অজানা_অনুভূতি পার্ট: 30

0
472

অজানা_অনুভূতি

পার্ট: 30

#Rabeya Sultana Nipa

 

__সকালে নাস্তা করে বাড়ীর ছেলেরা সবাই অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে।সবার আগে মৃদুলকেই যেতে হচ্ছে কারণ বিয়ে পর মৃদুল বেসরকারি একটা অফিসে কাজ করছে।আর সবাই নিজেদের ব্যবসা তাই একটু দেরী হলে সমস্যা নেই।ফারহান রুমে এসে রেডি হয়ে প্রাপ্তিকে ডাকছে।প্রাপ্তি সবার সাথে বসে গল্প করছে। ফারহানের ডাক শুনে উঠে গিয়ে, আমার বরটার কি হয়েছে বলোতো ?

ফারহান -তুমি জানো আমার এখন অফিসে যেতে হবে।এমনিতে সকালে উঠতে দেরী হয়ে গেলো। কোথায় আমার সব কিছু গুছিয়ে দিয়ে অফিসে পাঠাবে তা না উল্টো বসে বসে আড্ডা দিচ্ছো।

প্রাপ্তি- তাই বাবু সোনা? তোহ্ তোমাকে সকালে উঠতে কে মানা করেছে?

দুষ্টমার্কা একটা হাঁসি দিয়ে ফারহান একহাতে দিয়ে গলার টাই ঠিক করছে অন্য হাতে প্রাপ্তিকে কাছে টেনে এনে জড়িয়ে ধরে,
ফারহান – বাবু,এতো সুন্দর একটা চাঁদ পাশে থাকলে রাতে কি ঘুম হয়? তাই রাতে শুধু সেই চাঁদের আলোতে হারাতে ইচ্ছে করে।নিজেকে যতোই বলি ফারহান, সকালে অফিস আছে মিটিং আছে চাঁদের আলোতে নিজেকে এতো হারিয়ে ফেলিস না।তবুও মন কিছুতেই মানতে চায় না।

প্রাপ্তি ফারহানের শার্টের কলার ঠিক করে দিতে দিতে
প্রাপ্তি -হুম,,,এখন অফিসের দেরী হচ্ছে না? এতো কিছু করতে পারো টাই ও বাধতে পারো, শার্টের কলারটা আজ পর্যন্ত ঠিক করতে পারনা।

ফারহান -কি করবো বলো তুমি নিজ হাতে শার্টের কলার ঠিক করে দিলে সারাদিন মনে হয় ভালোই কাঁটে।

প্রাপ্তি -এইবার ছাড়ো তো আর পাম্প দিতে হবেনা।প্রাপ্তি কোনো বেলুন নয় পাম্প পেয়ে সব ভুলে যাবে।

এমন সময় নাজিফা এসে বললো, ভাইয়া আপুকে এইবার ছাড়ো। আমার আজ ক্লাস নেই তবে একটা ফ্রাইবেট আছে। তুমি যদি যাওয়ার সময় আমাকে সেইখানে নামিয়ে দাও একটু ভালো হয়।

ফারহান প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিয়ে, এদের জন্য বউটাকে একটু আদরও করতে পারিনা।যাইহোক প্রাপ্তি,তোমার তো কপাল এইবার পুড়লো দেখছি ।তোমার সতিন নিজে এসেই ধরা দিচ্ছে।দেখনা তোমাকে একটু আদর করবো তাও সহ্য হচ্ছে না।

প্রাপ্তি মুখটা গোমড়া করে ফারহানের দিকে তাকিয়ে, ফারহান! সবসময় ইয়ার্কি ভালোলাগে না।ওকে কিছু বললে ও তোমার সাথে যেতে চাইবে না।
নাজিফা, তুই ড্রইংরুমে বস তোর ভাইয়া আসছে।

প্রাপ্তি বলার সাথে সাথেই নাজিফা কিছু না বলে চলে গেলো।

ফারহান -এই প্রাপ্তি! তুমি কি রাগ করছো?
সরি বাবু আর বলবো না।

প্রাপ্তি -আমি একটুও রাগ করিনি।তাড়াতাড়ি যাও নাজিফার আবার দেরী হয়ে যাবে।

ফারহান -যাবো কি করে? যাবার মেডিসিন এখনো পড়েনি পড়লেই চলে যাবো।
প্রাপ্তি বুজেছে ফারহান কিসের কথা বলছে।ফারহানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফারহানের কাছে গিয়ে অনেক গুলো চুমু দিয়ে এইবার যাও।

ফারহান অবাক হয়ে, বাবু এইটা কি ঝড় উঠছে?

প্রাপ্তি -আর একটা কথাও না যাও বলছি।

ফারহান ড্রইংরুমে আসতে প্রাপ্তির হাত ধরে এসে নাজিফাকে বললো ম্যাডাম এইবার আসুন।আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।

নাজিফা -এতোক্ষণ আপুকে আদর করতে দেরী হয়নি।মনে হচ্ছে তোমার বউটাকে কেউ নিয়ে যাবে তাই এখনো হাত টেনে ধরে রাখছো।

ফারহানের একটুও খেয়াল ছিলো না প্রাপ্তির হাত ধরে রেখেছে সে।নাজিফার কথা শুনেই প্রাপ্তির হাত ছেড়ে দিয়ে ওহ্ সরি এই বার আসো।
ফারহান আর নাজিফা চলে গেলো।
প্রাপ্তি ছোটো একটা নিশ্বাস ছেড়ে নিজের রুমেই আসলো।মনে মনে এইটাই অপেক্ষা করছিলো ফারহান কখন অফিসে যাবে।
ফোনটা হাতে নিয়ে খাটের এককোণায় গুটিসুটি হয়ে বসে আয়ানকে ফোন দিলো।অনেক বার রিং হওয়ার পরে আয়ান ফোন রিসিভ করলো।

আয়ান -শুভ সকাল, মিসেস ফারহান! আপনার রাত গুলো এখন অনেক সুখের কাটতেছে অনেক মধুময় তাইনা?

প্রাপ্তি -আয়ান আমি তোমার কাছে এইসব কিছুই শুনতে ফোন দিই নি।

আয়ান -ব্যাপার কি, ফারহান সাহেব বাসায় নেই মনে হচ্ছে।না হলে আপনি থেকে তুমিতে আসতেনা।তারপর বলো?কি মনে করে ফোন করেছো।

প্রাপ্তি -তুমি আর কখনো আমার ফোনে কল দিওনা।তুমি ফোন দিলে হয়তো ফারহান কিছু বলেনা,কিন্তু আমি বুজি ও ভিতরে ভিতরে ঠিকি কষ্ট পায়।সেইদিন তোমার ভুলের কারণে আজ এই অবস্থা। সেইদিনের জন্য কখনওই আমাকে দায়ী করতে পারবেনা।তুমি আমাকে শুধু সন্দেহ করেছিলে।কিন্তু ভালোবাসাটা একবার দেখনি।

আয়ান -ভুল মানুষেই করে তাইনা?তাই বলে শাস্তিটা অনেক কঠিন হয়ে গেলো না?প্রাপ্তি আমি মেনে নিলাম সব ভুল আমার। সব আমার দোষ। এইবার তুমি ফিরে আসো।আমি কথা দিচ্ছি আমার ফ্যামিলির লোক কিছুই জানবেনা।তোমাকে নিয়ে ওদের কোনো অভিযোগ করতে দিবোনা।প্লিজ ফিরে আসো।

প্রাপ্তি -এইটা সম্ভব না।আমি ফারহানকে ছেড়ে তোমার কাছে যেতে পারবোনা। প্লিজ আমাকে আর ফোন দিওনা।ফারহানকে শুধু ভালোবাসাই যায় ছেড়ে যাওয়া যায় না।

আয়ান -তুমি সত্যিই ফারহান কে ভালোবাসো?বড়লোকের ছেলে ভালোতোবাসবাই।

প্রাপ্তি -হ্যাঁ সত্যি আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। তবে বড়লোকের ছেলে হিসেবে নয়।ভালোবেসেছি আমার প্রতি তার ভালোবাসা, বিশ্বাস এইগুলো দেখে।

আয়ান- ঠিক আছে আমি তোমাকে আর জ্বালাবো না।তবে এক শর্তে।

প্রাপ্তি-কিসের শর্ত আয়ান?তুমি এমন কিছু বলোনা যা আমি করতে পারবোনা।

আয়ান -বেশী কিছু না শুধু মাঝে মাঝে তোমার খবর নিতে চাই।তোমাকে বেশী ডিস্টার্ব করবোনা। বিশ্বাস করো।

প্রাপ্তি মনে মনে ভাবলো এইতো আর বেশী কিছুনা।মেনে নি, না হলে প্রাতিদিন ও ফোন দিবে।এতে ফারহানের কষ্টটা আরো বাড়বে।

প্রাপ্তি -ঠিক আছে তোমার শর্তে আমি রাজি।তাহলে এখন রাখছি।

কথাটা বলেই প্রাপ্তি ফোন কান থেকে নামিয়ে খাট থেকে নিছে পা দিতেই দেখে ফারহান দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।
ফারহান!!!তুমি কখন এলে? অফিসে যাওনি?

ফারহান চুপচাপ রুমে ঢুকেই আলমারি থেকে ফাইল টা নিয়ে আবার চলে যাচ্ছে দেখে প্রাপ্তি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ফারহানকে।,তোমার কি হয়েছে বলতো?
কথা বলছো না কেন?

ফারহান প্রাপ্তিকে ছাড়িয়ে হাত ধরে টেনে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে, কাঁদোকাঁদো গলায় বললো, দেখেছো আমি কতটা হতোভাগা। নাজিফাকে নামিয়ে দিয়ে হঠাৎ ফাইলটার কথা মনে পড়ে গেলো। এসে শুনি আমার বউ শর্ত মেনে নিচ্ছে।কিসের শর্ত মেনে নিলে প্রাপ্তি? আমাকে ছেড়ে যাওয়ার?বেঁচে থাকতে তো তুমি কারো কাছে গেলে আমি সহ্য করতে পারবোনা।আমার মরণে পরে না হয় যেও।কথাটা বলার সাথে সাথে প্রাপ্তি ফারহানকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা রেখে ফারহান বিশ্বাস করো আমি এমন কিছু করবোনা যাতে তোমার কষ্ট হবে।তারপর প্রাপ্তি আয়ানের বলা কথা গুলো সব বললো।ফারহান সব শুনে প্রাপ্তির মাথাটা উঠিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে, বাকী কথা অফিস থেকে এসে বলবো।আমার একটা মিটিং আছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

প্রাপ্তি -ঠিক আছে যাও।তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।

ফারহান- এবার সুন্দর করে একটা হাঁসি দাওতো। এই হাঁসিটা না দেখে গেলে কোনো কাজেই মন বসবে না।
প্রাপ্তি হাঁসতে হাঁসতে আচ্ছা ওকে এইবার যাও।তাড়াতাড়ি এসো কিন্তু।
ফারহান যাওয়ার সময় প্রাপ্তির চুল গুলোকে এলোমেলো করে দিলো।

এইভাবে রাগ, অভিমান, হাঁসি কান্নার মাঝেই চলিতেছিল তাদের সংসার দেখতে দেখতে অনেকটা দিনও কেটে গেলো

চলবে,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here