কৃষ্ণকলি পর্ব- ১০

কৃষ্ণকলি
পর্ব- ১০
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

সংযত হয়ে কথা বলুন মিস নুসরাত।
নুসরাতের উদ্ভট আচরণে রাগান্বিত হয়ে কথাটা বলে বাঁধন। নুসরাতের রাগ উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে। সেই রাগের বশবর্তী হয়েই নুসরাত বলে ফেলে-
” তুই আমার কলিজায় হাত দিয়েছিস। তোর সাথে আমি কিভাবে ভালো ভাবে কথা বলব তুই’ই বলে দে।”
অকস্মাৎ নুসরাতে এ হেন আচরণে অবাক হয় বাঁধন। আর তাইতো নুসরাতের কোনো কথার জবাব না দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে বাঁধন। এদিকে নুসরাত বিরামহীন ভাবে বলেই চলছে_
” মায়া আমার বান্ধবী। ও আমার এমন একজন বান্ধবী যার জন্য আমি আমার কলিজাটাও কেটে দিয়ে দিতে রাজি। আর তুই কি না সেই মেয়েকেই ফালতু বললি। তোর সাহস তো কম নয়।”

নুসরাতের কথার মাঝখানে নুসরাতকে থামিয়ে দেয় বাঁধন। তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে- ওহ!
পরাণের বান্ধবী….!!!
তাইতো বলি নিজের খেয়ে বনের মোষ কেন তাড়াচ্ছে?!
নুসরাত বাঁধনকে কিছু একটা বলতে যাবে তখনই ওদের সামনে গিয়ে উপস্থিত হলাম আমি। আমায় দেখে বাঁধন কিছুটা স্থির হলো। আর নুসরাতের সব রাগ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। বাঁধনের সামনে গিয়ে বিনীত ভঙ্গিতে দাঁড়ালাম আমি।
” স্যরি, বাঁধন ভাইয়া। আমার বান্ধবীর কৃতকর্মের জন্য আমি সত্যি’ই লজ্জিত। আসলে ও উন্মাদ হয়ে গেছে। ভালোবাসার মানুষটি থেকে ধোঁকা খেয়ে বড্ড উন্মাদ হয়ে গেছে। সেই থেকে ও কোনো পুরুষ মানুষের মুখে ভালোবাসি কথাটা সহ্য করতে পারে না। ওর চোখের সামনে কোনো পুরুষ কোনো নারীকে নিয়ে কটুক্তি করলেই হলো, ব্যাস! ও লেগে যায় কোমর বেঁধে তার বিপক্ষে।”
আমার কথা শুনে বাঁধন একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলে-
ওহ, তাই বলুন! আমি তো ভাবলাম ওনি সত্যি সত্যি মায়ার কোনো কালের বান্ধবী।

আরে না, না!
ওহ, হ্যাঁ যে কথাটি বলতে এসেছিলাম—
আন্টি আপনাদের ডাকতেছে। বলল কি জানি কথা আছে! কথাটা বলেই রুমের দিকে পা বাড়ালাম। বাঁধন নুসরাত আমার পিছু পিছু চলল বাসার দিকে।
বাসায় প্রবেশ করেই নুসরাত রাগে হনহন করে উপরে চলে যায়, আর বাঁধন মায়ের পাশে গিয়ে বসল। এদিকে নুসরাতের রাগ ভাঙ্গাতে ওর পিছু পিছু চললাম আমি।
কিন্তু রাগ আর ভাঙ্গাতে পারলাম না। যে মিথ্যেটা কখনো সহ্য করতে পারে না নুসরাত, সেই মিথ্যেটাই বললাম। তাও আবার ওকে জড়িয়ে। পাগলী ভীষণ ক্ষেপেছে বুঝতে পারলাম। নুসরাতের রাগ ভাঙ্গানোর বৃথা চেষ্টা করে মিনিট পাঁচেক পর ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়ালাম।
বাঁধনের মায়ের একটা কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। দাঁড়িয়ে পরলাম দেয়ালে হেলান দিয়ে পর্দার আড়ালে।
বাঁধনের মা বাঁধনের জীবন সঙ্গীনি হিসেবে নুসরাতকে পছন্দ করেছে। আর সেই পক্ষে সবার মতামত জানতে চাইছে। বাঁধনের দাদাই প্রথম মুখ খুলে। ওনি ওনার মতামত পেশ করেন এভাবে__
” বউমা! আমি তো ভাবছিলাম তুমি বাঁধনের জন্য মিষ্টি(মায়া)কে পছন্দ করেছ। কিন্তু তুমি যে তার বান্ধবীকে পছন্দ করবে সেটা বুঝতে পারিনি। আসলে বাঁধনের জীবনসঙ্গীনি হিসেবে নুসরাত নয়, ঐ মেয়েকেই আমার উপযুক্ত মনে হয়েছিল। চলায়, বলায়, আচার- আচরণে অনন্য ঐ মেয়েটি। যদিও একটু কালো কিন্তু কালো’টা কোনো ফ্যাক্ট না।”
বাঁধনের দাদার মুখ থেকে কথা ছুঁ মেরে কেড়ে নেয় বাঁধনের বড় কাকা। বাপের কথার প্রতিউত্তরে ওনি বলেন-
” কি বলছেন আপনি আব্বা? ঐ কালো মেয়েকে বিয়ে করবে আমাদের বাঁধন? শেষমেষ নাতির জীবনটা শেষ করে দিয়ে যাবেন? বাঁধন মুখ দেখাবে কিভাবে মানুষকে? ঐ কালো মেয়েকে নিয়ে ও কি পারবে বন্ধুদের সামনে যেতে? পারবে কোনো প্রোগ্রামে যেতে? আমাদের স্ট্যাটাস আর ওর স্ট্যাটাস মিলবে???”
বাঁধনের বড় কাকার মুখ থেকে কথা কেড়ে নেয় ওর বড় কাকি। রাগে গজগজ করে বলে_
” কেন? কালোরা কি মানুষ না? ওরা কি আল্লাহর সৃষ্টি না? ওদের শরীরে কি অন্য রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে নাকি? আর স্ট্যাটাসের কথা কেন বলছেন? যারা নিঃস্ব ওদের কি বিয়ে হচ্ছে না? গরীব’দের বড় পরিবারে বিয়ে হচ্ছে না?”
বাঁধনের ছোট কাকা বলে উঠে_
” ভাবি তো ঠিক’ই বলেছে। আর ঐ মেয়ের কি নেই? শিক্ষায় দীক্ষায় আচার আচরণে সব দিক দিয়ে অনন্য।”
বাঁধনের ছোট কাকিও বলে উঠে__
” হ্যাঁ, ঐ মেয়েকে আমারও পছন্দ হয়েছে।
থাক কালো। কালোতে কি আসে যায়?”

মিষ্টিকে আমি মেয়ে মানি। আর বউ হিসেবে আমার নুসরাতকেই ভালো লেগেছে। তাই বলে ভাববেন না ওর কথা ভুলে যাব। ওকে আমরা ধূমধামের সাথে অনেক বড় ঘরে ভালো পরিবারে বিয়ে দিব। তাই ওর জন্য আপনারা এত চিন্তা না করে শুধু এটুকু বলুন, নুসরাত বউ হিসেবে যোগ্য কি না?
বাঁধনের মায়ের কথা শুনে বাঁধনের দাদা বলে, তাহলে তো হলো’ই। আমি বিয়েতে রাজি। বাঁধনের দাদার কথা শুনে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে সবাই একসাথে বলে উঠে—
আলহামদুলিল্লাহ!!!!

আমার পুরো শরীর কাঁপছিল।
আমি কি পড়ে যাব? বাঁধন কি সত্যি’ই নুসরাতের হয়ে যাবে? হতে পারে না। আমার ভালোবাসা অন্য কারো হতে পারে না। ঝরঝর করে চোখ থেকে পানি পরছিল আমার। পর্দার আড়াল থেকেই বাঁধন- নুসরাতের বিয়ের ব্যপারে হাজারো কথা শুনছিলাম আমি। বুঝতে পারছিলাম না কি করব? বাঁধনের মাকে বলতেই পারব না। যিনি আমাকে এতটা ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন এ সত্য মেনে নেওয়ার ক্ষমতা তিনি রাখেন না।
অনেক ভেবে দেখলাম, ওনার স্নেহের ঋন, ওনার ভালোবাসা আর আমাকে আগলে রাখারা আপ্রাণ চেষ্টা আমাকে স্বার্থপর হতে শেখায়নি।
মনে মনে বললাম, তুমি এবার বিয়েটা করে নিও বাঁধন। বিয়েটা করে নিও। আমার মত কালো মেয়ের আশা নাইবা হলো পূরণ। কিন্তু তোমার মায়ের ইচ্ছে’টা পূর্ণ করো তুমি।
ভীষণ কষ্ট হচ্ছে বাঁধন। খুব ভয় লাগছে। ভীষণ ভয় লাগছে। মনে হচ্ছে কি যেন হারিয়ে ফেলছি। যখন তুমি আমায় ছেড়ে চলে গেলে, তখন মন শঙ্কায় ছিল। তোমায় ফিরে পাবো কি পাবো না। সে দিনগুলোতেও এতটা অসহায় লাগেনি, যতটা আজ লাগছে। আজ ততটা ভয় লাগছে। পার্থিব এই পৃথিবীতে তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় আজ পাচ্ছি বাঁধন।
আমার সব আশা যেন বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে। অদৃশ্য এক আয়নায় দেখতে পাচ্ছিলাম সাজানো একটা বাগানের সুন্দর ফুলগাছগুলো উপড়ে পড়ে আছে। কেউ যেন প্রচন্ড আক্রোশে গাছগুলো উপড়ে ফেলেছিল।
ওদের দেখার আগেই পর্দার আড়াল থেকে সরে গেলাম। ছুটে গেলাম রুমের দিকে। দরজা বন্ধ করে, বালিশে মুখ গুজে গুমড়ে গুমড়ে কেঁদেছি। পরদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। বিয়ের ব্যাপারে নুসরাতকে অলরেডি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নুসরাত তাই শুধু আমায় খুঁজছে। একান্তে কথা বলার জন্য নুসরাত আমাকে একটাবারেরও জন্যও একা পায়নি। পাইনি বললে ভুল হবে। আমি’ই ওর থেকে দুরে দুরে থাকি। গাড়িতেও ওর সাথে বসিনি। নুসরাত যে গাড়িতে উঠেছে সে গাড়িতে না উঠে অন্য গাড়িতে উঠলাম। বাঁধনের দাদার পাশের সিটে চুপটি করে বসে আছি। গাড়ির গ্লাস দিয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি। বাসায় গিয়ে খুব বিজি হয়ে গেলাম আমি। দিনে কলেজ+টিউশন+কোচিং।
সন্ধ্যায় নামাজ+কুরআন তেলওয়াত। এরপর বাঁধনের মায়ের সাথে সাথে এটা ওটা করা, আর রাতের খাবারের শেষে দরজা বন্ধ করে কলেজের কাজের অজুহাতে মুখ লুকিয়ে কাঁদা।
আমাকে আর পাই কে???

সেদিন ছিল শুক্রবার। শুক্রবার ছুটির দিন।
তবুও মিথ্যে অজুহাত দেখিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। উদ্দেশ্য একটাই। নুসরাতের থেকে দুরে থাকা। কিন্তু চালাক নুসরাত হসপিটালে যাওয়ার কথা বলে বাসায় লুকিয়ে থাকে। আমি বাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে আমার পিছু নেয়। বেশি দুর যেতে পারিনি, তার আগেই ধরে ফেলে। পথ আগলে দাঁড়ালো নুসরাত।
মুখে ব্যস্তভাব এনে বললাম, প্লিজ আমায় যেতে দে সোনাপাখি। আমার কলেজে কোচিং আছে। রাগান্বিত ভঙ্গিতে নুসরাত বলে উঠে-
” একটা থাপ্পর দিমু আরেক বার যদি মিথ্যে কথা শুনি।”
আমি আবারো বললাম প্লিজ আমায় যেতে দে, আমার কলেজে ইমারজেন্সি মিটিং আছে। কথাটা বলতে দেরি, থাপ্পর দিতে দেরি না। আমি কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে জেনেছি আজ কলেজে কিচ্ছু নেই। মিটিং ফিটিং কিচ্ছু নেই। নুসরাত আমার হাত ধরে টেনে আমায় নিয়ে হাজির হয় একটা পার্কের সামনে।
এই মুহূর্তে মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি ওর সামনে। চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরছে। ও আমার থুতনি ধরে আমার মাথাটা উচু করে। চোখে চোখ রেখে বলে এখনো সময় আছে, বাঁধনের কাছে ধরা দে। ও বেচারা ওর হারিয়ে যাওয়া মায়াকে আজও ভালোবাসে। হয়ত মুখে উল্টাপাল্টা কথা বলে কিন্তু ভিতরটা ঠিকই কাঁদে। আমি অশ্রুভেঁজা নয়নে নুসরাতের দিকে তাকিয়ে আছি। নুসরাত অনবরত বলেই যাচ্ছে-
” যা মায়া! যা…..
তুই যা তোর বাঁধনের কাছে।”
নুসরাতের থেকে চোখটা ফিরিয়ে নিলাম। আমি পারব না বলতে। তুই বিয়েটা করে নে।
আবারো এক থাপ্পর।
নুসরাত আমার হাতে একটা মোবাইল দিয়ে বলে তোর বলতে হবে না। শফিক সাহেবের নাম্বারটা তোল। আমি সবকিছু ওনাকে খুলে বলব। ওনি সব শুনে বিদেশ বসে থাকতে পারবেন না। ওনি ঠিক ছুটে আসবেন দেশে ওনার মায়া বন্ধুকে হেল্প করতে। শফিক সাহেবের নাম্বার দিতে অস্বীকার করলে নুসরাত হুমকি দেয় আমায়-
যানবাহন চালিত রাস্তা দিয়ে দৌঁড় দিবে, ওর প্রাণটা দিয়ে দিবে।
নাম্বার’টা বাধ্য হয়ে দিতে হলো। ও দুর থেকে ফোনে কি কথা বলল নিজেও জানি না। তারপর আমার কাছে এসে বলল,
চল! বাসায় চল…..

দেখতে দেখতে একসপ্তাহ চলে গেল।
সেদিনও ছিল শুক্রবার।
প্রচন্ড জ্বরে শয্যাশায়ী হয়ে শুয়ে আছি গত ৩,৪টা দিন ধরে। বাঁধনের পরিবারে সাজসাজ রব। কিসের জন্য এত সাজসাজ রব সেটা আমি জানি না। আর জানবার কথাও নয়। কারন- অসুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রত্যহ বাঁধনের মা এসে আমায় খাইয়ে দিয়ে যেত। সেদিন আর বাঁধনের মা আসেনি। এসেছিল নুসরাত। নুসরাতকে দেখে শুয়া থেকে উঠার চেষ্টা করলাম। নুসরাত আমায় খাটে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিল। ক্লান্তচোখে দিকে তাকিয়ে বললাম-
” নিচে এত হৈহুল্লুর কিসের’রে? তোর বিয়ে উপলক্ষ্যে আমন্ত্রিত অতিথীরা আসা শুরু হইছে নাকি?”
নুসরাত আমার দিকে হাসি হাসি মুড নিয়ে বলে- আরে না!
বাঁধনের বাবা আসতেছে। মানে তোর হারিয়ে যাওয়া শ্বশুর। ওনার আগমনেই বাসায় এত খুশির জোয়ার। ওরা সবাই যাচ্ছে তোর শ্বশুরকে আনতে। নুসরাতের পোষাকের দিকে তাকিয়ে বললাম-
তুইও যাচ্ছিস নাকি?
” আরে না! আমার একজন বিগ ফ্রেন্ড ইয়ারপোর্ট দাঁড়িয়ে আছেন আমার জন্য। ওনাকেই আনতে যাচ্ছি। তোকে খাইয়ে দিয়ে যাচ্ছি। লক্ষ্মী মেয়ের মত চুপটি করে বিছানায় শুয়ে থাক, কেমন?”
নুসরাত আমায় খাইয়ে দিয়ে কপালে আলতু চুমু দিয়ে তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। নুসরাতসহ বাসার সবাই যখন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই তখন কাঁপা কাঁপা শরীরে নিজ রুম থেকে বাঁধনের মায়ের রুমের দিকে পা বাড়ালাম। মাথাটা বড্ড ব্যথা করছে, দেখি কিছু পায় কি না।
হেলেদুলে বাঁধনের মায়ের রুমে গিয়ে হাজির হলাম। রুমটা বেশ পরিপাটি। আজ আরো সুন্দর করে সাজানো হয়ছে। যা, ভালো লাগছে না….
মাথা ব্যথার জন্য ট্যাবলেট কিংবা মলমের কৌটা কোনোটাই খুঁজে পাইনি। টেবিলের উপর ঢেকে রাখা পানিভর্তি গ্লাসটা হাতে নিলাম। ধকধক করে পানি খেলাম। গ্লাসটা যথা স্থানে রাখতে যাওয়ার সময় সদ্য দেওয়ালে টানানোর ছবিটার দিকে নজর যায়। অল্পবয়সী বাঁধনের মায়ের পাশে একজন সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে। দেখতে বাঁধনের মতই কিন্তু বাঁধন নয়। ডাক দিলাম কাজের মেয়েকে। জিজ্ঞেস করলাম আন্টির পাশে দাঁড়ানো লোকটা কে?
মেয়েটি হাসি মুখে জবাব দেয়, ইনি শফিক আংকেল। বাঁধন ভাইজানের বাপ। আঠারো বছর পর ওনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন।
মেয়েটি চলে গেল।
শফিক?!!!
মানে এই শফিক ঐ শফিক নইতো?
গ্লাস হাতে নিয়েই ছুটে গেলাম রুমের দিকে। রুম থেকে মোবাইলটা নিয়ে এসে গ্যালারীতে বন্ধু শফিকের ছবির সাথে দেয়ালে টানানো ছবিটা মিলালাম।
তার মানে ওনিই বাঁধনের…..(……..)….???
হাত থেকে গ্লাসটা পরে টুকরোটুকরো হয়ে গেল। আজ নুসরাত এবং এ বাসার সবাই একই ব্যক্তিকে রিসিভ করতে গেছেন এয়ারপোর্ট।
ইয়া মাবুদ!!!
বন্ধু শফিক মানে বাঁধনের বাবার মুখ থেকে বাঁধনের পরিবার যখন কথাগুলো শুনবেন তখন ওদের কিরকম রিয়েক্টশন হবে আল্লাহ’ই জানে? না, না।
আমি এ বাড়ির বউ হতে চাই না। আমি চাই না মায়ের মত মহিলার মনে কষ্ট দিতে।
আমি চলে যাব। এখনি চলে যাব।
বাঁধনের ভালোবাসা পেতে গিয়ে আমি আমার একমায়ের মনে কষ্ট দিতে পারব না। আমি চলেই যাব।

মায়া চলে গেল।
মাঝে মাঝে বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিতে হয়। বন্ধু শফিকের সেই কথাটায় বার বার ওর কানে বাজছিল। মায়া তাই চলেই গেল। সবার থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে নিল। অনেক অনেক দুরে……

চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here