অজানা_অনুভূতি পার্ট: ৪

0
462

অজানা_অনুভূতি

পার্ট: ৪

#Rabeya Sultana Nipa

 

মিলির শ্বশুর বাড়ি থেকে সবাই চলে এসেছে। মিলিকে সাজিয়ে বসে রেখেছে।বিয়ে পড়ানো শেষ করে সবাই বরের কাছে গেলো নীরা,প্রাপ্তি,নাজিফা, মিলির আরো অনেক কাজিনরা সহ মিলির বরকে খেপানোর চেষ্টা করছে।ফারহান সবার এইগুলো দেখে প্রাপ্তিকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রাপ্তি -ফারহান, কি করছো এইসব।সবাই দেখছেতো।

ফারহান -,,,,,,

প্রাপ্তি -প্লিজ ফারহান কি হয়েছে বলবে তো।এই রকম ভাবে হাত টেনে আনতেছো কেনো?
ফারহান কিছু না বলে তার মায়ের কাছে নিয়ে বসালো।

ফারহান -আন্টি প্রাপ্তিকে আপনার সাথে রাখেন।যখন তখন যা ইচ্ছা তাই করে।

প্রাপ্তির মা – কি হয়েছে?আমাকে বলো।

ফারহান -ও সবার সাথে গিয়ে মিলির বরকে জ্বালানোর চেষ্টা করছে।আর ওদের এইসব ফাজলামো ছেলেরা বসে বসে দেখছে।

প্রাপ্তি -আমি তো ইচ্ছা করে যাইনি ওরা সবাই আমাকে জোর করে নিয়ে গেছিলো।
এই জন্য তুমি আমাকে গরু মতো টানতে টানতে নিয়ে এলে?

ফারহান -হুম ঠিকি বুজেছো।

প্রাপ্তি ফারহানকে কিছু না বলে চুপ করে নিছের দিকে তাকিয়ে বসে আছে।ফারহান ও আর কিছু না বলে চলে গেছে।

সন্ধ্যায় মিলিকে বিদায় দিয়ে প্রাপ্তিরাও বাসায় চলে এসেছে। ওর ফুফি আসতে দিচ্ছিলোনা কিন্তু কিছু করার নাই।সবারই কাজ আছে।ওই বাড়ি থেকে এসে সবাই ফ্রেশ হয়ে যেই যার মতো করে কাজ করছে।
ওইখান থেকে আসার পর প্রাপ্তি ফারহানের সাথে একটা কথাও বলিনি।ফারহান বার বার সরি বলেছে তবুও প্রাপ্তি কথা বলেনি।

নীর, নীর তুমি কি ঘুমাচ্ছো।ফারহান নীরকে ডাকতে ডাকতেই নীরের রুমে এসে বসলো।

নীর -ভাইয়া কিছু বলবে?

ফারহান -তোমার বোন তো আমার উপর এখনো রেগে আছে কি করবো বলতো। কাল আমি ঢাকা চলে যাবো। আম্মু ফোন করেছে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। কিন্তু প্রাপ্তি এইভাবে থাকলে আমি কিছুতেই যেতে পারবোনা।

নীর -কিছু হবে না।সব ঠিক হয়ে যাবে।প্রাপ্তির মন ভালো হলে ও নিজেই কথা বলবে।আপনার চিন্তা করতে হবে না।

এই দিকে প্রাপ্তি ফোন নিয়ে বসে আছে আয়ানের অপেক্ষায়।কখন সে তার সাথে কথা বলবে।প্রাপ্তি মনে মনে ভাবছে আমি এই ছেটার জন্য কেন অপেক্ষা করছি।আমি কি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। না আমি ওকে কেন ভালোবাসবো যাকে আমি চিনি না জানি না।কিন্তু আমার মন কেন জানি তার কথায় ভাবে।
এইভাবে প্রতি রাতে প্রাপ্তি আর আয়ানের কথা চলতে থাকে। তারা একে উপরকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে।কিন্তু এখনো কেউ কাউকে বলতে পারেনাই।
আয়ান ভাবছে আজকে প্রাপ্তিকে বলবে তার মনের কথা।
আয়ানের ভাবার মাঝেই প্রাপ্তির এসএমএস।
প্রাপ্তি -কি করো তুমি? আজ সারাদিন কই ছিলা?

আয়ান -তোমার কথায় ভাবছিলাম।কি করো তুমি?

প্রাপ্তি -কিছু না।কি ভাবছো তুমি আমার কথা?

আয়ান -বললে যদি তুমি রাগ করো? তাই সাহস হচ্ছে না।

প্রাপ্তি -কেন রাগ করবো? যা বলবে বলে ফেলো।

আয়ান -না মানে,,,,, তোমার নাম্বারটা দিতে পারবে?ফোনেই বলবো সব। যদি না দিতে চাও আমি কিছু মনে করবো না।

প্রাপ্তি -ঠিক আছে,, তবে সবসময় ফোন দিও না। যখন ফোন করবে আগে আমাকে এসএমএস এ জানাবে।০১৭………….।তবে আজ কথা বলতে পারবো না।।কাল কথা বলবো।

আয়ান -thanks প্রাপ্তি।আমি ভাবতেই পারি নাই তুমি আমাকে নাম্বার দিবে।ঠিক আছে তুমি বললেই আমি ফোন দিবো এর আগে না।

এইভাবে দুজনে পুরো রাত কথা বলতে থাকে।

পরেরদিন আয়ান ভাবছে প্রাপ্তির সাথে কখন কথা বলবে।মাঝে মাঝে প্রাপ্তির কথায় বুজা যায় প্রাপ্তি বড় ঘরের মেয়ে।বড়লোকের মেয়েরা দুইদিন কথা বলে ছেলেদের মন নিয়ে খেলা করে আবার সব কিছু ভুলেও যায়।কিন্তু প্রাপ্তি সাথে কথা বলে যতোটুকো বুজেছি প্রাপ্তি ওই মেয়েদের মতো না।
কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই প্রাপ্তির এসএমএস।

তুমি কই ফোন দিবেনা?

আয়ান সাথে সাথেই ফোন দিয়েছে।

প্রাপ্তি -আসসালামু আলাইকুম!

আয়ান -ওয়ালাইকুম সালাম।
এখনকার মেয়েরাও তাহলে সালাম দেয়।

প্রাপ্তি -তোমার কথাটা ভুল। মুসলমান হিসেবে সবারই সালাম দেওয়া উচিত। যাই হোক কেমন আছো?

আয়ান -ভালো।তুমি?

প্রাপ্তি -ভালো।এতোক্ষন কি করছিলে?

আয়ান -একটা অজানা মানুষের কথা ভাবছিলাম।যার কথায় সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে।আচ্ছা তারও কি আমার মতো হয়?

প্রাপ্তি -একটু চুপ থেকে,হতেও তো পারে।কিন্তু সব কথা তো আর মুখ ফুটে বলা যায় না।

আয়ান -এতো দিন তোমার সাথে কথা বলে বুজেছি তুমি অনেক বড় লোকের মেয়ে।তাই ভাবলাম তুমি কি আর আমার কথা ভাববে।

প্রাপ্তি-আমি কখনো তোমায় বলছি? আমি বড়লোকের মেয়ে?

আয়ান -বলা লাগবে কেন বুজেনিতে হয়।এইভাবে পুরো রাত তাদের কথা চলতে থাকে।
কথা বলতে বলতে কখন ভোর হয়ে গেলো দুজনে টেরি পেলো না।

আয়ান -প্রাপ্তি তুমি এখন একটু ঘুমাও না হলে আজ আর কলেজে যেতে পারবে না।

প্রাপ্তি -ঠিক আছে।তুমিও ভালো থেকো।

ফোন রেখে ঘুম মাএ চোখে এসেছে এমন সময় প্রাপ্তির মা এসে ডাকাডাকি শুরু করলো।

প্রাপ্তির মা-প্রাপ্তি! প্রাপ্তি! নামাজ পড়বিনা।উঠে গিয়ে নামাজ পড়েনে।
আমি যেন দ্বিতীয় বার ডাকতে না হয়।

মায়ের কথা শুনে প্রাপ্তি উঠে নামাজ পড়তে গেলো।
নামাজ পড়া শেষ করে বারান্দায় গিয়ে বসলো।মনে মনে ভাবলো এখন ঘুমালে আজকেও আর কলেজে যাওয়া হবে না।

একটু পর নীরা এসে বললো কিরে কাল সারারাত ঘুমাসনি তাই না?

প্রাপ্তি -তুই কি করে জানলি?

নীরা -আমি তো জানতাম না। কিন্তু একটু আগে জানলাম।

প্রাপ্তি -মানে? কে বললো তোকে?

নীরা -ফারহান ভাইয়া একটু আগে বড় মার ফোনে ফোন করেছিলো আমি কথা বলছি তার সাথে তোর ফোন নাকি সারারাত busy ছিলো।ও তোকে অনেক বার ফোন করে ছিলো। সেও ঘুমায়নি কাল রাতে।

প্রাপ্তি -ও কি পাগল নাকি? আমি যার সাথেই কথা বলি ওর সমস্যা টা কি?

নীরা -আমি কি করে জানবো।যাই হোক সারারাত কার সাথে কথা বলেছিস?

প্রাপ্তি -আয়ানের সাথে। জানিস পুরো রাত আমি ওর সাথেই কথা বলেছি।কিযে ভালোলেগেছে তোকে বুজাতে পারবো না।

নীরা -যার সাথে এসএমএস করিস ওই ছেলেটা না?

প্রাপ্তি -হ্যা।আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। কিন্তু বলতে পারছি না।কি করি বলতো?

নীরা -কি করবি!,,,,,,সবাইকে বলে পারমিশন নিয়ে আয়।না হলে এই প্রেমে তুই একদিন ডুবেই মরবি।

প্রাপ্তি -তুই এইসব কি বলছিস? আমি তো কিছুই বুজতেছি না।

নীরা -তুই ভালো করেই জানিস এই ফ্যামিলির লোক গুলো কি রকম।তুই কি ভাবছিস এরা সব মেনে নিবে? কখনোই মেনে নিবে না বলে নীরার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে শুরু করলো।

প্রাপ্তি -কি আজিব ব্যাপার! তুই কাঁদছিস কেনো? নাকি তুইও কি কাউকে ভালোবাসিস?সত্যি করে বলতো কি ব্যাপার।
নীরা মুখ দিয়ে কিছু না বলে শুধু মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুজালো।

চলবে,,,,,,

(ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করে দিবেন।কারন মানুষ মাএই ভুল করে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here