1.3 C
New York
Thursday, December 12, 2019
Home Blog

ডুমুরের ফুল ১৭.

0

ডুমুরের ফুল ১৭.

হেমলতা আমতা আমতা করে বললো
– মোবাইল কবে পাবো তার কোনো ঠিক নেই। আ…. আমি এতক্ষণ অপেক্ষা কীভাবে করবো?
– তোমার এক ভুলে সারাজীবনের জন্য কথা বলা বন্ধ হবে।
– নানী কিছুই বুঝতে পারবেনা। বলবো, তুমি আমার ফ্রেন্ড।
– হেম শুনো, আমাদের কথাবার্তা কেউ শুনলে বিশ্বাস করবে আমরা ফ্রেন্ড?
জাদিদ হাসতে হাসতে বললো।
– হ্যাঁ সেটা তো ভেবে দেখিনি।
– শুনো হেম।
– হুম বলো।
– তোমার প্রতি ভালোলাগা বেড়েই যাচ্ছে। যতবারই ভাবছি ততবারই। মানে সমানুপাতিক সম্পর্ক। তোমাকে নিয়ে ভাবনাকে যদি V ধরি আর আর ভালোলাগাটাকে V… এরে এক হয়ে গেলো। ভাবনাকে T এবং ভালোলাগাকে L ধরি তাহলে,
L সমানুপাতিক T^3
বুঝতে পারতেছো? ভাবনার কিউবের সমানুপাতিক ভালোলাগা।
সমানুপাতিক আর সমান কিন্তু হেম এক না। সমানুপাতিক উঠিয়ে সমান দিতে গেলে ধ্রুবক আনতে হয়।

হেমলতা কী বলবে বুঝতে পারছেনা। এদিকে কীসের সাথে কী মিশাচ্ছে জাদিদ। এখন না থামালে জাদিদ আরো জটিল দিকে এগিয়ে যাবে। এমনিতেই ফিজিক্স তার মাথায় ঢোকে না। তারপর জাদিদ…..
এদিকে জাদিদ তার মতো ব্যাখ্যা করেই যাচ্ছে।
হেমলতা নরম স্বরে বললো
– জাদিদ।
– তুমি বুঝতে পারতেছো না?
– তুমি পাগল হয়ে গেলা নাকি?
– মনে হচ্ছে তাই হয়ে যাবো।
– বাসায় পৌঁছে প্রথমে ফ্রেশ হয়ে নিবা। তারপর পেট ভরে খেয়ে ঘুম দিবা।
– কী বলো? জিনিসপত্র না গুছিয়ে ঘুমাবো কীভাবে?
– জিনিসপত্র গুছানো যাবে আগে ঘুম।
– আমার কিছুই ভালো লাগছেনা হেম। ইচ্ছা করছে ফরিদপুরে ব্যাক করি।
– প্রথম দিকে খারাপ লাগবে। আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেলে ফরিদপুরে আসতে ইচ্ছা করবেনা।
– ফরিদপুরে আমার আসতেই হবে। ১ দিনের জন্যও হলেও আসতে হবে।
– এখন রাখি।
– হুম। একটা কাজ করতে পারবে?
– বলো।
– মোবাইলটা আজকে রাতে তোমার কাছে রেখো।
– আচ্ছা চেষ্টা করবো। রাখি বাই।
জাদিদের ইচ্ছে করছে চুমু দিতে কিন্তু পাশের আন্টি কান পেতে বসে আছেন। এমনিতেই এতক্ষণ যা বলেছে তাতেই আন্টির চেহারা দেখার মতো। উনি কি চাচ্ছে তার মেয়ের সাথে আমার সেটিং করায় দিতে? তাহলে তো চুমু দেয়া মৌলিক অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাদিদ মোবাইল ঠোঁটের কাছে নিয়ে জোরে শব্দ করে চুমু দিয়ে বললো
– দূরে চলে যাচ্ছি তাই বোনাস।
হেমলতার পুরো শরীর ঘিনঘিন করতে শুরু করেছে। হেমলতা রেগে বললো
– এসব না করলে কী হয়?
– আমার কষ্ট হয়।
জাদিদ হাসতে হাসতে বললো
– আচ্ছা রাখি।
ফোন কেটে দিয়ে মোবাইল পকেটে রেখে দিলো। আড়চোখে আন্টিকে একবার দেখে নিলো জাদিদ।
মহিলার চেহারা ভাবলেশহীন। হয়তোবা অতিরিক্ত শক খেয়েছে।

নাদিয়া ভাতের লোকমা মুখে পুড়ে দিয়ে বললেন
– হেমলতাকে বিয়ে দিয়ে দেন, খালাম্মা। আপনার টেনশন কমবে।
মিসেস জয়নাব অবাক হয়ে বললেন
– ও এখনো ছোটো আর আমি চাই ওর পড়াশোনা শেষ হোক।
– আজকালকার যে অবস্থা। ক্লাস সিক্স সেভেনের মেয়েরাও প্রেম করে।
– হেমলতা অমন না। আর এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে ওকে দিবোনা।
– ভালোর জন্য বললাম। এখন আপনার ইচ্ছা।
মিসেস জয়নাব আর কথা বাড়ালেন না।

মিম্মা ফেসবুকে গ্রুপ চ্যাটিং – এ জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। গ্রুপ চ্যাটিং এ টপার স্টুডেন্ট এড আছে। আর এরা এখানে কতোটা মজা করে কথা বলে, এড নাহলে জানা যায়না।
ম্যাসেজ পড়তে পড়তে একটা ম্যাসেজে চোখ আটকে গেলো। আটকানোর কারণ জাদিদ শব্দটা। জয়ী লিখেছে
– জাদিদ কইরে, তোরা কেউ জানিস?
জুবায়ের রিপ্লাই দিলো
– জাদিদ ঢাকার পথে।
– গ্রুপে একটু আড্ডা দিলেও তো পারে।
– দেখা গেলো বাসেও পড়াশোনা করছে। হাসির ইমো।
জয়ী আর জুবায়েরের মধ্যে এখন কথা হচ্ছে। মিম্মা ওদের মধ্যে একটা ম্যাসেজ দিল
– কে কে ঢাকায় কোচিং করতে যাবি?
অনেকেই রিপ্লাই দিলো। কিন্তু যুথির কোনো খোঁজ নেই। অনলাইনে আছে, ম্যাসেজ ও সিন করেছে কিন্তু রিপ্লাই নাই।
অবশ্য মেধাবীদের একটু মুড থাকবেই। তাহলে জাদিদের নেই কেনো? জাদিদ তো ওদের চেয়েও বেশি মেধাবী।
জাদিদের মতো ছেলে কীভাবে হেমলতাকে পছন্দ করলো? হেমলতা ভালো মেয়ে কিন্তু ওর টাইপের না। জাদিদ কি ওর সাথে মজা করছে?
মিম্মার কেনো যেন মনে হচ্ছে কিছু একটা ঝামেলা তো আছেই।

জাদিদ বাসায় পৌঁছালো সন্ধ্যায়। বাসায় যাওয়ার আগে রাতের খাবার আর ৫ লিটারের পানির বোতল, কোক, বিস্কুট কিনে নিলো। হেমলতার আদেশ পালনের জন্য প্রথমে গোসল করে নিলো। গোসল ছাড়া কোনোভাবেই ফ্রেশ হওয়া সম্ভব না।
গোসল সেরে পুরো ফ্ল্যাটটা ভালোভাবে দেখে নিলো জাদিদ। একটা মাস্টার বেডরুম, একটা নরমাল বেডরুম , একটা ছোট্ট ডাইনিং বা ড্র‍য়িং রুম যেকোনো একটা বললেই হয়। কারণ একটাই রুম আছে লম্বাটে টাইপের। ছোট রান্নাঘর আর মিনি বারান্দা। অর্থাৎ নতুন বিবাহিত দের জন্য পারফেক্ট ফ্ল্যাট বলা চলে।
জাদিদের বাবা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন ফ্ল্যাট। জাদিদের মনে হলো, তার বাবা ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছেন। যেন ফ্ল্যাট সাজাতে ছেলেকে সময় ব্যয় না করতে হয়।
খাটের ওপর চাদর বিছানো দেখেই বোঝা যাচ্ছে, বিকালের দিকেই বিছানো হয়েছে। সবকিছুতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে জাদিদের জন্য ভালোই হয়েছে। তার একা থাকতে ভালোলাগে। ম্যাসে থাকলে একসাথে অনেক জন। নিজস্বতাই থাকতোনা। জুবায়ের, রিফাত, হোসেন আর কামরুল মিলে ছোটো বাসা ভাড়া নিয়েছে। ওরা অবশ্য জাদিদকেও বলেছিলো ওদের সাথে থাকতে কিন্তু জাদিদের কোনো ইন্টারেস্ট নাই দেখে। ওরা আর কিছুই বলেনি।
ভুনা খিচুড়ি আর ডিম ভাজা – আহ্! খাবার দেখে জাদিদের মনে পড়লো তার প্রচুর খিদে পেয়েছে।
এতোটা খিদে যে কীভাবে খেলো নিজেই বুঝতে পারলোনা।
খাওয়া শেষ করে হেমলতার আদেশ অনুযায়ী বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লো। ঘুম না আসলেও তাকে ঘুমাতে হবে। হেমলতার আদেশ বলে কথা।
হেমলতার সাথে কথা বললে ঘুমটা তাড়াতাড়ি আসতো কিন্তু তার মোবাইল আংকেলের কাছে।
দাদীর কথা মনে পড়লো জাদিদের। বৃদ্ধা রুক্ষ মেজাজের হলেও মাঝেমধ্যে ভালো ব্যবহার করতেন। যদিও নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। কিন্তু দাদী তো।
এখন তো বিস্বাদ খাবার খেতে খেতে জিহবার স্বাদ কোরক বাদ করে ফেলতে হবে।
ভাবতে ভাবতেই জাদিদ গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো।

হেমলতা তোতলাতে তোতলাতে নানীকে বললো
– তোমার মোবাইল টা আমার কাছে আজকে থাকুক৷
মিসেস জয়নাব পান মুখে দিয়ে বললো
– আচ্ছা রাখিস। তোর শরীর কেমন?
– এখন ভালো। তুমি চিন্তা কম কম করবা। – একটা কথা বলি। তুই নাদিয়ার সামনে খুব একটা যাবিনা।
– কেনো?
– ও ঘটক হতে চাচ্ছে।
– উনি ঘটক হলে আমার কী?
– আরে গাধী তোকে বিয়ে দেয়ার কথা বলেছে আমার কাছে।
– এতো তাড়াতাড়ি?
– আমি না করেছি। কিন্তু নাদিয়া বললো আজকালকার মেয়েরা নাকি অল্পবয়স থেকে প্রেম করে। আমি বলে দিলাম, আমার হেমলতা অমন না।
হেমলতা অবাক হয়ে নানীর দিকে তাকিয়ে রইলো। কী বলবে সে ভাবতেই পারছেনা!

চলবে……!

© Maria Kabir

” লেখিকা মারিয়া কবির এর সকল লেখা দ্রুত পেতে অবশ্যই এ্যাড হোন তার ফেসবুক পেইজ ‘Maria Kabir – মারিয়া কবির’(এখানে পেইজ লিংক) এর সাথে।
২০২০ বই মেলায় প্রকাশ পেতে যাচ্ছে মারিয়া কবির এর প্রথম উপন্যাস ‘যেখানে সীমান্ত তোমার আমার’।
মারিয়া কবির এর নতুন সব গল্প উপন্যাস পেতে আমাদের।সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।

অনুরাগ শেষ পর্ব

অনুরাগ
শেষ পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

কলারের থেকে হাত দুটো ছাড়িয়ে নিয়ে পুলক পকেট থেকে ফোন বের করে একটা ভিডিও প্লে করে দিলো।ভিডিও তে সেই মেয়েটি স্বীকারোক্তি দিচ্ছে।মেয়েটি কাঁদছে আর কথাগুলো বলছে।আর তার পাশেই ওই সর্দারনী।মাথায় ঘোমটা টেনে মাথা নিচু করে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে সেও স্বীকারোক্তি দিচ্ছে।
বোঝাই যাচ্ছে বেঢপ মার দেওয়া হয়েছে তাদের।শ্রুতি বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছে না।কাকে বিশ্বাস করবে সে? মন তো চাইছে পুলককে বিশ্বাস করতে।কিন্তু পুলক যদি নিরাপরাধ হয়ে থাকে তাহলে এই তিন বছরের মধ্যে কেনো ওকে জানালোনা? ও কিছু ভাবতে পারছেনা।

-‘ বোকা পেয়েছিস? তুই যে ওদের মারধোর করে স্বীকারোক্তি নিয়েছিস তা তো বোঝাই যাচ্ছে।’
-‘ ওয়েল।তাহলে প্রত্যক্ষদর্শী নিয়ে আসি।’ ঠান্ডা গলায় বললো পুলক।

পুলকের ফোন পেয়ে রিয়া আর ধ্রুব এসে হাজির হলো ওদের মাঝে।তারপর ধ্রুব বলতে শুরু করলো,-‘ এতকিছু তো পুলক একা করতে পারে নি।ওকে সাহায্য করেছি আমরা।ও তো মরেই যাচ্ছিলো শ্রুতি ওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর।কতভাবে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে! তারপর ওর থেকে সবটা শুনে আমি আর রিয়া উদ্যোগ নিলাম সত্যিটা কী আর এর পেছনে আসল ঘটনাটা কী তা জানার জন্য।কিন্তু পুলক এতটায় ডিপ্রেশনে ভুগছিলো ওকে আগে সুস্থ করার প্রয়োজন বোধ করলাম।মাস ছয়েকের মধ্যে ওকে নিয়ে স্কটল্যান্ড চলে এলাম।আমার আর আমার বাবার সাথে ওকে শেয়ারে নিয়ে নিলাম আমাদের ব্যবসায়ে।শুধু ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য।তার ভেতর রিয়াকে শ্রুতির ব্যাপারে সব খোঁজ নিতে বললাম।পুলক অস্থির হয়ে থাকতো ওর খবর জানার জন্য।আস্তে আস্তে ডিসিশন নিলো ও আর কোনোদিনও শ্রুতির সামনে আসবেনা।ওকে বলবে না ও নির্দোষ।কিন্তু আমি বললাম,-‘ তোর জানা উচিত ওই মেয়েটা কেনো মিথ্যে বলেছিলো।শ্রুতির কাছে নিরাপরাধ সাজার জন্য নয়।সত্যটা জানা তোর প্রয়োজন।’ তার মধ্যেই রিয়া খবর জানালো ঈশাণ শ্রুতিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।ব্যাপারটা আমার কাছে খটকা লাগলেও পুলক নিশ্চিত হয়ে গেলো যে ওই ঘটনার সাথে ঈশাণ জড়িত কোনোভাবে।দেশে ফিরে এলাম ওকে নিয়ে।বহুকষ্টে ওই মেয়েটাকে খুঁজে বের করলাম। মেয়েটির সন্ধান পাওয়ার জন্য সর্দারনীকে কম ধোলাই খেতে হয়নি।আর যখন মেয়েটাকে খুঁজে পেলাম তখন তো সবটা রেকর্ড করেই রেখেছি।এরপরই পুলক আমি আর রিয়া প্ল্যান করলাম ইভেন্টের।নতুন করে আগমন ঘটালাম পুলকের। পুলক আমার ছোটবেলার বন্ধু।ওকে আমি চিনি ওর অতীতটা আমি জানি।তাই আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম যে পুলক কখনো শ্রুতিকে ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্তোম সর্বশ্রেষ্ঠা সুন্দরী মেয়ের দিকেও তাকাবেনা।আমি ওর বন্ধু হয়ে ওর প্রতি এমন বিশ্বাস রেখেছিলাম।আর শ্রুতি তুই ওর ভালোবাসার মানুষটা হয়ে ওর প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারলিনা?মেরেই তো ফেলেছিলি ওকে।’

-‘ এই তোরা চুপ কর।সবগুলো গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসেছিস? নাটক করতে শিখে গেছিস না?’ চিৎকার করে বলছিলো ইশাণ।

হঠাৎ করেই ঈশাণের গালে শ্রুতির পাঁচ আঙুল বসে গেলো। ঈশাণ থম মেড়ে দাঁড়িয়ে রইলো ওর দিকে চেয়ে।

-‘ সবাই তোর শত্রু তাই না?সবাই তোর বিরুদ্ধে নাটক সাজিয়েছে তাই না? কেনো এমনটা করলি তুই? কীভাবে পারলি আমাদের সাজানো সংসার টা ভেঙ্গে দিতে? কী ক্ষতি করেছিলাম আমরা তোর? বল?’

আরো কয়েকটা থাপ্পর পড়ল ঈশাণের গালে।হঠাৎ করে ঈশাণ শ্রুতিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।তারপর হুংকার দিয়ে উঠল।

-‘ ক্ষতি তুই করিসনি।ক্ষতি করেছে ও।’ পুলকের দিকে তাকিয়ে বললো।

আবার বলতে শুরু করলো,-‘ পুলক আমাদের বন্ধুমহলে আসার আগেই আমি তোকে পছন্দ করতাম। ভালোবাসি কথাটা বলতে গিয়েও কখনো বলতে পারি নি। হঠাৎ করেই পুলক কোথা থেকে উড়ে এসে তোর মনে জায়গা করে নিলো।আমি বলতে গিয়েও কিছু বলতে পারলাম না। দেখলাম তুই অনেক হ্যাপি তোদের রিলেশনশিপে।আস্তে আস্তে তোদের থেকে দূরে সরে গেলাম।সহ্য হতোনা তোদের একসঙ্গে দেখলে।ভেতরটা পুড়ে জ্বলে যেতো।তোদের বিবাহবার্ষিকী তে তোকে ওইভাবে নতুন বউয়ের সাজে দেখে আমার সেই পুরোনো ঘা টা আবার তাজা হয়ে গেলো।তাও বহুকষ্টে নিজেকে সামলিয়েছি এই ভেবে তুই এখন অন্য কারো।তারপরও নিজেকে বেঁধে রাখতে পারি নি।তোকে আরো একবার দেখার লোভটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতো। চলে এলাম অন্য একদিন তোর সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু সেদিন পুলকের ব্যবহার আর আমাকে দেখিয়ে তোর সঙ্গে পুলকের ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে খাওয়া আমাকে একরকম পাগল করে দিচ্ছিলো।ভেতরে ভেতরে পুলককে খুন করে ফেলার একটা ঝোঁক কাজ করছিলো।কিন্তু সেই ঝোঁকটাও সামলে উঠলাম।নিজেকে একদম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে শুরু করলাম।ভুলে যেতে চাইলাম পুলকের সেদিনকার ব্যবহার। তারপর যেদিন তোর বাসায় এসে তোর কাছ থেকে পুলকের অবহেলার কথাগুলো জানলাম মনে মনে খুব খুশি হচ্ছিলাম। ভাবতে থাকলাম এভাবে যদি তোদের সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায় তারপরই আমি তোকে আমার প্রতি কনভিন্স করার চেষ্টা করবো।আর রবিন যখন পুলকের ব্যাপারে ওই ঘটনাগুলো বললো প্রথমে আমার বিশ্বাস না হলেও আমি এতটায় খুশি হয়েছিলাম যে তখন আমি সব ভেবে নিলাম খুব বেশি সময় লাগবেনা তোদের সম্পর্কটা নষ্ট হতে।’

-‘ এরপরই তুই প্ল্যানগুলো করে ফেললি তাইনা?’ পুলক বললো।

-‘ তিনটা বছর নষ্ট করলি আমাদের জীবনের।কতোটুকু উপকার পেলি এগুলো করে?

কথাটা বলেই পুলক এসে ঈশাণের চোয়ালে একটা ঘুষি বসিয়ে দিলো।মার খেয়ে তাল সামলাতে না পেরে ঈশাণ টেবিলের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল।রেগে উঠে দাঁড়িয়ে স্যুটের ভেতর পকেট থেকে পুলিশের লাইসেন্সকৃত পিস্তল পুলকের দিকে তাক করে ধরে বললো, -‘ এতকিছু করে যখন উপকার পাইনি তাহলে তোকে খুনই করি।’

শ্রুতি,রিয়া আর ধ্রুব তিনজনই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো ভয়ে।পুলকের রাগ তখন আরো দ্বিগুণ হয়ে গেলো।পিস্তলকে তোয়াক্কা না করে ওর চোয়ালে আরো একটা ঘুষি মাড়ল।

-‘ আর কতো নিচে নামবি?আমাকে খুন করলে তুই নিজে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবি?পুরো জীবনটায় তোর শেষ হয়ে যাবে।’

ঈশাণ টেবিলের ওপর হুমড়ি দিয়ে পরে রইলো।প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে ওর।এভাবে কারো ক্ষতি করে নিজে কোনোদিন সুখী হওয়া যায় না।আর ভালোবাসা এ তো ঈশ্বর কতৃক দান। এই জিনিস ঈশ্বর যাকে দিবেন শুধু সেই তার অধিকার পাবে। জোর করে তা বা মিথ্যা দিয়ে তা কোনোদিনও অর্জন করা সম্ভব না। কাঁদতে কাঁদতে সে উঠে দাঁড়ালো।কোনো দিকে না তাকিয়ে টলতে টলতে বেরিয়ে গেলো শ্রুতির বাড়ি থেকে।
_______________________

-‘ কিছু বলছোনা যে? ক্ষমা করবেনা আমাকে?’

-‘ তুমি কী অপরাধ করেছো যে তোমাকে ক্ষমা করবো?’

-‘ এতটা অনুরাগ চেঁপে রেখোনা আমার প্রতি।মারতে ইচ্ছা করলে মারো, হাত পা বেঁধে যেমন খুশি তেমন শাস্তি দাও। তবুও মুখ ফিরিয়ে থেকো না।’

-‘ কী চাইছো তুমি?’

-‘ তুমি বুঝতে পারছোনা?’

-‘ বোঝার ক্ষমতা আজ কাল খুব কম।’

-‘ নিয়ে যাবেনা আমাকে তোমার সঙ্গে?’

-‘ গিয়ে কী করবে?’

শ্রুতি এতসময় পুলকের পাশে বসে ওর বাহু জড়িয়ে ধরে কথা বলছিলো।হুট করে ওর পাশ থেকে উঠে এসে ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।

-‘ আমাকে একা ফেলে চলে যাবে?আমার ভুলের শাস্তি আমাকে এভাবে দেবে?’

কান্নার বেগ বেড়ে গেছে শ্রুতির।পুলক ওর দিকে না তাকিয়ে বললো, -‘ ভুলের শাস্তি তুমি আর পেলে কই?পেলাম তো আমি।আর ভবীষ্যতে যাতে না পেতে হয় তাই…..’

-‘ তাই কী?’
পুলক নিশ্চুপ।
-‘ বলো তাই কী?

পুলক এবার ওর দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে তেজী গলায় বললো,-‘ এরপর যদি কেউ আবার এমন কোনো নাটক তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে তখনও যে তোমার বিশ্বাস নড়বড়ে থাকবে না আমার প্রতি তার কী গ্যারান্টি? আমি পারবোনা এত বার বার ধাক্কা খেতে।আমার এত্ত এনার্জি নাই ধাক্কা সামলানোর।’

-‘ দিবোনা তো আর।’ কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো শ্রুতি।পুলক ধমকে প্রশ্ন করলো, -‘ কী দিবা না?’

-‘ ধাক্কা।’

-‘ আমার জায়গায় থাকলে তুমি কী করতে বলো তো?’

-‘ অনেস্টলি বলি?’

পুলক দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে তাকিয়ে আছে।

-‘ আনলিমিটেড থাপ্পড় লাগাতাম তোমার গালে।’

-‘ ব্যাস! আর কিছুই না?’

-‘ বাজে স্ল্যাং ইউজ করতাম।’

-‘ এটুকুই?’

-‘ অবশ্যি আরো একটা কাজ করতাম।কিন্তু সেটা বলবোনা।’

-‘ আমি তো শুনতে চাইছি।’

-‘ বলা রিস্ক।’

-‘ রাত ন’টা বাজে।আমাকে যেতে হবে।কাল সন্ধ্যে ফ্লাইট। অনেক গোছগাছ বাকি আছে।’ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে বললো।

-‘ না প্লিজ!’

-‘ না প্লিজ কী? আমাকে যেতে হবে না? তোমার রং তামাশা দেখবো বসে?’

-‘ আরে বললাম তো আমাকে যা শাস্তি দেওয়ার দাও।যা খুশি বলো, যা খুশি করো।তাও আমাকে ছেড়ে যেওনা।’

-‘ আমার আইডিয়া নেই কী করে শাস্তি দেওয়া যায়।’

-‘ আমি তো কিছু আইডিয়া দিলাম।’

-‘ শেষ একটা আইডিয়া দাওনি।’

মুখটা কাচুমাচু করে বসে আছে শ্রুতি।কী করে এমন একটা শাস্তির কথা বলবে সেটাই ভাবছে।তবুও ও তো বলেছে ও অনেস্টলি বলবে।মুখটা নিচু করে বললো, -‘ তোমাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সত্যি সত্যি কারো সাথে…..’

-‘ কারো সাথে কী? থেমে গেলে কেনো?’

পুলক বেশ এনজয় করছে শ্রুতির অবস্থাখানা।কথাটা ওর মুখ থেকে বের করে তবেই এখান থেকে যাবে ও।বললো, -‘ বলবে নাকি আমি উঠবো?’

-‘ না।সত্যি কারো সাথে প্রেম করে তোমার সামনে এসে দেখাতাম।’

-‘ তোমার আইডিয়া গুলো আমার পছন্দ হয়েছে।তার জন্য তোমাকে আমার সঙ্গে নিবো।তবে আমি শুধু প্রেম করবোনা। বিয়েও করবো তোমাকে চরম শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’

তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বললো, -‘ চলো এখন।’

-‘ বিয়ে করতে মানে? আমি কী বিয়ে করতাম?কখনোই না।’

-‘ আজকে কী করছিলে?’

-‘ এটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’

-‘ আর এটা আমার সঠিক সিদ্ধান্ত।’

-‘ আমার সামনে তুমি অন্য একটা মেয়ের সাথে…..’

-‘ শোবো, ঘুমাবো।’

-‘ যাবোনা।যাও তুমি।’ উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললো।

-‘ যেতে তোমাকে হবেই।আইডিয়া দিয়েছো শাস্তির।আর শাস্তি খাবে না? চলো……’

টানতে টানতে শ্রুতিকে নিয়ে চলে গেলো পুলক।হয়তো কিছু সময় বাদেই অনুরাগের পালা শেষ করে ভালোবাসার শাস্তির পালা শুরু হবে তাদের মাঝে।

_

অনুরাগ 11 পর্ব

অনুরাগ 11 পর্ব

লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘ কী হয়েছে শ্রুতি?কোনো সমস্যা?’

দু চোখ বেয়ে পানির সঙ্গে আগুন ঝরছে শ্রুতির চোখে।ঈশাণের দিকে ভয়াবহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ও।ঈশাণ আবার ও প্রশ্ন করলো,-‘ কী হয়েছে? এভাবে দেখছিস কেনো? দেখি কাগজ টা দে তো আমার কাছে।’

শ্রুতির হাত থেকে কাগজটা নিয়ে ঈশাণ পড়তে আরম্ভ করলো।প্রথম অংশ পড়ে তেমন কিছুই মনে হলো না ওর কাছে।শেষের দিকে এসে যা পড়ল তা পড়ার পর ওর হাত কাঁপতে শুরু করলো।যে মেয়েটিকে পুলক ওর বোন ভেবে নিয়েসেছিল সে সত্যিই পুলকের বোন ছিল না ঠিকই। কিন্তু পুলকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছিল মেয়েটি তা সম্পূর্ণ সাজানো কথা ছিল।আর এই কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছিল ওই পতিতালয়ের সর্দারনী।কেনো এই কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছিল সেটাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ওখানে।সবকিছু পড়ার পর ঈশাণ জোর গলায় বললো,-‘ শ্রুতি তুই ওর এসব কথা বিশ্বাস করছিস?ও তোকে যে এসব মিথ্যা বলছেনা তার প্রমাণ কী? ওর কাছে শোন যে কথাগুলো এখানে লিখা আর তা যে সত্যিই ওই মেয়েটির আর তার সর্দারনীর জবানবন্দী তার সত্যতা কী?’

শ্রুতি এবার সত্যিই দ্বিধায় পড়ল।সত্যিই তো! পুলক যে সবটাই সত্যি বলছে তার প্রমাণ কী?ও যদি সত্যিই বলে থাকে তাহলে এই তিনটা বছর ও কেনো শ্রুতির সামনে এলো না?এই কথাগুলো এই তিন বছরের মধ্যে কেনো ওকে বললো না?
শ্রুতি প্রশ্নচোখে পুলকের দিকে তাকাতে পুলক একটু একপেশে হাসল।তারপর বললো,

-‘ মেয়েটাকে আমি ঢাকা নিয়ে আসার পূর্বেই ঈশাণ নিজে ভালোভাবে যাচাই করে দেখেছে।আমি যে মেয়েটির সঙ্গে ঘোরাফেরা করেছি তার পরিচয় আসলে কী?এবং অবশেষে জানতেও পারলো আমি তাকে নিজের বোন ভেবে ওই পতিতাবৃত্তি থেকে তাকে মুক্তি দিয়ে নিজের বোনের পরিচয় দিতে যাচ্ছি।ঠিক তখনই ঈশাণ ওখানকার সর্দারনীর সাথে আলাপ করলো।পরিষ্কার হওয়ার জন্য জানতে চাইলো মেয়েটি সত্যিই আমার বোন কিনা।তখন সে তো আরো একটি সত্যি ঈশাণকে জানিয়ে দিলো যে সত্যটা আমি তখন জানতাম না।
আমার মামা আমার বোন কে যেখানে রেখে এসেছিল সেখান থেকে তারা কোথায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যে ওকে বিক্রি করে দিয়েছে তাও তাদের মনে নেই।শুধুমাত্র নিজের চিকিৎসার টাকার জন্য মামা এমন একটা নাটক করেছিলো।
অন্য একটা মেয়েকে আমার বোন বানিয়ে দিলো।আর ওই সর্দারনীকে শিখিয়েও দিলো আমি খোঁজ নিতে এলে যেনো সে এটাই বলে ওই মেয়েটিই আমার বোন। সে তাই ই করলো।এতগুলো মিথ্যা কথা সে এই আশাতেই বলেছিলো সে জানতো আমি টাকার মায়া না করে আমার বোনকে এখান থেকে মুক্ত করে নিয়ে যাবো।আর এই ব্যাপারটা সে এমনি এমনি ঈশাণকে বলে দেয়নি।ঈশাণ তাকে আমার চেয়েও টাকার পরিমাণ বেশি দিয়ে কথাগুলো জেনেছে।আর তারপর ও আরো কিছু টাকা দিয়ে একটা কাহিনী সাজিয়ে ফেললো আমি ওই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসার আগেই। মেয়েটাকে শিখিয়ে দেওয়া হলো আমার বাসায় তাকে আনার পর সে যেনো বলে আমি তাকে বোনের পরিচয়ে নয় নিজের ভোগের বস্তু করে নিয়েসেছি।মেয়েটি তাই ই করলো।এবং শর্তমোতাবেক মেয়েটিকে ও আরো কিছু টাকা দিয়ে ঢাকার শহর থেকে ভাগিয়ে দিলো।’

-‘ এই একদম চুপ।একদম বাজে কথা বলবি না।এতদিন পর এসে একটা মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে এনে কী সুন্দর সাজিয়ে সাজিয়ে বলছিস।আর ভাবছিস খুব সহজেই তা শ্রুতি বিশ্বাস করে নিবে।আর কতো ক্ষতি করতে চাইছিস মেয়েটার? আর কত অমানুষ হবি?’ ঈশাণ পুলকের কলার চেপে ধরে হুংকার দিয়ে বললো।

অনুরাগ পর্ব ১০

অনুরাগ
পর্ব ১০
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘ কোথায় ঘাপটি মেরে ছিলি বল তো এই তিনটা বছর?’ (নিশাদ)
-‘ আমি কী আসামি নাকি যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকবো?’

গ্লাসে ড্রিংক ঢেলে নিতে নিতে কথা বলছে পুলক।ওর দিকে কয়েক জোড়া চোখ বিস্ময় আর প্রশ্ন ভরা চোখে তাকিয়ে আছে। রিয়ার পাশে এসে বসলো পুলক।সবার দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শ্রুতির দৃষ্টিকে লক্ষ্য করে বললো, ‘ কী সমস্যা?এভাবে তাকিয়ে দেখছো কেনো আমাকে? এ্যাম আই লুকিং আগলি?’

শেষ প্রশ্নটা রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো পুলক।রিয়া ভ্রু জোড়া উঁচু করে একটা হাসি দিয়ে বললো, ‘ নো।মোর দ্যান ড্যাস্যিং।’

শ্রুতি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলো।ঈশাণকে বললো, ‘ আমায় বাসায় ফিরতে হবে।আমি উঠছি।’
-‘ চল আমি তোকে নামিয়ে দিয়ে আসি।’
-‘ আরে আরে আজকে কে কখন ফিরবো তার ঠিক নেই। অনেক দিন বাদে সবাই একসাথে।কোনো উঠাউঠি নেই।আজ অনেক মজা হবে।’

ধ্রুবর কথার সঙ্গে পুলক একটা রহস্যভরা হাসি মেশালো। হাসিটা ঈশাণের চোখ এড়ালো না।এর মধ্যে অনেকেই পুলে নেমে পড়েছে।কেউ এখানে ডেট শুরু করে দিয়েছে, কেউ বা মিউজিকের তালে হেলছে-দুলছে।মোটামোটি যে যার মতো এনজয় করতে ব্যস্ত।শুধু একটা জায়গায় বসে আছে, পুলক,রিয়া, শ্রুতি,ঈশাণ,ধ্রুব,মেঘলা,তানিয়া,নিশাদ আর রবিন।রিয়া আর নিশাদ উঠে হাঁটতে হাঁটতে খানিকটা দূরে চলে গেলো।পুলক ড্রিংকের গ্লাস টা নিচে নামিয়ে রাখলো। হঠাৎ করেই চোখ পড়লো ঈশাণের হাতের দিকে।শ্রুতির হাঁটুর কিছুটা উপরে ওর হাতটা।শ্রুতি ও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ওর হাতটা গ্রহণ করে বসে আছে।একটা গম্ভীর নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো পুলকের মাঝ থেকে।কিন্তু ওদের দুজনকেই খুব অপ্রস্তুত লাগছে।

-‘ তো?’

পুলকের আওয়াজ পেয়ে চমকে তাকালো শ্রুতি।চোখে মুখে উচ্ছন্ন ভরা হাসি মেখে আছে পুলকের।মনে হচ্ছে খুব চিন্তামুক্ত আর হাস্যজ্জল মানুষ একটা।তিন বছর আগে তার জীবনে যে কোনো একটা অপ্রিয় ঘটনা ঘটে গেছে সেটা তাকে দেখে মনেই হচ্ছেনা।চোখের পলক পড়ছে না শ্রুতির।এদিকে পুলকও চেয়ে আছে তার প্রাণখোলা হাসি মুখে মেখে নিয়ে।ঈশাণ শুধু তাকিয়ে দেখছে ওদের দৃষ্টি বিনিময়।এক মিনিট, দু মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে শ্রুতি হাজারো প্রশ্নভরা চোখে তাকিয়ে দেখছে ওকে।ঈশাণ হঠাৎ করে একটু কেশে উঠল।ভাবনাগ্রস্ত শ্রুতি হুঁশে এলো তখন।পুলক খানিকটা হেসে ফেলল।

-‘ হাসছিস যে?’
-‘ হুম? আমাকে বলছিস?’

পুলকের এমন উদাসীন ভাবটা নেওয়া ঈশাণের অসহ্যবোধ লাগলো খুব।চোখ মুখ শক্ত করে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো ওর থেকে।পুলক বললো, ‘ বিয়েতে কী ইনভাইটেশন পাচ্ছি?’
-‘ লজ্জা করছে না তোর?কোন মুখে এই প্রশ্নগুলো করছিস?’
-‘ অ…! লজ্জা পাওয়ার মতো কিছু বলেছি বোধহয়? এই ধ্রুব আমার প্রশ্নটা কী লজ্জা পাওয়ার মতো ছিল?’
-‘ আমি কী বলবো ভাই!’
-‘ তোরা বিয়ে করছিস এটা একটা ভালো কথা।আমি সেখানে দাওয়াত পাচ্ছি কিনা সেটা জানতে চাওয়া কী আমার অপরাধ?’
-‘ এতদিন কই ছিলি?’
-‘ স্কটল্যান্ড।’
-‘ মেয়েটাকে নিয়ে ওখানে পাড়ি জমিয়েছিস?’

রবিনের প্রশ্নে পুলকের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে আসার মতো অবস্থা।কিন্তু না, ও এখন এই মুহূর্তে কোনো সিনক্রিয়েট করবে না।রবিনের প্রশ্ন শুনে শ্রুতি চেয়ে আছে পুলকের দিকে।অবশ্যই পুলক কী উত্তর দেয় তা শোনার আশায়।ওর বুকের ভেতরটা যে তোলপার হয়ে যাচ্ছে।পারছেনা এভাবে চুপচাপ ওর সামনে বসে থাকতে। ইচ্ছে করছে ওর কলারটা চেঁপে ধরে ওর দু’গালে বিরতিহীন চড় বসাতে।জানতে ইচ্ছা করছে এমনটা কেনো করলো ওর সাথে।শ্রুতির চোখে চোখ পরতেই পুলক দেখতে পেলো শ্রুতির চোখের আগুন।শুধু একটু হাসলো।তারপর উঠে চলে গেলো পুল সাইডে অন্যসব ফ্রেন্ডদের মাঝে।প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলো পুলক।কিন্তু শ্রুতি যে খুব আগ্রহ নিয়ে বসে ছিল উত্তরটা শোনার আশায়।মনে মনে ভেবেই নিলো আজ ও সবকিছু পুলকের থেকে জেনে তারপর এখান থেকে যাবে।

-‘ শ্রুতি! চল আমরা ফিরি।’
-‘ না।’

অনেকটা গম্ভীর হয়ে বললো শ্রুতি।

-‘ একটু আগেই না বললি বাসায় ফিরবি?’
-‘ এখন যেতে ইচ্ছে করছে না।’

উঠে চলে এলো ঈশাণের পাশ থেকে।দূরে দাঁড়িয়ে শুধু পুলককে লক্ষ্য করছে শ্রুতি।কী সুন্দর না দেখাচ্ছে আজ পুলককে। শ্যামলা বর্ণ ছিলো গায়ের রং টা।তিন বছর পর দেখে মনে হচ্ছে গায়ের রং টা আরো পরিষ্কার হয়েছে।চশমার ফ্রেমটাও চেইঞ্জ করেছে,চুলগুলো স্টাইলিশ ব্রাশ করা।দু একটা চুল লম্বা হয়ে পরে আছে কপালে ওপর।রেড টি শার্টের ওপর ব্ল্যাক স্যুট। হাতা কনুই অবদি গুছিয়ে রাখা।এত পরিবর্তন! কে বলবে দেখে এই মানুষটার জীবনে কিছু ঘটে গেছে যা একটা মানুষের জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।এত ভালো থাকতে দেখে পুলকের প্রতি শ্রুতির ঘৃণাবোধ টা আরো বেড়ে গেলো।ও দেখতে চেয়েছিল পুলক যেদিন ওর সামনে আসবে সেদিন ওর চেহারা হবে অপরাধবোধ আর অনুশুচোনার আগুনে দগ্ধ হয়ে যাওয়া একটা মানুষের চেহারা।আজ ওর সামনে এসেছে ঠিকই তবে যা ভেবে রেখেছিল একদম তার বিপরীত কিছু হয়ে ওর সামনে এসেছে।পুলক কানে ফোন নিয়ে পুল সাইড থেকে একটু দূরে সরে এলো একটু ফাঁকা জায়গাতে।শ্রুতি সেখানে দ্রুত হেঁটে গেলো।ও অপেক্ষাতে ছিল কখন ফাঁকা স্পেসে পাবে পুলককে।

-‘ হ্যাঁ প্রজেক্টটা আমিই কমপ্লিট করবো সমস্যা নেই।এ মাসের সাতাশ তারিখেই আমি ব্যাক করছি।টেনশান নিতে হবে না আপনাকে।’

কথার মধ্যেই দেখল শ্রুতি ওর দিকে এগিয়ে আসছে।অনেকটা কাছে চলে এসেছে ওর।ফোনের ওপাশের ব্যক্তিকে বিদায় জানিয়ে ফোনটা পকেটে ভরে নিলো।ওর দিকে তাকিয়ে সুন্দর একটা প্রাণখোলা মুচকি হাসি দিলো।

-‘ হ্যালো।’

শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে গম্ভীর চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।চোখ দুটো উপচে পানি নেমে আসবে আসবে ভাব।পুলক বললো,
-‘ কী দেখছো এভাবে?’
-‘ একজন প্রতারক কে।’
-‘ কে প্রতারক এখানে?’
-‘ নামটা কী শুনতে ইচ্ছা করছে আমার মুখ থেকে?’
-‘ হ্যাঁ।’
-‘ কতোটা পাথর হৃদয়ের মানুষ হলে কেউ এত বড় অপরাধ করার পর ও….’
-‘ চুপ।’

ঠোঁটের ওপর অনামিকা আঙুল রেখে চোখে মুখে কঠোরতা এনে বললো পুলক।

-‘ এখনো যে আমার সামনে তুমি এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছো সেটাই তোমার কপাল।ধৈর্য ধরে বসে আছি শুধু।’
-‘ কী বোঝাতে চাইছো তুমি?’
-‘ কিছুনা।এখন বলো তো এঙ্গেজমেন্টের দিন ইনভাইটেশান পাচ্ছি কিনা?’
-‘ খুব শখ আসার?’
-‘ খুব।’
-‘ ঠিক আছে।চলে এসো।’
-‘ কী চায় তোমার আমার থেকে?’
-‘ অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি।’
-‘ ওমা অবাক হওয়ার কী হলো?কিছু চায়না তোমার?ডিভোর্স? এটাও চায়না?’

আর পারলোনা আটকে রাখতে।অশ্রুর বাঁধ ভেঙ্গে পড়লো দু চোখ থেকে।আরো বেশি কান্না পাচ্ছে পুলকের এক্সপ্রেশন গুলো দেখে।শ্রুতি কান্না করলে পুলক সেই কান্না ভেজা চোখে আর মুখে হাজারো চুমুর প্লাবন বইয়ে দিতো।আজ সেই পুলক ওর কান্না দেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেমন একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে। এ কেমন পুলক?এই পুলককেই কী শ্রুতি সবটা উজার করে ভালোবেসেছিলো?এত বড় স্বার্থবাদী একটা প্রতারককে বিশ্বাস করে নিজের বাড়ি ছেড়েছিল?পুলক আজ শ্রুতির চোখের পানি নিয়ে যে খেলাটা খেলল তা শ্রুতি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুলবেনা। ওর কাছে এগিয়ে এসে গাল থেকে এক ফোটা পানি অনামিকা আঙুলের ডগার ওপর তুলে নিলো পুলক।তারপর বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে সেটা ঝেড়ে ফেলল।টিস্যু পেপাড় দিয়ে সেই আঙুল দুটোও মুছে নিলো।সবশেষে শ্রুতির পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।মরে যেতে ইচ্ছে করছে শ্রুতির।এর থেকে তো সারাজীবনে দেখা না হলেও ভালো হতো।তক্ষণি শ্রুতি ছুটে চলে আসে হোটেলের বাহিরে।আর সে দেখতে চাই না এই বিশ্বাসঘাতক,প্রতারক মানুষটাকে।
_____________________

তিন বছর আগের সবকিছুকে দুঃস্বপ্ন ভেবে সামনের জীবনে এগিয়ে যাবে শ্রুতি।এমন কিছু ভেবেই সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে।ভাববে না সে আর ওই প্রতারকের কথা।

-‘ কিরে আজকের দিনে অনন্ত এভাবে মুখটা কালো করে রাখিস না।এমনিতেই তোদের নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।তারউপর মুখটা এভাবে কালো করে রাখলে আরো বেশি বলার সুযোগ পাবে সবাই।’

মেঘলার কথাগুলো কানে আসতেই শ্রুতি ভাবলো, -‘ সত্যিই তো! কেনো আমি মনমরা হয়ে থাকবো? আমার তো আজ থেকে জীবনের নতুন একটা অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।আমি আজ থাকবো সবার থেকে খুশি হয়ে।’

কথাগুলো ভেবে নিজেকে একদম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো শ্রুতি।আজকে ঈশাণের সঙ্গে শ্রুতির এঙ্গেজমেন্ট।শ্রুতির বাড়িতেই পার্টিটা এ্যারেঞ্জ করা হয়েছে।শ্রুতি আর ঈশাণের আশপাশ দিয়ে ওদের সকল বন্ধু-বান্ধব গিজগিজ করছে। কেউ ই আসতে বাকি নেই।শুধু একজন বাদে।সে তো নিজে যেচে এসে দাওয়াতটা নিয়েছিল।আসবে কী সে? সবার সাথে হেসে হেসে গল্প করছে ঠিকই।কিন্তু মনের মধ্যে সেই মানুষটার ভাবনাও ভাবছে শ্রুতি।সবশেষে এঙ্গেজমেন্টটা হয়েই গেলো। প্রত্যেকেই খুব খুশি।কিন্তু খুশি হতে পারছে না শ্রুতি।এত ঘেন্নার পরও ইচ্ছা ছিল ওই মানুষটা আসবে এখানে, একটাবার দেখবে তাকে।কিন্তু কই?সে তো এলোনা।আর আসবেই বা কোন মুখ নিয়ে।আত্মসম্মানবোধ না থাকলে ঠিকই আসতো। নিচে গার্ডেন সাইডে বসে শ্রুতি আর ঈশাণ সব ফ্রেন্ডদের সঙ্গো আড্ডাই ব্যস্ত ছিলো।এরই মাঝে পুলক এসে উপস্থিত হলো।

-‘ আড্ডা তো বেশ জমেছে।আমি কী জয়েন করতে পারি?’

সবাই ফিরে তাকালো ওর দিকে।বাহ্ বেশ তো লাগছে আজ দেখতে পুলককে।পুলকের পরনে আজ শ্রুতির দেওয়া শেষ উপহারের হোয়াইট স্যুট এন্ড প্যান্ট।তার সঙ্গে স্যুটের নিচে হালকা পিংক কালার একটা শার্ট।পকেটে দু’হাত পুরে ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে সে।নজরটা রয়েছে শ্রুতির দিকে।শ্রুতিও আজ হোয়াইট আর পিংক কালার মিক্সড একটা ল্যাহেঙ্গা পরেছে।যার জন্যই সবাই একবার শ্রুতিকে দেখছে আবার পুলককে দেখছে।পুলকের আগমন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে শুধু ধ্রুব ছাড়া।সে এসে ওকে বললো,
-‘ আমি তো ভাবলাম তুই বোধহয় রুমে বসে কাঁদছিস আর টিসু পেপাড়ে চোখ মুছছিস।’
-‘ কী যে ভাবিস না আমাকে তোরা!’
-‘ তুই এখানে?’

ঈশাণ রাগে গম গমে ভাব নিয়ে প্রশ্নটা করলো পুলককে।ভদ্রতা বজায় রেখে পুলক উত্তর দিলো,-‘ তোর হবু বউয়ের কাছ থেকে সেদিন ইনভাইটেশান পেলাম।অবশ্য আমিই যেচে পড়ে নিয়েছিলাম।খুশি হোস নি বুঝি?’

শ্রুতির নজর মাটির দিকে।সে না পারছে পুলকের দিকে তাকাকে আর না পারছে ওর সঙ্গে কথা বলতে।চোখ ফেটে ভেতরে সব কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছে।এতটা কষ্ট তো ওর হওয়া উচিত না।পুলক তো বেশ আছে।তাহলে ও কেনো এত কষ্ট পাবে?

-‘ আমি এসেছি তার কারণটা তুই না বুঝলেও তোর বউ বুঝে গেছে।’

পুলকের কথায় শ্রুতি এতক্ষণে টের পেলো।পুলক এসেছে ওকে ডিভোর্স পেপাড় টা দিতে।কাগজে কলমে সারাজীবনের জন্য আজই ওদের বিচ্ছেদ ঘটবে।পারবে কী শ্রুতি ওই কাগজে একটা সই করে সারাজীবনের জন্য ওকে ত্যাগ করতে?হুহ্ মনের বিচ্ছেদটা তো কবেই ঘটে গেছে।তাহলে কাগজে কলমে বিচ্ছেদটা মেনে নিতে আর সমস্যা কোথায়?নিজেকে সামলে একদম স্বাভাবিক করে উঠে এলো পুলকের সামনে।

-‘ কই? কাগজটা দাও।’

পুলক কাগজটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।শ্রুতির চোখের দিকে তাকিয়ে কাগজ ওর দিকে এগিয়ে ধরলো।
_________________

বাগানের ভেতরটায় যেখানে নিরিবিলি বসার জন্য একটা ছোট টেবিল আর দুটো চেয়ার সেখানে গেল ওরা দুজন।সাথো এলো ঈশাণও।কাগজটা হাতে নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে শ্রুতি যখন সই করতে গেলো তখন পুলক বললো,-‘ অন্ততপক্ষে একবার চোখটা বুলিয়ে নাও।পড়ে দেখো কাগজে কী লেখা আছে।এত তাড়া কিসের?বিয়েটা তো আর আটকে দিচ্ছি না।’

ঈশাণ এগিয়ে এসে বললো,-‘ শ্রুতি কাগজটা দে তো দেখি।’
-‘ ডিভোর্সটা আমার আর তোর শ্রুতির হচ্ছে।তোর ভূমিকা এখানে না থাকলেও চলবে।স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাক।’

ঈশাণ ক্রুদ্ধ চোখে চেয়ে আছে পুলকের দিকে।পুলকের চাহনি ও ঠিক একই রকম।শ্রুতি কাগজটা হাতে নিয়ে যখন পড়তে শুরু করলো তখন পুলক আবার বললো,-‘ চেয়ারটাতে বসো তারপর পড়ো।’

শ্রুতি একটু সময় ওর দিকে চেয়ে থেকে চেয়ারে বসল।তারপর পড়তে আরম্ভ করলো।শুরুর দিকে আইনীভাবে কাগজে যা লেখা থাকে সেগুলোই লেখা।তারপর নিচে নামতে নামতে যে লিখাগুলো ছিল তা পড়তে পড়তে শ্রুতির গলা শুকিয়ে আসছিলো।মনে হচ্ছিল ওর পায়ের নিচের জমিন কেঁপে উঠছে বার বার।এর জন্যই বোধহয় পুলক ওকে বসে পড়তে বলেছে।

_

অনুরাগ ৯ম পর্ব

অনুরাগ
৯ম পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

 

-‘ বিয়েটা কেনো করছিস না বল তো?ঈশাণ কিন্তু সত্যি খুবই পছন্দ করে তোকে।আর সেটা ভার্সিটি টাইম থেকেই।ও এখনো তোর জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে।আর তুই অপেক্ষা করে আছিস ওই বেঈমানের জন্য?’

শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে।এই তিনটা বছর শ্রুতি কীভাবে কাটালো তা নিজেরও অজানা।এর মাঝে অনেকবার মনে হয়েছে যে পুলকের সাথে একটাবার কথা বলা উচিত।কিন্তু রাগ অনুরাগ তাকে আটকে ধরে রেখেছিলো।আর যখন সেই রাগ অনুরাগকে ভুলে গিয়ে পুলকের খোঁজ নিতে গেলো তখন আর পুলককের অস্তিত্ব পাওয়া গেলো না।সবাই বলছে পুলক হয়তো সেই বাবলী মেয়েটার সঙ্গে দূরে কোথাও সংসার পেতেছে কিংবা অন্য কাউকে নিয়ে।কিন্তু শ্রুতির মনে হচ্ছে পুলক ভালো নেই।

-‘ শ্রুতি?কথা বলছিস না কেনো?

মেঘলার ডাকে শান্ত চোখে ওর দিকে ফিরে তাকালো।

-‘ তোর কী মনে হয় পুলক সত্যিই কাউকে….?’
-‘ শ্রুতি!’
-‘ প্লিজ বল না?’
-‘ আমি জানিনা কিছুই।ওর ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে নামা প্লিজ।ও যদি কোনো অপরাধ করে না থাকে তাহলে তোর সাথে কেনো আর যোগাযোগ করলোনা বল।ও তোকে একসময় এমনিতেই ছেড়ে চলে যেতো।কিন্তু তার আগেই তো…..’

মেঘলার কথার মাঝে ওর ফোন বেজে উঠলো।ফোনে কথা বলা শেষে শ্রুতিকে বললো, ‘ঈশাণ আসছে এখানে।তোর ফোন রিসিভ হচ্ছেনা বলে আমাকে ফোন করেছে।’

-‘ ও এখানে এসে কী করবে?’
-‘ কী করবে আবার?কফি খাবে আমাদের সঙ্গে।শোন আজ সবকিছু তোদের মাঝে ক্লিয়ার করে নে।ঈশাণ সত্যি তোকে ভালোবাসে রে।ও তোকে অনেক ভালো রাখবে।’

সেদিনের কথার পর শ্রুতি আর ঈশাণ কে ফিরিয়ে দিতে পারে নি।ঈশাণের ওর মুখ থেকে হ্যাঁ শব্দটি না শোনা পর্যন্ত জায়গা থেকে এক চুল পরিমাণ ও নড়েনি।শ্রুতির হাতটা ধরে বসেই ছিল শুধুমাত্র ওর মুখ থেকে হ্যাঁ শব্দটি শোনার জন্য।অবশেষে শ্রুতি আর ফিরিয়ে দিতে পারে নি ওকে।সেদিন রাতেই ঈশাণ ওর বাবা-মা কে নিয়ে শ্রুতির বাড়িতে যায় শ্রুতিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিতে।ঈশাণের মতো ছেলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ইচ্ছা কোনো বাবা-মায়ের ই নেই।শ্রুতির বাবা-মা ও পারে নি।সবশেষে রিসেন্ট মান্থেই ওদের এঙ্গেজমেন্টের ডেট ফিক্সড করেছে তারা।
.
.
.
-‘ আচ্ছা তোরা এ্যারেঞ্জমেন্ট কর। ওকে নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার।ওকে রাখছি।’
-‘ ঈশাণ আমি কোথাও যাবোনা। প্লিজ আমাকে জোড় করিস না।’
-‘ কেনো যেতে চাইছিস না তুই?আচ্ছা তুই কী আমাকে মেনে নিতে পারছিস না এখনো?’
-‘ তেমন কোনো বিষয় না।আমার ভালো লাগছে না।’
-‘ ভালো লাগাতে হবে শ্রুতি।২-৩ বছর আগেও আমরা সব ফ্রেন্ডরা এমন কতো ইভেন্ট তৈরি করেছি।কতো এনজয় করেছি সেইসব ইভেন্টগুলো।তাহলে আজ কেনো করবি না?এভাবে লাইফটাকে থামিয়ে রাখার কোনো মানেই হয়না।’

শ্রুতি ঈশাণ কে কী করে বোঝাবে যে এমন ধরনের ইভেন্টে জয়েন করা মানেই পুলকের স্মৃতিগুলো ওকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে।সেইসব ইভেন্টগুলোর মূল ইভেন্ট প্ল্যানার ছিল যে পুলক।সেই সময়গুলোতে দুজন কতো মিষ্টি মধুর সময় কাটিয়েছে ওরা।আর আজ এখন সেই ইভেন্টে সবাই থাকবে শুধু থাকবে না পুলক।

-‘ তুই নিশ্চই পুলকের কথা মনে করে ইভেন্টে যেতে চাইছিস না?’
-‘ (নিশ্চুপ)’
-‘ যদি এটাই তোর না যাওয়ার মূল কারণ হয় তাহলে আমি তোকে বাধ্য করবো ইভেন্টে জয়েন করতে।কারণ আমি চাই না তুই ওই প্রতারকের স্মৃতি মাথায় রেখে সব আনন্দ খুশি থেকে নিজেকে দূরে রাখবি।এখন তুই কী চাস বল?আমি তোকে বাধ্য করবো আমার সঙ্গে যেতে নাকি তুই নিজেই যাবি?’

অগত্যা শ্রুতি পুলকের সঙ্গে একটি হোটেলে গেলো ওদের ফ্রেন্ডদের গেট টুগেদার পার্টিতে।সেখানে তানিয়া,মেঘলা,নিশাদ,রবিন ছাড়াও ভার্সিটির আরো কিছু ফ্রেন্ড এসেছে।পার্টিটা হচ্ছে হোটেলের মধ্যে সুইমিং প্লেসের সাইডে।চারপাশ অসম্ভব আলো আর মিউজিকের জোরালো শব্দে শ্রুতির মাথা ধরে আসছে।সবাই ইতোমধ্যে শ্রুতি আর ঈশাণের বাগদানের কথা জেনে গেছে।খুব ইয়ারকি মজা করছে সবাই ওদের সঙ্গে।এর মধ্যে ওদের একটি ফ্রেন্ড ধ্রুব এসে ঈশাণকে বললো, ‘ সেই তো ওকে ভাগিয়েই নিলি।তো পুলকের সঙ্গে বিয়েটা হওয়ার আগেই ভাগিয়ে নিতি।বিয়ের পরে কেনো দোস্ত?’
-‘ ভাগিয়ে নিয়েছি এটা কেমন কথা ধ্রুব?কথা সংযত হয়ে বল।’
-‘ অদ্ভুত!রেগে যাচ্ছিস কেনো?কথাটা কী শুধু আমি একা বলছি? এখানে যারা উপস্থিত সবাই একই কথা বলছে।’
-‘ সবাই বলছে মানে?সবাই কী বলছে?’
-‘ আচ্ছা থাক বাদ দে।যা বলেছি তো বলেছি।ওসব কথা থাক। এসেছি এনজয় করতে।ভাগাভাগি প্রসঙ্গ থাক।চল ওদের কাছে যাই।’
-‘ দাঁড়া শ্রুতিকে ডাকি।’
-‘ আরে ও তো আছে মেঘলাদের সঙ্গে।তুই আয় আমার সাথে।’

হাতে সফ্ট ড্রিংকসের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে ঈশাণ সবার সঙ্গে কথা বলছে।কথার এক পর্যায়ে ঈশাণ জানতে চাইলো আজকের ইভেন্টের মূল প্ল্যানার কে?শুভ নামের একটি ফ্রেন্ড বললো, ‘ কেনো তুই জানিস না?’
-‘ না তো।কে?’
-‘ কী যে বলিস।এতকাল ধরে ইভেন্টগুলো কে তৈরি করে? সেই ই করেছে।’

ঈশাণ কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেলো শুভ’র কথা শুনে।চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।বললো, ‘কার কথা বলছিস।ভালো করে বল।’
-‘ থাক আর জানতে হবে না।একটু পর নিজের চোখেই দেখে নিস।’

-‘ এই শ্রুতি তোদের কী আকদটা হয়ে গেছে?’
-‘ আরে না।এ মাসের ছাব্বিশ তারিখে এঙ্গেজমেন্ট।তারপরই বিয়ের ডেট ফিক্সড হবে।’
-‘ আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি?কিছু মনে করবি না তো?’
-‘ রিয়া তুই কী জিজ্ঞেস করতে পারিস তা আমি জানি। না, আমার আর ওর ডিভোর্সটা এখনো হয়নি।ও কোথায় আছে আমি নিজেও জানিনা।’
-‘ তাহলে ডিভোর্স ছাড়া……’

রিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই ইভেন্ট প্ল্যানার এসে উপস্থিত। সবাই তার সঙ্গে জাপ্পি নিতে ব্যস্ত।

-‘ এবারের ইভেন্ট প্ল্যানার কে?’
-‘ গিয়ে দেখে আয় কে।’

রিয়ার মুখের দিকে চেয়ে দেখলো শ্রুতি।রিয়া ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।রিয়ার থেকে চোখ ফেরাতেই ঈশাণের দিকে চোখ পড়লো শ্রুতির।কেমন বিষণ্নতার ছাপ চেহারায় দেখতে পাচ্ছে ও।

-‘ চল দেখা করে আসি ওর সাথে।অনেকদিন বাদে দেখা হচ্ছে।’

রিয়ার সাথে এগিয়ে গেলো সকলের মাঝে সেই ইভেন্ট প্ল্যানারের সাথে দেখা করতে।বুকের ভেতরটা কেমন যেনো ছটফট করছে।মানুষটা কে হতে পারে এটা ভেবেই বড্ড অস্থির লাগছে শ্রুতির।শ্রুতির পাশে এসে দাঁড়ালো ঈশাণ।সে নিজেও এক্সাইটেড মানুষটা কে হতে পারে তাকে দেখার জন্য।

_

অনুরাগ ৮ম পর্ব

অনুরাগ
৮ম পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘আমি কী তোমার বাসায় যাচ্ছি?’
-‘হ্যাঁ।’
-‘সত্যি?’
-‘মিথ্যা হবে কেনো?’
-‘আমি কী আজ থেকে তোমার সঙ্গেই থাকবো?’
-‘অবশ্যই।আমার সঙ্গে থাকবেনা তো কার সঙ্গে থাকবে তুমি?’
-‘ওখানে আর আমাকে ফিরে যেতে হবেনা? ওরা যদি আমাকে কখনো নিতে আসে আবার?’
-‘আর আসবেনা ওরা বাবু।তুমি এত চিন্তা করছো কেনো?এখন তো আমি আছি তোমার সঙ্গে তাইনা?’

গাড়িতে বসে পুলক বাবলীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাড়িতে পৌঁছে গেলো।বাবলী ছোট বাচ্চাদের মতো পুলকের বাহু জড়িয়ে ধরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।শ্রুতি কলিংবেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে ওদের দুজনকে একসাথে দেখে না চাইতেও চমকে গেলো।
পুলকের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি।আর বাবলী মেয়েটা খুব ভীত চোখে তাকিয়ে দেখছে শ্রুতিকে।
শ্রুতি দরজার মুখের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে ওরা ভেতরে ঢুকলো।ড্রয়িংরুমে তানিয়া,মেঘলা, ঈশাণ,রবিন,নিশাদ সবাই বসে আছে।সবারই মুখের ভাবটা গম্ভীর।পুলকের সঙ্গে ছবিতে দেখা ওই মেয়েটিকে দেখে সবাই বেশ চমকে উঠলো। কেউ কিছু বলার মতো কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছেনা।শুধু তাকিয়ে দেখছে দুজনকে।

-‘বাহ্ তোরা সবাই আছিস দেখছি।ভালোই হয়েছে।সবটা সবার সামনেই পরিষ্কার হবে।’
রবিন বললো, ‘ও কে পুলক?’
-‘ও বাবলী।’
-‘সেটা তো ওর নামের পরিচয়।’

শ্রুতি শান্ত ভঙ্গীতেই বললো পুলককে।পুলক বললো, ‘ও আমার ছোট বোন শ্রুতি।আমার একমাত্র ছোট বোন।যাকে আমি সেই এগারো বয়স হারিয়েছিলাম।’

পুলকের উত্তরে সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলো।শ্রুতিও একদম চুপ হয়ে গেলো।ওরা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে শুধু।ঈশাণ হঠাৎ এর মধ্যে খিক করে হেসে উঠল।বললো, ‘কারো কোনো কমেন্ট আছে?’

সবাই নিশ্চুপ।এ্যাটেনশন এখন সবার ঈশাণের দিকে।পুলকও চেয়ে আছে ওর দিকে।কী বলতে চাই তা শোনার আশায়।ঈশাণ উঠে এসে পুলকের সামনে দাঁড়াল পকেটে হাত গুজে।বললো, ‘এত লো ক্লাসেস বুদ্ধি পাস কই?’

-‘তোর সমস্যা কোথায় বল তো ঈশাণ?’
-‘এটা তো আমি জিজ্ঞেস করবো আমি?কেনার সময় কী বোন বলে কিনেছিস?’
-‘ঈশাণ….!’

চিৎকার করে উঠলো পুলক।ঈশাণ আবারো বললো, ‘কিনেই তো এনেছিস।মিথ্যে বলেছি কী?রবিন স্বাক্ষী আছে এখানে।আর সব থেকে বড় স্বাক্ষী ওখানকার সর্দারনী।ফোন দিই?কী বলিস?তুই দিবি নাকি আমি দিবো?’

ঈশাণ পুলককে সর্দারনীর নাম্বারটা দেখিয়ে কল করলো তাকে।কলটা স্পীকার করে সবাইকে শুনালো পুলক কীভাবে কত দামে বাবলীকে ওখান থেকে কিনে নিয়েসেছে।আর সব থেকে বড় যে কথাটা সেটা হলো সর্দারনী জানিয়েছে বাবলীকে পুলক বিয়ে করবে বলে সে ওকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছে।কোন বোন পরিচয়ে আনেনি এখানে।শ্রুতি ধপ করে ফ্লোরে বসে পরলো।মেঘলা,তানিয়া ওকে দ্রুত গিয়ে ধরে বসল।পুলক ঈশাণের কাছ থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে সর্দারনীকে বললো, ‘এই কী বলছেন আপনি?এসব কী বলছেন?বাবলীকে আমি বিয়ে করবো বলে…..।ছিঃ ও আমার বোন।আমি কত কষ্টে ওর সন্ধান পেয়েছি আপনি জানেন।হ্যালো হ্যালো…..?’

ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গিয়েছে।পুলক ঘুরে তাকিয়ে দেখলো শ্রুতি মেঘলার বুকে মাথা রেখে ফ্লোরে পাথরের মতো বসে আছে।তাকে খুবই অস্বাভাবিক লাগছে।ওর কাছে গিয়ে পুলক বললো, ‘তুমি আমাকে বিশ্বাস করছোনা,হ্যাঁ? এই শ্রুতি?তোমার বিশ্বাস হচ্ছেনা আমার কথা? বাবলী আমার বোন।ছোট থাকতে আমার মামা একদিন রাতে ঘুমের মধ্যে ওকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলো আমার কাছ থেকে।ও তখন খুব ছোট ছিলো।আমি ওকে কোথাও খুঁজে পাইনি।সপ্তাহ খানেক আগে আমার সেই মামা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার জন্য।আমাকে জানায় সে ক্যান্সারে আক্রান্ত।এডিক্টেড ছিলো খুব সে।আমি তাকে টাকা দিতে রাজি না হলে সে আমাকে বাবলীর কথা জানায় বাবলীকে সে কোথায় চুরি করে রেখে এসেছিলো।আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বাবলী এখন টাঙ্গাইল।আর আমি সেদিনই তোমাকে অফিসের কাজের কথা জানিয়ে টাঙ্গাইল যাই ওকে ফিরিয়ে আনতে।আমি……’

-‘থাম ভাই।অনেক তো বললি।এবার তোর বাবলীকে কিছু বলতে দে।’

পুলক থম মেড়ে দাঁড়িয়ে আছে।শ্রুতিকে কিছু বলবে তখনই ঈশাণ ধমকে বাবলীকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এই মেয়ে তোর সাথে পুলকের পরিচয় কী করে?তোর সাথে ওর সম্পর্ক কিসের?’

এরকম আরো নানারকম প্রশ্ন করলো ঈশাণ বাবলীকে।বাবলীর উত্তর যা ছিল তা শোনার পর পুলক আর এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। শ্রুতি ওর মুখটা অবদি তাকিয়ে দেখেনি।শ্রুতি বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে মেঘলা আর তানিয়ার সাথে।বাবলী কী করে বলতে পারলো পুলক তার দেহ ভোগের জন্য বাড়িতে নিয়েসেছে পতিতালয় থেকে?নিজের বোন হলে এমন কথা সে কখনো বলতে পারতোনা।এসব ভেবে পুলকের মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে একদম।এর মধ্যে কখন যে শ্রুতি মেঘলা আর তানিয়ার সাথে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে পুলক তা লক্ষ্যও করেনি।একে একে বাসাটা পুরো খালি হয়ে গেছে।পুলক মেঝেতে বসে আছে।

-‘জীবন টা আবারও আমার সঙ্গে লুকোচুরি খেললো।’

এটায় ছিলো পুলকের শেষ কথা।এরপর প্রায় তিন বছর কেটে যায়।পুলকের কোনো সন্ধান মিলেনি।শ্রুতি যখন নিজের বাড়িতে ফিরে যায় তার কিছুদিনের মাথায় ওর ফ্যামিলি শ্রুতিকে বাধ্য করে পুলককে ডিভোর্স লেটার পাঠাতে। পুলকের ঠিকানাতে ডিভোর্স লেটার পৌঁছালেও পুলককে আর পাওয়া যায় না।তার আগে পুলক বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলো শ্রুতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে।কিন্তু পারেনি আর তার এক সপ্তাহ পর থেকেই পুলক হারিয়ে গেছে কোথাও।কেউ ই তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।

_

অনুরাগ ৭ম অংশ

অনুরাগ
৭ম অংশ

লেখিকাঃ #Israt_Jahan

-‘ তোর সাহস কতখানি তুই আমাকে থ্রেট করছিস?অবশ্য এমন একটা বাজে কাজ করার মতো সাহস যে দেখাতে পারে তার তো…..।তুই বেরো আমার বাসা থেকে।যাহ্ বেরো……বেরো।’

একরকম ঘাড় ধাক্কা দিয়েই বের করে দিলো ঈষাণকে পুলক।শ্রুতি বেলকোনির এক কোণে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে।চোখের পানিতে গাল চিকচিক করছে তার।আবছা আলোতেই পুলক দেখতে পাচ্ছে শ্রুতি আর শ্রুতির ভেজা গাল।তখন ঈষাণের সাথে অমন ক্লোজড হয়ে বসে থাকতে দেখে ক্ষণিকের জন্য মাথা খুব গরম হয়ে গিয়েছিল।নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারেনি তখন।ওইভাবে শ্রুতিকে আঘাত করা পুলকের একদমই উচিত হয়নি।সম্পর্কের এতগুলো বছরে এভাবে হুট করেই শ্রুতিকে অবিশ্বাস করাটা পুলকের কাছে খুব অন্যায় বলে মনে হচ্ছে।তবুও মনকে মানাতে পারছেনা সে।

-‘ কেনো এমনটা করলে?’

পুলকের প্রশ্নে শ্রুতি চোখের পানি মুছে চোখ মুখ শক্ত করে ওর দিকে এগিয়ে এলো।

-‘ আমাকে করছো এই প্রশ্ন?প্রশ্নটা তো আমার করার কথা ছিলো তাইনা?’

পুলক খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে।শ্রুতি যদি অন্যায় কিছু করে থাকে তাহলে ওর চোখে মুখে কঠোরতা নয় আতংক থাকার কথা।কিন্তু না তাকে খুবই আপসেট লাগছে।ওপর থেকেই বোঝা যাচ্ছে ভেঙ্গে চুড়ে পরেছে সে।ব্যাপারটা আগে জানা প্রয়োজন পুলকের।

-‘ কী করেছি আমি বলো তো?কী হয়েছে তোমার?’
-‘ আমার মুখ থেকেই শুনতে চাইছো?’
-‘ প্লিজ আমি এভাবে তোমাকে দেখতে পারছিনা।’
-‘ তাই?’
-‘ তখন তুমি কী বললে আমাকে?আমি তোমার সতীন আনছি।নারী পিপাসু আমি।এগুলো কী ভাষা ছিলো শ্রুতি?এমনো কথা তোমার থেকে আমাকে কখনো কোনোদিন শুনতে হবে……।’
-‘ কী করেছি আমি বলো?’

শ্রুতি কিছুক্ষণ পুলকের মুখের দিকে চেয়ে থেকে রুমে চলে গেলো।পুলকও ওর পিছু পিছু রুমে এলো।বিছানার ওপর থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে ফটো গুলো পুলকের সামনে মেলে ধরলো শ্রুতি।ফটোগুলো দেখে চোখদুটো বন্ধ করে হতাশার ভঙ্গীতে মুখ ঘুরিয়ে নিলো পুলক। অনেক সময় ধরে শ্রুতি পুলকের মুখের দিকে চেয়ে আছে কিছু শোনার আশায়।ও শুনতে চায় পুলক বলুক, ‘ তুমি যা ভেবেছো সব ভুল সব মিথ্যা।’ কিন্তু পুলক এমন কিছুই বললোনা। কিছুক্ষণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলো।গলা থেকে টাই টা খুলে নিচে ফেলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো সে।শ্রুতির ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কাঁদতে।হেঁটে হেঁটে বেলকোনিতে চলে গেলো সে।
————————————————–

মাথাটা প্রচন্ড ভার হয়ে আছে শ্রুতির।কেমন যেনো চোখ মেলে তাকাতেও কষ্ট হচ্ছে।মাথাটা চেঁপে ধরে উঠে বসে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো সে।সকাল ১০ বেজে ৩৫ মিনিট।

-‘ অনেক দিন পর এতো বেলা অবদি ঘুম হলো।’

পুলকের কথা শুনে ফিরে তাকালো শ্রুতি ওর দিকে।হাতে দু কাপ কফি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। খুব খোশ মেজাজে আছে বলে মনে হচ্ছে শ্রুতির কাছে।ব্ল্যাক টি শার্ট আর হাফ কোয়ার্টার প্যান্ট সাথে ভেজা চুল গুলো কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে পরে আছে।খুবই স্বচ্ছ লাগছে তাকে দেখতে।
ওর এতো অতী স্বাভাবিক ভাব দেখে শ্রুতির নিজেকে আরো বেশি এলোমেলো লাগছে।

-‘ আমি তো রাতে বেলকোনিতে ছিলাম।’
-‘আমি তো আপনাকে বিছানাতে নিয়েলাম।’

কফি হাতে শ্রুতির পাশে এসে বসল।শ্রুতি ফোলা চোখে একটু বিস্ময় চোখে তাকিয়ে দেখছে পুলককে।হাতে কফির মগটা ধরিয়ে দিয়ে শ্রুতিকে বললো, ‘ ভেবেছিলাম কোলে তুলে নিয়ে আসার সময় আপনি সিনক্রিয়েট করবেন।কিন্তু ম্যাডাম তো একদম ঘুমে কাদা ছিলেন।যখন বিছানাতে শুইয়ে দিলাম একদম গলা টেনে ধরে সারারাত গলা জড়িয়ে বেঘোরে ঘুমালেন।’

একটু আবেগমাখা কন্ঠে পুলক আবারো বললো, ‘ পারবেনা তো আমাকে ছেড়ে থাকতে।তাহলে খামোখা এই দূরে থাকার ব্যার্থ চেষ্টা কেনো?’
-‘ কী চাইছো বলো তো তুমি?কী চাইছো?সবকিছু স্বাভাবিক রেখে আমার সামনে তাকে নিয়ে সংসার করতে?কীভাবে পারছো তুমি এমন জিনিস ভাবতে?’

বড্ড তেজী গলায় কথাগুলো বললো শ্রুতি।পুলক শুধু শূণ্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ওর দিকে।শ্রুতি ওর এমন ব্যবহার কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা। পুলকের দিকে আর তাকিয়ে থাকতে পারলোনা। চোখের পলক নামিয়ে মাথা নিচু করে আবার কেঁদে ফেললো।ও পারবেনা এভাবে থাকতে। মরেই যাবে ও পুলককে ছাড়া।পুলক শ্রুতির মাথাটা নিজের কাঁধের ওপর টেনে নিলো।শ্রুতি মাথা উঠিয়ে নিতে চাইলে পুলক জোর করেই ধরে রাখলো ওকে।

-‘ ছাড়ো।’
-‘ না।’
-‘ উফ্ আমার অসহ্য লাগছে খুব।ছাড়ো।’
-‘ আমি সারাদিন তোমাকে এভাবে ধরে রাখলেও তোমার যে অসহ্য লাগবেনা তা আমি জানি। তোমাকে জানতে হবে, শুনতে হবে আমার সব কথা। কে বা কারা এমন একটা ব্যাপারকে ভুলভাবে তুলে ধরেছে তোমার সামনে তা আমি শুনবোনা। কারণ সেই তথ্য আমি নিজেই অনুসন্ধান করবো।কিন্তু তুমি যে ব্যাপারটাকে ঘিরে একটা বিশ্রি ঘটনা তৈরি করে নিয়েছো নিজের মনে সেটা আমায় ক্লিয়ার করতে হবে তোমার কাছে। তবে শুধু মুখে বলে নয়।স্ব-চোক্ষে দেখিয়ে ক্লিয়ার করবো সবকিছু।একটু ওয়েট করো।’
__

অনুরাগ ৬ষ্ঠ পর্ব

অনুরাগ
৬ষ্ঠ পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

ঈশাণ শ্রুতির হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দেখল পুলকের সঙ্গে একটি মেয়ের বেশ কিছু ছবি।একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুলক ওই মেয়েটাকে আইসক্রিম খাইয়ে দিচ্ছে, মেয়েটাও ওকে আইসক্রিম খাইয়ে দিচ্ছে আবার ওর নাকেও জড়িয়ে দিচ্ছে।দুজন মিলে শপিং করে বের হচ্ছে,রিক্সায় ঘুরছে।ছবিগুলো দেখে ঈশাণ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।তারপর শ্রুতিকে বলল,
-‘ রবিনকে ফোন কর।’

শ্রুতির শরীর থরথর করে কাঁপছে তখন। মাথাটাও কেমন ঘুরছে মনে হচ্ছে ওর কাছে।আজকে শ্রুতির পুলকের বলা ওই কথাটা মনে পরছে,
-‘ জীবনের সব থেকে বড় খুশিটা ফিরে পেয়েছি।’

তাহলে কী এটাই ছিল ওর জীবনের সব থেকে বড় খুশি?হ্যাঁ ছবিতে পুলককে খুব খুশি দেখাচ্ছে।এই খুশির জন্যই হয়তো ও এতদিন অপেক্ষা করেছে।এমনটাই মনে হচ্ছে ছবিগুলো দেখে।শ্রুতি আর নিজেকে সামলাতে পারলোনা।মাথা ঘুরে নিচে পরে গেল।ঈশাণ দ্রুত ধরে ওকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে এল।চোখ মুখে পানি ছিটানোর পর ওর জ্ঞান ফিরলে ঈশাণের বুকে মাথা রেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল শ্রুতি।ঈশাণ তখন ধমকে বলল,
-‘ ছবিটার মেয়েটা কে তুই কী জানিস? না জেনেই এরকম পাগলের মত কান্নাকাটি করছিস কেন?ওর তো কোনো রিলেটিভ…..’

শ্রুতি ঈশাণের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-‘ ওর কোনো রিলেটিভ নেই ঈশাণ ওর কোনো রিলেটিভ নেই।’
-‘ তুই কান্না থামা।আগে রবিনকে ফোন কর।ও মেসেজ করেছে তুই ওই মেয়েটাকে চিনিস কিনা?’

কোনরকমে নিজেকে সামলে শ্রুতি রবিনকে ফোন করল।

-‘ হ্যালো শ্রুতি?’
-‘ তুই এই ছবিগুলো কোথায় পেয়েছিস?’
-‘ এই ছবিগুলো আমি নিজে তুলেছি। গতকাল আমি টাঙ্গাইল এসেছি মামার বাড়িতে।তারপর বিকালে আমি মামার সাথে শহরে ঢুকতেই পুলককে একটা দোকানের সামনে দেখলাম।ওকে দেখে ছুটে ওর কাছে যাব তখন দেখি ওর পাশে ওই মেয়েটা।তারপর ওরা ওখান থেকে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকল।আমিও গেলাম সেখানে।ওরা পাশাপাশি বসে যেভাবে গল্প করছিল আর খাচ্ছিল এভাবে আমি বাইরে কখনো তোর সাথে বসেও করতে দেখিনি।ব্যাপারটা তখনই আমার কাছে বেশ খটকা লাগল।তাই আমি ছবিগুলো তুলে ফেলি।ভেবেছিলাম ওই সময়ই তোকে ফোন দিব।পরে ভাবলাম আগে আমি নিজে ক্লিয়ার হই।পুরোটা বিকাল ও ওই মেয়েটাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে।আর সন্ধ্যার সময় ওই মেয়েটাকে নিয়ে এমন একটা জায়গায় ঢুকল যে তখন আমি মাথা ঠান্ডা করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না।’

শ্রুতি কাঁপা কন্ঠে প্রশ্ন করল, ‘ কোথায় ঢুকেছিল ওরা?’

রবিন একটু চুপ থেকে নিচুস্বরে বলল, ‘ নিষিদ্ধ পল্লিতে।’

শ্রুতি তখন একদমই চুপ।রবিন আবার বলতে শুরু করল,
-‘ আমি পিছু পিছু মামাকে নিয়ে ওখানে ঢুকলাম।তারপর দেখলাম মেয়েটাকে নিয়ে ওই পল্লির সর্দারনীর বিল্ডিং এ ঢুকতে।মিনিমাম দু ঘন্টা পর পুলক বেশ মন ভার করে বেরিয়ে এল ওখান থেকে।আমি ভাবলাম তখনই ওর সাথে গিয়ে কথা বলব।কিন্তু মামা বারণ করল।ওর পিছে পিছে তখন ওই সর্দারনী বেরিয়ে এসেছে।ওকে বলল,
‘ কাল রাতেই তুমি ওকে এসে নিয়ে যেতে পারবে।কিন্তু আজকে নয়।কথা দিচ্ছি ওর কাছে আজকে রাতে আর কেউ আসবে না।তুমি নিশ্চিন্তে ফিরতে পারো।’

-‘ আমার হাত পা নিশপিশ করছিল তখন। কোনোরকমে নিজেকে সামলে চলে এসেছি আমি।তারপর মনে হল ব্যাপারটা তোকে জানানো উচিত।’
-‘ অনেক বড় উপকার করেছিস।তুই কোথায় এখন?’
-‘ আমি এখনো মামার বাড়িতে।কাল ঢাকা ফিরব।’
-‘ কাল রাতে আমাদের বাসায় আসিস।’
-‘ পুলক বাড়িতে ফিরেনি?’
-‘ না।কাল আসবে।’
-‘ আচ্ছা তুই নিজেকে সামলা।ওর থেকে আগে পরিষ্কার ভাবে জানতে চাইবি মেয়েটা কে ছিল?’
-‘ হুম।রাখছি।’

ফোনটা হাত থেকে নিচে পরে গেল। শ্রুতির চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি পরছে।এখন ওর কী করা উচিত,কীভাবে নিজেকে সামলানো উচিত ও কিচ্ছু বুঝতে পারছেনা।ওর কী এগুলো বিশ্বাস করা উচিত নাকি উচিত না ওর মাথায় কিছুই কাজ করছেনা।ঈশাণ বার বার জিজ্ঞেস করছে,”কী বলল রবিন?” সেই প্রশ্নেরও উত্তরও দিচ্ছেনা শ্রুতি।বিছানা থেকে উঠে দৌড়ে ডাইনিং এ চলে গেল।তারপর টেবিল থেকে ছুড়িটা নিয়ে হাতে আঘাত করতে গেলে ঈশাণ ছুটে এসে জোড় করে ওর হাত থেকে ছুড়িটা নিয়ে নিচে ফেলে দিল।টানতে টানতে ওকে বেডরুমে নিয়ে বসাল।

-‘ কী করছিলি তুই?নিজেকে কেন মারতে চাইছিস?তুই কোনো অপরাধ করিসনি তাহলে তুই কেন সাজা পাবি?আমাকে খুলে বল রবিন কী বলল?আর ওই মেয়েটি কে ছিল?’

শ্রুতি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-‘ আমার পুলক একটা বেশ্যার প্রেমে পরেছে ঈশাণ।’

শ্রুতিকে সামলাতে খুব কষ্ট হচ্ছে ঈশাণের।এভাবে ওকে একা ফেলে গেলে নির্ঘাত কোনো একটা অঘটন ঘটিয়ে বসবে।বাধ্য হয়ে ঈশাণকে থেকে যেতে হচ্ছে শ্রুতির কাছে।শ্রুতিকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে ঈশাণ।আর শ্রুতি ঈশাণের কাঁধে মাথা রেখে কেঁদে যাচ্ছে।কাঁদার এক পর্যায়ে শ্রুতি ঈশাণের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরে।ঈশাণ তখন ঘড়িতে দেখল রাত ১১:৩০ টা বাজে।এখন শ্রুতিকে শুইয়ে দিয়ে চলে যাওয়া যায়।কিন্তু তারপরেই মনে হল ঘুম ভেঙে যদি আবার কিছু করার চেষ্টা করে।তাই ঈশাণ সিদ্ধান্ত নিলো আজকের রাতটা এখানেই থেকে যাবে।ব্যাপারটা খারাপ দেখালেও কিছু করার নেই এখন।রাত দুটোর সময় পুলক বেশ হাসিখুশিভাবে বাসায় ফিরে এল।অনেক কিছু কিনে এনেছে পুলক শ্রুতির জন্য।আজকে অবশ্য আসার কথা ছিলনা পুলকের।এটাই বলেছিল শ্রুতিকে। কিন্তু ওকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য না বলেই চলে এল।রুমে ঢুকে দেখল ডাইনিং রুমের লাইট জ্বলছে।নিজেদের রুমের ও লাইট জ্বলছে।শ্রুতি কী এখনো জেগে আছে?রুমে ঢুকেই পুলক একটা ধাক্কা খেল।স্বপ্নেও কখনো কল্পনা করেনি শ্রুতিকে ও এইভাবে ঈশাণের সঙ্গে দেখবে।হাতের প্যাকেটগুলো ফ্লোরে ছুড়ে মাড়ল।তার শব্দ শুনেই ওদের ঘুম ভেঙ্গে গেল।পুলকের চোখে তখন আগুন জ্বলছে।শ্রুতিও একটু ঘৃণাভরা আর বিস্ময় চোখে তাকিয়ে দেখছে পুলককে।তারপরই খেয়াল হলো ও ঈশাণের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। দ্রুত সোজা হয়ে বসল শ্রুতি।ঈশাণের দৃষ্টি তখন স্বাভাবিক।এই মুহূর্তে কার কী বলা উচিত কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা কেউ। পুলক হঠাৎ ঈশাণের দিকে তেড়ে আসে ওর কলার চেঁপে ধরে দাঁড় করিয়ে বলল,
-‘ জানুয়ারের বাচ্চা তোর রুচিতে একটুও বাঁধলোনা রে?আমার ঘরে বসেই তুই আমার বউয়ের সঙ্গে রাত কাটাচ্ছিস? এভাবেই দাম দিলি বন্ধুত্বের?’
-‘ পুলক কলাড় ছেড়ে কথা বল।কিছু না জেনে না শুনে আগেই কোনো ব্লেম দিবিনা।’

পুলক ওর কলাড় চেঁপে ধরে ঠেলতে ঠেলতে দেয়ালের সঙ্গে মিশিয়ে বলল,
-‘ কী জানাবি তুই?রাত দুটোর সময় তোরা কাঁধে মাথা রাখা রাখি করে ঘুমিয়ে আমাকে কী জানাতে চাস?’

শ্রুতি চোখদুটো চোখে মুখে রাগ নিয়ে পুলকের পিছে দাঁড়িয়ে চিল্লিয়ে বলল,
-‘ নিজের নোংরা মনের সাথে সবার মনের তুলনা করবেনা তুমি।ঈশাণকে ছাড়ো।ছাড়ো ওকে।’

শ্রুতির দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ওর গালে কষে একটা চড় মাড়ল পুলক।শ্রুতির ঠোঁট কেটে একটু রক্ত গড়িয়ে পরল।

-‘ লজ্জা লাগছেনা গলা উঁচু করে কথা বলতে?নোংরামি করে এখনো এত জোড় আসছে কোথার থেকে?নাকি ধরা পরে গেছো বলে আর কোনো লুকোচুরি রাখছোনা?এখন নিশ্চই বলবে তুমি আমাকে তালাক দিয়ে ওর সঙ্গে ঘর বাঁধতে চাও?এমন সিদ্ধান্ত নিলে আমাকে খুন করে তবেই মুক্তি পাবে আমার থেকে।কী ভেবেছো?আমাকে বলবে আর আমি তোমাদের সেই সুযোগ দিয়ে দিব?’
-‘ ছিঃ লজ্জা তো তোমার করা উচিত। আমাকে ঠঁকিয়ে যাচ্ছো দিনের পর দিন। এই ঘরে আমার সতীন এনে সংসার করার চিন্তা করছো?এতটা নারী পিপাসু তুমি?একজনকে রেখে তোমার মন জুড়াবেনা।আর আমাকে বলছো আমি নোংরামি করছি।আজকে ও না থাকলে আমার মৃতদেহ দেখতে পেতে এই ঘরে। ঈশাণ তুই যা। আমি চাইনা তুই আর অপমানিত হ।কাল ওদের সবাইকে নিয়ে চলে আসিস।যা হবে সকলের সামনে হবে।সবাই জানবে এই মানুষটা একটা মুখোশধারী শয়তান।সবাই ওকে ফেরেশতা ভাবতো না?সবাই জানবে ও কীভাবে আমার সঙ্গে ধোঁকাবাজি খেলা খেলছে।’

ঈশাণ পুলকের সামনে এসে ওকে থ্রেট করে বলল,
-‘ ওর যদি কোনো ক্ষতি হয় একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া তোকে কেউ আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেনা।’

__

অনুরাগ ৫ম পর্ব

অনুরাগ
৫ম পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

 

শ্রুতি বেশ চমকে উঠে তাকাল পুলকের দিকে।আর ঈষাণ অনেকটা ঘাঁবড়ে গেল পুলকের এই ব্যাপারটাতে।গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে পুলক ঈষাণের দিকে। শ্রুতির বাহু চেঁপে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।তারপর আচমকা ঈষাণের পেটে ঘুষি দিয়ে বলল,
-‘ এই শালা তুই আমার বউয়ের হাত ধরে কী করছিলি রে? ‘

শ্রুতি বুঝতে পারল যে পুলক ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নেয়নি।তখন শ্রুতি ওর কনুই দিয়ে পুলকের পেটে গুতা দিয়ে বলল,
-‘ তুমি যে কী ভয়ানক কাজ করো আজকাল!এভাবে কেউ টেনে ধরে?ফাজিল ছেলে।ফ্রেশও তো হওনি।যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।আমি তোমাদের ডিনার রেডি করছি।’
-‘ আরে না।আগে দু কাপ কফি পাঠাও। আজ আমি আর ঈষাণ একটু আড্ডা দিই।’
-‘ মাত্রই তো খেলাম আমরা কফি।আবার?’
-‘ তোমরা দুজন খেয়েছো।আমি তো আর খাইনি।তোমাকে আর খেতে হবেনা।তুমি বরং আমাদের দুজনের জন্য পাঠাও।’
-‘ আচ্ছা ঠিকআছে।বসো নিয়ে আসছি।’

ঈষাণ মুখটা শুকনো করে বলল,
-‘ নারে… আমাকে এগারোটার আগে ফিরতে হবে।আজ আর গল্প নয়।অন্য কোনোদিন আসব।’
-‘ অন্য কোনোদিন?তার মানে বর্তমান একটু ফ্রি সময় পাচ্ছিস তাই তো?আরে কাল তো তোদের সাথে কথাই হয়নি ঠিকমত।একটু বস তারপর না হয় ডিনার করে চলে যাস।’
-‘ এই ঈষাণ বস না?আমার কফিটা কিন্তু মন্দ না সেটা নিশ্চই খেয়ে বুঝেছিস। তাই আর এক মগ যে খাওয়া অসাধ্যকর এমনটা কিন্তু নয়।’

ঈষাণ শুকনো মুখের একটা মুচকি হাসি দিল মাত্র।সেটা দেখে পুলক বলল,
-‘ থাক জোড় করে বেচারাকে কফি গেলানোর কোনো মানে হয়না।ও যে এত ব্যস্ততার মাঝে এটুকু সময় বের করে আমার বাসায় আসতে পেরেছে এতেই আমার ভালো লেগেছে।চল ডিনার করে যাবি।’
-‘ হুম চল।’

ডিনার শেষ করেই ঈষাণ আর এক সেকেন্ডও বসেনি।বিষয়টা দেখে শ্রুতি বেশ অবাক হলো।
**************
-‘ আজ এত জলদি জলদি শুয়ে পড়লে যে?’
-‘ খুব ক্লান্ত গো।তাড়াতাড়ি এসো তো।ঘুম আসছেনা তোমাকে ছাড়া।’

পুলকের কথা শুনে মুচকি হেসে দিল শ্রুতি।চুলটা বিনুনি করে পুলকের পাশে এসে শুয়ে পরল।পুলক বলল,
-‘ তুমি বসে আগে আমার চুলগুলো নেড়েচেড়ে দাও।আমি তোমার কোলের ওপর মাথা রেখে শুবো।’

শ্রুতি সেটাই করল।পুলক ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে ওর কোলের ওপর মাথা রেখে বুকে ভর দিয়ে শুয়ে আছে।আর শ্রুতি ওর চুলগুলো নেড়েচেড়ে দিচ্ছে।

-‘ ঘুমিয়ে পরলে? ‘
-‘ উহু।চোখ বন্ধ করে আছি।তবে না ঘুমানো পর্যন্ত তুমি শুবেনা। ‘
-‘ এই তখন খেয়াল করেছিলে ঈষাণকে? ডিনার করে আর একটা মুহূর্তও বসলোনা।কিরকম তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল। ‘

শ্রুতির কথা শুনে পুলক চোখ খুলল। কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,
-‘ পুলিশ মানুষ।কোন আসামির কথা মনে পরেছে তাই তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে গেছে। ‘
-‘ হুম।হয়তোবা। ‘

পুলক খুব ভালো করেই জানে ঈষাণ কেন ওভাবে চলে গেল।ঈষাণের সামনে যখন পুলক শ্রুতিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে তখন ঈষাণের মুখটা একদম শুকিয়ে যায়।পুলকের ব্যবহারটা শ্রুতির কাছে ওইসময় স্বাভাবিক মনে হলেও ঈষাণ ঠিকই বুঝতে পেরেছে পুলকের চোখের চাহনি দেখে।তাই ওর আর ইচ্ছা করেনি পুলকের সামনে থাকতে। তারপর খেতে বসে যখন পুলক শ্রুতিকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে বলছিল,
-‘ আজ আর আমি হাত দিয়ে খেতে পারবোনা।তোমাকে খাইয়ে দিতে হবে এভাবে আমার কোলে বসেই।’
এই দৃশ্যগুলো দেখে ঈষাণের ভাত হজম করতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল।তাই খাওয়া শেষ করে আর এক সেকেন্ডও বসেনি।এর সবটাই পুলক ইচ্ছে করে করেছে।আর ঈষাণ নিজেও তা বুঝতে পেরেছে।পুলক হঠাৎ শ্রুতির দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘ এই তুমি আজ হোয়াইটটা পরেছো কেন? ‘
-‘ তো কী হয়েছে?একটা পরলেই হলো। ‘
-‘ না একটা পরলেই হলোনা।তুমি আজকে ব্ল্যাকটা পরবে।যাও এটা খুলে ব্ল্যাকটা পরে এসো।’
-‘ কী অদ্ভুত!নাইটি তো নাইটিই।সেটা ব্ল্যাক আর হোয়াইট কী? ‘
-‘ উফ তুমি কী যাবে নাকি আমি গিয়ে নিয়ে আসব? ‘
-‘ আমি নিজেই যাচ্ছি।আচ্ছা নাছোড়বান্দা তুমি। ‘

নাইটি চেইঞ্জ করে পুলকের সামনে এসে দাঁড়াতেই পুলক হ্যাঁচকা টানে ওর বুকের মধ্যে নিয়ে নিলো শ্রুতিকে।তারপর চেঁপে ধরে শ্রুতির ঠোঁটে চুমু খেয়ে বসল।

-‘ তুমি যে কত বড় লুচু…. ‘
-‘ লুচুর মত কী করলাম তোমার সাথে? ‘
-‘ আমি বুঝিনি কিজন্য তুমি এটা পরতে বলেছো? ‘
-‘ বলো কিজন্য পরতে বলেছি? ‘
-‘ এটা যে খুব শর্ট।হাঁটুর উপরে উঠে থাকে একদম। ‘

শ্রুতিকে বুকের ওপর নিয়ে শুয়ে পরে বলল,
-‘ এখন আর হাঁটুর ওপরেও থাকবেনা।ওয়েট…..’

এমনকরেই সুখে দিনগুলো পার করছিল ওরা।ছোট্ট সংসারে দুটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিলনা। ওদের দুজনের ভালোবাসা নিজেদের কাছে সবসময় কম মনে হতো।পুলক ভাবত শ্রুতির তুলোনায় পুলক হয়তো ওকে কম ভালোবাসে।আর শ্রুতি ভাবত পুলক ওকে বেশি ভালোবাসে নিজের ভালোবাসার তুলনায়।পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিল বলে শ্রুতির বড় বোন ইতি ওকে অভিশাপ দিয়েই বলেছিল, ‘যে ভালোবাসার জন্য নিজের পরিবার ত্যাগ করলি সেই ভালোবাসায় একদিন তোর কাছে বিষ মনে হবে।সেই বিষ সহ্য করতে না পেরে ফিরে আসতে হবে আব্বা আম্মার পায়ের কাছে।’
এই কথাগুলো যখন পুলক শুনেছিল তখন শ্রুতিকে সে বলেছিল, ‘আমার ভালোবাসা যদি কোনোদিন সত্যি বিষে পরিণত হয় তাহলে আর কিছু ভাববেনা শেষ করে দেবে আমাকে।’ কথাগুলো তখন শ্রুতির কাছে আবেগী মনে হলেও পুলক যে কথাগুলো অনেক কষ্ট পেয়ে মন থেকেই বলেছে তার প্রমাণ শ্রুতি তার কিছুদিন পরই পেয়ে গিয়েছিল।পুলক যত ব্যাংক ব্যালেন্স তৈরি করেছে তার চাকরি জীবনে তার সবটায় শ্রুতির নামে ট্রান্সফার করে দিয়েছে।আর ভবিষ্যতেও যা হবে তার সবটাই শ্রুতি পাবে।যদিও তা শ্রুতির বাবার বাড়ির সম্পত্তির তুলনায় কম। তবুও শ্রুতি অনেক অবাক হয়েছিল।রেগে গিয়ে পুলককে বলেছিল,
-‘ ব্যাংক ব্যালেন্স প্রপাটি এইসব হাবিজাবি দিয়ে তুমি ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছো? এগুলোর জন্য আমি তোমাকে বিয়ে করেছি? ‘

পুলক সেদিন শ্রুতিকে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে ওর কপালে একটা চুমু দিয়ে বলেছিল,
-‘ সবটাই যদি আবেগ দিয়ে বিচার করা যেত তাহলে তোমার আমার সম্পর্কটাও তোমার বাবা-মা আবেগ দিয়ে বিচার করে আমাদের মেনে নিতো।তারা আমাকে কেন মেনে নেয়নি সেটা তো তুমি জানোই।শুধুমাত্র আমার সামর্থ্যের জন্য। তাই ভালোবাসাতে যেমন আবেগটাও খুব জরুরি তেমন ভালোবাসাকে আর নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য এই টাকা পয়সাটাও জরুরি।তুমি যতই সবার সামনে নিজেকে সুখি প্রমাণ করো তবুও তারা জানতে চাইবেই আমি তোমাকে কী দিয়েছি?তোমার দেনমোহর কত দিয়েছি? বিবাহবার্ষিকীতে আমি তোমাকে কী উপহার দিয়েছি তাছাড়াও আমি ইনকাম করে তোমাকে কতটুকু কী খরচ দিই আরো নানানরকম কথা জিজ্ঞেস করবে তোমাকে।তখন যদি তুমি বলো শুধু ভালোবাসা দিলেই হবে তখন সেটা তোমার কাছে মিষ্টি শোনালেও ওদের কাছে তেঁতো লাগবে।আড়ালে তোমাকে নিয়ে তোমার স্বামীকে নিয়ে ওর কানাকানি করবে অপমানজনক কথা বলবে।তখন তুমি ভেতরে ভেতরে কতটা কষ্ট পাবে তোমার আইডিয়া নেই।আর এমন কিছু জায়গা থেকেই শত ভালোবসার মাঝে দুজনের মধ্যে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।’
-‘ তার মানে তুমি বলতে চাইছো আমি এগুলো নিয়ে তোমার সাথে ঝামেলা করব?’
-‘ নারে বাবা আমি কী সেটা বলেছি? এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আপনাআপনিই নিজেদের মধ্যে ঝুট ঝামেলা তৈরি হয়ে যায়।এসব পরিস্থিতির মাঝে না পরলে তুমি বুঝতে পারবেনা আমি তোমাকে কেন এগুলো বলছি।আর আমাদের বিয়েটা তো বাকিসবার মত স্বাভাবিকভাবে হয়নি।তাই এমন বিয়েতে মেয়েদের বাবার বাড়িতে বন্ধুবান্ধবদের কাছে নানানরকম কথা শুনতে হয়। তুমি কিছুটা শুনেওছো।আর যাতে এমন কিছু না শুনতে হয় তার জন্য এই ব্যবস্থা। তুমি যেমন চাইবেনা তোমার স্বামীকে কেউ ছোট করে কথা বলুক তেমন আমিও চাইনা আমার বউটাকে কেউ অপমান করুক।’

এতকিছুর পর এই মানুষটার ভালোবাসা যে কখনো বিষ হতে পারেনা শ্রুতি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।এর মাঝে হঠাৎ শ্রুতি খুব অসুস্থ হয়ে পরে।প্রচুর পরিমাণে ব্লিডিং শুরু হয় ওর।সেটা দেখে শ্রুতি চিৎকার করে কান্না শুরু করে।পুলক ওকে দ্রুত হসপিটালাইজড করে জানতে পারে শ্রুতি কনসিভ করেছিল কিন্তু বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেছে।পরে জানতে পারল শ্রুতির জড়ায়ুতে সমস্যা হয়েছে।মাসখানেকের মত ওদের ফিজিকালি এটাচ্ড হওয়া যাবেনা। বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যাওয়াতে শ্রুতি খুব উদাস হয়ে পরে।ওর খালি বারবার মনে হচ্ছে ওর বাবা-মায়ের দেওয়া অভিশাপ গায়ে লেগেছে হয়তো।মেন্টালি সিক হয়ে পরছে দিন দিন শ্রুতি।এদিকে পুলকটাও আজকাল খুব কম সময় দিচ্ছে শ্রুতিকে। যতটুকু সময় ওর পাশে থাকে ততটুকু সময় খুব কেয়ার করে ওকে।কিন্তু আজকাল আগের মত আর পুলক বাইরে থাকলে তেমন কথা বলেনা ফোনে। আবার বাড়িতেও ফিরে রাত বারোটা একটার সময়।মাঝে মাঝে রাতে খাওয়া দাওয়া না করেই এসে ঘুমিয়ে পরে। আবার খুব সকালে উঠে বেরিয়ে যায়। পুলকের এমন পরিবর্তনটা শ্রুতি ঠিক মেনে নিতে পারছিলোনা।দেখতে দেখতে প্রায় এভাবেই দুটো মাস কেটে যায়। শ্রুতির চেহারাও দিন দিন ভেঙে পরছিল। পুলকটাও আজকাল শ্রুতিকে সেই আগের মত হূরপরীও বলে ডাকেনা।ও সুস্থ হওয়ার পর পুলক নিজে থেকে কখনোই শ্রুতির সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করেনা।যার জন্য শ্রুতিও কখনো ওর কাছে যেচে পরে যায়না।কিন্তু মনের মধ্যে তোলপার হয়ে যায় ওর।একদিন সকালে খেতে বসে পুলক শ্রুতিকে বলে,
-‘ তুমি বাসায় একা থাকতে পারবে তো? ‘
-‘ একা থাকতে হবে কেন?তুমি কী কোথাও যাবে? ‘
-‘ হুম।অফিসের কাজে দুদিনের জন্য একটু ঢাকার বাইরে যেতে হবে।’
-‘ ও কোথায় যাবে?’
-‘ টাঙ্গাইল।তোমার যদি অসুবিধা হয় তো মেঘলাকে এসে থাকতে বলি তোমার সঙ্গে দুদিনের জন্য।’
-‘ খারাপ লাগলে আমি নিজেই বলব।তুমি কী আজই যাবে?’
-‘ হ্যাঁ।অফিস করেই চলে যাব।বাসায় আর আসব না।’
-‘ আচ্ছা সাবধানে যেও।পৌঁছে ফোন দিও একটু।’

শেষের কথাটা শুনে পুলক শ্রুতির দিকে তাকাল।ওর হাতের ওপর হাতটা রেখে একটা মুচকি হাসি দিল।আজকাল খুব কম সময় দিচ্ছে শ্রুতিকে সে সেটা পুলকের আজ খেয়াল হলো।আজ সারাটা রাত শ্রুতি বেলকোনিতে বসে কেঁদে পার করেছে।তার কাছে যেন আর কিছুই ভালো লাগছেনা।দম বন্ধ লাগছে এই ঘরের পরিবেশটাকে।আগে তো এমন কখনো লাগেনি।পুলকটা এভাবে পাল্টে যাবে সেটাও কখনো ভাবেনি শ্রুতি। পরেরদিন রাত নয়টার সময় ঈষাণ এসে হাজির হলো।বিস্ময় চোখে তাকিয়ে শ্রুতিকে দেখে ঈষাণ প্রশ্ন করল,
-‘ এটা কে? ‘
-‘ কেমন আছিস? ‘
-‘ আমি যে খুব ভালো আছি তা আমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।তোর শরীরের কী অবস্থা এটা?ওয়েট লস করছিস নিশ্চই? তাই বলে এরকম শুকনা কাঠির মত শরীর বানানোর কোনো মানেই হয়না শ্রুতি।চেহানার কী অবস্থা দেখেছিস?পুলক কিছু বলেনা তোকে? ‘
-‘ এই তুই এত কথা একসাথে বলিস কীভাবে রে?আয় বস আগে। ‘
-‘ সিরিয়াসলি তোকে দেখে আমার একটুও ভালো লাগছেনা।কী হয়েছে বল তো? চোখ মুখ একদম শুকিয়ে গেছে।মনে হয় কতকাল খাসনা ঘুমাসনা। ‘
-‘ আরে এমনিতেই।বয়স হচ্ছে তো।
চিরকালই কী একইরকম থাকব? ‘
-‘ একটা থাপ্পর খাবা।তুমি আমাকে বয়স দেখাচ্ছো।আমাকে বল কী হয়েছে?শরীর ঠিক আছে তোর? ‘
-‘ হুম একদম ঠিক আছি।তো এতদিন পর মনে পরলো আমাদের কথা? ‘
-‘ আমাদের কথা না শুধুমাত্র তোর কথা। পুলককে তো আজকাল ফোন করলেও পাওয়া যায়না।তোর কথা আর জিজ্ঞেস করবো কীভাবে?তাই তোকে দেখতে চলে এলাম।আজ নিশ্চই ওর এমন সময় বাইরে থাকার কথা নয়।আজ তো ফ্রাই ডে। ‘
-‘ অফিসের কাজে টাঙ্গাইল গেছে।আজ ফেরার কথা ছিল।কাল ফিরবে।একা মানুষ তাই আর তেমন কিছু রান্না করিনি।বল কী খাবি? ‘
-‘ এই থাম তো আসলেই শুধু খাওয়া খাওয়া।আমি তোর দিকে তাকাতে পারছিনা। ‘
-‘ তোকে তাকাতে হবেনা।তুই বস আমি আসছি। ‘

শ্রুতি উঠে রান্নাঘরে চলে গেল।তখনই শ্রুতির ফোনটা বেজে উঠল।পুলক ফোন করেছে।ঈষাণ ডাকতে গিয়েও শ্রুতিকে ডাকলনা।তার বদলে ফোনটা সাইলেন্ট উল্টে রাখল।এর মধ্যে মিনিমাম চারবার ফোন করেছে পুলক।শ্রুতি এসে ঈষাণের হাতে কফির মগ ধরিয়ে দিয়ে বলল,
-‘ তো বল বিয়ে কবে করছিস? ‘
-‘ চল্লিশ পার হোক তারপর ভেবে দেখব। ‘
-‘ এসব পাগলামী বাদ দিয়ে জলদি একটা বিয়ে টিয়ে কর। ‘

ঈষাণ শ্রুতির কথার উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বসল ওকে।
-‘ তুই ভালো নেই তাইনা? ‘
-‘ কী শুরু করেছিস বল তো আসার পর থেকে। ‘
-‘ তুই কিছু হাইড রাখতে চাইছিস।আচ্ছা বলতে না চাইলে থাক।জোড় করবনা। আমি তাহলে উঠি।পুলকের সাথে তো আর দেখা হলোনা। ‘
-‘ উঠবি মানে?ডিনার করে তারপর যাবি। ‘
-‘ ফরমালিটিস পালন না করলেও চলবে। আসি, নিজের খেয়াল রাখিস। ‘

ঈশাণ যাওয়ার জন্য বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে শ্রুতি বলল,
-‘ তোর সাথে আমি ফরমালিটি করব কেন?আমার সাথে কী তোর ফরমালিটির সম্পর্ক?বসে যা না। ‘

ঈশাণের নিজেরও যেতে ইচ্ছা করছিল না।খুব মায়া লাগছে শ্রুতির মুখটা দেখে ওর।শ্রুতির পাশে গিয়ে বসল ঈশাণ।

-‘ মনে তো হচ্ছেনা ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করিস।আমারও খিদে পেয়েছে চল তো খেয়ে নিই। ‘

এক চিলতে হাসি দিয়ে শ্রুতি ডিনার রেডি করতে চলে গেল।দুজনে একসঙ্গে বসে খাবার শেষ করে আবার গল্প জুড়ে বসল।গল্পে গল্পে শ্রুতি ওর সংসার জীবনে নানারকম গল্পও করল।আজকাল পুলকের পরিবর্তনের বিষয়টাও শ্রুতি ঈশাণকে জানাল।

-‘ পুলককে যতদূর জানি সেই হিসাবে ওর এমন পরিবর্তনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা।ওর কাছের বন্ধু বলতে তো জানি আমরা পাঁচজনই।আর অফিস কলিগদের সাথে তো এত ভালো সম্পর্ক কারো সাথে আছে বলে মনে হয়না।কারণ ও সবসময় কম মিশুক ছিল মানুষের সাথে।আর সবসময় নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময় সচেষ্ট।তাহলে আড্ডাবাজি নিয়ে মেতে থাকার কোনো কোনো কারণ দেখছিনা আমি।তুই ওর সঙ্গে এই বিষয়ে ক্লিয়ার করে কথা বল। ‘
-‘ ইচ্ছে করেনা রে। ‘
-‘ শ্রুতি তোর সমস্যা কী বল তো।তুই একটু বেশিই চাপা।এত চাপা স্বভাব নিয়ে পুরুষ মানুষের মন জুগিয়ে চলা খুবই কষ্টকর।তোকে তো শক্ত থাকা উচিত। তোদের সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই এখনো কানাঘুষা করে।সেখানে পুলকের এমন পরিবর্তন দেখা দিলে তোর বাবা-মাও বলা বাদ রাখবেনা।তারা আরো সুযোগ পাবে এটা নিয়ে। ‘

ওদের কথার মাঝেই শ্রুতির মেসেঞ্জারে মেসেজ আসার শব্দ পেল শ্রুতি।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল পুলক বেশ কয়েকবার ফোন করেছিল।অনেকটা খুশি হয়ে কল করতে গেল কিন্তু হোমস্ক্রিণে রবিনের কনভার্সেশন দেখে আগে সেখানে ঢুকল। কিছুক্ষণ পরই শ্রুতির চোখ থেকে টুপ টুপ করে পানি পরতে থাকল।স্তব্ধ হয়ে বসে আছে শ্রুতি।

-‘ কী হয়েছে শ্রুতি?কাঁদছিস কেন? ‘
‘(নিশ্চুপ)’
-‘ কী হয়েছে বলবি তো? ‘

শ্রুতি নিশ্চুপ হয়ে ফোনের স্ক্রিণের দিকে তাকিয়ে আছে।চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে ওর রবিনের মেসেজগুলো দেখে।

 

অনুরাগ ৪র্থ পর্ব

অনুরাগ
৪র্থ পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

শ্রুতিঃ আমি তখন বললাম আমি আমার ভ্যালেন্টাইন গিফ্ট পেয়ে গেছি আমার কলিজাটা। ও আমায় তখন বলল, ‘ যা এটা কী কোনো গিফ্ট হতে পারে?এটা তো আমার জীবনের একটা মহামূল্যবান উপহার। আচ্ছা তোমার তো আগরা যাওয়ার খুব শখ।এ বছর বসন্তঋতুতে আমরা দীর্ঘসময়ের জন্য ভ্রমণে বের হবো।ধরো দার্জিলিং আর আগরা দুটো জায়গাতেই আমরা ঘুরে আসব।আর বেঁচে থাকলে পরের বছর তোমার পৃথিবীর ভূস্বর্গতে নিয়ে যাব কাশ্মীরে। ‘

তানিয়াঃ ওয়াও সো এক্সেলেন্ট গিফ্ট দোস্ত।

শ্রুতিঃ মোটেও না তানিয়া।কারণ আগে আমাকে ওর এবিলিটির দিকে নজর দিতে হবে।ও চাকরিতে জয়েন করেছে মাত্র দু বছর হলো।আমি এখনি ওকে ফিন্যান্সিয়াল ভাবে এত চাঁপ দিতে চাইনা।আমি তো ওর ওই খুশিটাকে গিফ্ট হিসেবে চেয়েছি।

মেঘলাঃ ওর ওই খুশিটা কী আমাদের বল।

শ্রুতিঃ জানিনা এখনো।বললো পরে জানাবে।

বেলা দুপুরের সময় শ্রুতি লাঞ্চ শেষ করে পুলক কে কয়েকবার ফোন করল।কিন্তু ওপাশ থেকে ফোনটা আর রিসিভ হলোনা।মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল শ্রুতির।পুলক শত ব্যস্ততার মাঝেও শ্রুতির সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না পারলেও টেক্সট করে কথা বলে।তবু শ্রুতির ফোন কখনো ইগনোর করেনা। কিন্ত এখন তো অফিসে লাঞ্চের সময়। এখন তো ওর কোনোভাবেই বিজি থাকার কথা নয়।এতকিছু ভাবনার মাঝে শ্রুতি নিজের মনকে এটা বলে বুঝ দিলো হয়তো ফোনের কাছে নেই কিংবা সত্যি খুব বিজি বলেই ফোনটা রিসিভ করছেনা।ব্যস্ততা শেষ হলেই পুলক ওকে ফোন দিবে।এটা ভেবে বিছানায় শুয়ে অপেক্ষা করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে গেল শ্রুতি।ঘুম ভাঙলো সন্ধ্যার সময়। নিজের ঘুম দেখে শ্রুতি নিজেই অবাক। ও কখনোই এতসময় অবদি ঘুমায়না তাও আবার দিনের বেলাতে।বিছানা ছাড়তেই পুলকের ফোনের কথা মনে পড়ল।দ্রুত ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল পুলকের কোন ফোন কলস আসেনি।একটু অবাক হলো শ্রুতি।সেই সাথে চিন্তাও হতে লাগল। কোনো সমস্যাই পরলো কিনা কে জানে। সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোন করলো পুলককে। এবার ফোনটা কেটে দিয়ে পুলক টেক্সট করলো,
‘ Byasto achi my heart. ‘ মেসেজটা পেয়ে অনেকটা স্বস্তি পেল শ্রুতি।রাতের রান্না চাঁপিয়েছে চুলায় এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল।গ্যাস অফ করে দরজা খুলতেই ঈষাণকে দেখল শ্রুতি।

-‘ আরে বাবা আজ কাল সূর্য কোনদিকে উঠছে এস.পি সাহেব। ‘
-‘ এই তুই আমাকে আমার নাম ধরে ডাকবি।এইসব প্রফেশোনাল নাম ধরে ডাকবিনা একদম। ‘
-‘ ভয় করে তো। ‘
-‘ ভয় তোর পিঠের ওপর দিবো।আগে ঢুকতে দে। ‘
-‘ ও স্যরি স্যরি।ভেতরে আসুন মি.ঈষাণ রাজ। ‘

ঈষাণ ভেতরে এসেই ঠাস করে সোফায় বসে পরল।তারপর বলল, ‘ ফ্যানটা একটু ছেড়ে দে কষ্ট করে। ‘

শ্রুতি ফ্যান ছেড়ে দিয়ে ঈষাণের মুখোমুখি বসল।

-‘ এত পরিমাণ ব্যস্ত যিনি যে টয়লেটে আরাম করেও পাঁচটা মিনিট বসতে পারেনা।আর সেই ব্যক্তিই আজ আমার সামনে বসে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। আমি কী সত্যি দেখছি? ‘

ঈষাণ ধুম করে শ্রুতির পাশে বসে ওর হাতে জোড়ে একটা চিমটি কাটল।

-‘ উহ্ কীরে তুই।এভাবে চিমটি কাটলি কেন?দেখেছিস কী করলি? ‘
-‘ কই দেখি কী করলাম? ‘
-‘ থাক আর দেখতে হবেনা। ‘
-‘ বিশ্বাস করছিলিনা বলেই তো চিমটি কাটলাম। ‘
-‘ বল কী খাবি? ‘
-‘ কী খাওয়াবি? ‘
-‘ যা খেতে চাস।রান্না করছিলাম।কী খেতে চাস বল এক্ষণি রান্না করে দেব। ‘
-‘ রান্না খাবার নয়। ‘
-‘ তাহলে কী কোল্ড ড্রিংকস? ‘
-‘ না রেডিমেড। ‘

শ্রুতি হেসে দিয়ে বলল, ‘ রেডিমেড কী জিনিস আবার? ‘
-‘ আছে।খাওয়াতে পারবি তো? ‘
-‘ বলেই দ্যাখ।সামর্থ্যে কুলালে অবশ্যই খাওয়াবো। ‘
‘ সামর্থ্য না?তাহলে থাক বাদ দে। ওটা তোর আর সামর্থ্যে কুলাবেনা। ‘
-‘ এতটা গরীব ভাবিস না। ‘
-‘ তাই?তাহলে একটা চুমু খাওয়া। ‘

বলেই ঠোঁট টিপে হাসছে ঈষাণ।আর শ্রুতির মুখটা তখন দেখার মত ছিল।বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে ঈষাণের দিকে।তারপর ঈষাণ হো হো করে হেসে ফেলল।সেটা দেখে শ্রুতি ওর গায়ে চাপড় দিয়ে বলল, ‘ তোকে না আমি সাত দিনের রিমান্ডে নিব।শয়তনা একটা।এখনো এত মজা করতে পারিস তুই কীভাবে কে জানে? ‘
-‘ আমি তো এমনই ছিলাম তাইনা? ‘
-‘ বুঝেছি তোর এখন কী প্রয়োজন। ‘

ঈষাণ হাসি থামিয়ে মুখটা মলিন করে জিজ্ঞেস করল, ‘ সত্যি বুঝেছিস? ‘
-‘ হুম।দাঁড়া কালই আন্টিকে ফোন করব। ‘
-‘ আরে এর মধ্যে আবার আন্টি কেন? ‘
-‘ বিয়ে টিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তো কথা বলতে হবে।না হলে তো তুই খুব তাড়াতাড়িই পাগল হয়ে যাবি। ‘
-‘ ঠিকই বলেছিস। তোকে আজকাল দেখলে সত্যি পাগল পাগল লাগে।ভালোই ছিলাম এতদিন তোকে না দেখে। ‘

শ্রুতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ মানে? ‘

ঈষাণ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বলল, ‘ মানে তোর মত একটু কিউট বউ দরকার আমার।পুলক শালা তো ঝোপ বুঝে কোপটা মাড়ল।আমাদের বন্ধুমহলে একরকম সবার ক্রাশ ছিলি যে তুই। ‘
-‘ আচ্ছা তুই বস আমি তোর জন্য কফি করে নিয়ে আসি।টিভিটা চালিয়ে দিচ্ছি টিভি দ্যাখ বসে।রান্না বন্ধ করে এসেছি তো।আমি ততক্ষণে রান্নাটা করে আসি।রাতের খাবার খেয়ে যেতে হবে কিন্তু তোকে। ‘
-‘ হুম।পুলক কখন ফিরবে? ‘
-‘ এক দেড় ঘন্টার মধ্যে চলে আসবে। ‘
-‘ অনেক দেরী তো। ‘
-‘ তো কী হয়েছে?ডিনার না করে তোকে যেতে দিচ্ছিনা।’
-‘ তাহলে চল তোর রান্নাতে হেল্প করি। ‘
-‘ আরে না।তুই বসে টিভি দ্যাখ আমি চট করে রান্নাটা সেড়ে আসছি। ‘
-‘ কথা বলিসনা তো।চল। ‘



-‘ ইলিশ মাছের দোপেয়াজা রাইট? ‘
-‘ হুম।ওর ভীষণ পছন্দের খাবার। ‘
-‘ আমারও খুব পছন্দ এটা। ‘
-‘ পোলাও আর তার সঙ্গে ইলিশের দোপেয়াজা পেলে ঈদের চাঁদ দেখার মত খুশিতে লাফিয়ে উঠে। ‘

রান্না শেষে ডাইনিং এ বসে শ্রুতি আর ঈষাণ গল্প করছে।এর মধ্যে পাঁচবার ফোন করেছে পুলক শ্রুতির ফোনে।কিন্তু শ্রুতি ফোনটা বেডরুমে রেখে চলে এসেছে।

-‘ এই শ্রুতি তোদের বেডরুমটা কিন্তু আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ‘
-‘ আমার আসার আগেই ও আমার থেকে শুনে শুনে নিজেই বেডরুমটা সাজিয়েছে। আর সবথেকে বেশি সুন্দর আমাদের বেলকোনিটা।ওটাও ও নিজেই সাজিয়েছে। ‘
-‘ আমাকেও তো সাজিয়ে রাখতে হবে আমার বউয়ের জন্য।চল তো তোদের বেলকোনিটা দেখে আসি।”
“আয়। ‘

ঈষাণ ওদের বেডরুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। বেডরুমে দেখার মত সব থেকে আকষর্ণীয় জিনিস হলো পুলক আর শ্রুতির ছবিগুলো।সেগুলোই দেখছিল ঈষাণ। তারপর বেলকোনিতে গিয়ে দাঁড়াল ওরা।

-‘ আচ্ছা বেলকোনিটার সৌন্দর্যটা কী আমি এখনো বুঝতে পারলাম না। ‘
-‘ দেখবি সৌন্দর্যটা? ‘
-‘ দেখব বলেই তো এলাম। ‘
-‘ ওয়েট। ‘

বেলকোনির গ্রিলে সাদা পর্দাটা টেনে দিল শ্রুতি।তারপর রুমে গিয়ে রুমের লাইট অফ করে নীল ড্রিম লাইটটা জ্বালিয়ে দিল।অন্য একটা সুইচ অন করতেই সারা বেলকোনি বিভিন্ন রঙের মৃদু আলোতে ভরে গেল।ঈষাণ ওপরে তাকিয়ে দেখল বেলকোনির ছাদ জুড়ে বিভিন্ন রঙের ছোট ছোট কালারফুল প্রজাপতি জ্বলছে।অন্ধকার ঘরে এই প্রজাপতিগুলো খুব সুন্দরভাবে জ্বলে ওঠে। এখন সত্যিই বেলকোনিটাকে স্বপ্নেররাজ্য বলে মনে হচ্ছে ঈষাণের কাছে।সেখানে দাঁড়িয়ে দুজন গল্প করছে। গল্প করতে করতে কখন যে ঘড়ির কাটাতে রাত দশটা বেজে গেল শ্রুতির তা খেয়ালই নেই।পুলক বাসায় ফিরে কলিংবেল চাঁপার আগেই দেখল দরজা ভেজিয়ে রাখা।দরজা লক করে ড্রয়িংরুমে ঢুকে দেখল সোফার ওপর একটা ফোন। যেটা শ্রুতির নয়।সোজা বেডরুমে ঢুকে গেল।বেডরুমের লাইট অফ শুধু ড্রিম লাইট জ্বলছে।আর বেলকোনি থেকে শ্রুতি আর একজন পুরুষের কথা আর হাসির শব্দ আসছে।ব্যাগটা বিছানার ওপে রেখে বেলকোনিতে চলে গেল পুলক। শ্রুতির হাতের তালুতে ঈষাণ আঙুল দিয়ে কী যেন লিখছে আর কথা বলছে। আর শ্রুতি সেটা দেখে হাসছে।পুলক বেলকোনিতে এসে দাঁড়িয়েছে সেটা ওদের কারোরই খেয়াল হলোনা।ঈষাণ শ্রুতির হাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছে তার মধ্যেই পুলক এক ঝটকায় শ্রুতিকে টেনে নিয়েলো নিজের কাছে।

 

অনুরাগ ৩য় পর্ব

অনুরাগ
৩য় পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

সিঁড়ি ভেঙে ওঠার সময় শ্রুতি বার বার কথা বলার চেষ্টা করছে পুলকের সঙ্গে। মুখটা বেঁধে রাখার জন্য মুখের শব্দটা কেমন যেন গোঙানির শব্দের মত শোনাচ্ছে।
পুলক ধমক দিয়ে বলল,
-‘ এই চুপ এত কথা কিসের? একদম নিচে ফেলে দিব কিন্তু।এমনিতেই জানটা বেরিয়ে আসার উপক্রম।দিন দিন খেয়ে আটার বস্তা হচ্ছে।বাপরে বাপ মিনিমাম পঞ্চান্ন কেজি তো হবেই।শরীরের অনেক মেদ জমে গেছে না?এর জন্য স্বামীকে স্বামী বলে গ্রাহ্য করতে ইচ্ছে করেনা।আজকেই মেদ একদম কমিয়ে দিব। ‘

পুলকের কথাগুলো শুনে শ্রুতি একদম চুপ করে গেল।বুকটা ফেঁটে কান্না আসছে ওর। পুলক এত বাজে ব্যবহার ওর সঙ্গে করতে পারছে?ও না হয় একটু রাগ দেখিয়ে তুই তুকারি একটু গালাগাল দিয়েছে।তাই বলে পুলক ওর সঙ্গে এত নোংরা ব্যবহার করবে।এমন ব্যবহার সহ্য করার থেকেই ওর মরে যাওয়াই ভালো।ছাদে উঠে চিলেকোঁঠার ঘরে চলে এল পুলক।তারপর শ্রুতি কে কাঁধ থেকে নামিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল।দুজনেই প্রচন্ড ঘেমে গেছে। চিলেকোঁঠার জানালাটা খুলে দিল আগে। চাঁদের আলোর জন্য ঘরের অর্ধেকটাই আলোকিত লাগছে। তারপর ফ্যানটা ছেড়ে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে ছাদের মাঝে গিয়ে দাঁড়াল।চাঁদনিরাত তাই বিছানাতে বসেই শ্রুতি পুলককে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে।বাহিরে কিছুটা ঝিরিঝিরি বাতাসও বইছে।কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে পুলক ঘরে ঢুকল।শ্রুতি বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে পুলকের দিকে।দরজাটা বন্ধ করে পুলক শ্রুতির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলল, ‘ তো তুমি রেডি? ‘

শ্রুতি মুখের ভঙ্গিতে বোঝাচ্ছে, ‘ কিসের জন্য রেডি হবো? ‘

পুলক বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করল, ‘ কী বলো?বুঝিনা তো। ‘

চোখ লাল করে তাকিয়ে আছে শ্রুতি পুলকের দিকে।অবশ্য সেটা পুলক ঠিক বুঝতে পারছেনা।

-‘ ওউ স্যরি।ওয়েট। ‘

তারপর মুখের বাঁধনটা খুলে দিয়ে পুলক বলল, ‘ এবার বলো। ‘

শ্রুতি মুখের বাঁধন খোলার সাথে সাথে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকল।সেটা দেখে পুলক বলল, ‘ সিড়ি ভেঙে কাঁধে করে নিয়েলাম আমি। আর হাঁপাচ্ছো তুমি?সে যাই হোক তুমি রেডি তো? ‘

ঝাঁঝালো কন্ঠে জিজ্ঞেস করল শ্রুতি, ‘কিসের জন্য?মরার জন্য? ‘
-‘ না। ‘
-‘ এই তুমি কী করতে চাইছো বলো তো?”
-‘ রেপ করব। ‘
-‘ কীহ্? ‘
-‘ হুম।হাত পা বেঁধে জোড় করে ধর্ষণ করে দেখোনি টিভিতে?আমিও তাই করব। তারপর উঁচু করে ছাদ থেকে ফেলে দিব। ‘

কথাগুলো শেষ করে পুলক পাঞ্জাবীটা খুলে ফেলল।সেটা দেখে শ্রুতি চিল্লিয়ে বলল, ‘ দেখো তুমি কিন্তু বেশি বেশি করছো। আমার হাত পা খুলে দাও বলছি। ‘

কে শোনে কার কথা।পাঞ্জাবীটা খুলেই শ্রুতিকে একরকম ধাক্কা দিয়েই বিছানায় শুইয়ে দিল।শ্রুতির হাত দুটো সামনের দিক করেই বেঁধে রেখেছিল পুলক।বাঁধা হাতের ফাঁকা দিয়ে শ্রুতির উপর উঠে এল।তখন শ্রুতির বাঁধা হাতদুটো পুলকের ঘাড়ের ওপর পড়ল।মনে হচ্ছে পুলকের ঘাড় দুহাত দিয়ে জড়িয়ে রেখেছে।পুলক জিজ্ঞেস করল, ‘ গরম লাগছে খুব? ‘

ইনোসেন্ট মুখ করে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁবোধক উত্তর দিল শ্রুতি।

-‘ বলবে তো সেটা। ‘

পুলক শ্রুতির হাতের ফাঁক বেরিয়ে এসে শাড়ির আঁচলটা টেনে খুলে ফেলল ওর গা থেকে।তারপর ওকে বলল, -‘ দু’মিনিট সময় দিচ্ছি শাড়িটা খোলার জন্য।কোথায় কী ব্রুজ না সেফটিপিন লাগিয়েছো।সেগুলো তাড়াতাড়ি খুলো। আমি খুললে কিন্তু টেনে টুনে ছিড়ে ফেলব। ‘

শ্রুতি রাগ দেখিয়ে আর উঠলোনা।
ওভাবেই শুয়ে থাকল।পুলক ওকে টেনে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে শাড়ি খুলতে শুরু করল।শ্রুতি একদম তাজ্জব বনে গেল পুলকের কান্ড দেখে।এত ভদ্র ছেলেটা এই এক রাতের ভিতর এত অসভ্য হয়ে গেল কী করে?

-‘ তুমি কী পাগল হয়ে গেলে?ছিড়ে যাবে তো শাড়ি। ‘
-‘ ছিড়ুক। ‘
-‘ রেপিস্টদের মত করছো কেন? ‘
-‘ আমি এই মুহূর্তে একজন প্রফেশোনাল রেপিস্ট।শুনেছো তুমি?’

শাড়িটা খুলে নিচে ফেলে দিল।তারপর শ্রুতির কোমড় টেনে ধরে একদম কাছে নিয়ে এল।শ্রুতি কিছু বলতে গেলে পুলক ও ঠোঁটের ওপর আঙুল রেখে বলল,
-‘ অনেকক্ষণ ধৈর্য রেখেছি।আর পারছিনা রাখতে। ‘
-‘ কিসের ধৈর্য্য? ‘

কথার জবাব না দিয়ে শ্রুতির লাল ঠোঁটজোড়া একদম টেনে নিল ওর ঠোঁটজোড়ার মাঝে।কতসময় ধরে যে শ্রুতির ঠোঁটজোড়া চেঁপে রেখেছিল তা ঠিক খেয়াল নেই পুলকের।ঠোঁটজোড়াকে নিজের ঠোঁটের মাঝ থেকে মুক্তি দেওয়ার পর শ্রুতিকে বলল, ‘ এটার জন্য।সেই এক ঘন্টা আগে থেকে নিজেকে কন্ট্রোল রেখেছি। ‘

শ্রুতি দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল, ‘ তাই? ‘
-‘ হুম। ‘
-‘ হয়ে গেছে? ‘
-‘ না এখনো বাকি। ‘
-‘ তাহলে শুরু করো। ‘
-‘ আল্লাহ্! এই মেয়ে কী যেচে পড়ে… ‘
-‘ খাল্লাস হতে এসেছি। ‘

পুলকের গলা জড়িয়ে ধরে বলল শ্রুতি। পুলক ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি রেখে বলল, ‘ আজ তো তুই সত্যিই শ্যাষ। ‘




তানিয়াঃ হা হা হা…কী দুর্দান্ত একটা ঘটনা।উহ্ আমি হাসতে হাসতেই একদম শ্যাষ।

মেঘলাঃ ইশ আমাদের এই ইনোসেন্ট পুলকটা এত্ত রোমান্টিক সেটাই তো বিশ্বাস হচ্ছেনা।তোদের বিয়ের পর ভেবেছিলাম যে গাঁধাটাকে রোমান্স শেখাতে গিয়ে তুই বুড়িই হয়ে যাবি।

তানিয়াঃ আর এটাও মজা করে বলেছিলাম যে শেষমেশ দেখা গেল পুলকটাই না প্রেগনেন্ট হয়ে যায়।

শ্রুতিঃ এই শয়তানের ডিম চুপ কর।আমি গতকাল রাতে ওর ব্যবহারে কতটা অবাক হয়েছিলাম জানিস?আর ভয়টাও পেয়েছিলাম খুব।

মেঘলাঃ তো ভ্যালেন্টাইন আর বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কী গিফ্ট পেলি?

শ্রুতিঃ বিবাহবার্ষিকীর গিফ্টটা সিক্রেট আপাতত।ওটা কিছুদিন পর জানাবো তোদের।আর ভ্যালেন্টাইনের গিফ্টটার কথা আমি সারাজীবনেও ভুলব না।

তানিয়াঃ এই কী গিফ্ট রে? বল না।

মেঘলাঃ হুম,তুমি তো শুধু পারো কম্পেয়ার করতে।তোমার রবিনের থেকে বড় বা দামী কোনো গিফ্ট দিলো কিনা।

তানিয়াঃ মেঘলা তুই কিন্তু….

শ্রুতিঃ জানিনা এই গিফ্টটা বড় বা দামী কোনো গিফ্টের সঙ্গে কম্পেয়ার করা যাবে কিনা।ইভেন আমি কম্পেয়ার করতেও চাইনা।ছোটবেলা থেকে যে ছেলেটা বাবা-মা আপনমানুষ গুলো ছাড়া একা একাই বড় হয়েছে জীবন যুদ্ধে একাই সংগ্রাম করে এতদূর এসেছে।সেই মানুষটার জীবনে আমি একটু সুখের আভাস দিতে চেয়েছি সবসময়।বিয়ের পর ভেবেছিলাম আমার বাবা-মা’র আদর,স্নেহ আর ভালোবাসা পেয়ে নিজের বাবা-মায়ের ভালোবাসার ঘাটতি পূরণ হবে।কিন্তু বিধাতা সেই কপাল বোধহয় ওর রাখেনি। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে ওর একটুও আক্ষেপ নেই যে ও ওর শ্বশ্বুড়বাড়ি আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত।আমি কখনো মন খারাপ করে থাকলে ও কেমন যেন ভয় পেয়ে যেত।ভাবত আমি যদি আমার বাবা-মা কে ছেড়ে না থাকতে পারলে ওকে ছেড়ে যদি চলে যাই?তার জন্য কখনো ইমোশোনাল হয়েও আমাকে বলেনি, ‘ শ্রুতি প্লিজ আমাকে ছেড়ে কখনো চলে যেয়োনা। ‘ তার পরিবর্তে সবসময় আমার সামনে শক্ত মনের মানুষ হয়ে চলাফেরা করত।আর আমার মাথায় হাত রেখে বলত, ‘ এই বাচ্চাটা খুব মন খারাপ করছে বাবা-মায়ের জন্য?তাহলে যাও বাবা-মায়ের কাছ থেকে ঘুরে এসো।যেদিন ইচ্ছা হয় সেদিন আমার কাছে এসো।আমি এগুলো নিয়ে কখনোই অভিযোগ করবোনা।’

তানিয়াঃ তুই যে তোর বাবা-মায়ের কাছে কখনো ফিরে গেলে তারা যে তোকে কোনোদিনও ওর কাছে ফিরে আসতে দিতোনা সেটা কী ও বুঝতোনা?

শ্রুতিঃ বুঝতো।আর বুঝেও এই কথাগুলো বলতো শুধু আমার ভালো থাকার জন্য। নিজের ভালো থাকার জন্য ও কখনো অন্য কারোর ভালো থাকা বা সুখকে কেড়ে নিতে পারেনা।কথাগুলো হাসিমুখে বললেও ওর চোখে যে কী পরিমাণ ভয় থাকত আমাকে হারিয়ে ফেলার সেটা কেবল আমিই দেখেছি।জানিস আমাদের মাঝে এত ভালোবাসা থাকার পরেও আমি ওকে মাঝে মাঝেই রাতে বেলকোনিতে বসে কাঁদতে দেখেছি।আর তারপর আমার কাছে এসে ঘুমের মধ্যে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলত,
‘ এই হৃদপিন্ডটা কে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নিওনা মাবূদ।আমি আর সইতে পারবোনা।
একজনকে আমার থেকে চিরতরের জন্য কেড়ে নিয়েছো।আমি চুপচাপ সয়ে গেছি।কিন্তু ও আমার থেকে দূরে চলে গেলে আমি অন্ধকারে তলিয়ে যাব। ‘
এই কথাগুলো শোনার পর আমার বুকের বা পাশটাতে কী পরিমাণ ধাক্কা লাগে তা তোদের বোঝাতে পারবোনা।

তানিয়াঃ তার মানে তুই ওর জীবনে আসার আগে ও আরো একজনকে ভালোবাসতো?

শ্রুতিঃ হ্যাঁ।

মেঘলাঃ কিন্তু এমন কারো কথা তো আমরা কখনো শুনিনি।আর ভার্সিটিতে ওকে অনেক মেয়েই পছন্দ করতো।কিন্তু সম্পর্কের ব্যাপারটাতে এগিয়েছিল শুধুমাত্র তোর সঙ্গেই।আর তার একটামাত্র কারণ ছিল শুধু তোর গান।

তানিয়াঃ তুই এরপর জানতে চাসনি যে সে কে ছিল?

শ্রুতিঃ না।কেন জানতে চাইব?ও আমাকে যখন নিজে থেকে কিছু বলতে চাইছেনা তখন আমি কেন ওকে অযথা ফোর্স করব।ও তো কখনোই কোনোকিছুতে আমাকে ফোর্স করেনা।আর সব থেকে বড় কথা যদি এমন কেউ থেকেও থাকে ওর জীবনে সেটা ওর অতীত।আর আমি ওর বর্তমান।এমন তো না ও আমাকে ঠঁকিয়ে যাচ্ছে।আর যে ছিল সে ওর জীবন থেকে চিরতরের জন্য চলে গেছে।

মেঘলাঃ হুম বুঝলাম।জানিস তো শ্রুতি, মাঝে মাঝে তোদের দুজনের এত বোঝাপড়া এত বিশ্বাস,ভরসা আর ভালোবাসা দেখলে বড্ড হিংসে হয় আমার।তোরা দুজন দুজনের কাছে কতোটা পরিষ্কার।খুব সুখে থাকরে তোরা।

তানিয়াঃ কিন্তু তোর গিফ্টটা কী ছিল? সেটা তো বললিনা।

শ্রুতিঃ অনেকদিন পর ওর পুরোনো খুশিটা।
তানিয়াঃ মানে?

শ্রুতিঃ কাল রাতে ও আমাকে বলল, ‘ অনেকদিন পর আমার জীবনের একটা পুরোরো খুশি ফিরে পেতে চলেছি। ‘

 

অনুরাগ ২য় পর্ব

অনুরাগ
২য় পর্ব
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

 

” বলনা কি এমন হয়?
যদি আর একটু চায় হৃদয়।
বলনা কি এমন হয়?
যদি হই আমি স্বপ্নময়।
নাহয় পেলাম সে স্বপ্নকে তোর দু-চোখের নীল তারায়।
নাহয় পেলাম সে সুখ ছোঁয়া হিম বাতাসের আশকারায়। বলনা কি করি হায়?
যদি স্বপ্নরাই তোকে চায়।
বলনা কি করা যায়?
যদি আনমনেই মন হারায়। ”

ঘুমটা জেঁকে বসার আগেই মোহকর কন্ঠসুর শুনে শ্রুতি ঘুম ছেড়ে লাফিয়ে উঠে বসল।গানের কন্ঠটা আসছে বেলকোনি থেকে।গানটা খুব মনযোগ দিয়ে শুনতে শুনতে শ্রুতি খাটের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে চোখ বন্ধ করে নিল।ও জানে এই মোহকর সুর শুধুমাত্র একজনেরই। এই সুরকে ভালোবেসেই তো পুলককে কাছে টেনে নিয়েছিল সে।

” ঘুম জাগা চিলেকোঠায়,
মন ভেজা অমানিশায়,
মান করে,কখনও ভান করে তোকে আপন করে হারাতে চায়।
স্বপ্নরা উড়ে পালায়,
আনকোরা খেয়ালে হায়,
দূর থেকে,হৃদয় পুর থেকে অচেনা সুর থেকে কি করে পাই?
মন চাইছে ভীষণ,হারাতে………
তোর মন নজরে আড়াতে,
নাহয় থাক পড়ে খেয়ালে,
অভিমান গুলো গোপনে।
নাহয় পুরনো আশারা আজ ছোট্ট এই জীবনে।
বলনা কি হবে তাই?
যদি আর একটু কাছে পাই।
বলনা কি হবে তাই?
যদি দূর থেকেই হাত বাড়াই। ”

পুলকের সুরে সুর মিলিয়ে নিজেও দু লাইন গেয়ে উঠল শ্রুতি।
” হুম… স্বপ্নরা কেন আজ ঘড় ছাড়া? হুম… তুই হীনা কেন দিন আনমনা? ”

শ্রুতি সুর ছেড়ে দিতে তাল হারানোর আগেই পুলক আবার গেয়ে উঠল,
” নাহয় কাটালি এক জীবন,
কিছু ছন্নছাড়া ঢঙে,
নাহয় রাঙ্গালি স্বপ্ন তোর,
ওই রংধনুর সাত রঙে।
বলনা কি আসে যায়?
যদি আর একটু পাশে পাই।
বলনা কি ক্ষতি হয়?
যদি একটু বুঝিস আমায়। ”

দুজনের মোহকর কন্ঠ একত্র হয়ে মনের মাঝে যত মেঘের ঘনঘটা সৃষ্টি হয়েছিল শ্রুতি’র, সবটা নিমিষের মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে গেল। এই মানুষটার গানের কন্ঠস্বর আর সুরগুলো এত পাগল করা কেন?যত বড় অন্যায় করুকনা সে।এমনভাবে যদি শ্রুতি’র সামনে কিছুসময় পার করে দেয় গান গেয়ে তাহলে শ্রুতি পুরো পৃথিবীকে ভুলে গিয়ে পুলকের বুকে ঝাঁপিয়ে পরবে। আর পুলকটাও সেটা খুব ভালোভাবেই বুঝে গেছে।এই কন্ঠে সারাজীবন গান শুনেও পার করে দিতে পারবে সারাটা সময়। এর জন্যই তো এই ছন্নছাড়া মানুষটিকে নিজের জীবনের সঙ্গে বেঁধে নিয়েছে শ্রুতি সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে।আর কী থাকা যায় মুখ ঘুরিয়ে?বেলকোনির গ্রিলের সঙ্গে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে চোখদুটো বন্ধ করে গানটা গাইছিল পুলক।শ্রুতি যে ওর সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে সেটা পুলক বুঝেও চোখদুটো খুলছেনা।শ্রুতি নিজেই কথা বলল।

-‘ তখন রুম থেকে বেরিয়ে গেলে কেন? ‘
(পুলক নিশ্চুপ)

পুলক কোনো কথা বলছেনা দেখে শ্রুতি’র খুব অভিমান হলো।এভাবে পালাক্রমে দুজন রেগে থাকলে ভালোবাসাটা কখন হবে?এটা ভেবেই অথৈ আবার রেগে গেল। আর কিছু না বলে পুলকের গলা চেঁপে ধরতে গেলে পুলক চোখ খুলে শ্রুতি’র হাতদুটো ধরে নিজের কাঁধের দুপাশে রাখল।তারপর ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে একদম কাছে টেনে নিয়েলো ওকে।দাঁত কিটকিট করে শ্রুতি বলল, ‘ ভাবটা তো কম শিখোনি।এতসময় কথা বলছিলেনা কেন? ‘
-‘ ভাব নিচ্ছিলাম।সবসময় তো তুমিও একশোতে একশো ভাব নিয়ে চলো।তাই আজ আমিও একটু দেখালাম “ভাব”। ‘
-‘ বদমাইশ পোলা।ভাব নেওয়ার রাইট অনলি আমার।তুই কেন নিবি?তাও আবার আমার কাছে নিবি?পাঁজি,বজ্জাত, শয়তান,খারাপ ছাড় আমাকে।আমার এখানে আসাই ভুল হয়ে গেছে।আমার কাছে ভাব নিতে আসে।কত বড় সাহস? ‘

পুলক আরো শক্ত করে চেঁপে ধরে বলল, ‘ এই ছুকড়ি তুই সবসময় আমাকে তুই তুকারি করে গালাগাল দিস কেন রে,হুম? আমি তোর বয়সে কত বড় জানিস? ‘
-‘ মাত্র আড়াই বছর। ‘
-‘ আড়াই বছর কম মনে হল তোর কাছে না?আ…ড়াই বছর আগে আমি দুনিয়াতে এসেছি।তখন তুই কই ছিলি তার কোনো খবরই নেই।আড়াই বছরের ছোট হয়ে তুই আমাকে গালাগাল দিস আবার তুই তুকারি করিস।আজ তোকে আমি শিক্ষা দিয়েই ছাড়ব। ‘
-‘ ওই ব্যাটা কী করবি তুই আমাকে?তার আগে আমি তোকে দুটো ঘুষি মেরে তোর নাক ভোঁতা করে দিব। ‘

বলা শেষ হতেই পুলকের নাকে শ্রুতি ঘুষি লাগাতে গেল।পুলক তখন ওর হাতটা ধরে বলল, ‘ স্বামীর নাক ফাটাতে আসছিস তুই?আজ তো তুই পুরো খাল্লাস। ‘

শ্রুতি কে কাঁধে তুলে রুমে নিয়ে চলে এল পুলক।তারপর ঠাস করে বিছানায় ফেলে দিল।

শ্রুতিঃ উহ্ঃ অসভ্য বেয়াদব ছেলে।তুই আমাকে এভাবে ফেলে দিলি কেন?
পুলকঃ আবার?আবার গালাগালি দিয়ে কথা বলছিস?তোকে তো আমি….

কথা শেষ না করে আলমারি থেকে তিনটা ওড়না বের করে নিয়ে শ্রুতি’র হাত পা বাঁধতে শুরু করে দিল।শ্রুতি চিৎকার করে বলল, ‘ এই তুমি কী করছো এগুলো? ‘

কথার জবাব দিল না পুলক।ওকে চেঁপে ধরে হাত পা বেঁধে চলেছে।শ্রুতি ভয় পেয়ে গেল।পুলক প্রচন্ড রেগে গেছে হয়তো।এতটা বেশি করা উচিত হয়নি ওর।নিজের দোষে এখন ওকে উত্তম মধ্যম না খেতে হয়।শ্রুতি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘ এই শোনোনা তুমি আমার হাত পা বাঁধছো কেন?হাত পা বেঁধে মারবে নাকি তুমি? কথা বলোনা কেন?সো স্যরি আমার কলিজাটা।আর কখনো এমন ছোটলোকদের মত ব্যবহার করবোনা। ‘
-‘ কলিজাটা?কলিজাতে বার বার লাথি মারার সময় মনে ছিলনা? ‘
-‘ আচ্ছা ভুল হয়ে গেছে তো।হাত পা বাঁধছো কেন?আমি কিন্তু চিৎকার করে ওদের ডাকব। ‘
-‘ মাইক এনে দিই?না হলে তো কানে যাবেনা ওদের।এমন সময় চিৎকার করলে ওরা কেন তোর আব্বাজানও দরজার কাছে আসবেনা। ‘
-‘ আচ্ছা তুমি আমাকে মারতে চাইলে মারো।তাই বলে হাত পা বেঁধে কেন? ‘
(পুলক নিশ্চুপ)
-‘ আরে আমার ভাই হাত পা বাঁধছিস কেন রে? ‘
-‘ ছাদ থেকে ফেলে দিব হাত পা বেঁধে। বুঝেছিস?যে বউ স্বামীকে তুই তুকারি করে গালাগাল দেয় সেই বউকে আজ চরম শিক্ষা দিব।তারপর সকাল হলে সবাই যখন তোকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করবে এমনটা কী করে হল?তখন বলব আমার বউ আস্ত একটা গালিবাজ ছিল। তার জন্য ওকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে শাস্তি দিয়েছি। ‘

কথাটা বলেই শ্রুতি’র মুখটা বেঁধে দিয়ে ওকে আবার কাঁধে তুলে নিয়ে ছাদের দিকে রওনা হল।শ্রুতি ভয়ে ঘেমে একদম চুপসে গেছে।পুলক রেগে গেলে যে কতটা সাংঘাতিক হয় তা তো একবার দেখেছিল যখন ওদের মাঝে প্রেম ছিল।রেগে গেলে ছেলেটা একদম হিতাহিত জ্ঞানবোধ হারিয়ে ফেলে।

 

অনুরাগ (১ম অংশ)

অনুরাগ (১ম অংশ)
লেখিকাঃ #Israt_Jahan

ঘড়িতে রাত ১১ টা বেজে ১৫ মিনিট। বিছানার মাঝ বরাবর বধু বেশে বসে আছে শ্রুতি।কখন যে পুলক বাসায় ফিরবে আর কখন যে শ্রুতি কে দ্বিতীয়বারের মত বধু সাজে দেখে চমকে উঠবে সেই অপেক্ষাতে বসে প্রহর গুণছে মেয়েটা।আজ তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী।বিয়ের আগে থেকেই শ্রুতি ভেবে রেখেছিল প্রতি বছর ঠিক এই দিনে নতুন বউ সেজে বাসরঘর সাজিয়ে পুলককে সে চমকে দেবে।আর পুলক মুগ্ধ নয়নে তার প্রেয়সীর মুখটা দেখবে।আর তারপর ঠিক প্রথম বাসররাতে পুলক ওকে যেভাবে কাছে টেনে নিয়ে খুব খুব ভালোবেসেছিল আজও ঠিক সেইভাবেই ওর কাছে আসবে।উফ! ভাবতেই শ্রুতি লজ্জায় কেঁপে উঠছে।বিছানা থেকে নেমে দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো দেখছে।সেন্টমার্টিনে তোলা ছবিগুলো, যখন ওরা বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমাতে গিয়েছিল তখনকার ছবি। আরো কিছু ছবি রয়েছে যেগুলো ওদের ভার্সিটি পড়াকালীন দুজন চুটিয়ে প্রেম করত সেই সময়কার ছবি।একটা ছবিতে শ্রুতি ক্যাম্পাসের মাঠে বসে মনযোগ দিয়ে একটা বই পড়ছে আর পুলক পলকহীন ভাবে ওকে দেখছে।পাশ থেকে নিশাদ ফোন থেকে টুপ করে ছবিটা ক্লিক করে ফেলে।আজকে নতুন করে শ্রুতি ওদের সাজানো রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। সারা রুমে নীল দ্যুতি ছড়িয়ে একটা অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করেছে।শ্রুতির খুব আনন্দ হচ্ছে।মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষটা ওই।সাদা চাদরের ওপর লাল গোলাপের পাপড়িগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।ইচ্ছা করছে এখনই পুলকটাকে কান ধরে টেনে নিয়ে আসতে। আজ এত সময় নিচ্ছে কেন বাসায় ফিরতে কে জানে?তারউপর আজ চাঁদনিরাত।এমন রাতে আর কতক্ষণ একা বসে থাকা যায়?ছেলেটা যে কী পরিমাণ জ্বালায় আজ কাল!রুমে এলে প্রথমে জোড়ে দুটো ঘুষি দিবে পুলকের পেটে।
তারপর জড়িয়ে ধরে ওর কানে কানে বলবে,
-‘ শুভ বিবাহবার্ষিকী পুলক সাহেব।শুভ হোক তোমার আর তোমার বউ এর বিবাহিত জীবন। ‘
এসব ভাবনার মাঝে দরজায় নক পড়ল। হঠাৎ দরজার নক শুনে শ্রুতি চমকে উঠল।হার্টবিট ওঠানামা করতে শুরু করেছে ওর।ধুকধুকানি শব্দটা নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছে মনে হচ্ছে।এত লজ্জা লাগছে কেন?সেই প্রথমবারের মত অনুভূতিটা।মৃদু ঘাম সৃষ্টি হয়েছে শ্রুতি’র নাকে আর কপালে।ধুত্! অনেক নাটক হয়েছে।গিয়ে তো দরজাটা খুলতে হবে। নতুন বউ সেজেছে বলে তো সে আর নতুন বউ নয়।তবু সে লজ্জাটাকে আড়াল করতেই পারছেনা।দ্রুত পায়ে হেঁটে ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি রেখে দরজাটা খুলল শ্রুতি।

ঈষাণঃ শুভ বিবাহবার্ষিকী ম্যাম।

হাসিমাখা মুখে ঈষাণ ফুলের তোড়াটা এগিয়ে দিল শ্রুতি’র দিকে।তোড়াটা হাত থেকে নিয়ে শ্রুতি বলল,
-‘ বাব্বাহ্ তাহলে আপনি শেষ পর্যন্ত এসেছেন এস.পি সাহেব? ‘
-‘ নাহ্ আসিনি তো।আমার ভূত এসেছে। ‘
-‘ আচ্ছা ড্রয়িংরুমে গিয়ে বস আমি আসছি।তানিয়া,নিশাদ,রবিন,মেঘলা ওরা সবাই সোফাতেই ঘুমিয়েছে নাকি? ‘
-‘ না আড্ডা চলছে এখনো।আমি তো ভাবলাম পুলক বোধহয় রুমেই আছে। আর এতক্ষণে আপনাদের….। ‘
-‘ এই যাহ্ কিসব বলিস!যা আমি আসছি। ‘

ঈষাণ চলে যেতে গিয়েও থেমে গেল।
তারপর বলল,
-‘ একবার রুমে ঢুকতেও দিলিনা? ‘
-‘ ওহ্ স্যরি ভাই।আয় আয় ভেতরে আয়। ‘
-‘ মাই গড!এত চমৎকার করে সাজিয়েছিস রুমটা।ইচ্ছে তো করছে বাসরটা আমিই সেড়ে যাই। ‘
-‘ এই কী যে বলিস না তুই।তোর মুখে কিছুই আটকায়না।বদের হাড্ডি আছিস এখনো। ‘

ঘোর লাগানো চোখে তাকিয়ে আছে ঈষাণ শ্রুতি’র পানে।ধীর পায়ে হেঁটে এসে শ্রুতি’র সামনে দাঁড়াল।তারপর বলল,
-‘ খুব সুখে আছিস তাইনা? ‘
-‘ হ্যাঁ রে খুব।জানিসই তো পাগলটা কী পরিমাণ ভালোবাসে আমায়। ‘
-‘ বাই দ্যা ওয়ে।দানুণ লাগছে তোকে। ‘
-‘ থ্যাংক ইউ মহাশয়। ‘
-‘ আয়…ড্রয়িংরুমে আছি। ‘
————————
মেঘলাঃ কী ব্যাপার বল তো?রাত বারোটা বাজতে চলল প্রায়।আমরা কত প্ল্যান করেছিলাম পুলক কে সারপ্রাইজ দেওয়ার।ব্যাটার এখনো আসার নাম গন্ধ নেই?
শ্রুতিঃ বুঝতে পারছিনা।এমন তো কখনো করেনা ও।

পুলকের নাম্বার ডায়াল করছে শ্রুতি আর কথাগুলো বলছে।

ঈষাণঃ পেলি?
শ্রুতিঃ না।রিসিভ করছেনা তো ফোন।

নিশাদ গর্জনরত কন্ঠে শ্রুতিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-‘ ধ্যাত্তেরিকা।মেয়ে মানুষগুলো এমন ন্যাকা স্টাইলের কেন?টেনশানের ঝুড়ি খুলে বসেছিস একদম।প্রাইভেট কোম্পানির জব। কাজের চাঁপ বেশি থাকলে দেরী হতেই পারে।আর তাছাড়া ঢাকার রাস্তা তো আর তোর বেডরুমের ফ্লোর না। ‘

মেঘলা নিশাদের গায়ে চাপড় দিয়ে বলল,
-‘ এই বাজে বকিস না তো।টেনশান হওয়ারই বিষয় এটা।যেহেতু ও এমন লেট করে বাসায় কখনোই ফিরেনা।আর ওদিকে তানিয়া আর রবিনকে দ্যাখ।যেন প্রেম করার জন্য ডেকে আনা হয়েছে ওদের। দুজনে এক সাইডে বসে সেই তখন থেকে গুজুর গুজুর করে চলেছে। ‘

শ্রুতির কারো কথাই কানে ঢুকছেনা। এক নাগাড়ে কল করে যাচ্ছে পুলকের ফোনে।

ঈষাণঃ শ্রুতি?
শ্রুতিঃ হ্যাঁ বল।
ঈষাণঃ তাহলে আমি উঠি।আমার ডিউটি আছে বারোটার পর থেকে।পুলক আসলে বলিস আমার কথা।আর মন খারাপ করিস না হয়তো জরুরি কোনো কাজে আটকে পরেছে।চলে আসবে এক্ষণি।
মেঘলাঃ থেকে যা না আজ আমাদের সাথে।রাতে আমরা পাঁচজন আমাদের ঘরোয়া পার্টি ইনজয় করব।আর ওরা বাসরঘর।
শ্রুতিঃ হ্যাঁ।আজকে রাতে এখানেই থেকে যা।আর ডিনারও তো করলিনা।

শ্রুতি কথাটা কেবল বলার প্রয়োজন তাই বলল।ওর ধ্যান তো রয়েছে হাতের ফোনটার ভিতর।পুলকের জন্য বড্ড চিন্তা হচ্ছে ওর।ঈষাণ এক নজরে তাকিয়ে দেখছে শ্রুতি কে।কী মিষ্টিই না লাগছে মেয়েটা কে আজ।ঈষাণ নিজেই চোখ সরাতে পারছেনা।পুলক আজ তাহলে কী করবে?

মেঘলাঃ কীরে থাকবি তো?

মেঘলার ডাকে ঈষাণ স্তম্ভিত থেকে বেরিয়ে এল।বলল,
-‘ শ্রুতি যখন বলেছে।তখন তো থাকাই যায়। ‘
-‘ ওয়াও গ্রেট।আমরা আজ অন্নেক মজা করব সারারাত।তোকে তো ফ্রি পাওয়া বর্তমান সো টাফ। ‘

রাত ১ টা ২০ মিনিটে পুলক বাসায় ফিরল।ঈষাণ তখন ডাইনিং এ পানি খেতে এসেছে।পুলক ঈষাণকে দেখে থেমে গেল।

ঈষাণঃ কীরে এই তোর আসার সময় হলো?
পুলকঃ তুই?
ঈষাণঃ কেন?আসা কী অন্যায়?
পুলকঃ আরে না না।অন্যায় কেন হবে? হঠাৎ করে দেখলাম তো।কেমন আছিস বল?আর কী মনে করে এই গরীবের বাসায় পা রাখলি তাও আবার এত রাতে?

ঈষাণ পুলকের কাছে এগিয়ে এসে ঘড়ি দেখে বলল,
-‘ এক ঘন্টা বিশ মিনিট আগে তোর আর শ্রুতি’র প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পার হলো।শুভ বিবাহবার্ষিকী। ‘
-‘ ওহ্ স্যরি দোস্ত।এক্সট্রিমলি স্যরি।আমার আসলে খেয়াল ছিলনা।রাতে খেয়েছিস তো?রবিন নিশাদ ওরা সবাই এসেছে না? ‘

ঈষাণ পুলকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর ভাবে বলল,
-‘ হুম।সবাই এসেছে। ‘
-‘ চল ওদের সাথে দেখা করে আসি।অনেক অপেক্ষা করতে হলো তোদের।স্যরি রে। ‘

পুলক সবার সাথে দেখা করার জন্য সামনে এগোতেই ঈষাণ পুলকের বাহু ধরে বাঁধ সাধল।তারপর ওর সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
-‘ এই মুহূর্তে আমাদের অপেক্ষার থেকে শ্রুতি’র অপেক্ষার দামটা বেশি।আর স্যরিটাও ওকেই আগে বলা উচিত।ওদের সাথে সকালে দেখা করলেও চলবে। ‘

পুলক শুধু মাথা নাড়াল।ঈষাণ আবার বলল,
-‘ তোকে কেমন যেন এলোমেলো লাগছে। তুই কী আজকাল স্মোক করছিস নাকি? ‘
-‘ স্মোক?কই না তো। ‘

ঈষাণ ওর কাঁধ হাত রেখে ঠোঁটের বাঁকা হাসিটা দিল।পুলক আজ কাল শুধু স্মোক না মাঝে মধ্যে কলিগদের সঙ্গে ড্রিংকস ও করে সেটা ঈষাণ ভালো করেই জানে। রুমে ঢুকে পুলক শ্রুতি কে দেখতে পেলোনা।নিশ্চই বেলকোনিতে বেতের চেয়ারটাতে বসে ওর জন্য অপেক্ষা করছে আর না হয় ঝিমুচ্ছে।পুলকের শরীরটা বড্ড ক্লান্ত।রুমে ঢুকে নীল আভা দেখে মনে হচ্ছে এখনি বিছানার ওপর ঠাস করে শুয়ে পড়তে।বাসরঘরের সাজসোজ্জার দিকে ওর একদমই কোনো মনযোগ নেই। কিন্তু শ্রুতি যে খুব আশা করে বসে আছে ওর ফেরার অপেক্ষাতে।একটু সময় না দিলে মেয়েটা খুব কষ্ট পাবে।ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে শ্রুতি’র দেওয়া সাদা পাঞ্জাবী টা পরে বেলকোনিতে চলে গেল। চাঁদের আলোতে শ্রুতি কে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে পুলক।বেতের চেয়ারটাতে হেলান দিয়ে ঘাড়টা কাঁত করে ঘুমিয়ে আছে। বিয়ের শাড়িটা পড়েছে আজ।এই শাড়িটাতে শ্রুতি কে একদম হূরপরী লাগে পুলকের কাছে। সাদা জমিনে লাল পার আর লাল পারের ভিতর গোল্ডেন সুতার কাজ।পুরো শাড়িটার ভিতর গোল্ডেন সুতার হালকা কাজ।আর সেই সাথে শ্রুতি’র ব্রিডাল সাজটাও চোখ ধাঁধানোর মত।গলায় সাদা পাথরের একটি নেকলেস আর কানেও সাদা পাথরের বড়দুল। ডায়মোন্ডের মাঝারি নোসপিনটাও চিক চিক করছে হালকা আলোতে।চুলটা সুন্দর করে খোপা করা।ঠোঁটে লাল খয়েড়ি মিক্সড লিপস্টিকটাও খুব আকর্ষণীয়।পুরো সাজটাই অস্থির করা একদম।শ্রুতি’র লাল ঠোঁটদুটো যেন পুলকের শরীরের ক্লান্তি একদম দূর করে দিয়েছে। সেই সাথে চোখের ঘুমও কেড়ে নিয়েছে।পাশ থেকে বেতের অন্য একটি চেয়ার টেনে নিয়ে শ্রুতি’র কাছে গিয়ে বসল। খুঁটে খুঁটে বউটার সাজ দেখছে।সত্যিই খুব সারপ্রাইজড হয়েছে পুলক।বিয়ের পর থেকে শ্রুতি’র সৌন্দর্য যেন দিন দিন উপচে পড়ছে।ইশ!কত অপেক্ষাটা না করালো মেয়েটাকে আজ।আরো আগে আসা উচিত ছিল তার।মনে মনে নিজেকেই গালাগাল দিচ্ছে সে।ঠোঁটদুটোর দিকে নজর পরতেই ঠোঁটে ঠোঁটে কথা বলতে ইচ্ছা করল ওর।শ্রুতি’র ঠোঁটজোড়ার খুব কাছাকাছি পুলকের ঠোঁটজড়া।শ্রুতির থুতনিতে আর ঠোঁটের ওপর পুলকের ঘন ঘন নিঃশ্বাস পরছে।দুজনের ঠোঁট মিলিত হওয়ার আগেই শ্রুতি নড়েচড়ে বসল।লাল চোখে তাকিয়ে আছে পুলকের দিকে শ্রুতি।
একগাল হেসে পুলক বলল,
-‘ শুভ বিবাহবার্ষিকী আমার হূরপরী। ‘

ছোট্ট করে পুলকের নাক বরাবর ঘুষি লাগাল শ্রুতি।

পুলকঃ আআহ্….।এটাই কী ছিল আমার সারপ্রাইজ গিফ্ট?

শ্রুতি আরো একদফা রেগে গিয়ে বলল,
-‘ এতক্ষণেও তোর চোখে পড়েনি আমার সারপ্রাইজটা? ‘
-‘ এই এটা কী হচ্ছে?আবার তুই তুকারি করছো কেন? ‘
-‘ হ্যাঁ তুই তুই তুই।তোর বাপ দাদা চৌদ্দ গুষ্টিকে আমি তুই তুকারি করব। ‘
-‘ ছিঃ ছিঃ। আমাকে তুই তুকারি করো আমি মেনে নিব তাই বলে আমার বাপ দাদা কে না প্লিজ। ‘
-‘ হাজার বার করব।কোথায় ছিলি তুই এত রাত?তোর ওই নাবিলা ম্যামের কাছে?ওই মহিলা কী তোকে…..। ‘
-‘ এই একদম বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। তুমি সবসময় ঝগড়ার মাঝে আমার বাপ দাদা আমার অফিস কলিগ এদের কে টেনে আনতে পারোনা। ‘
-‘ কোনো কিছুই টেনে আনবোনা আর। যা দূর হ আমার চোখের সামনে থেকে। ‘
-‘ এমনভাবে বলতে পারলে?সত্যি চলে যাবো কিন্তু।”
-‘ আসার কী প্রয়োজন ছিল? ‘
-‘ আচ্ছা আজকে না হয় একটু লেট হয়েছে।অন্যান্য দিন তো আমি ১০ টা থেকে ১১ টার মাঝে চলে আসি,না? ‘
-‘ হ্যাঁ।বেছে বেছে আজকে রাতেই তোকে দেরী করে ফিরতে হল।বেশ করেছিস খুবই মহৎ কাজ করেছিস।এখন আমার চোখের সামনে থেকে চলে যা।একদম সহ্য হচ্ছেনা তোকে আমার। ‘

পুলক গম্ভীরস্বরে বলল, ‘ একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? ‘

শ্রুতি আর কোনো জবাব না দিয়ে উঠে রুমে চলে গেল।তারপর খুব শব্দ করে ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে দিল।মেজাজ খুব বিগড়ে গেছে আজ।কী এমন কাজ পরে গিয়েছিল যে নিজের বিবাহবার্ষিকীর কথা পর্যন্ত মনে ছিলনা ওর।রাগে সারা শরীর কাঁপছে শ্রুতি’র।পুলক বুঝতে পেরেছে শ্রুতি এখন ওয়াশরুমে বসে কান্না করছে।ডেকেও কোনো লাভ নেই।মেয়েটার মাঝে ভালোবাসার কমতি না থাকলেও রাগের পরিমাণটাও অসীম।পুলক রুম থেকে বেরিয়ে গেল।পনের মিনিট পর চোখ মুখ লাল করে শ্রুতি ওয়াশরুম থেকে বের হল।রুমে ঢুকে যখন দেখল পুলক নেই মেজাজ তখন আরো গরম হয়ে গেল। কোনো কিছু চেইঞ্জ না করেই বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।এপাশ ওপাশ করেই চলেছে।মাথা গরম থাকলে তো ঘুমও চোখে নামতে ভয় পায়।শ্রুতি ভাবছে এই বুঝি পুলক রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ওকে জড়িয়ে ধরে আদর করে মান ভাঙাবে।কিন্তু না ওর তো আসার কোনো খবরই নেই।বিছানা থেকে উঠে কড়া ডোজের একটু ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে দিল।কারণ যতক্ষণ অবদি ঘুম না আসবে ততক্ষন অবদি ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকবে।কিছুক্ষণের ভেতর ঘুমের ভাবটা প্রায় চলে এসেছে।ঘুমে চোখের ঝাঁপি দুটো নেমে গেছে।ঠিক তখনই কেউ একজন শ্রুতি’র রুমে এসে দাঁড়াল।
শ্রুতি’র চোখের সামনে হাত নেড়ে দেখল ঘুমিয়ে পরেছে কিনা।

 

গল্প:-নব দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ)

0
গল্প:-নব দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! আম্মা কিছু বলতে চায়ছে ঠিক তখনি আমি আম্মাকে থামিয়ে দিয়ে বলছি। আম্মা আপনি কি বলবেন তা আমি জানি। আম্মা:- নাহ জানিস না! আমার কথাটা আগে শুন। তুই কি ভাবছিস আমি কিছুই জানতে পারবোনা? আমি সব যেনে গেছি তসিবা নামে ব্যাংকে কোনো টাকা নেই এইটা আমি যেনে গেছি। আমাকে বাপ বেটা মিলে বোকা বানিয়েছিস তাইনা? আমি:- আম্মা আপনি পাঁচ লক্ষ টাকা পেলে তো তসিবাকে মেনে নিবেন তাইনা! ঠিক আছে আমি দিবো আপনাকে পাঁচ লক্ষ টাকা। আম্মা:- তোর কাছে পাঁচ লক্ষটাকা আছে? আমি:- না থাকলে কি হবে দরকার হলে আমার বাইকটা বিক্রি করে দিবো তখনি আম্মা আমাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিয়েছে। আম্মা:- তোর এত বড় সাহোস তুই তোর এত সখের বাইকটা বিক্রি করে দিবি। তসিবার বাবা বলছে টাকা দিবে সেইটা ওনাদের ব্যপার ওনারা বুঝবে কি করবে। তসিবা:- আমার জন্য আপনাকে এত কষ্ট করতে হবেনা! আম্মাজান আমি চলে যাবো সৌরভের জীবন থেকে। আম্মা:- কোথায় যাবে শুনি? তসিবা:- যেখানে দুইই চোখ নিয়ে যাবে সেখানে। তাও আমি চায়না আপনাদের সংসারের আমার জন্য ঝগড়া আর ঝামেল তৈরি হোক। আমি:- গেলে তুমি একা যাবে কেনো সাথে আমিও যাবো। আর তোমাকে যেহেতু আমি নিয়ে এসেছি সেহেতু সব কিছু আমি করবো। তসিবা এসো আজকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। তসিবার হাত ধরে উপরে যেতে ছিলাম কাপড় আনতে তখনি আম্মা বলে। আম্মা:- সৌরভ এখনো তুই আমাকে বুঝতে পারলিনা। সৌরভ আমি তো সেইদিন তসিবাকে বউ হিসাবে মেনে নিয়েছি যেইদিন থেকে তোর আব্বা বলছে। যদি তোমার একটা মেয়ে থাকতো আর ওর সাথে শ্বাশুড়ি এমন ব্যাবহার করবে তখন তোমার কেমন লাগবে। তখন থেকে আমি তসিবাকে মেয়ে হিসাবে মেনে নিয়েছি তাই তো আমি কিছু বলিনা। আজকে যখন তোর আব্বা বলছে তুই তোর সমস্ত জমানো টাকা আর তোর সাধের বাইকটা বিক্রি করবি তখন আমার কাছে মনে হচ্ছে এখনো তোর মা হয়ে উঠতে পারিনি। আব্বা:- সৌরভ তোর আম্মা আজকে তসিবার বাবা মাকে এনে সব বুঝিয়ে বলছে। ঐ দেখ তসিবা বাবা ওয়াশ রুম থেকে এসেছে। শ্বশুড়:- আরে তসিবা সৌরভ কখন এসেছো? তসিবা:- এখনি এসেছি! আব্বু আপনি এখানে এসেছেন? শ্বশুড়:- হ্যা এসেছি! তোকে বিয়ে দিবের পর তো এখানে আসা হয়নি। আমাকে ক্ষমা করে দিস মা। আমি তোর কষ্টের সময় তোর পাশে থাকতে পারিনি। তোর শ্বাশুমা আমাদের আজ সব ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে। সৌরভ বাবা তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমার মেয়েটাকে এতটা ভালোবাসার জন্য। তোমার মত প্রতিটা ছেলে হলে মেয়ের বাবা মার চিন্তা থাকতোনা। তসিবার সৎ মা:- তসিবা তোর আব্বা তো নিজের কথা বলে দিয়েছে। আমাকে কি ক্ষমা করা যায়। তসিবা:- আম্মু আপনাদের কারো প্রতি আমার কোনো অবিযোগ নেই আর থাকবেনা। শ্বশুড়:- সৌরভ তসিবার নামে পঞ্চাশ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা আছে! আর তসিবার নামে দুইটা গাড়ি আছে আর আমরা যেই বাড়িতে থাকি ঐটাও তসিবার নামে। তুমি চাইলে সব কিছু নিতে পারো তোমার আব্বা তোমাকে পরীক্ষা করে দেখছে তুমি সত্যি তসিবাকে ভালোবাসো নাকী ওর সম্পত্তির লোভে নাটক করেছিলে। তুমি সত্যি তসিবাকে ভালোবাসো আর তসিবার সম্পর্কে যা যা শুনছো সব মিথ্যা তসিবার মা হতে পারবে কোনো সমস্যা নেই। আব্বা:- সৌরভ যানে এখন সব কিছু। আম্মা:- অনেক সময় নষ্ট করেছিস আর নয় আর বড় বউমা তোমার কোনো খবর আছে নাকী আরো দেড়ি করবে? (ভাবি লজ্জা ভাইয়ার পেছনে গিয়ে মুখ লুকিয়ে নিয়েছে) ভাইয়া:- আম্মা হবে দোয়া করেন। আব্বা:- যাক অনেক ঝগড়া আর ঝামেলা শেষে আমার একটু শান্তিতে ঘুম আসবে। মা তসিবা আমি যা বলছি তাই হয়ছে তো? তসিবা:- আপনার জন্য তো আজকে আমার সোনা বর পায়ছি। ভাবি:- সোনা বর মানে? আমি:- ঐটা তুমি বুঝবেনা। আম্মা:- সৌরভ চল আজকে আমরা সবাই মিলে এক সাথে খাবার খাবো। বেয়াই বেয়ান সবাই আসেন আমরা এক সাথে খাবো। আমি:- আম্মা আমরা তো ডিনার করে এসেছি আপনারা খান আমরা উপরে যাই। আব্বা:- ঠিক আছে! আমি:- তসিবা চলো বলে দুজনে উপরে এসেছি। তসিবা এবার তো তোমার মনের আশা পুরুন হয়ছে। এখন তো তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আর কেও নেই। তসিবা:- কে বলছে নেই আমার বরটা তো যতেষ্ট। আমি:- কি ঠিক আছে তাহলে আমি চলে যাই তখনি তসিবা আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। কি হলো জড়িয়ে ধরলে কেনো? তসিবা:- আমার সোনা বর বলে সামনে এসেছে আমার পায়ে পা রেখে আমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট গুলি বাড়িয়ে দিয়ে বলে। ইচ্ছে হলে আদর করতে পারেন আর তানা হলে সারাক্ষন এমন ভাবে থাকবো। আমি:- করবোনা আদর তুমি থাকো এমন ভাবে। তসিবা:- রাগ করছেন ঠিক আছে রাগ ভাংগাবো বলে আমার ঠোটে তসিবা কিস করেছে। আমার এক প্রকার কম্পন সৃষ্টি সুরু হলো সারা শরীরে। আমি তসিবাকে জড়িয়ে ধরেছি খুব শক্ত করে আমার সারাটা শক্তি দিয়ে দুজনে দুজনকে কাছে টেনে নিলাম। আজ প্রথম আমাদের ভালোবাসার পুর্ণতা পেলো। আজকের রাত আমাদের কাছে বাসর রাতের মত লাগলো কোনো ফুল নেই কোনো রকম সুবাস নেই মনে হচ্ছে তাও কত আনন্দ। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে গেলাম। নামায পড়ে এসে দেখি ভাবি নাস্তা তৈরি করছে আর তসিবা ভাবিকে সাহায্য করছে। আম্মা:- সৌরভ আজকে তাড়াতাড়ি নামায পড়ে চলে আসলি? আমি:- হ্যা একটু কাজ আছে। আম্মা:- তোর তো সারা জীবন কাজ থাকবে! এক কাজ কর বউমাকে নিয়ে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আয়। এখন দুজন দুজনকে কিছুটা সময় দিতে হবে আর সময় দিলে তো আমি দাদি হবো নাকী। আমি:- নাহ কোথাও যেতে পারবোনা! এই শহরে প্রতি শুক্রবারে নিয়ে বেরুবো কেমন? তসিবা:- হ্যা আম্মাজান ওনি যা বলছে তাই ভালো হবে। আম্মা:- ঠিক আছে। আমি:- আচ্ছা আমি রুমে যাই! রুমে এসেছি কিছুক্ষণ পর তসিবা এসে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। কি হলো আদর কি আরো লাগবে তখনি তসিবা আমাকে ছেড়ে দৌরে চলে গেছে। তসিবার সাথে আমার তো রোমান্স ভালোই চলছে সেই সাথে ছোট ছোট ঝগড়া অফিস থেকে ফিরতে দেড়ি হলে রাগ করে কথা না বলা ঐ গুলা ভালো করে হচ্ছে। তসিবাকে নিয়ে বাইকে করে সারা শহর ঘুরে বেরানো আর মাঝে মাঝে ওর বাপের বাড়িতে সব গুলা ভালো লাগছে। আমাদের ঝগড়া আর মান অভিমানের মধ্য দিয়ে চলছে আমাদের সংসার। তসিবার দিন দিন চালাক হয়ে গেছে এখন আগের চাইতে বেশি বেশি ভালোবাসা চাই। আমিও তসিবাকে আগের চাইতে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি আর কেয়ার করি। !! কিছু কথা:- সংসার জীবনে ছোট ছোট ঝগড়া আর কিছু রাগ অভিমান থাকবে সব কিছু মিলিয়ে সংসার করতে হয়। তবে একটা কথা যখন একটা মেয়ে তার বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্মীয় স্বজনদের ছেড়ে নতুন ঠিকানা নতুন পরিবেশ আসে তখন সবার উচিত তার সাথে হাসি মুখে কথা বলা। কিছু ভুল হলে মিষ্টি হাসি দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া। আর তার সাথে সব সময় ভালো ব্যাবহার করা। মনে রাখবেন মেয়েরা হলো পানির মত যেই পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকার ধারন করবে। আপনি চিন্তা করে দেখবেন আপনি আপনার বউকে কোন পাত্রে রাখবেন? আর মেয়েদের বলি নিজের বাবা মা, ভাই বোন সহ নিজের পরিবারকে যেমন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসেন ঠিক তেমন ভাবে স্বামীর বাড়ির মা, বাবা, ভাই বোনদের সাথে করেন দেখবেন আপনাকেও ঐ পরিবারটা কতটা ভালোবাসা দিয়ে বড় করে দেয়। সবাই ভালো থাকবেন আমার জন্য দোয়া করবেন! আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে ততদিন আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে ভালো রাখুক সুস্থ রাখুন আমিন। ………………………………সমাপ্তি…………………………

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(১৬)

0
গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(১৬) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবার ব্যাপারে আব্বা কি কথা বলবে তা ভাবতে ভাবতে অফিসে এসেছি। অফিসের কাজ গুলি করতেছি তখনি আব্বা ফোন করেছে। রিসিব করেছি তখনি আব্বা বলে! আব্বা:- সৌরভ আজকে দুপুরে লাঞ্চ আমার সাথে করিস তোর সাথে আমার জুরুরী কিছু কথা আছে। আমি:- ঠিক আছে! কিন্তু তসিবার ব্যাপারে কি বলবেন বলছিলেন তা কি এখন ফোনে বলা যাবে? আব্বা:- নাহ ফোনে এত কিছু বলা ঠিক হবেনা! দুপুরে লাঞ্চের সময় তসিবার ব্যাপারে কথা বলবো। আচ্ছা এখন রাখি দুপুরে দেখা হবে। আমি:- ঠিক আছে! আব্বার সাথে কথা বলে আর চিন্তায় পরে গেলাম! তসিবার ব্যাপারে তো আমি আস্তে আস্তে সব যেনেছি! এমন কি হতে পারে? দূর লাঞ্চের সময় হতে মাত্র তো দুই ঘন্টা বাকি তখনি জানা যাবে। কাজ করতেছি এর মাঝে তসিবা ফোন করেছে। আমি ফোন কেটে বেক করেছি তসিবা ফোনটা রিসিব করে বলে। তসিবা:- আচ্ছা সোনা বর আমরা কি আজকে এক সাথে কোনো রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করতে পারি? আমি:- হ্যা কেনো নয়! তসিবা:- তাহলে আমি রেডি হয়ে নেই আর একটা সি এন জি করে আপনার অফিসের সামনে চলে আসি! আমি:- তুমি আসতে পারবে তো নাকী আমি গাড়ি পাঠাবো? তখনি মনে পরে গেলো আরে দুপুরবেলা তো আব্বার সাথে লাঞ্চ করার কথা। যদি তসিবা আসে তাহলে সব গন্ডগোল হয়ে যাবে। তসিবাকে বলি যে রাতে ডিনার করবো কোনো রেস্টুরেন্টে এখন জুরুরী কাজে অফিসের বাহিরে যেতে হবে। যেই কথা সেই কাজ তসিবা শুনো এখন তো আমার একটু মার্কেটে যেতে হবে অফিসের কাজে। আমরা ডাক্তারের কাছে রিপুট আনতে যাবো তখন একদম ডিনার করে ফিরবো কেমন বোকা বউ। তসিবা:- ভালো কথা বলছেন! আচ্ছা তাহলে আমরা আজকে রাতে ডিনার বাহিরে করবো। এখন আমি এতক্ষন কথা বলে আমার আদর কোথায়? আমি:- উম্মা উম্মা উম্মা এবার রাখো। তসিবা:- উম্মা উম্মা উম্মা উম্মে, আমি সবসময় আপনার থেকে বেশি আদর আর ভালোবাসবো। এখন কাজ করেন রাখলাম কেমন উম্মা। আমি:- ঠিক আছে! ফোন কেটে দিলাম! কিছু কাজ করে দুইটার দিকে আব্বাকে মেসেজ করেছি কোন রেস্টুরেন্টে আসবো। আব্বা মেসেজ করে রেস্টুরেন্টের নাম বলে দিয়েছে। আমি লাঞ্চ বাহিরে করবো বলে কিছুটা ছুটি নিয়ে বেড়িয়ে পরেছি। আর মাত্র কিছুক্ষনের মধ্যে সব চিন্তা শেষ হবে। তসিবার যা হোক আমি ওকে নিয়ে সংসার করবো। বিয়ে তো একটাই করেছি আর করার কোনো ইচ্ছে নেই। বিশ মিনিটের মধ্য বাইক নিয়ে চলে এসেছি রেস্টুরেন্টের সামনে আব্বা দাঁড়িয়ে আছে। আমি গিয়ে আব্বাকে সাথে নিয়ে ভিতরে গেছি। একদম কর্নারের একটা টেবিলে দুজনে বসেছি। আব্বা খাবারের অডার করেছে। আব্বা:- সৌরভ শুন যে কারনে তোকে নিয়ে আজকে লাঞ্চ করা। কারনটা হলো তসিবার ব্যাপারে আর সেইটা সবচেয়ে মারাত্মকভাবে সমস্যা করবে। আমি:- আব্বা আপনি বলেন আমি তসিবার সব সমস্যা মেনে সংসার করবো। আমি তসিবাকে আর কান্না করতে দিবোনা। আব্বা:- তোর উপর আমার ভরসা আছে আমি তার জন্য তসিবার সাথে তোর বিয়েটা করিয়েছি। কথাটা হলো তসিবার নামে যে পঞ্চাশ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা আছে আসলে সেই টাকাটা এক প্রকার জ্বালিয়াতি করে তসিবার সৎমা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে নিয়েছে। আমি:- কি বলছেন কিন্তু কি করে? আর সেইটা তো তসিবার অনুমতি ছাড়া আর ওর বিশ বছরের আগে ব্যাংক দিবেনা। আব্বা:- ব্যাংকিং কিছু নিয়ম আছে আর সবটা আমি জানিনা তবে তসিবার আব্বু যা বলছে সেইটা তোকে বলি। তসিবার বিয়ে আগে কিছুদিন তসিবার সৎ মা তসিবার সাথে ভালো ব্যাবহার করছে। তখনি তসিবাকে বুঝিয়ে বাঝিয়ে কিছু সাইন নিয়েছে। আমি:- তসিবার আব্বা বাধা দেয়নি কেনো আর তসিবা না পরে সাইন করেছে কেনো? আব্বা:- তসিবার সৎ মা তসিবাকে এতটাই আদর আর মহাব্বত করতে আরম্ভ করছে তখন তসিবা নিজের মায়ের মত বিশ্বাস করেছে। তখনি সাইন গুলি করেছে আর তসিবার আব্বাকে বলছে যদি বারা বারি করে তাহলে তসিবার বিয়ে হতে দিবেনা তাই তসিবার আব্বা চুপচাপ ছিলো। আচ্ছা সৌরভ তসিবার যে টাকা নেই এখন কি তসিবার প্রতি আগের মত ব্যাবহার করবি? আমি:- আব্বা আপনি কি যে বলেন তসিবার টাকা আছে কি নাই সেইটা আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি বলছি তো তসিবাকে আর কোনো সময় কষ্ট পেতে দিবোনা। কিন্তু সমস্যা হয়ছে আম্মাকে নিয়ে এখন আম্মা যদি যানে তসিবার নামে কোনো টাকা জমা নেই তাহলে তো তসিবার সাথে কো রকম আচরন করবে আপনি চিন্তা করতে পারছেন? আব্বা:- হ্যা আমি এখন ভয় পাচ্ছি তোর মাকে নিয়ে। তোর এখন তসিবাকে যে আদর আর যত্ন করছে এসব কি করে বেড় করবে তা চিন্তা করতে আমার ভয় পাচ্ছে। আমি:- আচ্ছা আব্বা একটা কাজ করলে কেমন হবে! আব্বা:- কি কাজ? (এর মাঝে খাবার সব টেবিলে চলে এসেছে) আমি:- আমার কাছে সব মিলিয়ে লাখ তিনেক হবে এইটা টাকাটা যদি তসিবার আব্বার মাধ্যমে আম্মাকে দেয়। তাহলে তো আম্মা আর তসিবার প্রতি খারাপ আচরন করবেনা? আব্বা:- আইডিয়াটা মন্দ নয় তবে তিন লাখে সন্তুষ্টি হবেনা মিনিমাম পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। আমার কাছে দুই লাখ টাকার মত আছে কিন্তু তোর আম্মা যানে টাকাটার ব্যাপারে। আমি:- তাহলে এক কাজ করি আমার বাইকটা বিক্রি করে দিবো এইটা বিক্রি করলে এক লাখের মত পাবো বাকী এক লাখ টাকা অফিস থেকে অগ্রিম নেই। আব্বা:- বাইক বিক্রি করলে তোর মা টাকার কথা জিগেস করবে তখন কি করবি? আমি:- আম্মাকে বলবো বাইক চুরি হয়ে গেছে আরো কিছু মিথ্যা বানিয়ে বলে দিবো। আব্বা:- ঠিক আছে! এখন খাবার খেয়ে নে। আমি:- ঠিক আছে! বাপ বেটা মিলে খাবার খেলাম। খাবারের বিলটা আমি দিয়েছি খানা শেষে আব্বা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে আমি অবাক হয়েছি। আব্বাকে ছেড়ে আমি বাইক নিয়ে চলে এসেছি। অফিসে এসে আবার কাজ করেছি আজকে আর বসকে কিছু বলিনি আগে দেখি বন্ধুদের কাছে পায় কিনা? কাজ শেষ করে মাগরিবের নামায পড়ে সন্ধার দিকে অফিস থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। বাড়িতে এসে দেখি তসিবা আম্মা ভাবি টিভি দেখছে আর হাসতেছে। তসিবা তুমি রেডি আছো? তসিবা:- হ্যা রেডি এখুনি বেড় হবেন? আমি:- তুমি বসো আমি রুমে গিয়ে কাপড়টা চেন্জ করে আসছি। তসিবা:- ঠিক আছে! তাড়াতাড়ি আসবেন। আমি:- আচ্ছা! রুমে গিয়ে দশ মিনেটের মধ্যে রেডি হয়ে নিলাম। নিচে এসেছি আম্মাকে বলে তসিবাকে নিয়ে বেড়িয়ে পরেছি। তসিবা আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। তসিবা:- বাইকে বসে আপনার সাথে ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি:- তাই! তসিবা:- হ্যা তাই! (তসিবার সাথে কথা বলতে বলতে হাসপাতে এসেছি কিছুক্ষনের মধ্যে রিপুট গুলি নিয়ে নিলাম। তসিবা আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখছে।) আমি:- তসিবা সব কিছু নরমাল আসছে মনে হয় তুমি মা হতে পারবে। তসিবা:- আপনার কথা যেনো সত্যি হয়। তবে যতক্ষণ ডাক্তারের মুখ থেকে না শুনবো ততক্ষণ শান্তি পাবোনা। আমি:- ঠিক আছে চলো ডাক্তারের চেম্বারে গেলাম। তসিবার রিপুট গুলি ডাক্তারের হাতে দিলাম। রিপুট গুলি দেখে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে। ডাক্তার:- আপনার মা হতে কোনো বাধা নেই আপনি মা হতে পারবেন। আগে কোথায় চেকাপ করিয়েছেন? আমি:- আসলে এই প্রথম চেকাপ করালাম ছোট বেলা ওর একটা অপারেশন হয়ছে তখন এক ডাক্তার বলছে ও নাকী মা হতে পারবেনা এইটা নিয়ে এত চিন্তায় ছিলো। ডাক্তার:- আপনাদের বিয়ের বয়স কতদিন? আমি:- সাত মাস দশদিন। ডাক্তার:- আপনার বউয়ের কোনো সমস্যা নেই তাহলে এতদিন সন্তান হয়নি কেনো? (ডাক্তারের এমন প্রশ্নে আমি কিছুটা লজ্জা পায়ছি) লজ্জা পায়লে তো হবেনা আপনারো চেকাপ করা দরকার তানা হলে সন্তান হচ্ছেনা কেনো? তসিবা:- আসলে আমরা এখনো কোনো রকম সন্তান নেওয়ার প্লানিং করিনি! মাত্র এক মাস হলো আমরা প্লানিং শুরু করেছি। ডাক্তার:- বুঝতে পারছি! যেহেতু কোনো সমস্যা নেই সেহেতু কোনো প্রকার মেডিসিন দিলাম না। যদি কোনো রকম সমস্যা হয় অবশ্যই যোগাযোগ করবেন কেমন? আমি:- হ্যা নিশ্চয়ই এখন তাহলে আমরা আসি। আমি উঠেছি তসিবা সাথে উঠেছে তসিবাকে একটু অন্য রকম খুশি লাগছে। তসিবার এই খুশিটা সত্যি বলে বুঝাতে পারবোনা। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়েছি। তসিবাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম। তসিবা:- আজকে আমার পছন্দে আপনাকে খেতে হবে। আমি:- তাহলে তো আমি আজ লাকী আমার বোকা বউটা কিছুটা চালাক হয়েছে। তসিবা:- সব আপনার জন্য ধন্যবাদ আমার জীবনটাকে এতটা সুন্দর করে দেওয়ার জন্য। তসিবা উয়েটারকে মেনু কার্ড দেখে অডার করেছে কিছুক্ষণ পর যখন খাবার গুলি নিয়ে এলো তখন তো আমি পুরাই অবাক হয়ে গেলাম। কোনো মেয়ে মাত্র দুইবার রেস্টুরেন্টে এসে এমন ভাবে খাবার অডার করতে পারবেনা। আমি:- তসিবা তুমি তো মাত্র আমার সাথে এখানে এসেছো তাহলে এই খাবার গুলি অডার করলে কি করে? তসিবা:- মেনু কার্ডে সব লিখা আছে আমি দাগ দিয়ে দিয়েছি বাছ। কেনো খাবার গুলি ভালো হয়নি? আমি:- হ্যা অনেক ভালো হয়ছে! আচ্ছা খাও তসিবা আমি মিলে ডিনার করেছি! দুজনে অনেক দুষ্টমি করে খাবার খেলাম। খাবার শেষে বিলটা দিয়ে দুজনে বেড়িয়ে এসেছি। আমি বাইকে বসেছি তখনি তসিবা বলে। তসিবা:- এই যে একটু ঐদিকে তাকিয়ে দেখেন তো ঐটা রিপা না। আমি:- কোন দিকে তখন তাকিয়ে দেখি রিপা। তসিবা:- মনে হয় ছেলেটা রিপাকে ডিসট্রাব করছে। চলুন আমরা গিয়ে রিপাকে বাচায়। আমি:- আরে ছেলেটা রিপার লাবার তুমি এসো। তসিবা:- আচরনে মনে হচ্ছেনা। চলুন আমরা সামনে গিয়ে দেখি বলে তসিবা ঐ দিকে হাটা দিয়েছে আমি এগিয়ে গেছি তসিবার পিছু। কাছে গিয়ে দেখি সত্যি রিপাকে চেলাটা জোর করছে গাড়িতে উঠাতে কিন্তু রিপা উঠছেনা আমা তাকিয়ে দেখি গাড়ির ভিতরে আরো কিছু ছেলে আছে। তখন রিপা আমাকে দেখে দৌরে আমার কাছে চলে এসেছে। রিপা:- সৌরভ প্লিজ আমাকে বাচাও। ও আমাকে জোর করে বলে কান্না করে দিয়েছে। তসিবা রিপার চোখের পানো মুছে দিতে লাগলো। তখন ছেলেটা গাড়িতে উঠে গেলো আর গাড়িটা চলে গেছে। আমি:- কিন্তু রিপা ও তো তোমার লাভার। তোমার সাথে এমটা করতে চায়ছে কেনো? রিপা:- আমার কাছে টাকা চায়ছে পঞ্চাশ হাজার আমি দিতে মানা করেছি। তাই ওর বন্ধুদের সাথে মিলে আমার সাথে খারাপ কিছু করে ভিডিও করতে চায়ছে। আর সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা নিবে প্রতি মাসেসে মাসে। তসিবা:- কিন্তু তুমি জানলে কি করে? রিপা:- ওর আগের এক্স গ্রালফ্রেন্ড বলছে একটু আগে আমাকে ফোন করে। সৌরভ তসিবা তোমাদের অনেক ধন্যবাদ আমাকে একটু বাড়িতে পৌছে দিবে? তসিবা:- হ্যা চলো! আমি বাইক চালাচ্ছি তসিবা আমার পেছনে এর পেছনে রিপা। আমাদের দুজনের মাথায় হ্যামলেটে আছে কিন্তু রিপার মাথায় নেই। আর তাছাড়া বাইকে তিনজন দেখলে মামারা তো পেয়ে যাবে। যেইটা ভাবছি সেইটা হয়ছে তবে এই মামাটা কিছুটা ভালো কিছুটা বুঝাতে ছেড়ে দিয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে রিপার বাসার সামনে এসেছি। আমি:- রিপা তোমার বাসায় চলে এসেছি তুমি এবার নামো। রিপা:- তসিবা তুমি অনেক ভাগ্যবান সৌরভের মত একটা ছেলেকে বর হিসাবে পেয়েছো। সৌরভ তসিবাকে কষ্ট দিওনা তসিবা তোমাকে খুব ভালোবাসে। আচ্ছা তোমার ভালো থেকো আর সৌরভ আমাকে ক্ষমা করে দিও কেমন? আমি:- হ্যা কবে ক্ষমা করে দিয়েছি তুমি ভালো থেকো আমরা গেলাম। তসিবা এসো তসিবা বাইকে বসেছে আমাকে জড়িয়ে ধরে। রিপা তাকিয়ে আছে আমরা চলে এসেছি। তসিবা:- এখন থেকে অফিসে যাওয়ার সময় কপালে কালো টিপ লাগিয়ে দিবো কেমন। আমি:- কেনো? তসিবা:- যাতে আমার বরটার দিকে কারো নজর না লাগে। আমি:- বোকা বউ কারো নজর লাগবেনা কারন তোমার আমার জুটি এইটা সারাজীবনের। তসিবা:- তা ঠিক বলছেন। আমি:- তসিবা চলে এসেছি তুমি গিয়ে কলিং বেল বাজাও আমি আসছি! তসিবা:- নাহ দুজনে এক সাথে যাবো। আমি:- ঠিক আছে তুমি দ্বাড়াও আমি বাইকটা রেখে আসছি। তসিবা নেমে দাঁড়িয়েছে আমি বাইকটা পার্কিং করতে গেলাম। দেখি একটা নতুন গাড়ি বাড়িতে কে এসেছে মনে হয় ভাবির বাপের বাড়ি থেকে ওনার বাবা মা এসেছে। আমি বাইক রেখে এসে তসিবাকে সাথে নিয়ে কলিং বেল চাপ দিয়েছি। তসিবা:- সবাইকেকে বলবো আমি মা হতে পারবো? আমি:- হ্যা বলো? তখনি ভাবি এসে দরজাটা খুলে দিয়েছে। আমি আর তসিবা দুজনে ভিতরে ঢুকেছি চেয়ে দেখি আম্মা অনেক রেগে আছে। আর আব্বার সাথে খুব রাগা রাগি করছে আমি আব্বার দিকে তাকিয়েছি আব্বা বুঝাচ্ছে আম্মা টাকার ব্যাপারটা যেনে গেছে তখনি একজন বলে। তসিবা তোমার সূখের সংসার কেমন চলছে? আমি তাকিয়ে দেখি তসিবার সৎ মা ঠিক তখনি! To be continue,,, !! কিছু কথা:- প্লিজ আপনারা যারা আমার গল্প পড়তে ভালোবাসেন তারা সবাই নিচে লিংক দেওয়া পেইজে লাইক ফলো করে পাশে থাকেন প্লিজ। https://www.facebook.com/AL_Mohammad_Sourav-106204954079722/

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫)

0
গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৫) লেখা_AL Mohammad Sourav !! সৌরভ তোর আম্মাকে এখন কিছু জিজ্ঞেস করে লাভ হবেনা কারন তোর মা এখন তসিবার ভক্ত হয়ে গেছে। এখন শুধু তসিবার কথা শুনবে আর কে কি বলছে সেই দিকে কান বা খেয়াল দিবেনা। (আব্বা) আমি:- হঠাত করে কি এমন হলো? আব্বা:- এদিকে আয় আমি বলছি! আমি এগিয়ে আব্বার কাছে গেছি। শুন তার কারন হলো আমি বলে দিয়েছি তসিবার নামে পঞ্চাশ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা আছে। আর সেই টাকা তসিবা নিজেই উঠাতে পারবে অন্য কেউ নয়। তার জন্য তোর আম্মা তসিবার সাথে এমন করছে। আমি:- কিন্তু তসিবা তো সেই টাকা এখুনি তুলতে পারবেনা। আব্বা:- সেইটা আমি জানি কিন্তু এই টাকার লোভে তোর মা এখন আর তসিবার সাথে খারাপ আচরন করবেনা। আমি:- কিন্তু আম্মা যদি জানে যে এখন তসিবা টাকা দিতে পারবেনা তখন তো আরো ঝামেলা করবে। আব্বা:- আমি বলেছি আরো দুই বছর পর তসিবা টাকা পাবে তোর আম্মাকে সব যেনে এমন করছে। আপদত দুই বছর যাক পরেরটা পরে দেখা যাবে। আমি:- তা ঠিক বলছেন। আচ্ছা আব্বা আপনি আম্মাকে কেনো বলছেন তসিবা কোনো দিন মা হতে পারবেনা। আজ তার জন্য আম্মা তসিবার সাথে অনেক খারাপ আচরন করছে। আব্বা:- আমি তো তোর মাকে বলিনি এই কথা! আমি:- তাহলে আম্মা যে আপনার নাম বলছে। আব্বা:- আমার নাম বলছে! দ্বাড়া এখুনি আমি জিজ্ঞেস করি। এই সাহেলে (আম্মার নাম সাহেলা) শুনো তো আমি তোমাকে কখন বলেছি যে তসিবা মা হতে পারবেনা? আম্মা:- আমার ভুল হয়ে গেছে আসলে কথাটা বলছে তসিবার সৎ মা। কিন্তু তসিবার সৎ মা বলছে আপনার সাথে যখন তসিবার বাবা বলছে তখন ওনি শুনছে। আর আপনি তসিবার সৎ মাকে এই কথা বলছেন। আব্বা:- ও তার মানে তুমি তসিবার সৎ মায়ের কাছ থেকে শুনেছো? আম্মা:- হ্যা ওনি আমাকে কথাটা বিয়ের দিন বলছে তখন তো আমি বিয়ে করাতে রাজি হয়নি। আর তখনি তো তসিবার বাবা বলছে চার লক্ষ টাকা দিবে আর আসবাপত্র দিবে। তখন আপনি বলছেন সৌরভকে যাতে এসবের ব্যাপারে কিছু না বলি। যদি বলি তাহলে টাকা আর আসবাপত্র কিছুই দিবেনা। আব্বা:- হ্যা তখন বলেছিলাম। এখন ঠিক আছে তুমি তোমার কাজ করো তানা হলে তোমার পঞ্চাশ লক্ষ টাকা শেষ। আম্মা:- হ্যা তা একদম ঠিক বলছেন। আম্মা আবার তসিবার কাছে গেছে। তসিবা আমার দিকে তাকিয়েছে আমা চোখ টিপ দিয়েছি তসিবা লজ্জা লাল করে নিয়েছে চেহারা। আমি:- আচ্ছা আমি তাহলে এখন যাই। আব্বা:- শুন সৌরভ। আমি:- হ্যা বলুন। আব্বা:- তসিবা মা হতে পারবে। তসিবার কোনো সমস্যা নেই। ছোট বেলা তসিবার এভিন্ডি সাইটের ব্যাথার জন্য অপারেশন করানো হয়ছে। অন্য কোনো কারনে নয়। আমি:- তাহলে এই কথাটা কেনো বলছে তসিবার বাবা? আব্বা:- আসলে তসিবার বাবাকে আমি বলেছি এমন কথা বলতে কারন তসিবার সৎ মা চায়ছে ওর বোনের ছেলের সাথে তসিবাকে বিয়ে দিবে। তাই আমরা ডাক্তারকে দিয়ে এমন কথা বলায়ছি। তারপর তসিবার সৎ মা আর তসিবার বিয়ে দেওয়ার জন্য রাজি হয়নি ওর বোনোর ছেলের সাথে। আমি:- আব্বা আপনি আমাকে অনেক বড় একটা সুসয়বাদ দিয়েছেন ধন্যবাদ আপনাকে বলে আব্বাকে জড়িয়ে ধরেছি। জিবনের প্রথম আব্বাকে এতটা ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেছি। আব্বা:- হয়ছে এবার ছাড় আরেকটা কথা তুই আমাকে বল তসিবাকে অনেক সূখে রাখবি আর ওকে কোনো কষ্ট দিবিনা? আমি:- তসিবাকে আর কোনো কষ্ট দিবোনা ওকে অনেক সূখে রাখবো কথা দিলাম। আব্বা:- আর শুন তুই এখন তসিবাকে বলিসনা যে তসিবা মা হতে পারবে। কারন তসিবা বিশ্বাস করবেনা এক কাজ কর একজন ভালো গাইনী ডাক্তারকে দিয়ে তসিবাকে চেকাপ করা এরপর রিপুট দেখে তখন অনেক খুশি হবে আর তোর প্রতি ওর ভালোবাসাটা বেড়ে যাবে কেমন। আমি:- আজকে তো আমি তসিবাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। আর চেকাপ করিয়ে কিছু টেষ্ট দিয়ে এসেছি। আব্বা:- ভালো করেছিস আর রিপুটের পরে সত্যিটা বলিস কেমন। আমি:- আচ্ছা। তাহলে আমি রুমে যাই? আব্বা:- হ্যা যা। আজ থেকে আমি অনেকটা চিন্তা মুক্ত হলাম আর রাতের ঘুম ভালো ভাবে হবে। এখন তোর মায়ের কান্ড গুলি দেখবি তোর মা এখন তসিবাকে মাথায় তুলে রাখবে। তসাবা ছাড়া কিছুই বুঝবেনা। আচ্ছা আমি যাই আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি:- আচ্ছা যান। আব্বা চলে গেছে! আমি তাকিয়ে দেখি বড় ভাবিকে দিয়ে তসিবার জন্য এটা ওটা আনিয়ে ক্লান্ত বানিয়ে ফেলছে। আর তসিবাকে খাওয়াতে খাওয়াতে পেট বড় করে ফেলছে। আম্মা তসিবাকে আর কত খাওয়াবে? তসিবা এসো আমরা রুমে যাই। আম্মা:- সৌরভ তুই যা বউমাকে আমি উপরে নিয়ে আসছি। আমি:- নাহ থাক তসিবা এসো আম্মা আবার আগামীকাল খাওয়াবেন কেমন। আম্মা:- তাহলে এক কাজ কর বউমাকে কোলে করে রুমে নিয়ে যা। বউমার সিড়িঁ বেয়ে উপরে যেতে কষ্ট হবে। তসিবা:- থাক মা আমি নিজে হেটে হেটে যেতে পারবো। আম্মা:- নাহ একদম না যদি সিঁড়ি থেকে পরে যাও তাহলে অনেক সমস্যা হবে। সৌরভ দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বউমাকে কোলে করে উপরে নিয়ে যা। ভাবি:- সৌরভ আম্মাজান যা বলে তা করো আর তসিবা তুমি কি বলোতো? তোমার বর তোকে কোলে নিলে সমস্যা কি তোমার? তসিবা:- আমাকে কোলে নিলে তো আমার ভালোই লাগে। আমি:- সবাই কথা বলা বন্ধ করেন তসিবা এসো কোলে করে নেই। তসিবাকে কোলে তুলে নিলাম। আম্মা ভাবি খুব খুশি হয়েছে। আম্মা:- আস্তে আস্তে যাবি তোর ঠেঙ্গ ভাঙলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার বউমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। আমি:- হ্যা বুঝতে পারছি।( টাকার গন্ধপায়ছেন) কথাটা মনে মনে বলছি। তসিবাকে নিয়ে রুমে এসেছি। তসিবাকে খাঠের উপর শুয়ি দিয়েছি। আমি চলে আসতেছি তখনি তসিবা আমার সাট টেনে ধরছে। কি হলো সাট ধরলে কেনো? তসিবা:- আমার কিছু চায়। আমি:- কি লাগবে বলো? তসিবা:- আদর আর ভালোবাসা। বলে টান মেরে আমাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরেছে। তসিবা আমাকে পাগলের মত কিস করে যাচ্ছে আমিও আমার বউকে আদর করে দিয়েছি। তসিবাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমালাম। সকালে ঘুম ভাঙছে তসিবার স্পর্শে। আমি:- কি করছো তুমি? তসিবা:- কিছুনা ছয় মাসের ভালোবাসা কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছি। আর আমার আপনার কাছে থাকলে মন চায় শুধু আদর করতে আর আদর পেতে। আমি:- আজকের মত ছেড়ে দাও আজান হয়ে গেছে ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে যাও। আর আমিও ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে যাবো। তসিবা:- ঠিক আছে ছেড়ে দিবো কিন্তু আগে আমাকে গালে কপালে আদর করে দেন। আমি:- ঠিক আছে! তসিবাকে কপালে গালে আদর করে দিয়ে আমি ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে গেলাম। নামায পড়ে সকালের আবহাওয়াটার উপবোগ করেছি। কিছুটা হাটা হাটি করতেছি আমি আব্বা আর ভাইয়া। ভাইয়া:- অবশেষে আমাদের সংসারে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে। সৌরভ তোর কাছে একটা রিকুয়েস্ট তসিবাকে আর কষ্ট দিসনা। তসিবা মেয়েটা খুব ভালো আর তোকে অনেক ভালোবাসে। আমি:- হ্যা ভাইয়া ঠিকই বলছিস। তসিবা আমার জন্য একদম পারফেক্ট একটা বউ। ভাইয়া:- আব্বা চলেন বাড়িতে যাই। আব্বা:- আরেকটু হাটা হাটি করি তারপর যাই। ভাইয়া:- আচ্ছা তাহলে আপনারা হাটেন আমার আজ একটু তাড়া তাড়ি বেড় হতে হবে কাজ আছে। আমি:- ভাইয়া শুন তুই সন্তান নেসনা কেনো? ভাইয়া:- এইটা তোর ভাবিকে বলিস সে নিতে চায়না তখনি আব্বা বলে। আব্বা:- সৌরভ এখানে আমি আছি কিন্তু। (তখন আমরা চুপ হয়ে গেছি) সৌরভ কিন্তু ঠিক বলছে তোদের এবার সন্তান নেওয়া উচিত। আমারো তো ইচ্ছে হয় দাদা ডাক শুনতে। ভাইয়া:- আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আমি গেলাম বলে ভাইয়া চলে গেছে আমি হাসতেছি। আব্বা:- সৌরভ তোকে একটা সত্যি কথা বলা হয়নি। আমি:- কি সত্যি কথা? আব্বা:- কথাটা তসিবার ব্যাপারে। আমি:- হ্যা বলেন। আব্বা:- কথাটা শুনার পর আবার তসিবাকে ঘৃণা করবিনা তো? আর তসিবাকে আবার ভুল বুঝবিনা তো? তসিবাকে তাড়িয়ে দিবিনা তো? আমি:- আব্বা আপনি বলেন আমি আর তসিবাকে ঘৃণা করবোনা, তাড়িয়ে দিবোনা, আর কোনো ভুল বুঝবোনা। তসিবা আমি আর কোনো কষ্ট দিবোনা। আব্বা:- হ্যা বলছি (তখনি আব্বার ফোন আসছে আব্বা ফোনটা রিসিব করে কথা বলতেছে। আব্বাকে কিছুটা চিন্তিত মনে হচ্ছে) সৌরভ তুই বাড়িতে যা আমি পরে বলবো আমার এখুনি অফিসে যেতে হবে। আমি:- কি হয়ছে কোনো সমস্যা? আব্বা:- নেহ কোনো সমস্যা না একটা কাজ পড়েছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে তুই বাড়িতে যা আমি পরে বলবো কথাটা। ( আব্বা চলে গেছে আমি বাড়ির দিকে যাচ্ছি আর আব্বার কথাটা মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে আব্বা কি বলবে তসিবার ব্যাপারে? চিন্তা করতে করতে বাড়িতে এসেছি) আম্মা:- সৌরভ এত দেড়ি করলি কেনো? আর তোর আব্বা কোথায়? আমি:- একটু হাটতে গেছিলাম। আর আব্বা অফিসে গেছে কি জুরুরী কাজ পড়ছে নাকী। আম্মা:- ঠিক আছে! আর শুন তসিবাকে সাথে করে নিয়ে নিচে আসিস নাস্তা করে যাবে। আমি:- তসিবা এখনো রুমে? (তখনি ভাবি বলে) ভাবি:- সৌরভ তসিবা নিচে এসেছে আর কাজ করতেছিলো কিন্তু আম্মাজান ওকে কোনো কাজ করতে দেয়নি। আম্মা:- হ্যা বউমার এই ছয় মাসে অনেক কষ্ট পায়ছে তাই এখন থেকে শুধু আরাম আর আরাম করবে। তাই আমি বলেছি রুমে গিয়ে শুয়ে থাকতে। তুই নিচে নামার সময় তসিবাকে সাথে নিয়ে নামবি কেমন? আমি:- ঠিক আছে! আমি রুমে দিকে গেলাম। দেখি তসিবা বসে সাজ গুজ করতেছে আমি রুমে ঢুকেছি। তসিবা:- এসেছেন আজ এত দেড়ি করলেন কেনো? (তখনি পান্জাবির পকেট থেকে একটা লাল গোলাপ হাতে দিয়ে বলি) আমি:- হেপি বার্থডে টু ইউ। তসিবা:- আমার জন্মদিন আপনি জানলেন কি করে? আমি:- ডাক্তারকে তোমার বয়স আর ডেথ অফ বাথডে বলছিলে তখন মনে রেখে দিয়েছি। তখন তসিবা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিয়েছে। আমি ওর চোখের পানি মুছে দিয়েছি। আরে দূর আমার বোকা বউ কান্না করছো কেনো আজকের দিনে কান্ন করতে নেই। তসিবা:- উম্মা যান আমি গিফট দিলাম। তাড়া তাড়ি রেডি হয়ে নেন আজকে তো আবার হাসপাতালে যেতে হবে আমার রিপুট আনার জন্য। আমি:- হ্যা অফিস থেকে এসে তোমাকে সাথে নিয়ে যাবো কেমন। তসিবা:- ঠিক আছে। আমি:- আমি উয়াশ রুম থেকে রেডি হয়ে আসছি। কিছুক্ষনের মধ্যে রেডি হয়ে নিলাম তসিবাকে সাথে করে নিচে গেলাম। আম্মা তসিবাকে অনেক আদর যত্ন করে খেতে দিলো। আম্মা:- তসিবা মা তুমি আগে ফিন্নিটা মুখে দাও তো কেমন হয়ছে। তসিবা ফিন্নি খেয়েছে। তসিবা:- অনেক টেস্ট হয়ছে। আমি:- আচ্ছা আমার নাস্তা হয়েছে তসিবা আমি অফিসে গেলাম তখন তসিবা আমার সাথে দরজা পর্যন্ত এসেছে উম্মা তসিবার কপালে কিস করে আমি চলে এসেছি। তবে বার বার একটা কথা খুব মনে পড়ছে আব্বা তসিবার ব্যাপারে কোন কথাটা বলতে চায়ছে? To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৪)

0
গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৪) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবা কোনো দিন মা হতে পারবেনা এই কথাটা শুধু তুই ছাড়া আমরা সবাই জানি। আর এই কথাটা বলছে তোর বাবা। তসিবা নিজেও জানে কিন্তু তোকে বলেনি কারন তুই তসিবাকে ছেড়ে দেস যদি তাই। আর আমরা বলিনি এতদিন কারন তোর বাবা আমাদের বলতে মানা করছে। তুই তো তসিবাকে এমনিতেই অবহেলা করতি আর ঘৃণা করতি কিন্তু এখন তুই তসিবাকে ভালোবাসতে শুরু করেছিস তাই বলেছি। কি তসিবা তুমি বলো সত্যি টা কি তখনি আমি তসিবার দিকে তাকিয়ে আছি। (আম্মা) তসিবা:- আসলে কথাটা আমি অনেকবার বলতে চায়ছি কিন্তু বলার মত অবস্থা তৈরি হয়নি। আব্বাজান জানে কথাটা আর ওনি বলছে আপনাকে সব বুঝিয়ে বলছে আর সব যেনে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন আপনি। আমি:- তুমি যে মা হতে পারবেনা আর তোমার ব্যাপারে আব্বা আমাকে কিছুই বলেনি। তুমি আমাকে একবার বলতে পারতে? তসিবা:- কি করে বলবো আপনার সাথে তো ঠিক করে কথা বলার সময় পায়নি। আপনি সবসময় আমাকে দূরে দূরে রাখছেন। কিছুটা ভালো ব্যাবহার করলে বেশির ভাগ ঝগড়া আর রাগা রাগি করতেন। আম্মা:- সৌরভ এই নে আমি তোদের জন্য ডির্ভোসের কাগজ রেডি করে আনছি। এখানে তুই সাইন কর আর তসিবার সাইন কি করে নিতে হবে সেইটা আমার ভালো করে জানা আছে। আমি:- কি করে আনছেন? আম্মা:- ডির্ভোসের কাগজ। রিপা তোকে অনেক ভালোবাসে রিপা সব যেনে শুনে তোকে বিয়ে করতে রাজি আছে। কি রিপা তুমি সৌরভকে বিয়ে করবে তো? রিপা:- হ্যা আন্টি করবো। সৌরভ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি যা হবার হয়ে গেছে। তুমি এই মেয়েটাকে ডির্ভোস দিয়ে দাও আমি তোমাকে বিয়ে করবো। (আমি তসিবার দিকে তাকিয়ে আছি তসিবা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে আর কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু তসিবা কিছু বলছেনা।) আম্মা:- কি হলো সৌরভ সাইন কর এখানে। (আমি কাগজ আর কলমটা হাতে নিয়েছি তসিবা অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আম্মা ভাবি রিপার বাবা মা, রিপা অনেক খুশি হয়েছে। তখনি আমি বলি।) আমি:- তসিবা তুমি আগে সাইন করো কারণ আমি চাই তুমি আমাকে ডির্ভোস দাও। তোমাকে তো আমি অবহেলা করেছি আর খগড়া করেছি তাইনা তাই তুমি আগে সাইন করবে। নাও কাগজ আর কলম। আম্মা:- ঠিক বলছিস এই মেয়ে নে ধর কাগজ আর কলম। তসিবার হাতে জোর করে কাগজর আর কলম ধরিয়ে দিয়েছে আম্মা আর ভাবি। তসিবা চুপ চাপ কান্না করছে যখনি ওরা সাইন করাতে যাবে ঠিক তখনি আমি কাগজটা টান দিয়ে নিয়ে এসেছি আর ছিড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলে দিয়েছি। আর ঘুরে রিপাকে একটা জুড়ে থাপ্পড় দিয়েছি। রিপার বাবা:- তোমার এত বড় সাহোস আমার মেয়েকে থাপ্পড় দিয়েছিস। আমি:- আপনাকে থাপ্পড়টা দেওয়া উচিত ছিলো কিন্তু আপনি আমার বাবার সমতুল্য তাই আপনার মেয়েকে থাপ্পড়টা দিয়েছি। আমার মায়ের মাথায় সব কুচিন্তা দেওয়ার জন্য। আর রিপা তুই আমাকে কি ক্ষমা করবি ক্ষমা তো আমি করেছি। এক মিনিট এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে সবার গাল লাল হয়ে যাবে। রিপার মা:- তুমি কাজটা ঠিক করলেনা কিন্তু তখনি রিপার গালে আরেকটা থাপ্পড় তখনি ভাবি আম্মা সহ রিপার বাবা মা আর রিপা সোজা দৌরে চলে গেছে। শুধু তসিবা এখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমি:- তসিবা তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? তসিবা:- কিছু কথা বলার জন্য কথা গুলি বলা শেষ হলেই চলে যাবো। আমি:- কি কথা তাড়াতাড়ি বলো দেরি হলে কিন্তু। তসিবা:- বলছি। আসলে প্রথম দেখাতে আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আপনাকে সব বলতে চায়ছি কিন্তু হারানোর ভয়ে কিছু বলিনি। যদি সব শুনে আপনি আমাকে বিয়ে না করতেন তাই লুকিয়ে রাখছি। আমি ছোট থেকে অনেক যন্ত্রনা আর লাঞ্চনা পেয়ে বড় হয়েছি এক মাত্র আপনার বাবার কথায় আপনার কাছে এসেছি কিন্তু এখনো সূখের সন্দান পেলাম না। আমি যায় করেছি সব কিছু মাত্র একটু সূখের জন্য কিন্তু মিথ্যা বলে সত্য লুকিয়ে সেই সূখ পাওয়া যায়না এই আগে মনে হয়নি যতি হতো তাহলে এত কিছু করতে হতনা। আমি চলে যাচ্ছি যদি পারেন তাহলে ক্ষমা করে দিবেন। আসলে আমার ভাগ্যে কোনো সূখ লিখা নেই বলে তসিবা বাহিরে চলে যেতে ছিলো তখনি আমি ওর হাত ধরে টান মেরে আমার বুকে নিয়ে এসেছি। আমি:- যেহেতু একটু সূখের জন্য এত অভিনয় মিথ্যা বলেছো। সেহেতু একটু সূখ না তোমাকে অনেক সূখ দিবো। বলে তসিবার চোখের পানি গুলো মুছে দিয়েছি। ওর কপালে গালে অনেক গুলি কিস করেছি তসিবা আমাকে অনেক শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। তসিবা:- আপনার ভালোবাসাতে তো সব সূখ পাবেনা। আমি:- তাহলে আর কয়জনকে ভাড়া করে নিয়ে আসতে হবে নাকী? তসিবা:- ঐ আমি তো আমার সৎমা, বাবা, শ্বাশুমা, ভাবি, ভাই, আর আপনার বাবার সহ পরিবারের সবার ভালোবাসা পেতে চাই তাহলে আমি সূখী হবো। আমি:- কথা দিলাম তোমাকে সবাই ভালোবাসবে আর তুমি আট দশটা মেয়ের মত আর বাড়ির বউদের মত সূখী হবে। তসিবা:- পাক্কা! আমি:- পাক্কা। আমরা অল্প কিছু দিনের মধ্যে একটা শিশু বাচ্চা নিয়ে আসবো আমাদের সন্তান হিসাবে। যাদের ছেলে মেয়ে হয়না তাড়া কি সংসার করেনা। যদি তোমার যায়গা আমি হতাম তাহলে কি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে? তসিবা:- আমি আমার সোনা স্বামীটাকে কখনো ছেড়ে যেতাম না। তবে বাচ্চা এখন নয় আগে আমরা একজন গাইনী ডাক্তারের সাথে আলোচনা করবো। ছোট বেলা এক ডক্টর বলছে এরপর তো আর চেকাপ করায়নি। আমি:- ছোট বেলা কি হয়ছিলো তোমার? তসিবা:- ঠিক মনে নেই তবে আমার ছোট থাকতে একটা অপারেশন হয়ছে। এরপর অনেকদিন পর আব্বুকে ডাক্তার বলছে আমি নাকী মা হতে পারবোনা তখন আমি শুনেছি। তাই তো আমার সৎ মায়ের বোনের ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেবার কথা ছিলো কিন্তু আমি মা হতে পারবোনা তাই বিয়ে করেনি। আমি:- তোমার সাথে আমার জোড়া মিলানো তাই করেনি। ঠিক আছে চলো রুমে যায় আমি ফ্রেশ হবো। তসিবা:- আজ আমার মনে কিছুটা শান্তি লাগছে। আমার সিঁড়ি বাইতে ইচ্ছে করছেনা আমাকে কোলে করে উপরে নিয়ে যাবেন? আমি:- কি আর করবো বউয়ের আবদার মানা করা ঠিক হবেনা বলে তসিবাকে কোলে তুলে নিলাম। তসিবাকে কোলে নিতে আমার ভালোই লাগে। তসিবাকে কোলে নিয়ে রুমে এসেছি নাও নামো। তসিবা:- এই ছয় মাসে কত কি মিস করেছেন জানেন? আমি:- সমস্যা নেই এখন সব পুষিয়ে নিবো বলে তসিবাকে জড়িয়ে ধরেছি। আজ বিয়ের পর এই প্রথম তসিবাকে আপন করে নিলাম। দুজনের দুষ্টমি গুলি খুব মনে রাখার মত হয়ছে। তসিবা:- এবার ছাড়েন আমার ফ্রেশ হতে হবে। আমি:- আরো কিছুক্ষণ থাকো তারপর দুজনে এক সাথে ফ্রেশ হবো। তসিবা:- ছিঃ আমার লজ্জা করে। আমি:- লজ্জা কোন দিক দিয়ে করে? বলে তসিবাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি। কিছুক্ষণ পর তসিবা দৌরে ফ্রেশ হতে চলে গেছে আমি শুয়ে আছি কিছুক্ষনের মধ্যে তসিবা বেড় হয়েছে। তসিবা:- যান ফ্রেশ হয়ে নেন। আমি:- হ্যা যাচ্ছি! আমি গিয়ে শাওয়ার করে নিলাম। কিছুক্ষণ পর বেরুলাম তসিবা সাজ গুজ করেছে বাহা তসিবাকে অনেক সুন্দর লাগছে আমি গিয়ে পেছন থেকে তসিবাকে জড়িয়ে ধরেছি। তসিবার গায়ের গন্ধটা আমার নেশা ধরিয়ে দেয়। তসিবা:- আচ্ছা শ্বাশুমা আমাকে বউ হিসাবে মেনে নিবে তো? আমি:- নিবে দেখো কিছুদিনের মধ্যে মা তোমাকে অনেক আদর আর ভালোবাসবে। এখন চলো নিচে যাই খিদা লাগছে। তসিবা:- হ্যা চলেন! তসিবা আমার বাম হাতটা জড়িয়ে ধরে নিচে নামতেছে। ভাবি ভাইয়া আর আম্মা তাকিয়ে আছে। আম্মা:- বাহা দারুন আমার ছেলেটাকে তাবিজ করেছে কুফুরি কালাম করেছে। যে ছেলেটা এই মেয়েটাকে একটু সহ্য করতে পারতোনা আর সেই ছেলেটা এখন বউটাকে ছাড়া কিছু বুঝেনা। আমি:- কুফুরি কালাম করতে যাবে কেনো আমি তসিবাকে ভালোবাসি। আচ্ছা আম্মা তুমি তসিবাকে সহ্য করতে পারোনা কেনো? আম্মা:- মিথ্যাবাদী কোনো মেয়েকে আমি সহ্য করতে পারিনা। আর তাছাড়া তসিবার বাবা বলছে বিয়ের আগে যে নগদ চার লক্ষ টাকা আর আসবাপত্র সব দিবে তোকে কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেয়নি। রিপার বাবা আমাকে অগ্রিম দুই লক্ষটাকা দিয়ে দিয়েছিলো। আমি:- তোমার লোভ তোমাকে একদিন শেষ করবে। তসিবা আসো আমরা খাবার খেয়ে নেই। আমি তসিবা দুজনে বসেছি খাবার খেতে তখনি আম্মা তসিবার সামনে থেকে প্লেট নিয়ে নিয়েছে। আম্মা:- এই বন্ধা মেয়ের কোনো যায়গা নেই আমার বাড়িতে। আর আমার বাড়িতে থাকতে হলে বাসন মাঝা থেকে ঘর ঝাড়ু শুরু করে রান্নাবান্না সব করতে হবে। আমি কাজের মেয়েকে যেই বেতন দেয় তা হিসাব করবো যতদিন চার লক্ষ টাকা শুধ করবো। আমি:- তসিবা এত কাজ করতে পারবেনা আমি আপনাকে চার লক্ষ টাকা দিবো। আম্মা:- নাহ তসিবার বাবা মা যেইদিন এসে দিয়ে যাবে সেইদিন আমি মানবো। আমি:- ঠিক আছে আমি খাবোনা। তসিবা চলো আমরা বাহিরে খাবো বলে তসিবার হাত ধরে নিয়ে এসেছি বাহিরে। তসিবা:- কবে আমার বিশ বছর হবে আর কবে আমি টাকা উঠাবো আর শ্বাশুমাকে দিবো। আমি:- তোমার কোনো চিন্তা করতে হবেনা আমি সব ঠিক করে নেবো। এখন চলো তোমাকে নিয়ে ঘুরা হবে আর রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খেয়ে নিবো। তসিবা আমার হাতটা জড়িয়ে রাখছে আমি তসিবাকে দেখে হাটতেছি। দুজনে মিলে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম তসিবা বলো কি খাবে? তসিবা:- আমি রেস্টুরেন্টের খাবার সম্পর্কে তেমন ভালো করে জানিনা আপনি যা খাবেন আমি তাই খাবো। আমি:- ঠিক আছে! মেনু কার্ড দেখে খাবার অর্ডার করেছি। তসিবা আর আমি দুজনে খাবার শেষ করেছি বিলটা দিয়ে দুজনে বেরুলাম। তসিবা চলো ঢাকা হাসপাতালে যাই আমার ফ্রেন্ডের বউয়ের এমন সমস্যা হয়ছে তখন ঐখানের একজন গাইনী ডাক্তার কামরুনাহার জলি খুব ভালো ডাক্তার। ওনার সাথে তোমার বিষয়টা আলাপ করে আসি। তসিবা:- আমার খুব ভয় করছে যদি আমি কোনো দিন মা না হয়? আমি:- তখন একটা বাচ্চা পালক নিয়ে আসবো। চলো আমরা যাই আমার মন বলছে তুমি মা হতে পারবে। তসিবা:- আপনার কথা যেনো সত্যি হয়। তসিবাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছি কিছুক্ষনের মধ্যে ওনার চেম্বারে চলে গেলাম। ডক্টর:- বলেন কি সমস্যা? (তখন ওনাকে সব কিছু খুলে বলছি সব শুনে ওনি কিছু টেষ্ট দিয়েছে আমি তসিবাকে নিয়ে গেলাম। টেষ্ট গুলি আজকে সব করায় নিয়েছি) তসিবা:- আমার সব কিছু ঠিক আছে তো? ডক্টর:- দেখুন আপদত রিপুট বের হলে বলতে পারবো এরপর মেডিসিন দিবো। আমি:- ঠিক আছে তাহলে আমরা আজ যাই আগামীকাল আসবো। তসিবাকে নিয়ে বেরুলাম দুজনে হেটে আসতেছি তসিবার হাতটা খুব শক্ত করে ধরে রাখছি আর ওকে হাসাচ্ছি। দুজনে মিলে বাড়ির কাছে এসেছি। তসিবা:- শ্বাশুমা আমাকে অনেক বকা জকা করবে। আমি:- তুমি আমার সাথে সাথে রুমে চলে যাবে আর কোনো কথা বলবেনা কেমন। তসিবা:- ঠিক আছে। কলিং বেল চাপ দিয়েছি কিছুক্ষণ পর এসে আম্মা দরজা খুলেছে। আমি তসিবার হাত ধরে সোজা উপরে চলে যাচ্ছিলাম তখনি আম্মা তসিবার হাত ধরেছে। আম্মা:- আরে সৌরভ তসিবাকে নিয়ে যাচ্ছিস কেনো? বউমা তুমি এসো তোমার সাথে আমি অনেক অন্যায় করেছি এসো বউমা। আম্মা তসিবাকে অনেক আদর যত্ন করতেছে তসিবার সামনে এসে টেবিল ফ্যান লাগিয়ে দিচ্ছে কির করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। আমি:- আম্মা এমন করছেন কেনো কি হয়ছে সেইটা বলেন? আম্মা:- এই তুই চুপ থাক আর আমার বউমাকে কোনো কষ্ট দিবি না সবসময় ওর কথা মত চলবি। মা তসিবা তোমার কি লাগবে শুধু আমাকে বলবে। তসিবা আমি সহ সবাই আম্মার কান্ড দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছে। আমি:- আম্মা কি হয়ছে সেইটা তো বলবেন? তখনি আব্বা বলে! To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৩)

0
গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৩) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! বাড়ির ভিতরে ঢুকে আমি চারদিকে চোখ ভুলিয়ে দেখতেছি। অনেক বড় বড় করে আমার ছবি দেওয়ালে টানিয়ে রাখছে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করবো তখনি মহিলা বলে! মহিলা:- সৌরভ তুমি তো কফি খেতে পছন্দ করো তাইনা? তুমি একটু বসো আমি কফি বানিয়ে আনতেছি। আমি:- আচ্ছা আপনি কে? আমাকে চিনেন কি করে? আমার পছন্দ যানেন কি করে? আমি তসিবার জন্য এখানে এসেছি তসিবা কোথায়? (এক সাথে অনেক গুলি প্রশ্ন করে বসেছি) মহিলা:- কথা আস্তে বলো! আর তোমার কোন প্রশ্নের উত্তর আগে চাই বলো? আমি:- শুধু তসিবা কোথায় সেইটা বলেন আমার আর কোনো কিছু জানার দরকার নেই। মহিলা:- তুমি বসো আমি কফি নিয়ে আসতেছি। আমি:- আমার কিছু লাগবেনা প্লিজ আপনি বলেন তসিবা কোথায়? মহিলা:- তসিবা আছে তবে একটু কাজে বেড় হয়ছে। তুমি বসো আমি কফি নিয়ে আসি। আমি:- আপনি তসিবার কি হন? তখনি একজন বলে। (ওনি আমার মা হয়) আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি তসিবা। তবে তসিবা কপালে বেন্ডিজ করা। তসিবা:- আপনি এখানে এসেছেন কি করে? আপনাকে এই বাড়ির ঠিকানা কে দিয়েছে। তসিবার মা:- আমি দিয়েছি! তখনি চেয়ে দেখি আমার আব্বা ভিতরে ঢুকে আর বলছে। আব্বা:- মা তসিবা এই ঔষধ গুলি নিয়মিত খেতে বলছে। (আব্বা আমাকে দেখে চমকে গেছে) সৌরভ তুই এখানে? আমি:- আপনি এখানে কেনো? তসিবা:- আব্বা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি:- তসিবা তুমি আমাকে না জানিয়ে চলে এসেছো কেনো? আর তোমার কপালে বেন্ডিজ কেনো? তসিবা:- আমার কপালে বেন্ডিজ সেইটা থাকবে। তবে আপনার মা আর ভাবি দুজনে মিলে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আর বলছে আমি যেনো কোনো দিন আপনার সাথে যোগাযোগ না করি। আমি:- তাই বলে তুমি আমাকে না বলে চলে আসবে? তসিবা:- আপনাকে বলতে যাবো কেনো আপনি তো আমার সাথে কথা বলতে চাননা। আপনাকে কি একটা থাপ্পড় দিয়েছি তার জন্য আপনি আমাকে থাপ্পড় দিয়েছেন। আজকে আপনার মা আমাকে বেড় করে দিয়েছে এতে আমার লাভ হয়ছে আমি আমার মাকে পেয়েছি। আব্বা আমাকে এখানে এনে আমার মায়ের সাথে দেখা করিয়ে দিয়েছে। আব্বা:- সৌরভ শুন তসিবার বাবা মায়ের যোহাযোগ আছে কিন্তু তসিবা জানতে পারেনি। তসিবার বাবা মা আমার বন্ধু ছিলো আমরা এক সাথে পড়া শুনা করেছি। যখন তসিবার বিয়ের সময় হলো তখন আমরা তিন জন মিরে সিদ্যান্ত নেই তোর সাথে তসিবার বিয়ে দিবো। আমি:- যদি ওনারা ভালোবেসে বিয়ে করে থাকে তাহলে আলাদা হলো কেনো? তসিবার মা:- সৌরভ আমি বলছি সেইটা আমার শ্বাশুমার লোভের জন্য। তবে তসিবার বাবার সাথে আমার ছোট ছোট ঝগড়া এক সময় বড় হয়ে দ্বাড়ায়। আমাদের বিশ্বাসের যায়গা সন্দেহ তৈরি হয়ে যায় তখনি আমি চলে আসি এখানে। আমি:- কিন্তু আপনি আমার ছবি পেয়েছেন কোথায়? আব্বা:- আমি দিয়েছি তোর আর তসিবার বিয়ের ছবি। সৌরভ তুই কি তসিবাকে ভালোবাসিস? আমি:- আব্বা আমি অনেক ভালোবাসি তসিবাকে। তসিবা:- আমি এখন আপনাকে ভালোবাসিনা। আমি:- ঠিক আছে ভালোবাসতে হবেনা কুল বালিশ হলে হবে। তসিবার মা:- সৌরভ তুমি তসিবাকে এখন নিয়ে যেয়োনা। তোমার মায়ের মনে এখন অনেক টাকার লোভ আছে আগে সেইটা শেষ করো। আমি:- ঐটা আমি বুঝবো আগে তসিবাকে নিয়ে যাবো। আব্বা:- সৌরভ আগে তোর আম্মাকে একটু ভয় দেখা তারপর তসিবাকে নিয়ে যাস। তসিবা:- অনেকদিন পর আমার মাকে পেয়েছি আমি মায়ের কাছে থাকি। আমি:- ঠিক আছে আমিও থাকবো। তসিবা আমি মিলে অনেক গল্প করেছি ওর মায়ের সাথে। দুই দিন ভালোই গেছে তসিবা আমাকে অনেক ভালোবাসে আর আমিও আমাদের মাঝে এখন আর ঝগড়া হয়না। তসিবা আমাদের দুইটা ছেলে মেয়ে হবে প্রথম মেয়ে এর পর ছেলে কেমন? (তসিবা চেহারাটা কালো করে নিয়েছে) তসিবা:- আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না তো? আমি:- কোনো দিন না বলে তসিবাকে জড়িয়ে ধরেছি। তসিবা আমি খুব ভালো করে সময় কাটাচ্ছি আজ তসিবাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে যাবো। কিন্তু আম্মা কি রিয়াক্ট করে সেইটা দেখার বিষয়। তসিবাকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরুলাম। ঘন্টা দুইয়েক পর বাড়িতে এসেছি। তসিবা:- আমার খুব ভয় করছে! আপনার মা ভাবি যদি আমাকে আবার অত্যাচার করে? আমি:- দূর বোকা আমি আছি তো। কলিং বেল চাপ দিয়েছি তসিবা আমার পেছনে লুকিয়ে গেছে। আম্মা এসে দরজাটা খুলে দিয়েছে আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছে। আম্মা:- সৌরভ ঠিক টাইমে এসেছিস। আমি:- কেনো? আম্মা:- আয় ভিতরে আয় আম্মা আমার হাত ধরে ভিতরে আনবে তখনি তসিবাকে দেখছে। সৌরভ তুই তসিবাকে কেনো নিয়ে এসেছিস? আমি:- আমার বউ আমি আনবো সেইটা আপনাকে বলতে যাবো কেনো? আম্মা:- তসিবাকে ছাড় তোকে দেখার জন্য রিপার বাবা মা দুজনে এসেছে। আয় আমার সাথে বলে রিপার বাবা মায়ের কাছে নিয়ে গেছে। কাছে গিয়ে দেখি রিপা এসেছে। রিপা:- হাই সৌরভ কেমন আছো বলে আমাকে জড়িয়ে ধরতে চায়ছে কিন্তু আমি তসিবাকে সামনে নিয়ে এসেছি। রিপা মা:- বেয়ান আপনার বোনের মেয়ে এখনো যায়নি? আমি:- ওর নাম তসিবা আমার বিবাহিত বউ। আপনার মেয়ে রিপাকে তো আমি বলে দিয়েছি তাও এখানে কেনো এসেছেন? রিপার বাবা:- কি বলছে বেয়ান কথা কি সত্যি? আমি:- সব সত্যি আর এখুনি এই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাবেন। যদি না যান তাহলে ঘার ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দিবো। আপনার মেয়ে একটা লোভি আগে ওকে ঠিক করেন। আম্মা:- সৌরভ তুই কি বলছিস? আমি:- আম্মা আমি ঠিকই বলছি! হয় তসিবাকে এই বাড়ির বউ হিসাবে মেনে নিবেন না হয় আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। এবার বলেন আপনি কোনটা করবেন? আম্মা:- তসিবাকে বউ হিসাবে মেনে নিলে কি হবে তসিবা তো কোনো দিন মা হতে পারবেনা। আমি:- কি যাতা বলছেন আপনি ছিঃ কেনো তসিবার নামে এমন কথা বলছেন? আম্মা:- আমাকে কিছু বলার আগে তসিবাকে জিজ্ঞেস কর আমি সত্যি নাকী মিথ্যা বলছি। আমি:- তসিবা আম্মা কি বলছে? তসিবা চুপ করে আছে কোনো উত্তর দিচ্ছেনা! কি হলো আম্মা যা বলছে তা কি ঠিক বলছে? তখনি তসিবা কান্না করে দিয়েছে আর আমার হাতটা ছেড়ে দিয়েছে। আচ্ছা আম্মা আপনাকে কে বলছে তখনি আম্মা এমন একটা মমানুষের নাম বলছে শুনে আমি তসিবার দিকে তাকিয়ে আছি।To be continue,,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১২)

0
গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১২) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তোর স্বামীকে জ্বালানো শেষ হয়ছে নাকী আরো জ্বালাবি? এমনিতেই তোর স্বামী তোকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলছে। অনেক হয়ছে অভিনয় এবার সৌরভকে বলে দে সব কিছু। (তখনি আমি বলি) আপনি কে আর কাকে ফোন করেছেন? (ঐপাশ থেকে বলছে! এইটা তসিবার মোবাইল আমি তসিবাকে ফোন করেছি আপনি কে?) আমি সৌরভ তসিবার বর। এইরে সব কিছু গন্ডগোল হয়ে গেছে! আচ্ছা তসিবা কোথায়? তসিবা কি সব বলে দিয়েছে? আমি:- কি বলবে তসিবা? আর আপনি কে? আমার নাম তিশা তসিবার একমাত্র বান্ধবী। তসিবা আপনাকে সব বলে দিয়েছে? আমি:- কি বলবে তসিবা আর আপনার নাম যদি তসিবা হয় তাহলে এখানে সাহেদ নামে আপনার নাম্বার সেইব রাখছে কেনো? তিশা:- আসলে সাহেদ আমার স্বামী! তসিবা আমার সাথে আপনার ব্যাপারে সব সেয়ার করছে। তখন আমি সাহেদ মিলে তসিবাকে বলছি আপনার সামনে সাহেদের সাথে মিথ্যা ভালোবাসার নাটক করতে। আপনার আর রিপার Engagement এর দিন থেকে সাহেদ তসিবার সাথে অভিনয় শুরু করছে। তসিবা বলছে আপনি নাকী সাহেদের নামটা একদম সহ্য করতে পারতেন না। তসিবা আপনার সামনে ইচ্ছে করে মোবাইল কানে লাগিয়ে শুধু শুধু কথা বলত। তসিবা আপনাকে খুব ভালোবাসে প্লিজ আপনি তসিবাকে বউ হিসাবে মেনে নেন। আমি:- বউ হিসাবে মেনে নিবো কিন্তু তসিবা এখন কোথায়? তিশা:- মানে তসিবা তো আপনার কাছে আর আপনাদের বাড়িতে থাকার কথা। আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেনো তসিবা কোথায়? আমি:- তসিবা এখানে নেই আর তসিবা আপনার স্বামীর সাথে ভাগছে। তিশা:- কি বলেন আমার স্বামী সাহেদ তো আমার পাশে বসে আছে। আপনার কোখাও ভুল হচ্ছে তসিবা আমাকে ফোন করে বলছে আপনাকে সব বলে দিবে আর আপনার সাখে সংসার করবে। আমি:- কি বলছেন আপনি? আচ্ছা তসিবা কোথায় যেতে পারে আপনি বলতে পারেন? তিশা:- আমার জানা মতে তসিবার যাওয়ার মত কোনো যায়গা এই শহরে কোথাও নেই। তবে মনে হয় ওর নিজের বাড়িতে একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আমি:- আচ্ছা ঠিক আছে! আর তসিবা যদি আপনার কাছে যাই তাহলে আমাকে জানাবেন প্লিজ। ফোনটা কেটে কিছুটা চিন্তা করতে আরম্ভ করেছি হঠাত মনে পড়েছে এই লিখা গুলি তসিবার হাতের নয়। আমি তাড়া তাড়ি করে নিচে গেলাম দেখি আম্মা ভাবি দুজনে বসে হাসা হাসি করছে আর ভাবি বলছে। ভাবি:- আম্মা আপনার জবাব নেই সৌরভকে কি সুন্দর মিথ্যা বানিয়ে বলছেন। আর সৌরভ বোকা কত ভালো একটা মেয়ে তসিবা ওকে কি পরিমান কষ্ট দিয়েছে। আম্মা:- রিপাকে বিয়ে করিয়ে আনতে পারলে অনেক কিছু পাবো। নগদ দুই লক্ষ টাকা সাথে ফ্রিজ আসবাপত্র সহ নানা জিনিস পত্র পাবো। ভাবি:- তসিবাকে বিয়ে করিয়ে এনে আপনি কিছুই পাননি বরং এত দিন বসে বসে খেয়ে গেছে। আম্মা:- রিপার বাবাকে আগে সব বলে দিয়েছি। সৌরভের সাথে রিপার বিয়েটা ভালোই ভালোই হলেই সারে। আমার টাকা পেলে আর কিছুই প্রয়োজন হয়না। বড় বউ সৌরভ যাতে এসবের কিছুই জানতে না পারে। আমি:- জানতে পারবেনা মানে সব যেনে গেছি। ছিঃ আম্মা আপনি এমন ভাবতেও আমার ঘৃণা হচ্ছে। তসিবার সাথে এমনটা করতে আপনার একটু বিবেকে বাধা দেয়নি? আম্মা:- না দেয়নি এতিম মেয়েকে বিয়ে করিয়ে এনে আমার কোনো লাভ হয়নি বরং লছ হয়ছে। শুন সৌরভ তসিবাকে ডির্ভোস দিয়ে রিপাকে বিয়ে করে নে এতে আমাদের সবার লাভ হবে। আমি:- রিপাকে বিয়ে করবো আমি? আম্মা আমি রিপার সব প্লান যেনে গেছি আমি রিপাকে জীবনেও বিয়ে করবোনা। আমি রিপার কাছ থেকে আংটি খুলে নিয়ে এসেছি। এই যে দেখেন রিপার আংটিটা। আম্মা:- সৌরভ তুই এইটা কি করলি? বড় বউ আমাকে ধরো আমার দুই লক্ষ টাকা আসবাপত্র সহ সব গেছে। (ভাবি আম্মাকে ধরেছে) আমি:- শুনো আম্মা আমি তসিবাকে খুঁজে বেড় করে আনবো। তসিবা যেখানে থাকুক ওকে খুঁজে বেড় করে তসিবাকে এই বাড়িতে নিয়ে আসবো। এরপর যদি তসিবার সাথে খারাপ আচরন করো তাহলে তোমার সোনার ডিম পাড়া হাঁসটা সারা জীবনের জন্য হারাবে। কারন আমি তসিবাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো দূরে অনকে দূরে। আম্মা:- সেইটা আমি দেখে নিবো আর তসিবাকে তুই কোথাও খুঁজে পাবিনা। আমি:- মানে তসিবার সাথে তোমরা কি করেছো? আম্মা:- আমরা কি করবো তসিবা তো ভাগছে তার নাগরের সাথে। আমি যা বলি তা কর রিপাকে বিয়ে করে নে দেখবি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি:- আপনার স্বপ্নটা স্বপ্ন রয়ে যাবে। ভাবি তসিবাকে যদি না পায় তাহলে তোমাদের সবার নামে থানায় মামলা করবো। (ভাবি থানায় মামলার কথা শুনে ভয় পেয়ে গেছে) ভাবি:- সৌরভ আমি কিছু জানিনা তসিবা যাওয়ার সময় আমাকে বলছে ওর আপন মানুষের কাছে যাচ্ছে। আমি:- আপন মানুষটা আবার কোথা থেকে এলো? ভাবি:- আমি জানি প্লিজ তুমি থানায় মামলা করোনা। আমি:- তসিবাকে না পেলে তোমার নামে ঠিকই মামলা করবো। মনটা খারাপ করে বেড়িয়ে পড়েছি কোথায় খোঁজবো তসিবাকে? তিশার নাম্বারে ফোন করেছি রিং হতেই রিসিব করেছে। আচ্ছা তিশা তসিবার আপন মানুষটা কে? তিশা:- আমি জানিনা। আমি:- ঠিক আছে! ফোনটা কাটছি তখনি মোবাইলে একটা মেসেজ এসেছে। সৌরভ তসিবার খোঁজ করতেছো? যদি তসিবাকে পেতে চান তাহলে এখুনি বনানী ১২/০০ বাড়িতে চলে আসেন। তবে তাড়া তাড়ি আসবেন আর একা আসবেন। আমি গাড়িটা নিয়ে ঐ বাড়িতে রওনা দিলাম নাম্বারে বার বার ফোন করতেছি কিন্তু বন্ধ বলছে ঘন্টা দুইয়েক পর বাড়িতে গেলাম। কলিং বেল চাপ দিয়েছি আর বুকের হার্টবিট বেরে যাচ্ছে কিছুক্ষণ পর এসে একজন মহিলা দরজাটা খুলে দিয়েছে। আমাকে দেখে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে। মহিলা:- সৌরভ ভিতরে এসো আর এতটা চিন্তিত মনে হচ্ছে কেনো? (আমি আরে এই মিহলা আমাকে চিনে কি করে আর আমার নাম জানে কি করে যখনি বাড়ির ভিতরে ঢুকেছি আমি চার দিকে তাকিয়ে তো পুরায় অবাক হয়ে গেছি আমার ছবি দিয়ে এমন সুন্দর করে দেওয়ালে টানিয়ে রাখছে কেনো? To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১১

0
গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১১) লেখা:-AL Mohammad Sourav !! তসিবাকে থাপ্পড় দেওয়াটা ঠিক হয়নি! কিন্তু কি করবো যেই তসিবা আমি বলতে অজ্ঞান হয়ে যেতো। যেই তসিবা আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝতোনা সেই তসিবা আমাকে থাপ্পড় দিতে একটুও চিন্তা করলোনা? আম্মু ঠিকই বলছে তসিবা এতদিন আমাদের সাথে অভিনয় করছে। গাড়ির কাছে চলে এসেছি মনটা খুব খারাপ তসিবার চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে তখনি মোবাইলটা ভেজে উঠছে হাতে নিয়ে দেখি আব্বার নাম্বার রিসিব করতেই বলে। আব্বা:- সৌরভ তুই কোথায় আছিস? আমি:- আব্বা আমি গাড়িটার কাছে আছি আমি বাড়িতে চলে যাচ্ছি। আব্বা:- তুই বাড়িতে যাচ্ছিস কেনো? এদিকে তসিবা মায়ের মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তসিবা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে আছে আর তুই একা একা বাড়িতে যাচ্ছিস? এখুনি তুই মেইন হলের সামনে চলে আয় বলছি। আমি:- কি বলছেন মুখ দিয়ে রক্ত আসবে কেনো? টুট টুট শব্দ শুনতে পেলাম আব্বা ফোন কেটে দিয়েছে আমি তাড়া তাড়ি করে হলের সামনে গেছি দেকি গুল করে সবাই গেরাও দিয়ে রাখছে আমি ভিতরে ঢুকেছি দেখি আব্বা তসিবার কাছে বসে আছে আমি পাশে গেছি। আব্বা:- সৌরভ তসিবার হঠাত করে এমন হলো কেনো? আমি:- পরে বলছি আগে হাসপাতালে নিয়ে চলেন তসিবাকে। আমি তসিবাকে কুলে তুলে নিয়েছি। তসিবার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখি ওর নিচের ঠোট কেটে রক্ত পড়ছে আমি ওকে নিয়ে গাড়ির কাছে যেতেছি তখনি দেখি তসিবা চোখ মেলেছে। তসিবা:- আপনি আমাকে কুলে নিয়েছেন কেনো এখনি নামান বলছি। আব্বা:- তসিবা তোমার জ্ঞান ফিরেছে। তুমি তো অজ্ঞান হয়ে ছিলে তাই তোমাকে সৌরভ কুলে নিয়ে গাড়িতে বসাতে চায়ছিলো। তসিবা:- আব্বাজান আমি ঠিক আছি আমাকে নামাতে বলেন। আমি:- নামাচ্ছি আর আমারো কোনো ইচ্ছে নেই মিথ্যাবাদী কোনো মেয়েকে কুলে নিয়ে রাখার। বলে তসিবাবে কুলের উপর থেকে ছেড়ে দিয়েছি আর ঠাস করে আওয়াজ হয়েছে। তসিবা:- ও মা গু আমার কোমড়টা বুজি গেছে! (তসিবা কান্না করছে আমি হাটা দিয়েছি তখনি আব্বা বলে) আব্বা:- সৌরভ তসিবাকে এমন ভাবে ছেড়ে দিয়েছিস কেনো? আমি:- সেইটা আপনার বউমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি গেলাম। কোনো কথা না বলে আমি সোজা বেড়িয়ে এসেছি। দূর কিছুই ভালো লাগছেনা তসিবা ঐ মেয়েটার জন্য আমাকে কেনো থাপ্পড় দিবে? নিশ্চয়ই বড় কোনো ধরনের গন্ডগোল আছে আগে ঐ মেয়েটাকে খুঁজে বের করতে হবে। আচ্ছা তসিবাকে একবার জিজ্ঞেস করাটা কি জুরুরী ছিলোনা? মনের মাঝে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যাই বাড়িতে যাই তসিবাকে জিজ্ঞেস করি তাহলে সবটা বের হবে। ঘন্টা খানেকের মধ্যে বাড়িতে এসেছি কলিং বেল চাপ দিতেই ভাবি এসে দরজা খুলে দিয়েছে। ভাবি:- সৌরভ এসেছো তাহলে ভিতরে এসো এতক্ষন তোমার কথা হচ্ছিলো। আমি:- কেনো কি হয়ছে? আম্মা:- সৌরভ তসিবা তোকে নাকি চর দিয়েছে? ভাবি:- হ্যা দিয়েছে আর সৌরভ তসিবাকে থাপ্পড় দিয়েছে। আমি:- আম্মা যা হবার হয়ে গেছে এখন এসব বাধ দেন। আম্মা:- বাধ দিবো কেনো? আমি আগে বলেছি তসিবা মেয়ে হিসাবে ভালোনা। সৌরভ তুই এখুনি তসিবাকে বের করে দিবি যেই মেয়ে তার স্বামীকে থাপ্পড় দিতে পারে সেই মেয়ে কখনো ভালো হতে পারেনা। আব্বা:- তুমি চুপ থাকো সৌরভ তসিবা কেনো তোকে থাপ্পড় দিয়েছে আগে সেইটা জানতে হবে। তসিবা মনে হয় ইচ্ছে করে তোকে থাপ্পড়টা দেয়নি। আমি:- তসিবা এখন কোথায়? ভাবি:- কোথায় হবে রুমে গিয়ে দিব্যি ঘুমাচ্ছে। আমি:- আচ্ছা এখন আমি রুমে যাই যা হবে সকালে বুঝা যাবে। সোজা রুমে দিকে চলে এসেছি। রুমে ঢুকে দেখি তসিবা ওর গহনা ঘাটি খুলছে আমি রুমে ঢুকে কোনো কথা বলিনি। আমাকে দেখে তসিবা উয়াস রুমে চলে গেছে। আমি কাপড় চেইন্জ করে খাটের উপর বসে আছি কিছুক্ষণ পর তসিবা রুমে এসেছে। আমাকে দেখে না দেখার মত করে মোবাইলে কথা বলছে হেসে হেসে আমি কিছু বলছিনা। কিছুক্ষণ পর বালিশ আর চাদর নিয়ে নিচে শুয়ে পড়েছে। আমি আলমারীর উপর থেকে কুল বালিশ নামিয়ে খাটের উপর শুয়ে পরেছি। আজকে আর কোনো কথা বলিনি মাঝ রাতে কারো নিশ্বাষে ঘুম ভাঙছে চেয়ে দেখি তসিবা আমার বুকের উপরে শুয়ে আছে। আমি কিছু বলিনি ওকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেছি সকালে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে এসে ফ্রেশ হয়ে সোজা অফিসে চলে গেছি। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেছে সন্ধার দিকে অফিস থেকে বেড়িয়ে বাইক নিয়ে একা রেস্টুরেন্টে গেছি। একা একা বসে খাবার খাচ্ছি তখনি একজন বলছে। সৌরভটা অনেক বোকা ও জানে আমি ওকে ভালোবাসিনা তাও ও আমাকে নিয়ে অনেক শপিং করে দেয়। সৌরভ বিয়ে আমি জানি তখনি আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি রিপা। আমি ওর সব কথা শুনতেছি সাথে একটা ছেলে আছে। ছেলে:- আচ্ছা যদি সৌরভ বুঝতে পারে তুমি মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করতেছো তখন কি করবে? রিপা:- রাব্বি তুমিও না আসলে সৌরভ বুঝতে পারবেনা কারন সৌরভ ও তার মা আমাকে অনেক বিশ্বাস করে। আজকে সৌরভকে দিয়ে স্যামসাং এম আই সেট কিনবো। আর তোমাকে গিফট করবো কেমন। রাব্বি:- ওকে জানু আচ্ছা তাহলে এখন চলো যাওয়া যাক। আর সৌরভকে তুমি ফোন করো কেমন। আমি:- ফোন করতে হবেনা আমি নিজেই হাজির রিপা। (রিপা পেছন ফিরে আমাকে দেখে তুতলাতে তুতলাতে বলে) রিপা:- সৌরভ তুমি এখানে? আমি:- হ্যা আমি আমি এখানে খাবার খেতে এসেছিলাম আর তোমার আসল রুপটা দেখতে পেলাম। ছিঃ রিপা তোমার মন মানুষিকতা এতটা ছোট আগে জানা ছিলোনা। আজকের পর যদি তোমাকে আমাদের বাড়িতে বা আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করো তাহলে এর পরিনাম ভালো হবেনা। দাও আমার রিংটা দাও বলে রিপার আঙুল থেকে টেনে খুলে নিয়ে এসেছি। রেস্টুরেন্টের সবাই তাকিয়ে আছে আমি বেড়িয়ে এসেছি। বাড়িতে এসে কলিং বেল চাপ দিয়েছি অনেক পরে এসে আম্মা খুলে দিয়েছে। আম্মা:- সৌরভ আজকে এত তাড়া তাড়ি চলে এসেছিস? আমি:- কেনো কোনো সমস্যা হয়ছে নাকী? আম্মা:- নাহ সমস্যা হবে কেনো তুই তো বাড়িতে রাত নয়টার কমে আসিসনা তাই জিজ্ঞেস করেছি। আমি:- এমনিতেই মনটা খারাপ তাই। বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখি তসিবা মন খারাপ করে বসে আছে। তসিবা রুমে আসো তোমার সাথে আমার কথা আছে। ভাবি:- সৌরভ তুমি যাও তসিবা পরে আসবে। আমি:- কেনো পরে আসবে কেনো? তসিবা তুমি এখুনি আসবে আসো তখনি তসিবা দাঁড়িয়েছে। আম্মা:- সৌরভ তুই যা তসিবা আসতেছে। আমি:- নাহ আমার সাথে যাবে তখনি গিয়ে তসিবার হাত ধরেছি তসিবা আমার দিকে তাকিয়েছে আমি ওকে টেনে রুমে নিয়ে এসেছি। আচ্ছা তুমি ঐ মেয়েটির জন্য আমাকে থাপ্পড় দিয়েছো কেনো? তসিবা:- আপনি ঐ মেয়েটিকে থাপ্পড় দিয়েছেন কেনো? আমি:- ঐ মেয়েটি তোমাকে থাপ্পড় দিতে চায়ছে। তসিবা:- তাতে আপনার কি আমাকে থাপ্পড় দিবে কি দিবেনা তাতে আপনির কি? আমি:- তোমাকে না বলছি তর্ক না করতে ঐ মেয়েটি কে বলবে? তসিবা:- আমার সাথে কথা বলতে কে বলছে? আমার কথা যদি আপনার তর্ক মনে হয় তাহলে আমি কথা বলবোনা। এই ঠোটে আঙুল দিলাম আপনি যা বলেন তার কোনো উত্তর পাবেন না। আমি:- আম্মা ঠিক বলে তোমার মত অভিনয় আর কেউ পারবে বলে মনে হয়না। তসিব:- হ্যা আমি অভিনয় করি আর মিথ্যা বলি। ঐ মেয়েটি আমার খালাম্মা আপনি মেয়েটিকে থাপ্পড় দিয়েছেন সেই থাপ্পড়টা আমার বাবার গালে পড়বে। আমি আপনাকে থাপ্পড় দিয়েছে তার জন্য আপনি আমাকে থাপ্পড় দিয়েছেন। জানতে চাননি কেনো আপনাকে থাপ্পড় দিয়েছি। আমি:- তোমার সৎ মায়ের আপন বোন হয়? তসিবা:- হ্যা! যদি আপনাকে থাপ্পড় না দিতাম তাহলে আব্বুকে ওরা অনেক নির্যাতন করত। আপনাকে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য সরি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমি:- ঠিক আছে! আচ্ছা তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো। তসিবা:- থাক কি বলবেন আমি জানি। সাহেদের সাথে আমার কথা হয়ছে আমি অল্প কিছুদিনের মধ্যে চলে যাবো। আপনার আম্মা ভাবি আমাকে সহ্য করতে পারেনা এইটা আমি বুঝতে পারি। আমি:- আগে আমার কথাটা তো শুনবে? তসিবা:- কি বলবেন? যা বলার তা তো আগেই বলছেন পুরুনো কোনো কথা শুনার ইচ্ছে বা আগ্রহো কোনোটাই আমার নেই। সাহেদ বলছে আজকে ওর পরিবারের সবার সাথে কথা বলে আমাকে জানাবে। (তখনি তসিবার মোবাইলটা বেজে উঠেছে) এই তো সাহেদ ফোন করেছে রিসিব করে আমার সামনে থেকে চলে গেছে। আমি:- তসিবা প্লিজ কথাটা শুনো (তসিবা মোবাইলটা হাতে নিয়ে চলে গেছে) তসিবা কেনো আমার কথা গুলি শুনছেনা? দূর কিছু ভালো লাগছেনা যাই গিয়ে দেখি তসিবা কোথায়? তসিবাকে খুঁজতে খুঁজতে ছাদের উপরে চলে গেছি নাহ তসিবা ছাদে নেই। আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছি চাঁদকে দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। সারা রাত ছাদের উপরে ছিলাম প্রতি দিনের মত আজকেও সব কিছু করে অফিসে চলে আসলাম। স্যার:- সৌরভ কিছু দিন ধরে দেখছি মুড অফ থাকে আপনার কোনো সমস্যা? আমি:- নাহ স্যার আমি ঠিক আছি! স্যার চলে গেছে আমি কাজ করেছি নিজের মত করে আজকে ঠিক রাত নয়টার দিকে বাড়িতে গেছি। আজকে দরজা খুলা ভিতরে ঢুকতেই ভাবি বলে। ভাবি:- সৌরভ তোমার বউ তসিবা তার নাগরের সাথে চলে গেছে। আমি:- কি যাতা বলছেন ভাবি? মুখ সামলিয়ে কথা বাত্রা বলেন তানা হলে ভালো হবেনা কিন্তু। আম্মা:- সৌরভ তোর ভাবি একদম ঠিক কথা বলছে। আজকে সাহেদ নামে একটা ছেলে এসেছে আর ওর সাথে চলে গেছে। যাওয়ার সময় বলে গেছে তুই নাকী আগেই ডির্ভোসের এপ্লিকেশনে সাইন করে নিয়েছিস। আমি:- সত্যি তসিবা এমনটা করেছে? তখনি আব্বা বলে? আব্বা:- হ্যা সৌরভ তসিবা আমার কথাও রাখেনি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু তসিবা চলে গেছে। আমি:- ঠিক আছে! যদি তসিবা আমাকে ছেড়ে থাকতে পারে তাহলে আমিও পারবো। মনটা খারাপ করে চোখ দিয়ে নিজের অজান্তে পানি পড়ছে রুমে ঢুকেছি রুমটা শুন্য রাখছে খাটের উপর চেয়ে দেখি এক টুকরো কাগজ হাতে নিয়ে দেখি কিছু লিখা। আপনি বাড়িতে ঢুকলে জানতে পারবেন তাও কাগজে লিখে গেলাম চলে যাচ্ছি সাহেদের সাথে। সাহেদ আমাকে অনেক ভালোবাসে ওর ভালোবাসার অসম্মান করতে চায়নি তাই চলে গেলাম ওর সাথে। আপনি এখন রিপার সাথে খুব সহজে সূখের সংসার করতে পারবেন। আপনার বুকের উপর ঘুমাতে খুব ভালো লাগতো খুব মিস করবো আপনার বুকটাকে। আর হ্যা আমার অভিনয়টা কেমন লাগলো? আপনার সাথে কাটানো সময় গুলি খুব মিস করবো ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ। আমি:- তোমার অভিনয়টা আমি বুঝতে পারিনি তসিবা। আচ্ছা কেনো এমনটা করলে আমি তো তোমাকে খুব ভালোবাসি। তখনি মোবাইলটা বেজে উঠেছে আমার মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি রিংটন আমার মোবাইলের না। আরে তাহলে কার মোবাইলটা বাজতেছে এদিক সেদিকে তাকিয়ে দেখি ডেসিং টেবিলের উপরে তসিবার মোবাইলটা বাজতেছে। কাছে গিয়ে দেখি সাহেদ নামটা ভেসে আছে হাতে নিয়ে রিসিব করতেই একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসছে তখনি ঐ খান থেকে বলছে। কিরে তোর অভিনয়টা কি শেষ করবি নাকী আরো তোর স্বামীকে জ্বালাবি? To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১০)

0
গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১০) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! এতদিন বোবা সেজে আমাদের সবার সাথে অভিনয় করতে তোমার লজ্জা করেনি? সৌরভ তসিবাকে আজকের মধ্যে তুই ওর বাপের বাড়িতে দিয়ে আসবি। যদি তসিবা এই বাড়িতে থাকে তাহলে আমি বাড়ি থেকে চলে যাবো। এখন বল তসিবাকে রাখবি নাকি আমাকে রাখবি? (তখনি ভাবি বলে) ভাবি:- আম্মা আপনি এসব কি বলছেন? এই বাড়ি তো আপনার নামে আপনি তসিবাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এখানে সৌরভকে কেনো জিজ্ঞেস করছেন? সৌরভ তো আরো খুশি হবে যদি তসিবাকে বিদায় করে দেন। আম্মা:- বড় বউ তুমি এই প্রথম একটা ভালো বুদ্দি দিয়েছো তোমার জন্য পুরুষ্কার আছে। সৌরভ আমি চাইনা তসিবা এই বাড়িতে থাকুক আজকে ওকে ওর বাপের বাড়িতে দিয়ে আসবি। মিথ্যাচারিণীর এই বাড়িতে কোনো যায়গা নেই। আমি:- আম্মা আপনি কি বলছেন? তসিবা কেনো কথা বলেনি আগে সেইটা যানেন? তারপর আপনি যা বলবেন তাই হবে। আম্মা:- সত্যি বলছিস তো আমি সব শুনার পর যা বলবো তাই করবি? (এবার তো আমি আম্মার কথা শুনে থমকে গেছি। আম্মা তো সব শুনে কোনো দয়া মায়া দেখাবেনা সোজা তসিবাকে বের করে দিবে। কিছুটা চিন্তা করে বলছি) আমি:- ঠিক আছে যদি তসিবাকে নিয়ে আপনাদের এত সমস্যা তাহলে আমি তসিবাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাবো। (তখনি তসিবা আমার দিকে তাকিয়ে আছে) আম্মা:- মানে তুই যাবি কোথায় তাহলে রিপাকে বিয়ে কে করবে? আমি:- সেইটা এখন বলতে পারছিনা যদি তসিবাকে বেড় করে দেন তাহলে আমি সাথে চলে যাবো। আম্মা:- সৌরভ আজকাল তুই আমার মুখের উপর কথা বলিস। আমি কি না করেছি তোদের জন্য আর আজকে আমার মুখে মুখে তর্ক করিস? (আম্মা কান্না করে দিয়েছে কথা গুলি বলে) তসিবা:- আম্মা আপনি কান্না করবেন না আমি চলে যাবো। আম্মা:- একদম চুপ মিথ্যাবাদী আমার ছেলেটার সাথে আমার ঝগড়া লাগিয়ে এখন এসেছে দরদ দেখাতে। তসিবা:- আমি কোনো মিথ্যা বলিনি। আম্মা:- তাহলে এতদিন বোবা সেজে অভিনয় করিছেলে কেনো? সবার কাছে আমি বলেছি তুই বোবা এখন সবার কাছে আমি মিথ্যাচারিণী হবো এক মাত্র তোর জন্য। আমি:- আম্মা আপনি তসিবার সাথে কেনো এমনটা করছেন? তসিবাকে নিয়ে আপনার সমস্যা হলে আমি চলে যাবো এই বাড়ি ছেড়ে। তসিবা:- প্লিজ আপনি আর আম্মাকে কাঁদিয়েন না। আম্মা আপনি বলেন কি করলে আপনার কান্না থামবে আর আমাকে ক্ষমা করে দিবেন? আম্মা:- আবার মিথ্যা ভরসা দিতেছিস? তসিবা:- আপনি একবার বলে দেখেন আমি সত্যি বলছি নাকী মিথ্যা বলছি সেইটা এখুনি প্রমান দিতেছি। আম্মা:- তাহলে আমি যা বলবো তাই করতে হবে তোমাকে? তসিবা:- হ্যা বলেন? আমি:- তসিবা তুমি আম্মার কথা রাজি হবেনা চলো আমরা উপরে যাই। তসিবার হাত ধরে টেনে উপরে নিতেছিলাম তখনি তসিবা হাত টান মেরে ছাড়িয়ে নিয়েছে। তসিবা:- কি হলো আম্মা আপনি বলেন কি করলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন? আম্মা:- তুমি সৌরভকে আর এই বাড়ি ছেড়ে আজকে চলে যাবে। তুমি আমাকে কথা দিয়েছো আমি যা বলবো তাই করবে। তসিবা:- ঠিক আছে তাই হবে তবে আমাকে এই বাড়িতে এক মাস থাকার সুযোগ দেন। আমি কথা দিতেছি সৌরভকে আর এই বাড়িটাকে ছেড়ে চলে যাবো সারা জীবনের জন্য। আম্মা:- মাত্র এক মাস থাকার অনুমতি দিলাম। এক মাস পরে যদি তুমি না যাও তাহলে আমি সবার সামনে তোমাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো। আমি:- তসিবা তুমি চলো আমার সাথে। তসিবা:- ছাড়ুন আমার জন্য আপনাকে চিন্তা করতে হবেনা। আমার জন্য চিন্তা করার মানুষ আছে। যে আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে সাহেদ ও বলছে এক মাম কষ্ট করতে। আপনাকে আর আমার জন্য চিন্তা করতে হবেনা নেন আপনার হুব বউয়ের শপিং ব্যাগ। আর আম্মা আমি এক দিন আগে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। তসিবা কথা গুলি বলে কান্না করে উপরে চলে গেছে। ভাবি:- দেখছো সৌরভ আমাদের প্লান কাজ করেছে। এখন তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে পারবে। লাঠি ভাঙবেনা সাপ মরবেনা। আমি:- ভাবি আজকের পর থেকে তসিবার সাথে কোনো বাজে ব্যাবহার করবে না। কারণ আমি তসিবাকে অনেকটা ভালোবেসে ফেলছি এই কথাটা তসিবা জানেনা কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি আমি তসিবাকে আমার ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নিবো। আম্মা:- তাহলে রিপার বাবা মাকে যে কথা দিয়েছি। আমি:- সেইটা আপনার ব্যাপার আমি রিপাকে সব বলে দিবো। এরপরে যদি রিপা কোনো জামেলা করে তাহলে রিপার সাথে যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। তসিবার ছোট থেকে মা নেই বড় হয়ছে একটা সৎ মায়ের ঘরে। মেয়েটি সারাটা জীবন কষ্টে কষ্টে কাটাইছে আমার কাছে এসেছে একটু সূখের সন্ধানে আমি সেই সূখটা দিবো। আম্মা আপনি একটু নিজেকে বদলান নিজের মনকে প্রশ্ন করেন আপনি কি ঠিক করছেন না বেঠিক? আম্মা:- আমি একদম ঠিক করেছি আর আমিও দেখবো তসিবা এই বাড়িতে কি করে থাকে। আমি:- সমস্যা নেই তসিবা যদি না থাকতে পারে তাহলে আমিও থাকবোনা। আব্বা আজকে আসুক তখন বাকি কথা হবে। আম্মা আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি সোজা চলে এসেছি। রুমে এসে দেখি তসিবা মোবাইলে কথা বলছে আর কান্না করছে। আমাকে দেখে বেড়িয়ে গেছে। আমি কিছু বলিনি ব্যাগ গুলি রেখে ফ্রেশ হতে গেছি। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছি দেখি তসিবা বালিশ আর চাদর নিয়ে বাহিরে যেতেছে। তখনি আমি গিয়ে ওর হাত ধরেছি। তসিবা:- হাত ধরেছেন কেনো? আমি:- কোথায় যাচ্ছো? তসিবা:- গেস্ট রুমে। আমি:- কেনো? তসিবা:- আম্মা বলছে এখন থেকে বাকি এক মাস আমি গেস্ট রুমে থাকতাম। আমি:- তুমি জানোনা রাতে আমার তোমাকে ছাড়া ঘুম আসেনা। তসিবা:- তো এখন আমি কি করবো? আমি:- আমার সাথে ঘুমাবে। তসিবা:- পারবোনা সাহেদের সাথে বেঈমানি করা হবে। আর তাছাড়া আপনাদের সবার ইচ্ছে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। আমি:- দেখি এদিকে আসো কিছু কথা আছে। তুমি আমার বউ আমি যা বলবো তাই করবে। তসিবা:- যদি না করি? আমি:- না করলে জোর করে করাবো। এখন বসো এখানে দুই মিনিট চুপ করে। তসিবাকে খাটের উপর বসিয়ে আমি ব্যাগ থেকে একটা গলার দামী হার বের করেছি। তসিবা নাও এই হারটা পড়ো দেখি তোমাকে কেমন লাগে। তসিবা:- হারটা কি আব্বু কিনে দিয়েছে আপনার কাছে আমাকে দেওয়ার জন্য। আমি:- কার আব্বু? তসিবা:- মানে আপনার আব্বু আমার শ্বশুড়। আমি:- ঠেকা লাগছে আমি কিনে আনছি। দেখি এদিকে এসো বলে তসিবাকে আয়নার সামনে নিয়ে দ্বাড় করিয়েছি। দেখি একদম চুপ করে থাকবে আমি তসিবাকে হারটা পড়িয়ে দিয়েছি। তসিবাকে হারটাই অনেক সুন্দর লাগছে আমার ইচ্ছে করছে তসিবাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতে খুব ইচ্ছে করছে তখনি তসিবা বলে। তসিবা:- হার পড়া শেষ আর কিছু করতে হবে? আমি:- তোমাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে ধরবো। তসিবা:- থাক তার ধরকার নেই আমার লাভার সাহেদের সাথে বেঈমানি হবে। দেখি সরেন আমার ঘুম পাচ্ছে। তখনি তসিবা চলে যেতে ছিলো তখনি পা পিছলে পড়ে যেতে ছিলো আমি ধরেছি। আর তসিবাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরেছি। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছি দুজনের চোখ হাজারো কথা বলে দিচ্ছে কিন্তু তাও আমরা অবুজ। আমি:- তসিবা তোমার ঠোটে এইটা কি? তসিবা:- খবর দার কিস করবেন না এইটা লিবিষ্টিক। আমি:- কিস করতে যাবো কেনো ঠোটে কালোর মত কিছু একটা তাই বলছি। তসিবা:- থাক আমি দেখে নিবো। বলে তসিবি হেটে চলে গেছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। অনেক্ষন রুমে বসে আছি কিন্তু তসিবার কোনো খবর নেই। রাত বারোটা বাজে তসিবা আসার নাম নেই দূর আমার তো ঘুম আসবেনা। যাই গিয়ে ওর সাথে ঘুমাই চুপি চুপি আমি গেস্ট রুসে গিয়ে দেখি তসিবা ঘুমিয়ে আছে। আমি গিয়ে ওর পাশে শুয়ে পড়েছি তসিবা ঘুমিয়ে আছে আমি ওর কপালে গালে আদর করে দিয়েছি। যাক এখন অনেক শান্তিতে ঘুম আসছে। সকালে তসিবার ডাকে ঘুম ভাঙছে। তসিবা:- আচ্ছা আপনি আমার কাছে এসেছেন কেনো? আমি:- তোমাকে ছাড়া আমার ঘুম আসেনা তাই। তসিবা:- এইটা কিন্তু ঠিক নয় আমি কিন্তু একজনের আমানত আর তাছাড়া যখন আমি থাকবোনা তখন কি করবেন? আমি:- তোমাকে যেতে দিলে তো। আচ্ছা আমি এখন নামাযে যাই নামায পড়ে এসেছি। সবাই নিচে বসে আছে আমি উপরে এসে ফ্রেশ হয়ে এসেছি অফিসে যাবো বলে। আব্বা:- সৌরভ আজকে একটু তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসবি। রাতে তোর রহমান আংকেলের বাড়িতে দাওয়াত আছে আমাদের সবার। আমি:- আচ্ছা! আর আব্বা আপনি আম্মা আর ভাবিকে বলে দিবেন তসিবার সাথে ওরা যেনো কোনো খারাপ আচরন না করে। আব্বা:- গতকালকের সব গটনা আমি শুনেছি তুই এই নিয়ে কোনো চিন্তা করিস না আমি আছি তো। আম্মা:- তুমি আছো মানে? আব্বা:- তোমার বয়স হয়ছে বেশি বেশি করলে তোমাকে বৃদ্ধা আশ্রমে দিয়ে আসবো। (তখনি আম্মা একদম চুপ চাপ হয়ে গেছে আমি বেড়িয়ে এসেছি) আমি:- তসিবাকেকে যেই করে হোক আগের মত আমার প্রেমে ফেলবো। তখনি চেয়ে দেখি সাহেদ আমাদের বাড়ির সামনে ঘুর ঘুর করছে। কাছে গিয়ে ডেকে আনছি এই তুমি এখানে কেনো? সাহেদ:- তসিবা আসতে বলছে তাই এসেছি। আমি:- তুমি জানো তসিবা আমার কি হয়? সাহেদ:- হ্যা স্বামী। আমি:- তাও তুমি তসিবাকে বিয়ে করতে চাও? সাহেদ:- হ্যা! কেনো কোনো সমস্যা? আমি:- তেমন কোনে সমস্যা নেই তসিবা মা হতে চলছে। এরপর যদি তোমাকে তমিবার আশে পাশে দেখি তাহলে তো বুঝো কি করবো? সাহেদ:- কিন্তু তসিবা তো আমাকে বলেনি! আমি:- বলাচ্ছি তোকে বলে লাঠি খুঁজতেছি আর সাহেদ এক দৌর। আমি রাগ দেখিয়ে চলে এসেছি অফিসে আজকে প্রতি ঘন্টা ঘন্টা তসিবাকে ফোন করেছি। তসিবা আজ খুব খুশি আমি কাজ গুলি শেষ করে তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসেছি। সবাই রেডি হয়ে আছে দেখি তসিবা ওর আগের একটা চুড়িদার পড়ছে। আমি দেখে তসিবাকে বলছি তসিবা তুমি উপরে এসো। তসিবা বসে আছে আমি গিয়ে ওকে টেনে তুলে কুলে তুলে নিয়েছি। তসিবা:- কি হচ্ছেটা কি সবাই আছে তো? আমাকে নামান বলছি। আমি:- তাতে কি আমি তো আমার বউকে কুলে নিয়েছি। তসিবাকে নিয়ে সোজা উপরের দিকে হাটা দিয়েছি আম্মা রাগি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি তোয়াক্কা না করে তসিবাকে কুলে করে রুমে নিয়ে এসেছি। তসিবা এই চুড়িদারটা খুলে নাও। তসিবা:- কেনো তাহলে কি আমি অনুষ্টানে যাবোনা? আমি:- যাবে। তবে এই কাপড় পড়ে না। এর চাইতে সুন্দর আর নতুন কাপড় পড়ে। তসিবা:- আমার এর চাইতে সুন্দর আর নতুন কোনো চুড়িদার নেই। আর আমি শাড়ি পড়ে যেতে পারবোনা শাড়ি ধরে রাখতে হয়। আমি:- কথা কম বলে আগে চুড়িদারটা খুলে এই নেবিব্লু চুড়িদারটা পড়বে। তসিবা:- কিন্তু এই গুলি তো রিপার জন্য কিনছেন তাহলে আমি পড়বো কেনো? আমি:- রিপার জন্য যদি কিনতাম তাহলে রিপাকে সাথে নিয়ে যেতাম। এখন যটপট ড্রেসটা চেইন্জ করে নাও আমিও রেডি হয়ে নিচ্ছি। তসিবা গিয়ে নেবিব্লু চুড়িদারটা পড়ে এসেছে অনেক সুন্দর লাগছে তসিবাকে আমি চেয়ে আছি। সাথে ম্যাচিং চুড়ি মাথায়র ছোট টিকলি একদম পরী পরী লাগছে। তখনি তসিবাকে বলি কারো নজর যেনো না লাগে। তসিবা:- অন্য কারো নজর লাগবে সেইটা তো পরের কথা এখন তো আপনার নজর লেগে যাচ্ছে। আমাকে দেখা শেষ হলে এবার চলেন। আমি:- হ্যা চলো দুজনে নেমে এসেছি সবাই মিলে অনুষ্টানে গেলাম। তসিবাকে আমি আমার পাশে পাশে রাখতেছি তসিবি নাছুড় বান্দা আমাকে হারে হারে টের পাওয়াচ্ছে অবহেলা করার কি শাস্তি। তসিবা:- আমার হাতটা ছাড়ুন আমি বাচ্চাচা মেয়ে নয় যে হারিয়ে যাবো। আমি:- বাচ্চা হলে তো কোনো চিন্তা হতোনা বড় হয়ে সমস্যা দেখি এদিকে আসো বলে তসিবাকে নিয়ে যেতেছি তখনি তসিবা হাতটা যারা মেরে ছাড়িয়ে নিতে ছিলো তখনি উয়েটার ড্রিংক্স গ্রাস নিয়ে যেতে ছিলো আর তসিবার হাতে লেগে গিয়ে একটা মেয়ের গায়ে পড়েছে। তসিবা:- সরি আমি দেখিনি তখনি মেয়েটা তসিবাকে থাপ্পড় দিতে ছিলো কিন্তু আমি মেয়েটার হাত ধরে নিয়েছি। আমি:- সরি তো বলছে তাও এত রাগ করার কি আছে। মেয়েটার হাত ছেড়ে দিয়েছি তখনি মেয়েটা আমাকে বলে! মেয়ে:- তোর সাহোস হয় কি করে আমার হাত ধরার বলে আমাকে থাপ্পড় দিতে ছিলো!কিন্তু আমি মেয়েটাকে উল্টা থাপ্পড় বসিয়ে দিয়েছি ঠিক তখনি তসিবা আমাকে ঠাস করে এক থাপ্পড় দিয়েছে আমি গালে হাত দিয়ে তসিবার দিকে তাকিয়ে আছি। তসিবা আমাকে কিছু বলতে চায়ছে তখনি তসিবাকে জুড়ে এক থাপ্পড় দিয়েছি তসিবা একদম নিচে পড়ে গেছে আমি সোজা বেড়িয়ে চলে এসেছি। To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:- নব দম্পতি পর্ব:-(০৯)

0
গল্প:- নব দম্পতি পর্ব:-(০৯) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবার হাব ভাব আমার মুটেও সুবিধার লাগছেনা! যেই বউটা আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝত না এখন সেই বউটা আমাকে পাত্তা দেয়না। রুমে বসে আছি কিছুক্ষণ পর তসিবা এসেছে। আচ্ছা তুমি কি সত্যি তসিবা নাকী তোমার জমজ বোন? তসিবা:- মানে? আমি:- আমার কেনো জানি তোমাকে নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। কেনো জানি মনে হচ্ছে তুমি আমার বউ তসিবা না ওর কোনো জমজ বোন হবে। তসিবা:- জ্বিনা আমার কোনো বোন নেই আমি আপনার বউ তসিবা ইসলাম। আগে বোকা ছিলাম এখন কিছুটা চালাক হয়েছি তবে সব কিছুর জন্য সাহেদকে ধন্যবাদ দিতে হবে। (চালাক না ছায় আমার এখন জ্বলে কোনো মতে রিপাকে ভাগাইতে পারলে হয়ছে এরপর শালা সাহেদের অবস্থা কি করি দেখো। মনে মনে কথা গুলি ভাবছি তখনি তসিবা বলে) আরে আপনি তো এখনো কাপড় চেন্জ করেন নাই যান গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসেন। আমি:- ইচ্ছে হচ্ছেনা ফ্রেশ হতে! আর আমার জন্য তোমার কোনো চিন্তা আছে? সব চিন্তা তো সাহেদকে নিয়ে করছো? আমাকে ফোন করে কোনো দিন কিস করেছো? (তখনি তসিবা আমার কাছে এসে আমার কপালে আর গলাই হাত দিয়ে বলতেছে) তসিবা:- আপনার শরীর ভালো আছে তো নাকী জ্বর টর এসেছে? আমি:- দেখি মজা করোনা আমি সিরিয়াছ ভাবে বলছি। তসিবা:- ও তাই বলেন আপনি রিপাকে বলতেছেন ফোনে। আমি ভাবছি আমাকে বলছেন তাই স্পর্শ করে দেখছিলাম তার জন্য সরি। আপনি কথা বলেন আমি নিচে গিয়ে কাজ করি। আমি:- তসিবা আমি তোমাকে বলছি আর ফোনে কথা বললে হাতে বা কানে মোবাইল থাকবে। তসিবা:- তাহলে কানে ঐটা কি? (তখনি মনে পড়েছে কানে ব্লুথুটা এখনো লাগানো আছে) আচ্ছা আপনি কথি বলেন আমি নিচে যাই দেরি হলে আম্মা বকা বকি করবে। আমি:- আরে আমার কথাটা তো শুনো কে শুনে আমার কথা তসিবা বেড়িয়ে গেছে। আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে গেছি সবার সাথে বসে কিছু গল্প করেছি তসিবা মোবাইল কার সাথে মেসেজ করছে আর হাসতেছে। রাতের ডিনার করে রুমে এসেছি দেখি আজকেও তসিবা নিচে যায়গা করেছে ঘুমাবে বলে। কি হলো আবার আজকেও নিচে ঘুমাবে নাকী? (তখনি তসিবা কুল বালিশটা এনে দিয়ে বলে) তসিবা:- যদি জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে হয় তাহলে নেন এই কুল বালিশটা জড়িয়ে ধরে ঘুমান। আমার কাছে এসে ভুল করেও শুইবেন না বলে দিলাম। আমি:- কথা গুলি মনে থাকবে তো? তসিবা:- মনে রাখার দরকার নেই কিছু দিনের মধ্যে আমি সাহেদের কাছে চলে যাচ্ছি। আচ্ছা আপনি ঘুমান আমি সাহেদের সাথে একটু ফোনে কথা বলে আসি। আমি:- বাহিরে যেতে হবেনা তুমি রুমে কথা বলো। আমি ইয়ার ফোন লাগিয়ে গান শুনছি। তসিবা কথা বলছে আমি তাকিয়ে দেখি অনেক হাসা হাসি করছে। চোখ গুলি বন্ধ করে শুয়ে আছি কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারবোনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে এসেছি। তসিবার সাথে এখন তেমন কথা হয়না যখনি তসিবা ফ্রি থাকে তখনি কানে মোবাইল লাগিয়ে রাখে আর কথা বলে। আমি রেডি হয়ে অফিসে আসবো তখনি তসিবা বলে,,,। তসিবা:- একটা কথা বলার ছিলো আপনার কাছে কি আমার কথা শুনার সময় আছে? আমি:- কি বলতে চাও তা সোজা সুজি বলো। তসিবা:- আজকে তো ডক্টরের কাছে যাওয়ার কথা ছিলো। এখন কি আপনি আমাকে নিয়ে যেতে পারবেন? আমি:- কেনো আমার সাথে যাবে কেনো যাকে তুমি এত ভালোবাসো আর দিনে রাতে ফোনে কথা বলতে থাকো তার সাথে যাও। তসিবা:- কিন্তু বাড়ীর সবাইকে কি বলে বের হবো? আমি:- যা বলার বলবে তাতে আমার কি? আমি গেলাম বলে বেড়িয়ে এসেছি। অফিসে এসেছি আর কারো সাথে কোনো কথা বলিনি মুড খারাপ হয়ে আছে। আজকে অনেকের সাথে রাগা রাগি করেছি বিকালের দিকে বাড়ীতে ফোন করেছি। ভাবি রিসিব করেছে। ভাবি:- সৌরভ বলো কেনো ফোন করেছো? আমি:- ভাবি তসিবা কোথায়? ভাবি:- আমার সামনে আছে। আমি:- তসিবাকে বলেন রেডি হতে আমি এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। (তখনি ভাবি বলে) ভাবি:- কি তসিবাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে! তুমি না তসিবাকে দেখতে পারোনা তাহলে এত তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যেতে হবে কেনো? আমি:- আরে দূর সব সময় দুই লাইন বেশি বুঝেন। যেইটা বলছি সেইটা করেন। ফোনটা রেখে কাজ গুলি করেছি কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি করে বেড়িয়ে গেলাম। বাড়ীতে আসতে আসতে সন্ধা হয়ে গেছে দরজাটা খোলা আছে আমি ভিতরে ঢুকে দেখি আম্মু ভাবি নিচে বসে আছে। আম্মা দরজা খোলা কেনো? আম্মা:- তোর বউকে জিগেস কর কেনো খোলা রাখছে। আমি:- তসিবা খোলা রাখছে তাহলে আমার জন্যই মনে হয়। আচ্ছা আমি রুমে যাই সিঁড়ি দিয়ে উপরে যেতেছি দেখি তসিবা নামছে। তসিবা:- আপনি এসে গেছেন? আমি:- হ্যা তুমি নিচে বসো আমি কাপড়টা চেন্জ করে আসছি। তসিবা নিচে গেছে আমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসেছি। আম্মা:- সৌরভ সন্ধা বেলা কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি? আমি:- এসে বলবো আর সব তসিবা আসো। বলে তসিবার হাত ধরে বাহিরে নিয়ে এসেছি। তুমি দ্বাড়াও আমি বাইক নিয়ে আসছি। তসিবা:- বাইকে করে যাবোনা আমি গাড়ীতে করে যাবো। আমি:- ঠিক আছে গাড়ী নিয়ে আসছি। তসিবা গাড়ীতে বসেছে। আমি গাড়ী চালাচ্ছি তসিবা চুপ করে বসে আছে। হাসপাতালে এসেছি তসিবা তুমি ভিতরে যাও আমি আসছি। তসিবা:- নাহ আমার সাথে যাবেন প্লিজ চলেন। আমি:- ঠিক আছে! তসিবাকে নিয়ে ভিতরে গেছি কিছুক্ষনের মধ্যে ডক্টরের চেম্বারে গেলাম। ডক্টর তসিবার পিঠ দেখে বলে,,,। ডাক্তার:- বাহ খুব তাড়াতাড়ি দাগ গুলি মুছে গেছে আর স্কিনটা ঠিক আগের মত হয়ে গেছে। আপনি তো অনেক লাকি কারন এমন একটা বর পেয়েছেন আপনাকে খুব কেয়ার করে। তসিবা:- হ্যা খুব কেয়ার করে। ডাক্তার:- মিস্টার আপনাকে ধন্যবাদ এতটা কেয়ার করার জন্য। এখন শুধু মেডিসিন দিতেছি এই গুলি শেষ হলে আর কোনো মেডিসিন লাগবেনা। আমি:- ঠিক আছে! মেডিসিন গুলি নিয়ে নিলাম ডক্টরের বিজিট দিয়ে দুজনে বেড়িয়ে এলাম। তসিবা:- আমার একজনের সাথে দেখা করতে হবে। আমি:- সাহেদের সাথে? তসিবা:- আপনি কি করে বুঝলেন? আমি:- বুঝতে পারি। সাহেদ কোথায় আছে? তসিবা:- মেসেজ করে বলছে হাসপাতালের সামনে আছে। আমি:- ও আচ্ছা! দুজনে বেড়িয়ে এসেছি। দেখি সাহেদ ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে। সাহেদের হাতে একটা শপিং ব্যাগ আছে। তসিবা:- হাই সাহেদ। সাহেদ:- হাই। তসিবা ওনি তোমার কি লাগে? (যখনি আমি বলতে ছিলাম যে আমি তসিবার স্বামী ঠিক তার আগে তসিবা বলে) তসিবা:- আমার কাজিন ওনার নাম আল মোহাম্মদ সৌরভ। (তসিবার উপর আমার অনেক রাগ উঠছে আমি রাগি চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। তখনি তসিবা বলে) আপনি এখানে একটু দ্বাড়ান আমি সাহেদের সাথে কিছু কথা বলে আসি। সাহেদ এদিকে এসো বলে সাহেদের হাত ধরে টেনে আমার কাছ থেকে কিছুটা দূরে টেনে নিয়ে গেছে। আমি:- তসিবা আমি গাড়ীতে আছি তোমার কথা বলা শেষ হলে এসো। দূর থেকে ডেকে কথা গুলি বলে আমি গাড়ীতে এসে বসেছি। প্রায় ১০ মিনিট পরে তসিবা এসেছে হাতে ঐ শপিং ব্যাগটা নিয়ে এসেছে। গাড়ীতে বসে আমাকে বলছে। তসিবা:- দেখছেন সাহেদ আমাকে জন্য কত সুন্দর চুড়ি গিফট করছে। চুড়ি গুলি দেখতে অনেক সুন্দর তাইনা? (চুপ করে গাড়ী চালাচ্ছি তসিবা চুড়ি গুলি হাতে দিচ্ছে কিন্তু হাতের ভিতরে ঢুকছেনা) আমি:- বাহ তোমার লাভার তোমার হাতের মাপ জানেনা। তসিবা:- না জানুক তাও তো আনছে তাইনা? (তখনি চুড়ি পড়তে গিয়ে একটা চুড়ি ভেঙে গেছে আর ওর হাত হাল্কা কিছুটা কেটে গেছে। আমি গাড়ীটা সাইট করেছি) আমি:- চুড়ি গুলি হাতে দেওয়ার কি বেশি প্রয়োজন ছিলো? যেহেতু চুড়ি গুলি ছোট সেহেতু হাতে দিতে গেছো কেনো? দেখি হাতটা তসিবা দেখাচ্ছেনা আমি জোর করে ওর হাতটা দেখছি। আমার পকেট থেকে রুমালটা বের করে ওর হাতটা বেদে দিয়েছি। তসিবা:- আসলে সাহেদের কোনো দোষ নেই আমাকে ফোন করেছিল কিন্তু আমি হাতের মাপ বলিনি তাই ছোট হয়ে গেছে। আমি:- কথা কম বলে চুপ করে বসো। গাড়ীটা নিয়ে একটা শপিং মহলের সামনে দ্বাড় করিয়েছি। তসিবা:- এখানে নিয়ে আসলেন কেনো? আমি:- চুপ করে আমার সাথে আসো। তসিবা কোনো কথা বলছেনা আমি ওকে নিয়ে শপিংয়ের জন্য লেডিস দোকানে ঢুকেছি। তসিবা:- আমার কিছু লাগবেনা আর সাহেদ আমাকে বলছে বিয়ের পর অনেক কিছু দিবে। আমি:- আর একবার যদি সাহেদের নাম মুখে আনো তাহলে কিন্তু? তসিবা:- কিন্তু কি আমাকে তাড়িয়ে দিবেন দেন আমার জন্য ভালো হবে। আমি:- তাড়িয়ে দিবো কেনো মুখে কসটেপ লাগিয়ে দিবো। আমাদের দুজনের ঝগড়া দেখে দোকানের আরো মানুষজন তাকিয়ে আছে। তসিবা চুপ করে আছে আমি দুইটা চুড়িদার নিলাম একটা সাদা আরেকটা নেবিব্লু। তসিবা:- এই গুলো কার জন্য নিচ্ছেন? আমি:- রিপার জন্য রিপার খুব পছন্দ চুড়িদার। তখনি তসিবা চেহারাটা কালো করে নিয়েছে। তসিবাকে নিয়ে চুড়ির দোকানে গেছি। আচ্ছা ঐ চুড়ি গুলা ২৬ সাইজের দেন তো? তসিবা:- ২৬ মাপ তো আমার হাতের। আমি:- রিপার হাতের মাপপ ২৬। তখনি তসিবা কিছুটা মন খারাপ করে নিয়েছে। দোকানদার:- এক রকমের দিবো নাকী? আমি:- সাদা নেবিব্লু মিলিয়ে দেন দুই ডজন চুড়ি দেন। তসিবা:- এত চুড়ি দিয়ে কি করবেন? আমি:- রিপা চুড়ি পড়তে বেশি পছন্দ করে তাই। তসিবা মন খারাপ করে নিয়েছে। আমি দাঁড়িয়ে নিজের মত করে চুড়িদার গুলির সাথে মেচিং করে দুই ডজন চুড়ি নিলাম। তসিবা:- রিপাকে তো চুড়িদার পড়তে দেখিনি আর চুড়িও পড়েনা। আমি:- এখন থেকে পড়বে। এখন তুমি আসো তসিবাকে নিয়ে গাড়ীতে এসেছি তসিবা চুপ চাপ বসে আছে ঘন্টা খানেক পরে বাড়ীতে এসেছি। তসিবা এই শপিং ব্যাগ গুলি রুমে নিয়ে রাখো। তসিবা:- অন্যের জিনিস আমি নিবো কেনো? আমি:- এখন রুমে নিয়ে রাখো আগামীকাল রিপা এসে নিয়ে যাবে। তসিবা:- ঠিক আছে! তসিবা শপিং ব্যাগ নিয়ে দরজার সামনে গেছে আমি গাড়ীটা পার্কিং করে গিয়ে দেখি ভাবি এসে দরজাটা খুলে দিয়েছে। ভাবি:- বাব্বাহ এত শপিং দেবরজ্বি তুমি তো বলো তসিবাকে ভালোবাসোনা আর এখন দেখছি শপিং আবার বাচ্চা হবে। আমি:- ভাবি আপনার মাথায় কিছুই নেই। তখনি আম্মা এসেছে আম্মা:- সৌরভ তোর কাছে নাকী টাকা নেই আর এখন এই মেয়েটার জন্য এত কিছু কিনে এনেছিস। আমি যখনি তোর কাছে কিছু বলি তুই তো পাত্তা দেসনা আর এখন বউয়ের জন্য সব কিছু হয়। এই মেয়ে তুই বোবা হয়ে এত কিছু কিনে আনছিস কেনো? তখনি তসিবা বলে,,,! তসিবা:- আম্মা এই গুলা তো রিপার জন্য ওনি কিনছে আমাকে বকা ঝকা করছেন কেনো? আম্মা:- তুমি বোবা না তুমি কথা বলতে পারো? এতদিন আমাদের সাথে বোবা সেজে অভিনয় করেছো? (তসিবা কথা বলে নিজেই অবাক হয়ে গেছে আমি তাকিয়ে দেখি তসিবা ভয়ে একদম চুপসে গেছে) তখনি আম্মা এমন এক কথা বলে তসিবা কি ভয় পাবে আমি নিজেই থমকে যায়। To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(০৮)

0
গল্প:- নব_দম্পতি পর্ব:-(০৮) লেখা:- AL Mohammad Sourav !! তসিবার হাত ধরে টেনে উপরে নিয়ে যাচ্ছি তখনি আম্মু বলে! সৌরভ তসিবাকে নিয়ে উপরে যাচ্ছিস কেনো? কিছুক্ষনের মধ্যে তোর আর রিপার আংটি বদল হবে। আয় নিচে আয় তসিবার সাথে কথা বললে পরে বলিস। আমি:- আম্মা আমার এখুনি কথা বলতে হবে। বলে তসিবাকে নিয়ে সোজা রুমের দিকে হাটা দিয়েছি। রিপা সহ বাড়ীর সব মেহমানরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রুমে এসে দরজাটা লাগিয়ে দিয়েছি। তসিবা:- দরজা লাগালেন কেনো? আমি:- তুমি ঐ ছেলেটার সাথে হেসে হেসে কি কথা বলছো শুনি? তসিবা:- ও এই কথা জানার জন্য আমাকে টেনে রুমে নিয়ে এসেছেন? আমি:- কথা না ঘুরিয়ে সোজা উত্তর দাও কেনো ঐ ছেলেটার সাথে হেসে কথা বলছো? তসিবা:- তা আপনাকে বলতে যাবো কেনো? আমি:- মানে? তসিবা:- ছেলেটা মনে হয় আমাকে ভালোবেসে ফেলছে! আর তাছাড়া কিছু দিন পরে তো আপনি আমাকে বিদায় করে দিবেন তখন তো আমার থাকার একটা যায়গা লাগবে নাকী? আমি:- তোমার কথা বুঝতেছিনা যা বলবে সোজা সুজি বলো? তসিবা:- আমি তো বাংলা বলতেছি এখানে না বুঝার কি আছে? আমি:- বুঝতে পারছি ঠিক আছে সমস্যা নেই তোমার যা ইচ্ছা করো তাতে আমার কিছু হবেনা। আর সরি তোমাকে এমন ভাবে ধরে আনার জন্য। তসিবা:- সরি বলতে হবেনা আমি তো ছেলেটার মোবাইল নাম্বার রেখে দিয়েছি। আমাকে একটা মোবাইল কিনে দিবেন? আমি:- তোমাকে দিবো মোবাইল কিনে আমার মাথা খারাপ নাকী। তখনি ভাবি দরজা নক করছে। ভাবি:- সৌরভ তোমাকে আম্মাজান নিচে যেতে ডাকছে। সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি:- হ্যা ভাবি আসছি! আমি চলে আসবো তখনি তসিবা আমাকে বলে। তসিবা:- আমাকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে আর কফি কালার চুড়িদারে নাকী অনেক ধারুন মানিয়েছে। আমি:- কে বলছে তোমাকে একদম বিশ্রি দেখাচ্ছে। তসিবা:- কিন্তু সাহেদ তো বলছে আমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। যার চোখে আমাকে সুন্দর দেখায় সে আমাকে প্রকৃত ভালোবাসে। আমি:- সাহেদটা আবার কে? তসিবা:- ঐ আমার সাথে যে হেসে হেসে কথা বলছে। ওর নাম সাহেদ ছেলে সারাক্ষন আমার পিছু পিছু ঘুর ঘুর করছে। আমি:- ভালোই যাক তাহলে তো আর তোমার চিন্তা নেই! আচ্ছা তাহলে আমি রিপার সাথে আংটি বদল করে নিবো? (তসিবা একটা চওড়া হাসি দিয়ে বলে) তসিবা:- হ্যা যান মানা কে করছে? আমাকে কেনো জিজ্ঞেস করছেন আমি না করবো কেনো এখন তো আমাকে ভালোবাসার মানুষ পেয়ে গেছি। আমি:- ঠিক আছে! তাহলে এক সাথে তোমাদের আংটি বদল করে নিতে। তসিবা:- আমাকে নিয়ে এত চিন্তা করতে হবেনা যান দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি:- ঠিক আছে তুমি যেহেতু বলছো তাহলে কি করে মিস করি। তসিবাকে রেখে আমি নিচে চলে এসেছি। আম্মা:- সৌরভ তসিবার সাথে কথা শেষ হয়ছে? আর কি এমন জুরুরী কথা যে এখুনি বলতে হলো। আমি:- দরকার ছিলো তাই বলেছি! এখন বলেন কি করতে হবে আমার অনেক ক্লান্ত লাগছে। রিপার বাবা:- বাবা সৌরভ নাও রিপাকে আংটিটা পড়িয়ে দাও। আমি:- হ্যা দেন! আংটিটা হাতে নিয়ে তসিবার দিকে তাকিয়েছি দেখি তসিবা সাহেদর সাথে দিব্যি গল্প করছে। আর তসিবাকে বেশ হাসি খুশি লাগছে। রিপা:- সৌরভ তুমি ঠিক আছো তো? (রিপার কথা শুনে আমি বলতে ছিলাম যে রিপা আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবোনা ঠিক তখনি ভাবি বলে) ভাবি:- হ্যা ঠিক আছে মনে হচ্ছে কিছুটা নার্ভাস লাগছে। সৌরভ রিপাকে আংটিটা পড়িয়ে দাও। আমি:- হ্যা দিচ্ছি! রিপাকে অবশেষে আংটিটা পড়িয়ে দিয়েছি। রিপা আমাকে আংটি পড়িয়ে দিয়েছে। সবাই অনেক খুশি হয়েছে আমি বার বার তসিবার দিকে দেখছি। দেখতে দেখতে অনুষ্টান শেষ হয়ে গেছে। রিপা তার বাবা মা, বোন সহ সবাই চলে গেছে। আমি রুমে এসে দেখি তসিবা তার পরনের গহনা ঘাটি খুলছে। আমি ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পরেছি কিছুক্ষণ পর তসিরা মলম আর ঔষধ নিয়ে এসেছে। তসিবা:- মলমটা পিঠে লাগিয়ে দিবেন? আমি:- পারবোনা তোমার প্রেমিক সাহেদকে বলো এসে লাগিয়ে যেতে। তসিবা:- আমার কাছে তো মোবাইল নেই থাকলে ফোন করলে সাহেদ চলে আসবে নিশ্চয়ই। আমি:- নাও আমার মোবাইল দিয়ে ফোন করো!( মনে মনে বলছি একবার নাম্বারটা পাই ওর গুষ্টি উদ্দার করবো) তসিবা:- সরি আপনার মোবাইল দিয়ে ফোন করবোনা পরে যদি আপনি ফোন করে খারাপ ব্যাবহার করেন। আচ্ছা এখন কথা না বাড়িয়ে মলমটা লাগিয়ে দেন। আমি:- তুমি আগের চাইতে অনেকটা চালাক হয়ে গেছো। দাও লাগিয়ে দিচ্ছি তসিবা ঘুরে বসেছে আমি মলম লাগিয়ে দিয়েছি। এখন আর এতটা দাগ নেই অনেকটা মুছে গেছে। তসিবা:- জানেন সাহেদ আমাকে খুব পছন্দ করছে আর আমার অনেক প্রশংসা করছে। আমি নাকী দেখতে খুব সুন্দর আমার চুল গুলির উপর নাকী ফিদা হয়ে গেছে।(তসিবা বক বক করছে আর আমার ভিতরে জ্বলছে কানে তুলা দিয়ে শুয়ে পড়েছি) আমি:- বক বক শেষ হলে এসে শুয়ে পড়। (তসিবা কি বলছে আমি স্পষ্ট বুঝিনি কিন্তু মনে হচ্ছে সেই একিই কথা বলছে। কিছুক্ষণ পরে দেখি তসিবা নিছে যায়গা করছে) তসিবা কি করছো নিছে বিছানা বিছানা করছো কেনো? তসিবা:- এখন থেকে আমরা আলাদা করে শুইবো। সাহেদ আমাকে খুব বিশ্বাস করে আর সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করাটা ঠিক হবেনা। আর তাছাড়া কিছু দিনের মধ্যে আমারা দুজন দুজনকে ছেড়ে চলে যাবো তখন তো আলাদা ঘুমাতে হবে তাই আগে থেকে অব্যাশ করা ভালো। আমি:- তোমার যা ইচ্ছা হয় করো আমি ঘুমালাম। চোখ বন্ধ করে রাখছি কিন্তু ঘুম তো আর আসছেনা কিছু একটা মিস করছি সেইটা হলো তসিবাকে। দুই মাস ধরে তসিবা বুকের উপর ঘুমাত এখন তো সে নিচে গিয়ে কি সুন্দর আরামছে ঘুমাচ্ছে। দূর আর পারবোনা যাই গিয়ে নিচে ওর পাশে শুয়ে পরি। তসিবার পাশে শুয়েছি তসিবা আমার উপড়ে পা তুলে দিয়েছে। আমি সুযোগে জড়িয়ে ধরেছি এবার খুব সহজে চোখে ঘুম চলে এসেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আলতু করে তসিবার কপালে চুুমু দিয়ে আমি ফ্রেশ হতে গেছি। নামায পড়তে যাওয়ার আগে তসিবাকে তুলে দিয়েছে। তসিবা:- আমি সজাগ ছিলাম আজকের মত কিছু বলিনি এরপর যদি আমার পাশে এসে শুয়ে থাকেন তাহলে এর পরিনাম ভালো হবেনা। আমি:- দুই মাসের অব্যাশ এত তাড়াতাড়ি বদলাবো কি করে তার জন্য তো কিছুটা সময় দিতে হবে নাকী? তসিবা:- তাহলে রিপার কাছে চলে যাবেন তাও আমার পাশে আসবেন না। বলে তসিবা চলে গেছে। এই মেয়েটাকে নিয়ে কি যে করি দূর তাড়া তাড়ি নামায পড়তে যাই। নামায পড়ে কিছুটা হাটা হাটি করে এসেছি বাড়ীতে। আজকে তসিবাকে একটু বেশি অন্য রকম সুন্দর লাগছে কিন্তু তসিবা তো আমাকে পাত্তা দিচ্ছেনা। আমি:- আম্মা আমি অফিসে যাচ্ছি আমার কাজ আছে জুরুরী! আম্মা:- নাস্তা করে যা। আমি:- নাহ করবোনা আচ্ছা গেলাম। তসিবা আমি অফিসে যাচ্ছি কিন্তু তসিবার কোনো খবর নেই। একদিনে তসিবা কি করে এতটা পাল্টে গেলো চিন্তা করতে করতে অফিসের জন্য রওনা হলাম। অফিসে এসেছি এসে নিজের মত করে কাজ করছি এমনি মোবাইলটা বেজে উঠেছে হাতে নিয়ে দেখি রিপা। রিসিব করেছি হ্যা রিপা বলো? রিপা:- অফিস শেষে আমার সাথে দেখা করবে আজকে আমরা বাহিরে ডিনার করবো কেমন। আমি:- আচ্ছা! ফোনটা কেটে দিয়েছি এই রিপাটা আমাকে ফকির করার ধান্ধা। রিপার থেকে তসিবা আমার জন্য পার্ফেক্ট হবে। কাজ গুলি শেষ করেছি আবার রিপা ফোন করেছে রিসিব করিনি কিছুক্ষণ পরে দেখি রিপা মেসেজ করে বলছে। রিপা:- তোমার অফিসের নিচে দাঁড়িয়ে আছি কতক্ষণ সময় লাগবে তোমার? আমি:- এই মেয়েটা তো আমাকে ফকির করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। যাই আজকে একদম ভর্তা দিয়ে ডিনার করাবো। কাজ গুলি শেষ করে নিচে গেছি তখনি রিপা এসেছে। রিপা:- সৌরভ চলো আমার খুব খিদা লাগছে! আমি:- কেনো বাড়ীতে কিছু খাওনি? রিপা:- মানে? আমি:- কিছুনা মজা করেছি চলো। রিপাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গেছি রিপার অডার শুনে আমি মনে মনে রাক্ষসী ডাইনী ডেকে শেষ করে দিয়েছি। দুজনে ডিনার করলাম বিল দেখে মাথাটা ঘুরে গেছে। বিলটা দিয়ে রিপাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি করে ওর বাড়ীতে ওকে নামিয়ে দিয়ে সোজা বাইক নিয়ে চলে এসেছি। বাড়ীতে এসে কলিং বেল বাজিয়েছি তখনি তসিবা এসে দরজা খুলে দিয়েছে। আমি ছোট করে একটা হাসি দিয়েছি কিন্তু তসিবা আমার দিকে না তাকিয়ে চলে গেছে। তসিবা সিঁড়ি দিয়ে উপরে যেতেছে আমি ওর পিছু পিছু যাচ্ছি যখনি রুমে গেছি তখনি তসিবা বলে। তসিবা:- একটা জিনিস দেখবেন? (আমি অনেক আগ্রহো নিয়ে বলছি) আমি:- হ্যা দেখবো। (তখনি তসিবা একটা দামী মোবাইল এনে আমাকে দেখাচ্ছে) মোবাইল পেলে কোথায়? তসিবা:- পায়নি সাহেদ গিফট করছে আমার প্রথম ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে গিফট পেলাম। সাহেদ আমার সাথে কথা বলতে চাই তাই গিফট করছে। তখনি মোবাইলে ফোন এসেছে। আমি:- কে ফোন করছে? তসিবা:- আমার জানু বাবু সোনা সাহেদ মাই লাভ আপনি বসেন আমি একটু রোমান্টিক কথা বলে আসি। জানু উম্মা উম্মা ফোনে কিস করতে করতে তসিবা আমার সামনে থেকে বেড়িয়ে গেছে। তসিবার এমন কাজ দেখে আমি রিতিমত অবাক হয়ে যাচ্ছি! এইটা কি আমার বউ তসিবা নাকী তার জমজ বোন? মনের মাঝে একটা প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেলো!!To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link 👇👇👇

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

MOST POPULAR

HOT NEWS