অনূভুতিরা অফলাইনে (পর্ব ১)

0
397
অনূভুতিরা অফলাইনে
অনূভুতিরা অফলাইনে

“শহরের নামকরা কলেজের অরিয়েন্টেশন ক্লাস আজ। প্রাইভেট কলেজ এটা।

রেজাল্ট আর পাশ এর হারে গত কয়েক বছরে বোর্ডের সেরা কলেজ এটা।

ছেলেমেয়েরা এই কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পাগল।

অনেক কাঠখড় পুরিয়ে এখানে ভর্তি হতে হয়।

সাইন্স গ্রুপের অনেক গোল্ডেন পাওয়া ছেলেমেয়ে গুলাও ওয়েটিং থাকে এখানে।

আর অন্যান্য গ্রুপ গুলাতে ভর্তি হওয়া ম্যাক্সিমাম ছাত্ররাই এস এস সি তে এ প্লাস পেয়েছে।

যাই হোক এখানকার অতি অসাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ভিড়ে খুব সাধারণ একজন ছেলে “হৃদয়”।

গল্পটা এই ছেলেকে নিয়েই। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মার অনেক আদরের একমাত্র বড় ছেলে।

ছেলেটার সাথে ক্ষেত, গাইয়া, পাগল এইসব বিশেষণ গুলা খুব ভাল মানায়।

ওকে পাগল বলার কারণ,

এস এস সি তে সাইন্স থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে গ্রুপ চেঞ্জ করে কেউ আর্টসে আসে??

ওকে অনেকবার বুঝানো হয়েছিল দেখ তুই এত ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট তুই পড়বি মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং আর তুই কিনা আর্টসে পড়বি?

তার সোজা সাপ্টা উত্তর ছিল,

বাবা মেডিকেল এ পড়া টা আমার প্যাশন না আর আমার কাছে আমার ক্লাস এর চেয়ে প্যাশন এর মূল্য বেশি।

আমার স্বপ্ন আমি ঢাকা ইউনিভারসিটি তে পড়বো এল এল বি কিংবা জার্নালিজম নিয়ে।

কে কি বললো এটা নিয়ে আমার মাথাব্যাথা নেই। শেষ পর্যন্ত নিজের ইচ্ছাতেই ভর্তি হলো আর্টস গ্রুপে।

বাসা থেকে কলেজ অনেক দূরে হওয়ায় হোস্টেলে থাকবে ও।

এই ছেলেটা একদম অদ্ভুত টাইপের।

কখনো কারো কথা শুনবে না নিজের মনে যা আসবে তাই করবে।

আর ওকে বুঝানো টাও অসম্ভব। ওকে যতই বুঝানো হোক ওর যুক্তির কাছে শেষমেশ হারতে হবেই।

ছেলেটা অনেক যুক্তিবাদী। বয়স খুব একটা না হলেও এই বয়সের ছেলেমেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ম্যাচিউর ও।

তবে ওর সাথে খুব ভালভাবে না মিশলে আপনি কখনো বুঝতে পারবেন না ছেলেটা কত ম্যাচিউর।

ওর মা বাবার মতে ও নাকি একদম বোকা, ঠিক মতো চলতে পারে না, নিজের খেয়াল রাখতে পারে না,

এখনো তার জামা কাপড় বাবা মা ধুয়ে দিতে হয়, পড়ালেখার প্রতি কোন মনোযোগ নাই, সারাদিন মোবাইল টিপে,

চঞ্চল, দুষ্ট আরো কত কি…

আর এ সকল কারণেই ওর বাবা মা ও কে বাইরে পাঠাতে রাজি ছিল না।

শেষমেশ ওর যুক্তির কাছে হেরে বাসা থেকে দূরে পাঠাতে হলো আর ও যাওয়ার আগে বলেছিল,

বাবা-মা তোমরা দেখো আমি ঢাবি তে টিকে দেখাবোই।

ছেলের হুট করে এই আমূল পরিবর্তনে ওর বাবা মা একটু আশ্চর্যই হলে।

কলেজের অরিয়েন্টেশন ক্লাস আজ। সব ছেলেমেয়েরা একে একে কলেজে ঢুকছে।

আর কলেজের বড় ভাই দের হাল্কা পাতলা র্যাগিং চলছে। সবাই জড়ো হয়েছে বিশাল মিলনায়তনে।

নতুন কলেজ আর চারপাশের সব এপ্লাস প্রাপ্ত প্রতিভাবান দের ভিতর বেচেরা ছেলেটা চুপচাপ বসে আছে।

সামনে প্রিন্সিপ্যাল স্যার ভাষন দিচ্ছে।

কলেজের গুনগান গাইছে আর পোলাপান গুলা খুব মনোযোগ এর সহিত স্যারের কথা এক কানে ঢুকাচ্ছে আরেক কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে।

তারা ক্লাসের সুন্দরী মেয়েগুলাকে খুজায় খুব ভালভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।

এইটা আমার অইটা আমার এভাবে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। আর হৃদয় চুপচাপ করে রঙ তামাশা গুলা দেখছে।

হঠাত স্যার জোড় গলায় ধমক দিলেন চুপ হওয়ার জন্য। ধমকের সাথে সবাই চুপ, স্যার আবার বলতে আরম্ভ করলেন।

ক্লাসে তখন পিনপতন নীরবতা চলছে। তখনি কোন একজনের সুমিষ্ট গলার আওয়াজ শুনা গেল,

“স্যার আসতে পারি?”

ক্লাসের সবাই মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

আর প্রিন্সিপ্যাল স্যার মেয়েটাকে বললেন আরে মামুনি আসো আসো।

আসতে অসুবিধা হয়নি তো? এবার একটু মাথা তুলে তাকালো হৃদয়।

কে এই ব্যাক্তি যার জন্য প্রিন্সিপ্যাল স্যার এত আপ্যায়ন দেখাচ্ছেন।

মেয়েটার আপাদমস্তক একবার ভাল ভাবে তাকিয়ে আবারো নিচের দিকে তাকিয়ে আছে ।

আর মনে মনে বলছে বড় লোকের আদুরে দুলালী হবে হয়তো।

মেয়েটা সামনেই একটা বেঞ্চে বসে পড়লো। স্যার আবার কথা শুরু করলেন।

তবে ক্লাসের পোলাপান গুলার মনোযোগ ছিল অই নবাগতা মেয়েটার দিকে।
যাক অরিয়েন্টেশন ক্লাস শেষে সবাই যার যার ক্লাসের দিকে যাচ্ছে।

আজ হাল্কা দুই একটা ক্লাস হবে। হৃদয় সবার আগেই পিছন দিকে দিয়ে বের হয়ে চলে আসে ক্লাসের দিকে।

ক্লাসে এসে মাঝামাঝি একটা বেঞ্চে বসে পড়ে।

সবাই ক্লাসে ঢুকছে আস্তে আস্তে। অই মেয়েটাও ক্লাসে ঢুকলো।

মেয়েটাকে দেখে ও ভাবছে বাঃ বাঃ বড়লোকের আদুরে দুলালী আর্টস এ কেন?

যাক সবাই ক্লাসে বসে আছে। একজন আরেকজন এর সাথে পরিচিত হচ্ছে।

এখানের বেশির ভাগই প্লাস গোল্ডেন পাওয়া স্টুডেন্ট।

একজন আরেকজনকে যখন জিজ্ঞেস করে এস এস সির রেজাল্ট কি এরা ভাবের সাথে উত্তর দেয় জিপিএ ৫।

হৃদয় চুপচাপ বসে আছে। ও নিজে থেকে গিয়ে কারো সাথে কথা বলে না।

ওর পাশের একটা ছেলে ও কে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করে হাই আমি নিবিড় তুমি? ও আস্তে করে বলে হৃদয়।”