অজনা_অনুভূতি পার্ট: ১১

0
402

অজনা_অনুভূতি

পার্ট: ১১

#Rabeya Sultana Nipa

 

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে প্রাপ্তি ড্রইংরুমে এসে চমকে গেলো। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।ফারহান তার আব্বুর সাথে বসে চা খাচ্ছে।এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।প্রাপ্তির বাবা প্রাপ্তিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে

প্রাপ্তির বাবা -কিরে ওইখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এইদিকে আয়, দেখেছিস ফারহান সব কাজ পেলে আমার কথা শুনে চলে এসেছে।

প্রাপ্তি কিছু না বলে চুপ করে আছে।প্রাপ্তিকে এইভাবে চুপ থাকতে দেখে ফারহান প্রাপ্তির বাবার দিকে তাকিয়ে।

ফারহান -আংকেল! প্রাপ্তি আমার উপর রাগ করে আছে তাই ওইভাবে চুপ করে আছে।

প্রাপ্তির বাবা-তাই নাকি? প্রাপ্তি রাগ করতে যানে আমি জানতাম না তো।(প্রাপ্তিকে আরো রাগানোর জন্য)তো রাগ করেছে কেন?

প্রাপ্তি -আব্বু তুমি কিন্তু ফারহানের সাথে তাল মিলিয়ে ভালো করছোনা।(ফারহানের দিকে তাকিয়ে)আচ্ছা তোমার সব কাজ ফেলে তোমাকে আসতে কে বলেছে? সবসময় সবার কাছে নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা।

প্রাপ্তির মা এসে প্রাপ্তিকে চুপ থাকতে বলছে। প্রাপ্তি তার মায়ের কথায় কান না দিয়ে ফারহানের উপর রাগ গুলো ঝাড়ছে।
ফারহান কিছু না বলে শুধু প্রাপ্তিকেই দেখছে।ফারহান জানে প্রাপ্তি কেন এই রকম রাগ দেখাচ্ছে।যাকে ফারহান ভালোবাসে তার নাম না বলা, সকালে তাকে কিছু না বলে চলে যাওয়া।ফারহান ভাবছে প্রাপ্তিকে কিভাবে বুজাই মেয়েটা আর কেউ না, সে নিজেই।সকালে তাকে না বলে চলে গেলাম কারণ আমি তোমাকে কিভাবে বলবো মেয়েটা তুমিই আর কেউ আমার জীবনে নেই আর আসবেও না।

প্রাপ্তির বাবা -ফারহান তুমি কিছু মনে করোনা।

ফারহান -আংকেল আমি কিছু মনে করিনি।আমি জানি ও এইরকমই।আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

প্রাপ্তির মেজো কাকা এসে বললো কি ব্যাপার প্রাপ্তি এইভাবে রেগে রুমে চলে গেলো কেন? ফারহান তুমি আবার রাগানোর জন্য কিছু বলছো নাকি?

প্রাপ্তির বাবা -না তেমন কিছু বলে নাই। ও ফারহানের ওপর নাকি আগে থেকেই রেগে আছে।

মেজো কাকা-ওওও,,, ফারহান! ভাইয়া তো আসছে ভাবছি তোমার মা, বাবাকে বলবো সময় করে একদিন আসতে।নীরার বিয়েটা যখন হয়ে গেছে প্রাপ্তিকে ধরে রাখা ঠিক হবে না।আশেপাশের লোকে তো নানানরকম কথা বলে বড় মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে মেজো মেয়েকে বিয়ে।তাই ভাবলাম তোমাদের বিয়েটা যখন হবেই দেরী করে লাভ কি।(প্রাপ্তির বাবার দিকে তাকিয়ে)কি বলো ভাইয়া,আমি কি ঠিক বলছি?

প্রাপ্তির বাবা -আমাদের দিক থেকে তো কোনো সমস্যা নাই।ওর বাবা,মা কি বলে সেটা আগে দেখো।

ফারহান-আংকেল! আমার বাবা, মা হ্যা বলবেন।তবে আমার কিছু সময়ের দরকার, বেশী না ৩/৪ মাস। এরপর আমি নিজেই বাবা,মা কে নিয়ে আসবো।আপনার যদি এখন আমার ফ্যামিলিকে ফোন করে জানান তারা আমার কথা না শুনেই বিয়ে ঠিক করে যাবে।তাই আমি আপনাদেরকেই বলছি আমকে কিছু সময় দিন।

মেজো কাকা-আচ্ছা ঠিক আছে। যদি তোমার বেশী সমস্যা হয় আমাদেরকে জানিও আমরা সবাই তোমার পাশে আছি।

ফারহান মনে মনে ভাবছে আমি নিজের জন্য সময় চাইনি।চেয়েছি আপনাদের মেয়ের জন্য।কারণ আমি ওকে বিয়ে করলে ও কখনোই আমাকে মেনে নিবে না।

দুপুরে সবাই এক সাথে খেয়েদেয়ে বিকালের দিকে ফারহান আবার ঢাকায় চলে গেলো।যতোক্ষন ছিলো প্রাপ্তির সাথে একটা কথাও বলিনি।নীরাও আজ চলে গেলো।নীরাকে কাছে পেয়ে এইকয়দিন ভালোই কেটেছিলো। এখন আবার সবার মাঝেও নিজেকে একা লাগে প্রাপ্তির।তবে মাঝে মাঝে আয়ানের সাথে কথা হয়।প্রাপ্তির বাবা আসাতে তেমন কথা হয় না আয়নের সাথে।বাবা আসার আগে সারারাত জেগে আয়ানের সাথে কথা বলতো।এখন রাতে বাবা বার বার দেখে যায় ঘুম আসছে কিনা,রাত জেগে বসে আছে কিনা।তাই আর বেশী কথা হয় না।

আয়ানের ফোন টা বেজেই যাচ্ছে।অচেনা নাম্বার দেখে ফোন রিসিভ করছে না।কিন্তু না করেও উপায় নেই।বার বার ফোন দিয়ে যাচ্ছে।আয়ান ফোনটা রিসিভ করতেই
আপনি কি আয়ান বলছে?

আয়ান -(একটু চুপ করে থেকে)হ্যা আমি আয়ান বলছি।কিন্তু আপনি কে?

ফারহান -আমি ফারহান! আপনি নিশ্চয় আমার কথা এর আগেও শুনেছেন।

আয়ান -কোথায় শুনবো আপনার নাম।আমি তো আপনাকে ছিনিনা।

ফারহান -আমাকে না ছিনলেও আমার হবু বউয়ের সাথে প্রেম করতে তো ভালোই পারেন।আর বলছেন আমাকেই ছিনেন না।

আয়ান -আমি সত্যি আপনার কিছুই বুজতেছি না।আপনি মনে হয় আমার সাথে ফান করছেন।

ফারহান -আমি আপনার সাথে ফান করতে যাবো কেন? আমি শুধু এইটুকুই বলবো প্রাপ্তির সাথে আর যোগাযোগ করবেন না।ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই।

আয়ান -আমি আপনার কথা বিশ্বাস করবো কেন? প্রাপ্তি তো আমায় বিয়ের ব্যাপারে কিছু বিলেনি।আমি যতোটুকু শুনেছি আপনি প্রাপ্তির ফ্রেন্ড, এইছাড়া আর বেশী কিছু না।আর আপনার কথা তো আমি প্রাপ্তিকে ভুলে যেতে পারবোনা। প্রাপ্তিকে আমি অনেক ভালোবাসি।

ফারহান-দেখেন আমি আপনার ভালোর জন্যই বলছি।আপনি ভাবে দেখেন আপনি কি করবেন।আর এইটাই আপনার সাথে আমার শেষ কথা।ফারহান ফোন রেখে দিলো।
আয়ান কি করবে বুজতে পারছেনা।প্রাপ্তি কি তাকে ঠাকালো।না প্রাপ্তি আমাকে এইভাবে কখনো মিথ্যা বলতে পারেনা।
আয়ান প্রাপ্তিকে ফোন দিবে নাকি দিবে না।পরে মনে হলো প্রাপ্তিকে এখন কিছু বলবে না।দেখি প্রাপ্তি কিছু বলে কিনা।

প্রাপ্তি! প্রাপ্তি! মেয়েকে ডাকতে ডাকতে প্রাপ্তির মা রুমে এসে দেখে মেয়ে ঘুমাচ্ছে।প্রাপ্তি তুই এখনো কি ঘুমাচ্ছিস বলতো এই সন্ধ্যায় কেউ ঘুমায়।
মায়ের কথা শুনে আড়মোড়ো ভেঙে প্রাপ্তি উঠে বসলো।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আমায় ডাকোনি কেন?
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তোর কি শরীর খারাপ?
প্রাপ্তি-কই না তো।তোমার এমন মনে হলো কেন?

প্রাপ্তির মা-তুই তো এই সময় কখনো ঘুমাস না তাই বললাম।

প্রাপ্তি-সবসময় কি দিন এক যায়? মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে হয়।

প্রাপ্তির মা-(প্রাপ্তির কাছে গিয়ে বসে)এইভাবে কথা বলছিস কেন মন খারাপ?তোর কি হয়েছে একটু বলতো কয়েদিন থেকেই তুই উল্টাপাল্টা কথা বলছিস।
প্রাপ্তির তার মায়ের কথা শুনেই টপটপ করে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
প্রাপ্তির চোখের পানি দেখে প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে কি হয়েছে তোর কান্না করছিস কেন?
প্রাপ্তি কিছু বলছে না কান্নার শব্দ আরো বেড়ে গেলো।
প্রাপ্তির -কি হয়েছে তোর? কেউ কিছু বলছে? বলনা কি হয়েছে তোর? আমি তোর মা, আমাকে না বললে তুই কাকে বলবি।

প্রাপ্তি-(কান্না করতে করতে)আম্মু আমি যদি কোনো ভুল করে পেলি আমাকে ক্ষমা করে দিবেনা?

প্রাপ্তির মা -আমি জানি আমার মেয়ে কোনো ভুল করতে পারেনা।যেটা করবে সবার কথা ভাবেও কোনো ভুল করবে না।এখন তুই কান্না থামিয়ে বল কি হয়েছে? যদি ভুল কিছু হয়েও থাকে কেউ জানার আগে আমি তোর ভুল গুলো শুধরে দিবো।

প্রাপ্তি -আম্মু আমি ভুল করেছি নীরার মতো একজনকে ভালোবেসে।আম্মু জানো? ছেলেটা অনেক ভালো।
মেয়ের কথা একটুও অবাক না হয়ে
প্রাপ্তির মা -আমি জানি তুই কাকে ভালোবাসিস সেই জন্যই তো তোর আব্বু আর মেজো কাকা সব ব্যাবস্থা করতেছে।

প্রাপ্তি-(অবাক হয়ে) তোমরা কার কথা বলছো? আর তোমরা কি করে জানলে যে আমি কাকে ভালোবাসি।

প্রাপ্তির মা -ফারহান কে তুই ভালোবাসিস এইটা তো সবাই জানে।

প্রাপ্তি -আম্মু তুমি এইসব কি বলছো? আমি ফারহানকে ভালোবাসি না।ওকে আমি ফ্রেন্ড ছাড়া কখনো কিছু ভাবিনি।আমি অন্য এক জনকে ভালোবাসি।

মেয়ের কথা শুনে হাসি মুখটা নিমিষেই অন্ধকার হয়ে গেলো।
প্রাপ্তি কি বলছে এইসব?
প্রাপ্তি ফোনটা এনে আয়ানের একটা ছবি দেখিয়ে
আম্মু! আমি এই ছেলেটাকে ভালোবাসি।
মেয়ের কথা শুনে কি বলবে বুজতে পারছে না।মনে হচ্ছে এই রুমটা তার মাথার উপর ঘুরতেছে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে।
প্রাপ্তি কি বলছে তার কানে কিছুই আসছে না।পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছে।কিছুক্ষন পরেই প্রাপ্তির মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো।
প্রাপ্তি মায়ের এই অবস্থা দেখে সবাইকে চিৎকার দিয়ে ডাকতে শুরু করলো।
প্রাপ্তির চিৎকার শুনে সবাই দৌঁড়ে এসে দেখে প্রাপ্তির মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।

চলবে,,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here