আনকালচার্ড বউ পর্বঃ-০৩

0
1929

আনকালচার্ড বউ পর্বঃ-০৩
(অসামাজিক বউ)
লেখক ঃ- আবু জাফর

তারপর মেহরিমার বাবা ওদের বাসা থেকে খাওয়াদাওয়া করে চলে এলো।
বিয়ে ঠিক হলো সাতদিন পর।

রাতে আবু বাসায় এলে ওর মা বলে ফ্রেশ হয়ে আমাদের রুমে আসিস। তোর সাথে কথা আছে।আবু রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে মা বাবার রুমে গেলো।

আবুর বাবা বললো দেখ তুই আমাদের একটা মাত্র সন্তান। যখন যা চেয়েছিস তাই দিয়েছি।কোনদিন কিছুর অভাব বুঝতে দেয়নি তোকে।
তাই বলে তুই যখন যা ইচ্ছে তাই করেছিস।
স্বাধীনতা পেয়ে সেটার বিপরীত ব্যবহার করেছিস।
তাই আমরা ঠিক করেছি তোর বিয়ে দিবো।
এখন মেয়েও দেখেছি দেখতে যেমন সুন্দর ব্যবহার আচরণ ও ঠিক তেমনই।

আবু বললো আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। আবুর বাবা বললো ঠিক আছে তোকে বিয়ে করার জন্য জোর দিবো না। কালকেই তুই বাসা থেকে বেড় হয়ে যাবি। আর আমার সম্পত্তির এক কাণা কোণাও তুই পাবিনা। আবুর মা বললো আচ্ছা বাবা তুই ঘরে যা আর রাত টা ভেবে দেখ কি করবি।

আবু রুমে গিয়ে ভাবতেছে যে বিয়ে যদি না করি তাহলে তো আমার সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে। অনেকক্ষণ ভেবে আবু ভাবলো সে তার বাবাকে কয়েকটা কন্ডিশন দিবে যদি তার বাবা রাজি হয় তবে সে বিয়ে করতেও রাজি হবে।

এইদিকে মেহরিমার বাবা রাতে চেয়ারে বসে আছে। চোখ দুইটা ভেজা মেয়েটাকে ছোট বেলা থেকে আগলে রেখেছে সে। মেয়েটাকে বিদায় দিলে কিভাবে থাকবে ভাবতেই তার বুকটা কেপে উঠতেছে।

মেহরিমা এসে বাবার পাশের চেয়ারে বসলো। আচ্ছা বাবা আমি চলে গেলে তোমার কষ্ট হবে না।

মেহরিমার বাবাঃ- কষ্ট হবে কেনো। তুই তো ওখানে ভালো থাকবি।

মেহরিমা ঃ-আর তুমি আমাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবে??

মেহরিমার বাবাঃ-তোর মাকে খুব ভালোবাসতাম আমি। কখনো তাকে ছাড়া এক মূহুর্ত কাটাতে হবে ভাবিনি।অফিস গিয়ে ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিতাম। কি করছে?? গোসল খাওয়াদাওয়া হয়েছে কিনা?? নানান প্রশ্ন করতাম।

তুই জন্ম নেবার পর তোর মা চলে গেলো। আজ ২৩ টা বছর তোর মায়ের সাথে দেখা তো দূরের কথা একটা ফোন দিয়েও তো খবর নিতে পারিনা সে কেমন আছে?? দেখেছিস এতো কঠিন কাজটা আমি ঠিক পেরেছি।

মেহরিমা তার বাবার গলাটা জড়িয়ে করে কান্না করে উঠলো।
মেহরিমার বাবাও এতো সময় সে জলটা লুকিয়ে রেখেছিলো। মেয়ের কান্নাতে সেও আর চেপে রাখতে পারলো না।

এইদিকে সকালে আবু তার বাবাকে বললো আমার কয়েকটা কন্ডিশন আছে যদি রাজি থাকো আমি বিয়ে করতে রাজি।
আবুর বাবা বললো কি বল শুনি..??

আবু বললো
আমি এখন যেভাবে চলাফেরা করি সেভাবেই করবো। বিয়ের পর আমার নিজের স্বাধীনতা কারও কাছে বিকিয়ে দিতে পারবো না।
আমি স্বামী হিসাবে কোন দায়িত্ব পালন করতেও পারবো না।

আবুর বাবা বলে উঠলো তুই যা কিছু বলছিস তোর মাথা ঠিক আছে।
আবুর মা বলে উঠলো আরেহ এখন এসব বলছে বউ এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি রাজি হয়ে যাও।
আবুর বাবা কিছুটা শান্ত হয়ে বললো ঠিক আছে আমি রাজি।
আবু বাসা থেকে বেড় হয়ে গেলো।

এইদিকে বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে আবুর বাসাই দিয়ের ধুমধাম আর মেহরিমার বাসাই কেমন জেনো একটা থমথমে পরিবেশ।
মেহরিমার বাবার দিকে তাকানো যায় না কেমন জেনো হয়ে গেছে। মেহরিমা ভাবে আচ্ছা সব মেয়ের বিয়ের আগে বুঝি তার বাবাদেরও এমন হয়। কলিজা ছিড়ে যায় বাবাদের হয়তো তাদের মেয়েকে বিদায় দিতে।

রাতে মেহরিমার বাবা শুয়ে আছে চোখের কোণা ভেজা। ভাবছে দিন গুলো কেমন জেনো খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাচ্ছে। আর এদিকে মেয়েকে হারানোর ব্যথায় বুকটা কেমন জেনো ফাকা ফাকা লাগছে।

এইদিকে মেহরিমার বাবার দরজায় ঠকঠক শব্দ। মেহরিমার বাবা চোখটা মুছে দরজা টা খুলে দেখে বাইরে মেহরিমা দাঁড়িয়ে আছে।
কিরে মা কিছু বলবি।

মেহরিমাঃ-কি করতেছিলে বাবা??

মেহরিমার বাবাঃ- কিছু না মা ঘুমাচ্ছিলাম কাল তো অনেক কাজ।

মেহরিমাঃ- হ্যা কালকে আমাকে পর করে দেবার আয়োজন তাইনা বাবা?

মেহরিমার বাবাঃ-এভাবে বলিস না মা

মেহরিমা ঃ-আচ্ছা বাবা আজকের রাত টা আমি তোমার সাথে থাকতে পারি।

বলে মেহরিমা তার বাবার রুমে চলে গেলো। বাবার বুকে মাথা রেখে সারারাত বাবা মেয়ে গল্প করলো।
শেষ রাতে মেহরিমা বলতেছে আচ্ছা বাবা আর কয়েক ঘন্টা পর আমার বিয়ে তাইনা…???আচ্ছা মা সারারাত তো ঘুমাসনি এখন একটু ঘুমা সকাল আর বেশি বাকি নেই। মেহরিমা তার বাবার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।

আজ শুক্রবার মেহরিমার বিয়ে…

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here