিলাম দুই দিনের কাজ পরে আছে। আজকে সব কাজ করতে হবে কাজ গুলা খুব তারা তারি করেছি। লাঞ্চের সময় হয়ছে লাঞ্চ করতে চলে এসেছি। লাঞ্চ শেষ করে আবার কাজ করতেছি এমনি মোবাইল রিংটন বেজে উঠেছে। হাতে নিয়ে দেখি তসিবা ফোন করেছে রিসিব না করে কেটে দিয়েছি। তিনবার ফোন করছে তিনবার ফোন কেটে দিয়েছি। এবার মোবাইল বন্ধ করে আবার কাজ করতেছি এমনি ম্যাডাম এসে বলে,,,,

ম্যাডাম:- সৌরভ তুমি চলো আমার সাথে একটু সাইটে যেতে হবে ক্লাইন্টরা আসবে সাইটের কাজ দেখতে।

আমি:- হ্যা চলেন। ম্যাডামের সাথে বের হয়ে গেছি সাইটে ক্লাইন্টের কাজ গুলা দেখিয়ে দিয়েছি।

ক্লাইন্ট:- মেম চলেন কফি সপে বসে আমরা ডিলটা ফাইনাল করে নেই।

ম্যাডাম:- ঠিক আছে চলেন।

আমি:- ম্যাডাম তাহলে আমি যাই আমার একটু কাজ আছে। (ম্যাডামকে বলে আমি চলে এসেছি) বাইকে বসে মোবাইলটা চালু করেছি এমনি দেখি একটা মেসেজ তসিবার নাম্বার থেকে,, মেসেজে লিখা,,, ভাইয়া আনার মোবাইল বন্ধ কেনো আপু জি এম সি হাসপাতালে আছে। তসিবার আবার কি হলো এমনি আব্বার ফোন রিসিব করতেই আব্বা বলে,,,

আব্বা:- বউ মা যে হাসপাতালে তুই জানিস আর তোর মোবাইল বন্ধ কেনো? তারা তারি জি এম সি হাসপাতালে চলে আয়।

আমি:- হ্যা আসতেছি। হঠাত করে তসিবার আবার কি হলো? নিশ্চয় না খেয়ে ছিলো তার জন্য অজ্ঞান হয়ে গেছে। বাইক নিয়ে তারা তারি হাসপাতালে পৌছালাম। হাসপাতালে বাহিরে তাবু দাঁড়িয়ে আছে আমাকে দেখে দৌরে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। তাবু এমন ভাবে কান্না করছো কেনো তসিবার কি হয়ছে তসিবা ঠিক আছে তো?

তাবু:- ভাইয়া আপুর এখনো জ্ঞান ফিরেনি সেই কখন থেকে ডাক্তার চেস্টা করছে কোনো কাজ হচ্ছে না।

আমি:- কি বলো কিন্তু কি হয়ছে?

তাবু:- আপু দুপুরে বাড়ীতে এসেই কাওকে কিছু বলেনি সোজা রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আম্মু খাওয়ার জন্য ডাকতে গেছে তখন কোনো সারা না পেয়ে আব্বু দরজা ভেঙ্গে দেখে আপু অজ্ঞান হয়ে আছে।

আমি:- তসিবা এখন কোথায়? চলো তসিবার কাছে যাই। তাবুকে নিয়ে তসিবার কাছে এসেছি আব্বা আম্মা তসিবার আত্বীয় অনেক এসেছে। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে আমি দায় তসিবার এই অবস্থার জন্য। কেবিনের সামনে সবাই অপেক্ষা করছে। তসিবাকে আই সি ইউ এর ভীতরে ঢুকিয়ে রাখছে। আমি তাকিয়ে দেখি তসিবার চেহারাটা কালো হয়ে আছে। সব দোষ আমার আমি যদি ফোনটা রিসিব করলে হতো।

শ্বাশুড়ি:- বাবা সৌরভ তোমার তসিবার সাথে কি এমন ঝগড়া হয়ছে যার কারনে আমার মেয়েটা মরতে চাইবে?

আমি:- আন্টি তসিবার সাথে আমার কোনো ঝগড়া হয়নি।

শ্বাশুড়ি:- তাহলে তসিবা এত গুলা ঘুমের টেবলেট খেতে চাইবে কেনো? নিশ্চয় তোমাদের মাঝে অনেক বড় ঝগড়া হয়ছে।

আমি:- সত্যি বলছি আন্টি তেমন কোনো ঝগড়া হয়নি। তখনি ডাক্তার এসে বলে,,,

ডাক্তার:- আল্লাহর রহমতে আপনাদের মেয়ে এখন অনেক ভালো আছে। আর আপনারা কেমন বাবা মা বলেন তো মেয়েটা কোনো একটা বিষয় নিয়ে খুব চিন্তায় আছে তাও আপনারা ওকে একা থাকতে দিলেন। ওর হায়াত আছে তাই বেচে গেছে সাধারনত এমন অবস্থা থেকে কেও বেচে থাকে না।

শ্বাশুড়ি:- এখন কি আমি আমার মেয়ের সাথে দেখা করতে পারি।

ডাক্তার:- দুজন দুজন করে ভীতরে যাবেন তবে কেবিনে সিফট করার পর। নাছরা তসিবাকে কেবিনে সিফট করে দিয়েছে। ( শ্বশুড় শ্বাশুড়ি এক এক করে সবাই তসিবার সাথে কথা বলে এসেছে। আমি টেবিলে বসে আছি তখন তাবু এসে বলে,,,)

তাবু:- ভাইয়া আপনাকে আপু দেখতে চাইছে।

আমি:- হ্যা আসতেছি, আমি ভীতরে ঢুকার পর সবাই বেড়িয়ে গেছে। আমাকে দেখে তসিবা কান্না শুরু করে দিয়েছা। কাছে গিয়ে ওর চোখের পানি মুছে দিয়েছি।

তসিবা:- আমি মরে গেলে আপনার জন্য অনেক ভালো হতো তাইনা। স্নেহাকে বিয়ে করে অনেক সূখে সংসার করতে পারতেন। তাই তো আমি মরে যেতে চাইছি।

আমি:- স্নেহাকে বিয়ে করলে তোমাকে মরতে হবে কেনো? আর তুমি মারা গেলে তোমার বাবা মা আমাকে দোষারূপ করতো। তা আমাকে মুক্ত করার জন্য মরতে গেছিলে কেনো?

তসিবা:- আপনাকে ছাড়া থাকতে অনেক কষ্ট লাগে। জানেন একটা রাত আর একটা দিন আমি কত কষ্ট করে কাটিয়েছি।

আমি:- তাহলে ডির্ডোস দিতে চাই ছিলে কেনো?

তসিবা:- আমি কি জানতাম আপনি দূরে গেলে আমি বাচতে পারবো না। প্লিজ আমাকে একটা সুযোগ দেন আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসবো। আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো।

আমি:- তাহলে স্নেহাকে কি বলবো?

তসিবা:- ওকে আমি বুঝিয়ে বলে দিবো।

আমি:- যদি তুমি আবার এমন করো তাহলে আমি কোথায় যাবো তখন?

তসিবা:- এই কান ধরে বলতেছি আপনাকে জীবনেও ছেড়ে যাবো না। আমার মাথা ছুয়ে বলছি সারা জীবন আপনাকে ভালোবেসে যাবো।

আমি:- তাহলে ইমরানের কি হবে? আর কিছুদিন পর তো লিগাল ডির্ডোস হয়ে যাবে।

তসিবা:- এপ্লিকেশন কাগজ জমা দিলে তো ডির্ডোস হবে। সেই কাগজ কাল রাতে ছিড়ে ফেলছি। ইমরানের প্রতি এখন আর আমার ভালোবাসা নেই কসমসে আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।

আমি:- ঠিক আছে তোমাকে আরো কিছু সময় দেয় তুমি ভালো করে ভেবে দেখো। তসিবাকে রেখে আমি বাহিরে এসেছি তাবু ভীতরে গেছে তখনি আব্বা বলে,,,

আব্বা:- সৌরভ ডাক্তার বলছে বউ মাকে সকালে রিলিজ দিবে। তাহলে আমরা সবাই চলে যাই আর তুই তসিবাকে নিয়ে বাড়ীতে আসিস কেমন।

আমি:- কিন্তু আব্বা তখনি আমাকে থামিয়ে আম্মা বলে,,,

আম্মা:- তসিবা আমাদের সব বলে দিয়েছে। আমরা চাই তুই তসিবাকে ক্ষমা করে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে আয়। আর দেখ ক্ষমা হচ্ছে মহৎ গুন। কাজ তুই তসিবাকে অনেক ভালোবাসিস তসিবাও এখন তোকে অনেক ভালোবাসে।

শ্বশুড়:- বাবা সৌরভ আমার মেয়ের জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি প্লিজ তুমি তসিবাকে মেনে নাও।

আমি:- আরে আঙ্কেল কি বলছেন আপনি কেনো ক্ষমা চাচ্ছেন। আসলে তসিবাকে বুঝানোর জন্য আমি ওকে আপনাদের কাছে রেখে এসেছি। বিয়ের একটা বন্ধন যে কতটা মুজবুত তা বুঝানোর জন্য ওর সাথে এমনটা করেছি।

শ্বাশুড়ি:- বাবা সৌরভ তোমার সাথে অনেক রাগ দেখিয়ে কথা বলছি প্লিজ তুমি মনে কিছু নিওনা আসলে তুমি তো আমার ছেলে।

আমি:- আরে আন্টি কি বলছেন আপনি। ঠিক আছে আমি তসিবাকে নিয়ে বাড়ী ফিরবো। আর আজকের পর তসিবাকে আমি কোথাও যেতে দিবো না। তসিবাকে সব সময় হাসি খুসি রাখবো ওকে অনেক ভালোবাসবো আর সূখে রাখবো হয়ছে।

আব্বা:- বেয়াই মসায় আপনারা আর চিন্তা করবেন না সৌরভ তসিবাকে অনেক যত্নে রাখবে। যা ভূল ত্রুটি হয়ছে সব ভূলে এখন থেকে নতুন করে জীবন সাজাবে। আবার নতুন করে বিয়ের বন্ধনে জড়িয়ে থাকবে। চলেন আমরা সবাই বাসায় যাই সৌরভ তুই তসিবার সাথে থাক ওকে সাথে নিয়ে বাসায় আসবি।

আমি:- ঠিক আছে। তখনি তাবু এসে বলে,,,,

তাবু:- ভাইয়া আপু আপনাকে ডাকছে।

আমি:- হ্যা যাচ্ছি। তাবু সহ সবাই চলে গেছে আমি তসিবার রুমে গেছি। কি ডাকছো কেনো তোমার সিদ্ধান্ত কি কোনো চেঞ্জ হয়ছে?

তসিবা:- আমাকে ভালোবসতে আপনার সমস্যা কি হা? আমি বলছি তো আমার ভূল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দেন।

আমি:- ঠিক আছে ক্ষমা করে দিয়েছি। এইটা লাস্ট এর পর যদি আর কোনো ভূল করো তাহলে কিন্তু সারা জীবনের জন্য দূরে চলে যাবো। তখনি তসিবা শুয়া থেকে উঠে বসেছে আমাকে বলে,,,,

তসিবা:- আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবেন? আমার খুব ইচ্ছে ছিলো আপনাকে জড়িয়ে ধরতে কিন্তু পারিনি আজকে খুব ইচ্ছে করছে প্লিজ ধরবেন।

আমি:- এখানে?

তসিবা:- হ্যা এখানে সমস্যা কি আমি তো আপনার বউ।

আমি:- ঠিক আছে তখনি তসিবা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার কপালে গালে কিস করতেছে,,,

তসিবা:- আমি করবো আপনি কিস করবেন না।

আমি:- হ্যা করবো তো পাগলি মেয়ে আসো এখানে বসো। তসিবাকে সিটে শুয়ে দিলাম আমি ওর পাশে বসে আছি। রাত ১২টা বাজে তসিবা আমাকে বলে,,,

তসিবা:- আপনি ঘুমাবেন কোথায়?

আমি:- তুমি ঘুমাও আমি আজকে ঘুমাবো না।

তসিবা:- আপনি আমার পাশে শুয়ে পড়েন আজকে আপনার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো। আমি শুয়তে চাইনি কিন্তু তসিবা জোর করে আমাকে শুয়িয়ে দিছে। তসিবা আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে ওর কপালে আমি আলতু করে আদর করে দিয়েছি। দুজনে ঘুমিয়ে গেছি সকালে ঘুম থেকে উঠে তসিবাকে রিলিজ করে এক সাথে বাড়ীতে যাচ্ছি বাইকে করে রাস্তায় সিগনাল পরছে,,,

আমি:- তসিবা ইমরান কোথায়?

তসিবা:- যেখানে খুশি সেখানে থাকুক আমার কি?

আমি:- একটু বামে চেয়ে দেখো (তসিবা চেয়ে দেখে ইমরানকে একটা মেয়ে জড়িয়ে ধরে বাইকে বসে আছে।) তোমাকে ঐ দিন কলেজে বলতে চাইছি ইমরান ছেলে হিসাবে ভালোনা।

তসিবা:- ইমরানেরর গালে একটা থাপ্পড় দিতে পারতাম তাহলে আমার কিছুটা ভালো লাগতো।

আমি:- কথা কম বলে একটা থাপ্পড় দিয়ে আসো আর বলো মেয়ে দেখলে চোখ মারতে হয়। (যেই কথা সেই কাজ তসিবা বাইক থেকে নেমে ইমরানের কাছে গিয়ে ইমরান বলছে। ইমরান তসিবাকে দেখে অবাক হয়ে গেছে। ইমরান তসিবাকে কিছু বলতে চাইছে তখনি তসিবা ইমরানকে ঠাসস করে থাপ্পড় একটা মেরে দিছে। ইমরান গালে হাত দিয়ে তসিবার দিকে আসবে তখনি তসিবা বলে,,,)

তসিবা:- মেয়ে দেখলে চোখ টিপ মারতে হয় এরপর যদি চোখ মারিস তাহলে চোখ তুলে ফেলবো। সবাই ইমরানকে বকা ঝকা করতে লাগলো রাস্তার জনগন। আমি তসিবাকে বাইকে বসিয়েছি আর সিগনাল ছেড়ে দিছে। সোজা বাইক নিয়ে চলে এসেছি,,,,

আমি:- এবার খুশি হয়েছো?

তসিবা:- উম্মা অনেক খুশি হয়েছি। (তসিবাকে নিয়ে বাড়ীতে এসেছি দরজার কলিং বেল বাজাতে দরজাটা খুলে দিয়েছে।) স্নেহা তুই আমার বরের বাড়ীতে কি করিস?

স্নেহা:- তোর বর মানে সৌরভ তো আমার হুব বর।

তসিবা:- দেখ স্নেহা যা হবার হয়ে গেছে অনেক কষ্ট করে সৌরভ আর আমার বিয়ের বন্ধন টিকে রয়েছে। তোর কাছে দুই হাত জোর করে অনুরুদ করছি আমাদের মাঝে থেকে সরে যা।(তসিবার আর স্নেহার কথা শুনে আমি হাসতেছি।) তখনি আম্মা এসে বলে,,,

আম্মা:- আরে মা তসিবা এসে গেছো আসো ভীতরে আসো। আর স্নেহা তোর ভাবিকে ভীতরে আসতে দে।

স্নেহা:- মামি তুমি সব কিছু গন্ডগুল করে দিয়েছো? যাও আমি আর থাকবো না।

তসিবা:- মানে স্নেহা তুই সৌরভকে আগে থেকে চিন্তি জান্তি।

স্নেহা:- হ্যা বোকা আর সৌরভ আমার মামাত ভাই। তোর আর ওর সম্পর্কে আমাকে একদিন বলে তখনি আমরা প্লান করি। আর আমি সৌরভকে বলি অভিনয় করতে।

তসিবা:- তাহলে বিয়েতে তোকে দেখিনি কেনো?

আমি:- আসলে তখন স্নেহা অসুস্থ ছিলো। স্নেহার সাহায্যে তোমাকে আজ আমার জীবনে পেলাম।

স্নেহা:- তোদের বাসর ঘর আমি সাজিয়ে দিয়েছি। এখন আর রুমে ঢুকার দরকার নেই রাতে একবারে রুমে যাবি কেমন। তসিবা লজ্জা পেয়ে ভীতরে চলে গেছে আমি স্নেহার মাথায় টুকা দিয়ে চলে এসেছি।

আব্বা:- সৌরভ আমার অফিসে এই ফাইলটা দিয়ে আয়।

আম্মা:- সৌরভ কেনো যাবে তোমার কাজ তুমি করো। আর তুমি আমাকে নিয়ে একটু সপিং করতে চলো। ঐ খান থেকে আমার মেয়ের বাসায় যাবো। আর সৌরভ তোর আপু ফোন করছে জামাই বাড়ীতে নেই আর ওর শ্বাশুড়ি মেয়ের বাড়ীতে গেছে। এখন আমাকে আর তোর আব্বাকে যেতে বলছে এখন তুই কি বলিস।

আমি:- ঠিক আছে যান। (আম্মা আব্বাকে জোর করে নিয়ে গেছে যাবার আগে তসিবার কানে কি যেনো বলে গেছে।) আম্মা আব্বা যাবার পর তসিবা আমার হাত ধরে সোজা রুমে টেনে নিয়ে গেছে। রুমটা ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখছে। তসিবা কি হয়ছে তোমার?

তসিবা:- কি হবে বলেন বলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে খাঠের উপর ফেলে দিয়েছে। তসিবা একদম আমার কাছে এসেছে দুজন দুজনকে আপন করে নিলাম। দিনের বেলায় আমাদের বাসর হয়ে গেলো। তসিবা এখন আমাকে অনেক খেয়াল রাখে আমরা প্রায় বিকালে দুজনে ঘুরতে যাই। আমিও তসিবাকে অনেক যত্ন নেই তসিবা এখন অনেক ভালো রান্না করতে পারে। আমার জন্য নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করে আর আম্মাকে এখন এত কাজ করতে হয়না আব্বার ঔষুধ গুলা তসিবা নিয়মিত খায়িয়ে দেয়। ভালোই চলছে তসিবার আর সৌরভের বিয়ের বন্ধন আর ওদের সংসার।
।।
কিছু কথা:- এইটা একটা কাল্পনিক গল্প ছিলো আর গল্পটা আপনাদের মনে যায়গা করতে পারছে কিনা আমি জানি না। তবে আমি আমার সাধ্য মত চেস্টা করেছি আপনাদের সবাইকে আনন্দ দিতে। গল্পটা আপনাদের সবার কাছে কেমন হয়ছে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। আর হ্যা আগামী কাল থেকে আরেকটা নতুন গল্প দিবো সবাই গল্পের সাথে থাকবেন। সবাই ভালো থাকবেন আর আমার জন্য দুআ করবেন।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সমাপ্তি,,,,,,

প্রিয় পাঠক আপনারা যদি আমাদের (গল্প পোকা ডট কম ) ওয়েব সাইটের অ্যাপ্লিকেশনটি এখনো ডাউনলোড না করে থাকেন তাহলে নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে এখনি গল্প পোকা মোবাইল অ্যাপসটি ডাউনলোড করুন => 👇👇👇👇👇👇

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.golpopoka.android

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here