গল্পঃ ভয়

7
754

গল্পঃ ভয়

১ রাত তখন পৌনে ২টা। আপনি নিজের ঘরে
ঘুমিয়ে
আছেন। হঠাৎ আপনার বাবা-মা আপনাকে ঘুম
থেকে
ডেকে বললো যে আপনাদের এক আত্মীয়
নাকি হঠাৎ
অসুস্হ্য হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। এখন
আপনার বাবা-
মাকেও হাসপাতালে যেতে হবে। এরপর তারা
আপনাকে
বাড়িতে একা রেখেই হাসপাতালে চলে
গেলেন। আপনি
তাদের বিদায় দিয়ে ঘরে তালা দিয়ে
স্বাভাবিক
ভাবেই একা বাড়িতে রইলেন। যেই ঘুমাতে
যাবেন হঠাৎ
আপনার বাবা-মায়ের ঘরে আলো দেখে আপনি
আলো
নিভাতে তাদের ঘরে গেলেন। গিয়ে দেখলেন
যে
আপনার বাবা ঘরেই ঘুমিয়ে রয়েছেন। আপনি
ঘরে ঢুকতেই
তারা আপনার দিকে বড় বড় চোখ করে
তাকিয়ে রইলো।
কিন্তু আপনার বাবা-মা তো মাত্রই আপনাকে
ঘরে একা
রেখে হাসপাতালে চলে গিয়েছে। তাহলে
খাটে যারা
শুয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে তারা
কারা!!
২ রাত তখন ১১টা বাজে। আপনি আপনার
বাড়িতে
একা রয়েছেন। আপনার বাবা-মা এক
আত্মীয়ের বাড়িতে
বেড়াতে গিয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই তাদের
ফেরার
কথা। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। আপনি
স্বাভাবিক ভাবেই দরজাটা খুললেন। খুলে
দেখলেন
আপনার বাবা-মা এসেছে। তারা কেনো যেনো
আপনার
দিকে রাগান্বীত দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আপনার সাথে কোন কথা না বলেই তারাহুরা
করে
তাদের ঘরে ঢুকে গেলো।আপনি তাদের
ব্যবহারে
কিছুটা অবাক হলেন। এরপর আপনি দরজা
লাগিয়ে যেই
ঘরে ঢুকবেন। হঠাৎ আপনার মায়ের নাম্বার
থেকে
আপনার মোবাইলে একটা কল আসলো। আপনি
বেশ অবাক
হলেন।

আরে! আপনার মাতো মাত্রই ঘরে
ঢুকলেন। তাহলে
আপনার মায়ের নাম্বার থেকে কে কল
দিলো?!! কৌতুহল
বসতই কলটা ধরতে ওপাশ থেকে আপনার মায়ের
কন্ঠে
শুনতে পেলেন , -বাবা, আজ আমরা বাড়িতে
ফিরতে
পারবো না। রাতে মনে হয় আত্মীয়ের
বাড়িতেই থাকতে
হবে। ফ্রিজে খাবার রাখা আছে গরম করে
খেয়ে নিস।
আপনিতো মায়ের কন্ঠে এই কথা শুনে পুরোই
অবাক হয়ে
গেলেন। আপনার মা কিভাবে কল দিয়ে কথা
বলতে
পারে! আপনার বাবা-মাতো মাত্রই ঘরে
ঢুকলো। আপনি
ভয়ে কলটা কেটে দ্রুত আপনার ঘরে গেলেন
বাবা-মাকে
খুজতে। কিন্তু আপনি পুরো বাড়ি খুজেও
কাউকে পেলেন
না। তাহলে একটু আগে কলিং বেল চেপে
যারা আপনার
ঘরে ঢুকেছিলো তারা কারা ছিলো!!
৩ মাঝরাত। আপনি বাম দিকে ঘুরে শুয়ে
রয়েছেন।
হঠাৎ আপনার ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম থেকে উঠে
দেখলেন
রোজ যে আপনার সাথে ঘুমায় সে আপনার
দিকে বড় বড়
চোখ করে তাকিয়ে আছে। আপনি কিছুটা
অবাক হয়ে
তার মাথায় হাত বুলাতেই সে ঘুমিয়ে পড়লো।
এরপর
আপনি ডান দিকে ঘুরে যেই ঘুমাতে গেলেন
দেখলেন যে
আপনার ডান দিকেই যে রোজ আপনার সাথে
ঘুমায় সে
ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ
আপনার মনে পড়লো। আরে !সেতো রোজ
আপনার ডান
দিকেই ঘুমায়। তাহলে কিছুক্ষন আগে আপনার
বাম দিকে
যার মাথায় আপনি হাত বুলিয়েছিলেন সে কে
ছিলো!!!
৪ / রাত তখন ১০ টা। আপনি ঘুমানোর প্রস্তুতি
নিচ্ছেন।
তবে প্রচুর মশা আপনাকে কামড়াচ্ছিলো।
এরপর
রোজকার মতো আপনার মা এসে আপনার ঘরে
মশারী
টানিয়ে দিয়ে চলে গেলো। জাওয়ার আগে
গম্ভীর
ভাবে আপনাকে বলে গেলো, -বেশিরাত
পর্যন্ত মোবাইল
চালিয়ো না বাবা। মাথা কাটা যাবে। . .
আপনার মা
ঘর থেকে বেরিয়ে জাওয়ার পর হঠাৎ আপনার
মনে
পড়লো। আরে! মা এখন বাড়িতে কিভাবে? মা-
বাবাতো
২ দিন ধরে নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে!
এখনতো
বাড়িতে আপনি একা! তাহলে একটু আগে যে
আপনার
ঘরের মশারী টানিয়ে গেলো সে কে? এরপর
আপনি পুরো
বাড়ি খুজে আর কাউকে পেলেন না। ঘরে
আপনার মশারী
ঠিকই টানানো আছে।
৫ / আপনার বাড়ির ওয়াশরুম ঘরের বাহিরে
বারান্দার
পাশে। রাত তখন ১২ টা। আপনি ওয়াশরুমে
গেলেন হাত
মুখ ধুয়ে আসতে। ওয়াশরুমে ঢুকেই দেখলেন
আপনার বাবা
দাত ব্রাশ করছেন। আপনি কিছুটা অবাক হলেন
কারণ
বাবা এতো রাতে কখনোই দাত ব্রাশ করেন না।
তারপরে
আবার আপনার বাবার চোখ বেশ লাল
দেখাচ্ছে। প্রথমে
অবাক হলেও পরে ব্যাপারটা স্বাভাবিক
ভাবেই নিলেন
কারণ যাই হোক আপনার বাবাইতো। এরপর
আপনি আপনার
হাত মুখ ধুতে লাগলেন। বাবার দিকে হঠাৎ
তাকিয়ে
দেখলেন আপনার বাবা বড় বড় চোখ করে
আপনার দিকে
তাকিয়ে আছে। আপনি কিছুটা ভয় পেয়ে
গেলেন। বাবা
এমন করছে কেনো??! ভয়ে বাবার সাথে
কোনো কথা না
বলেই আপনি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আপনার
বাবা-মায়ের ঘুমানোর ঘরে গেলেন আপনার
মাকে
ডাকার জন্য। আপনি যেই ঘরে ঢুকলেন দেখলেন
আপনার
বাবা-মা দুজনেই ঘুমিয়ে আছে। তাহলে
কিছুক্ষন আগে
যাকে ওয়াশরুমে দেখলেন সে কে ছিলো?!!
দৌড়ে
ওয়াশরুমে গেলেন। গিয়ে দেখলেন সেখানে
কেউ নেই।
আপনার বাবার ব্রাঁশটা তখনো ভেজা!
৬ / গভীর রাত। আপনি গভীর ঘুমে মগ্ন। হঠাৎ
খাটের
নিচে কারো হাড় কামড়ে খাওয়ার শব্দ শুনে
আপনার ঘুম
ভেঙে গেলো। আপনি রুমে একা রয়েছেন।
কৌতুহল বসতই
খাটের নিচে কিসের শব্দ হচ্ছে তা দেখতে
খাটের নিচে
গেলেন। গিয়ে দেখলেন সেখানে কিছুই নেই।
শব্দটা
মাটির নিচে থেকে আসছে কিনা শুনতে
ফ্লোরে কান
পাতলেন!! কিন্তু নিচে আর কোনো শব্দই শুনতে
পেলেন
না।
হঠাৎ আপনার কানে খাটের উপর থেকে কারো
রক্ত চুসে
খাওয়ার শব্দ ভেসে আসতে লাগলো!!
আশা করি সবার ঘুম ভালো হবে।
গল্পঃ ভয়
লেখাঃ জীবন

7 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here