খেলাঘর পর্ব-৫

0
729
খেলাঘর পর্ব-৫
খেলাঘর পর্ব-৫

.খেলাঘর পর্ব-৫
লেখা-সুলতানা ইতি

ছবিটা আমি শুট করবো,আমি কিন্তু আপনাদের দলের নই
ইহান- ওকে তবে তাই হোক

নির্ঝরিণী উঠে ক্যামেরা হাতে নিলো,গ্রুপ পিক নেয়া শেষ হলে
ইহান অনুরোধ করে সবার একটা করে সিংগেল ছবি তুলতে

এতে কারো আপত্তি না থাকলে মিথিলা আপত্তি করে বসে, কিছুতেই সিংগেল ছবিতে রাজি হয়নি মিথিলা

মিথিলার কথা শুনে ইহানের মন খারাপ হয়ে যায় তবু ও না মেনে কোন উপায় নেই

নির্ঝরিণী -আপু চল বাসায় যাই,
মিথিলা- হুম চল

নির্ঝরিণী – তুমি যাও আপু আমি সবার কাছে থেকে বলে আসি,

মিথিলা- না বললে কি হবে

নির্ঝরিণী – আমি তোমাদের মাঝে ক্ষনিকের অতিথি, আর হয়তো তোমার বন্ধুদের সাথে আমার দেখা হবে না তাই আর কি

মিথিলা- সব জায়গা পাকনামি না করলে হয় না তোর,ঠিক আছে যা আমি গেটে অপেক্ষা করছি

নির্ঝরিণী সবার কাছে বলে ইহানের কাছে এসে সবার অলক্ষে তার হাতে একটুকরো কাগজ ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো

ইহান অবাক হলো এই বাচ্ছা মেয়ে সবাইকে লুকিয়ে আমাকে এই কাগজ টা দিলো কেনো, আচ্ছা এতে প্রেম পত্র নেই, কথা টা মনে হতেই ইহানের চোখ বড় হয়ে গেলো

অরনি- ইহান চোখ বড় করে কি দেখছিস

ইহান- কিছু না চল যাই
ইহান বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লো তখনি নির্ঝরিণীর দেয়া কাগজটার কথা মনে হলো,, এই পিচ্ছি মেয়ে প্রেম পত্র দিয়েছে আমাকে, কি লিখা আছে তাতে, দূর এক বোনের জন্য পাগল আমি আরেক বোন এসে প্রেম পত্র দিচ্ছে ব্যাপার টা কেমন হয়ে গেলো না,
একটুক্ষন ভেবে ইহান নিজেই নিজের মাথায় টোকা দিয়ে বল্লো দূর কাগজ টা না পড়ে এতো কিছু মন্তব্য করা ঠিক হচ্ছে না,আসলেই আমি একটু বেশি বেশি ভাবি,, যতো চাই ভাবনাকে বাধতে,ভাবনা বাধা ই পড়ে না,,লাগাম হীন ভাবে ভেবে চলছে

ইহান ভাবনাকে আর এগুতে না দিয়ে চট করে উঠে শার্টের পকেট থেকে চিরকুট টা হাতে নিলো,চোখের সামনে মেলে ধরলো চিরকুট

‘ভাইয়া আপনি আপুর একটা ছবি নিতে ছেয়ে ছিলেন, আপু রাজি হয়নি,কিন্তু আমি আপনাদের দুজনের অনুমতি না নিয়ে, যখন আপনারা কথা বলতে ব্যাস্ত তখন একটা ছবি নিয়ে নিই.রিলে খুঁজলে পাবেন
অনুমিত না নেয়ার জন্য ক্ষমা করবেন,,

চিরকুট টা পড়ে ইহান এক লাফে ক্যামেরা হাতে নিলো,সব গুলো পিক দেখছে, একটা পিকে এসে চোখ আটকে যায়,হা পিক টা মিথিলার আর ইহানের,,

মিথিলা বরাবরই চোখ নামিয়ে কথা বলে আজ ও তাই বলছিলো,আর ইহান মিথিলার দিকে তাকিয়ে কথা বলছে এমব অবস্থায় ছবি টা তুলেছে নির্ঝরিণী,

ইহান- মনে মনে কয়েকশ ধন্যবাদ জানালো নির্ঝরিণী কে, না চাইতে প্রিয়ো মানুষটার ছবি পেয়ে যাবে নিজের সাথে, তা ভাবতেই পারেনি ইহান

আচ্ছা আমি মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছি কেনো, আমি তো ফোন করতে পারি নির্ঝরিণীর কাছে আচ্ছা ফোন করলে যদি মিথিলার মা রিসিভ করে ফোন তা হলে কি বলবো, মিথিলার সাথে কথা বলবো, নাকি নির্ঝরিণীর কথা বলবো,

কিন্তু নির্ঝরিণীর কথা বলা ঠিক হবে না,দূর এতো ভাবছি কেনো কল দিয়ে ই দেখি কি হয়

মিথিলা স্কুল থেকে ফিরেই ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে পড়তে বসলো,আজ সারাদিন একটু ও পড়তে পারিনি, কি যে হবে পরিক্ষার দিন

নির্ঝরিণী মোবাইল নিয়ে গেম খেলছে
আয়ান তার পাশে বসে আছে
আয়ান- এই নির্ঝর বলনারে আজ সারা দিন কি কি করলি তোরা

নির্ঝরিণী – আমি কিছু করিনি যা করেছে সব আপু করেছে,কি করেছে সেটা শুনলে তুই অবাক হয়ে যাবি

আয়ান ও উৎসাহের সাথে জানতে চাইলো
– কি করেছে আপু।

নির্ঝরিণী – জানিস আপু গান গেয়েছে

আয়ান- বলিস কি,তার পর স্বাভাবিক হয়ে বল্লো
যাহ ঢপ মারছি গান গাইবে ঐ গ্রন্থকীট, এটা আমি বিশ্বাস করবো

নির্ঝরিণী – আরেহ সত্যি বলছি, তুই বিশ্বাস না করলে কি করি বলতো,এমন সময় মোবাইল বেজে উঠলো

আয়ান- কে কল করেছে দেখি

নির্ঝরিণী – তোর দেখে কাজ নেই নাম্বার টা আমার পরিচিত যাহ এখান থেকে

আয়ান- এই নির্ঝর তুই প্রেম করছিস না তো,

নির্ঝরিণী – থাপ্পড় টা কি এখন খাবি না পরে দিবো

আয়ান- আমি তোর বড় সম্মান দিয়ে কথা বল

নির্ঝরিণী – এহ আসছে বলদ দেড় বছরের বড় আপনি তেমন বেশি নয়

আয়ান- এখন কল রিসিব কর পরে ঝগড়া করিস

নির্ঝরী কল রিসিভ করে বল্লো
– ভাইয়া আপু কে দিবো ফোন টা

ইহান- না তোমাকে একটা কথা বলবো

নির্ঝরিণী – আমাকে,বলুন কি বলবেন

ইহান- থ্যাংক ইউ সো মাচ

নির্ঝরিণী – বুঝলাম কিন্তু এই কথা টা যেন আপু কোন দিন না জানতে পারে, তা হলে আমাকে দু টুকরো করে নদিতে ভাসিয়ে দিবে।

ইহান- জানবে না এখন দাও তো মোবাইল টা তোমার আপুকে

নির্ঝরিণী – আপু পড়ছে দাড়ান দিচ্ছি

নির্ঝরিণী মোবাইল নিয়ে স্টাডি রুমে গেলো
– আপু তোমার ফোন

মিথিলা বই থেকে মুখ না তুলেই বল্লো,কে ফোন করেছে

নির্ঝরিণী – ইহান ভাইয়া

মিথিলা কিছু না বলেই মোবাইল হাতে নিলো
– কিছু বলবি ইহান

ইহান-স্যরি তোকে ডিস্টার্ব করার জন্য

মিথিলা- এতো ফর্মালিটি না দেখিয়ে বল কি বলবি

ইহান- বলছি তুই পরিক্ষার কেন্দ্রে যাবি কি করে

মিথিলা- কি করে আবার গাড়ি দিয়ে যাবো,পাব্লিক বাস গুলো আছে কিসের জন্য

ইহান- বলছি মিথিলা পাব্লিক বাসে গেলো অনেক প্রব্লেম সিট পাওয়া যায় না,তার পর সময় মতো বাস পাওয়া যায় না……

ইহানের কথার মাঝখানে মিথিলা থামিয়ে দিয়ে বল্লো
– তুই কি বলতে চাস

ইহান- তেমন কিছুই না বলছি আমার সাথে রোজ ই গাড়ি যাবে এন্ড সিট খালি থাকবে, আমি কি তোকে লিফট দিতে পারি?

মিথিলা- না পারিস না,এই নিয়ে তোর সাথে একটা কথাও বলতে চাই না. বাই

মিথিলা ইহানের মুখের উপর লাইন কেটে দেয়
নির্ঝরিণীর দিকে তাকিয়ে মিথিলা বল্লো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি শুনছিস মোবাইল নিয়ে চলে যা

নির্ঝরিণী কিছু না বলেই চলে গেলো
মিথিলা আবার বইয়ে মুখ গুজে দিলো পরিক্ষার না শেষ হওয়া পর্যন্ত অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় তার নেই

পরিক্ষার দিন সকাল বেলা মিথিলার বাসার সামনে দুটো গাড়ি অপেক্ষা করছে, প্রথম টা ইহানের দ্বিতীয় টা ওর বাবার বাড়া করা সি এন জি

মিথিলা বইয়ের দিকে তাকাতে তাকাতে বাসা থেকে বের হলো, গাড়িতে উঠতে গিয়ে মিথিলা শকড খেলো,এতো দামি কার , তার বাবা ঠিক করেনি তা হলে

এমন সময় গাড়ির গ্লাস নেমে গেলো
অরনি জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বল্লো
– তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম মিথিলা চলে আয়

মিথিলা -অরু তুই? তোর তো এখানে আসার কথা ছিলো না

অরণি – সব কথা কি তোকে আগে থেকেই বলে রাখতে হবে

মিথিলা- ওকে তোরা যা আমি সি এন জি তে করেই আসছি তোদের পিছনেই থাকবো

অরণী – মিথিলা সি এন জি কে আমরা বিদায় দিয়ে দিয়েছি,ও এখন পাশের বাসার বাড়ার জন্য অপেক্ষা করছে, দাঁড়িয়ে থাকলে দেরি হয়ে যাবে

মিথিলা আর কথা না বাড়িয়ে উঠে বসলো,আট সিটের বিশার মাইক্রোবাস,সবাই আছে সাম্মি রাহি নতুন কয়েকজন আছে যারা শুধু ক্লাসমেট

রাহি- মিথিলা তুই আমাদের সাথে মিশতে চাস না কেনো

মিথিলা- চাই না কে বল্লো

সাম্মি- অনেক বলে কয়ে তোকে রাজি করাতে হয় কেনো,আমাদের কে তুই বেষ্ট ফ্রেন্ড ভাবতে পারিস না

মিথিলা- রাহি, সাম্মি রাতে কি পড়েছিস একবার করে দেখে এক্সাম হলে কাজে দিবে

অরনি- ঠিক বলেছিস মিথি, গাড়ি চলতে শুরু করলো

মিথিলা এ কি গাড়ি উলটো দিকে যাচ্ছে কেনো

অরনি- ইহান উঠবে, ইহান কে নিতে হবে না

মিথিলা- তার মানে এই গাড়ি ইহানের,

অরনি- না ইহানের না এটা বাবা কিনেছে আমার জন্য বাবা অবশ্য একটা জিপ কিনতে চেয়েছিলো
আমি নিষেধ করি জিপে তো তোদের সবাইকে নিয়ে বসতে পারবো না তাই, আমি প্লান করি সবাই এক সাথে যাওয়ার

মিথিলা- তা আসার পথে ইহান কে না এনে এখন উলটো পথে ইহান কে নিচ্ছিস কেনো

অরনি- এমনি( ইহান কে যে তুই এভয়েট করিস সেটা আমরা ভালো করেই বুঝতে ফেরেছি তাই আগে ইহান কে নিই নি) মনে মনে বল্লো

মিথিলা আর কিছু বল্লো না,,ইহান দের বাসার সামনে ইহান দাঁড়িয়ে আছে

ইহান গাড়িতে উঠে বসলো মিথিলার পাশের সিটে মিথিলা খেয়ালই করেনি তার পাশের সিটের দিকে ইহান বসতেই খেয়াল করলো,,পরে আফসোস করলো এই ভেবে যে যা এড়িয়ে চলতে চাই তা ই কেনো পিছু ছাড়ছে না আমার

ইহান- অরু পরিক্ষার ‘ হলে’ কি ছেলে মেয়ে এক সাথে বসবে নাকি

অরনি কিছু বলার আগে রাহি বল্লো
– কেনো মেয়ে পটানোর ধান্দা করছিস নাকি

ইহান- করলে ও করতে পারি

অরনি- তুই সেটা করবি না আমি জানি,,মজার ব্যাপার কি জানিস,তুই মিথিলা রাহি অর্চনা তোরা তিন জন ই পাশা পাশি,তার পর মাঝখানে এলো যাদের জীবনে ক্লাসে দেখিনি তারা,তাদের পাঁচজনের পরে আমি

ইহান- ওয়াও( এতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি)

অরনি- তুই তো খুশি হবি

ইহান- অরু মেরা দোস্ত মন খারাপ করিস না

অরনি- রাখ তোর ফাজলাম

পুরো সময় মিথিলা কোন কথা বলেনি পরিক্ষার হলে ডুকে ও বলেনি
ইহান- দোস্ত মিথি হ্যাল্প করিস রে তুই তো আবার সব জান্তা হি হি হিহি

এভাবেই পড়াশুনা নিয়ে ব্যাস্ততার মাঝে পরিক্ষা শেষ হলো
কিন্তু মিথিলার পড়া কখনো ই শেষ হবে না সে এখন গল্প উপন্যাসের বই নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছে

আজ বাসায় কেউ নেই মা বাবা আয়ান নির্ঝরিণী সবাই গ্রামে নানু বাড়ি গেছে মিথিলাকে ও নিতে ছেয়েছিলো তারা কিন্তু মিথিলা যায়নি,
মিথিলা এখন সাইমুম সিরিজের বই গুলো নিয়ে খুব ব্যাস্ত রাত নেই দিন নেই সারা দিন বসে থাকে বই গুলোর সামনে

আজ ও খালি বাসা ডিস্টার্ব করার মতো কেউ নেই,মিথিলা বই সামনে নিয়ে বসে পড়লো
এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো

মিথিলা- এখন তো কেউ আসার কথা নয় তা হলে কে আসবে
অনেকটা বিরক্ত হয়েই মিথিলা দরজা খুলতে গেলো
দরজা খুলে মিথিলা লাফিয়ে উঠলো
কারন
চারজনের এক স্বরে কথা শুনে
– সারপ্রাইজ মিথি চলে এলাম

মিথিলা হঠ্যাৎ ওদের কে দেখে ভয় পেয়ে গেছিলো,

ইহান- কিরে এমন রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো

মিথিলা নিজেকে সামলে নিয়ে বল্লো
– তোরা সবাই আসবি, ফোন করিস নি কেনো

অরনি- করেছিলাম তো আয়ানের সাথে কথা বলে এসেছি,জানতে পারলাম সবাই বেড়াতে গেলে ও তুই যাস নি তাই তোকে সংগ দিতে চলে এলাম

ইহান- তা ছাড়া বলে আসলে.তোর পাঁচের মতো হয়ে যাওয়া মুখটা তো দেখতে পারতাম না
কি বলিস তোরা

সবাই এক স্বরে বল্লো
হুম তাই

রাহি- এখন কি দরজায় দাড় করিয়ে রাখবি নাকি

মিথিলা- ওহ তাই তো আয় বস

ইহান এই প্রথম মিথিলাদের বাসায় এসেছে তাই সে না বসে বল্লো কিছু মনে করিস না মিথি
আমি কি তোদের বাসাটা একটু দেখতে পারি

মিথিলা ভ্রুকুঞ্চিত করে বল্লো
– কেনো

অরনি- মিথি আমার মনে হয় ইহান তোদের বাসা দেখতে চায় না,ও দেখতে চায় তোর স্টাডি রুম
কি ঠিক বলেনি ইহু

ইহান- হুম তাই

মিথিলা- ঠিক আছে তোরা সবাই আয়
সবাই মিলে চল্লো স্টাডি রুমের দিকে

স্টাডি রুম টা মোটামুটি সাইজের বড় চারি দিকে বইয়ের তাক,আর হরেক রকম বই দিয়ে সাজানো,
ইহান একটা জায়গাতে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে, তার পর ফিরে এলো ব্যাপার টা মিথিলার চোখ এড়ালো না,প্রশ্ন এলো মিথিলার মনে ইহান কি রেখেছে সেখানে

ইহান- চল এবার বেরুই

মিথিলা- বেরুবি মানে যাহ গিয়ে ড্রইংরুমে বস আমি আসছি

ইহান- আরেহ বেরুবো মানে স্টাডি রুম থেকে বেরুবো, তোদের বাড়ি থেকে নয়

মিথিলা – ওহ আচ্ছা
সবাই আবার বসার ঘরে ফিরে এলো

to be continue
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন